করোনা ব্যর্থতায় সরে যাচ্ছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী

২৬,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইতালিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী গিসেপে কন্তে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে কন্তে জানিয়েছেন, তিনি মঙ্গলবার পদত্যাগ করবেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নতুন সরকার গঠনের চেষ্টা চলছে। বিবিসি। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী কন্তে। তার কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তিনি ওই বৈঠকে তার নিজের ইচ্ছার কথা মন্ত্রীদের কাছে ব্যক্ত করবেন। এরপরেই হয়তো তিনি প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলার কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতে যাবেন। করোনা মহামারির কারণে দেশজুড়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে কন্তে হয়তো নতুন সরকার গঠনের পরামর্শ চাইতে পারেন। ইতালিতে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে ধস নেমে এসেছে। গত ১৩ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি তার ইটালিয়া ভিভা পার্টিকে দল থেকে প্রত্যাহারের পর থেকেই ক্ষমতাসীন জোট ভেঙে পড়েছে। গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের আস্থা ভোটে কোনমতে টিকে গেছেন কন্তে। কিন্তু সিনেটের উচ্চ কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে তার সরকার বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি। সংবিধান সংস্কারের পরিকল্পনা করেছিলেন রেনজি। ওই পরিকল্পনার ওপর গণভোটে শোচনীয় পরাজয় দেখে আকস্মিক পদত্যাগ করেন তিনি। মাত্র মাত্র আড়াই বছর ক্ষমতায় থাকার পর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন রেনজি। করোনার কারণে শুরু থেকেই ইতালিতে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এক বছরের বেশি সময় আগে চীনে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর পরই ইতালিতে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। তারপর থেকেই ইতালি যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সে সময় ইতালিতে সংক্রমণ ও মৃত্যু ছিল সবচেয়ে বেশি। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৭২। এর মধ্যে মারা গেছে ৮৫ হাজার ৮৮১ জন। ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬১ জন। বর্তমানে সেখানে করোনার অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৪ লাখ ৯১ হাজার ৬৩০।...

বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ব্রাজিলের ৪ ফুটবলারসহ নিহত ৬

২৫,জানুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রাজিলে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে লাস পালমাস নামক একটি ক্লাবের চার খেলোয়াড় ও সভাপতি নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় বিমানটির পাইলটও নিহত হয়েছেন। খবর ডেইলি মিররের। রোববার (২৪ জানুয়ারি) লুজিমাঙ্গুয়েস নামক স্থানে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আজ সোমবার রাতে ভিলা নোভা ক্লাবের বিপক্ষে তাদের খেলার কথা ছিল। এই ঘটনার পর ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে। বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই ক্লাবটির সভাপতি লুকাস মেইরা, ফুটবলার লুকাস প্রাক্সেদেস, গুইলহেরমে নোয়ি, রানুলি, মার্কাস মোলিনারি ও পাইলট ওয়াগনার মাচাদো নিহত হয়েছেন। লাস পালমাসের পক্ষ থেকে এক বার্তায় জানানো হয়েছে যে, ক্লাবটি ভিলা নোভার বিপক্ষে বিমানে করে খেলতে যাচ্ছিল। বেসরকারি সংস্থার এই বাণিজ্যিক বিমানটি উড্ডয়ন করতে গিয়ে রানওয়ের শেষ প্রান্তে ভূপাতিত হয়। এতে বিমানটিতে থাকা সবাই প্রাণ হারান। বিমানটি ৮০০ কিলোমিটার দূরের গইয়ানিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে যাচ্ছিল। সেখানে কোপা ভার্দের শেষ ষোলোর ম্যাচে সোমবার ভিলা নোভার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল তাদের। যে চারজন খেলোয়াড় মারা গেছেন তারা চলতি বছর (২০২১) পালমাসে যোগ দিয়েছেন। তার মধ্যে প্রাদেস, নোয়ি ও রানুলে গেল সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। লাস পালমাম ব্রাজিলের চতুর্থ টায়ারের একটি দল। এই ঘটনায় তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে। পাশাপাশি তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছে।...

রাশিয়ায় নজিরবিহীন বিক্ষোভ, গ্রেফতার তিন হাজার

২৪,জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাশিয়ায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির সমর্থনে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভ থেকে ৩ হাজারের বেশি জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। খবর রয়টার্স। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যতম এই বিক্ষোভ Raillyতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের শারীরিকভাবে মস্কোর দাঙ্গা পুলিশ নির্যাতন করছে, এমনও দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট পুতিনের সমালোচকদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি অ্যালেক্সি নাভালনি গত রোববার গ্রেফতার হওয়ার পর বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। মস্কো, সেইন্ট পিটার্সবার্গ, সাইবেরিয়াসহ প্রায় ১শ শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে মানুষ। কিশোর, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিরা পর্যন্ত বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা নাভালনির মুক্তি দাবি করেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, মস্কোর Raillyতে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ অংশ নেয়। তবে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ৪ হাজার। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাশিয়ায় এই মাত্রার বিক্ষোভ আগে কখনো দেখা যায়নি। আর মস্কোতে গত দশ বছরের মধ্যে এত বড় পরিসরে বিক্ষোভ হয়নি। Railly পর্যবেক্ষণের কাজ করে থাকে এমন একটি বেসরকারি সংস্থা ওভিডি ইনফো, তারা জানিয়েছে প্রায় ৩,১০০ মানুষকে আটক করা হয়েছে। যার মধ্যে ১,২০০ জনের বেশি মস্কো থেকে। বিক্ষোভের মধ্যে নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়াকেও কিছুক্ষণের জন্য আটক করে পুলিশ। তিনি ওই ঘটনার একটি ছবিও তাঁর ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। এ বিষয়ে ক্রেমলিন কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, গত আগস্টে রাশিয়ার বিরোধী নেতা নাভালনির ওপর স্নায়ু বিকল করার বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। তারপর থেকে তিনি চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে ছিলেন। গত রোববার বার্লিন থেকে মস্কোতে ফেরার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাকে। মূলত এই ৩০ দিন বিচারকার্য শুরু হওয়ার আগে তাকে রিমান্ডে রাখা হবে। প্যারোলের শর্ত ভাঙ্গার অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। তবে নাভালনি দাবি করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। এদিকে রাশিয়ায় শনিবার (২৩ জানুয়ারি) মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিঘ্নিত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে, তবে বিক্ষোভের সাথে এই ঘটনার সম্পর্ক আছে কিনা জানা যায়নি। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ টিকটকে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সমর্থন করে অসংখ্য ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে এবং নাভালনি সম্পর্কে ভাইরাল মেসেজ শেয়ার করা হয়েছে। রাশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়েছে যেন তারা তাদের সন্তানদের কোনো বিক্ষোভে অংশ নিতে না দেয়।...

আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে করোনার নতুন ধরন

২৩,জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার নতুন ধরন নিয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, করোনার নতুন ধরনটি আগের ধরনের চেয়ে আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া দেশজুড়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রমও চলছে। যদিও ভ্যাকসিন কতটা কাজ করছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। করোনার পুরোনো এবং নতুন ধরনের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার গবেষণা করে নতুন নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য থেকেই জানা যাচ্ছে যে, পুরোনো ধরনের চেয়ে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যেই করোনার নতুন ধরনটি ছড়িয়ে পড়েছে। ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেন, দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে এই নতুন ধরনটির কারণে মৃত্যু হারও বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। লন্ডন এবং দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে প্রথম করোনার এই নতুন ধরনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। করোনার নতুন ধরনটি কতটা ভয়াবহ তা মূল্যায়ণের চেষ্টা করছে ইংল্যান্ডের গণস্বাস্থ্য, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, দ্য লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এবং ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড দ্য ইউনিভার্সিটি অব এক্সিটার। এই গ্রুপটি বলছে যে, নতুন ধরনের ভাইরাসটি মারাত্মক হয়ে উঠেছে বলে- বাস্তববাদী সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়টি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। যুক্তরাজ্য সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা প্যাট্রিক ভ্যালেন্স এই তথ্যকে এখনও পর্যন্ত ততটা শক্তিশালী নয় বলেই বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। আমাদেরকে এ বিষয়ে আরও কাজ করে যেতে হবে। তবে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়াটা অবশ্যই উদ্বেগের। একই সঙ্গে সংক্রমণও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এর আগে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, করোনার নতুন ধরনটি আগের ধরনের চেয়ে ৩০ থেকে ৭০ ভাগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে এটি ৩০ শতাংশ বেশি প্রাণঘাতী বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, করোনার পুরোনো ধরনে ৬০ বছর বয়সী এক হাজার আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হতে পারে বলে ধরে নেয়া যায়। কিন্তু নতুন ধরনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রায় ১৩ জন। অর্থাৎ নতুন ধরনে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হারও বেশি। গত সেপ্টেম্বরে কেন্ট এলাকায় প্রথম করোনার নতুন ধরনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এটি এখন ইংল্যান্ড এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে করোনাভাইরাসের সাধারণ ধরনে পরিণত হয়ে গেছে। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে এই ধরনটি ছড়িয়ে পড়েছে।...

রাত পোহালেই ভোট উৎসব

২৬,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা গতকাল (সোমবার) মধ্যরাতে শেষ করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) রাত পেরুলেই বুধবার (২৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে কাঙ্ক্ষিত চসিক নির্বাচন। সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রচারণার শুরু থেকেই সংঘাত-সহিংসতার কারণে নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণে মাঠে থাকবে ১৪ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার সিটি নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সবকটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। আজ (মঙ্গলবার) দুপুর থেকে নির্বাচনী কর্মকর্তারা ইভিএম মেশিন ও ভোটগ্রহণ সামগ্রী নিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মাঠে থাকবেন বিজিবি, Rab, পুলিশ, আনসার বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী। থাকবেন সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা সংস্থাও। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও বহিরাগত লোকজন নগরী ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টা করলে আইনের আওতায় আনা হবে। নির্ভয়ে ভোট প্রদানের জন্য ভোটারদের প্রতি অনুরোধ করেছেন তিনি। ভোটগ্রহণে ৭৩৫ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৩৯ টি ভোটকেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র হিসেবে চিহিৃত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ৩০৬ ভোটকেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহিৃত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নজর বেশি থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ১৮ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়াও বিজিবি ২৫ প্লাটুন, Rabর ৪১টি টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে ১৪০টি, মোবাইল টিম থাকবে ৪১০টি। সবমিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবেন ১৪ হাজার ৩৭০ জন সদস্য। মাঠে থাকবেন ৬৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ২০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে, বিজিবি প্লাটুন প্রতি একজন, Rab সিপিসির সঙ্গে তিন জন করে ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। গত ৮ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়। গতকাল (সোমবার) রাত ১২টা থেকে নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শেষমুহূর্তে প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত ছিল নগরী। মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছিল চিরচেনা সেই বন্দরনগরী। ...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

২৬,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক বৃদ্ধসহ দুইজনের প্রাণহানী ঘটেছে। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের ভাটপাড়া ও সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের মৃত সোহরাব মিয়ার ছেলে আবু সায়েদ (৮০) ও সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে হাকিম মিয়া (২৪)। নিহত হাকিম মিয়া ছিলেন একজন পিকআপ ভ্যান চালক। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বৃদ্ধ আবু সায়েদ ইজিবাইকযোগে জেলা সদর থেকে নিজ বাড়ির সামনে গিয়ে ইজিবাইক থেকে নেমে রাস্তা পারাপারের সময় পিছন দিক থেকে একটি মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অপরদিকে হাকিম মিয়া সোমবার তার পিকআপ ভ্যান নিয়ে সরাইল উপজেলার সূর্যকান্দি এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আসার পথে সূর্যকান্দি তিনরাস্তার মোড়ে পৌঁছলে পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এতে চালক হাকিম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ নাজমুল হক ও ডাঃ খান রিয়াজ মুহাম্মদ জিকুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দুইজনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন। ...

সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী জোবায়ের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত

২৬,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,সাতকানিয়া জেলা সিনিয়র প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়ের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এড. এ. জেড. এম মঈনুল হক চৌধুরী খোকন মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খুশি হলেও ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আজ মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন ছিল। মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থী এড. এ. জেড. এম মঈনুল হক চৌধুরী খোকন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯নং ওয়ার্ডের জাহেদুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এখন সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. আতাউর রহমান জানান, সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ২ জন প্রার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এড. এ. জেড. এম মঈনুল হক চৌধুরী খোকন আজ মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বেসরকারিভাবে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়ের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল বুধবার কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরদেরকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের প্রতীক নৌকা এবং আমার প্রতি পৌরবাসীর অফুরন্ত ভালবাসা দেখে নিশ্চিত পরাজয়ের বিষয়টি বুঝতে পেরে বিএনপি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের দেশব্যাপী চলমান উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বিএনপি প্রার্থী এড. এ. জেড. এম মঈনুল হক চৌধুরী খোকনকে ধন্যবাদ জানাই। পৌরবাসীর নিকট আমি দোয়া চাই যেন তাদের ভালবাসার প্রতিদান দিতে পারি। এদিকে, বিএনপির প্রার্থী এড. এ. জেড. এম মঈনুল হক চৌধুরী খোকন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে বলেন, দলের একটি অংশ আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। মানববন্ধন করে আমাকে এলডিপি ও চোর ডাকছে। নানা রকম মিথ্যা কুৎসা রটাচ্ছে। এতে আমার মান-সম্মানের ক্ষতি হচ্ছে। এজন্য আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। এলডিপিতে যোগদান করেছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একটি অনুষ্ঠানে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে ফুল দিয়েছি কিন্তু এলডিপিতে যোগদান করিনি। তিনি একজন জাতীয় নেতা। বিএনপির অনেক নেতা এখনো অলি আহমদকে পা ছুঁয়ে সালাম করেন। তাকে ফুল দিলে সমস্যা কোথায়? চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টি আমি জানি না। এ বিষয়ে আমার সাথে আলাপও করেনি। যদি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে থাকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক জানান, এড. এ. জেড. এম মঈনুল হক চৌধুরী খোকন মনোনয়ন প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে সাতকানিয়ায় বিএনপির কবর রচনা করেছেন। এ ধরনের ব্যবসায়ী এলডিপি নেতাকে যারা মনোনয়নের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং তার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।...

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দু গ্রুপে গোলাগুলি, নিহত ১

২৬,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,কক্সবাজার প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দু'গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় মোহাম্মদ জাবেদ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) ভোররাত ৩টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের তানজিমার খোলা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ডি/৮ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাবেদ উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের তানজিমারখোলা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ডি/৪ ব্লকের বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে। কক্সবাজার ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তারিক জানান, সোমবার গভীর রাতে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মোজাম্মেল ওরফে শেখ ও মৌলভী ইউনুসের নেতৃত্বে ১০-১২ জন অস্ত্রধারী নিয়ে ডি/৮ ব্লকের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় পালংখালীর ঘোনারপাড়ার অপর একটি সন্ত্রাসী দলের নুরুল হাকিম ওরফে মনুইয়ার নেতৃত্বে ৭-৮ জন তাদের পথরোধ করেন এবং রাতের বেলায় রোহিঙ্গা শিবির সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘোরাঘুরি না করতে নিষেধ করেন। এতে দু'পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দু'পক্ষের মধ্যে ৩-৪ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ওই সময় উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ডি/৪ ব্লকের বাসিন্দা সন্ত্রাসী মোহাম্মদ জাবেদ গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাবেদকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সুপার তারিক আরও বলেন, নিহত রোহিঙ্গা নাগরিকের লাশটি উদ্ধার করে শিবিরের ইনচার্জ (সিআইসি) কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর কাজ চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ...

চুয়াডাঙ্গায় বোরো ধান চাষাবাদ শীর্ষক আলোচনা সভা

২৬,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: চুয়াডাঙ্গায় বোরো ধান সমলয়ে চাষাবাদ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে হাউলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ আলী হাসানের সভাপতিত্বে অনু্িঠত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবু, ইউএনও দিলারা রহমান, এসিল্যান্ড সুদীপ্ত কুমার সিংহ, দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমীন আক্তার। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, করোনাকালে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় দেশের কৃষিখাতের অবদান অবিস্মরনীয়। বর্তমান সরকার কৃষিখাতকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। কৃষিতে আধুনিকায়ন যন্ত্রপাতি প্রনোদনা দিয়ে যান্ত্রিক কৃষির মাধ্যমে চাষাবাদ পদ্ধতি প্রচলন করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কৃষকদের সার, বীজ ও নগদ অর্থ প্রনোদনা দেয়া হচ্ছে। সমলয়ে চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরনের আহবান জানান তিনি। এলাকার সুধীজনসহ কয়েক শ কৃষক-কৃষানী আলোচনা সভায় অংশ নেন। কৃষি বিভাগ জানায়, এবারই প্রথম ট্রেতে বোরো ধানের চারা উৎপাদনের মাধ্যমে দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ১নং স্কীমের অধীনে ১শ ৫০ বিঘা জমিতে যন্ত্রের মাধ্যমে ধান রোপন ও কাটা হবে। ...

২০২০ সালে লক্ষ্য পূরণ হয়নি ভিয়েতনামের চাল রফতানির

১৬,জানুয়ারী,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর ধাক্কা লেগেছে ভিয়েতনামের চাল রফতানিতে। সংকটকালে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখা ও জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল রফতানি সাময়িক বন্ধ রেখেছিল ভিয়েতনাম। এর প্রভাব পড়েছে খাদ্যপণ্যটির সামগ্রিক রফতানিতে। ২০২০ সালে ভিয়েতনাম থেকে ৬১ লাখ টনের বেশি চাল রফতানি হলেও খাদ্যপণ্যটির বার্ষিক রফতানি লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি দেশটি। তবে গত বছর চাল রফতানি করে আয় বেড়েছে ভিয়েতনামের রফতানিকারকদের। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রায়ত্ত জেনারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের (জিএসও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার। ভিয়েতনাম বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ। খাদ্যপণ্যটি রফতানিকারদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় দেশটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভিয়েতনামের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী বছরে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬১ লাখ ৪৬ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এ সময় চাল রফতানি করে ভিয়েতনামিজ রফতানিকারকদের আয় আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩০৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারীর মধ্যে চালের রফতানি মূল্য বাড়তি ছিল। এ কারণে গত বছর চাল রফতানির পরিমাণ কমলেও এ বাবদ ভিয়েতনামের আয় বাড়তির দিকে ছিল। মাসভিত্তিক হিসাবে গত ডিসেম্বরে ভিয়েতনাম থেকে সব মিলিয়ে ৪ লাখ ৪৩ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে জিএসও। এ সময় খাদ্যপণ্যটির রফতানি বাবদ দেশটির আয় দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি ডলারে। বিদায়ী বছরজুড়ে প্রায় সাড়ে ৬১ লাখ টন চাল রফতানি করলেও খাদ্যপণ্যটির বার্ষিক রফতানি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে ভিয়েতনাম। ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৩ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছিল। আয় হয়েছিল ২৮০ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০২০ সালে ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৭ লাখ টন চাল রফতানির পূর্বাভাস দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু করোনা মহামারী এ লক্ষ্য পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর লক্ষ্যের তুলনায় ৫ লাখ ৫৪ হাজার টন কম চাল রফতানি করতে পেরেছে ভিয়েতনাম। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বছরজুড়ে ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৪ লাখ টন চাল রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমতে পারে। ২০১৯ সালে ভিয়েতনাম থেকে মোট ৬৭ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছিল। ২০২০ সাল শেষে ইউএসডিএর এ লক্ষ্য পূরণেও ব্যর্থ হয়েছে ভিয়েতনামের চাল রফতানি খাত। চাল রফতানিতে বার্ষিক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার পেছনে করোনা মহামারীকে দায়ী করছেন ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা। তাদের ভাষ্য, গত বছরের মার্চের শেষভাগে চাল রফতানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভিয়েতনাম সরকার। মূলত করোনাকালে জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অভ্যন্তরীণ খাদ্যশৃঙ্খল নির্বিঘ্ন রাখতে সাময়িক এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে মে মাসে এসে বিদ্যমান এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। ফলে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল রফতানি ফের শুরু হয়। তবে খাদ্যপণ্যটির রফতানিতে এ সাময়িক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে বার্ষিক রফতানি লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হতো। করোনাকালীন সংকট কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া আরো সহজ হতো ভিয়েতনামের চাল রফতানি খাতের।...

বরিশালে আগাম ইরি-বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষক

১৪,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বরিশালের বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা আগাম ইরি-বোরো চাষে নেমেছেন। বিশেষ করে আগৈলঝাড়া উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই কনকনে শীত উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের চারা বীজ লাগাতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কৃষকরা জানিয়েছেন, গতবারের চেয়ে এবার দ্বিগুণ চাষি আগাম ইরি-বোরো চাষের জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। অন্য বছরের ন্যায় এবারও ইরি-বোরোর পুরো মৌসুমে সার ও সেচকাজের জন্য সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে চলতি মৌসুমেও ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। এছাড়া, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায় জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট প্রায় ৯ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ করে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, যার মধ্যে ৪৮ হাজার ৪শ মেট্রিক টন হাইব্রিড ও ২ হাজার ৫০ মেট্রিক টন উফসী চাল। এ কৃষিবিদ আরও জানান, উপজেলায় মোট আবাদি জমির মধ্যে ৮ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান ও ৫শ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফসী) বোরো ধান আবাদ করা হবে। এর মধ্যে ৪৫০ হেক্টর জমিতে আগাম বোরো আবাদ করেছেন চাষিরা। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সূত্র মতে, চলতি রবি মৌসুমে ৯১ জন চাষিকে সরিষা, ভুট্টা, মুগ, মশুর, খেসারি, আলু ও আখের বীজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, সরকারের পুনর্বাসন বীজ সহায়তা, প্রণোদনা, প্রকল্প ও রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৩২৫টি কৃষক পরিবারকে ধানের বীজসহ বিভিন্ন ধরনের বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ...

পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসির ফল প্রকাশে সংশোধিত আইনের গেজেট জারি

২৬,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে সংসদে পাস হওয়া তিনটি সংশোধিত আইনের গেজেট জারি করা হয়েছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তিনটি বিলে সম্মতি দেন। বিল তিনটিতে রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর সেগুলো আইনে পরিণত হয়। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে- ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন-২০২১, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড (সংশোধন) আইন-২০২১ ও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (সংশোধন) আইন-২০২১- এর গেজেট জারি করা হয়। এখন যেকোনো দিন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। এসএসসি ও জেএসসির পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার ফল দিতে এই আইনগুলো পাস করা হয়। রোববার (২৪ জানুয়ারি) সংসদে বিল তিনটি পাসের পর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বিলটি পাসের পর প্রজ্ঞাপন করতে দুদিন সময় লাগবে। এরপরই আমরা দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করব। আগের আইন অনুযায়ী পরীক্ষা নেয়ার পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু সংশোধিত আইনে পরীক্ষা ছাড়াই বিশেষ পরিস্থিতিতে ফলাফল প্রকাশের বিধান রাখা হয়েছে। আইন তিনটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে ডা. দীপু মনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিমারি, মহামারির কারণে বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে কোনো অনিবার্য পরিস্থিতিতে কোনো পরীক্ষা গ্রহণ, ফল প্রকাশ এবং সনদ প্রদান করা সম্ভব না হলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা কোনো বিশেষ বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ করে উক্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত পদ্ধতিতে মূল্যায়ন এবং সনদ প্রদানের জন্য নির্দেশনা জারির বিষয় উল্লেখ রয়েছে। ...

এসএসসির নতুন সিলেবাস প্রকাশ

২৫,জানুয়ারী,সোমবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য পরিমার্জিত নতুন পাঠ্যসূচি প্রকাশ করেছে সরকার। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) পুনর্বিন্যাস করা এ পাঠ্যসূচি প্রকাশ করা হয়। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য এ পাঠ্যসূচি তৈরি করেছে। সিলেবাস বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের পর গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। কওমি মাদরাসা বাদে অন্যসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা আছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার প্রস্তুতি নিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। যাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পাওয়ামাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায়। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির শুরুতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। রোববার (২৪ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে পাঁচ বা ছয় দিন ক্লাস করানো হবে। আর অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একদিন ক্লাস করানো হবে।...

ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে- ফুল মার্কস পেল টাইগাররা

২৫,জানুয়ারী,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সবমিলিয়ে ২৬তম কিংবা ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে পঞ্চম সিরিজ জয়টা ঢাকায়ই নিশ্চিত করে এসেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচটিতে লক্ষ্য ছিল হোয়াইটওয়াশের। সেইসঙ্গে ওয়ানডে সুপার লিগে নিজেদের প্রথম সিরিজে পূর্ণ ত্রিশ পয়েন্টও নিশ্চিত করার। সেই লক্ষ্যে নেমে- ফুল মার্কস নিয়েই পাস করেছে তামিম ইকবালের দল। শুধু সিরিজ জয়ই নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় এবং সবমিলিয়ে প্রতিপক্ষকে ১৪তম বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি দেখিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৭ ও ৬ উইকেটে জেতার পর আজ তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের ব্যবধান ১২০ রান। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে এ নিয়ে ১৫টি ম্যাচে ১০০ বা তার বেশি রানের ব্যবধানে জিতল টাইগাররা। ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে চার ফিফটিতে বাংলাদেশ দাঁড় করিয়েছিল ২৯৭ রানের বড় সংগ্রহ। যার জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়েছে ১৭৭ রানে। আগের দুই ম্যাচে ১২২ ও ১৪৮ রানে অলআউট হওয়া ক্যারিবীয়রা এ ম্যাচে প্রথমবারের মতো পেরিয়েছে দেড়শ রানের কোটা, যা স্রেফ পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। রান তাড়া করতে নেমে ফের ছন্নছাড়া ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিজের প্রথম স্পেলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে শুরুর ধাক্কাটা দেন মোস্তাফিজুর রহমান। পরে কিপটে বোলিংয়ে লাগামটা নিজেদের হাতেই রাখেন টাইগার অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। খানিক খরুচে বোলিং করলেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেছেন এ ম্যাচ দিয়েই দলে ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে পুরো সিরিজে ধারাবাহিক খেলা রভম্যান পাওয়েল রান পেয়েছেন আজও। সৌম্য সরকারের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে ৪৯ বলে ৪৭ রান করেন রভম্যান। এনক্রুমাহ বোনারের ব্যাট থেকে এসেছে ৩১ রান। এর বাইরে রেয়মর রেইফার (২৭), জেসন মোহাম্মদরা (১৭) ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও অল্পেই থেমে গেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে ৯ ওভারে ৫১ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন সাইফউদ্দিন। মোস্তাফিজ ৬ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। বাংলাদেশের অফস্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের রেকর্ড গড়ে ১০ ওভারে মাত্র ১৮ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট শিকার করেছেন মেহেদি মিরাজ। এছাড়া ১টি করে উইকেট গেছে তাসকিন আহমেদ ও সৌম্য সরকারের নামে। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম পাওয়ার প্লে'টা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে টাইগাররা। প্রথম ১০ ওভারে ২ উইকেট হারালেও, স্কোরবোর্ড যোগ হয় ৫৩ রান। তবে এরপর কমতে থাকে রানের গতি। পরের ২০ ওভারে আসে মাত্র ৮৪ রান। আগের দুই ম্যাচের মতোই হতাশ করেন দুই তরুণ লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান লিটন। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে ৩৭ রান যোগ করে কাইল মায়ারসের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ধরা পড়েন ৩০ বলে ২০ রান করা শান্ত। দুই তরুণ ব্যর্থ হলেও, পরে চার অভিজ্ঞই তুলে নিয়েছেন নিজেদের ব্যক্তিগত ফিফটি। ইনিংসের শুরুতে বেশ সাবলীল ছিলেন তামিম। একপর্যায়ে তিনি মাত্র ২৭ বলে করেন ২৮ রান। এরপর যেন বন্দী হয়ে যান খোলসে। পঞ্চাশে যেতে খেলে ফেলেন ৭০টি বল। যেখানে ছিল মাত্র ২টি চারের মার। তবে ফিফটি পূরণের ঠিক পরের বলেই নিজের ট্রেডমার্ক ইনসাইড আউট শটে হাঁকান ইনিংসের প্রথম ছক্কা। যদিও ইনিংসটি বেশি বড় করতে পারেননি টাইগার অধিনায়ক। তৃতীয় উইকেটে তামিম ও সাকিব মিলে যোগ করেন ৯৩ রান। কিন্তু এতে খেলে ফেলেন ১১৬টি বল। দুজনের কেউই ইনিংসের মাঝপথে সাবলীল ব্যাটিং করতে পারেননি। সিঙ্গেলস-ডাবলস বের করতে রীতিমতো লড়াই করতে হয়েছে দুজনকেই। জুটি বেঁধে ২ হাজার রানের মাইলফলক পূরণ করেছেন সাকিব ও তামিম। তাদের জুটি ভাঙে দলীয় ১৩১ রানে গিয়ে, তামিম ব্যক্তিগত ৬৪ রানে সাজঘরে ফিরে গেলে। ক্যারিয়ারের ৪৯তম ফিফটিতে খেলা ৮০ বলের ইনিংসে ৩ চারের সঙ্গে ১ ছক্কা হাঁকান তিনি। তামিম ফিরে যাওয়ার পর ৪৮তম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন সাকিব। তিনি ৩ চারের মারে ফিফটি পূরণ করতে খেলেন ৭৮ বল। তামিমের সমান ৮০ বল খেলে সাকিব আউট হন ৫১ রান করে। সাকিবের বিদায়ের পর রানের গতি বাড়ানোর মিশনে নামেন ব্যক্তিগত সম্পর্কে 'ভায়রা ভাই' মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহীম। যা বেশ সফলভাবেই করেন এ দুজন। তাদের জুটিতে আসে ৭২ রান, মাত্র ৫৮ বলে। মূলত মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর জুটিতেই আসে ২৮৭ রানের বড় সংগ্রহ। সাকিব-তামিম যেখানে করেন ধীরগতির ফিফটি, সেখানে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক। ক্যারিয়ারের ৩৯তম ফিফটি করতে মুশফিক খেলেন ৪৭ বল। মাহমুদউল্লাহর ১৭তম ফিফটি আসে মাত্র ৪০ বলে। দারুণ এক ছয়ের মারে পঞ্চাশ পূরণ করেন মাহমুদউল্লাহ। তাদের ব্যাটেই মূলত শেষ ১০ ওভারে ১০০ রান পায় বাংলাদেশ। পুরো ৫০ ওভার শেষ করে আসতে পারেননি মুশফিক। তিনি সাজঘরে ফেরেন ৪৭তম ওভারে, খেলেন ৫৫ বলে ৬৪ রানের ইনিংস। যেখানে ছিল ৪ চারের সঙ্গে ২টি ছয়ের মার। তবে শেষপর্যন্ত খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৪৪ বলের ইনিংসে সমান ৩টি করে চার-ছয়ের মারে ৬৪ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। এছাড়া সৌম্য সরকার ৮ বলে ৭ ও সাইফউদ্দিন ২ বলে ৫ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন রেয়মন রেইফার ও আলঝারি জোসেফ।...

হোয়াইটওয়াশ নয়, ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য ১০ পয়েন্ট

২৪,জানুয়ারী,রবিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সর্বশেষ সাত ম্যাচেই টাইগারদের কাছে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শক্তিমত্তার বিচারে আগের দলের তুলনায় বর্তমান দলে পার্থক্য থাকলেও ক্রিকেটে যে কোনও দলই খেলতে নামে জয়ের লক্ষ্যে। চলতি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে ইতোমধ্যে ব্যাকফুটে উইন্ডিজ, খুইয়েছে সিরিজও। তাই শেষ ম্যাচ জিতে অন্তত ১০ পয়েন্ট পেতে চায় ক্যারিবীয়রা। হ্যাঁ, চলমান আইসিসি ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপ বা ওয়ানডে সুপার লিগের কারণে এখন একটি জয় পেলেই ১০ পয়েন্ট। বাংলাদেশ যেমন টানা দুটি ম্যাচ জিতে বিশে বিশ পূর্ণ করেছে। শেষ ম্যাচেও হারলে হোয়াইটওয়াশ হবে ক্যারিবীয়রা। অন্যদিকে, পুরো ত্রিশ পয়েন্ট পকেটে পুরবে বাংলাদেশ। তাই তো হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর প্রচেষ্টা নিয়েই শেষ ম্যাচটি জিতে অন্তত ১০টি পয়েন্ট পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা সফরকারীদের। এ বিষয়ে দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেন, আমরা ৩০ পয়েন্টের জন্যই এসেছিলাম। এখনও ১০ পয়েন্ট নিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে এই ১০ পয়েন্ট অর্জন। এদিকে, চলমান এই আইসিসি সুপার লিগের শীর্ষ আটটি দল জায়গা করে নেবে ২০২৩ বিশ্বকাপের মূলপর্বে। বাকিদের খেলতে হবে বাছাইপর্ব। দুর্বল দল পাঠিয়ে এখন নিশ্চয়ই অনুশোচনা হচ্ছে ক্যারিবীয় বোর্ডের। অবশ্য পর্যায়ক্রমে উন্নতির ছাপ দেখছেন সিমন্স। তিনি বলেন, ১২০ রান থেকে সেদিন ১৪০ রান করলাম। আমাদের এখন ২৩০ বা ২৫০ রানের মতো করতে হবে। তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, বোলাররা রসদ নিয়ে লড়তে পারবে। এদিকে, টানা দুই ম্যাচ জেতার পাশাপাশি সিরিজ নিজেদের করে নেয়ায় তৃতীয় তথা শেষ ম্যাচে টাইগার শিবিরে মিলেছে কয়েকটি পরিবর্তনের আভাস। এ বিষয়ে দলীয় অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান বলেন, তাসকিন-সাইফউদ্দিনের মতো ক্রিকেটাররা এখনও একাদশে সুযোগ পাননি। দলে জায়গা পেতে কঠিন প্রতিযোগিতা চলছে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচের আগে এটি কোনও উদ্বেগজনক বিষয় নয়। সবারই খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত। যারা এখনও খেলার সুযোগ পাননি, তারা সবাই ভালো করার সামর্থ্য রাখে। আমি নিশ্চিত, তৃতীয় ওয়ানডেতে আমাদের কিছু পরিবর্তন হবে এবং আশা করি, যারা আসবে ভালো করবে।...

হতাশা থেকে আত্মহত্যা অভিনেত্রী জয়শ্রীর

২৬,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণী অভিনেত্রী জয়শ্রী রামাইয়ার। সোমবার দুপুরে বেঙ্গালুরুর একটি বৃদ্ধাশ্রমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেহ। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলেই প্রাথমিক ভাবে অনুমান পুলিশের। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সন্ধ্যা কিরণ নামে ওই বৃদ্ধাশ্রমে অবসাদের চিকিৎসা করাচ্ছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, গত রবিবার রাতেই মৃত্যু হয় তার। কন্নড়- বিগ বস-এ অংশগ্রহণ করে মূলত পরিচিতি পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। মনে করা হচ্ছে, মানসিক হতাশা থেকেই আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। ফেসবুকে ডিপ্রেশন নিয়ে পোস্ট করেছিলেন জয়শ্রী। গত বছরের ২২ জুলাই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা লিখেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময় সেই পোস্ট মুছে দিয়েছিলেন। আরও একটি পোস্টের মাধ্যমে ভক্তদের জানিয়েছিলেন সুস্থ এবং ভাল রয়েছেন তিনি। আবার ২৫শে জুলাই ফেসবুক লাইভে তিনি জানিয়েছিলেন, ছোটবেলা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। মানসিক হতাশার সঙ্গে লড়াইয়ের কথাও বলেছিলেন অভিনেত্রী। লাইভে তিনি বলেছিলেন, প্রচার পাওয়ার জন্য আমি এ সব করছি না। সুদীপ স্যারের থেকে আর্থিক সাহায্যও চাইছি না। আমি মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছি কারণ আমি হতাশার সঙ্গে লড়াই করতে পারছি না। আমি আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল কিন্তু মানসিক ভাবে হতাশ। অনেক ব্যক্তিগত সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে আমাকে। ছোটবেলা থেকে আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমি সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পারছি না। ২০১৭ সালে- উপ্পু হুলি খরা ছবির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন জয়শ্রী। তার মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি। ...

ইত্যাদি- এবার পতেঙ্গার নেভাল একাডেমিতে

২৪,জানুয়ারী,রবিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে গিয়ে ইত্যাদি- ধারণের ধারাবাহিকতায় এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে। গত ১৬ই জানুয়ারি এই একাডেমির বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যক দর্শক নিয়ে ধারণ করা হয় ইত্যাদি। এবারের অনুষ্ঠানে গান রয়েছে দুটি। বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে নিয়ে রচিত একটি গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন নৌ-সদস্য সৌরভ, মেহেদী, পিয়াল ও আনুভা, নৃত্য পরিচালনা করেছেন মনিরুল ইসলাম মুকুল ও মামুন। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার গৌরব নিয়ে আর একটি দেশের গান গেয়েছেন চট্টগ্রামের সন্তান জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রবি চৌধুরী, আর নৌ-সদস্য লেফটেন্যান্ট সাদিয়া। দুটি গানেরই কথা লিখেছেন গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর করেছেন হানিফ সংকেত, সংগীতায়োজনে মেহেদী। এবারের ইত্যাদিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির ইতিহাস, ঐতিহ্যের ওপর রয়েছে দুটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। ঝরে পড়া শিশুদের নেশা থেকে বাঁচিয়ে জীবনের দিশা দেয়ার জন্য একটি নৈতিক স্কুল খুলেছেন মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক গাজী সালেহ উদ্দিন। তার উপর রয়েছে একটি শিক্ষামূলক প্রতিবেদন। গুড় একটি অত্যন্ত প্রাচীন মিষ্টি জাতীয় খাদ্য এবং বাঙালি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই গুড় তৈরি, গুড়ের মান ও বিক্রির ওপর রয়েছে একটি প্রতিবেদন। চুয়াডাঙ্গা জেলার ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসের অনন্য পাখী প্রেমের ওপর রয়েছে প্রতিবেদন। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার হাসান পারভেজ ও তার হাতে লেখা পত্রিকার উপর রয়েছে প্রতিবেদন। রয়েছে ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মহেশ্বরচাঁদা গ্রামের হেলালউদ্দিনের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের ওপর প্রতিবেদন। এবারের পর্বে রয়েছে এথেন্সের আগোরার ওপর একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। দর্শকপর্বের নিয়ম অনুযায়ী প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মাঝখান থেকে ৪ জন দর্শক নির্বাচন করা হয়। ২য় পর্বে নির্বাচিত দর্শকরা নাট্যাংশে অভিনয় করেন। নিয়মিত পর্বসহ এবারও রয়েছে বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশকিছু সরস অথচ তীক্ষ্ণ নাট্যাংশ। বরাবরের মতো এবারও ইত্যাদির শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। পরিচালকের সহকারী হিসেবে ছিলেন যথারীতি রানা ও মামুন। ইত্যাদির এই পর্বটি একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচার হবে আগামী ২৯শে জানুয়ারি, শুক্রবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে। পুনঃপ্রচার হবে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা ৪০ মিনিটে। ইত্যাদির রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। ইত্যাদি- স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।...

অনিয়মের অভিযোগে চেয়ারম্যান কাউন্সিলর ও ইউপি সদস্যসহ ১১ জন বরখাস্ত

২জুন,মঙ্গলবার,ক্রাইম সোর্স প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ত্রাণ বিতরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে একদিনেই ১১ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিভাগটি। যাদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৪জন ইউপি চেয়ারম্যান, একজন পৌরসভার কাউন্সিলর ও ৬জন ইউপি সদস্য রয়েছেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দরিদ্র মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে আরও ১১ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাঁদের মধ্যে চারজন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ছয়জন ইউপি সদস্য এবং একজন পৌর কাউন্সিলর রয়েছেন। বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যানেরা হলেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউপির মো. আনোয়ারুল হক, একই জেলার বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুর ইউপির হাজী মো. কাজল ভূইয়া, বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউপির মো. শাহনেওয়াজ এবং নলটোনা ইউপির হুমায়ুন কবীর। বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিংপুর ইউপির চেয়ারম্যান করোনোভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় ত্রাণকাজে সহায়তা না করে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। বাজিতপুরের হালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যানও দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এ ছাড়া করোনোভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি, এপ্রিল মাসের ভিজিডি খাদ্যশস্য বিতরণ না করা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে ব্যর্থ হওয়া এবং কারণ দর্শানোর পরিপ্রেক্ষিতে নিজে জবাব প্রদান না দিয়ে অন্যের মাধ্যমে জবাব দেওয়া। বরগুনার এম বালিয়াতলী ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে মৎস্য ভিজিএফের চাল ৮০ কেজির জায়গায় ৬০ কেজি দেওয়া এবং তালিকার বাইরেও অন্যদের চাল দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। নলটোনা ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলেদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, ভুয়া টিপসইয়ের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ইউপি সদস্যরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপজেলার মজলিশপুর ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারিছ মিয়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাছান মিয়া, বরগুনা জেলার সদর উপজেলাধীন নলটোনা ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হারুন মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হানিফ, ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মোসা. রানী এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মোসা. ছাবিনা ইয়াসমিন। বরখাস্ত হওয়া পৌরসভার কাউন্সিলর হলেন চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সোলাইমান বাবুল।...

প্রায় ৪শ লোককে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠায় চক্রের অন্যতম হোতা কামাল

১জুন,সোমবার,ক্রাইম সোর্স প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা কামাল হোসেন ওরফে হাজী কামালকে গ্রেফতার করেছে RAB। প্রায় ৪শ লোককে অবৈধভাবে তিনি বিদেশে পাঠায়। RAB বলছে, তিনিই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে মানবপাচারকারীর মূল হোতা। এরসঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে RAB। বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে অবৈধ ভাবে ইতালিতে যাওয়া। তারা বিভিন্ন শ্রমিকদের যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখানো হয়। এবং তাদের বিদেশে যাওয়ার পরই বাকি টাকা দেবে। এ ধরনের আশ্বাস দেয়া হয়। আমারা একাধিক দালাল পেয়েছি। তারা মাদারীপুর, শরিয়রতপুরসহ বিভিন্ন জেলার লোক রয়েছে। তারা প্রথমে বাইরুটে ঢাকা থেকে কলকাতা নেয়া হয়। এই হাজী কামালই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা বাংলাদেশ থেকে ১০-১৫ দিন লাগে বেনগাজীতে যাওয়ার। এ চক্রটি লিবিয়াতে যাওয়ার পরই তারা টাকার জন্য পেশার দেয়া শুরু হয়। RAB জানায়, লিবিয়ার ত্রিপোলিতে কিছু কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এই বেনগাজীতে পৌঁছানোর পরই তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপর তাদের ত্রিপোলিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ত্রিপোলিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবারও পরিবারের কাছে ২ থেকে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেখানে তাদের শুরুতে ভূমধ্যসাগরে বোট চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তিনি গত ১০-১২ বছরে ৪শ লোককে পাঠিয়েছেন। তার সঙ্গে যুক্ত আছেন ১৫-১৬ জন। আমরা পুরো সার্কিটের তথ্য পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চলতে থাকবে। গত ২৮ মে লিবিয়ার মিজদা শহরে ২৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মারা যাওয়া ২৬ জনসহ ৩৮ বাংলাদেশি ও কিছু সুদানি নাগরিক প্রায় ১৫ দিন ধরে ওই অপহরণকারী চক্রের হাতে আটক ছিলেন। ইতালিতে অভিবাসনের উদ্দেশে ওই ৩৮ জন বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে লিবিয়ায় যান।...

কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রমী মোস্তফা ভুঁইয়া

২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মোঃ মোস্তফা ভুঁইয়া ১৯৫০ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বাস গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ডাঃ মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মাতার নাম মরহুমা রৌশনারা বেগম। তিনি তিন সন্তানের জনক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, আত্মীয়স্বজন সহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি একসময় খাদ্য অধিদপ্তরে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে চাকুরিতে যোগদান করেন। তার চাকুরি জীবন শুরু হয় পাকিস্তানের করাচিতে। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান যা বর্তমানে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী স্বদেশ পার্টিতে যাত্রা শুরু করেন। তিনি আমৃত্যু স্বদেশ পার্টির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজসেবা, জনকল্যাণ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের অধিকার সংগ্রামে জড়িত ছিলেন। তিনি অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা- লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে একজন বলিষ্ট প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি গত ২০২০ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পারি জমান। তার অসংখ্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সহকর্মী শোকাহিত হৃদয়ে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে। তার অভাব পূরণ হবার নয়। তার কর্মীরা এক মূহূর্তের জন্য তাকে ভুলতে পারে না। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, শান্তি, এবং জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি। ...

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে আকুল আবেদন

২০সেপ্টেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: সকল শিক্ষারর্থীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হতে বিরত থাকুন। মার্চ ২০২০ হতে কোভিড-১৯ (করোনা) সংক্রমণ শুরু হয়। পর্যবেক্ষণ দেখা যায় শীত প্রধান অঞ্চলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ অধিক। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে সংক্রমণ বেড়েই চলছে। আমাদের দেশ ঘনবসতি পূর্ণ জনবহুল দেশ। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি বেসরকারি ব্যাক্তি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার প্রচারণায় দেশবাসী সচেতন হয়েছে। দেশের মানুষ সতর্ক হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলছে। যার ফল আমরা প্রত্যক্ষ করছি। সামনে শীত মৌসুম। এ অবস্থায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা একেবাড়ে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিভিন্ন মহল বিশিষের দাবীর মুখে একাধিক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জানা যায় সদাসয় সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেণির পরিক্ষা ও ক্লাস শুরু করার তথ্য। অবশ্যই এই উদ্যেগ ভাল। কিন্তু এ মুহূর্তে তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। কোভিড-১৯ একটি সংক্রামক ও ছোঁয়াছে রোগ। এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাবস্থা অত্যন্ত জটিল। তাই এর সংক্রমণ ঠেকাতে আমাদের দেশের সরকার শত চেষ্ঠার পর সম্পূর্ণ সফল হতে পারেনি। অবশ্য আংশিক সফলতা, যথাপোযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অবশ্যই সরকারের সাধুবাদ। ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কৃতজ্ঞতাচিত্তে ধন্যবাদ জানাচ্ছিও। আমাদের দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী অনেক। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে ক্লাস করা কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়। তাই সকল দিকে বিবেচনা করে, প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাস শুরু না করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।- ...

শীতার্তদের মাঝে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কম্বল বিতরণ

২৬,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিউজ ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুরান ঢাকার বংশালে শীতার্তদের মাঝে ৭০০টি কম্বল বিতরণ করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. কামরুল হাসান রিপন। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে বংশালের নাজিরা বাজার এলাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শীতার্তদের মাঝে তিনি শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। এ সময় কামরুল হাসান রিপন বলেন, আমি সব সময়ই সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই, তাদের জন্য কাজ করতে চাই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে মানুষের সেবা করছি। ভবিষ্যতে এই সেবার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান, ধর্ম সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উল্লাহ ওয়ালিদ উপস্থিত ছিলেন। ...

ফখরুলের ডিমেনশিয়া রোগ হয়েছে কিনা সন্দেহ হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

২৫,জানুয়ারী,সোমবার,নিউজ ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের ডিমেনশিয়া রোগ হয়েছে কিনা আমার সন্দেহ হচ্ছে। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গতকাল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন এই ভ্যাকসিনের ওপর নাকি তাদের আস্থা নেই। এই ভ্যাকসিনের ওপর পুরো পৃথিবী আস্থা স্থাপন করেছে। ভারতে কোটি কোটি মানুষকে এ ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। আর অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এই ভ্যাকসিনের ওপর জনগণের আস্থা নেই। বালখিল্য প্রলাপের মতো তিনি বলেছেন, এই ভ্যাকসিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হোক। তিনি বলেন, আমার সন্দেহ হচ্ছে মানুষ বুড়ো হয়ে গেলে ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি আবোল তাবোল বলে। এই রোগটি শুধু মানুষের হয় তা নয়। বানর হনুমানেরও হয়। তারাও উল্টাপাল্ট কাজ করে চিৎকার করে। মানুষও বুড়ো বয়সে অপ্রাসঙ্গীক অবান্তর নানা ধরনের কথা বলে। তাই আমার সন্দেহ হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের এই ডিমেনশিয়া রোগ হয়েছে কিনা। তিনি যেভাবে গতকাল ইয়ারকি করার মতো কথা বলেছেন একজন দায়িত্বশীল নেতার মুখ থেকে কখনো এ ধরনের বক্তব্য আশা করা যায় না। আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবসহ বিএনপির নেতা কর্মীদের অনুরোধ জানাবো সরকারের সাফল্যে আপনাদের মুখ ম্লান হয়েছে। তাই বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার যে নোংরা খেলায় নেমেছেন এটি দেশ জাতি ও জনগণের সাথে প্রতারণা। দয়া করে আপনারা সে প্রতারণাটা করবেন না। হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি আশা করেছিল সরকার সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন আনতে পারবে না। যখন সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন চলে আসলো তখন তারা প্রশ্ন তোলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। আমাদের জলবায়ুর জন্য পৃথিবীতে কার্যকর যে কয়টি ভ্যাকসিন আবিস্কৃত হয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম। কোটি কোটি মানুষের উপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমাদের দেশেও যারা ফ্রন্টলাইনার তাদের এই ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য সরকার প্রথমে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যখন দেশে ভ্যাকসিন চলে আসলো তখন বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হলো এই ভ্যাকসিন নিয়ে লুটপাট হবে। অর্থাৎ এই ভ্যাকসিন শুধু মাত্র ক্ষমতাবানদের দেওয়া হবে। তাদের সেই কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম যে, বিএনপি আগে ভ্যাকসিন নিতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবো তাদের আগে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য। এখনতো তাদের কথায় মনে হচ্ছে বিএনপি আদৌ ভ্যাকসিন নিতে চায় না। এখন সেটিই হচ্ছে প্রশ্ন, বিএনপি ভ্যাকসিন নিতে চায় কিনা? আমি রুহুল কবির রিজভী সাহেবকে বলবো, উনি ও তাদের মহাসচিব যেভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন, এই বিভ্রান্ত করার নোংরা রাজনীতি বন্ধ করুন। জনপ্রতিনিধিরা কখন ভ্যাসকিন পাবে, রাজনীতিবিদদের আগে ভ্যাকসিন নিতে হবে, পরে জনগণ নেবে এ ধরনের আলোচনা হচ্ছে সে বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি প্রথমে টিকা পাওয়ার অধিকার রাখেন স্বাস্থ্যকর্মীসহ যারা করোনার মধ্যে ফ্রন্টলাইন ফাইটার হিসেবে কাজ করেছেন। সরকার সেভাবেই একটি রোডম্যাপ তৈরি করছে। করোনার সময় জনপ্রতিনিধিরা জনগণের পাশে ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আমার অধিকারটা আগে নয়। কেউ যদি মনে করে পথ দেখানোর জন্য আমাদের আগে টিকা নিতে হবে, সেক্ষেত্রে ভলান্টিয়ার হিসেবে নিতে কোনো আপত্তি নেই। হাছান মাহমুদ বলেন, করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। শুধু মাত্র সংবাদ সম্মেলন, মাঝে মধ্যে দুই একটি মানববন্ধনের মধ্যেই তারা সীমাবদ্ধ ছিল। জনগণের জন্য কিছু লোক দেখানো ফটোসেশান করেছে ত্রাণ তৎপরতা দিয়ে। যেখানে আমাদের দলের পক্ষ থেকে এক কোটি ২৫ লাখ প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। কয়েক কোটি টাকাও বিতরণ করা হয়েছে। এক কোটি ২৫ লাখ লোকের কাছে খাদ্য সহায়তাসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এতে আমাদের বহু নেতা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ও মৃত্যুবরণ করেছে। তারপরও আমরা কেউ থেমে যাইনি। মন্ত্রিসভার প্রায় এক তৃতীয়াংশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সুস্থ হয়ে আবার সবাই কাজে নেমে পড়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বের কারণে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের একটি ভুল সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে যেভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতারা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছিলেন সেটি অত্যন্ত হাস্যকর এবং ষড়যন্ত্রমূলক ছিল। সেটির ব্যাখ্যা ভারত সরকার, সিরাম ইনস্টিটিউট ও ভারতের স্বাস্থ্যসচিব দিয়েছেন।...

কাবা শরিফ-মদিনায় জুমআ পড়াবেন শায়খ জুহানি ও হুসাইন

১৫,জানুয়ারী,শুক্রবার,ধর্ম ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আলহামদুলিল্লাহ! কাবা শরিফ ও মদিনায় পবিত্র জুমআ অনুষ্ঠিত হবে। মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জুমাদা আল-আখিরাহর প্রথম জুমআ আজ। দুই পবিত্র মসজিদের খুতবাহ ও জুমআর নামাজের জন্য দুইজন সম্মানিত শায়খকে নির্বাচিত করেছে হারামাইন কর্তৃপক্ষ। আজ ১৫ জানুয়ারি ২০২১ মোতাবেক ০২ জুমাদা আল আখিরা। নতুব বছরের তৃতীয় জুমআ ও জুমাদা আল-আখিরার প্রথম জুমআ আদায়ে মুসলিম উম্মাহর সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে মক্কা ও মদিনা। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজে অংশগ্রহণকারীরা যাদের খুতবাহ শুনবেন- কাবা শরিফ : প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার প্রসিদ্ধ ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আব্দুল্লাহ আওয়াদ আল জুহানি।- মদিনা মুনাওয়ারা : প্রসিদ্ধ ইমাম ও খতিব শায়খ ড. হুসাইন আল আশ-শায়খ। তবে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জন্য যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে নিজস্ব মুসাল্লাসহ এ দুই পবিত্র মসজিদে জুমআর নামাজে পড়তে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ করতে হবে। উল্লেখ্য, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জুমআর নামাজের খুতবা ও নামাজ সরাসরি সম্প্রচার করবেন। হারামাইনডট ইনফোসহ অনেক চ্যানেলেও এ নামাজ সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।...

যেসব ভুলে পর্বত সমান নেক আমলও ধূলিকণায় পরিণত হবে

০৭,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,ধর্ম ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মর্যাদার দিক থেকে সৃষ্টি জগতে মানুষই সেরা। এদের মধ্যে যারা আল্লাহর বিধান যথাযথভাবে পালন করেন তারা দুনিয়া ও পরকালে সফল। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যারা আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করার পরও কিছু ভুল বা অন্যায়ের কারণে তাদের আমলনামায় থাকা পর্বত সমান নেকগুলো কোনো কাজে আসবে না বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সেসব লোক কারা? কী তাদের অন্যায়? প্রকাশ্যে ভালো কাজ তথা ইবাদত-বন্দেগির বিনিময়ে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে অনেক নেক দান করবেন। বড় বড় পর্বত সমান নেকও সামান্য ভুল তথা অন্যায়ের কারণে কোনো কাজে আসবে না। হাদিসে বর্ণনায় তাদের সুস্পষ্ট বিবরণ ওঠে এসেছে- হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই আমি আমার উম্মাতের কয়েকটি দল সম্পর্কে জানি, যারা কেয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালার সমতুল্য নেক আমল নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলা সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেবেন। (এ কথা শুনে) হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের পরিচয় পরিস্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন; যাতে আমরা যেন নিজেদের অজান্তে তাদের দলভূক্ত হয়ে না যাই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- তারা তোমাদেরই ভাই; তোমাদের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত। তোমাদের সঙ্গেই (একই সমাজে) বসবাস করে। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতই (আল্লাহর) ইবাদত করে। কিন্তু তারা এমন লোক যে- একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে লিপ্ত হয়। (ইবনে মাজাহ)। হারাম কাজগুলো কী হতে পারে? কুরআনুল কারিমের ঘোষণা- নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন। এ শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ অনেক সময় আল্লাহ তাআলা কর্তৃক হারাম ঘোষিত কাজও করে থাকে। অথচ তারা সমাজে সবার সঙ্গে আল্লাহর সব বিধান মেনে চলা ব্যক্তি। কিন্তু গোপনে সুযোগ পেলেই- দৃষ্টির খেয়ানত করে। সামনাসামনি কারো দিকে না তাকালেও পেছনে কিংবা লুকিয়ে এ কাজটি করে থাকে। লজ্জাস্থানের খেয়ানত করে। সবার সামনে অনেক পরহেজগার কিন্তু লোক চোখের অন্তরালে চারিত্রিক কুলষতায় জড়িয়ে পড়ে। মানুষের অধিকার নষ্ট করে। গোপনে মানুষ ধন-সম্পদ, জমা-জমি ও ফল-ফসলের ক্ষতি করে। নির্জনে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় জানা-অজানা হারাম অনেক কাজে নিয়োজিত হয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদিসে মানুষের গোপন সেসব অন্যায় অপরাধের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার কথা বলেছেন। যেন তাদের এসব অন্যায় অপরাধের কারণে দুনিয়ার জীবনের সব নেক আমলগুলো পরকালে ধূলিকনায় পরিণত না হয়। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। গোপনে হারাম কাজে জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন। ...

ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: শহীদুল হক

স্পেশাল প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের পর খুন হওয়া মেয়েটি জীবিত ফেরার পর পুলিশের তদন্ত এবং রিমান্ডপ্রক্রিয়া আরো একবার প্রশ্নের মুখে। বিরাট প্রশ্ন ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়েও। এসব প্রশ্ন নিয়েই পুলিশের সাবেক আইজি শহীদুল হকের মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউজ একাত্তর একজন স্পেশাল প্রতিনিধি। প্রশ্ন : সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় তিনজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছে, তারাই ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ওই ছাত্রী জীবিত ফিরে এসেছে। পুলিশের পুরো তদন্তব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল না? শহীদুল হক : দেখুন, এখানে যে সঠিক তদন্ত হয়নি তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা হয়তো পুলিশের ভয়েই এটা করেছে। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সত্য তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা যা তা হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বাদীপক্ষের চাপে বা বাদীপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো সুযোগ নিয়ে কাউকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। কাউকে কাউকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে। প্রশ্ন : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে তো জজ মিয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শহীদুল হক : সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে, সরকারের চাপে জজ মিয়ার নাটক সাজানো হয়েছে। ওই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর জন্য দুঃখজনক। তবে মনে রাখতে হবে, ওটা ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ২১ আগস্ট মামলায় প্রথমদিকে যা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ভালো হলে তাঁর ওপর সরকারের চাপ থাকলে প্রয়োজন হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে পারতেন। তা কিন্তু করেননি। দুর্নীতিপরায়ণ দুই-চারজন তদন্ত কর্মকর্তার কারণেই মাঝে মাঝে পুলিশের ওপর দোষ চাপে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমি চাঁদপুরের এসপি পদে থাকার সময় সেখানে একজন ওসি ছিল, মিয়া মো. শরীফ। তাকে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। এক প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলো। কিন্তু সে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে চলে গেল। এরপর একদিন তৎকালীন আইজি মহোদয় আমাকে ফোন করে বললেন, এটা নিয়ে যেন আমি আর কথা না বলি। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। আমি চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি। প্রশ্ন : কিন্তু এ রকম একজন-দুজনের কারণে তো গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপরই দায় চলে আসছে। শহীদুল হক : এক-দুজনের কারণে গোটা বাহিনী কলঙ্কিত হতে পারে না। হয়ও না। দেশের মানুষ সচেতন। তারা সব বোঝে। দেখুন, করোনাভাইরাসের মতো মহামারির সময় এই পুলিশ বাহিনীর কর্মকাণ্ড সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে। জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সবাই দেখছে। পুলিশের এত ভালো কাজের মধ্যে দু-একটি ঘটনা গোটা বাহিনীর সাফল্যকে ম্লান করে দিতে পারে না। প্রশ্ন : প্রতিটি ক্রসফায়ারের ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা সব ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের। সত্যি বললে মানুষের কাছে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। হাসাহাসিই হয় অনেক ক্ষেত্রে। শহীদুল হক : আমি নিজেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাস করি না। কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তবে একটা কথা, আমাদের দেশে মাঝে মাঝে কিছু এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে। এই ক্রসফায়ারের ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে হবে। দেশে অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী ছিল, যাদের গ্রেপ্তার করে রাখা যেত না। কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বড় বড় অপরাধ করত। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে শুরু হয় ক্রসফায়ারের ঘটনা। তখন বড় সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। দেশের মানুষ ওটাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিয়েছে। এভাবে দেখলে, সেই সময় ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আরেকটা কথা, কোনো মামলায় অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর অভিযোগপত্র দেওয়া হয় আদালতে। কিন্তু আদালতে মামলা বছরের পর বছর পড়ে থাকে। বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আরো অপরাধ করে। দেশে যদি দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন হতো এবং আসামিদের যদি জামিন না হতো তাহলে এই ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটত না বল মনে করি। প্রশ্ন : ক্রসফায়ারে নিরীহ মানুষ হত্যার অভিযোগ উঠছে। কখনো কখনো অর্থ নিয়ে বা অর্থের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এমনও আমরা দেখছি... শহীদুল হক : এ রকম দু-একটি ঘটনা যে ঘটছে না তা বলা যাবে না। এ কারণেই তো এটা নিয়ে এত কথা হচ্ছে। আমার কথা হলো, এ রকম নিরীহ মানুষ হত্যা করা হলে জড়িত আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা দরকার। প্রশ্ন : দেখা যায়, আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড়জোর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করার ঘটনা ঘটে। এরপর আর কিছু হয় না। শহীদুল হক : এ কথা সত্য নয়। প্রথামিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত, বেতন কমানো, পদের অবনমন ইত্যাদি ঘটনা ঘটে। এ রকম বহু ঘটনা আছে। যা কখনো মিডিয়ায় আসে না বলেই মানুষ প্রথমটুকুই দেখে মূল্যায়ন করে। পরেরটুকু দেখলে বা মিডিয়ায় এলে মানুষের ভুল ধারণা কেটে যাবে। ...

জামাল খানের উন্নয়নই আমার একমাত্র চাওয়া: কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন

০১মার্চ,রবিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন এলাকার উন্নয়ন ভাবনা ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। শনিবার ২৯শে ফেব্রুয়ারি বিকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তার চিন্তা ধারার কথা তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকার জন্য কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি তার অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে অনেক খুশী যে তাকে আবারও মুল্যায়ন করেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানান তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য। তার উপর আস্থা রাখার জন্য। তিনি প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দিবেন। তিনি মনে করেন এই মনোনয়ন এর মধ্য দিয়ে তার দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেলো এবং কাজের গতি দ্বিগুন বেড়ে গেছে। কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন জানান, আজকের এই নান্দনিক জামাল খানের রুপান্তর সম্ভব হয়েছে মানুষের সহযোগিতার জন্য। ওয়ার্ডবাসী তাদের মুল্যবান রায় দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে এবং আমার উপর আস্থা রেখেছেন। যার ফলে তিনি বিগত পাঁচ বছরে নগরীর জামাল খান ওয়ার্ডকে একটি নান্দনিক জামাল খানে রুপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন। এক সময় যে জামাল খানে একটু রাত হলেই ঘনিয়ে আসতো অন্ধকার, স্ট্রিট লাইট গুলো জ্বলত মিট মিট করে। গনি ব্যাকারী থেকে জামাল খান পর্যন্ত নেমে আসা নিরবতার কারনে বেড়ে যেত ছিনতাই আর নেশা খোরদের আনাগোনা। সেই জামাল খান আজ চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের একটি আদর্শ ওয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। ৪১ টি ওয়ার্ডের মধ্যে একটি অন্যতম ওয়ার্ড হিসাবে পরিচিত। চারিদিকে সবুজের সমারোহ তিরি করা হয়েছে, লাগানো হয়েছে বিচিত্র গাছ গাছালি ও ফুলের বাগান। সেই সাথে রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য বসার স্থান। সড়ক জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে এলডি বাল্ব।পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বসানো হয়েছে ছাউনি। জামাল খানের প্রতিটি দেয়ালে দেয়ালে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সুনিপুণ কারুকাজ করা হয়েছে। যা ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেয়। গোল চক্করে স্থাপন করা হয়েছে রঙ্গিন ফোয়ারা যা জামাল খানের সৌন্দর্যকে অনেক খানি বাড়িয়ে দিয়েছে। বসানো হয়েছে লাইভ ফিশ একুরিয়াম( স্ট্রিট একুরিয়াম)। অতি সম্প্রতি দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম কাঁচের তৈরি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। তিনি এলাকার মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবেন। যুবক সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত রাখতে কাজ করবেন। তার এলাকায় জলজট নেই তবে কিছুটা জলাবদ্ধতা আছে। তিনি আশা বাদী সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ ভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের কাজ করছে। এটির বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন করা যাবে। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই জামাল খানকে বিশ্বের একটি আধুনিক ওয়ার্ডে রুপান্তর করবেন। পার্কের আদলে গড়ে তুলবেন পুরো জামাল খানকে। জামাল খানে গড়ে তুলবেন একটি সমন্বিত বার্ড জোন ও একটি পাঠাগার। জামালখান কে তামাক মুক্ত ও ফুটপাত হকার মুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আনসার নিয়োগের পরিকল্পনা ও রয়েছে। তিনি ২১ নং জালাল খানের ওয়ার্ড বাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, তার শৈশব কৈশোর কেটেছে এই জামাল খানে। এই এলাকার সাথে তার আত্মার সম্পর্ক। আপনারা আমার পরম আত্মীয়। তাকে আবারও নির্বাচিত করে আরও একটিবার সুযোগ দেওয়ার জন্য যাতে এলাকাবাসীর সেবা করতে পারেন। সেই সাথে দলীয় নেতা কর্মীদের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তাকে সহযোগিতা করার জন্য। তিনি নির্বাচিত হলে সব সময় সুখে দুঃখে এলাকাবাসীর পাশে থাকবেন। অতীতের মত নিরলস ভাবে কাজ করে যাবেন এবং জনগনের ভালোবাসার প্রতিদান দিবেন। জামালখান বাসী আমরা সবাই একটা পরিবার। আপনারা যদি মনে করেন আমাকে বিগত পাঁচ বছরে আপনাদের কাছে পেয়েছেন তাহলে আমাকে আবার সেবা করার সুযোগ দিবেন। ...

কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রমী মোস্তফা ভুঁইয়া

২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মোঃ মোস্তফা ভুঁইয়া ১৯৫০ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বাস গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ডাঃ মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মাতার নাম মরহুমা রৌশনারা বেগম। তিনি তিন সন্তানের জনক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, আত্মীয়স্বজন সহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি একসময় খাদ্য অধিদপ্তরে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে চাকুরিতে যোগদান করেন। তার চাকুরি জীবন শুরু হয় পাকিস্তানের করাচিতে। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান যা বর্তমানে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী স্বদেশ পার্টিতে যাত্রা শুরু করেন। তিনি আমৃত্যু স্বদেশ পার্টির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজসেবা, জনকল্যাণ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের অধিকার সংগ্রামে জড়িত ছিলেন। তিনি অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা- লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে একজন বলিষ্ট প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি গত ২০২০ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পারি জমান। তার অসংখ্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সহকর্মী শোকাহিত হৃদয়ে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে। তার অভাব পূরণ হবার নয়। তার কর্মীরা এক মূহূর্তের জন্য তাকে ভুলতে পারে না। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, শান্তি, এবং জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি।


ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: শহীদুল হক

স্পেশাল প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের পর খুন হওয়া মেয়েটি জীবিত ফেরার পর পুলিশের তদন্ত এবং রিমান্ডপ্রক্রিয়া আরো একবার প্রশ্নের মুখে। বিরাট প্রশ্ন ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়েও। এসব প্রশ্ন নিয়েই পুলিশের সাবেক আইজি শহীদুল হকের মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউজ একাত্তর একজন স্পেশাল প্রতিনিধি। প্রশ্ন : সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় তিনজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছে, তারাই ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ওই ছাত্রী জীবিত ফিরে এসেছে। পুলিশের পুরো তদন্তব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল না? শহীদুল হক : দেখুন, এখানে যে সঠিক তদন্ত হয়নি তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা হয়তো পুলিশের ভয়েই এটা করেছে। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সত্য তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা যা তা হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বাদীপক্ষের চাপে বা বাদীপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো সুযোগ নিয়ে কাউকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। কাউকে কাউকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে। প্রশ্ন : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে তো জজ মিয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শহীদুল হক : সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে, সরকারের চাপে জজ মিয়ার নাটক সাজানো হয়েছে। ওই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর জন্য দুঃখজনক। তবে মনে রাখতে হবে, ওটা ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ২১ আগস্ট মামলায় প্রথমদিকে যা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ভালো হলে তাঁর ওপর সরকারের চাপ থাকলে প্রয়োজন হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে পারতেন। তা কিন্তু করেননি। দুর্নীতিপরায়ণ দুই-চারজন তদন্ত কর্মকর্তার কারণেই মাঝে মাঝে পুলিশের ওপর দোষ চাপে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমি চাঁদপুরের এসপি পদে থাকার সময় সেখানে একজন ওসি ছিল, মিয়া মো. শরীফ। তাকে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। এক প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলো। কিন্তু সে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে চলে গেল। এরপর একদিন তৎকালীন আইজি মহোদয় আমাকে ফোন করে বললেন, এটা নিয়ে যেন আমি আর কথা না বলি। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। আমি চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি। প্রশ্ন : কিন্তু এ রকম একজন-দুজনের কারণে তো গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপরই দায় চলে আসছে। শহীদুল হক : এক-দুজনের কারণে গোটা বাহিনী কলঙ্কিত হতে পারে না। হয়ও না। দেশের মানুষ সচেতন। তারা সব বোঝে। দেখুন, করোনাভাইরাসের মতো মহামারির সময় এই পুলিশ বাহিনীর কর্মকাণ্ড সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে। জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সবাই দেখছে। পুলিশের এত ভালো কাজের মধ্যে দু-একটি ঘটনা গোটা বাহিনীর সাফল্যকে ম্লান করে দিতে পারে না। প্রশ্ন : প্রতিটি ক্রসফায়ারের ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা সব ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের। সত্যি বললে মানুষের কাছে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। হাসাহাসিই হয় অনেক ক্ষেত্রে। শহীদুল হক : আমি নিজেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাস করি না। কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তবে একটা কথা, আমাদের দেশে মাঝে মাঝে কিছু এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে। এই ক্রসফায়ারের ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে হবে। দেশে অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী ছিল, যাদের গ্রেপ্তার করে রাখা যেত না। কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বড় বড় অপরাধ করত। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে শুরু হয় ক্রসফায়ারের ঘটনা। তখন বড় সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। দেশের মানুষ ওটাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিয়েছে। এভাবে দেখলে, সেই সময় ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আরেকটা কথা, কোনো মামলায় অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর অভিযোগপত্র দেওয়া হয় আদালতে। কিন্তু আদালতে মামলা বছরের পর বছর পড়ে থাকে। বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আরো অপরাধ করে। দেশে যদি দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন হতো এবং আসামিদের যদি জামিন না হতো তাহলে এই ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটত না বল মনে করি। প্রশ্ন : ক্রসফায়ারে নিরীহ মানুষ হত্যার অভিযোগ উঠছে। কখনো কখনো অর্থ নিয়ে বা অর্থের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এমনও আমরা দেখছি... শহীদুল হক : এ রকম দু-একটি ঘটনা যে ঘটছে না তা বলা যাবে না। এ কারণেই তো এটা নিয়ে এত কথা হচ্ছে। আমার কথা হলো, এ রকম নিরীহ মানুষ হত্যা করা হলে জড়িত আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা দরকার। প্রশ্ন : দেখা যায়, আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড়জোর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করার ঘটনা ঘটে। এরপর আর কিছু হয় না। শহীদুল হক : এ কথা সত্য নয়। প্রথামিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত, বেতন কমানো, পদের অবনমন ইত্যাদি ঘটনা ঘটে। এ রকম বহু ঘটনা আছে। যা কখনো মিডিয়ায় আসে না বলেই মানুষ প্রথমটুকুই দেখে মূল্যায়ন করে। পরেরটুকু দেখলে বা মিডিয়ায় এলে মানুষের ভুল ধারণা কেটে যাবে।

ক্ষমতা আর টাকার নিকট জিম্মি প্রিয় রাজনীতি- তসলিম উদ্দিন রানা

৩০ডিসেম্বর,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: এডভোকেট আইয়ুব হোসেন মৃত্যু্ঞ্জয়ী- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ৮২ এর দিকে দাপুটে নেতা ছিলেন।১৯৮৪ সালে শিবিরের সাথে সংঘর্ষ হয় এতে শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে ও তাদেরকে বিতাড়িত করতে গিয়ে শিবিরের ৪ জন নিহত হওয়ার পর এরশাদ সরকার মার্শাল আইনে বিচারের পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে আর সেই মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সংকটময় জীবন যাপন করে।সেই দুঃসময়ে রাজনীতি করতে গিয়ে তার জীবনে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়।সেই দুঃসময়ের কাল অতিক্রম করে এগিয়ে যায়। তারপর প্রাইভেটে লেখাপড়া করেন আর নওগা জেলায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এক সময়ে ৮৮সালের দিকে (সুলতান - রহমান) কমিটি অনুমোদিত নওগা জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ৯৪ সালের দিকে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন।১৯৯৮ সালে ধামরাইহাট ইউনিয়ন বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ও এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ করেন। ৮০,৯০ দশকের জিয়া,এরশাদ স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলন,,৯৬ খালেদা বিরোধী আন্দোলন ও ২০০১,১/১১ আন্দোলন সংগ্রামে আইয়ুবের অনেক অবদান আছে তা ভুলবার নয়।তার পরিবারের দুই ভাই মুক্তিযোদ্ধা আর পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ। এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অতুলনীয়।অনেক সংগ্রাম আর আন্দোলন করে দলকে ক্ষমতায় আনলে তাদের কপালে জুটল না কোন পদবী বা জনপ্রতিনিধি। দেশের সেরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতার পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজের মাধ্যমে নিজ গুণে একবার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হলেও আর কখনো স্থানীয় এমপির দাপটে কোন পদবী এমনকি তার নিজ পৌরসভা ধামরাইহাট দীর্ঘ ১৫ বছর পর নির্বাচন হলে তৃনমুল থেকে তার নাম পর্যন্ত দেয়নি।যার কারণে কেন্দ্রীয় নেতার সুপারিশ নিয়ে নমিনেশন নিলেও ক্ষমতা আর টাকার নিকট পরাজিত হয়ে নমিনেশন পায়নি। ছোট একটা পৌরসভা নওগা জেলার ধামরাইহাট।প্রায় ১৫ বছর যাবত কোন নির্বাচন ছাড়া মেয়র ছিলেন এমপির লোক।সেই ১৫ বছরের জঞ্জাল সরানোর জন্য আদর্শিক ও পরিক্ষীত এডভোকেট আইয়ুব হোসেন মামলা পরিচালনা করে জিতে নির্বাচন করাচ্ছে আর সেই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা স্থানীয় সরকার কমিটির প্রতিটি সদস্যদের কাছে আকুতি মিনতি এমনকি কান্নায় জর্জরিত হয়ে তার রাজনীতির ত্যাগের কথা তুলে ধরলেও নমিনেশন বোর্ড তাকে নমিনেশন দেয়নি।অসহায় হয়ে খালি হাতে বাড়িতে যেতে হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। আজ অবহেলিত ও আদর্শিক যোদ্ধা আইয়ুবের কোন মুল্যায়ন নাই।সব জায়গায় হাইব্রিড,চামচা,ব্যবসায়ী,এমপিলীগের কাজে বন্দী মনোনয়ন।আর কত ত্যাগ করলে জুটবে দলীয় মনোনয়ন সেটা প্রশ্ন আইয়ুবের মত হাজারো রাজনৈতিক পরিক্ষীত ও আদর্শিক কর্মীর?কখন তাদের ভাগ্য আর দলের আদর্শিক যোদ্ধারা মনোনয়ন পাবেসেটা তার প্রশ্ন? আইয়ুব মেয়র প্রার্থী ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতা ও বোর্ডের সদস্যদের নিকট গিয়েছিলেন সামান্য একটা মেয়র হওয়ার জন্য কিন্তু সেই তার ত্যাগের মূল্যায়ন পায়নি।সেখানে দেওয়া হয়েছে দলের নবাগত রাজনীতিক এমপির ঘনিষ্ঠ ভাজন লোক।এমপির বাইরে লোকজন রাজনীতির মাঠে কোন পদে বা দলীয় নমিনেশন দেবে না সেটা সেই দাম্ভিকতার সাথে বলেছে। এমনকি ওয়ার্ড,ইউনিয়ন,উপজেলায় সব জায়গায় তার লোক ভালো পদে অধিষ্ঠিত।কেউ ভয়ে কোন কিছু বলেনা।সেখানে আদর্শিক ও পরিক্ষীত আওয়ামী লীগ খুবই অসহায়। দেখার কেউ নাই।সবাই ক্ষমতার নিকট জিম্মি। আইয়ুবের মত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মেয়র হলে তাদের অসুবিধা।কেননা আইয়ুবের সব বন্ধুরা সচিব,অতিরিক্ত সচিব বা ভালো পদে আছে।প্রশাসনের কর্মকর্তাগন তার নিকট কোন বিষয় নয়।এডভোকেট আইয়ুবের তো শিক্ষিত,ত্যাগী ও আদর্শিক ছাত্রনেতারা মফস্বল এলাকায় নেতৃত্বে আসলে লোকাল প্রশাসন দলীয় নেতা কর্মিকে একটু সমীহ করে চলবে।কারণ -প্রশাসনের কর্তাবাবুরা কোন না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে চাকুরীতে এসেছে।তারা আইয়ুবদের মতো কারো না কারো বন্ধু, বড় ভাই বা ছোট ভাই হবে।কাজ করা তার জন্য খুব সহজ হবে।সব বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে যেতে কোন সমস্যা হবে না।এলাকার উন্নয়ন করতে এমপির প্রয়োজন হবেনা আর জনতার নেতা হবে বলে স্থানীয় এমপি সাহেব ত্যাগী ও আদর্শিক আইয়ুবদেরকে এত ভয় পায়। আইয়ুবদের দলে বা জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে যথাযথ মূল্যায়ন হলে পরিক্ষীত আর আদর্শিক যোদ্ধারা বেশি খুশী হতাম। দলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মাননীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে নতুন উদ্যোমে এগিয়ে যেত।দল সুসংগঠিত হত আর আদর্শ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে আইয়ুবেরা আজীবন কাজ করত। লেখক: তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্র নেতা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা।

আজকের মোট পাঠক

36859

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত