মঙ্গলবার, আগস্ট ৩, ২০২১
প্রকাশ : 2021-06-22

চট্টগ্রামে ফটিকছড়ি উপজেলা লকডাউন, নগরীতে রাত ৮ টার মধ্যে দোকান বন্ধ করার নির্দেশ

২২,জুন,মঙ্গলবার,রাশেদুল আজিজ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় সব ধরনের দোকানপাট রাত ৮ টার পর থেকে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। তবে ওষুধের দোকান এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। আজ মঙ্গলবার (২২ জুন) বিকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, মহানগর এলাকায় আগামীকাল (বুধবার) থেকে ওষুধের দোকান ছাড়া বাকি দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে জেলা প্রশাসনের ১২টি মোবাইল টিম মাঠে থাকবে। মহানগর এলাকায় মেয়রের নেতৃত্বে আলাদা করোনা প্রতিরোধ কমিটি আছে। ওই কমিটির প্রধান মেয়রকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হবে। অপরদিকে ফটিকছড়িতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় এ উপজেলায় ৮ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। আগামীকাল বুধবার (২৩ জুন) হতে ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলায় সর্বাত্মক লকডাউন চলবে। আজ মঙ্গলবার (২২ জুন) বিকাল ৩টায় জেলা প্রশাসনের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফটিকছড়ি উপজেলায় গত এক সপ্তাহে ১৯৬ জন করোনা রোগী চিহ্নিত করেছে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়। করোনা রোগী বৃদ্ধির এই হার বাড়তে থাকলেও জনসচেতনতা নেই মোটেও। এনিয়ে সচেতন মহলও উদ্বেগ জানিয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, আজ মঙ্গলবার ২২ জুন শনাক্ত হয় ১১ জন, ২১ জুন শনাক্ত হয় ২১ জন, ২০ জুন শনাক্ত হয় ৩০ জন, ১৯ জুন শনাক্ত হয় ১৬ জন। এভাবে বিগত এক সপ্তাহে শনাক্ত হয়েছে ১৮৫ জন করোনা রোগী। বিগত দুই সপ্তাহ ধরে এখানে করোনা রোগী শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেলেও আজ পর্যন্ত ফটিকছড়ি কোভিড হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছিল ২৪ জন মাত্র। আর বাকী রোগীরা বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদিকে করোনা শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেলেও হাট-বাজারে, গণ পরিবহনে জনসচেতনতা নেই মোটেও। অধিকাংশ স্থানে লোকজনকে মাস্ক পড়তে দেখা যায় না। এ ব্যাপারে গত দুই দিন বিভিন্ন স্থানে করোনা সচেতনতা না মানার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন ফটিকছড়ি সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিসান বিন মাজেদ। তিনি জানান, ১২টি মামলায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হযেছে। তিন শতাধিক ব্যাক্তির মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাবিল চৌধুরী বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে করোনা শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল রোগীর নিয়মিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তবে মারাত্মক পর্যায়ের কোনো রোগী এখানে নেই। আমরা নিয়মিত জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখছি।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর