মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৯, ২০২১
প্রকাশ : 2021-06-07

কখনই অন্য কারও মতো হতে চাইনি- ফেরদৌস

০৭,জুন,সোমবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকাই চলচ্চিত্রের দর্শকপ্রিয় নায়ক ফেরদৌস আহমেদ। ১৯৯৮ সালে হঠাৎ বৃষ্টি ছবিতে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন। আজ এই তারকার জন্মদিন। জন্মদিন কারো কাছে বিশেষ আবার কারও কাছে সাধারন দিনের মতোই। আপনার কাছে দিনটি কেমন? ফেরদৌস বলেন, মানুষ হিসেবে আমরা তো নিজেকে অনেক ভালোবাসি। এই দিনে পৃথিবীতে এসেছি। অবশ্যই আমার কাছে জন্মদিন বিশেষ দিন। কীভাবে কাটছে দিনটি? ফেরদৌস বলেন, শোবিজে ২০/২২ বছর ধরে কাজ করছি। আজ পর্যন্ত কখনই ঘটা করে জন্মদিন পালন করিনি। এ বছরও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সাধারণত কাছের মানুষদের আবদার, অনুরোধে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে হয়। তবে এবার কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছি না। কারণ এই মূহুর্তে আমরা খুব দুঃসময় পার করছি। তাই একদম ঘরোয়াভাবে দিনটি কাটাচ্ছি। দুই মেয়ে, স্ত্রী, মাসহ পরিবারের সঙ্গেই আছি। সামনে জীবনকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান? ফেরদৌস বলেন, প্রত্যেকটা বয়সের আলাদা সৌন্দর্য্য আছে। যখন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরার সময় তখন ঘুরেছি। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যখন সময় কাটানো দরকার তখন কাটিয়েছি। সবসময় চেয়েছি নিজের মতো করে জীবনটাকে যাপন করতে। কখনই অন্য কারও মতো হতে চাইনি। চেয়েছি একটা স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করতে। একটা আলাদা উদাহরণ হতে। তবে অনেকের আদর্শে আমি আদর্শিত। যেমন মহানবীর আদর্শ মুসলমান হিসেবে পছন্দ করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রাজনৈতিকভাবে ভীষণ পছন্দ। আমি আমার বাবার আদর্শ ধারণ ও লালন করার চেষ্টা করি। কর্ম দিয়ে পৃথিবীতে একটা চিহ্ন এঁকে দিতে পারি যেন এটাই চাই। মৃত্যুর পরও বছরের পর বছর মানুষ যাতে মনে রাখে। সে হিসেবেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে আসা। পাশাপাশি মেয়ে দুইটাকে খুব ভালোভাবে মানুষ করতে চাই। তাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলি ঢুকিয়ে দিতে চাই। এই ম্যাকানিকাল যুগেও যাতে মনুষ্যত্ব বোধ জেগে থাকে অন্তরে, সেটা ভীষণভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাদেরকে মানুষ করলে পারলে জীবন পুরোপুরি স্বার্থক হবে। চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে কোনো অতৃপ্তি আছে? ফেরদৌস বলেন, একটা অতৃপ্তি আছে এখনও। আন্তজার্তিক স্বীকৃতি পাওয়ার মতো একটা কাজ করতে চাই। যে কাজ আমাকে আজীবন মানুষের অন্তরে বাঁচিয়ে রাখবে। গড্ডালিকায় গা ভাসিয়ে সিনেমার সংখ্যা বাড়াতে চাই না আর। একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একটি নীতিমালা দিয়েছে। যেখানে বিদেশে শুটিং, বিদেশিদের নিয়ে শুটিং দুটোতেই অনুমতি লাগবে। এ নীতিমালা কতটুকু ফলপ্রসূ হবে বলে মনে হয়? ফেরদৌস বলেন, আমাদের শিল্প সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক একটা পদক্ষেপ এটি। তথ্য মন্ত্রণালয়কে অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। প্রচুর বিদেশি বিজ্ঞাপন চালানো হচ্ছে। বাইরের শিল্পীদের দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণের দরকার আছে। এখন বিজ্ঞাপন বানালে কর দিতে হবে। বাইরের দেশ থেকে শিল্পীরা এসে পারফরম্যান্স করলে কর দিতে হবে। আমরা যখন দেশের বাইরে যাই তখন কর দিতে হয়। তো আমাদের দেশে এসে বাইরের শিল্পীরা কর দিবে না কেন? উল্লেখ্য, সর্বশেষ হৃদি হকের পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ১৯৭১ সেইসব দিন - এর শুটিং করেন ফেরদৌস। সামনে জুলাই মাসে তার ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ সিনেমার কাজ করার কথা আছে।