প্রকাশ : 2021-02-24

আওয়ামী রাজনীতির কঠিন দুঃসময়ে আদর্শিক ও পরিক্ষীত যোদ্ধার নাম গিয়াস উদ্দিন হিরু

২৪,ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা।অকুতোভয় সাহসী বীর।চট্রলার আলোচিত ১২ ছাত্রনেতার অন্যতম।চট্রগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ৮৬ - ৯০ এর দিকে দাপুটে নেতা ছিলেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরচ্চার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের হিরুর ভুমিকা অতুলনীয়।দলের জন্য তার জীবনের মুল্যবান সময় এমনকি ২০ টির উপর মামলা হুলিয়া নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে যায়। জেল জুলুমের শিকার আর হুলিয়া নিয়ে মাঠের পরিক্ষীত সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা প্রিয় হিরু।যার ফলশ্রুতিতে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতার মুখ দেখে। রাত দিন লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে ও তাদেরকে বিতাড়িত করতে গিয়ে এরশাদ সরকার মার্শাল আইনে বিচার করে হিরুর উপর ষ্টিম রোলার চালায় যা ইতিহাসের অংশ।সেই ৮০ /৯০ এর দুঃসময়ে রাজনীতি করতে গিয়ে তার জীবনে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়। সেই দুঃসময়ের কাল অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হিরুর ত্যাগ আর তিতিক্ষার কথা বর্ননাতীত।আওয়ামী পরিবারের সন্তান হিসাবে সাতকানিয়া ধর্মপুরে পিতার আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত দল আওয়ামী লীগের ঘরনার ছেলে হিসাবে হিরু ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৮০সালের দিকে স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি থেকে ৮৬ সালে চট্টগ্রাম সরকারি মহসিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি, এক সময়ে ১৯৯৪ সালের দিকে জাতীয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য,২০০২ সালের দিকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং ১ম সদস্য নির্বাচিত হন।চট্রগ্রাম কেন্দিক সিটি কলেজ গ্রুপের অন্যতম হলেন হিরু।তার বন্ধু শহীদ কামাল উদ্দিনের মৃত্যুতে কিছুটা নমনীয় থাকলে আবারও মাঠের রাজনীতির পুরোধা ছিলেন। ১৯৯৪ সালে বিখ্যাত রাজাকার গোলাম আজমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ততকালীন জোট সরকারের রোষানলে পড়েন।৯৬ সালের দিকে বিএনপির বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে জীবনের নেমে আসে এক ভয়াবহ অবস্থা যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ২০০১,১/১১ বিএনপি -জামাত ও অগনতান্তিক আন্দোলন করতে গিয়ে প্রায় ৩০টির উপর মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তবু্ও দমে থাকেনি। জীবনের মুল্যবান সময়, মেধা, টাকা, শ্রম ও ত্যাগ করে সব কিছু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভোটের অধিকার বাস্তবায়নে বীর চট্রলার নায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন যা ইতিহাসের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আজীবন মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে যাওয়া একটা নাম হিরু। ২০১২ সালের দিকে নিজ এলাকায় পিতার চেয়ারম্যান আসনে বসতে নিজ গ্রাম সাতকানিয়া ধর্মপুরে যায় কিন্তু জেলা, উপজেলা আওয়ামী লীগ এই পরিক্ষীত ও আদর্শিক যোদ্ধার নাম নাদিয়ে দলচ্যুত ব্যক্তির নাম দেয়।হিরু নাম না দেওয়া তিনি সোজা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতার দুয়ারে দুয়ারে যাই সেই সামান্য একজন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হতে।কিন্তু সেই মনোনয়ন তার কপালে জুটল না যা ইতিহাসের অংশ হিসেবে আজ গন্য হল কিন্তু সেই দলচ্যুত পরাজিত লোক আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে চেয়ারম্যান হয় আর হিরুর মত আদর্শিক ও পরিক্ষীত সাবেক ছাত্রনেতা সামান্য একটা দলীয় চেয়ারম্যান মনোনয়ন পায়না। দীর্ঘদিন,সাংস্কৃতিক জোট, খেলাঘর আসর, কামাল স্মৃতি সংসদের সংগঠনে মাধ্যমে হাজারো নেতার কারিগর ছিলেন হিরু। সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে আলকরন, ফিরঙ্গীবাজার, মাদারবাড়ী, পাথরঘাটা, আন্দরকিল্লা, জামালখান ওয়ার্ড সহ বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তুলছে হাজার হাজার নেতা কর্মী যা নতুন প্রজন্মের জন্য আর্শীবাদ।আর দুঃসময়ে সিটি কলেজ ছাত্রলীগের ঘাটি হিসেবে গড়ে তুলছে।১/১১,২০০১ এর কঠিন সময়ে চট্রগ্রাম মহানগর ছাড়া পার্শ্ববর্তী পটিয়া, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাশখালী, লোহাগড়া, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, ফেনি সহ বিভিন্ন জায়গায়র নির্যাতিত লোকের আশ্রয়স্থল হিসাবে হিরুর অবদান ভুলবার নয়। দীর্ঘদিন পদ বঞ্চিত হওয়ার পর ২০০৬ সালের চট্রগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কোনো দায়িত্ব পায়নি।২০১২ সালে সম্মেলনে চট্রগ্রাম মহানগর সম্মেলনে তাকে কোনো পদে রাখেনি।কারণ হিরুর জনপ্রিয় তুঙ্গে।দমে থাকার লোক নয় বলে আদর্শিক ও পরিক্ষীত যোদ্ধা হিরু আবারও গতির সঞ্চার করে রাজনীতি করে যাচ্ছে। এলাকার মানুষের ভালবাসা আর কর্মীদের নিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ৮০,৯০ দশকের জিয়া, এরশাদ স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলন, ৯৬ খালেদা বিরোধী আন্দোলন ও ২০০১, ১/১১ আন্দোলন সংগ্রামে চট্রগ্রাম মহানগর নিউমার্কেট চত্ত্বরে হরতাল সহ আন্দোলন সংগ্রামে হিরুর অবদান কিংবদন্তি। স্বৈরচ্ছার ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অনস্বীকার্য। অনেক সংগ্রাম আর আন্দোলন করে দলকে ক্ষমতায় আনলে তাদের কপালে জুটল না কোন ভালো পদবী বা এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। আদর্শিক ও পরিক্ষীত সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতার পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও উন্নয়নমুলক কাজের মাধ্যমে নিজ গুণে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও আর কখনো ক্ষমতা আর টাকার নিকট পরাজিত হয়ে হিরুর নিকট কোন ভালো পদবী জুটেনি। চট্রগ্রাম মহানগর এলাকায় সিটি কলেজ গ্রুপ শক্তিশালী। আর সাতকানিয়া ধর্মপুর ইউনিয়নে তার জনপ্রিয় তুঙ্গে যা বলার উপেক্ষা রাখেনা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা স্থানীয় সরকার কমিটির প্রতিটি সদস্যদের কাছে আকুতি মিনতি এমনকি কান্নায় জর্জরিত হয়ে তার রাজনীতির ত্যাগের কথা তুলে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে দুঃসময়ের রাজনীতির নায়ক হিরু।নমিনেশন বোর্ড তাকে নমিনেশন না দিয়ে স্থানীয় জেলা ও উপজেলার সুপারিশে টাকার বিনিময়ে দলচ্যুত ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দিল যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা।দলের দুঃসময়ের কর্মী তথা আন্দোলন সংগ্রামের পুরোধা হিরুর মত আদর্শিক নেতার মুল্যায়ন হল না যা আমাদের রাজনীতির জন্য অশুভ সংকেত। আজ অবহেলিত ও আদর্শিক যোদ্ধা হিরুর মুল্যায়ন করাতো দুরের কথা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নক্সা করে গেছে এক শ্রেণীর ধান্ধাবাজ ও বর্ণচোরা লোক।এলাকায় তার সুনাম আছে। সব জায়গায় হাইব্রিড, চামচা, ব্যবসায়ী আর দলচ্যুত ব্যক্তির নিকট বন্দী মনোনয়ন আর রাজনীতির পদবি।হিরুর ত্যাগ তিতিক্ষা আর লড়াই সংগ্রামের কথা বিবেচনা করে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে মনোকষ্ট পেয়ে শেষ অবধি হার্ট অ্যাটাক আক্রান্ত হয়ে আর ফিরে এলোনা প্রিয় হিরু। রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিক্ষীত ও আদর্শিক যোদ্ধারা বড়ই অসহায়।তারা দুঃসময়ে রাজনীতি করেছেন বলে আজ দলের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। আর দলের আদর্শিক যোদ্ধারা মনোনয়ন না পেয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে বলে দলের তেরেটা বাজাচ্ছে সবক্ষেত্রে। কেন্দ্রীয় নেতা ও বোর্ডের সদস্যদের নিকট গিয়েছে সামান্য একটা ওয়ার্ড চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য কিন্তু সেই তার ত্যাগের মূল্যায়ন পাবে বলে আশায় বুক বেধে আছে।অধির আগ্রহের সাথে কাজ করে যাচ্ছে সামান্য একজন প্রতিনিধি হওয়ার জন্য আর যেখানে তার ছাত্র প্রছাত্ররা বিভিন্ন জায়গায় এমপি, মন্ত্রী, কেন্দ্রীয় নেতা, সচীব, আমলা, মেয়র, উপজেলার চেয়ারম্যান এমনকি সব জায়গায় তার লোক ভালো পদে অধিষ্ঠিত।সব জায়গায় তার ছাত্ররা ভালো আছে সেখানে আদর্শিক ও পরিক্ষীত আওয়ামী লীগ নেতা হিরুর অবস্থান তেমন ভালো নেই,খুবই অসহায়।সবাই ক্ষমতা আর টাকার নিকট জিম্মি।হিরুর মত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সাবেক ছাত্রনেতা চেয়ারম্যান হলে সুবিধা অনেক । কেননা হিরুর বন্ধুরা সচিব,অতিরিক্ত সচিব বা ভালো পদে আছে। কর্মকর্তাগন তার নিকট কোন বিষয় নয়।শিক্ষিত হিরু ত্যাগী ও আদর্শিক নেতা হিসাবে নিজ গুণে কাজ করতে পারবে। কোন এমপি,মন্ত্রীর দরকার হবে না বিধায় সবাই তাকে সমীহ করে যাবে। এক শ্রেণির নেতারা চামচা আর ক্ষমতার অপব্যবহার করে আজ রাজনীতির তেরেটা বাজাচ্ছে। হিরু ক্ষমতার বাইরে থেকে কিছু পায়নি দলের শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়ে গেছে যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিজ স্ত্রী ও অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরন করেন।ক্ষমতার আওয়ামী লীগ তাকে কিছুই দেয়নি শুধু পেয়েছে বিষাদ আর জ্বালা। কোন তদবির ও ব্যবসা করতে পারেনি বলে হিরুরা শুধু আদর্শ নিয়ে বেচে ছিল।জীবনের সুখ নামক তার কাছ থেকে অনেক দুরে।দল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও হিরুরা ক্ষমতার বাইরে ছিল। জীবন সংগ্রাম করতে করতে এক সময়ে জীবন্ত কিংবদন্তি বীর হিরু পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে বিদায় নিয়েছে। আজীবন মানুষেরা হিরুদেরকে হিরু হিসাবে মনে রাখবে।কারণ আদর্শ কাকে বলে তা হিরুর কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া যাবে। ছাত্র জীবনে তার বক্তব্য,মেধা আর কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে ছিল আমার রাজনীতির অনুপ্রেরণা। ঢাকায় আসলে সর্ব প্রথমে আমাকে ফোন দিবে। ক্ষমতার রাজনীতির দৈন্যদশার কথা গুলো বলবে আর সাহসীকতার আদর্শিক রাজনীতির করার জন্য বারংবার উপদেশ দিত।আজ কষ্ট লাগে কারণ চট্রলার ছাত্র রাজনীতির এক আদর্শিক লিজেন্ড বিদায়।বিদায় বীর ছাত্র জনতার অভিভাবক। বিদায় প্রিয় নেতা হিরু।এমন এক কঠিন দুঃসময়ে ছিল তবুও কখনো আপোষ করেননি।নিজের পরিবার কখনো চিন্তা করতনা শুধু দল আর জননেত্রী শেখ হাসিনার চিন্তায় মগ্ন থাকত।অবহেলিত হিরুরা আসলেই হিরু। তার আদর্শ বাস্তবায়নে আমরা মত হাজার হাজার কর্মী এগিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন আমিন।তার আত্ত্বার মাগফেরাত কামনা করছি ও বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।- লেখক: তসলিম উদ্দিন রানা,কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর