সোমবার, মে ১০, ২০২১
প্রকাশ : 2020-12-30

ক্ষমতা আর টাকার নিকট জিম্মি প্রিয় রাজনীতি- তসলিম উদ্দিন রানা

৩০ডিসেম্বর,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: এডভোকেট আইয়ুব হোসেন মৃত্যু্ঞ্জয়ী- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ৮২ এর দিকে দাপুটে নেতা ছিলেন।১৯৮৪ সালে শিবিরের সাথে সংঘর্ষ হয় এতে শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে ও তাদেরকে বিতাড়িত করতে গিয়ে শিবিরের ৪ জন নিহত হওয়ার পর এরশাদ সরকার মার্শাল আইনে বিচারের পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে আর সেই মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সংকটময় জীবন যাপন করে।সেই দুঃসময়ে রাজনীতি করতে গিয়ে তার জীবনে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়।সেই দুঃসময়ের কাল অতিক্রম করে এগিয়ে যায়। তারপর প্রাইভেটে লেখাপড়া করেন আর নওগা জেলায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এক সময়ে ৮৮সালের দিকে (সুলতান - রহমান) কমিটি অনুমোদিত নওগা জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ৯৪ সালের দিকে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন।১৯৯৮ সালে ধামরাইহাট ইউনিয়ন বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ও এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ করেন। ৮০,৯০ দশকের জিয়া,এরশাদ স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলন,,৯৬ খালেদা বিরোধী আন্দোলন ও ২০০১,১/১১ আন্দোলন সংগ্রামে আইয়ুবের অনেক অবদান আছে তা ভুলবার নয়।তার পরিবারের দুই ভাই মুক্তিযোদ্ধা আর পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ। এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অতুলনীয়।অনেক সংগ্রাম আর আন্দোলন করে দলকে ক্ষমতায় আনলে তাদের কপালে জুটল না কোন পদবী বা জনপ্রতিনিধি। দেশের সেরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতার পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজের মাধ্যমে নিজ গুণে একবার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হলেও আর কখনো স্থানীয় এমপির দাপটে কোন পদবী এমনকি তার নিজ পৌরসভা ধামরাইহাট দীর্ঘ ১৫ বছর পর নির্বাচন হলে তৃনমুল থেকে তার নাম পর্যন্ত দেয়নি।যার কারণে কেন্দ্রীয় নেতার সুপারিশ নিয়ে নমিনেশন নিলেও ক্ষমতা আর টাকার নিকট পরাজিত হয়ে নমিনেশন পায়নি। ছোট একটা পৌরসভা নওগা জেলার ধামরাইহাট।প্রায় ১৫ বছর যাবত কোন নির্বাচন ছাড়া মেয়র ছিলেন এমপির লোক।সেই ১৫ বছরের জঞ্জাল সরানোর জন্য আদর্শিক ও পরিক্ষীত এডভোকেট আইয়ুব হোসেন মামলা পরিচালনা করে জিতে নির্বাচন করাচ্ছে আর সেই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা স্থানীয় সরকার কমিটির প্রতিটি সদস্যদের কাছে আকুতি মিনতি এমনকি কান্নায় জর্জরিত হয়ে তার রাজনীতির ত্যাগের কথা তুলে ধরলেও নমিনেশন বোর্ড তাকে নমিনেশন দেয়নি।অসহায় হয়ে খালি হাতে বাড়িতে যেতে হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। আজ অবহেলিত ও আদর্শিক যোদ্ধা আইয়ুবের কোন মুল্যায়ন নাই।সব জায়গায় হাইব্রিড,চামচা,ব্যবসায়ী,এমপিলীগের কাজে বন্দী মনোনয়ন।আর কত ত্যাগ করলে জুটবে দলীয় মনোনয়ন সেটা প্রশ্ন আইয়ুবের মত হাজারো রাজনৈতিক পরিক্ষীত ও আদর্শিক কর্মীর?কখন তাদের ভাগ্য আর দলের আদর্শিক যোদ্ধারা মনোনয়ন পাবেসেটা তার প্রশ্ন? আইয়ুব মেয়র প্রার্থী ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতা ও বোর্ডের সদস্যদের নিকট গিয়েছিলেন সামান্য একটা মেয়র হওয়ার জন্য কিন্তু সেই তার ত্যাগের মূল্যায়ন পায়নি।সেখানে দেওয়া হয়েছে দলের নবাগত রাজনীতিক এমপির ঘনিষ্ঠ ভাজন লোক।এমপির বাইরে লোকজন রাজনীতির মাঠে কোন পদে বা দলীয় নমিনেশন দেবে না সেটা সেই দাম্ভিকতার সাথে বলেছে। এমনকি ওয়ার্ড,ইউনিয়ন,উপজেলায় সব জায়গায় তার লোক ভালো পদে অধিষ্ঠিত।কেউ ভয়ে কোন কিছু বলেনা।সেখানে আদর্শিক ও পরিক্ষীত আওয়ামী লীগ খুবই অসহায়। দেখার কেউ নাই।সবাই ক্ষমতার নিকট জিম্মি। আইয়ুবের মত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মেয়র হলে তাদের অসুবিধা।কেননা আইয়ুবের সব বন্ধুরা সচিব,অতিরিক্ত সচিব বা ভালো পদে আছে।প্রশাসনের কর্মকর্তাগন তার নিকট কোন বিষয় নয়।এডভোকেট আইয়ুবের তো শিক্ষিত,ত্যাগী ও আদর্শিক ছাত্রনেতারা মফস্বল এলাকায় নেতৃত্বে আসলে লোকাল প্রশাসন দলীয় নেতা কর্মিকে একটু সমীহ করে চলবে।কারণ -প্রশাসনের কর্তাবাবুরা কোন না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে চাকুরীতে এসেছে।তারা আইয়ুবদের মতো কারো না কারো বন্ধু, বড় ভাই বা ছোট ভাই হবে।কাজ করা তার জন্য খুব সহজ হবে।সব বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে যেতে কোন সমস্যা হবে না।এলাকার উন্নয়ন করতে এমপির প্রয়োজন হবেনা আর জনতার নেতা হবে বলে স্থানীয় এমপি সাহেব ত্যাগী ও আদর্শিক আইয়ুবদেরকে এত ভয় পায়। আইয়ুবদের দলে বা জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে যথাযথ মূল্যায়ন হলে পরিক্ষীত আর আদর্শিক যোদ্ধারা বেশি খুশী হতাম। দলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মাননীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে নতুন উদ্যোমে এগিয়ে যেত।দল সুসংগঠিত হত আর আদর্শ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে আইয়ুবেরা আজীবন কাজ করত। লেখক: তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্র নেতা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা।

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর