প্রকাশ : 2020-10-09

উন্নত দেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে বাণিজ্য সংস্থাগুলোকে: সালমান ফজলুর রহমান

০৯,অক্টোবর,শুক্রবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অনুন্নত দেশ থেকে সরে আসার কারণে কিছু সুবিধা হারালেও একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে আমাদের জন্য আরো অনেক সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। বাণিজ্য সংস্থাগুলোর কাজ হবে সেই সম্ভাবনার দ্বার চিহ্নিত করে তা কাজে লাগানো। বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ খাতসহ সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে মহামারীর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) আয়োজিত কভিড-১৯ প্যানডেমিক: ইমপ্যাক্ট অন ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। বুধবার আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সালমান ফজলুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির। বিএপিএলসির সভাপতি মো. আজম জে চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সহসভাপতি মো. রিয়াদ মাহমুদের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে মূল বক্তব্য রাখেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের পরিচালক মো. তানজিম চৌধুরী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য বাণিজ্য সংস্থাগুলোর নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাণিজ্য সংস্থাগুলো দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব একটি নতুন বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে এবং স্টেকহোল্ডারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ফলস্বরূপ মহামারীর মধ্যেও দেশের ব্যবসায়িক কার্যক্রমসহ অন্যান্য সব ধরনের জরুরি কার্যক্রম সফল ও সুষ্ঠুভাবে চালু রাখা সম্ভব হয়েছে। এ দেশের মানুষ সব সময় যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা রাখে। ফলে মহামারীর মাঝে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গেও আমরা লড়াই করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরো বলেন, আজকের সেমিনারে উপস্থিত সব বাণিজ্য সংস্থার করপোরেট গভর্ন্যান্সে সহায়তা করা উচিত। ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে করভিত্তির প্রসারণ এ প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে, অনুন্নত দেশ থেকে সরে আসার কারণে কিছু সুবিধা হারালেও একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে আমাদের জন্য অনেক সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। বাণিজ্য সংস্থাগুলোর কাজ হবে সেই সম্ভাবনার দ্বার চিহ্নিত করে তা কাজে লাগানো। তিনি অভ্যন্তরীণ শিল্পকে রক্ষা করতে মূসক ও কর ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং দ্বিপক্ষীয় বাজারে বিনা শুল্কে প্রবেশাধিকারের জন্য অন্যান্য দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এফবিসিসিআই হেলপ ডেস্ক ও হেলপ লাইনগুলো নির্দিষ্ট কিছু চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সহায়তা প্রদান করছি। যেমন চা শিল্পের জন্য মাত্রাতিরিক্ত করে যন্ত্রপাতি কেনার বিষয়টি আমরা চিহ্নিত করেছি। এমন আরো একটি উদাহরণ হলো, সেচ ও উৎপাদন শিল্পের যন্ত্রপাতিতে করারোপের বিষয়টি চিহ্নিতকরণ। গুরুত্বপূর্ণ কোনো ইস্যু অথবা নিয়ন্ত্রণ সুপারিশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে যেকোনো সমস্যা সমাধানে বিএপিএলসিকে সহযোগিতা করতে পারলে তা এফবিসিসিআইয়ের জন্য আনন্দের বিষয় হবে। তিনি আরো বলেন, দেশে এমএসএমইএস খাত থেকে শুরু করে বৃহৎ খাতগুলোয় বাংলাদেশের বাণিজ্য সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে আমরা কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিল (সিডব্লিউইআইসি), চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি), সিল্ক রোড চেম্বার অব ইন্টারন্যাশনাল কমার্স (এসআরসিআইসি), ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি), কনফেডারেশন অব এশিয়া-প্যাসিফিক চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ (সিএসিসিআই) ১২৯টি স্ট্র্যাটেজিক গ্লোবাল পার্টনারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজীকরণে ব্যাপক সংস্কারের পাশাপাশি প্রণোদনাগুলোকে সমন্বিত করার লক্ষ্যে বিডা বেশকিছু নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করেছে। বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট গতিশীল সেবাগুলোকে এগিয়ে নিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিসও চালু করা হয়েছে। এলডিসি স্ট্যাটাস থেকে উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গেই মধ্যম আয়ের দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। সরকারি-বেসরকারিসহ অন্য যেকোনো ধরনের সংস্থার সহযোগিতায় আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হব। বিএসইসির চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের নির্দেশিকা প্রদানের জন্য সুসংহত করপোরেট গভর্ন্যান্সের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ওয়েবিনারের মূল বক্তা ইস্ট কোস্ট গ্রুপের পরিচালক তানজিম চৌধুরী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের ওপর মহামারীর প্রভাবগুলো তুলে ধরেন।