প্রকাশ : 2020-09-21

চট্টগ্রামের সড়কে নামলো ২২ বিআরটিসি বাস

২১সেপ্টেম্বর,সোমবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: গণপরিবহন সংকট মেটাতে নগরের সড়কপথে ১৮টি ডাবল ডেকার ও ৪টি এসি বাস নামিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিইপিজেড শাহেনশাহ টাওয়ার চত্বরে এ সার্ভিসের উদ্বোধন করেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক সুজন বলেন, বাসে যাতে কোনো নারী ইভটিজিংয়ের শিকার না হয় সেজন্য প্রত্যেক যাত্রীসাধারণকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে একজন নারী কোনো না কোনো ভাবে আমাদের আমানত। এ ধরনের কোনো সমস্যা বা বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্য সরাসরি প্রশাসকের মোবাইল ফোনে জানানোর পরামর্শও দেন তিনি। সরকারি কর্মযজ্ঞকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পাকা রাস্তা নির্মাণ করে পরিবহন ব্যবস্থার অনেকটাই উন্নত করেছে। এমন উন্নয়নের ফলে সকল পণ্য-সামগ্রী সহজে স্থানান্তর করা যায়। নগরায়নের সাথে পাল্লা দিয়ে শহরে যন্ত্র চালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ও পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবহন খরচ তুলনামূলক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। যানজটমুক্ত ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বেশ কিছু প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। নগরবাসীর অনেকদিনের আকাঙ্খা ও প্রত্যাশা ছিল কাটগড় থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালুর। বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে উপলব্ধি করে গণপরিবহণের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ লাঘবে কিছুদিন পূর্বে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠাই।একই সাথে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি আলাপ করে বিষয়টি তুলে ধরলে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আমার আহবানে সাড়া দিয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যে নগরীর গণপরিবহণের স্বল্পতা দূরীকরণে ১৮টি ডাবল ডেকার ও ৪টি এসি বাস দেন। এজন্য আমি মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিআরটিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। আজকের এইদিনে যেন আমারই চাওয়া-পাওয়ার পূর্ণতা পেয়েছে। তেমনি আমি আশা করি নগরবাসীও এর সুফল ভোগ করবেন। প্রশাসক আরও বলেন, বিআরটিসি বাস একটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। এর সঠিক সেবা প্রাপ্তি প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। এই অধিকার প্রাপ্তিতে ব্যাঘাত ঘটলে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করুন। এজন্য তিনি প্রত্যেক বাসে বিআরটিসির সেবা নাম্বার ও আইনশৃংখলা বাহিনীর নাম্বার সংযোজনের নির্দেশনা দেন। প্রত্যেক বাসে একটি করে অভিযোগ বাক্স রাখতে হবে। যাতে যাত্রীগণ যেকোন অভিযোগ এই বাক্সে ড্রপ করতে পারে। তিনি ড্রাইভারদের সতর্ক করে বলেন, বিআরটিসির বাস নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাবার পূর্বে মাঝ পথে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া এবং সিট ক্যাপাসিটির বাইরে যাত্রী পরিবহন করলে বাস চালককে তাৎক্ষণিক বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হবে। এবিষয়ে উপস্থিত বিআরটিসির কর্মকর্তারাও একমত পোষন করেন। প্রশাসক বলেন অতীত ও বর্তমানের পার্থক্য বিবেচনা করলে বাংলাদেশের উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। যে গতিতে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে তাতে ধারণা করা যায় যে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ উন্নত-পরিবহন ব্যবস্থার দেশে পরিণত হবে। তিনি যাত্রী সাধারণকেও উদ্দেশ্য করে বলেন, রাষ্ট্রের সম্পত্তি এ বাসগুলোকে যত্ন সহকারে ব্যবহার করার অনুরোধ রইলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডিসি বন্দর পঙ্কজ বড়ুয়া, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। এছাড়া বিআরটিসির মাসুদ তালুকদার, মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন, সিইপিজেড থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উৎপল বড়ুয়া, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ৩৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ সুলতান নাসির উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, আবদুর রহমান মিয়া, আজাদ খান অভি, স্বপন সিংহ, মুনতাসির জামিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর