প্রকাশ : 2020-09-20

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও মোংলা বন্দরের মুনাফা কমেছে ১৮ কোটি টাকা

২০সেপ্টেম্বর,রবিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে গত মার্চের পর থেকে উৎপাদন, আমদানি, রফতানি থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায়ের চাহিদায় এক ধরনের স্থবিরতা নেমে আসে। তবে দেশে লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামলেও ব্যতিক্রম ছিল মোংলা সমুদ্রবন্দর। লকডাউনের মধ্যেও বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি চালু ছিল। ফলে এ সময় রাজস্ব আহরণের পরিমাণও বেড়েছে। সবমিলিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯১ কোটি ৯৬ লাখ ৩১ হাজার টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১১৫ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। যদিও আগের অর্থবছরের তুলনায় মুনাফা কমেছে ১৮ কোটি টাকা। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ বন্দরে ৯১২টি দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ আসে। হ্যান্ডলিং হয় ১ কোটি ১৩ লাখ টন বাল্ক কার্গো এবং ৫৭ হাজার ৭৩২টি ইউজ কনটেইনার জাতপণ্য। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯০৩টি বাণিজ্যিক জাহাজের বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয় ১ কোটি ১০ লাখ টন পণ্য। একই সঙ্গে ৫৯ হাজার ৪৫৭টি ইউজ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। অন্যদিকে আমদানি-রফতানি খাতের পণ্য হ্যান্ডলিং করে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় হয়েছে ৩২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি, সংস্কার ও উন্নয়নকাজে ২০৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলে এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষের মুনাফা হয় ১১৫ কোটি টাকার বেশি। যেখানে এ সময় মুনাফার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৯১ কোটি ৯৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩২৯ কোটি ১২ লাখ টাকা আয় হয়। এ সময়ে ব্যয় হয় ১৯৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। সে হিসাবে এ অর্থবছরে মুনাফা ছিল ১৩৩ কোটি টাকা। বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত এপ্রিলে বন্দরে জাহাজ আসার সংখ্যা কিছুটা কম হলেও মে ও জুনে সেই সংখ্যা বেড়ে যায়। যে কারণে রাজস্ব আয়ও বাড়ে। ফলে করোনার মধ্যেও রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয় দেশের দ্বিতীয় এ সমুদ্রবন্দরটি। বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক নির্দেশনা মেনে চলায় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে মনে করছেন বন্দরসংশ্লিষ্টরা। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থ ও হিসাবরক্ষণ বিভাগ থেকে জানা যায়, করোনাকালীন গত মে মাসে মোংলা বন্দরে বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ এসেছে ৫৯টি এবং রাজস্ব আয় হয়েছে ২০ কোটি ২৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা। জুনে এসেছে ৫২টি এবং রাজস্ব আয় হয়েছে ১৮ কোটি ৬২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। জুলাইয়ে ৬৪টি জাহাজের বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ২৩ কোটি ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, আগস্টে ৭০টি জাহাজের বিপরীতে আয় হয়েছে ২৪ কোটি ৫২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে গত এক দশকে এ বন্দর দিয়ে দেশী-বিদেশী জাহাজ আসা ও যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে পাঁচ গুণ। সব ক্ষেত্রে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩২০ কোটি টাকা। মোংলা বন্দরের ট্রাফিক পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল জানান, করোনা পরিস্থিতিতে জাহাজ আগমন ও নির্গমন কার্যক্রমে কোনো ভাটা পড়েনি। এ বন্দরে গত অর্থবছরে ৯০৩টি জাহাজ আসে এবং ১ লাখ ১০ হাজার টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। এছাড়া করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বন্দরে দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে জানান তিনি। এদিকে করোনার বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন চলাকালীন পণ্য বোঝাই ও খালাসে কোনো ধরনের অসুবিধা হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স নুরু অ্যান্ড সন্সের মালিক এইচএম দুলাল বলেন, করোনাকালীন পণ্য বোঝাই ও খালাসে তাদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে যখন করোনার প্রভাবে ভাটা দেখা দিয়েছে। তখন মোংলা বন্দর আমাদের পণ্য ওঠানামা স্বাভাবিক রেখে লক্ষ্যমাত্রার রাজস্ব আয় করেছে। একই ধরনের কথা জানান বন্দরের আরেক ব্যবসায়ী মশিউর রহমান। তার মতে, করোনাকালীন ভিন্ন চিত্র ছিল মোংলা বন্দরের। এ বন্দর দিয়ে তারা নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য ছাড় করাতে পেরেছেন। ফলে বন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক লাখ মানুষ করোনার সময়ও তাদের উপার্জন স্বাভাবিক রাখতে পেরেছেন। সার্বিক বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, বিগত বছরের তুলনায় বিদেশনির্ভর খাদ্যশস্য আমদানি হ্রাস এবং করোনাকালীন সময় বেশির ভাগ (অধিক ড্রাফটের) বাণিজ্যিক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ঘুরে যথাসময় মোংলা পৌঁছাতে পারেনি। তাই বন্দরের আয় গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে গেল অর্থবছরে বেশি মুনাফা অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে নিয়ে প্রায় ১০ লাখ ইউজ কনটেইনারজাত পণ্য হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হব। আর চলমান বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে উঠলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় আরো বৃদ্ধি পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তা।

অর্থনীতি পাতার আরো খবর