প্রকাশ : 2020-09-04

এশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে আধুনিক দাসপ্রথার ঝুঁকি বাড়ছে

০৪সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রভাবে এশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে আধুনিক দাসপ্রথার ঝুঁকি বাড়ছে। এই বৈশ্বিক মহামারীর কারণে অর্থনীতিতে প্রভাব যতো গুরুতর হচ্ছে, পাশাপাশি এই অঞ্চলে শ্রম অধিকার লঙ্ঘন এবং আইন প্রয়োগে দুর্বলতার কারণে এই পরিস্থিতি ততো ঘনীভূত হচ্ছে। আজ শুক্রবার প্রকাশিত এক বৈশ্বিক সূচকে এমন ইঙ্গিতই মিলছে। ঝুঁকি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফট আধুনিক দাসপ্রথা সূচক (মডার্ন স্ল্যাভারি ইনডেক্স) বিশ্লেষণ করে দেখেছে, দাস শ্রমিকের পর্যায়ে পড়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকিতে চীন ও মিয়ানমারসহ ৩২টি দেশ। সেই গ্রুপে প্রথমবারের মতো এক্সট্রিম রিস্ক (চরম ঝুঁকি) ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের শ্রমিকরাও চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ সূচকে ১৯৮টি দেশের মধ্যে যথাক্রমে ৩২তম এবং ৩৫তম স্থানে উঠে এসেছে এ দুটি দেশ। আর সবচেয়ে মারাত্মক শ্রমদাসের ঝুঁকিতে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেন। এ ব্যাপারে ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মানবাধিকার বিশ্লেষক সোফিয়া নাজালিয়া বলেন, বৈশ্বিক মহামারীর কারণে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি যেভাবে চাপের মুখে পড়ছে তাতে আধুনিক দাসপ্রথার ঝুঁকি আরো আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কর্মপরিবেশ ক্রমেই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। রয়টার্সকে ইমেইলে দেয়া এক মন্তব্যে তিনি বলেন, পরিস্থিতির চাপে শ্রমিকরা ক্রমেই অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত হচ্ছে, এতে আরো বেশি শোষণমূলক কর্মপরিবেশের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এর মধ্যে অনেকে বাধ্যতামূলক শ্রমের পরিস্থিতিতেও পড়তে পারে। এশিয়ার পোশাককর্মীরা যারা বিশ্বব্যাপী ফ্যাশল ব্র্যান্ডগুলো পোশাক সরবরাহের মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেন গত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তারা প্রায় ৫৮০ কোটি ডলার মজুরি হারিয়েছেন। শ্রমকি অধিকার আদায়ের প্রেসার গ্রুপ ক্লিন ক্লথ ক্যাম্পেইন গত মাসে এমন তথ্যই দিয়েছে। কভিড-১৯ মহামারীতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম বন্ধ এবং ক্রয়াদেশ বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকদের এভাবেই মূল্য দিতে হয়েছে। শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ার পোশাক শিল্পে প্রায় ৬ কোটি শ্রমিক কাজ করেন। পোশাক সামগ্রীর বিক্রি কমে যাওয়ায় তাদের একটি বড় অংশের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক কারখানা শ্রমিক ছাঁটাই করছে। এতে শ্রমিকরা শোষণের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। আয় কমে যাওয়ায় অনেকে সন্তানদেরও কর্মে নিয়োজিত করছেন।- রয়টার্স

অর্থনীতি পাতার আরো খবর