ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ৫৬

১৭,জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম ইন্দোনেশিয়ার সুলায়েসি দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) দিনভর উদ্ধার অভিযানে আরও ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রোববারও (১৭ জানুয়ারি) উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তুপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ৮২০ জন আহত হয়েছেন। গৃহহারা হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষ। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে সুলাওসি দ্বীপে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ২। ভূমিকম্পের পর কয়েক হাজার মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকবার পরাঘাত (আফটার শক) অনুভূত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের একদিন পর পশ্চিম সুলায়েসি জেলা এবং মামুজু ও মাজিনে এলাকায় ৫ মাত্রার পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। তবে এ থেকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু এবং ভূ-প্রকৃতির এজেন্সি প্রধান দ্বিকোরিতা কর্নাবতী জানিয়েছেন, রোববার সকাল পর্যন্ত ৫৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পে একটি হাসপাতাল ধসে পড়েছে। ওই হাসপাতালে ১২ জনের বেশি চিকিৎসক এবং নার্স ছিলেন। তারা ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া কমপক্ষে একটি হোটেল আংশিক ভেঙে পড়েছে। শুক্রবারের ওই শক্তিশালী ভূমিকম্পে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দা নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৮২০ জন গুরুতর আহত হয়েছে। ভূমিকম্পে মামুজু শহরের বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রেড ক্রস জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে ওষুধ এবং ত্রাণ সরবরাহ করতে গিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাদের বেশ কয়েকটি টিম ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়া লোকজনকে খুঁজে বের করতে কাজ করে যাচ্ছেন। শুক্রবার মামুজু থেকে ৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর গভীরতা ছিল ১৮ কিলোমিটার। প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ারে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে থাকে। এর আগে ২০১৮ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প ও এরপর সুনামির আঘাতে ৪ হাজার তিনশো জনের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে অনেকেরই কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।...

ভয়াবহ সংকটে ইউরোপ, মৃত্যু আরও ৬ হাজার

১৬,জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইউরোপে করোনারঘাত শুরু হয়েছিল ইতালি দিয়ে, যা এখন গোটা অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে। ভয়াবহ সংকটে ফেলেছে দেশগুলোকে। কয়েকটি দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলেও সুখবর মিলছে না। ফলে দীর্ঘ হয়েই চলেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল। গত একদিনেও যার শিকার আড়াই লাখ মানুষ, প্রাণ ঝরেছে প্রায় ৬ হাজার ভুক্তভোগীর। বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডমিটারের নিয়মিত পরিসংখ্যানের তথ্যমতে, ইউরোপে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা হানা দিয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৯ জনের শরীরে। এতে করে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৭১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে প্রাণহানি ঘটেছে ৫ হাজার ৭২১ জনের। এ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল বেড়ে ৬ লাখ ১৮ হাজার ৯৪৯ জনে ঠেকেছে। যদিও সুস্থতা লাভ করেছেন ১ কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার রোগী। ইউরোপীয় অঞ্চলের প্রায় সবগুলো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। এর মধ্যে সবচেয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, জার্মানি, পোলান্ড, ইউক্রেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়ামের মতো দেশগুলোতে। এর মধ্যে চরম সংকটে রাশিয়া। গত বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দেশটিতে করোনা হানা দেয়। শুরুতে ততটা ভয়াবহতা না দেখা গেলেও একই বছরের শেষের দিক থেকে এখন পর্যন্ত উপর্যুপুরী আঘাত হেনেই চলেছে ভাইরাসটি। যেখানে এখন পর্যন্ত ৩৫ লাখ ২০ হাজার ৫৩১ জনের শরীরে হানা দিয়েছে করোনা। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। নতুন করে প্রাণহানি ঘটেছে ৫৫৫ জনের। ফলে মৃতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৪৯৫ জনে ঠেকেছে। সুস্থতা বাড়লেও তা সংক্রমণের তুলনায় কম। করোনা রুখতে নিজ দেশের টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে দেশটি। যদিও এখনও তেমন সুখবর মিলেনি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বর্তমানে যুকরাষ্ট্রের পরই শোচনীয় অবস্থায় এ অঞ্চলের আরেক দেশ ব্রিটেন। কঠোর লকডাউন জারি রয়েছে দেশটিতে। তারপরও থামছে না ভাইরাসটি দাপট। তাই, এবার ব্রিটেন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটি। এখন পর্যন্ত সেখানে করোনা হানা দিয়েছে ৩৩ লাখ ১৬ হাজার মানুষের দেহে। এর মধ্যে প্রাণ ঝরেছে ৮৭ হাজার ২৯৫ জনের। অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করায় নতুন করে ধুকছে ফ্রান্স। যা এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ সংক্রমিত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণ হারাচ্ছেন শত শত ভুক্তভোগী। এমতাবস্থায় মহামারি থামাতে দেশব্যাপী কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার। যা আজ শনিবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল পর্যন্ত জারি করা এই কারফিউ চলবে টানা ১৫ দিন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ। প্রাণহানি ঘটেছে ৬৯ হাজার ৯৪৯ জনের। একই অবস্থায় ইতালিও। যেখানে কোনভাবেই বাগে আনা যাচ্ছে না করোনার গতি-প্রকৃতি। আগের তুলনায় সুস্থতার বাড়লে থামানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৩ লাখ ৫২ হাজারের বেশি মানুষ করোনার কবলে পড়েছেন। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৮১ হাজার ৩২৫ জন। আশার খবর নেই পার্শ্ববর্তী দেশ স্পেনেও। আক্রান্ত ও মৃতু হলেও বেশ কয়েকদিন ধরেই সুস্থতা শূন্য দেশটি। যেখানে আজ শনিবার পর্যন্ত ২২ লাখ ৫২ হাজারের অধিক মানুষের দেহে হানা দিয়েছে ভাইরাসটি। প্রাণ ঝরেছে ৫৩ হাজার ৩১৪ জনের। আশঙ্কার খবর ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র জার্মানিও নতুন করে মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। নতুন বছরের শুরু থেকে দেশটি করোনার যেন লাগাম ছাড়া। প্রতিদিনই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ হারাচ্ছেন সেখানে। গত একদিনেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। এখন পর্যন্ত ২০ লাখ ২৪ হাজার জার্মান করোনার শিকার হয়েছেন। এর প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার সুস্থতা লাভ করলেও প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে ৪৬ হাজার। দেশটিতে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছে। তারপরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে করোনা পরিস্থিতি। এমতাবস্থায় ভ্রমণে কঠোর বিধি আরোপ করেছেন জার্মান চ্যাঞ্জেলর। এছাড়া পোলান্ডে আক্রান্ত ১১ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ, মৃত্যু হয়েছে ৩২ হাজার ৮৪৪ জনের। নেদারল্যান্ডসে করোনার হানা দিয়েছে ৯ লাখ ২ হাজার মানুষের দেহে, প্রাণহানি ঘটেছে ১২ হাজার ৮৬৮ জন ভুক্তভোগীর। বেলজিয়ামে সংক্রমিত ৬ লাখ ৭৩ হাজার, মৃত্যু ২০ হাজার ২৯৪ জনের। ...

করোনায় মৃত্যু ২০ লাখ ছাড়াল

১৫,জানুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫৪ জন। এতে মারা গেছেন ২০ লাখ ২ হাজার ৪৬৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ছয় কোটি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ জন। শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন তিন লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৪ জন এখন পর্যন্ত মারা গেছেন। বিশ্বে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে। এ পর্যন্ত সেখানে দুই কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৮১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটিতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এক কোটি ৪১ লাখ ১২ হাজার ১১৯ জন। যুক্তরাষ্ট্রের পর মৃত্যু বিবেচনায় করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ব্রাজিল। আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকলেও মৃত্যু বিবেচনায় দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। ল্যাটিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ লাখ ২৬ হাজার ১১৫ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৭ হাজার ১৬০ জনের আর সুস্থ হয়েছেন ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭০৩ জন। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা ভারত মৃত্যু বিবেচনায় আছে তৃতীয় স্থানে। এ পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি পাঁচ লাখ ২৮ হাজার ৫০৮ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ৯৫৪ জনের আর সুস্থ হয়েছেন এক কোটি এক লাখ ৬২ হাজার ৭৩৮ জন। গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সঙ্কটকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ...

দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্কের ২০ বছর কারাদণ্ড

১৪,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হেকে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির দায়ে বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। প্রথমে গত জুলাই মাসে পার্ককে প্রায় ৩০ বছরের জেল ও ২০ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। তবে ওই জরিমানা ও কারাদণ্ডের মেয়াদ হ্রাস করে বৃহস্পতিবার দেশটির উচ্চ আদালত চূড়ান্ত এই রায় প্রদান করেন। আদালত তাকে ১৮ বিলিয়ন ডলার জরিমানাও করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম নারী হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন পার্ক। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। বন্ধু চোই সুন-সিল পার্কের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদানের নামে সাড়ে ৬৫ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে স্যামসাং এবং হুন্দাইয়ের মতো কোম্পানিও রয়েছে। ওই অর্থ সন্দেহভাজন একটি ফাউন্ডেশনের নামে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগে বলা হয়, পার্ক এসব ফান্ড থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এসব অভিযোগ ওঠার পর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার আইন প্রণেতারা পার্ককে অভিশংসিত করার পক্ষে রায় দেন। তখন থেকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা হয়। পরে ২০১৭ সালের ১০ মার্চ পার্ককে সাংবিধানিক আদালত চূড়ান্তভাবে অভিশংসিত করে। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়। ...

অডিও সিডি হস্তান্তরকালে রেজাউল করিম: নির্বাচিত হলে সংস্কৃতিবান্ধব নগরী গড়ব

১৭,জানুয়ারী,রবিবার,নিউজ ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরীর পক্ষে গণরায় আদায়ে চট্টগ্রাম মহানগর সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদ প্রকাশিত প্রচারণামূলক অডিও সিডির কপি গতকাল শনিবার ১৬ জানুয়ারি মেয়র প্রার্থী এম. রেজাউল করিমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ উপলক্ষে তাঁর বহদ্দারহাটস্থ বাসভবনে সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠকদের সাথে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি সম্মিলন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে অডিও সিডি একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যকর মাধ্যম। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে সংস্কৃতিবান্ধব নগরীতে পরিণত করবো এবং সংস্কৃতি কর্মীদের সামাজিক মর্যাদা, সম্মান, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে সচেষ্ট হবো। তিনি জঙ্গিবাদ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে সংস্কৃতিকর্মীদের সোচ্চার হবার আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম মোস্তাফিজের সভাপতিত্বে ও শিল্পী দীপংকর দেবনাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শওকত ওসমান জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ নাছির, রূপম মুৎসদ্দি টিটু, সঞ্জয় গান্ধী, নিরঞ্জন ঘোষ, বাবুল দাশ, মোহাম্মদ সায়েম উদ্দিন, শিল্পী সমীরন পাল, প্রিয়া ভৌমিক প্রমুখ।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি। ...

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আপাতত কোনো আশঙ্কা দেখছেন না কাদেরের ভাই

১৬,জানুয়ারী,শনিবার,নোয়াখালী প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ শনিবার সকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে। সকাল আটটায় ইভিএমে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল আটটার আগেই ভোট দেওয়ার জন্য বড় রাজাপুর উদয়ন ক্রিকেট একাডেমি কেন্দ্রে উপস্থিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা। তিনি সকাল আটটায় এ কেন্দ্রে ভোট দেন। ভোটদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী। আগে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে নানা আশঙ্কা থাকলেও আপাতত তিনি সে রকম কোনো লক্ষণ দেখছেন না। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে সাতটায় বড় রাজাপুর উদয়ন ক্রিকেট একাডেমিতে নারী ভোটারদের উপস্থিতি চেখে পড়ে। কেন্দ্রের ভেতর স্থান সংকুলান না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী রাস্তায় অনেক ভোটারকে লাইনে অবস্থান করতে দেখা যায়। সকাল নয়টায় মাকসুদা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র এবং বসুরহাট ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে ও নারী ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। একসময় পুরুষ ভোটারদেরও বেশ উপস্থিতি দেখা যায়। ...

স্বপ্নের ঠিকানা পাচ্ছে ১১৫ পরিবার

১৪,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: পঞ্চাশোর্ধ্ব ফুলমালা বেগম। অকালে মারা গেছে স্বামী। যমুনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে বাড়ি। নিঃসন্তান এই নারী অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জমি নেই, ঘর নেই তাই রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘর তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। অবশেষে মানিকগঞ্জের শিবালইয়ের জাফরগঞ্জ এলাকার এ অসহায় বিধবা নারী পাচ্ছেন নিজের একটি বাড়ি। সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পে জমি আর ঘর বরাদ্দ করা হয়েছে তার নামে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাড়ি পাচ্ছেন সারাদেশের প্রায় আট লাখেরও বেশি ভূমি ও গৃহহীন মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় ফুলমালার মতো মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় ১১৫টি পরিবার পাচ্ছেন স্বপ্নের ঠিকানা। প্রথম পর্যায়ে বিধবা, প্রতিবন্ধী স্বামী পরিত্যক্তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল ভূমি ও গৃহহীনরা আসবেন এই প্রকল্পের আওতায়। ২০ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। সরেজমিন শিবালয় ও ঘিওর উপজেলার আশ্রয়ন প্রকল্পের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খাস জমি ভরাট করে সারিবদ্ধভাবে ঘরগুলো তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের চালে লাল রংয়ের টিন। দেয়ালের রং থাকবে নীল। থাকার জন্য রয়েছে দুটি কক্ষ। রয়েছে স্টোর রুম, রান্না ঘর এবং টয়লেটও। প্রকল্প এলাকায় কথা হয় কয়েকজন উপকারভোগীর সঙ্গে। যারা অন্যের বাড়ি অথবা রাস্তার পাশে ঘর তুলে বসবাস করতেন। নিজেদের একটি ঘর পেয়ে তারা খুশি সবাই। তারা আরও জানান, জমির মালিকানাসহ ঘর পাওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। যতদিন বেঁচে আছেন তার জন্য দোয়া করবেন তারা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় শিবালয় উপজেলায় ২১টি, ঘিওরে ২৫টি, সাটুরিয়ায় ৩০টি, হরিরামপুরে ১২টি, সিংগাইরে ১২টি এবং সদর উপজেলায় ১৫টিসহ মোট ১১৫টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন সুলতানা জানান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব তাদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন নিজের বাড়ি মনে করে ঘরগুলোকে তৈরি করার জন্য। এজন্য তিনি ইট, টিন থেকে শুরু করে প্রতিটি মালামালের গুনগত মাণ ঠিক রাখার চেষ্টা করেছেন। শিবালয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম রুহুল আমিন রিমন বলেন, দুই শতাংশ জমির বন্দোবস্তের কাগজসহ উপকারভোগীরা দুই কক্ষ বিশিষ্ট ঘর পাচ্ছেন। প্রকল্প এলাকায় যাতায়াত সুবিধা, বিদ্যুৎ সংযোগ, সোলার সিস্টেম, বিশুদ্ধ পানিসহ নানা সুবিধা দিতেও কাজ করছেন তারা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভিন্ন দফতরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যাতে উপকারভোগীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে আয়বর্ধক কাজে ঋণ দিয়ে আত্মকর্মশীল করা হয়।...

স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে প্রাণ গেল স্ত্রীর

১৪,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: চুয়াডাঙ্গায় স্বামীর চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে স্ত্রী উম্মে সালমার (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী আলতাব হোসেনও আহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার ভিমরুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উম্মে সালমা নাটোরের সিংড়া উপজেলার কলম গ্রামের আলতাফ হোসেনের স্ত্রী। দুজনই চুয়াডাঙ্গা দর্শনা পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে চাকরি করেন। চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াতে ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর সঙ্গে সালমা দর্শনা কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলযোগে দৌলতদিয়ার ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন। পথে শহরের ভিমরুল্ল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের গতিরোধক অতিক্রম করার সময় মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়েন তিনি। এ সময় মাথায় প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হলে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। তবে স্বামী বেঁচে গেলেও মারা যান স্ত্রী। কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকিল আরসালান জানান, মাথার প্রচণ্ড আঘাতের কারণে উম্মে সালমার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান। ...

আখাউড়ায় মাটি খুঁড়তে মিলল হাজারও বুলেট

১২,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে হাজার হাজার বুলেট। সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত আখাউড়া রেলওয়ে পূর্ব কলোনী থেকে বিপুল পরিমান এই বুলেট উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল আজম ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকায় রেলওয়ের উন্নয়ন কাজ চলছে। সকালে মো. রফিক ও জুয়েল নামে দুই যুবক সেখানে লাকড়ি কুড়ানোর সময় তারা একটি শক্ত মাটির চাকা পায়। পরে চাকার মধ্যে বুলেট পাওয়া যায়। পরে এই দুই যুবক আরো মাটি খুঁড়ে বেশ কিছু বুলেটপায়। সব মিলিয়ে কুড়িয়ে পাওয়া বুলেটের ওজন পাঁচ কেজির মতো। কলোনীর বাসিন্দা রাকিব হাসান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে বুলেটগুলো মুক্তিযুদ্ধের সময়কার। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি বিষয়টি আখাউড়া থানা পুলিশকে অবহিত করেছেন। এ ব্যাপারে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল আহমেদ নিজামী বলেন, রেলওয়ে উন্নয়ন কাজের জন্য মাটি খুঁড়ায় সেখানে মাটির নিচে থাকা পরিত্যক্ত বুলেট পাওয়া গেছে বলে শুনেছি। ঘটনাস্থলে দারোগা পাঠিয়েছি। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।...

২০২০ সালে লক্ষ্য পূরণ হয়নি ভিয়েতনামের চাল রফতানির

১৬,জানুয়ারী,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর ধাক্কা লেগেছে ভিয়েতনামের চাল রফতানিতে। সংকটকালে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখা ও জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল রফতানি সাময়িক বন্ধ রেখেছিল ভিয়েতনাম। এর প্রভাব পড়েছে খাদ্যপণ্যটির সামগ্রিক রফতানিতে। ২০২০ সালে ভিয়েতনাম থেকে ৬১ লাখ টনের বেশি চাল রফতানি হলেও খাদ্যপণ্যটির বার্ষিক রফতানি লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি দেশটি। তবে গত বছর চাল রফতানি করে আয় বেড়েছে ভিয়েতনামের রফতানিকারকদের। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রায়ত্ত জেনারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের (জিএসও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার। ভিয়েতনাম বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ। খাদ্যপণ্যটি রফতানিকারদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় দেশটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভিয়েতনামের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী বছরে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬১ লাখ ৪৬ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এ সময় চাল রফতানি করে ভিয়েতনামিজ রফতানিকারকদের আয় আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩০৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারীর মধ্যে চালের রফতানি মূল্য বাড়তি ছিল। এ কারণে গত বছর চাল রফতানির পরিমাণ কমলেও এ বাবদ ভিয়েতনামের আয় বাড়তির দিকে ছিল। মাসভিত্তিক হিসাবে গত ডিসেম্বরে ভিয়েতনাম থেকে সব মিলিয়ে ৪ লাখ ৪৩ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে জিএসও। এ সময় খাদ্যপণ্যটির রফতানি বাবদ দেশটির আয় দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি ডলারে। বিদায়ী বছরজুড়ে প্রায় সাড়ে ৬১ লাখ টন চাল রফতানি করলেও খাদ্যপণ্যটির বার্ষিক রফতানি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে ভিয়েতনাম। ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৩ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছিল। আয় হয়েছিল ২৮০ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০২০ সালে ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৭ লাখ টন চাল রফতানির পূর্বাভাস দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু করোনা মহামারী এ লক্ষ্য পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর লক্ষ্যের তুলনায় ৫ লাখ ৫৪ হাজার টন কম চাল রফতানি করতে পেরেছে ভিয়েতনাম। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বছরজুড়ে ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৪ লাখ টন চাল রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমতে পারে। ২০১৯ সালে ভিয়েতনাম থেকে মোট ৬৭ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছিল। ২০২০ সাল শেষে ইউএসডিএর এ লক্ষ্য পূরণেও ব্যর্থ হয়েছে ভিয়েতনামের চাল রফতানি খাত। চাল রফতানিতে বার্ষিক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার পেছনে করোনা মহামারীকে দায়ী করছেন ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা। তাদের ভাষ্য, গত বছরের মার্চের শেষভাগে চাল রফতানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভিয়েতনাম সরকার। মূলত করোনাকালে জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অভ্যন্তরীণ খাদ্যশৃঙ্খল নির্বিঘ্ন রাখতে সাময়িক এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে মে মাসে এসে বিদ্যমান এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। ফলে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল রফতানি ফের শুরু হয়। তবে খাদ্যপণ্যটির রফতানিতে এ সাময়িক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে বার্ষিক রফতানি লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হতো। করোনাকালীন সংকট কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া আরো সহজ হতো ভিয়েতনামের চাল রফতানি খাতের।...

বরিশালে আগাম ইরি-বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষক

১৪,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বরিশালের বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা আগাম ইরি-বোরো চাষে নেমেছেন। বিশেষ করে আগৈলঝাড়া উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই কনকনে শীত উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের চারা বীজ লাগাতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কৃষকরা জানিয়েছেন, গতবারের চেয়ে এবার দ্বিগুণ চাষি আগাম ইরি-বোরো চাষের জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। অন্য বছরের ন্যায় এবারও ইরি-বোরোর পুরো মৌসুমে সার ও সেচকাজের জন্য সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে চলতি মৌসুমেও ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। এছাড়া, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায় জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট প্রায় ৯ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ করে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, যার মধ্যে ৪৮ হাজার ৪শ মেট্রিক টন হাইব্রিড ও ২ হাজার ৫০ মেট্রিক টন উফসী চাল। এ কৃষিবিদ আরও জানান, উপজেলায় মোট আবাদি জমির মধ্যে ৮ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান ও ৫শ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফসী) বোরো ধান আবাদ করা হবে। এর মধ্যে ৪৫০ হেক্টর জমিতে আগাম বোরো আবাদ করেছেন চাষিরা। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সূত্র মতে, চলতি রবি মৌসুমে ৯১ জন চাষিকে সরিষা, ভুট্টা, মুগ, মশুর, খেসারি, আলু ও আখের বীজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, সরকারের পুনর্বাসন বীজ সহায়তা, প্রণোদনা, প্রকল্প ও রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৩২৫টি কৃষক পরিবারকে ধানের বীজসহ বিভিন্ন ধরনের বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ...

স্কুল খুললেই শিক্ষার্থীদের একবেলা খাবার: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

১৬,জানুয়ারী,শনিবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার কারণে অনেক অভিভাবকের আয় কমে গেছে কিংবা চাকরি হারিয়েছেন। এ অবস্থায় অনেকে তাদের সন্তানকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানে বাড়তি খরচের কারণে সন্তানের ভর্তি কিংবা পড়ালেখা দুঃশ্চিন্তায় দিন পার করছেন তারা। যেসব অভিভাবক এ অবস্থায় পড়েছেন তাদের সন্তানকে সরকারি স্কুলে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, করোনায় যেসব পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তাদের সন্তানদের নিজ নিজ এলাকায় সরকারি স্কুলগুলোয় ভর্তি নেওয়ার নির্দেশনা আগেই দিয়েছি। জাকির হোসেন বলেন, সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর আগের শ্রেণির যেকোন ডকুমেন্ট দেখালেই চলবে। আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমিয়ে আনতে বৃত্তি, উপবৃত্তি এবং জামাকাপড় কেনার জন্য সহায়তা দিচ্ছি আমরা। গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুলের যে মিড-ডে মিল বিস্কুট দেওয়া হতো, সেটি এখন বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীরা স্কুলেই একবেলা খেতে পারবে। বেসরকারি স্কুলে খরচ বেশি। এজন্য অভিভাবকদের প্রতি আহবান থাকবে- আপনার সন্তানকে স্থানীয় সরকারি স্কুলে ভর্তি করান। ...

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়লো ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত

১৫,জানুয়ারী,শুক্রবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (কওমি মাদরাসা ছাড়া) চলমান ছুটি আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এ তথ্য জানান। বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর ১৬ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত ছুটি ছিল, সেই ছুটি এবার ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়লো। শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান এ ছুটি বাড়ানো হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে এবছর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী, অষ্টমের সমাপনী ছাড়াও এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত হলেও প্রাথমিকের অন্য শ্রেণিগুলোয় পরীক্ষা ছাড়া পরবর্তী ক্লাসে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আর মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষা স্তরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনার্স ও মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসি।...

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের টাইটেল স্পন্সর- লাভেলো

১৬,জানুয়ারী,শনিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রায় দশ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এ সিরিজকে সামনে রেখে নতুন করে সব স্পন্সর নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সবশেষ ঠিক হলো বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-ওয়ানডে সিরিজর টাইটেল স্পন্সর। (শনিবার) বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বিজিবি ব্যাংকোয়েট হলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, আসন্ন সিরিজের টাইটেল স্পন্সর- লাভেলো আইসক্রিম এবং সিরিজে সহযোগিতা বা পাওয়ার্ড বাই হিসেবে থাকছে ওয়ালটন। সিরিজের টাইটেল ও গ্রাউন্ড ব্র্যান্ডিংয়ের দায়িত্ব পালন করবে মাত্রা। এসময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী প্রধান নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন ও মিডিয়া ম্যানেজার জালাল ইউনুস। এছাড়া লাভেলো বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ একরামুল হক, ওয়ালটনের নির্বাহী কর্মকর্তা উদয় হাকিম এবং মাত্রার পক্ষ থেকে সানাউল আরেফিন উপস্থিত ছিলেন। এর আগেই ঠিক করা হয়েছে বাংলাদেশ দলের টিম স্পন্সর হিসেবে থাকছে বেক্সিমকো এবং কিট (জার্সি) পার্টনার হিসেবে নেয়া হয়েছে আকাশ ডিটিএইচকে। এছাড়া সিরিজটির ব্রডকাস্টিং রাইট কিনে নিয়েছে ব্যান টেক লিমিটেড।...

ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে করোনার হানা

১৫,জানুয়ারী,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ সফরে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ লেগস্পিনার হেইডেন ওয়ালশ জুনিয়রের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে আছেন তিনি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় টাইগারদের বিপক্ষে আসন্ন তিন ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন তিনি। বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে তার। তবে গত বুধবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকায় পিসিআর টেস্টে পজিটিভ রিপোর্ট আসে তার। পিসিআর টেস্টে নেগেটিভ রিপোর্ট না আসা পযর্ন্ত স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে থাকবেন তিনি। তবে সফরে থাকা ক্যারিবিয়ানদের আর কারও পজিটিভ রিপোর্ট আসেনি। আগামী ২০ জানুয়ারি ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ। সফরে তিন ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট খেলবে ক্যারিবিয়ানরা।...

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু কাল

১৫,জানুয়ারী,শুক্রবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কাল থেকে শুরু হচ্ছে- ঊনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২১।নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ স্লোগান নিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের আসর। মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এবারের আসরটি উৎসর্গ করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। এবারের উৎসবে মোট ৭৩টি দেশের ২২৬টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল ও প্রধান মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা ও নৃত্যশালা মিলনায়তন এবং শিল্পকলার নন্দন মঞ্চে চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হবে। এ উপলক্ষে গতকাল ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত হয় এক সংবাদ সম্মেলন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উৎসবের চেয়ারম্যান কায়সার কামাল, পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল, তত্ত্বাবধানকারী ম. হামিদ, উৎসব উপদেষ্টা রফিকুজ্জামান, উৎসবের তিন জুরি চলচ্চিত্র সমালোচক মঈনুদ্দীন খালেদ, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী ও অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। সম্মেলনে বলা হয়, উৎসবের অংশ হিসেবে আগামী ১৭-১৮ই জানুয়ারি চলচ্চিত্রে নারীর ভূমিকা বিষয়ক- সপ্তম ঢাকা আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস কনফারেন্স- অনুষ্ঠিত হবে। এই কনফারেন্সটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে। এ ছাড়া আগামী ১৯শে জানুয়ারি দিনব্যাপী একই ভেন্যুতে আয়োজন করা হয়েছে দেশীয় চলচ্চিত্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রকারদের ভাবনার মিথস্ক্রিয়ামূলক অনুষ্ঠান- ওয়েস্ট মিটস ইস্ট। সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে ২০শে জানুয়ারি বিকাল ৪টায়। এই সেমিনারে আসাদুজ্জামান নূর এমপি, বিচারপতি রিফাত আহমেদ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর, ধৃতমান চ্যাটার্জিসহ আলোচিত ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করবেন।...

প্রধানমন্ত্রী ও শেখ রেহানার দোয়া নিলেন বঙ্গবন্ধু সিনেমার তারকারা

১০,জানুয়ারী,রবিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেশ জমকালো আয়োজনে নির্মিত হচ্ছে জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে বায়োপিক। এর নাম ঠিক করা হয়েছে- বঙ্গবন্ধু। এটি নির্মাণ করছেন ভারতের কিংবদন্তি নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল। এ সিনেমায় দেশের একঝাঁক তারকা অভিনয় করতে যাচ্ছেন। যার মধ্যে আছেন বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করা আরিফিন শুভ, শেখ হাসিনার ছোটবেলার চরিত্রে নুসরাত ফারিয়া ও বড়বেলার চরিত্রে জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি, বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের চরিত্রে অভিনয় করবেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, তাজউদ্দীন আহমদের চরিত্রে ফেরদৌস আহমেদ। বিভিন্ন চরিত্রে আরও দেখা যাবে তৌকির আহমেদ, ফজলুর রহমান বাবু, তুষার খান, দিলারা জামান, সিয়াম আহমেদসহ শতাধিক শিল্পীকে। সিনেমার শুটিং করতে আগামী ১৯ জানুয়ারি মুম্বাই যাবেন চলচ্চিত্রটির একটি অংশ। আর ফেব্রুয়ারিতে যাবেন আরও কয়েকজন। সেই যাত্রার আগে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার দোয়া ও শুভেচ্ছা নিয়েছেন কয়েকজন তারকা। গতকাল ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে দুই বোনোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বঙ্গবন্ধুর সিনেমার তারকারা। বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে প্রায় ৬টা পর্যন্ত ২০ জনের একটি দল প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পান। সেখানে ছিলেন আরিফিন শুভ, নুসরাত ইমরোজ তিশা, নুসরাত ফারিয়া, দিঘী, হিমিসহ আরও অনেকেই। জানা গেছে, আগামী ২৫ জানুয়ারি ভারতের মুম্বাইয়ে শুরু হচ্ছে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা- বঙ্গবন্ধুর প্রথম লটের কাজ। টানা ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে শুটিং। এরপর দ্বিতীয় লটের জন্য কিছু দিনের বিরতি থাকবে। তারপর বাংলাদেশে শুটিং হওয়ার কথা রয়েছে। ছবিটি ২০২১ সালেই মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। ...

অনিয়মের অভিযোগে চেয়ারম্যান কাউন্সিলর ও ইউপি সদস্যসহ ১১ জন বরখাস্ত

২জুন,মঙ্গলবার,ক্রাইম সোর্স প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ত্রাণ বিতরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে একদিনেই ১১ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিভাগটি। যাদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৪জন ইউপি চেয়ারম্যান, একজন পৌরসভার কাউন্সিলর ও ৬জন ইউপি সদস্য রয়েছেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দরিদ্র মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে আরও ১১ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাঁদের মধ্যে চারজন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ছয়জন ইউপি সদস্য এবং একজন পৌর কাউন্সিলর রয়েছেন। বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যানেরা হলেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউপির মো. আনোয়ারুল হক, একই জেলার বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুর ইউপির হাজী মো. কাজল ভূইয়া, বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউপির মো. শাহনেওয়াজ এবং নলটোনা ইউপির হুমায়ুন কবীর। বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিংপুর ইউপির চেয়ারম্যান করোনোভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় ত্রাণকাজে সহায়তা না করে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। বাজিতপুরের হালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যানও দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এ ছাড়া করোনোভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি, এপ্রিল মাসের ভিজিডি খাদ্যশস্য বিতরণ না করা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে ব্যর্থ হওয়া এবং কারণ দর্শানোর পরিপ্রেক্ষিতে নিজে জবাব প্রদান না দিয়ে অন্যের মাধ্যমে জবাব দেওয়া। বরগুনার এম বালিয়াতলী ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে মৎস্য ভিজিএফের চাল ৮০ কেজির জায়গায় ৬০ কেজি দেওয়া এবং তালিকার বাইরেও অন্যদের চাল দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। নলটোনা ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলেদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, ভুয়া টিপসইয়ের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ইউপি সদস্যরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপজেলার মজলিশপুর ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারিছ মিয়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাছান মিয়া, বরগুনা জেলার সদর উপজেলাধীন নলটোনা ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হারুন মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হানিফ, ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মোসা. রানী এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মোসা. ছাবিনা ইয়াসমিন। বরখাস্ত হওয়া পৌরসভার কাউন্সিলর হলেন চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সোলাইমান বাবুল।...

প্রায় ৪শ লোককে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠায় চক্রের অন্যতম হোতা কামাল

১জুন,সোমবার,ক্রাইম সোর্স প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা কামাল হোসেন ওরফে হাজী কামালকে গ্রেফতার করেছে RAB। প্রায় ৪শ লোককে অবৈধভাবে তিনি বিদেশে পাঠায়। RAB বলছে, তিনিই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে মানবপাচারকারীর মূল হোতা। এরসঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে RAB। বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে অবৈধ ভাবে ইতালিতে যাওয়া। তারা বিভিন্ন শ্রমিকদের যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখানো হয়। এবং তাদের বিদেশে যাওয়ার পরই বাকি টাকা দেবে। এ ধরনের আশ্বাস দেয়া হয়। আমারা একাধিক দালাল পেয়েছি। তারা মাদারীপুর, শরিয়রতপুরসহ বিভিন্ন জেলার লোক রয়েছে। তারা প্রথমে বাইরুটে ঢাকা থেকে কলকাতা নেয়া হয়। এই হাজী কামালই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা বাংলাদেশ থেকে ১০-১৫ দিন লাগে বেনগাজীতে যাওয়ার। এ চক্রটি লিবিয়াতে যাওয়ার পরই তারা টাকার জন্য পেশার দেয়া শুরু হয়। RAB জানায়, লিবিয়ার ত্রিপোলিতে কিছু কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এই বেনগাজীতে পৌঁছানোর পরই তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপর তাদের ত্রিপোলিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ত্রিপোলিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবারও পরিবারের কাছে ২ থেকে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেখানে তাদের শুরুতে ভূমধ্যসাগরে বোট চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তিনি গত ১০-১২ বছরে ৪শ লোককে পাঠিয়েছেন। তার সঙ্গে যুক্ত আছেন ১৫-১৬ জন। আমরা পুরো সার্কিটের তথ্য পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চলতে থাকবে। গত ২৮ মে লিবিয়ার মিজদা শহরে ২৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মারা যাওয়া ২৬ জনসহ ৩৮ বাংলাদেশি ও কিছু সুদানি নাগরিক প্রায় ১৫ দিন ধরে ওই অপহরণকারী চক্রের হাতে আটক ছিলেন। ইতালিতে অভিবাসনের উদ্দেশে ওই ৩৮ জন বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে লিবিয়ায় যান।...

কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রমী মোস্তফা ভুঁইয়া

২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মোঃ মোস্তফা ভুঁইয়া ১৯৫০ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বাস গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ডাঃ মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মাতার নাম মরহুমা রৌশনারা বেগম। তিনি তিন সন্তানের জনক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, আত্মীয়স্বজন সহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি একসময় খাদ্য অধিদপ্তরে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে চাকুরিতে যোগদান করেন। তার চাকুরি জীবন শুরু হয় পাকিস্তানের করাচিতে। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান যা বর্তমানে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী স্বদেশ পার্টিতে যাত্রা শুরু করেন। তিনি আমৃত্যু স্বদেশ পার্টির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজসেবা, জনকল্যাণ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের অধিকার সংগ্রামে জড়িত ছিলেন। তিনি অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা- লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে একজন বলিষ্ট প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি গত ২০২০ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পারি জমান। তার অসংখ্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সহকর্মী শোকাহিত হৃদয়ে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে। তার অভাব পূরণ হবার নয়। তার কর্মীরা এক মূহূর্তের জন্য তাকে ভুলতে পারে না। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, শান্তি, এবং জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি। ...

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে আকুল আবেদন

২০সেপ্টেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: সকল শিক্ষারর্থীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হতে বিরত থাকুন। মার্চ ২০২০ হতে কোভিড-১৯ (করোনা) সংক্রমণ শুরু হয়। পর্যবেক্ষণ দেখা যায় শীত প্রধান অঞ্চলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ অধিক। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে সংক্রমণ বেড়েই চলছে। আমাদের দেশ ঘনবসতি পূর্ণ জনবহুল দেশ। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি বেসরকারি ব্যাক্তি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার প্রচারণায় দেশবাসী সচেতন হয়েছে। দেশের মানুষ সতর্ক হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলছে। যার ফল আমরা প্রত্যক্ষ করছি। সামনে শীত মৌসুম। এ অবস্থায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা একেবাড়ে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিভিন্ন মহল বিশিষের দাবীর মুখে একাধিক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জানা যায় সদাসয় সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেণির পরিক্ষা ও ক্লাস শুরু করার তথ্য। অবশ্যই এই উদ্যেগ ভাল। কিন্তু এ মুহূর্তে তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। কোভিড-১৯ একটি সংক্রামক ও ছোঁয়াছে রোগ। এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাবস্থা অত্যন্ত জটিল। তাই এর সংক্রমণ ঠেকাতে আমাদের দেশের সরকার শত চেষ্ঠার পর সম্পূর্ণ সফল হতে পারেনি। অবশ্য আংশিক সফলতা, যথাপোযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অবশ্যই সরকারের সাধুবাদ। ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কৃতজ্ঞতাচিত্তে ধন্যবাদ জানাচ্ছিও। আমাদের দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী অনেক। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে ক্লাস করা কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়। তাই সকল দিকে বিবেচনা করে, প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাস শুরু না করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।- ...

চট্টগ্রামে বিএনপির মেয়রপ্রার্থীর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ

১৬,জানুয়ারী,শনিবার,নিউজ ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণার গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে হালিশহর রুপসা বেকারির সামনে ডা. শাহাদাতের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয় বলে জানান তার একান্ত সচিব মারুফুল হক চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরা ডা. শাহাদাতের গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বিএনপি প্রার্থীর গাড়ির লাইট-গ্লাস ভাঙচুর করে। এ সময় বিএনপির তিন-চারজন কর্মী আহত হন। এর আগে বিকেল ৩টার দিকে ডা. শাহাদাত নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ থেকে হালিশহর পর্যন্ত গণসংযোগ করেন।...

বিএনপির মিথ্যাচারের জবাব দিয়েছে জনগণ: ওবায়দুল কাদের

১৬,জানুয়ারী,শনিবার,নিউজ ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পৌরসভা নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও উৎসব আমেজে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মিথ্যাচারের জবাব দিয়েছে জনগণ। তিনি বলেন, দ্বিতীয় ধাপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও উৎসব আমেজে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে যারা মিথ্যাচার করে, তার জবাব জণগণ তাদের দিয়েছে। ওবায়দুল কাদের আজ শনিবার বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচন পরবর্তী তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এ এসব কথা বলেন। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে অপপ্রয়াস অবিরাম চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি, তা আর হালে পানি পাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ এখন আর বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচারে বিশ্বাস করে না। বিএনপি ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে মাঝে মধ্যে, তারা কল্পিত অভিযোগ এনে ভোটের মাঠ ত্যাগ করে তাদের চর্চিত নেতিবাচক রাজনীতির ঐতিহ্য ধরে রাখার অপচেষ্টা করে। বিএনপি উদ্দেশ্যমূলক বিরোধিতা করলেও দেশের জণগণ অত্যন্ত সাবলিলভাবে ইভিএম- এ ভোট প্রদান করছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে জণগণ ইতিমধ্যে অভ্যন্ত হয়ে উঠলেও বিএনপির মানসিকতা এখনে এনালগ রয়ে গেছে। তাই তারা এ পদ্ধতির বিরোধিতা করে। স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ভোটারদের এবং নির্বাচন কমিশনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয় পরাজয় থাকবে, তবুও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে এ নির্বাচনে প্রতিদ্বীতা করার জন্য সকল প্রার্থীদেরও ধন্যবাদ জানান কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকার প্রয়োগ ইভিএম এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাই প্রমাণ করে । বিএনপি মুখে স্বচ্ছতার কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে প্রযুক্তি বিমূখ এবং পিছিয়ে পড়া ধ্যানধারনা আঁকড়ে ধরে বসে থাকতে চায়। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থীরা ভোটের পরিবেশ ও ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও তাদের কেন্দ্রীয় নেতারা শুধুমাত্র সমালোচনার জন্য সমালোচনা করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের ভোটের সংস্কৃতি নিয়ে বিএনপির মিথ্যাচারের জবাব দিয়েছে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার ভোটারগন। বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীও যেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সেখানে অন্ধকারে ঢিল না ছুঁড়ে মির্জা ফখরুল সাহেবকে নিজ দলের প্রার্থীর কথা অনুধাবন করার আহবান জানান তিনি। নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ ছিলো উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সেখানেও অবাধ,শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রথমবারের মতো বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে ইভিএম-এ ভোট হয়েছে এবং ৬০ ভাগেরও বেশি ভোটার উপস্থিত ছিলেন, অথচ মির্জা ফখরুল সাহেব আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে যেসব কথা বলেছেন, তার জবাব আমি না দিলেও বসুরহাট পৌরসভার ভোটারগণ শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এর জবাব দিয়েছেন। বসুরহাটে যে নির্বাচন হয়েছে এমন নির্বাচনই চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ নির্বাচনকে অনেকেই স্বচ্ছতার জন্য- বসুরহাট মডেল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিএনপি ভোটে হারার আগেই হেরে বসে থাকে,তারা রাজপথ ভয় পায়,আন্দোলনেও ভয় পায়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আভ্যন্তরীন গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ রয়েছে আওয়ামী পরিবারে, আবার গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপের জন্য শাস্তির বিধানও যথাযথভাবে কার্যকর করা হয়, যা বিএনপির রাজনৈতিক চর্চায় নেই।...

কাবা শরিফ-মদিনায় জুমআ পড়াবেন শায়খ জুহানি ও হুসাইন

১৫,জানুয়ারী,শুক্রবার,ধর্ম ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আলহামদুলিল্লাহ! কাবা শরিফ ও মদিনায় পবিত্র জুমআ অনুষ্ঠিত হবে। মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জুমাদা আল-আখিরাহর প্রথম জুমআ আজ। দুই পবিত্র মসজিদের খুতবাহ ও জুমআর নামাজের জন্য দুইজন সম্মানিত শায়খকে নির্বাচিত করেছে হারামাইন কর্তৃপক্ষ। আজ ১৫ জানুয়ারি ২০২১ মোতাবেক ০২ জুমাদা আল আখিরা। নতুব বছরের তৃতীয় জুমআ ও জুমাদা আল-আখিরার প্রথম জুমআ আদায়ে মুসলিম উম্মাহর সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে মক্কা ও মদিনা। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজে অংশগ্রহণকারীরা যাদের খুতবাহ শুনবেন- কাবা শরিফ : প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার প্রসিদ্ধ ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আব্দুল্লাহ আওয়াদ আল জুহানি।- মদিনা মুনাওয়ারা : প্রসিদ্ধ ইমাম ও খতিব শায়খ ড. হুসাইন আল আশ-শায়খ। তবে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জন্য যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে নিজস্ব মুসাল্লাসহ এ দুই পবিত্র মসজিদে জুমআর নামাজে পড়তে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ করতে হবে। উল্লেখ্য, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জুমআর নামাজের খুতবা ও নামাজ সরাসরি সম্প্রচার করবেন। হারামাইনডট ইনফোসহ অনেক চ্যানেলেও এ নামাজ সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।...

যেসব ভুলে পর্বত সমান নেক আমলও ধূলিকণায় পরিণত হবে

০৭,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,ধর্ম ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মর্যাদার দিক থেকে সৃষ্টি জগতে মানুষই সেরা। এদের মধ্যে যারা আল্লাহর বিধান যথাযথভাবে পালন করেন তারা দুনিয়া ও পরকালে সফল। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যারা আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করার পরও কিছু ভুল বা অন্যায়ের কারণে তাদের আমলনামায় থাকা পর্বত সমান নেকগুলো কোনো কাজে আসবে না বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সেসব লোক কারা? কী তাদের অন্যায়? প্রকাশ্যে ভালো কাজ তথা ইবাদত-বন্দেগির বিনিময়ে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে অনেক নেক দান করবেন। বড় বড় পর্বত সমান নেকও সামান্য ভুল তথা অন্যায়ের কারণে কোনো কাজে আসবে না। হাদিসে বর্ণনায় তাদের সুস্পষ্ট বিবরণ ওঠে এসেছে- হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই আমি আমার উম্মাতের কয়েকটি দল সম্পর্কে জানি, যারা কেয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালার সমতুল্য নেক আমল নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলা সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেবেন। (এ কথা শুনে) হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের পরিচয় পরিস্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন; যাতে আমরা যেন নিজেদের অজান্তে তাদের দলভূক্ত হয়ে না যাই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- তারা তোমাদেরই ভাই; তোমাদের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত। তোমাদের সঙ্গেই (একই সমাজে) বসবাস করে। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতই (আল্লাহর) ইবাদত করে। কিন্তু তারা এমন লোক যে- একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে লিপ্ত হয়। (ইবনে মাজাহ)। হারাম কাজগুলো কী হতে পারে? কুরআনুল কারিমের ঘোষণা- নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন। এ শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ অনেক সময় আল্লাহ তাআলা কর্তৃক হারাম ঘোষিত কাজও করে থাকে। অথচ তারা সমাজে সবার সঙ্গে আল্লাহর সব বিধান মেনে চলা ব্যক্তি। কিন্তু গোপনে সুযোগ পেলেই- দৃষ্টির খেয়ানত করে। সামনাসামনি কারো দিকে না তাকালেও পেছনে কিংবা লুকিয়ে এ কাজটি করে থাকে। লজ্জাস্থানের খেয়ানত করে। সবার সামনে অনেক পরহেজগার কিন্তু লোক চোখের অন্তরালে চারিত্রিক কুলষতায় জড়িয়ে পড়ে। মানুষের অধিকার নষ্ট করে। গোপনে মানুষ ধন-সম্পদ, জমা-জমি ও ফল-ফসলের ক্ষতি করে। নির্জনে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় জানা-অজানা হারাম অনেক কাজে নিয়োজিত হয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদিসে মানুষের গোপন সেসব অন্যায় অপরাধের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার কথা বলেছেন। যেন তাদের এসব অন্যায় অপরাধের কারণে দুনিয়ার জীবনের সব নেক আমলগুলো পরকালে ধূলিকনায় পরিণত না হয়। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। গোপনে হারাম কাজে জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন। ...

ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: শহীদুল হক

স্পেশাল প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের পর খুন হওয়া মেয়েটি জীবিত ফেরার পর পুলিশের তদন্ত এবং রিমান্ডপ্রক্রিয়া আরো একবার প্রশ্নের মুখে। বিরাট প্রশ্ন ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়েও। এসব প্রশ্ন নিয়েই পুলিশের সাবেক আইজি শহীদুল হকের মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউজ একাত্তর একজন স্পেশাল প্রতিনিধি। প্রশ্ন : সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় তিনজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছে, তারাই ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ওই ছাত্রী জীবিত ফিরে এসেছে। পুলিশের পুরো তদন্তব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল না? শহীদুল হক : দেখুন, এখানে যে সঠিক তদন্ত হয়নি তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা হয়তো পুলিশের ভয়েই এটা করেছে। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সত্য তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা যা তা হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বাদীপক্ষের চাপে বা বাদীপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো সুযোগ নিয়ে কাউকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। কাউকে কাউকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে। প্রশ্ন : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে তো জজ মিয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শহীদুল হক : সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে, সরকারের চাপে জজ মিয়ার নাটক সাজানো হয়েছে। ওই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর জন্য দুঃখজনক। তবে মনে রাখতে হবে, ওটা ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ২১ আগস্ট মামলায় প্রথমদিকে যা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ভালো হলে তাঁর ওপর সরকারের চাপ থাকলে প্রয়োজন হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে পারতেন। তা কিন্তু করেননি। দুর্নীতিপরায়ণ দুই-চারজন তদন্ত কর্মকর্তার কারণেই মাঝে মাঝে পুলিশের ওপর দোষ চাপে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমি চাঁদপুরের এসপি পদে থাকার সময় সেখানে একজন ওসি ছিল, মিয়া মো. শরীফ। তাকে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। এক প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলো। কিন্তু সে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে চলে গেল। এরপর একদিন তৎকালীন আইজি মহোদয় আমাকে ফোন করে বললেন, এটা নিয়ে যেন আমি আর কথা না বলি। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। আমি চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি। প্রশ্ন : কিন্তু এ রকম একজন-দুজনের কারণে তো গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপরই দায় চলে আসছে। শহীদুল হক : এক-দুজনের কারণে গোটা বাহিনী কলঙ্কিত হতে পারে না। হয়ও না। দেশের মানুষ সচেতন। তারা সব বোঝে। দেখুন, করোনাভাইরাসের মতো মহামারির সময় এই পুলিশ বাহিনীর কর্মকাণ্ড সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে। জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সবাই দেখছে। পুলিশের এত ভালো কাজের মধ্যে দু-একটি ঘটনা গোটা বাহিনীর সাফল্যকে ম্লান করে দিতে পারে না। প্রশ্ন : প্রতিটি ক্রসফায়ারের ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা সব ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের। সত্যি বললে মানুষের কাছে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। হাসাহাসিই হয় অনেক ক্ষেত্রে। শহীদুল হক : আমি নিজেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাস করি না। কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তবে একটা কথা, আমাদের দেশে মাঝে মাঝে কিছু এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে। এই ক্রসফায়ারের ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে হবে। দেশে অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী ছিল, যাদের গ্রেপ্তার করে রাখা যেত না। কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বড় বড় অপরাধ করত। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে শুরু হয় ক্রসফায়ারের ঘটনা। তখন বড় সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। দেশের মানুষ ওটাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিয়েছে। এভাবে দেখলে, সেই সময় ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আরেকটা কথা, কোনো মামলায় অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর অভিযোগপত্র দেওয়া হয় আদালতে। কিন্তু আদালতে মামলা বছরের পর বছর পড়ে থাকে। বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আরো অপরাধ করে। দেশে যদি দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন হতো এবং আসামিদের যদি জামিন না হতো তাহলে এই ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটত না বল মনে করি। প্রশ্ন : ক্রসফায়ারে নিরীহ মানুষ হত্যার অভিযোগ উঠছে। কখনো কখনো অর্থ নিয়ে বা অর্থের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এমনও আমরা দেখছি... শহীদুল হক : এ রকম দু-একটি ঘটনা যে ঘটছে না তা বলা যাবে না। এ কারণেই তো এটা নিয়ে এত কথা হচ্ছে। আমার কথা হলো, এ রকম নিরীহ মানুষ হত্যা করা হলে জড়িত আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা দরকার। প্রশ্ন : দেখা যায়, আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড়জোর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করার ঘটনা ঘটে। এরপর আর কিছু হয় না। শহীদুল হক : এ কথা সত্য নয়। প্রথামিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত, বেতন কমানো, পদের অবনমন ইত্যাদি ঘটনা ঘটে। এ রকম বহু ঘটনা আছে। যা কখনো মিডিয়ায় আসে না বলেই মানুষ প্রথমটুকুই দেখে মূল্যায়ন করে। পরেরটুকু দেখলে বা মিডিয়ায় এলে মানুষের ভুল ধারণা কেটে যাবে। ...

জামাল খানের উন্নয়নই আমার একমাত্র চাওয়া: কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন

০১মার্চ,রবিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন এলাকার উন্নয়ন ভাবনা ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। শনিবার ২৯শে ফেব্রুয়ারি বিকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তার চিন্তা ধারার কথা তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকার জন্য কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি তার অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে অনেক খুশী যে তাকে আবারও মুল্যায়ন করেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানান তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য। তার উপর আস্থা রাখার জন্য। তিনি প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দিবেন। তিনি মনে করেন এই মনোনয়ন এর মধ্য দিয়ে তার দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেলো এবং কাজের গতি দ্বিগুন বেড়ে গেছে। কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন জানান, আজকের এই নান্দনিক জামাল খানের রুপান্তর সম্ভব হয়েছে মানুষের সহযোগিতার জন্য। ওয়ার্ডবাসী তাদের মুল্যবান রায় দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে এবং আমার উপর আস্থা রেখেছেন। যার ফলে তিনি বিগত পাঁচ বছরে নগরীর জামাল খান ওয়ার্ডকে একটি নান্দনিক জামাল খানে রুপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন। এক সময় যে জামাল খানে একটু রাত হলেই ঘনিয়ে আসতো অন্ধকার, স্ট্রিট লাইট গুলো জ্বলত মিট মিট করে। গনি ব্যাকারী থেকে জামাল খান পর্যন্ত নেমে আসা নিরবতার কারনে বেড়ে যেত ছিনতাই আর নেশা খোরদের আনাগোনা। সেই জামাল খান আজ চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের একটি আদর্শ ওয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। ৪১ টি ওয়ার্ডের মধ্যে একটি অন্যতম ওয়ার্ড হিসাবে পরিচিত। চারিদিকে সবুজের সমারোহ তিরি করা হয়েছে, লাগানো হয়েছে বিচিত্র গাছ গাছালি ও ফুলের বাগান। সেই সাথে রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য বসার স্থান। সড়ক জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে এলডি বাল্ব।পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বসানো হয়েছে ছাউনি। জামাল খানের প্রতিটি দেয়ালে দেয়ালে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সুনিপুণ কারুকাজ করা হয়েছে। যা ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেয়। গোল চক্করে স্থাপন করা হয়েছে রঙ্গিন ফোয়ারা যা জামাল খানের সৌন্দর্যকে অনেক খানি বাড়িয়ে দিয়েছে। বসানো হয়েছে লাইভ ফিশ একুরিয়াম( স্ট্রিট একুরিয়াম)। অতি সম্প্রতি দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম কাঁচের তৈরি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। তিনি এলাকার মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবেন। যুবক সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত রাখতে কাজ করবেন। তার এলাকায় জলজট নেই তবে কিছুটা জলাবদ্ধতা আছে। তিনি আশা বাদী সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ ভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের কাজ করছে। এটির বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন করা যাবে। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই জামাল খানকে বিশ্বের একটি আধুনিক ওয়ার্ডে রুপান্তর করবেন। পার্কের আদলে গড়ে তুলবেন পুরো জামাল খানকে। জামাল খানে গড়ে তুলবেন একটি সমন্বিত বার্ড জোন ও একটি পাঠাগার। জামালখান কে তামাক মুক্ত ও ফুটপাত হকার মুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আনসার নিয়োগের পরিকল্পনা ও রয়েছে। তিনি ২১ নং জালাল খানের ওয়ার্ড বাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, তার শৈশব কৈশোর কেটেছে এই জামাল খানে। এই এলাকার সাথে তার আত্মার সম্পর্ক। আপনারা আমার পরম আত্মীয়। তাকে আবারও নির্বাচিত করে আরও একটিবার সুযোগ দেওয়ার জন্য যাতে এলাকাবাসীর সেবা করতে পারেন। সেই সাথে দলীয় নেতা কর্মীদের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তাকে সহযোগিতা করার জন্য। তিনি নির্বাচিত হলে সব সময় সুখে দুঃখে এলাকাবাসীর পাশে থাকবেন। অতীতের মত নিরলস ভাবে কাজ করে যাবেন এবং জনগনের ভালোবাসার প্রতিদান দিবেন। জামালখান বাসী আমরা সবাই একটা পরিবার। আপনারা যদি মনে করেন আমাকে বিগত পাঁচ বছরে আপনাদের কাছে পেয়েছেন তাহলে আমাকে আবার সেবা করার সুযোগ দিবেন। ...

কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রমী মোস্তফা ভুঁইয়া

২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মোঃ মোস্তফা ভুঁইয়া ১৯৫০ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বাস গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ডাঃ মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মাতার নাম মরহুমা রৌশনারা বেগম। তিনি তিন সন্তানের জনক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, আত্মীয়স্বজন সহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি একসময় খাদ্য অধিদপ্তরে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে চাকুরিতে যোগদান করেন। তার চাকুরি জীবন শুরু হয় পাকিস্তানের করাচিতে। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান যা বর্তমানে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী স্বদেশ পার্টিতে যাত্রা শুরু করেন। তিনি আমৃত্যু স্বদেশ পার্টির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজসেবা, জনকল্যাণ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের অধিকার সংগ্রামে জড়িত ছিলেন। তিনি অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা- লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে একজন বলিষ্ট প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি গত ২০২০ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পারি জমান। তার অসংখ্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সহকর্মী শোকাহিত হৃদয়ে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে। তার অভাব পূরণ হবার নয়। তার কর্মীরা এক মূহূর্তের জন্য তাকে ভুলতে পারে না। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, শান্তি, এবং জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি।


ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: শহীদুল হক

স্পেশাল প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের পর খুন হওয়া মেয়েটি জীবিত ফেরার পর পুলিশের তদন্ত এবং রিমান্ডপ্রক্রিয়া আরো একবার প্রশ্নের মুখে। বিরাট প্রশ্ন ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়েও। এসব প্রশ্ন নিয়েই পুলিশের সাবেক আইজি শহীদুল হকের মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউজ একাত্তর একজন স্পেশাল প্রতিনিধি। প্রশ্ন : সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় তিনজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছে, তারাই ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ওই ছাত্রী জীবিত ফিরে এসেছে। পুলিশের পুরো তদন্তব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল না? শহীদুল হক : দেখুন, এখানে যে সঠিক তদন্ত হয়নি তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা হয়তো পুলিশের ভয়েই এটা করেছে। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সত্য তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা যা তা হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বাদীপক্ষের চাপে বা বাদীপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো সুযোগ নিয়ে কাউকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। কাউকে কাউকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে। প্রশ্ন : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে তো জজ মিয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শহীদুল হক : সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে, সরকারের চাপে জজ মিয়ার নাটক সাজানো হয়েছে। ওই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর জন্য দুঃখজনক। তবে মনে রাখতে হবে, ওটা ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ২১ আগস্ট মামলায় প্রথমদিকে যা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ভালো হলে তাঁর ওপর সরকারের চাপ থাকলে প্রয়োজন হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে পারতেন। তা কিন্তু করেননি। দুর্নীতিপরায়ণ দুই-চারজন তদন্ত কর্মকর্তার কারণেই মাঝে মাঝে পুলিশের ওপর দোষ চাপে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমি চাঁদপুরের এসপি পদে থাকার সময় সেখানে একজন ওসি ছিল, মিয়া মো. শরীফ। তাকে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। এক প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলো। কিন্তু সে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে চলে গেল। এরপর একদিন তৎকালীন আইজি মহোদয় আমাকে ফোন করে বললেন, এটা নিয়ে যেন আমি আর কথা না বলি। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। আমি চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি। প্রশ্ন : কিন্তু এ রকম একজন-দুজনের কারণে তো গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপরই দায় চলে আসছে। শহীদুল হক : এক-দুজনের কারণে গোটা বাহিনী কলঙ্কিত হতে পারে না। হয়ও না। দেশের মানুষ সচেতন। তারা সব বোঝে। দেখুন, করোনাভাইরাসের মতো মহামারির সময় এই পুলিশ বাহিনীর কর্মকাণ্ড সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে। জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সবাই দেখছে। পুলিশের এত ভালো কাজের মধ্যে দু-একটি ঘটনা গোটা বাহিনীর সাফল্যকে ম্লান করে দিতে পারে না। প্রশ্ন : প্রতিটি ক্রসফায়ারের ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা সব ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের। সত্যি বললে মানুষের কাছে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। হাসাহাসিই হয় অনেক ক্ষেত্রে। শহীদুল হক : আমি নিজেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাস করি না। কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তবে একটা কথা, আমাদের দেশে মাঝে মাঝে কিছু এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে। এই ক্রসফায়ারের ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে হবে। দেশে অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী ছিল, যাদের গ্রেপ্তার করে রাখা যেত না। কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বড় বড় অপরাধ করত। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে শুরু হয় ক্রসফায়ারের ঘটনা। তখন বড় সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। দেশের মানুষ ওটাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিয়েছে। এভাবে দেখলে, সেই সময় ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আরেকটা কথা, কোনো মামলায় অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর অভিযোগপত্র দেওয়া হয় আদালতে। কিন্তু আদালতে মামলা বছরের পর বছর পড়ে থাকে। বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আরো অপরাধ করে। দেশে যদি দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন হতো এবং আসামিদের যদি জামিন না হতো তাহলে এই ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটত না বল মনে করি। প্রশ্ন : ক্রসফায়ারে নিরীহ মানুষ হত্যার অভিযোগ উঠছে। কখনো কখনো অর্থ নিয়ে বা অর্থের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এমনও আমরা দেখছি... শহীদুল হক : এ রকম দু-একটি ঘটনা যে ঘটছে না তা বলা যাবে না। এ কারণেই তো এটা নিয়ে এত কথা হচ্ছে। আমার কথা হলো, এ রকম নিরীহ মানুষ হত্যা করা হলে জড়িত আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা দরকার। প্রশ্ন : দেখা যায়, আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড়জোর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করার ঘটনা ঘটে। এরপর আর কিছু হয় না। শহীদুল হক : এ কথা সত্য নয়। প্রথামিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত, বেতন কমানো, পদের অবনমন ইত্যাদি ঘটনা ঘটে। এ রকম বহু ঘটনা আছে। যা কখনো মিডিয়ায় আসে না বলেই মানুষ প্রথমটুকুই দেখে মূল্যায়ন করে। পরেরটুকু দেখলে বা মিডিয়ায় এলে মানুষের ভুল ধারণা কেটে যাবে।

ক্ষমতা আর টাকার নিকট জিম্মি প্রিয় রাজনীতি- তসলিম উদ্দিন রানা

৩০ডিসেম্বর,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: এডভোকেট আইয়ুব হোসেন মৃত্যু্ঞ্জয়ী- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ৮২ এর দিকে দাপুটে নেতা ছিলেন।১৯৮৪ সালে শিবিরের সাথে সংঘর্ষ হয় এতে শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে ও তাদেরকে বিতাড়িত করতে গিয়ে শিবিরের ৪ জন নিহত হওয়ার পর এরশাদ সরকার মার্শাল আইনে বিচারের পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে আর সেই মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সংকটময় জীবন যাপন করে।সেই দুঃসময়ে রাজনীতি করতে গিয়ে তার জীবনে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়।সেই দুঃসময়ের কাল অতিক্রম করে এগিয়ে যায়। তারপর প্রাইভেটে লেখাপড়া করেন আর নওগা জেলায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এক সময়ে ৮৮সালের দিকে (সুলতান - রহমান) কমিটি অনুমোদিত নওগা জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ৯৪ সালের দিকে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন।১৯৯৮ সালে ধামরাইহাট ইউনিয়ন বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ও এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ করেন। ৮০,৯০ দশকের জিয়া,এরশাদ স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলন,,৯৬ খালেদা বিরোধী আন্দোলন ও ২০০১,১/১১ আন্দোলন সংগ্রামে আইয়ুবের অনেক অবদান আছে তা ভুলবার নয়।তার পরিবারের দুই ভাই মুক্তিযোদ্ধা আর পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ। এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অতুলনীয়।অনেক সংগ্রাম আর আন্দোলন করে দলকে ক্ষমতায় আনলে তাদের কপালে জুটল না কোন পদবী বা জনপ্রতিনিধি। দেশের সেরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতার পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজের মাধ্যমে নিজ গুণে একবার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হলেও আর কখনো স্থানীয় এমপির দাপটে কোন পদবী এমনকি তার নিজ পৌরসভা ধামরাইহাট দীর্ঘ ১৫ বছর পর নির্বাচন হলে তৃনমুল থেকে তার নাম পর্যন্ত দেয়নি।যার কারণে কেন্দ্রীয় নেতার সুপারিশ নিয়ে নমিনেশন নিলেও ক্ষমতা আর টাকার নিকট পরাজিত হয়ে নমিনেশন পায়নি। ছোট একটা পৌরসভা নওগা জেলার ধামরাইহাট।প্রায় ১৫ বছর যাবত কোন নির্বাচন ছাড়া মেয়র ছিলেন এমপির লোক।সেই ১৫ বছরের জঞ্জাল সরানোর জন্য আদর্শিক ও পরিক্ষীত এডভোকেট আইয়ুব হোসেন মামলা পরিচালনা করে জিতে নির্বাচন করাচ্ছে আর সেই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা স্থানীয় সরকার কমিটির প্রতিটি সদস্যদের কাছে আকুতি মিনতি এমনকি কান্নায় জর্জরিত হয়ে তার রাজনীতির ত্যাগের কথা তুলে ধরলেও নমিনেশন বোর্ড তাকে নমিনেশন দেয়নি।অসহায় হয়ে খালি হাতে বাড়িতে যেতে হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। আজ অবহেলিত ও আদর্শিক যোদ্ধা আইয়ুবের কোন মুল্যায়ন নাই।সব জায়গায় হাইব্রিড,চামচা,ব্যবসায়ী,এমপিলীগের কাজে বন্দী মনোনয়ন।আর কত ত্যাগ করলে জুটবে দলীয় মনোনয়ন সেটা প্রশ্ন আইয়ুবের মত হাজারো রাজনৈতিক পরিক্ষীত ও আদর্শিক কর্মীর?কখন তাদের ভাগ্য আর দলের আদর্শিক যোদ্ধারা মনোনয়ন পাবেসেটা তার প্রশ্ন? আইয়ুব মেয়র প্রার্থী ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতা ও বোর্ডের সদস্যদের নিকট গিয়েছিলেন সামান্য একটা মেয়র হওয়ার জন্য কিন্তু সেই তার ত্যাগের মূল্যায়ন পায়নি।সেখানে দেওয়া হয়েছে দলের নবাগত রাজনীতিক এমপির ঘনিষ্ঠ ভাজন লোক।এমপির বাইরে লোকজন রাজনীতির মাঠে কোন পদে বা দলীয় নমিনেশন দেবে না সেটা সেই দাম্ভিকতার সাথে বলেছে। এমনকি ওয়ার্ড,ইউনিয়ন,উপজেলায় সব জায়গায় তার লোক ভালো পদে অধিষ্ঠিত।কেউ ভয়ে কোন কিছু বলেনা।সেখানে আদর্শিক ও পরিক্ষীত আওয়ামী লীগ খুবই অসহায়। দেখার কেউ নাই।সবাই ক্ষমতার নিকট জিম্মি। আইয়ুবের মত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মেয়র হলে তাদের অসুবিধা।কেননা আইয়ুবের সব বন্ধুরা সচিব,অতিরিক্ত সচিব বা ভালো পদে আছে।প্রশাসনের কর্মকর্তাগন তার নিকট কোন বিষয় নয়।এডভোকেট আইয়ুবের তো শিক্ষিত,ত্যাগী ও আদর্শিক ছাত্রনেতারা মফস্বল এলাকায় নেতৃত্বে আসলে লোকাল প্রশাসন দলীয় নেতা কর্মিকে একটু সমীহ করে চলবে।কারণ -প্রশাসনের কর্তাবাবুরা কোন না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে চাকুরীতে এসেছে।তারা আইয়ুবদের মতো কারো না কারো বন্ধু, বড় ভাই বা ছোট ভাই হবে।কাজ করা তার জন্য খুব সহজ হবে।সব বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে যেতে কোন সমস্যা হবে না।এলাকার উন্নয়ন করতে এমপির প্রয়োজন হবেনা আর জনতার নেতা হবে বলে স্থানীয় এমপি সাহেব ত্যাগী ও আদর্শিক আইয়ুবদেরকে এত ভয় পায়। আইয়ুবদের দলে বা জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে যথাযথ মূল্যায়ন হলে পরিক্ষীত আর আদর্শিক যোদ্ধারা বেশি খুশী হতাম। দলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মাননীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে নতুন উদ্যোমে এগিয়ে যেত।দল সুসংগঠিত হত আর আদর্শ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে আইয়ুবেরা আজীবন কাজ করত। লেখক: তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্র নেতা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা।

আজকের মোট পাঠক

37307

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত