বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

যুক্তরাজ্যে একটি লরি থেকে ৩৯টি মৃতদেহ উদ্ধার

২৩অক্টোবর,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাজ্যের এসেক্সে একটি লরির ভেতর ৩৯টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিনগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এসেক্সের গ্রেসর ওয়াটারগ্লেড ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে একটি লরির ভেতর ওই মৃতদেহগুলো খুঁজে পায় জরুরি বাহিনী। খবর মিররের। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, মৃতদেহগুলোর মধ্যে ৩৮টি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ও একটি একজন কিশোরের। পুলিশ বলছে, তাদের ধারণা ওই গাড়িটি বুলগেরিয়া থেকে এসেছে এবং তিনদিন আগে ওয়েলসের হলিহেড দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে। ওই ৩৯ ব্যক্তিকে হত্যার সন্দেহে ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে উত্তরাঞ্চলীয় আয়ারল্যান্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চিফ সুপারিন্ডেন্ট অ্যান্ড্রু মারিনার বলেছেন, এটা একটা মর্মান্তিক ঘটনা; যে ঘটনায় অনেক মানুষের প্রাণ গেছে। কী ঘটেছে তা জানতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তিনি বলেন, আমরা ভিকটিমদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছি; কিন্তু আমি ধারণা করছি এটা দীর্ঘ একটা প্রক্রিয়া হবে। অ্যান্ড্রু মারিনার বলেন, আমাদের ধারণা ওই লরিটি বুলগেরিয়া থেকে এসেছে এবং শনিবার (১৯ অক্টোবর) হলিহেড দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে এবং আমরা তদন্তের স্বার্থে আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। তিনি বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় আমরা লরিটির চালককে আটক করেছি এবং সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আমি জানি ঘটনাস্থল ঘিরে রাখার কারণে স্থানীয় ব্যবসাপাতি ব্যাহত হবে এবং এই ব্যাঘাত যতদ্রুত সমাধান করা যায় আমরা সেটির চেষ্টা করছি। উল্লেখ্য, লরির ভেতর ৩৯ জনের মৃতদেহ পাওয়ার ঘটনায় নয়টি পুলিশের গাড়ি ও ১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে। ওই এলাকাটি বিপনী কেন্দ্র লেকসাইডের পাশে অবস্থিত।...

জনপ্রিয় নেতা ছিল না বলেই মোদি প্রধানমন্ত্রী: নোবেলজয়ী অভিজিৎ

২২অক্টোবর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, মানুষ নরেন্দ্র মোদিকে ভোট দিয়েছেন। কারণ আর কোনও জনপ্রিয় নেতা ছিলেন না। খবর ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার। তিনি দেশটির এক বেসরকারি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আমার মনে হয় যেকোনো সরকারের কাজের প্রেক্ষিতেই মানুষ ভোট দেয়। মোদি ছাড়া ভোট পাওয়ার যোগ্য কেউ ছিল না মানুষের কাছে। সরকারি দল নীতির ফলে নির্বাচনে জয়ী হয়, এমন তত্ত্ব মানতে নারাজ অভিজিৎ। তিনি বলেন, মোদি জিতেছেন বলে তার নেয়া সব সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। তবে মোদির জনপ্রিয়তার কৃতিত্ব স্বীকার করেন তিনি। কংগ্রেসের সমালোচনা করে এই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ বলেন, দেশে এখন প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেস বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দুর্বল। দেশে এই মুহূর্তে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের খুব প্রয়োজন। অমর্ত্য সেনের পর এই নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদকে নিয়েও নোংরা খেলায় মেতেছে বিজেপি। তবে এতে নিজের মনের মতামত প্রকাশ করতে একটু দ্বিধা বোধ করছেন না অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।...

গাদ্দাফি হত্যায় হাত ছিল ফ্রান্সের, ৩ হাজার ইমেইল ফাঁস

২১অক্টোবর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিবিয়ার সাবেক একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফি হত্যার ঘটনায় ফ্রান্সের হাত ছিল বলে জানা গেছে। আরবি দৈনিক রাই আল-ইয়াওম জানিয়েছে, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের কাছে পাঠানো তিন হাজার গোপন ইমেইল থেকে এ বিষয়টি ফাঁস হয়। হিলারি ক্লিনটনের কাছে পাঠানো ইমেইলগুলোতে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি পাঁচটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে ন্যাটোর মাধ্যমে লিবিয়ায় হামলা চালিয়েছিলেন। লক্ষ্যগুলো হচ্ছে- লিবিয়ার তেল সম্পদের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, উত্তর আফ্রিকার সাবেক উপনিবেশগুলোতে ফ্রান্সের প্রভাব ধরে রাখা, সারকোজির আঞ্চলিক সুনাম বাড়ানো, ফ্রান্সের সামরিক শক্তিমত্তা প্রদর্শন এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে গাদ্দাফির প্রভাব ক্ষুণ্ন করা। ওই তিন হাজার ইমেইল ২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে পাঠানো হয়েছিল। ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে গণঅভ্যুত্থান হয় এবং এর জের ধরে কয়েকটি দেশের সরকারের পতন ঘটে। উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজি থেকে গাদ্দাফি সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু হয়। এ সময় গাদ্দাফি ওই আন্দোলন দমন করতে বেনগাজির দিকে যে বিশাল সামরিক বহর পাঠান বিমান হামলা চালিয়ে সে বহরকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় ন্যাটো বাহিনী। এর ফলে গাদ্দাফি সরকারের ওপর যে আঘাত আসে তা সামলে ওঠা ত্রিপোলির পক্ষে সম্ভব হয়নি এবং এর জের ধরে সরকারের পতন ও গাদ্দাফি বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে ধরা পড়ে নিহত হন। দৃশ্যত গণ অভ্যুত্থানে গাদ্দাফি সরকারের পতন হলেও এ ঘটনায় মূল অনুঘটকের কাজটি ন্যাটো জোট করে দেয় যে জোটের নামে মূল হামলাটি চালিয়েছিল ফ্রান্সের সেনাবাহিনী। ...

ফেসবুকের বিরুদ্ধে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের মামলা

২০অক্টোবর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের ক্লাস-অ্যাকশন মামলা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের ফেসিয়াল রিকগনিশন ডাটার অপব্যবহারের কারণে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরেই মামলাটি এড়ানোর চেষ্টা করছিল ফেসবুক। ব্যবহারকারীদের অনুমতি ছাড়া বায়োমেট্রিক ডাটা সংগ্রহ করে ফেসবুক রাজ্যের বায়োমেট্রিক ইনফরমেশন প্রাইভেসি অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ করে ২০১৫ সালে ওই আইনি লড়াই শুরু হয়। তবে ফেসবুকের পক্ষ থেকে মামলাটি বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সানফ্রান্সিসকোর তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল ফেসবুকের ওই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে ফেসবুক যদি এখন সুপ্রিম কোর্টে না যায়, তবে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের ক্লাস-অ্যাকশন মামলাটির শুনানি শুরু হবে। অভিযোগে বলা হয়, নিজেদের ট্যাগ সাজেশন্স ফিচারের মাধ্যমে ফেসিয়াল রিকগনিশন ডাটার অপব্যবহার করেছে ফেসবুক। এই ফিচারের মাধ্যমে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী তার বন্ধুকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ইলিনয়ের বাসিন্দারা তাদের আপলোড করা ছবি ফেসিয়াল রিকগনিশনের মাধ্যমে স্ক্যান করার অনুমতি দেয়নি এবং ওই ডাটা কতটুকু সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা হবে, সেটিও তাদের জানানো হয়নি। ২০১১ সালে ফেসবুক তাদের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে। তখন প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, ফেসবুক বন্ধুদের শনাক্ত করতে এটি কাজে লাগবে। ফেসবুক এ মামলায় হেরে গেলে ব্যক্তিপ্রতি এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ৭০ লাখ ব্যবহারকারীকে এ জরিমানা দিতে হলে তাদের পকেট থেকে সাড়ে তিন হাজার ডলার খসবে। ...

২৪ অক্টোবর চুনতির শাহ ছাহেব কেবলার ওফাত দিবসের দোয়া মাহফিল

২৩অক্টোবর,বুধবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,নিউজ একাত্তর ডট কম:দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির ঐতিহাসিক ১৯ দিনব্যাপী সীরতুন্নবী (সা:) মাহফিলের প্রবর্তক, অলিকুলের শিরমনি হযরত মাওলানা শাহ হাফেজ আহমদ (প্রকাশ শাহ ছাহেব কেবলা) (রহ.) এর ৩৭তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে আজ (২৪ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার বাদে আসর হতে ঐতিহাসিক সীরত ময়দানে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে দেশ-বরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ, ওলামা মাশায়েখ, লেখক-গবেষক সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। এতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের উপস্থিতি কামনা করেছেন শাহ ছাহেব কেবলা (রহ.) এর দৌহিত্র ও মাহফিল মোতোওয়াল্লী কমিটির সভাপতি মাওলানা হাফিজুল ইসলাম আবুল কালাম আজাদ ও মাওলানা আব্দুল মালেক ইবনে দিনার নাজাত। ...

নিরাপদ সড়ক দিবসকে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজে লাগানোর দাবী

২২অক্টোবর,মঙ্গলবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,নিউজ একাত্তর ডট কম:নিরাপদ সড়ক দিবসকে সামাজিক গণজাগরণ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ সড়কে প্রাণ দিচ্ছে, আহত হচ্ছে। তাদের সুরক্ষা দিতে এই দিবসটি অন্যান্য জাতীয় দিবসের ন্যায় গতানুগতিকভাবে একদিন পালন না করে, নিরাপদ সড়ক দিবসকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, নিরাপদ সড়ক ব্যবহার সংক্রান্ত আলোচনা সভা, মসজিদ-মন্দির-গীর্জায় সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা সংক্রান্ত আলোচনাসহ দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সমাজের সকল স্তরে নিরাপদ সড়কের বার্তা পৌঁছে দেওয়া গেলে দিবসটি ঊদযাপনের সুফল পাওয়া যাবে বলে দাবী করেছেন তিনি। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পর্যবেক্ষণে মতে, ২০১৫ সাল থেকে সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বিগত ৪ বছরে ২১,৩৮৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯,৩১৫জন নিহত ও ৬৯,৪২৮জন আহত হয়েছে। তবে সংগঠিত দুর্ঘটনার সিংহভাগই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় না। যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিগত ২০১৫ সালে ৬,৫৮১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮,৬৪২জন নিহত ২১,৮৫৫জন আহত হয়েছে। ২০১৬ সালে ৪,৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬,০৫৫ জন নিহত ১৫,৯১৪ জন আহত হয়েছে। ২০১৭ সালে ৪,৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭,৩৯৭জন নিহত ১৬,১৯৩ জন আহত হয়েছে। ২০১৮ সালে ৫,৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭,২২১ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ১৫,৪৬৬ জন। বিগত ০৪ বছরে সংগঠিত সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বমোট ৩১,০৯৪টি যানবাহন আক্রান্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২১.৩৩ শতাংশ বাস, ২১.১৮ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৬.৮৭ শতাংশ কার-জীপ-মাইক্রোবাস, ১৪.২৫ শতাংশ অটোরিক্সা, ১৮.৩৩ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৯.১৮ শতাংশ ব্যাটারী চালিত রিক্সা, ৮.৮৩ শতাংশ নছিমন করিমন ও ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণকালে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান সরকারের সময়ে সড়ক-মহাসড়কে উন্নয়নের ফলে যানবাহণের গতি বেড়েছে, এই সময়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালানো এবং বিপদজনক অভারটেকিং বেড়ে যাওয়ার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। আয়তন ও জনসংখ্যার ঘনত্বের তুলনায় বাংলাদেশে যেভাবে ছোট যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দুর্ঘটনা ও যানজট নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে। ২০২১ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে জাতিসংঘের অনুস্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সড়কে পথচারীর মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই অঙ্গীকার নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে মনে করে সংগঠনটি। ...

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল পুকুরে, দুই আরোহী নিহত

২২অক্টোবর,মঙ্গলবার,কুষ্টিয়া প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন আরেকজন। খোকসা থানার ওসি এবিএম মেহেদী মাসুদ জানান, মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গোসাইডাঙ্গী এলাকায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তারা হলেন- কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ কল্যাণপুর গ্রামের শামসুদ্দীনের ছেলে মো. জিয়া (৪০) এবং বড় মাঝগ্রামের কেরামত সরদারের ছেলে মো. হাসান (৩০)। মোটরসাইকেলের অপর আরোহী খোর্দবন গ্রামের এসকেন সরদারের ছেলে শফিকে (৪০) গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। ওসি মেহেদী মাসুদ জানান, জিয়া, হাসান ও শফি একসঙ্গে ব্যবসা করেন। রাতে তারা এক মোটরসাইকেলে করে কুমারখালীর শিলাইদহ থেকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর বাজারে যাচ্ছিলেন সার্কাস দেখতে। খোকসার গোসাইডাঙ্গী জব্বার মোড় এলাকায় তাদের মোটরসাইকেল রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই জিয়ার মৃত্যু হয়। পরে পুকুর থেকে হাসানকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। আর আহত শফিকে নেয়া হয় হাসপাতালে।...

বোমা মনে করে সারারাত লাগেজ পাহারা, সকালে মিললো হাত-পা কাটা মরদেহ

২১অক্টোবর,সোমবার,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম ব্রিজের কাছে রেখে যাওয়া লাগেজের ভেতর থেকে হাত-পা ও মাথাবিহীন যুবকের দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অজ্ঞাতনামা যুবকের বয়স আনুমানিক ২৫-৩০ বছর। পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, নগরীর পাটগুদাম ব্রিজের কাছে গতকাল সকাল থেকে সারাদিন লাল রঙের একটি লাগেজ পড়ে থাকতে দেখে সন্ধ্যায় ট্র্যাফিক পুলিশের এক সদস্য পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। বোমা সন্দেহে সোমবার রাত আটটা থেকে লাগেজটিকে ঘিরে রাখে পুলিশ ও Rab। খবর দেওয়া হয় বোম ডিসপোজাল টিমকে। পরে সোমবার সকাল নয়টার দিকে ঢাকা থেকে বোম ডিসপোজাল ইউনিট এসে লাগেজ থেকে হাত-পা ও মাথাবিহীন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে হত্যার পর খণ্ডিত করে মরদেহটি লাগেজের ভেতর রেখে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। হত্যাকারীদের ধরার জন্য পুলিশ কাজ করছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে রাতেই ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি এবং Rab সিইও লে. কর্নেল ইফতেখার উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ...

ভোলায় পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে নিহত ৪

২০অক্টোবর,রবিবার,ভোলা প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিপ্লব বিশ্বাস নামে এক যুবককে আটক করে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ। এ ঘটনার জেরে রোববার সকাল ১০টার দিকে এলাকাবাসী বোরহানউদ্দিন থানা ঘেরাও করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ জন নিহত হন। আহতদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৩ জনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।...

অর্থনীতিতে নোবেল জিতলেন বাঙালিসহ ৩ জন

১৫অক্টোবর,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন এক বাঙালিসহ তিন অর্থনীতিবিদ। বৈশ্বিক দারিদ্র্য লাঘবে অবদান রাখায় তাদের ২০১৯ সালের নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। সোমবার স্টকহোমে দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে। নোবেল বিজয়ী তিন অর্থনীতিবিদ হলেন- অভিজিত ব্যানার্জি, এস্তার দুফলো এবং মাইকেল ক্রেমার। এদের মধ্যে অভিজিত ব্যানার্জি ও এস্তার দুফলো স্বামী-স্ত্রী। নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দারিদ্র্য লাঘবে পরীক্ষামূলক গবেষণার কারণে অভিজিত ব্যানার্জি, এস্তার দুফলো এবং মাইকেল ক্রেমারকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ৫৮ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিজিত বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন ও ড. মুহম্মদ ইউনুসের পর চতুর্থ বাঙালি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেলেন কলকাতায় জন্ম নেয়া অভিজিত ব্যানার্জি। অভিজিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। তিনি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। অভিজিতের সঙ্গেই নোবেল পেয়েছেন তার স্ত্রী মার্কিন অর্থনীতিবিদ এস্তার দুফলো। তিনি ফরাসি বংশোদ্ভূত। দ্বিতীয় নারী অর্থনীতিবিদ হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন তিনি। সর্বকনিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়ার কৃতিত্বও দেখালেন দুফলো। বর্তমানে তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। দুফলো এমআইটি থেকে পিএইচডি করেন। এদিকে ৫৫ বছরের মাইকেল ক্রেমার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। সোমবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পাওয়া তিনজনের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছর নোবেল পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়। প্রাণিকোষ কীভাবে অক্সিজেনের উপস্থিতি বোঝে এবং এর সঙ্গে মানিয়ে নেয় সে বিষয়টি আবিষ্কারের জন্য এ বছর চিকিৎসা বিজ্ঞানেও তিনজন যৌথভাবে নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন– যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী উইলিয়াম কায়েলিন ও গ্রেগ সেমেনজা এবং যুক্তরাজ্যের পিটার র‌্যাটক্লিফ। মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয় পদার্থে এ বছর নোবেলজয়ীদের নাম। পদার্থ বিজ্ঞানেও এ বছর তিনজন নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন– কানাডিয়ান-আমেরিকান বিজ্ঞানী জেমস পিবলস এবং সুইস বিজ্ঞানী মিচেল মেয়র ও দিদিয়ের কুইলজ। কসমোলজি নিয়ে গবেষণার জন্য তাদের নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। বুধবার রসায়নে এ বছর নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন– যুক্তরাষ্ট্রের জন গুডেনাফ, যুক্তরাজ্যের স্ট্যানলি হুইটিংহাম ও জাপানের আকিরা ইয়োশিনো। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির উন্নয়ন ঘটিয়ে নোবেল পেয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীদের নাম। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদান স্থগিত থাকায় গত বছরেরটিসহ এ বছর সাহিত্যে দুটি নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। পোলিশ লেখক ওলগা তোকারচজুক ২০১৮ সালের জন্য এবং পোলিশ লেখক পিটার হান্দকে এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। শুক্রবার শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি। ২০১৮ সালের এপ্রিলে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করা ৪৩ বছর বয়সী আবি আহমেদ শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জনে প্রচেষ্টার জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ...

সেবাখাতে রফতানি আয় ৫৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার

০৩অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশের সেবাখাতে রফতানি আয় এসেছে ৫৩ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। বৃহস্পতিবার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য ওঠে এসেছে। ইপিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংগ্রহকৃত পরিসংখ্যান থেকে মোট তিনটি ভাগে সেবাখাতে রফতানি আয়ের সংকলন করা হয়েছে। এ তিনটি ভাগ হলো গুডস প্রকিউরড ইন পোর্টস বাই ক্যারিয়ারস, গুডস সোল্ড আন্ডার মার্চেন্টিং ও সার্ভিসেস। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে দেশসেবা রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল ৭০ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে প্রথম মাসে এ খাত থেকে আয় করেছে ৫৩ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সেবা রফতানি কম হলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কিছুটা বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে সেবা রফতানির আয়ের পরিমাণ ছিল ৫১ কোটি ৪০ লাখ। এ হিসাবে আগের বছরের তুলনায় এবার এ খাতে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১২ মাসে সেবা রফতানি করে দেশ আয় করে ৬৩৩ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরে সেবা রফতানির প্রবৃদ্ধি ভালো ছিল। এর ধারাবাহিকতায় চলতি পুরো অর্থবছরে সেবা রফতানির আয়ের লক্ষ্য ৮৫০ কোটি ডলার ঠিক করেছে সরকার। কিন্তু প্রথম মাসেই সেবা রফতানিতে হোঁচট খেল দেশ। রফতানির এ আয়ের মধ্যে সরাসরি সেবাখাত থেকে এসেছে ৫২ কোটি ৬২ লাখ ডলার। বাকিটা দেশের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কেনা পণ্য ও সেবা এবং মার্চেন্টিংয়ের অধীনে পণ্য বিক্রির আয়। সেবার অন্য উপখাতগুলোর মধ্যে ‘অন্যান্য ব্যবসায় সেবা’ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে চার কোটি ৫১ লাখ ডলার, বিভিন্ন ধরনের পরিবহন সেবা থেকে চার কোটি ৮৭ লাখ ডলার, ভ্রমণ সেবা উপখাত থেকে চার কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং বীমা ছাড়া আর্থিক সেবা খাত থেকে ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার রফতানি আয় হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া সেবাপণ্যের মধ্যে রয়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং সার্ভিসেস অন ফিজিক্যাল ইনপুটস, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার, ট্রান্সপোর্টেশন, কন্সট্রাকশন সার্ভিসেস, ইনস্যুরেন্স সার্ভিসেস, ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, চার্জেস ফর দ্য ইউজ অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি, টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিসেস, আদার বিজনেস সার্ভিসেস, পার্সোনাল-কালচার-রিক্রিয়েশনাল ও গভর্নমেন্ট গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস।...

ঢাবির ক- ইউনিটে পাসের হার ১৩.০৫ শতাংশ

২০অক্টোবর,রবিবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবছর ক ইউনিটে সমন্বিতভাবে পাসের হার মোট পরীক্ষার্থীর ১৩.০৫ শতাংশ। পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক অংশে পাস করেছে ২৫ হাজার ৯২৭ জন। আর নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত অংশে সমন্বিতভাবে পাস করেছে ১১ হাজার ২৭ জন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান রোববার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কেন্দ্রীয় ভর্তি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই ফলাফল প্রকাশ করেন। এবছর 'ক' ইউনিটের ১ হাজার ৭৯৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করে ৮৮ হাজার ৯৯৬ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ৮৫ হাজার আটশত ৭৯ জন পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।...

আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিসিআইর দায়িত্ব নিলেন সৌরভ

২৩অক্টোবর,বুধবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কয়েকদিন আগে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) নাটকীয় মোড়েই সভাপতি হওয়া প্রায় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল সৌরভ গাঙ্গুলির। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন প্রিন্স অব কলকাতা খ্যাত সাবেক এই ক্রিকেটার। বুধবার মুম্বাইয়ে বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে এই সভাপতির দায়িত্বটি বুঝে নেন সৌরভ। প্রথমে ব্রিজেশ প্যাটেলের নাম ঠিক হলেও পরে জানা যায় ভারত জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কই বোর্ডের সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন। আর বাস্তবে সেটাই হলো। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহর ছেলে জয় শাহ হলেন বোর্ডের নতুন সচিব। সহসভাপতি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহিম বর্মা। সাবেক বোর্ড প্রেসিডেন্ট অনুরাগ ঠাকুরের ছোট ভাই অরুণ সিং ধামাল হয়েছেন নতুন কোষাধ্যক্ষ। এদিকে যুগ্মসচিব হয়েছেন জয়েশ জর্জ। ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই সংস্থার নতুন প্রতিনিধিদের বেছে নিতে কোনও নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি। কোনওরকম বিরোধিতা ছাড়াই এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারা। যদিও ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্তই বিসিসিআইর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন সৌরভ। কারণ দায়িত্ব নেয়ার আগে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) সভাপতি ছিলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই তাকে কুলিং পিরিয়ডে যেতে হবে। বিসিসিআইর নিয়ম নিয়ম অনুযায়ী, ছয় বছরের বেশি ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কোনও পদে থাকা যায় না। সে হিসেবে ১০ মাস পর প্রশাসক হিসেবে সিএবি ও বিসিসিআইর মেয়াদ শেষ হবে সৌরভের। ২০১৫ সালে জগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যুর পর সিএবি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন সৌরভ।...

আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না, এমন হতে পারে: পাপন

২২অক্টোবর,মঙ্গলবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘট ডাক দেয়ায় অবাক হয়ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ক্রিকেটারদের এমন আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার বোর্ড সভার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কাল টিভিতে দেখলাম, পত্র-পত্রিকায় দেখলাম, খেলোয়াড়রা কিছু দাবি-দাওয়া দিয়েছে এবং খেলা থেকে ধর্মঘটে গেছে। আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এমন হতে পারে। আমি আসলে বিস্মিত। ভারত সফরের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর শুরু হচ্ছে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। তার আগেই সোমবার সব ধরনের ক্রিকেট না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে পাপন বলেন, ক্যাম্প শুরু হচ্ছে, খেলোয়াড়েরা যদি যোগ দেয় তো দেবে, নয়তো দেবে না। ক্যাম্পে যদি যোগ না দেয়। তাহলে কিছু করার থাকবে না। হ্যাঁ, ওরা বসতে চাইলে আমরা রাজি আছি। ক্রিকেটাদের না খেলার সিদ্ধান্তে ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। এমটাই দাবি পাপনের। বিসিবি প্রধান বলেন, আমাদের কাছে দাবি না তুলে তারা যে উদ্দেশ্যে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরলো, সে উদ্দেশ্যে আপাতত তারা সাকসেস। এসিসি-আইসিসি (এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল-আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) থেকে শুরু করে সবাই ফোন করে বলছে, বাংলাদেশের ক্রিকেট নষ্ট হয়ে গেছে। তার মানে, বাংলাদেশের ইমেজ এবং ক্রিকেটের ইমেজ নষ্ট করতে সফল হয়েছে তারা।...

অনুষ্ঠিত হলো ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস- বিবিএফএ

২২অক্টোবর,মঙ্গলবার,মো:ইরফান চৌধুরী,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হলো ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস (বিবিএফএ) এর আসর। সোমবার সন্ধ্যায় বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী মিলনায়তনে শুরু হয় দুই বাংলার চলচ্চিত্রের এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ও বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে এ পুরস্কার অনুষ্ঠানটি নিবেদন করেছে টিএম ফিল্মস। দুই বাংলার চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের এ মহাসম্মেলনের মাধ্যমে কাজের স্বীকৃতি জানানো হয় চলচ্চিত্রজনদের। সেরা চলচ্চিত্রে পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের দেবী ও ভারতের নগর কীর্তন। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার পেল বাংলাদেশের পাসওয়ার্ড ও ভারতের দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন। জনপ্রিয় নায়িকা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও বাংলাদেশের পরীমনি। সেরা প্রধান চরিত্রে অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের জয়া আহসান ও ভারতের পাওলি দাম। সিনেমার প্রধান চরিত্রের জন্য সেরা অভিনেতা হয়েছেন বাংলাদেশের সিয়াম ও ভারতের প্রসেনজিৎ। পপুলার অ্যাকটর অব দ্য ইয়ার বাংলাদেশের শাকিব খান ও ভারতের জিৎ। শ্রেষ্ঠ পরিচালক হয়েছেন বাংলাদেশের নাসির উদ্দিন ইউসুফ ও ভারতের সৃজিত মুখার্জি। অনুষ্ঠানে সেরা স্ক্রিপ্ট রাইটার পুরস্কারে ভূষিত হন বাংলাদেশের ফেরারী ফরহাদ ও ভারতের পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সেরা সিনেমাটোগ্রাফারের পুরস্কার পান বাংলাদেশের কামরুল হাসান খসরু ও ভারতের গৈরিক সরকার। ভিডিও এডিটর হিসেবে বাংলাদেশের তৌহিদ হোসেন চৌধুরী ও ভারতের সংলাপ ভৌমিক। সেরা মিউজিক ডিরেক্টর বাংলাদেশের হৃদয় খান ও ভারতের বিক্রম ঘোষ। সেরা প্লে-ব্যাক গায়ক (পুরুষ) ইমরান ও ভারতের অনির্বান ভট্টাচার্য। সেরা প্লেব্যাক গায়িকা বাংলাদেশের যৌথভাবে সোমনুর মনির কোনাল ও ফাতেমাতুজ জোহরা ঐশী ও ভারতের নিকিতা নন্দী। সেরা পার্শ্ব চরিত্রাভিনেতা বাংলাদেশের ইমন ও ভারতের অর্জুন চক্রবর্তী। সেরা পার্শ্ব চরিত্র অভিনেত্রী বাংলাদেশের জাকিয়া বারী মম ও ভারতের সুদীপ্তা চক্রবর্তী। বিশেষ জুরি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশের তাসকিন রহমান ও বিদ্যা সিনহা মীম এবং ভারতের রুদ্র নীল রায় ঘোষ ও আবীর চ্যাটার্জি এবং নবনী। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ভারতের জি-বাংলা ও বাংলাদেশের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল এটিএন বাংলা ও গানবাংলা টেলিভিশন। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে ওয়ান মোর জিরো। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন কলকাতার মীর আফসার আলী ও গার্গি রায় চৌধুরী। ওপার বাংলার রনজিৎ মল্লিক ও প্রসেনজিৎ থেকে শুরু করে হালের ক্রেজ জিৎ, আবির চ্যাটার্জি, পরমব্রত, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, পাওলি দাম, নিকিতা গান্ধি, অনির্বান, কৌশিক গাঙ্গুলি, দেবজ্যোতি মিশ্র, ইন্দ্রজিৎ সেনগুপ্ত ও বাংলাদেশের জয়া আহসান, পরীমনি, পূজা চেরি, নুসরাত ফারিয়া, বিদ্যা সিনহা মীম, মৌসুমী, ওমর সানী, ইমন, নীরবসহ অনেক তারকাই উপস্থিত ছিলেন এই আয়োজনে। এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান, ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সভাপতি ফেরদাউসুল হাসান ও বিবিএফএ এর সমন্বয়ক তপন রায়, পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা গৌতম ঘোষ, পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকমন্ত্রী ব্রাত্য বসু, টিএম ফিল্মসের চেয়ারপারসন ফারজানা মুন্নী। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম ও ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন যথাক্রমে গৌতম ঘোষ ও প্রসেনজিৎ। ...

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বললেন মেহজাবিন

২১অক্টোবর,সোমবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ছোট পর্দার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরীর সঙ্গে বিজ্ঞাপন নির্মাতা আদনান আল রাজীবের ঢাকার শপিং মলের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে তাদেরকে পাশাপাশি হাত ধরে হাঁটতে দেখা যায়। এমনিতেই মেহজাবিন-আদনানের প্রেম নিয়ে শোবিজে গুঞ্জন আছে। আর এই ভিডিও দেখার পর অনেকেই দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানোর চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু সেসব জল্পনা উড়িয়ে দিলেন মেহজাবিন। হাত ধরার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে মেহ্জাবিন বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি। ভক্তদের কেউ সেখান থেকে ভিডিওটি করে হয়তো ইউটিউবে আপলোড করেছে। জানেন বন্ধুদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাঁটতে চেষ্টা করি। পেছনে যাতে না পড়ে যাই, তাই হাত ধরে হাঁটি। দুজনের মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইলে মেহ্জাবিন বলেন, যেদিন আমার বিয়ে হবে সবাইকে জানিয়েই করব। তার আগে এটা নিয়ে কোনও কথা বলব না। ভিডিওতে তো সবই আছে। আমি একজন মানুষের হাত ধরেছি। আশপাশে অনেক মানুষ, তাই হাত ধরেছি। টেলিভিশন মিডিয়ার হালের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন তারকা মেহজাবিন। নিয়মিত চলচ্চিত্রেও কাজের অফার আসছে তার কাছে। মনের মতো চরিত্র পেলেই তিনি সিনেমায় কাজ করবেন বলে জানান। ...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

আমি কি আমার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবো না?

০৫অক্টোবর,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা দেশের গর্ভ এবং রতoe এই কথাটি সরকার এবং দেশের সকলে স্বীকার করেন। কিন্তু এখনো আমরা দেখি যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ গ্রহন করে যুদ্ধ করেছেন এবং শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকে এখনো তাদের সম্মান ও স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। যদিও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অসংখ্য ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা স্থান নিয়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন বিভিন্ন মহলে,বর্তমান সরকার এই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে ইতি মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে গনমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। কে শুনে কার কথা স্বাধীনতা সংগ্রামে স্বামীকে হারিয়ে নুর জাহান বেগম তার ছেলে মেয়েকে নিয়ে অনাহাওে অতিব দুঃখে কষ্টে ছেলে মেয়েকে বড় কওে আজ সে সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় ধর্না দিচ্ছেন। শুধু মাত্র তার স্বামীর শহীদের স্বীকৃতি অর্জনের জন্য। ফেনী জেলার ডমুরুয়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিন আহম্মদের পুত্র এ এস এম মহি উদ্দিন আহাম্মদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে রেলওয়েতে চট্টগ্রাম সি.আর,বি তে নিরাপত্তা প্রহরী (আর.এন.বি) পদে চাকুরীরত অবস্থায় স্বাধীনতার ডাকে ৮ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সি.আর.বি তে সম্মুখ যুদ্ধে নিহত হন। তার আর.এন.বি নং:- ই-ডব্লিউ/ম্যান সিরিয়াল নং: ৪২২৩ (সি.এম.ডব্লিউ/সি.আর.বি/আর.এন.বি)। বাংলাদেশ রেলওয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার সম্মিলন পরিষদ কর্তৃক গত- ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে সংবর্তি নামক ম্যাগাজিনে ১৬৪ নং ক্রমিকে শহীদ এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহমদ এর নাম লিপি রয়েছে। এবং রেলওয়ে লিস্ট নং: ০৬ এর-৭২৯ নং এ ও এই শহীদের নাম রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের পর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তান নামক ব্যাংকের মাধ্যমে শহীদ এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মদের স্ত্রী নুর জাহান বেগমকে ২,০০০/০০ টাকা (দুই হাজার টাকা) প্রদান করে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত- ২৪ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে ঢাকা রেলওয়ে ষ্টেশন চত্বরে কমলাপুরে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রেলকর্মীদের স্বরনে স্মৃতিসৈৗধ সূর্যকেতন নামক যে স্মৃতিসৈৗধ নির্মান করেছেন সে খানে ও লিখিত ও উল্লেখিত ৩০ নং শহীদ ব্যক্তি হিসেবে স্থান পেয়েছেন এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মদের নাম। এই শহীদের স্ত্রী নুর জাহান বেগম তৎ কালিন (১৯৬৯) জাতীর জনকের নির্বাচনে তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তার বাবার বাড়ী সিতাকুন্ড এলাকায় নির্বাচনী এজেন্ট ও ছিলেন। বর্তমানে নুর জাহান বেগম তার স্বামী শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি ইতিমধ্যে- ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বও মহাব্যবস্থাপক (পর্ব) বাংলাদেশ রেলওয়ে সি.আর.বি চট্টগ্রাম- ২০১৮ সালের ৭ আক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একই সালের ৮ আক্টোবর ও চলিত বছরের ১৩ মার্চ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্বাক্ষাত চেয়ে এবং তার স্বামীকে শহীদের তালিকায় লিপি করার উদ্যেশ্যে আবেদন করে ও ব্যার্থ হয়েছেন নুর জাহান বেগমের স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তালিকায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবীদার মর্মে ফেনী জেলার ২নং পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মানিক ও ফেনী-০২ এর বর্তমান সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী প্রত্যায়ন পত্র দিয়েছেন। উক্ত বিষয়ে বর্তমানে অসুস্থ ও ৭৫ বছর বয়স্ক নুর জাহান বেগম বলেন,আমি চরম অনিশ্চয়তা এবং আশংকার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি যে,আমি জীবিত অবস্থায় আমার স্বামীর শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে দেখে যেতে পারবো কি না। আমার একটি মেয়ে খোদেজা ভূইয়া ও একটি ছেলে মোঃ মাইন উদ্দিন তাদের বাবার এই সম্মান টুকু তারা আদৌ পাবে কি না। আমি বর্তমান খুবই অসুস্থ। আমি মনে করি আমার এই চরম দুর্দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাত করতে পারলে বা তার সাহায্য ও সহযোগীতা পেলে আমার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি আমার এই দূরবস্থার পরিবর্তন হবে। আমার একমাত্র ছেলে বর্তমানে বেকার,বেচেঁ থাকার যে টুকু অবলম্ভন ছিলো তাও নেই। আমি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর কাছে আকুল আবেদন করছি,যেন মরে যাবার আগে অন্তত আমার স্বামীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি টুকু প্রদান করা হয়। ...

উপড়ে ফেলতে হবে-কিশোর গ্যাং

২৯সেপ্টেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশজুড়ে মফস্বল শহর ও নগর কেন্দ্রিক কিশোর অপরাধ বেড়েই চলেছে। এসব অপরাধীদের অঘোষিত সাংগঠনিক রূপ কিশোর গ্যাং। কথিত বড় ভাইয়েরা এ গ্যাং এর মূল নিয়ন্ত্রক ও শক্তি। এ কিশোর গ্যাং ইতিমধ্যেই এত বেশী ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে যে তুচ্ছ ঘটনায় নিজের সহপাঠী বা বন্ধুকে অথবা প্রতিপক্ষকে তারা হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। দিন দিন কিশোর গ্যাং এর বিস্তার ঘটছে। খুন খারাবি থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা, ইভটিজিং অপহরণসহ নানারকম অসামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাং। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কথিত বড় ভাইদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে এলাকা ভিত্তিক গড়ে উঠেছে ছোট বড় শতাধিক কিশোর গ্রুপ। এসব গ্রুপের বেশিরভাগ সদস্যদের বয়স ১৮ থেকে ২১ বছরের মধ্যে । কথিত বড় ভাইদের প্রশ্রয়েই বিপথগামী হচ্ছে এসব কিশোর উঠতি যুবকেরা। বড় ভাইয়েরা এসব কিশোরদের হাতে তুলে দিচ্ছেন অবৈধ অস্ত্র এবং অপরাধ জগতে পা বাড়াতে উৎসাহ দেন। তাদের হাতে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হন সমাজের নিরীহ নারী পুুরুষ। সম্প্রতি কমনওয়েলথ কর্তৃক তৈরি গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ইন ডেক্সে বলা হয়েছে বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নয়। উঠতি বয়সি অনেক কিশোর-কিশোরী হঠাৎ করে এবং কিভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে যায়। এ বিষয় নিয়ে মনোবিজ্ঞানী ও সমাজ বিজ্ঞানীদের অনেক ভালো বিশ্লেষণ রয়েছে। আমাদের মতে বল্গাহীনভাবে ফেসবুক ব্যবহার। মোবাইল ফোনের আধিপত্য, বিকট শব্দে বাইক চালা, পাশ্চাত্য ঢং এ চলাফেরা, ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের প্রভাব ও মা বাবার কম নজরদারী কিশোরদের অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে যাওয়ার মূল কারণ। কিশোর অপরাধের মূলে রয়েছে অনেক কারণ। জ্ঞানের সংস্পর্শে বিদ্যালয়ের পরিবেশে ভালো বন্ধুর সাহচার্য একটি শিশু বা কিশোরদের ভালোভাবে বেড়ে উঠায় সাহায্য করে। তবে কিশোর অপরাধ রোধে মা বাবার ভূমিকাটাই বড়। ছেলেমেয়ে কোথায় যাচ্ছে কার সংগে মিশছে টিভিতে, মোবাইল ফোনে, কম্পিউটারে কি দেখছে, পড়াশোনা করছে কিনা ক্লাস ফাঁকি দিচ্ছে কিনা এসব দেখার দায়িত্ব বড়দের। সবাই কি তা পালন করছেন? অনেক অভিভাবক সুরম্য অট্টালিকা বানাতে, নিজেদের ব্যবসায় চিন্তা করে করে দিন রাত ব্যস্ত থাকে। বিদেশে শিক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া, নিজেরা কেউ কেউ অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা করে। কিশোরদের হাতে দামি দামি সাইকেল, মোটর সাইকেল দিয়ে চেঁচিয়ে বেড়ায় উচ্ছেন্নে গেল বলে? অঢেল অর্থও অনেক শিশু কিশোরকে বেপরোয়া করে তুলছে। যার প্রমাণ ভুরি ভুরি। আশার কথা, বেপরোয়া গ্যাং কালচার রুখে দেয়ার উদ্যোগের কথা বলছেন-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট সজাগ ও কঠোর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই। অন্যদিকে ডিএমপি ও সিএমপি কমিশনার বলেছেন-ঢাকায় ও চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। কিশোর অপরাধ দমনের উদ্যোগ সত্যিই ইতিবাচক।...

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিকে অব্যহতি

২৩অক্টোবর,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির পদ থেকে মোল্লা মো. আবু কাওসারকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অব্যহতি দিয়েছেন।আজ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।মোল্লা মো. আবু কাওসারের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো কাণ্ড সহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে শুদ্ধি অভিযান শুরু হলে তিনি গাঁ ঢাকা দেন। বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি।গত সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) কাওসারসহ তার স্ত্রী পারভীন লুনা, মেয়ে নুজহাত নাদিয়া নীলা এবং তাদের প্রতিষ্ঠান ফাইন পাওয়ার সল্যুয়েশন লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে।...

আগামী বছরের প্রথম দিকে ঢাকা সিটির নির্বাচন: ওবায়দুল কাদের

২৩অক্টোবর,বুধবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের প্রথম দিকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের চিন্তা-ভাবনা করছে। রাজধানীর ধানমন্ডি হোয়াইট হল কনভেনশন সেন্টারে বুধবার সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তিনি একথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন,আপনারা প্রস্তুতি নিতে থাকেন। নেত্রীর সঙ্গে আলাপ করে তারিখ আমি পরে আপনাদের জানিয়ে দেব। এখানে একটা বিষয় আছে; নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের প্রথম দিকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের চিন্তা-ভাবনা করছে। কাজেই বেশি দিন বাকি নেই। সিটি করপোরেশন নির্বাচনেরও একটা প্রস্তুতি নিতে হবে। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন,ক্যাসিনোকাণ্ড নিয়ে এত কথা, এত কেচ্ছা, তখন কেন তিনি এ বিষয়ে মুখ খুলতে গেলেন। অবশ্য রাশেদ খান মেনন সাহেব এখন উল্টো সুরে কথা বলছেন। তিনি ইউটার্ন নিয়ে ফেলেছেন অলরেডি। ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৪ দলের সমন্বয়ক নাসিম ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন তারা নিজেরা আলাপ-আলোচনা করেছেন। বিষয়টা আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ...

শারদীয় পূজার সাজে

০৪অক্টোবর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বছর ঘুরে আবারও বেজে উঠল পূজার ঘণ্টা। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব এ দুর্গাপূজা। ঢাকের শব্দ আর বাতাসের তালে কাশফুলের দোলা, নাড়ু-মুড়কি ম ম ঘ্রাণ আর চিরায়িত লালপেড়ে সাদা শাড়ি মনে করিয়ে দেয় পূজার আগমনী বার্তা। পূজার সময়ে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত সাজতে পারবেন একদম মনের মতো করে। কারণ এসময় সবচেয়ে বেশি ঘোরাঘুরির; বেশি বেশি নিমন্ত্রণের। এমন আনন্দের দিনে সাজটাও থাকা চাই নিখুঁত। চলুন জেনে নেই কেমন সাজে এ পূজায় হয়ে উঠবেন অনন্যা- ষষ্ঠী এবং সপ্তমীর সাজ: মেকআপ ভারি না রেখে সাজে স্নিগ্ধতা রাখলেই দেখতে ভালো লাগবে। মেকআপের শুরুতে একটা প্রাইমার লাগিয়ে নেবেন। এতে করে মেকআপ ত্বকে বসবে এবং নষ্ট হবে না সহজে। স্নিগ্ধ সাজের বেইজের জন্য বেছে নিন বিবি ক্রিম। এতে মেকআপ ভারি লাগবে না দেখতে। হালকা কন্ট্যুরিং, ব্লাশ এবং চাইলে হাইলাইটার লাগিয়ে নিতে পারেন। ভারি এবং গর্জিয়াস চোখের সাজ রেখে দিন অষ্টমী থেকে দশমীর জন্য। ষষ্ঠী এবং সপ্তমীতে হালকা গোল্ডেন, শ্যাম্পেইন, রোজগোল্ড কালারগুলো আইশ্যাডো হিসেবে লাগাতে পারেন। তবে আইলাইনার এবং মাশকারা কিন্তু অবশ্যই রাখবেন। পূজার লুকে আইলাইনারটা দেখতে বেশ লাগে! চাইলে কাজলও লাগাতে পারেন। স্নিগ্ধ লুকের জন্য ষষ্ঠীর দিন একটু হালকা ধাঁচের লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। তবে সপ্তমীতে একটু কালার যোগ করলে মন্দ হয় না। ব্যবহার করতে পারেন- ন্যুড, ব্রাউন, টেরাকোটা, অরেঞ্জ, পিংক, ব্রাউনিশ পিংক ইত্যাদি কালার। অষ্টমীর সাজ অষ্টমীতে গাঢ় রঙের শাড়ি ও পোশাক বেছে নিন। লাল, মেরুন, তসর, সিল্ক, কাতান অথবা সাদা-লালপাড় শাড়ি পরে যেতে পারেন এদিন। আঁচলে ভারি কাজ আছে এ রকম লালপাড়ের শাড়ি এক প্যাঁচ করে পরলে ভালো দেখাবে। অষ্টমীর দিন সকালে লাল শাড়ি পরার প্রচলন আছে। মেকআপের শুরুতে ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে টোনার বুলিয়ে সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে নিন। দিনের সাজে মেকআপ যতটা সম্ভব হালকা হওয়া উচিত। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বা কন্ট্রাস্ট করে চোখে আইশ্যাডো লাগান। পেনসিল আইলাইনার দিয়ে কিছুটা মোটা করে লাইন টেনে আইশ্যাডো ব্রাশ দিয়ে স্মাঞ্জ করে নিন। মাশকারা দিন ঘন করে। ঠোঁটে লাল রঙের লিপস্টিক লাগাতে পারেন। সঙ্গে হালকা পিংক ব্লাশন। কপালে বড় লাল টিপ লাগিয়ে নিতে পারেন। আর বিবাহিতদের সিঁথিতে সিঁদুর তো আছেই। পায়ের আলতা দিতে পারেন পছন্দ অনুযায়ী। গোল্ড প্লেটের গয়না বেছে নিতে পারেন এ দিন। বাইরে বের হওয়ার আগে ভালো পারফিউম ব্যবহার করে নিন। চুল সামনের দিকে সেট করে পেছনে কার্ল করে ছেড়ে বা বেঁধে নিতে পারেন। কানের পেছনে চুলে গুঁজে দিন বেলি ফুলের মালা বা সাদা ও লাল জারবেরা। নবমী ও দশমীর সাজ: এ দুই দিন সাজ হবে বেশ জমকালো। এসময় প্রচুর ঘোরাফেরা, দাওয়াত ইত্যাদি থাকে। তাই মেকআপ এক্সপেরিমেন্টাল হলে মন্দ হয় না! প্রথমেই ত্বকটাকে মেকআপের জন্য তৈরি করে নিয়ে প্রাইমার লাগিয়ে নেবেন। যেহেতু দুর্গাপূজা বলে কথা! অবশ্যই মেকআপ ফুল কভারেজ হবে। আর মেকআপটাও ভারি হবে। তাই বেছে নিন পছন্দের ফুল কভারেজ ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশন ত্বকে লাগিয়ে ব্রাশ বা বিউটি স্পঞ্জের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিন। মুখটাকে উজ্জ্বল দেখানোর জন্য ক্রিম হাইলাইটিং করতে পারেন। এর জন্য আপনার ত্বকের থেকে ২-৩ শেইড লাইট একটা কন্সিলার নিয়ে আপনার চোখের নিচে, কপালে, নাকের উপরে, থুতনিতে, কন্ট্যুরিং লাইনের নিচের দিকে লাগিয়ে নিন। কন্সিলারটি ব্রাশ-বিউটি স্পঞ্জের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিন। এবার পুরো ফেস লুজ পাউডার দিয়ে সেট করে নিন। মুখ স্লিম এবং শার্প দেখাতে পাউডার কন্ট্যুরিং করে নিন। চাইলে আগে ক্রিম কন্ট্যুরিংও করে নিতে পারেন। চিকসের নিচে, কপালে হেয়ার লাইনে, নাকের দুই পাশে, থুতনির নিচে কন্ট্যুরিং এবং ব্লেন্ড করে নিন। মুখে একটু কালার যোগ করতে ব্লাশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন পিংক, কোরাল, অরেঞ্জ, ব্রাউন, পিচ ইত্যাদি রং। পূজার গর্জিয়াস মেকআপের সঙ্গে হাইলাইটার কিন্তু বেশ জমকালো লুক আনতে সাহায্য করবে। হাইলাইটার ব্রাশের সাহায্যে পাউডার হাইলাইটার নিয়ে চিক বোনে, কপালে, আইব্রো বোনে, আইব্রোর ওপরের দিকে, নাকের ওপরে, থুতনিতে এবং ঠোঁটের ওপরে লাগিয়ে নিন। আই মেকআপের শুরুতে আইব্রোগুলো একটু ড্রামাটিকভাবই এঁকে নিলেই ভালো লাগবে। আই মেকআপ হিসেবে আপনি কাট ক্রিজ, হাফ কাট ক্রিজ, গ্লিটারি আই মেকআপ, স্মোকি, গ্লিটার কাট ক্রিজ, হেলো স্মোকি আই, স্পটলাইট আই মেকআপ ইত্যাদি ট্রাই করতে পারেন। চাইলে একেকদিন, একেকটা ট্রাই করবেন। দেখতে কিন্তু বেশ দারুণ লাগবে। আইশ্যাডো হিসেবে বেছে নিন ব্রাউন, রেড, ব্লু, গ্রিন, পিচ, কোরাল, ইয়েলো, পিংক, পার্পল, গোল্ডেন, সিলভার, রোজ গোল্ড, অরেঞ্জ, কপার, শ্যাম্পেইন, পার্ল, ব্রোঞ্জি, ব্ল্যাক ইত্যাদি কালার। আইলাইনার, মাশকারা, মোটা করে কাজল লাগিয়ে নিন মন মতো। চাইলে লেন্স এবং ফলস আইল্যাশও পরতে পারেন। লিপস্টিক হিসেবে আপনার পছন্দসই যে কোনো কালার বেছে নিতে পারেন। পূজায় কিন্তু লাল রং প্রাধান্য পায়। পরতে পারেন ব্রাউন, ম্যাজেন্টা, পার্পল, বারগেন্ডি, ন্যুড, কোরাল, পিংকিস ব্রাউন, পিচ ইত্যাদি কালারও লাগাতে পারেন। এছাড়াও পূজার সাজে কপালে টিপ কিন্তু বেশ মানাবে। দীর্ঘসময় মেকআপ ধরে রাখতে চাইলে সবশেষে মেকআপ সেটিং স্প্রে ব্যবহার করবেন। এবং চুলের সাজ: সাজগোজে চুলের স্টাইল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চুল একটু লম্বা হলে পূজার সকালে হালকা হাত খোঁপাও ভালো লাগবে। শাড়ির সঙ্গে দিব্যি মানাবে। মাঝখানে সিঁথি করে সামনের দিকটা অল্প ফুলিয়ে নিতে পারেন। একটু কায়দা করতে চাইলে পুরো চুল ব্যাক কোম করে নিয়ে লো বান করতে পারেন। পূজার সন্ধ্যায় একটু গর্জিয়াস সাজতে চাইলে খোঁপায় ফুল বা একটু সাবেকি ধাঁচের খোঁপার কাঁটা বা হেয়ার অ্যাকসেসরিজ লাগাতে পারেন। খোঁপার ওপরে হেয়ার পিনও শাড়ির সঙ্গে ভালো মানাবে। চুল সবসময় বাঁধতে হবে এমন নয়, খোলা চুলেও স্টাইলিং করা যায়। স্ট্রেট করিয়ে নিতে পারেন আবার হালকা কার্লও করতে পারেন। পূজার সাজে ফুল কিন্তু থাকতেই হবে। সকালে মন্দিরে যাওয়ার সময় অর্কিডের গুচ্ছ গুঁজে দিন চুলে। অথবা চুল খোঁপা করে তাতে জড়িয়ে নিতে পারেন শিউলি ফুল, বেলি ফুল বা কাঠবেলির মালা। ছেলেদের সাজ: পূজায় এখনও পাঞ্জাবি আর ধুতির আবেদনটাই অন্যরকম। পূজার শুরুর দিনগুলোতে তারা হালকা রঙের পাঞ্জাবি ও পায়ে আরামদায়ক ফিতাযুক্ত স্যান্ডেল পরতে পারেন। আর শেষ দিনগুলোতে জমকালো পাঞ্জাবি, ফতুয়া পছন্দ করতে পারেন। যারা একটু অন্যভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান তারা ধুতি পরতে পারেন। তবে অঞ্জলি বা মণ্ডপে ঘোরার সময় পাঞ্জাবি, ধুতির রাবীন্দ্রিক সাজ থাকলেও অন্যান্য সময় তো হাল ফ্যাশনের ছোঁয়া চাই। শার্ট, টি-শার্ট পরে সন্ধ্যার পর মণ্ডপে ঘোরার মজাই আলাদা। তাই তরুণরা হাল ফ্যাশনের টি-শার্ট আর শার্টের দিকেও ঝুঁকছেন। পূজায় দিনের বেলা হালকা রঙের পোশাককেই প্রাধান্য দিন। সাদা, ঘিয়ের পাশাপাশি শরতের স্নিগ্ধতা বজায় রাখতে নীল রংও বেছে নিতে পারেন। রাতের জন্য গাঢ় রং নির্বাচন করাই ভালো। লাল, কালো, সবুজ, চকলেট, মেরুন ইত্যাদি রং বেছে নিতে পারেন। ছেলেরা চুলে জেল ব্যবহার করে এ দিন ভিন্ন লুক আনতে পারেন। বাজারে বিভিন্ন স্টাইলের আংটি ও ব্রেসলেট পাওয়া যায়, পরতে চাইলে হাতের জন্য পছন্দমতো ও মানানসই বেছে নিতে পারেন। দিনের বেলা রোদের কারণে এবং ধুলোবালি থেকে বাঁচতে হাতের কাছে অবশ্যই রাখবেন সানগ্লাস।...

রুক্ষ শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যায় অ্যালোভেরা

১৩জুলাই২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রুক্ষ শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যায় অ্যালোভেরা কার্যকারি উপাদান। ত্বকের যত্নে অনেকেই নিয়মিত অ্যালোভেরার রস বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু অ্যালোভেরাও যে ওজন কমাতে পারে সে খবর কয়জন জানে? অ্যালোভেরায় রয়েছে অ্যালোইন নামের প্রোটিন। যা সরাসরি ফ্যাট না কমালেও শরীরে জমে থাকা টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। তবে একটা বিষয়ে সতর্ক থাকবে হবে সবাইকে। অ্যালোভেরার রস বেশি পরিমাণে শরীরে গেলে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া হতে পারে। তাই অ্যালোভেরার রস খান সঠিক পরিমাণে। কি পরিমাণ অ্যালোভেরার রস আমাদের শরীরে প্রয়োজন তা জানা থাকা দরকার। এক গ্লাস পানিতে ৫০ মিলিলিটার অ্যালোভেরা রস মিশিয়ে দিনের যে কোনও সময় খেতে পারেন। ব্লাড সুগার, হজমের সমস্যা, পাকস্থলির সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে এই রস। দ্রুত শরীরের বাড়তি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অ্যালোভেরার রস অত্যন্ত কার্যকরী। তবে সাবধান! গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অ্যালোভেরার রস অনেক বড় ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ ডার্মাটোলজি তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গর্ভবতী মহিলা বা নতুন মায়েদের ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিকর এই রস। কারণ অ্যালোভেরার রস জরায়ু বা ইউটেরাসের সংকোচন ঘটায়। এ ছাড়াও অন্ত্রনালীতে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে।...

দেশের বিস্ময় বালিকা নানজীবার গল্প

সাক্ষাৎকার ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নানজীবা খান। তার বয়স কিন্তু এখনও পেরোয়নি ১৮র কোঠা। আর এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী টিনএজার এরই মধ্যে জন্ম দিয়ে চলেছেন এক একটি বিশ্বয়। ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক, নির্মাতা, উপস্থাপিকা, টিভি টক শো'র অতিথি, লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর এবং বিতার্কিক হিসেবে স্বাক্ষর রেখে চলেছেন নিজের প্রতিভার। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুল-এ ট্রেইনি পাইলট হিসেবে চলছে তার অধ্যয়ন। এছাড়া তিনি কাজ করছেন শিশু সাংবাদিক হিসেবে, কাজ করছেন বিটিভির নিয়মিত উপস্থাপক হিসেবে, ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পেয়েছেন ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। আর সম্প্রতি ইউনিসেফের অধীনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এসেছেন দেশের বাইরেও। এই নিয়ে ১১টি দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে তার ঝুলিতে। লেখক হিসেবে এবারের বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার গবেষণামূলক গ্রন্থ- অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়। প্রথম সংস্করণের সব বই বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। বইটির প্রচ্ছদও করেছেন নানজীবা নিজে। তথ্যসমৃদ্ধ বইটি ইতোমধ্যে পাঠক সমাদৃত হয়েছে। প্রশ্ন আসে কিভাবে শুরু এই নানজীবার পথচলা? উত্তরে জানা যায়, নানজীবার শুরুটা হয়েছিল পাঁচ বছর বয়সে রঙ তুলি দিয়ে। মায়ের হাত ধরে গিয়েছিল কিশলয় কচিকাঁচার মেলায় ছবি আঁকা ও আবৃত্তি শিখতে। ২০০৭ সালে জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতা জয়নুল কামরুল ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন পেন্টিং কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ এবং পুরস্কার অর্জন করেন। জীবনের প্রথম অর্জনই ছিল আন্তর্জাতিক। সেই থেকে পথ চলা শুরু। ছবি আঁকার জন্য বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার তার ঝুলিতে জমা হয়। ছবি আঁকার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতেও প্রশিক্ষণ নেন। বিভিন্ন দিবসগুলোর সকাল থেকে সন্ধ্যা কাটতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করার মাধ্যমে। ২য় শ্রেণীতে পড়াকালীন বিটিভির- কাগজ কেটে ছবি আঁকি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় তার পথ চলা শুরু। বর্তমানে বিটিভিতে- আমরা রঙ্গিন প্রজাপতি, আমাদের কথা, আনন্দ ভুবন, ও শুভ সকাল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। ১৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র- কেয়ারলেস পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র সাদা কালোর জন্য ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। আর এটি তৈরি করতে যা টাকা খরচ হয়েছে তার সবই ছিল তার টিফিনের জমানো টাকা। তারপর- গ্রো আপ, দ্য আনস্টিচ পেইন সহ আরও কিছু প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেন নানজীবা। ৮ম শ্রেণীতে পড়াকালীন শুরু হয় শিশু সাংবাদিক হিসেবে তার পথচলা। জীবনের ১ম সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী,সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, মেয়র সাঈদ খোকনসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট মানুষ যেমন- সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সেলিনা হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন, হাবিবুল বাশার, আবেদা সুলতানা, সাদেকা হালিম, নিশাত মজুমদার, ফরিদুর রেজা সাগর, জুয়েল আইচ, মীর আহসান, Rabর প্রধান বেনজির আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস। বিদেশও উজ্জ্বল সাংবাদিক নানজীবা। ওয়ার্ল্ড ডিবেট সোসাইটির পরিচালক অ্যালফ্রেড স্পাইডার ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও হয়েছে তার। একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যামব্রিয়ান ডিবেটিং সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। স্কুল ও কলেজ জীবনে বিতার্কিক হিসেবে অর্জন করেছেন বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। পেয়েছেন উপস্থিত ইংরেজি বক্তৃতায় বিএনসিসি ও ভারত্বেশ্বরী হোমসের প্রথম পুরস্কার। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াকালীন- বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর থেকে ৩ ধাপে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার পরে সারা দেশের হাজার হাজার ক্যাডেটদের মধ্য থেকে বিএনসিসি-র সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল সফর ভারতে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাৎ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ হয়। রাশিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, কাজাকিস্তান, কিরগিজস্তান, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপসহ মোট ১১ টি দেশের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাইফেলে ফায়ারিং, অ্যাসোল্ট কোর্স, বেয়নোট ফাইটিং ও সশস্ত্র সালাম। শতগুণে গুণান্বিত নানজীবার বিনয়ের এক চরম উদাহরণ। সর্বশেষ তাই সময় নিউজকে তিনি বলেন, কাজ শেখার চেষ্টা করছি। আমি কখনই শুধু দেশ নিয়ে ভাবি না। আমার লক্ষ্য সবসময় আন্তর্জাতিক। আমি চাই মানুষ নানজীবাকে দিয়ে গোটা বাংলাদেশ চিনুক। সেই সাথে আকাশে ওড়ার স্বপ্নও পূরণ করতে চাই। আর আমার সব কাজের প্রেরণা আমার ছোট ভাই ও আমার মা। আমি সকলের ভালোবাসা চায়। ...

শোকাবহ আগস্ট,শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগের মাসব্যাপি কর্মসূচি

০১আগস্ট,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:শোকাবহ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী, আওয়ামী লীগের সেই সময়ের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন। সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। প্রতিবারের মত এবারও ১৫ই আগস্টকে সামনে রেখে আগস্টের প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর মাসব্যাপি কর্মসূচি। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও এ মাসে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শোকের মাসের প্রথম দিন মধ্য রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথম প্রহরে আলোর মিছিলের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ জানান, মিছিলটি ধানমন্ডি ৩২নং সড়ক ধরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে যাত্রা করবে। আজ সকালে কৃষকলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ মাসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের জন্মদিন পালন, ১৭ই আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা এবং ২১শে আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা দিবস স্মরণ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালন। শোকাবহ আগষ্টে অনলাইন নিউজ পোর্টাল www.newsekattor.com ও সংবাদের কাগজ পত্রিকার পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা ।...

আমি কি আমার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবো না?

০৫অক্টোবর,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা দেশের গর্ভ এবং রতoe এই কথাটি সরকার এবং দেশের সকলে স্বীকার করেন। কিন্তু এখনো আমরা দেখি যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ গ্রহন করে যুদ্ধ করেছেন এবং শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকে এখনো তাদের সম্মান ও স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। যদিও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অসংখ্য ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা স্থান নিয়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন বিভিন্ন মহলে,বর্তমান সরকার এই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে ইতি মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে গনমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। কে শুনে কার কথা স্বাধীনতা সংগ্রামে স্বামীকে হারিয়ে নুর জাহান বেগম তার ছেলে মেয়েকে নিয়ে অনাহাওে অতিব দুঃখে কষ্টে ছেলে মেয়েকে বড় কওে আজ সে সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় ধর্না দিচ্ছেন। শুধু মাত্র তার স্বামীর শহীদের স্বীকৃতি অর্জনের জন্য। ফেনী জেলার ডমুরুয়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিন আহম্মদের পুত্র এ এস এম মহি উদ্দিন আহাম্মদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে রেলওয়েতে চট্টগ্রাম সি.আর,বি তে নিরাপত্তা প্রহরী (আর.এন.বি) পদে চাকুরীরত অবস্থায় স্বাধীনতার ডাকে ৮ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সি.আর.বি তে সম্মুখ যুদ্ধে নিহত হন। তার আর.এন.বি নং:- ই-ডব্লিউ/ম্যান সিরিয়াল নং: ৪২২৩ (সি.এম.ডব্লিউ/সি.আর.বি/আর.এন.বি)। বাংলাদেশ রেলওয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার সম্মিলন পরিষদ কর্তৃক গত- ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে সংবর্তি নামক ম্যাগাজিনে ১৬৪ নং ক্রমিকে শহীদ এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহমদ এর নাম লিপি রয়েছে। এবং রেলওয়ে লিস্ট নং: ০৬ এর-৭২৯ নং এ ও এই শহীদের নাম রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের পর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তান নামক ব্যাংকের মাধ্যমে শহীদ এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মদের স্ত্রী নুর জাহান বেগমকে ২,০০০/০০ টাকা (দুই হাজার টাকা) প্রদান করে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত- ২৪ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে ঢাকা রেলওয়ে ষ্টেশন চত্বরে কমলাপুরে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রেলকর্মীদের স্বরনে স্মৃতিসৈৗধ সূর্যকেতন নামক যে স্মৃতিসৈৗধ নির্মান করেছেন সে খানে ও লিখিত ও উল্লেখিত ৩০ নং শহীদ ব্যক্তি হিসেবে স্থান পেয়েছেন এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মদের নাম। এই শহীদের স্ত্রী নুর জাহান বেগম তৎ কালিন (১৯৬৯) জাতীর জনকের নির্বাচনে তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তার বাবার বাড়ী সিতাকুন্ড এলাকায় নির্বাচনী এজেন্ট ও ছিলেন। বর্তমানে নুর জাহান বেগম তার স্বামী শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি ইতিমধ্যে- ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বও মহাব্যবস্থাপক (পর্ব) বাংলাদেশ রেলওয়ে সি.আর.বি চট্টগ্রাম- ২০১৮ সালের ৭ আক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একই সালের ৮ আক্টোবর ও চলিত বছরের ১৩ মার্চ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্বাক্ষাত চেয়ে এবং তার স্বামীকে শহীদের তালিকায় লিপি করার উদ্যেশ্যে আবেদন করে ও ব্যার্থ হয়েছেন নুর জাহান বেগমের স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তালিকায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবীদার মর্মে ফেনী জেলার ২নং পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মানিক ও ফেনী-০২ এর বর্তমান সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী প্রত্যায়ন পত্র দিয়েছেন। উক্ত বিষয়ে বর্তমানে অসুস্থ ও ৭৫ বছর বয়স্ক নুর জাহান বেগম বলেন,আমি চরম অনিশ্চয়তা এবং আশংকার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি যে,আমি জীবিত অবস্থায় আমার স্বামীর শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে দেখে যেতে পারবো কি না। আমার একটি মেয়ে খোদেজা ভূইয়া ও একটি ছেলে মোঃ মাইন উদ্দিন তাদের বাবার এই সম্মান টুকু তারা আদৌ পাবে কি না। আমি বর্তমান খুবই অসুস্থ। আমি মনে করি আমার এই চরম দুর্দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাত করতে পারলে বা তার সাহায্য ও সহযোগীতা পেলে আমার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি আমার এই দূরবস্থার পরিবর্তন হবে। আমার একমাত্র ছেলে বর্তমানে বেকার,বেচেঁ থাকার যে টুকু অবলম্ভন ছিলো তাও নেই। আমি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর কাছে আকুল আবেদন করছি,যেন মরে যাবার আগে অন্তত আমার স্বামীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি টুকু প্রদান করা হয়।


দেশের বিস্ময় বালিকা নানজীবার গল্প

সাক্ষাৎকার ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নানজীবা খান। তার বয়স কিন্তু এখনও পেরোয়নি ১৮র কোঠা। আর এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী টিনএজার এরই মধ্যে জন্ম দিয়ে চলেছেন এক একটি বিশ্বয়। ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক, নির্মাতা, উপস্থাপিকা, টিভি টক শো'র অতিথি, লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর এবং বিতার্কিক হিসেবে স্বাক্ষর রেখে চলেছেন নিজের প্রতিভার। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুল-এ ট্রেইনি পাইলট হিসেবে চলছে তার অধ্যয়ন। এছাড়া তিনি কাজ করছেন শিশু সাংবাদিক হিসেবে, কাজ করছেন বিটিভির নিয়মিত উপস্থাপক হিসেবে, ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পেয়েছেন ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। আর সম্প্রতি ইউনিসেফের অধীনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এসেছেন দেশের বাইরেও। এই নিয়ে ১১টি দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে তার ঝুলিতে। লেখক হিসেবে এবারের বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার গবেষণামূলক গ্রন্থ- অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়। প্রথম সংস্করণের সব বই বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। বইটির প্রচ্ছদও করেছেন নানজীবা নিজে। তথ্যসমৃদ্ধ বইটি ইতোমধ্যে পাঠক সমাদৃত হয়েছে। প্রশ্ন আসে কিভাবে শুরু এই নানজীবার পথচলা? উত্তরে জানা যায়, নানজীবার শুরুটা হয়েছিল পাঁচ বছর বয়সে রঙ তুলি দিয়ে। মায়ের হাত ধরে গিয়েছিল কিশলয় কচিকাঁচার মেলায় ছবি আঁকা ও আবৃত্তি শিখতে। ২০০৭ সালে জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতা জয়নুল কামরুল ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন পেন্টিং কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ এবং পুরস্কার অর্জন করেন। জীবনের প্রথম অর্জনই ছিল আন্তর্জাতিক। সেই থেকে পথ চলা শুরু। ছবি আঁকার জন্য বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার তার ঝুলিতে জমা হয়। ছবি আঁকার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতেও প্রশিক্ষণ নেন। বিভিন্ন দিবসগুলোর সকাল থেকে সন্ধ্যা কাটতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করার মাধ্যমে। ২য় শ্রেণীতে পড়াকালীন বিটিভির- কাগজ কেটে ছবি আঁকি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় তার পথ চলা শুরু। বর্তমানে বিটিভিতে- আমরা রঙ্গিন প্রজাপতি, আমাদের কথা, আনন্দ ভুবন, ও শুভ সকাল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। ১৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র- কেয়ারলেস পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র সাদা কালোর জন্য ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। আর এটি তৈরি করতে যা টাকা খরচ হয়েছে তার সবই ছিল তার টিফিনের জমানো টাকা। তারপর- গ্রো আপ, দ্য আনস্টিচ পেইন সহ আরও কিছু প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেন নানজীবা। ৮ম শ্রেণীতে পড়াকালীন শুরু হয় শিশু সাংবাদিক হিসেবে তার পথচলা। জীবনের ১ম সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী,সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, মেয়র সাঈদ খোকনসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট মানুষ যেমন- সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সেলিনা হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন, হাবিবুল বাশার, আবেদা সুলতানা, সাদেকা হালিম, নিশাত মজুমদার, ফরিদুর রেজা সাগর, জুয়েল আইচ, মীর আহসান, Rabর প্রধান বেনজির আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস। বিদেশও উজ্জ্বল সাংবাদিক নানজীবা। ওয়ার্ল্ড ডিবেট সোসাইটির পরিচালক অ্যালফ্রেড স্পাইডার ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও হয়েছে তার। একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যামব্রিয়ান ডিবেটিং সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। স্কুল ও কলেজ জীবনে বিতার্কিক হিসেবে অর্জন করেছেন বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। পেয়েছেন উপস্থিত ইংরেজি বক্তৃতায় বিএনসিসি ও ভারত্বেশ্বরী হোমসের প্রথম পুরস্কার। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াকালীন- বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর থেকে ৩ ধাপে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার পরে সারা দেশের হাজার হাজার ক্যাডেটদের মধ্য থেকে বিএনসিসি-র সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল সফর ভারতে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাৎ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ হয়। রাশিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, কাজাকিস্তান, কিরগিজস্তান, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপসহ মোট ১১ টি দেশের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাইফেলে ফায়ারিং, অ্যাসোল্ট কোর্স, বেয়নোট ফাইটিং ও সশস্ত্র সালাম। শতগুণে গুণান্বিত নানজীবার বিনয়ের এক চরম উদাহরণ। সর্বশেষ তাই সময় নিউজকে তিনি বলেন, কাজ শেখার চেষ্টা করছি। আমি কখনই শুধু দেশ নিয়ে ভাবি না। আমার লক্ষ্য সবসময় আন্তর্জাতিক। আমি চাই মানুষ নানজীবাকে দিয়ে গোটা বাংলাদেশ চিনুক। সেই সাথে আকাশে ওড়ার স্বপ্নও পূরণ করতে চাই। আর আমার সব কাজের প্রেরণা আমার ছোট ভাই ও আমার মা। আমি সকলের ভালোবাসা চায়।

অভিশপ্তদের দিন শেষ, বাতিঘরের আলোয় আলোকিত দেশ

১৬অক্টোবর,বুধবার,মুক্ত কলম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজকাল টেলিভিশন টকশোয় খুব কম যাওয়া হয়। অনেকদিন থেকে না যাওয়ার অভ্যাসটি রপ্ত করেছি। কারণ গেলেই কথা বলতে হয়। কথা বললেই বাড়ে কথা। তবু মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুবাদে কারও কারও ডাক উপেক্ষা করা যায় না বলে যেতে হয়। বিশেষ করে প্রখ্যাত সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীর মধ্যরাতের টকশোয় ডাক পড়লে নিয়মিত যাই। এমনিভাবে অনিয়মিতভাবে যাওয়া একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আমন্ত্রণে তাদের টকশো রাজকাহনে গিয়েছিলাম। গিয়ে তাদের অতিথি বাছাই দেখে আমি বিস্মিত হই। বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ তিনজন সাবেক সভাপতিকে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সারওয়ার মিলন ছাড়াও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু এবং আরেক সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি। মাঝখানে তাদের সঙ্গে কাবাবে হাড্ডির মতো আমাকে কেন ডাকা হলো? এ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তাদের বললাম, এখানে আওয়ামী লীগের অসীম কুমার উকিল, আহমদ হোসেন বা বি এম মোজাম্মেল হোসেনকে আনা হলে মানানসই হতো। শেষ পর্যন্ত টকশোর সূচনা ঘটল ছাত্রদলের সম্মেলন স্থগিত নিয়ে এবং সেটি থেকে আলোচনা জাতীয় রাজনীতির অতীত ও বর্তমান ঘিরে কিছুটা উত্তপ্তও হয়ে উঠল। এর মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হিটলারের মতো স্বৈরশাসক হিসেবে সমালোচনা করে বলে বসলেন,তার পরিণতি হবে শেখ মুজিবের মতো। পরে এ বক্তব্য বাইরে তুমুল বিতর্কের ঝড় তুললে শামসুজ্জামান দুদু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাইলেন। কিন্তু ওই টকশোয় আমি শেখ হাসিনার ৩৯ বছরের সংগ্রামমুখর রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন ঘেরা বর্ণাঢ্য জীবনের কথা উল্লেখ করে বললাম, তিনি গণতন্ত্রের নেত্রী। আর এই জনপদে হিটলারের মতো নিষ্ঠুর খুনি কোনো সেনাশাসক যদি এসে থাকেন তার নাম জিয়াউর রহমান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবার-পরিজনসহ মানবসভ্যতার ইতিহাসে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে অবৈধ শাসনযাত্রার পালাবদলে বন্দুকের জোরে সেনাশাসক জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেন। তার হাতে তথাকথিত সেনাবিদ্রোহের অভিযোগে অসংখ্য সেনাসদস্যই সামরিক আদালতের গোপন বিচারে রাতের আঁধারে ফাঁসিতেই ঝোলেননি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরউত্তম খালেদ মোশাররফের খুনি মোশতাক চক্রকে উৎখাত করা অভ্যুত্থানে গৃহবন্দী জিয়াউর রহমানকে সিপাহি জনতার বিপ্লবের নামে পাল্টা ক্যু ঘটানোর নায়ক ও তার ত্রাণকর্তা হিসেবে মুক্ত করা, বীরউত্তম কর্নেল তাহেরকেও সামরিক আদালতের বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলেন।সেনাশাসক জিয়াউর রহমান একদিকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে বছরের পর বছর কারা নির্যাতন, দমন-পীড়ন, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নিপীড়ন ও দল ভাঙার রাজনীতির কূটকৌশল গ্রহণ করেছিলেন; অন্যদিকে বন্দুকের জোরে বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় করে তিনি নিজে একদিকে সেনাপ্রধান, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো নির্মম রসিকতার অসাংবিধানিক শাসনের ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহল বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনলেও আত্মস্বীকৃত খুনিদের ভাষ্যমতে, তাকে অবহিত করা হয়েছিল। বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা বা সেক্টর কমান্ডার হয়েও এমনকি অনেকের সঙ্গে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে আলোচিত হয়েও ক্ষমতায় এসে তার সামরিক শাসন জমানায় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসনিক শক্তির সঙ্গে অর্থ ও পেশিশক্তির জোরে বিএনপি নামের যে দলটির জন্ম দিয়েছিলেন, সেখানে একাত্তরের পরাজিত হানাদার বাহিনীর দোসর দক্ষিণপন্থি মুসলিম লীগের রাজাকার, মুজিববিদ্বেষী আওয়ামী ও ভারতবিরোধী কট্টর চীনাপন্থি বামদের মহামিলন ঘটিয়েছিলেন। ঠাঁই দিয়েছিলেন সুবিধাবাদী সুযোগসন্ধানী ক্ষমতার উচ্চাভিলাষী কিছু পেশাজীবীকে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন। নিষিদ্ধ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দুয়ার খুলে জামায়াতকেও রাজনীতিতে সংসদে পুনর্বাসিত করেছিলেন ধূর্ত খুনি শাসক জিয়া। খুনি মোশতাকের অধ্যাদেশকে তার প্রহসনের ৭৯ সালের সংসদে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে কুখ্যাত ইনডেমনিটি আইনসহ তার সব অবৈধ কর্মকা- পাস করিয়েছিলেন। যেখানে একজন সাধারণ মানুষ হত্যাকান্ডের ন্যায়বিচার লাভ করে সেখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবার-পরিজনসহ নৃশংসভাবে হত্যা করে তার বিচার করা যাবে না বলে সংবিধান ও সভ্যতাবিরোধী একটি কালো আইন পাস করালেন। এবং সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদের রক্তে লেখা ধর্মনিরপেক্ষতাসহ কিছু মূলনীতিই মুছে দেননি, সাম্প্রদায়িকতার মোড়কে একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তানের পথে রাষ্ট্রকে ঠেলে দিলেন। দিল্লিতে নির্বাসিত মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা যখন ৮১ সালের ইডেন কাউন্সিলে দলের নেতৃত্বের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী নির্বাচিত হন, সেই রজনীতে বঙ্গভবনে বসে সেনাশাসক জিয়াউর রহমান রাত জেগে ছিলেন। আওয়ামী লীগের ভাঙন আশা করেছিলেন। ভোরবেলায় যখন শুনলেন, নেতা-কর্মীদের আবেগ-উচ্ছ্বাস আর মহানন্দের তুমুল করতালিতে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তখন তিনি তার সামরিক সচিব সিলেটের জেনারেল সাদেক আহমেদ চৌধুরীর কাছে দেশটা বুঝি ইন্ডিয়া হয়ে গেল আফসোস করে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে ঘুমাতে ছুটলেন। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুন সেনাশাসক জিয়াউর রহমান সেটি চাননি। শেখ হাসিনা ফিরে এলেই প্রকৃতি ও মানুষ তার সঙ্গে একাত্ম হয়েছিল। তার বুকভরা ছিল স্বজন হারানোর বেদনা ও ক্রন্দন। বাঙালি জাতির ইতিহাসের ঠিকানা শেখ হাসিনার স্মৃতিময় ৩২ নম্বর বাড়িতে সেনাশাসক জিয়া তাকে প্রবেশ করতে দেননি। বাইরেই তাকে মিলাদ পড়াতে হয়েছে। সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের হত্যাকান্ডের পর বিচারপতি অথর্ব সাত্তার সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নৈরাজ্য বিশৃঙ্খলা ও চরম কোন্দলের মুখে বিনা রক্তপাতে সেনাশাসক এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করে দল গঠন করতে গেলে জিয়াউর রহমানের সুবিধাবাদী দলছুট প্রায় সব নেতা তার সঙ্গে যোগ দেন। দলের হাল ধরে সে সময় রাজপথে নামেন অকাল-বৈধব্য নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে যে ছাত্রদল হিজবুল বাহার চড়েও অস্ত্রবাজিতে ছাত্র রাজনীতিতে জায়গা পায়নি, সেনাশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়াকে সামনে রেখে সেই ছাত্রদল হয়ে ওঠে সাহসী তারুণ্যের শক্তিশালী ছাত্র সংগঠনে। সব দলের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ নয় বছর পর এরশাদের পতন ঘটলে সব মহলের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জামায়াতের সমর্থনে ৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকার গঠন করে চমক সৃষ্টি করে। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নবযাত্রার সূচনা ঘটে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কর্মকা- ও আন্দোলন-সংগ্রামের ভিতর দিয়ে উর্মীমুখর রাজনীতিতে নির্বাচনে সরকার বদলের সুযোগ ঘটে। ৯৬ সালে নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির পরাজয় ঘটে। দীর্ঘ ২১ বছর পর সেই নির্বাচনে মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আটক করে ১৫ আগস্টের হত্যাকাে র বিচারকাজ শুরু হয়। সেই বিচারে খুনিদের ফাঁসির রায় হয়। সেসব ইতিহাস সবার জানা। দার্শনিক বার্নাড শ বলেছেন, ইতিহাসের শিক্ষাই হচ্ছে ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। আমাদের রাজনীতিতে তার এ বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্যে পরিণত হয়েছে। খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামল ও শেখ হাসিনার প্রথম শাসনামল সংসদীয় গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক সহনশীলতা ও সুশাসন প্রশ্নে উত্তম বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। সেই দিনগুলোয় আমাদের সংসদ ও রাজনীতির মাঠে-ময়দানের পরিশ্রমী সাংবাদিকতাও ছিল সৃষ্টিশীলতার, শেখার এবং আনন্দের। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এসে প্রতিহিংসার বিষের আগুনে চারদিক পুড়িয়ে দিতে থাকে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার আটকে দেয়, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা একের পর এক হত্যাকান্ডের শিকার হন। সংখ্যালঘু ভোটার নারীরা হতে থাকেন ধর্ষিতা। এলাকার পর এলাকা প্রশাসনের প্রহরায় বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা হয় ঘরছাড়া, না হয় আহত পঙ্গু হয়ে হাসপাতালে আশ্রয় নেন। অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে শহীদের রক্তেভেজা পতাকাই ওড়েনি, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর হাত এতটাই প্রসারিত হয় যে, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ভয়ঙ্কররূপে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ১০ ট্রাক অস্ত্র এসে ধরা পড়ে। সন্ত্রাসবাদের অভয়ারণ্য হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। একের পর এক ভয়াবহ রাজনৈতিক হত্যাকা- ঘটতে থাকে দিনদুপুরে। বাংলা ভাইদের হাতে বাঘমারা স্বাধীন করে দেওয়া হয়। দলীয় প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্লজ্জ বেহায়াপনার বীভৎস চিত্র দেখে বাংলাদেশ। দেশের ৬৩ জেলার ৫০০ জায়গায় একই সময়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। আদালতপাড়ায় রক্ত ঝরে। একুশের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তিমিছিলের বক্তৃতার মঞ্চ থেকে উড়িয়ে দিতে চালানো হয় বর্বর গ্রেনেড হামলা। আলামত গায়েব, তদন্তের নামে প্রহসন, বিচারের নামে নাটক চলতে থাকে। ক্ষমতার দম্ভে উন্নাসিক বিএনপি-জামায়াত পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার দলীয় নির্বাচন কমিশনসহ, ইয়াজউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন স্তরের প্রশাসন ঢেলে সাজায়। সেই সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরেও রক্তক্ষরণ ঘটানো হয়, হাওয়া ভবন ঘিরে প্যারালাল সরকার গড়ে ওঠে বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে ঘিরে। একতরফা নির্বাচন বানচাল হয়ে যায় সেনাসমর্থিত ওয়ান-ইলেভেনের কারণে। সেই দুই বছরের শাসনামল কারও জন্য সুখকর হয়নি। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত ও হাওয়া ভবনের অভিশপ্ত শাসনামলের চড়া মাশুল এখনো বিএনপিকে গুনতে হচ্ছে। ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটকে নিয়ে বিশাল গণরায়ে ক্ষমতায় আসেন শেখ হাসিনা। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ফাঁসিতে ঝুলতে হয় একের পর এক জামায়াত নেতাকে। তারেক রহমান লন্ডনে তার চাটুকারদের নিয়ে ভোগের জীবনে নির্বাসিত থাকলেও এখানে হাজার হাজার নেতা-কর্মী সরকারের অগ্নিরোষে পতিত হয়। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে থাকা নেতা-কর্মীরা নিজেদের মতো স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার বা দলীয় রণকৌশল নির্ধারণের ক্ষমতা ভোগ করতে পারেন না। দল ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে একের পর এক সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিশাল বিজয় অর্জন করলেও তারেক রহমানের নির্দেশের কারণে জামায়াতের সঙ্গে সহিংস আন্দোলনে ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচন বর্জন ও প্রতিরোধ আন্দোলনে শক্তিক্ষয় ও মামলার জালেই আটকা পড়েনি, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের ওয়াক ওভার দিয়ে দেয়। ইতিমধ্যে একটি দুর্নীতি মামলায় বিএনপির রাজনীতির জনপ্রিয়তার উৎস ও গণতন্ত্রের নেত্রী হিসেবে জনপ্রিয় বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে পারেনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক থাকলেও বিএনপি সেটি নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া দূরে থাক কোনো রাজনৈতিক ফায়দাই তুলতে পারেনি। মাঝখানে মির্জা ফখরুলের মতো পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদকে বাদ দিয়ে হাতে গোনা দলের যে কজন জয়ী হয়েছেন, তাদের সংসদে পাঠায়। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ শরীরে পৌনে দুই বছরের মতো জেলে রয়েছেন। দলের নেতা-কর্মীরা বিভ্রান্ত নেতৃত্বের হঠকারী সিদ্ধান্তে বার বার আন্দোলন-সংগ্রামে মামলার জালেই আটকা পড়েনি, রিক্ত-নিঃস্ব হয়ে গেছে। যে এহছানুল হক মিলন বিএনপির জন্য আদালতে হাজিরা দিতে দিতে জীবন শেষ হয়ে যায়, নির্বাচনে তারেক রহমানের নির্দেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলেও তার ভাগ্যে মনোনয়ন জোটে না। মোরশেদ খানের মতো ভদ্রলোক বিএনপি করার অপরাধে নানামুখী চাপে নিঃশেষ হয়ে গেলেও তিনি মনোনয়ন পান না। একুশের গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত আসামি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে হাওয়া ভবন ঘিরে যারা ওঠাবসা করতেন এখন লন্ডন, নিউইয়র্ক ও মালয়েশিয়ায় তারা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছেন। ইতিহাসের প্রাপ্য প্রতিহিংসার ফল বিএনপি ভোগ করছে এ কথা আমি বলে আসছি বার বার, তেমনি বলে আসছি নব্বইয়ের পর এ দেশের রাজনীতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল তার কফিনে পেরেক ঠুকে দিয়েছে একুশের গ্রেনেড হামলা। তাই বলে আওয়ামী লীগের ১০ বছরের শাসনামলে সংঘটিত সব দুর্নীতি, অর্থনৈতিক খাতের লুটপাট, ব্যাংক ও শেয়ার কেলেঙ্কারি, গুম-খুন এমনকি মির্জা ফখরুলদের মতো নেতাদের নামে হয়রানি মামলা, নেতা-কর্মীদের দমন-পীড়নের প্রতিবাদ তো কম করিনি। তবু কেন এত আক্রোশ? এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে যেসব সিনিয়র সাংবাদিক প্রশ্ন না করে চাটুকারিতায় তেলের নহর বইয়ে দিতেন তাদের সমালোচনাও করেছি। শক্তিশালী সরকারের পাশাপাশি আমরা শক্তিশালী বিরোধী দল চাই। বিএনপিকে শেষ করে দিয়ে মৌলবাদ উত্থান ঘটার আশঙ্কা থেকে যায় কিনা এ প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসি। সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় সেদিনের টকশোয় আরও বলেছিলাম, তারেক রহমান এখনো বিএনপির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু বিএনপির রাজনৈতিক সম্পদ হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। তারেক রহমান অভিশপ্ত বোঝামাত্র। লন্ডনে তারেক রহমানের বক্তৃতা আষাঢ়ে গল্পের মতোই বোঝায় না, একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা যে ভাষায় কথা বলতে সাহস পায় না, তাদের দোসররা যে ভাষায় কথা বলতে সাহস পায় না, তিনি সে ভাষায় কথা বলেন। দাম্ভিক উন্মাদের প্রলাপ মনে হয়। যার আত্মোপলব্ধি নেই। অনুশোচনা, গ্লানি নেই। বাংলাদেশের আত্মা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করুন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সমালোচনা করুন। কিন্তু জাতির পিতাকে নিয়ে কটাক্ষ করা সব শক্তিকে এক মোহনায় অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মিলিত করে দেয়। বঙ্গবন্ধুর প্রতি কটাক্ষ কোনো দেশপ্রেমিক মানুষ বরদাশত করতে পারে না। আমি আরও বলেছিলাম, যেখানে লাখ লাখ, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাতে লুট হয়েছে, হাজার হাজার কোটি টাকা শেয়ারবাজারের জুয়াড়িরা লুট করে নিয়ে গেছে, সেখানে ২ কোটি টাকার জন্য কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে জামিনে হলেও মুক্ত করে রাজনীতির পরিপক্ব কৌশল বিএনপির নির্ধারণ করা উচিত। যেখানে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ থাকবে না। তারেক রহমান ও তার লন্ডন, নিউইয়র্কসহ বিদেশে থাকা অভিশপ্ত সিন্ডিকেট যত দিন বিএনপিতে খবরদারি করবে তত দিন এ দলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এই রাহুমুক্ত হয়ে বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের জায়গায় দাঁড়িয়ে বিশুদ্ধ হয়ে রাজনীতি শুরু করতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়। কয়েকদিন আগে জাতিসংঘে দেওয়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাষণ নিয়ে এ দেশে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এত বাহ্বা দিচ্ছেন যে মনে হচ্ছে, কোনো বিশ্বসেরা রাজনীতিবিদ বিশ্বজয়ী বক্তৃতা করেছেন। এ দেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসরদের যখন বিচার হয়, পাকিস্তানের সংসদে তখন ইমরান খানরা নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় তুলেছেন। একাত্তরে ইমরান খানের চাচা নিয়াজি এবং বেলুচিস্তানের কসাই টিক্কা খান পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়েছে। আমাদের ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ভেজা এ স্বাধীন বাংলাদেশ। আমাদের আড়াই লাখ মা-বোনের গণধর্ষণের নির্যাতনের আর্তনাদে এ দেশের বাতাস এখনো ভারি। ইমরান খান যদি জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে তার বাবা-চাচা ও ভাইদের যুদ্ধাপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতেন আমাদের প্রাপ্য পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করতেন তাহলে না হয় বুঝতাম একপাল পাকিস্তানপ্রেমিক তাকে শাবাশ দিচ্ছেন। আমরা যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছি তখন মোনায়েম খানরা পাকিস্তানের দালালি করেছেন। আমরা যখন একাত্তরে যুদ্ধ করেছি তখন আমাদের ভারতের চর বলে, পাকিস্তানের দুশমন বলে গোলাম আযম ও শাহ আজিজরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হয়েছেন। এখনো একদল শিক্ষিত মানুষ বাংলাদেশি হতে পারেনি। চিন্তায় পাকিস্তানি রয়ে গেছে। একাত্তরে ভারত তাদের নেত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, খাবার দিয়েছে, অর্থ দিয়েছে, অস্ত্র দিয়েছে, ট্রেনিং দিয়েছে, বিশ্বজনমত পক্ষে টেনেছে। এমনকি মিত্রবাহিনীর হয়ে যুদ্ধে জীবন দিয়েছে। রক্তে লেখা একাত্তরের বন্ধু ভারত ও তার ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শিক রাষ্ট্রের বর্ণ অনেকটা এখন ধূসর করে ফেলেছে। তিস্তার পানি নিয়ে হোক, সীমান্ত হত্যা নিয়ে হোক, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক দূতিয়ালি হবে, দেনদরবার হবে, তাদের কর্মকান্ডের নিন্দাও হবে; কিন্তু ভারতবিরোধিতা করতে গিয়ে লাখো শহীদের রক্তে পা দিয়ে, মা-বোনের সম্ভ্রমে পা দিয়ে পাকিস্তানকে বন্ধু বানাতে পারি না। এ কথাগুলো আর একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দোসর স্বাধীন বাংলাদেশের নিষিদ্ধ বিএনপির মিত্র জামায়াত এ দেশের মানুষের রাজনীতির কল্যাণের শক্তি হতে পারে না। এসব কথা বিভিন্ন টকশোয় বলায় ও বিভিন্ন কলামে লেখায় বিএনপি ও জামায়াতের দেশের বাইরে থাকা সাইবারযোদ্ধারা আর্তনাদ করে উঠেছেন। ভারতের তৃণমূল কংগ্রেসের পেজে দেওয়া বিজেপি নেতা বলে পরিচয় করানো এক মাতালের অশ্লীল নাচের ভিডিও লাল গোলাপের শফিক রেহমানের ডান হাত খ্যাত বিএনপির থিংক ট্যাংকের জি-৯-এর সদস্য বাংলাদেশ বিমান ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ থেকে বরখাস্ত রেজাউর রহমান মানিক তার ফেসবুক পেজে ভাইরাল করলে, তারা লুফে নিয়ে আমার নামে অপপ্রচার চালায়। শেখ হাসিনার চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে গত ১০ বছরে অনুপ্রবেশকারী থেকে দলের ভিতরে থাকা যারা দুর্নীতি করে কাঁচা টাকার দামি গাড়ি, বাড়ি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও দেশ-বিদেশে সম্পদ গড়েছেন তাদের চিহ্নিত করতে গেলে তারাও এটিকে ছড়িয়ে দেন। তাদের লুটের ভাগ না পাওয়া দুর্নীতিবাজ এ কালো শক্তির অন্ধ ভক্তরাও লাফালাফি করে। কিন্তু ওরা জানে না আমার ক্ষমতা নেই। আমার কোনো ক্ষমতাবান নেই। আমার অর্থ নেই, গানম্যান নেই। কিন্তু পেশাদারিত্বের ওপর দাঁড়ানো মানসিক শক্তির প্রাণপ্রাচুর্য এবং শক্তিশালী কলম ও কণ্ঠ রয়েছে। অভিশপ্ত ও দুর্নীতিবাজ দানবের সামনে কলম থামাতে আমি আসিনি। কণ্ঠ স্তব্ধ করতে আসিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথার্থই বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি ঘুমিয়ে থাকেন না। সব খবর রাখতে হয়। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হয়। প্রধানমন্ত্রী অনেক খবর রাখলেও সব খবর রাখা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তার সঙ্গে প্রেসবক্সে বসে বিসিবির পরিচালক হিসেবে ক্রিকেট খেলা উপভোগ করে খুনি বজলুল হুদার শ্যালক হানিফ ভূঁঁইয়া। খালেদা জিয়ার মাথায় ছাতা ধরা দেহরক্ষী লোকমান মোহামেডানের ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের অধিপতিই নয়, বিসিবির পরিচালক হয়ে তার বক্সে বসেও খেলা দেখে। বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করে। যুবদল থেকে যুবলীগে আসা বিশাল গানম্যান দল নিয়ে মোটরসাইকেল ও দামি গাড়িতে সাইরেন বাজিয়ে পূর্ত অধিদফতরে সব ঠিকাদারি নেয় জি কে শামীম। ফ্রীডম পার্টির ক্যাডাররা হয়ে যায় যুবলীগ, চাঁদাবাজ ও ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের মালিক। লোকমানকে আটকের সময় হাতকড়া পরানো হয়নি। যেন জামাই আদর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন না, সুনামগঞ্জের মতো জেলা নেতৃত্বে বাপ আওয়ামী লীগের মরহুম নেতা বলে যে ছেলেটিকে নেতা-কর্মীদের আপত্তির মুখে নেতৃত্বে বসান সেই কালো কুৎসিত দুর্নীতিবাজ দলকেই শেষ করেনি নিজে অঢেল অর্থ বাড়ি, গাড়ি, দামি বিলাসি ফ্ল্যাট ও বিদেশে সম্পদ গড়েছে ১০ বছরে। এমনকি লন্ডনে তারেক রহমানের ডান হাত ও শেখ হাসিনার গাড়িবহর ও হাইকমিশনে হামলাকারী বিএনপি নেতার সঙ্গে কোম্পানি করেছিল জগন্নাথপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদ লুটপাটের জন্য। এসব বিশ্বাসঘাতক দুর্নীতিবাজদের অন্ধ ভক্তরাও বিএনপি-জামায়াতের সাইবার অপপ্রচারের নোংরা প্রচারণায় আমাদের বিরুদ্ধে শরিক হয়। বিএনপি-জামায়াতের অভিশপ্ত আস্তানায় আওয়ামী লীগের কারা যোগাযোগ রাখে নিয়মিত? এ প্রশ্ন আজ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর! একজন লোকমান, একজন জি কে শামীম আজ ধরা পড়েছে। এমন জি কে শামীম ও লোকমানরা আজ কতজন ক্ষমতার বাণিজ্যের বাজিকর। বিএনপি-জামায়াতের আস্তানায় দেয় টাকা? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফরকালে দেশের বড় বড় শিল্পপতিকে দেখা যায় না। যাদের নিয়ে গেলে বিদেশি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অনেক জানেন কিন্তু সব জানেন না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল, শেখ হাসিনার লড়াইয়ের সতীর্থরা মিথ্যা নোংরা বিএনপি-জামায়াতের সাইবার আক্রমণের শিকার হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কেন নীরব থাকে আমি বুঝি না! তবে আমরা আশাবাদী জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের মতো দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তিনি বিজয়ী হবেন এবং সুশাসনের সুবাতাস বইয়ে দেবেন দেশের রাজনীতিকে পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া আদর্শিক জায়গায়। সৎ, নির্লোভ নেতা-কর্মীদের হাত ধরে তুলে আনবেন। বাঙালির মহত্তম নেতা বঙ্গবন্ধু ও গৌরবের অর্জন মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারিত্বের একমাত্র বাতিঘর তিনি। শপথ নেওয়ার সময় আজ, অভিশপ্ত কালো শক্তির দিন শেষ, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বাতিঘর মুজিবকন্যার আলোতেই আলোকিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ। লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

আজকের মোট পাঠক

32602

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত