বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯

দিল্লির মসনদে ফের মোদি

২৩মে,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের ১৭ তম লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। আর এর মধ্য দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য আবারও দিল্লির মসনদে বসবেন নরেন্দ্র মোদি। ফল গণনার দুই ঘণ্টা না হতেই মোদির দল ক্ষমতায় থাকছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করতে হলে ৫৪৩টি আসনের মধ্যে কমপক্ষে ২৭২টি আসন পেতে হবে কোন রাজনৈতিক দল কিংবা জোটকে। সেই ম্যাজিক নাম্বার বিজেপি খুব দ্রুতই অতিক্রম করে গেল। এনডিটিভির সরাসরি প্রচারিত তথ্যানুযায়ী, ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৫১০টির ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এরমধ্যে বিজেপি ৩১০ আসন পেয়েছে বিজেপি। বিপরীতে ১০৯ আসন পেয়েছে কংগ্রেস। স্বাধীন প্রার্থী কিংবা জোট পেয়েছে ৯২ টি আসন। ফল ঘোষণা বাকী ৪২টি আসনে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোট গণনা। বিকেলের দিকে সম্পূর্ণ ফলাফল জানা যাবে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।...

ভারতের লোকসভা ভোটের ফল আগামীকাল

২২মে,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতে লোকসভা ভোটের ফল জানা যাবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। তার আগে বুথফেরত জরিপ যে আভাস দিয়েছে, তাতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ একটু স্বস্তি পেতেই পারে। জোটের নেতারা যে সেই জরিপের পূর্বাভাস ধরে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন, তা-ও আভাস মিলছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর আমন্ত্রণে গতকাল রাতে দিল্লির একটি পাঁচতারা হোটেলে বিশেষ ডিনারে হাজির হয়েছিলেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের নেতারা। ডিনারের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে একান্ত কথা বলেন। গত পাঁচ বছরে কাজের জন্য সব মন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেওয়া হয়। এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের টিম মোদি সরকার বলে ধন্যবাদ দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তিনি নিজের টুইটারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নতুন ভারত ফের গঠন হবে বলেও জানান। গত রোববার শেষ পর্বের ভোটের দিন সন্ধ্যায় ভারতের বিভিন্ন সংস্থা তাদের বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপি তথা এনডিএকে এগিয়ে রাখলেও এদিনের ডিনার ছিল মূলত এনডিএর পরবর্তী স্ট্র্যাটেজি ঠিক করার জন্য। এদিন এনডিএ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাঞ্জাবে বিজেপির সহযোগী অকালি নেতা প্রকাশ সিং বাদল, তাঁর ছেলে সুখবীর বাদল, শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার, রামবিলাস পাসোয়ান, তাঁর ছেলে চিরাগ পাসোয়ান, এআইএডিএমকের ই পালানিস্বামী ও পনিরসিলভম, আপনা দলের নেতা অনুপ্রিয়া প্যাটেল, রামদাস আটওয়ালে প্রমুখ। নির্বাচনী ফল প্রকাশের আগে এই নৈশভোজ ও বৈঠকে গত এনডিএ সরকারের বিভিন্ন কাজ এবং আগামী দিনের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। আলোচনায় উঠে আসে তৃণমূল কংগ্রেসশাসিত পশ্চিমবঙ্গ এবং বামশাসিত কেরালা রাজ্যের কথাও। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার কড়া নিন্দা করা হয় বলে জানা গেছে। নৈশভোজে এনডিএর অটুট শক্তির কথা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, এনডিএ ভারতের স্তম্ভ। তিনি বলেন, এনডিএ ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ভারতের নিরাপত্তায় বদ্ধপরিকর এনডিএ। শাসক জোট প্রতিশ্রুতি রাখতে পেরেছে বলেই মানুষ এই জোটের প্রতি ভরসা রেখেছেন। এনডিএ জোট আবার ক্ষমতায় আসছে ধরে নিয়েই রাজনাথ সিং আরো বলেন, আগামী বছরগুলোতে আমাদের আরো দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এদিন সন্ত্রাস দমনে এই সরকারের সফলতার কথাও আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। সে ক্ষেত্রে আগামী দিনে আরো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন রাজনাথ সিং। গত রোববার ভারতের লোকসভা নির্বাচনের শেষ পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর যে বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষা আসতে থাকে, তাতে গড় ফল এনডিএ পেতে পারে ৩০২টির মতো আসন। ইউপিএ পেতে পারে ১২২টির মতো আসন। ভারতের ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে এবার নির্বাচন হয়েছে ৫৪২টি আসনে। কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসতে গেলে দরকার ২৭১টি আসন। ...

১৬ সেকেন্ডে গায়েব ১৬ হাজার টন ইস্পাত

২১মে,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ওয়াসার পানির লাইন সংস্কার কিংবা রাস্তা সংস্কারের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি ঢাকাবাসীর জন্য নতুন কিছু নয়। তবুও ঢাকার রাস্তায় প্রায়ই দেখা যায়, উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়েছেন এসব খোঁড়াখুঁড়ি দেখতে। যদি ঢাকাবাসী কখনো দেখতেন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেঙে পড়ছে ২১তলা কোনো ভবন, তাও আবার হাজার হাজার টন ইস্পাতের তৈরি, তাহলে কেমন হতো ব্যাপারটি। এমন ঘটনা ঘটেছে, তবে ঢাকায় নয়, হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রে। গত রোববার স্থানীয় সময় সকালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভাঙা হয় ভবনটি। বার্তা সংস্থা বিবিসি জানায়, মাত্র ১৬ সেকেন্ডে বালুর মতো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায় ১৬ হাজার টন ইস্পাত দিয়ে নির্মিত ভবনটি। এ সময় হাজারো মানুষের ভিড় জমেছিল ৪৭ বছরের পুরোনো ভবনটির ভাঙন দেখতে। মোবাইল ফোনে ঘটনাটির ছবি তোলেন এবং ভিডিও করেন অনেকে। ১৯৭২ সাল থেকে পেনসিলভানিয়ার বেথেলহেমে মার্টিনে টাওয়ারে ছিল বেথেলহেম স্টিল কোম্পানির সদর দপ্তর। ভবনটি ছিল ওই এলাকার সে সময়কার সবচেয়ে উঁচু ভবন। ২০০৩ সালে কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ২০০৭ সাল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল ভবনটি।...

যুদ্ধে জড়ালে ইরানের ইতি ঘটবে: ট্রাম্প

২০মে,সোমবার,,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে তাহলে ইরানের সমাপ্তি ঘটবে। রোববার এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যদি ইরান যুদ্ধে জড়াতে চায়; তাহলে তা হবে ইরানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। আর কখনও যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেবেন না বলে ইরানি নেতাদের সতর্ক করে দিয়েছেন ট্রাম্প। খবর বিবিসির। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বলছিল, তারা যুদ্ধে জড়াতে চায় না। যদিও ট্রাম্প তার টুইটে যেভাবে স্বর উঁচিয়ে কথা বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানও যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিল। শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ জোর দিয়েই বলেন, যুদ্ধের ব্যাপারে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো যুদ্ধের সম্ভাবনা নেই। কেননা আমরা যুদ্ধ চাই না। আর এই অঞ্চলে ইরানের সঙ্গে লড়াই করতে পারবে এমন ভ্রান্তধারণাও কারও নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার সম্ভাবনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ৩০ মে মক্কায় এক জরুরি বৈঠকে বসতে আরব লীগ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট জিসিসি সদস্যদের আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান। সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সৌদি বার্তা সংস্থা (এসপিএ) জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সমুদ্রসীমায় (সৌদি) বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবের ভেতর দুটি তেলক্ষেত্রে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।...

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ থেকে অস্ত্রসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

২৩মে,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরীর আগ্রাবাদ থেকে সাইফুল ইসলাম ইমন (২৩) নামে এক ছিনতাইকারীকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম ইমন গোপালগঞ্জের পোপিনাথপুর এলাকার মো. সিদ্দিকের ছেলে। ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ বলেন, রাতে নিয়মিত টহলের সময় আগ্রাবাদ সাউথল্যান্ড সেন্টারের সামনে দুই যুবককে দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। তাদের চ্যালেঞ্জ করা হলে একজন পালিয়ে যায়। এ সময় ধাওয়া দিয়ে সাইফুল ইসলাম ইমনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। পালাতে গিয়ে সামান্য আহত হয়েছে সে। রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ওসি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে ছিনতাই করার জন্যই ওই এলাকায় অপেক্ষা করছিল আরও দুইজন।...

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলায় ৪ আসামির যাবজ্জীবন

২২মে,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে চলন্ত বাসে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিলেন আদালত। প্রত্যেক আসামিকে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদানেরও আদেশ দিয়েছেন। টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম খালেদা ইয়াসমিন বুধবার দুপুরে তিন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। এ ঘটনায় মামলার দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অপর আসামি পলাতক রয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- গাড়িচালক হাবিবুর রহমান (নয়ন) (২৮), হেলাপার মো. খালেক ভুট্টো (২৩) ও সুপাভাইজার আশরাফুল (২৬)। এ ঘটনায় অপর সুপার ভাইজার রেজাউল করিম জুয়েল (৩৮) পলাতক রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাসিমুল আক্তার নাসিম। তাকে সহায়তা করেন মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল কালিয়াকৈরের মৌচাকে কর্মরত এক গার্মেন্টস কর্মী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে ভোর ৫টার দিকে বিনিময় পরিবহনের একটি বাসে কালিয়াকৈরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এ সময় বাসে যাত্রী না থাকার সুযোগে বাসটি কিছু দূর যাওয়ার পর সুপার ভাইজার বাসের জানালা দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে গাড়ির চালক হাবিবুর রহমান নয়ন তাকে পিছনের সিটে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পালাক্রমে বাসের এক সুপার ভাইজার ও হেলপার ধর্ষণ করে। পরে বাসটি ঢাকা না গিয়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোডের একটি ফাঁকা জায়গায় ওই গৃহবধূকে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই গৃহবধূ মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে এসে তার স্বামীকে বিষয়টি জানালে স্বামী তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত বাসের চালক, হেলপার ও সুপার ভাইজার আশরাফুলকে ওই দিনই গ্রেপ্তার করে। গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে চারজনকে আসামি করে চার্জশিট দিয়ে ছয়জনকে অব্যাহতি প্রদান করে। গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালতে ২২ ধারায় গৃহবধূর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দিতে গৃহবধূ আশরাফুল নামের আরো একজনের নাম উল্লেখ করে। এতে মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ জন। এ মামলায় বাদীসহ ৯ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করে।...

গ্লুকোজের নকল কারখানা, মালিক আটক

২০মে,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নকল গ্লুকোজ কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল গ্লুকোজ ও এর উপাদানসহ কারখানা মালিক মফিজুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে দামুড়হুদা উপজেলার মোক্তারপুর গ্রামে নকল কারখানায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামালসহ তাকে আটক করা হয়। কারখানা মালিক মফিজুর রহমান একই গ্রামের মৃত আব্দুল মণ্ডলের ছেলে। এদিকে, মাদকবিরোধী অপর এক অভিযানে মিনি ট্রাক তল্লাশি করে ২০০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করে পুলিশ। সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) আবু রাসেল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোক্তারপুর গ্রামের ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল গ্লুকোজ ও এর উপাদান জব্দ করা হয়। আটক করা হয় কারখানা মালিককে। অন্যদিকে, দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে একটি মিনি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ১৫-৬১৪৮) তল্লাশি করে ২০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। গাড়ির মালিক পালিয়ে গেলেও গাড়িটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে।...

পাবনায় শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ছাত্রলীগের সভাপতি আটক

১৮মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাবনায় শিক্ষক মাসুদুর রহমানকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজের সভাপতি সামসুদ্দীন জুন্নুনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে পাবনা শহর থেকে তাকে আটক করা হয়। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জুন্নুনকে শহর থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আটক সামসুদ্দীন জুন্নুন পাবনা পৌর এলাকার শালগাড়ীয়া মহল্লার মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও পাবনা সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজের সভাপতি। এর আগে শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৬ মে) ভোরে নিজ নিজ বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র সজল ইসলাম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সাফিন। গেল বুধবার রাতে ওই কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে সজল ইসলাম ও সাফিনসহ অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। উল্লেখ্য, ৬ মে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের ১০৬ নম্বর কক্ষে এইচএসসি উচ্চতর গণিত পরীক্ষা চলাকালে সরকারি মহিলা কলেজের দু জন পরীক্ষার্থী খাতা দেখাদেখি করছিলেন। এসময় ওই কক্ষের পরিদর্শক সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের প্রভাষক মাকসুদুর রহমান তাদেরকে নিবৃত্ত করতে না পেরে একপর্যায়ে খাতা কেড়ে নেন। এ ঘটনার জের ধরে গত ১২ মে দুপুরে শিক্ষক মাকসুদুর রহমান কলেজ থেকে মোটরসাইকেল যোগে বেরিয়ে যাওয়ার সময় একদল ছেলে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কিল ঘুষি লাথিসহ বেদম মারপিট করে। মারধরের ভিডিওটি সিসি টিভির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি ভাইরাল হয়।...

গাছের সঙ্গে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫

১৮মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। শনিবার সকাল ৯টার দিকে খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের কাকডাঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। ফকিরহাট মডেল থানার ওসি মো. আবু জাহিদ জানান, সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কাকডাঙ্গা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন ও হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এসময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানান ওসি।...

রাজস্ব আদায়ে ১০ হাজার আউট সোর্সিং শিক্ষার্থী নিয়োগ দেয়া হবে:অর্থমন্ত্রী

২৩মে,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আমাদের অর্থনীতির আকার অনুযায়ী যে রাজস্ব আদায় হয় তা প্রায় অর্ধেক। রাজস্ব আদায় বাড়াতে আউট সোর্সিংয়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থী নিয়োগ দেয়া হবে। বললেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বুধবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষ অর্থনীতি-বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সৌজন্যে ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন,আমাদের ট্যাক্স জিডিপির অনুপাত মাত্র ১০ শতাংশ। যেখানে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে এটা ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ। এখন যদি আমাদের রাজস্ব আদায় ৩ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা হয়, এক্ষেত্রে আরও ৩ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা হওয়ার কথা। তিনি বলেন,আমাদের আরও ৩ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা পেতে হবে। আমরা যদি ৬ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে না পারি তাহলে আমাদের অর্থনীতি যে গতিশীলতা বা গভীরতা পেয়েছে- এটার সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের কোনও মিল থাকে না। আমাদের এ কাজটা করতে হবে। খুবই দুঃখজনক যে যারা ট্যাক্স দেয়, তারাই দেয়। মাত্র ২১ বা ২২ লাখ ট্যাক্স দেয়। এ ছাড়া দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে, এমন অনেকে এখনও ট্যাক্স দেয় না। সুতরাং আগামী বাজেটে আমরা কোনোভাবেই করের হার বাড়াব না। তবে যারা কর দেয় না তাদের করের আওতায় নিয়ে আসবো। ১০ হাজার জনবল নিয়োগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা ট্যাক্স দেয়ার ক্ষমতা রাখে কিন্তু ট্যাক্স দিচ্ছে না তাদের কাছে পৌঁছাব, তাদের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করব। এ জন্য আমরা প্রথম বছর আউট সোর্স হিসেবে ১০ হাজার জনবল বাড়াব। এসব জনবল হবে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, যারা কোনো কাজ পাচ্ছে না তাদের আউট সোর্স হিসেবে এ নিয়োগ দেয়া হবে। প্রতি উপজেলায় ট্যাক্স অফিস নিয়ে যাওয়া হবে জানিয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন শুরু করব। তবে এটা প্রথম থেকেই পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপের বরাত দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকা ও বড় বড় শহরে প্রায় ৯ লাখ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রথমে বড় বড় জায়গায় এটা (ট্যাক্স আদায়) বাস্তবায়ন করা হবে। ভ্যাট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আমরা আয়করের বিষয়টি জনগণের কাছে নিয়ে যাব। তবে জোর করব না। জনগণ যখন ভ্যাট দেবে তখন কর দেয়াতেও অভ্যস্ত হয়ে যাবে। ...

চাল আমদানি কমাতে শুল্ক বাড়ল দ্বিগুণ

২২মে,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিদেশ থেকে চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে আমদানিতে ২৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে পরিপত্র জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বুধবার বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ. মুমেন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চাল আমদানি নিরূৎসাহিত করতে চালের ওপর বর্তমানে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ বহাল রেখে রেগুলেটরি ডিওটি ৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ সব পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। ফলে চাল আমদানির ক্ষেত্রে মোট করভার ৫৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বুধবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা আজ থেকেই কার্যকর হবে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ১০ মাসে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এতে দেশীয় কৃষকরা উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে চাল বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। যার ফলে প্রান্তিক কৃষকরা আর্থিকভাবে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি বলেন, কৃষকগণকে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষাকল্পে প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুশাসন অনুযায়ী আমরা আমদানি পর্যায়ে চালের ওপর আমদানি শুল্ক কর বৃদ্ধি করেছি। ...

সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রাথমিকে নিয়োগ পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশ

১৭মে,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ এর পরীক্ষা চার ধাপে নিতে বৃহস্পতিবার পরীক্ষার সংশোধিত তারিখ এবং কোন ধাপে কোন কোন জেলার পরীক্ষা হবে তা প্রকাশ করা হয়। তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১ জেলার ২৪ লাখ এক হাজার ৯১৯ জন প্রার্থী ১৩ হাজার পদের বিপরীতে এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ মে, ৩১ মে, ১৪ জুন এবং ২১ জুন সকাল ১০টায় প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। নতুন সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২৪ মে এবং দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা ৩১ মে-ই নেওয়া হবে। তবে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা ২১ জুন এবং চতুর্থ ধাপের পরীক্ষা হবে ২৮ জুন। এর আগে গত ১৭ মে থেকে এই পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও ওই দিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা থাকায় এই নিয়োগ পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে গত বছরের ১ থেকে ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করেন চাররিপ্রার্থীরা। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে কয়েক গত কয়েক বছর ধরে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন পরীক্ষার দিন সকালে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছাপিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হবে। দেশের ৬৩ হাজার ৬০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩ লাখ ২২ হাজার ৭৬৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন।...

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে দুপুরের খাবার

১৫মে,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সারাদেশের ১০৪টি উপজেলার সবগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরে রান্না করা খাবার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রায় ৩২ লাখ শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনা হবে। জাতীয় স্কুল মিল নীতি অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফও) সহযোগিতায় জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা, বান্দরবানের লামা উপজেলা, বরগুনার বামনা উপজেলায় ২০১৩ সালে এ প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে চালু করা হলেও, এখন দেশের দারিদ্র্য প্রবণ এলাকার সকল সরকারি প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রকল্পটি চালু করতে চায় তারা। আগামী জুলাই থেকে আরও ১৬টি উপজেলায় চালু হবে দুপুরে খাবার দেয়ার এই কর্মসূচি। পরে এর আওতায় আসবে ১০৪টি উপজেলার সবগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, ১৬টি উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি দেখে বাকি উপজেলাগুলোতে কীভাবে কাজ করা হবে, তার ছক কষা হবে। আগামী বছরের মধ্যে এসব প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ কোটির বেশি। এর মধ্যে দারিদ্র্য প্রবণ ১০৪টি উপজেলায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩২ লাখের মতো। এসব উপজেলায় স্কুল মিল নীতি বাস্তবায়ন করতে গেলে বছরে ৮ হাজার কোটি টাকা লাগবে বলে হিসাব কষেছে মন্ত্রণালয়। আকরাম হোসেন আরও বলেন, আমরা ৮ হাজার কোটি টাকা চেয়েছি। সারাদেশে বাস্তবায়ন করতে গেলে এই টাকাটা লাগবে। তবে সরকারি সহযোগিতা ছাড়াও বেসরকারি পর্যায় থেকে কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে তাও আমরা নেব। জাতীয় স্কুল মিল নীতির দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বাজেট থেকে প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থ বিভাগও এ প্রকল্পে অর্থ দেবে। স্কুল মিল নীতি প্রকল্পের ওপিডি নূরুন্নবী সোহাগ বলেন, সরকারি প্রাথমিক স্কুলে দুপুরের খাবার দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি ১৬ টাকা খরচ হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে একটি সেল বা ইউনিট গঠন করা হবে। কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণে একটি পৃথক জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি কর্তৃপক্ষ গঠনের চিন্তাও রয়েছে। এছাড়া বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কারিগরি সহায়তায় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পরে একটি খাদ্য ও পুষ্টি গবেষণা উন্নয়ন কেন্দ্র গঠন করবে মন্ত্রণালয়।...

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সূচি

২২মে,বুধবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী ৩০ মে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি বিশ্বকাপের ১২তম আসর। ষষ্ঠবারের মতো ক্রিকেটের এই মহারণে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সর্বপ্রথম অংশগ্রহণ করে ১৯৯৯ সালে। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি প্রকাশ করেছে আইসিসি। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আর বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে ২ জুন, প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। এক নজরে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সূচি ২ জুন প্রতিক্ষ: দক্ষিণ আফ্রিকা ভেনু: ওভাল ৫ জুন প্রতিপক্ষ: নিউজিল্যান্ড ভেন্যু: ওভাল ৮ জুন প্রতিপক্ষ: ইংল্যান্ড ভেন্যু: কার্ডিফ ১১ জুন প্রতিপক্ষ: শ্রীলঙ্কা ভেন্যু: ব্রিস্টল ১৭ জুন প্রতিপক্ষ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভেন্যু: টন্টন ২০ জুন প্রতিপক্ষ: অস্ট্রেলিয়া ভেন্যু: নটিংহাম ২৪ জুন প্রতিপক্ষ: আফগানিস্তান ভেন্যু: সাউদাম্পটন ২ জুলাই প্রতিপক্ষ: ভারত ভেন্যু: বার্মিংহাম ৫ জুলাই প্রতিপক্ষ: পাকিস্তান ভেন্যু: লর্ডস ...

বাইবেল অনুযায়ী বিশ্বকাপ পাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ!

১৯মে,রবিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দীর্ঘদিন দলীয় পারফরম্যান্সের এতটাই বাজে অবস্থাতে যে গেল পাঁচ বছর ধরে কোনো সিরিজ/টুর্নামেন্টে জয় পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সদ্য শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের কাছে ফাইনালসহ টানা তিন ম্যাচে হারতে হয়েছে দলটির। যদিও ৩০ মে থেকে শুরু হতে চলা বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখছেন উইন্ডিজদের সাবেক অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। ক্যারিবীয়রাই এবারের বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করবে, এমন বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে স্যামি টেনে এনেছেন খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলকে। আইসিসির র;্যাংকিংয়ের অষ্টম স্থানে থাকা দলটিকে নিয়ে স্যামি বলেছেন, বাইবেলে ৪০ সংখ্যাটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজই এবারের চ্যাম্পিয়ন। উইন্ডিজদের সাবেক এই অলরাউন্ডার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ৪০ বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ জিতেছে। আমি বাইবেলে বিশ্বাস রাখা একজন মানুষ। আপনারা দেখবেন, পবিত্র গ্রন্থটিতে ৪০ সংখ্যাটি বার বার এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, এই কারণেই আমরা এবারের বিশ্বকাপটি নিজেদের করে নেবো। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রিভিউ শো অনুষ্ঠানে স্যামি বলেন, আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে, আমরাই এবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হব। ইউনিভার্সাল বস ক্রিস গেইল অবসর নিতে চলেছে। নিজের শেষ বিশ্বকাপ সে মাতিয়ে দিতে চাইবে। দলের শক্তি-সামর্থ্যের প্রসঙ্গে দুই বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী এই অধিনায়ক বলছেন,আমাদের দলের ব্যাটিং লাইন আপ বেশ ভাল। তবে বোলারদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে। ১৯৭৫ সালে প্রথম বিশ্বকাপের ট্রফিটি নিজেদের করে নিয়েছিল ক্যারিবীয়রা। ৪০ বছর আগে ১৯৭৯ সালে সব শেষ বিশ্বকাপ জেতে নেয় ভিভ রিচার্ডস নেতৃত্বাধীন দলটি। তারপরে আর বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরের ট্রফিটি জয় করতে পারেনি উইন্ডিজরা। ১৯৯৬ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়, যদিও শেষ চারেই থামতে হয়েছিল তাদের।-আরটিভি ...

নায়িকা জলির বাগদান

১৯মে,রবিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ৫ বছর ধরে প্রেম করা ব্যবসায়ী পাত্রের সঙ্গেই অবশেষে বিয়ের পিড়িতে বসতে যাচ্ছেন চিত্রনায়িকা জলি। ইতিমধ্যে তাদের বাগদান হয়ে গেছে। মেয়েটি এখন কোথায় যাবে ছবি নায়িকা জলি জানান, শিগগিরই বিয়ে করছেন।১৬ মে ঘরোয়া পরিসরে তাদের বাগদান হয়েছে। তবে বিয়ের তারিখ জানাননি জলি। জলির বর আরাফাত রহমান ব্যবসায়ী। পাশাপাশি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। জলি জানান, ৫ বছর ধরে আরাফাতের সঙ্গে তার গোপন প্রেম চলছিল। মিডিয়ায় কাজ করায় বিষয়টি প্রকাশ করেননি জলি। জলি বলেন, চলচ্চিত্রে আসার অনেক আগে থেকেই আমাদের সম্পর্ক। ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে, এটা আমার জন্য আনন্দের বিষয়। দুই পরিবারের সিদ্ধান্তে বিয়ের তারিখ চূড়ান্ত করব শিগগিরই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। যেহেতু বাগদান তাই সবাইকে জানানো হয়নি। খুব তাড়াতাড়ি বিয়ের তারিখ চূড়ান্ত হবে। আশাকরি সবাইকে নিয়ে সন্দর একটি অনুষ্ঠান করে বিয়েটা করব-যোগ করেন জলি। ২০১৬ সালে অঙ্গার ছবিতে অভিনয়ের সুবাবে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় সুদর্শনী জলির। এরপর নিয়তি ছবিটি মুক্তি পায়। সর্বশেষ মুক্তি পেযেছে মেয়েটি এখন কোথায় যাবে চলচ্চিত্রটি। আরও কয়েকটি ছবিতে কাজ করছেন তিনি।...

সম্প্রতি অবসর কাটাতে সুইজারল্যান্ডে আল্লু অর্জুন

১৫মে,বুধবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় নায়ক আল্লু অর্জুন সবসময়েই নিজেকে শিরোনামে রাখতে ভালোবাসেন। তার পর্দার কাজ হোক কিংবা ব্যক্তিগত জীবন, সবকিছু নিয়েই আছে ভক্তদের বাড়তি আগ্রহ। আল্লু অর্জুন নিজেও তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানের সঙ্গে কাটানো সময়গুলোর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন ভক্তদের সঙ্গে। সম্প্রতি অবসর কাটাতে সুইজারল্যান্ড গিয়েছেন আল্লু অর্জুন। সঙ্গে নিয়েছেন স্ত্রী স্নেহা রেড্ডি এবং দুই সন্তানকে। ম্যাটারহর্ন মাউন্টেনের সামনে দাঁড়িয়ে পরিবারের সঙ্গে কিছু ছবি তুলেছেন তিনি। ছবিগুলো শেয়ার করা হয়েছে তার ভ্যারিফাইড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেং ত্রিবিক্রমের ছবির শুটিং থেকে কিছুদিনের বিরতি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে গিয়েছেন আল্লু অর্জুন। ফিরে আবার শুটিং শুরু করবেন তিনি। ছবিতে তার আল্লু অর্জুনের বিপরীতে দেখা যাবে পূজা হেগরেকে। এছাড়াও তিনি আরও দুটি ছবির কাজ হাতে নিয়েছেন সম্প্রতি। একটি হলো সুকুমার এর ছবি। ছবির নাম ঠিক হয়নি এখনও। আরেকটি ভেনু শ্রীরাম এর আইকন। ...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : বাংলাদেশের পুনর্জন্মের ভিত্তি

১৭মে,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তার কারণেই ২০০৯-পরবর্তী বাংলাদেশ সেনা বা সেনাসমর্থিত শাসনের অবসান হয়। বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়নের মহাসড়কে বাঙালির স্বাধীন জাতিসত্তা তথা পৃথক জাতি রাষ্ট্রের চেতনার অন্যতম ভিত্তি যদি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে ধরে নেওয়া হয় তাহলেও ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় বাঙালির রাষ্ট্রভাষা বাংলা হবে, এর বিরোধীদের মধ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যাও কম ছিল না। তাদের অনেকে আমাদের রাজনীতিতে নেতৃত্বস্থানীয়ও ছিলেন। খাজা নাজিমউদ্দিন ও নুরুল আমিনের নাম সবাই জানলেও ভেতরে ভেতরে তাদের সংখ্যা ছিল প্রচুর। তাদের ধারণা ছিল, সমগ্র পাকিস্তানে উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে তা ইসলাম আর ভূগোলের বিভ্রান্তি নিয়ে সৃষ্ট পাকিস্তানের অখ-তার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। তারা বাংলা ও বাঙালিত্বের মধ্যে হিন্দুয়ানির গন্ধ সবসময়ই পেত। যার ফলে দেখা যায়, ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রসংগীত ও রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ করা হয় পূর্ব পাকিস্তানে। তারও আগে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের সময়ও বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধেও এ দেশে প্রচুর লোকের অবস্থান ছিল। ৬৬ সালে যখন ছয় দফা ঘোষণা করা হয়, তখনও ছয় দফাকে ভারতীয়দের প্ররোচনায় ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করার লোক এ দেশে প্রচুর ছিল। পরবর্তী সময়ে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ও আইয়ুবশাহীর পক্ষে এবং ৭০-এর নির্বাচনে বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের বিপক্ষে প্রচুর বাঙালি অবস্থান নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সংবিধান ও গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও নিপীড়নের সহায়ক হিসেবে কাজ করেছিল হাজার হাজার আলবদর, রাজাকার। জামায়াতে ইসলামীসহ অনেক অতিবাম রাজনৈতিক দল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করে পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধে নেমেছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দুনিয়ার অধিকাংশ দেশই আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিরোধিতাকে পরাজিত করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ জাতি বিজয় অর্জন করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। পরাজিত হয় ৫২, ৫৪, ৬১, ৬৬, ৬৯, ৭০-এর বাঙালি চেতনার বিরুদ্ধাবলম্বনকারী শক্তি। কিছুদিনের জন্য পরাজিত শক্তি চুপচাপই ছিল; কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে হত্যার মধ্য দিয়ে পুনরায় ক্ষমতাসীন হয় দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের বিরোধীপক্ষ ৭১-এর পরাজিত শক্তি। আসলে ওই দিন যারা রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে তারা মূলত আবার পূর্ব পাকিস্তানকেই কায়েম করে। মোশতাক, জিয়ার নেতৃত্বে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন হয় আজীবন বাঙালিত্বের বিরোধিতাকারী অপশক্তি। ইতিহাসের চাকা ঘুরতে থাকে পেছনের দিকে। ১৯৭৬ সালের ৩ মে এক ফরমান জারি করে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলোকে পুনর্বাসিত করেন। রাজনীতিতে নিয়ে আসা হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীকে। ১৯৭৬ সালের ২১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সায়েমের কাছ থেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদ কেড়ে নিয়ে কিছুদিন পর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে আইয়ুবীয় কায়দায় হ্যাঁ-না ভোটে ৮৮.৫ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিতে ৯৮.৮৮ শতাংশ ভোট তার পক্ষে দিয়েছে বলে প্রচার করেন। ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই পিপিআর ঘোষিত হওয়ার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবিত হয়। যদিও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় আরও দুটি আওয়ামী লীগ তৈরির চেষ্টা করা হয়। আওয়ামী লীগে একাধিক বিভাজন সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু সময়ের পরীক্ষায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মূল আওয়ামী লীগই টিকে যায়। সামরিক শাসনের মধ্যে সেনানিবাসে বসে রাষ্ট্রীয় অর্থে উচ্চাভিলাষী ও ক্ষমতালিপ্সু সামরিক-বেসামরিক পাকিস্তানপন্থি দালাল ও সুবিধাবাদী দলছুট রাজনীতিকদের নিয়ে প্রথমে জাগো দল পরে বিএনপি গঠন করা হয়। ১৯৭৭ সালের ৯ এপ্রিল সেনাপ্রধান ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকা অবস্থায় জিয়াউর রহমান জাগো দলে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালের ১ মে থেকে উন্মুক্ত রাজনীতি শুরু হয়। জিয়া নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধন করে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে শুধু সেনাবাহিনী প্রধানের রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যবস্থা করেন। ১৯৭৮ সালের ৩ জুন ব্যাপক কারচুপিমূলক নির্বাচনে ৭৮.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জিয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। রাজনীতি রাজনীতিকদের জন্য ডিফিকাল্ট করার রাজনীতির প্রবর্তক ও মানি ইজ নো প্রবলেম অর্থনীতির জনক জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ব্যাপক জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত বিএনপি সংসদ দখল করে। প্রথমে মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে সিনিয়র মন্ত্রী এবং পরে ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ তিনি মারা গেলে পাকিস্তানপন্থি মুসলিম লীগ নেতা শাহ্ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। বাংলাদেশকে পাকিস্তানিকরণের ষোলকলা পূর্ণ করলেন জিয়াউর রহমান। পুরো দেশ চলে গেল পাকিস্তানি ভাবধারার লোকদের দখলে। বাকি থাকল শুধু পতাকা আর মানচিত্রটি, জাতীয় সংগীতটি বদলানোর চেষ্টার ধৃষ্টতাও দেখালেন তারা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বলবৎ হওয়া সামরিক আইন ও রাত্রিকালীন সান্ধ্য আইন প্রত্যাহার করা হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল। ১৯৮১ সালের ১৩-১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের সময় ভাগ্যক্রমে বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনা নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন দিল্লিতে। সভাপতি পদ গ্রহণে শেখ হাসিনাকে রাজি করানো এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগের অংশ হিসেবে দিল্লিতে একাধিক বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন আবুল মালেক উকিল, ড. কামাল হোসেন, জিল্লুর রহমান, আবদুল মান্নান, আবদুস সামাদ আজাদ, এম কোরবান আলী, জোহরা তাজউদ্দীন, সাজেদা চৌধুরী, ডা. এসএ মালেক, আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে কয়েক দফা বৈঠক হয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। এরই মধ্যে পাকিস্তানপন্থি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিএনপি দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু করে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রতিরোধের জন্য। তারা সারা দেশে প্রচুর লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করে। জয় ও পুতুল জলবসন্তে আক্রান্ত হওয়ায় শেখ হাসিনার ঢাকা প্রত্যাবর্তন কয়েকদিন বিলম্বিত হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দুপুর ১২টায় পুতুলকে নিয়ে ঢাকায় আসেন শেখ হাসিনা। কিছুটা হলেও ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের মতো। ওই দিন বঙ্গবন্ধুর অবতরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছিল। শেখ হাসিনার ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের মধ্য দিয়ে যে ভিত্তিকে উপড়ে ফেলার চেষ্টায় নড়বড়ে করে ফেলা হয়েছিল, তা পুনঃগ্রথিত হওয়ার যাত্রার শুভসূচনা। শেখ হাসিনাকে পেয়ে বাঙালি তার বাঙালিত্ব ও বাংলাদেশকে ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বাঁধল। আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু সে;াগানে। জনস্রোতে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল। অনেক ঝুঁকি নিয়েই অবতরণ করেছিল শেখ হাসিনাকে বহনকারী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ৭০৭ বোয়িং বিমানটি। লাখো লাখো মানুষ রাস্তার দু পাশে দাঁড়িয়েছিল। গগনবিদারী সে;াগানের মধ্যে বেরিয়ে আসেন সাদা রঙের ওপর কালো ডোরাকাটা তাঁতের মোটা শাড়ি পরা প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তখন কাঁদছিলেন, প্রকৃতিও একই পথ ধরল। চারদিক অন্ধকার হয়ে বৃষ্টি শুরু হলো, সঙ্গে ঝড়। ট্রাক ও মিছিল চলছিল খুব ধীরগতিতে। সেই মিছিলে যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। মিছিল বনানী কবরস্থান হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে আসতে তিন ঘণ্টা সময় লাগল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যখন শেখ হাসিনা গণসংবর্ধনার মঞ্চে দাঁড়ালেন, তখনও প্রচ- ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দাঁড়িয়েছিল কমপক্ষে দশ লাখ মানুষ। শেখ হাসিনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবেগময় ভাষণ দেন। তবে ভাষণে দৃঢ়তার কোনো অভাব ছিল না। আওয়ামী লীগের মতো স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী বৃহৎ সংগঠনটিকে নেতৃত্বদানে যে তিনি নিশ্চিতভাবে সফল হবেন তার বক্তৃতায় সে লক্ষণই পরিলক্ষিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তি সংগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য আমি এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই। তার আগমনে গণজোয়ার নিয়ে আসে সারা দেশে। হতাশাগ্রস্ত আওয়ামী লীগ কর্মীরা সুসংগঠিত হতে শুরু করে। বিপন্ন যে জাতি দীর্ঘ স্বাধীনতা-সংগ্রামের সব অর্জন হারাতে বসেছিল, তাদের মনে আবারও হারানো মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ফিরে পাওয়ার আশা ফিরে আসে। শুরু হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের পথচলা। এরই মধ্যে ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে নিহত হন। অবশ্য এটি ছিল জিয়ার আমলে অনেক সামরিক অভ্যুত্থানের একটি। ৭৫ থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত সময়ে সেনাবাহিনীতে বহু অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানে প্রাণ দিতে হয় হাজার হাজার সেনাসদস্যকে। তাদের অনেককেই বিনাদোষে জিয়াউর রহমান হত্যা করেছিলেন বলে বহু প্রমাণ আছে। জিয়াউর রহমানের হত্যার মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসনের অবসান হলো না, বরং উল্টো হেলিকপ্টার-সানগ্লাস-সাফারির জায়গায় জেঁকে বসল ছেঁড়া গেঞ্জি ও ভাঙা সুটকেস বাহিনী। কালুরঘাট এলাকা থেকে কথিত জিয়ার লাশের বাক্স ঢাকায় এনে লুই আই কানের স্থাপত্য নকশার চরম বিচ্যুতি ঘটিয়ে মাজার নির্মাণ করা হলো পবিত্র সংসদ এলাকায়। পাঠক লক্ষ করবেন, জিয়ার কথিত দ্বিতীয় কবরস্থানকে মিডিয়ায় এবং বিএনপির পক্ষ থেকে মাজার হিসেবে প্রচার চালানো হয়। অবশ্য জিয়ার মাজার তৈরির আগেই সংসদ ভবন এলাকায় সামনের দিকে আরেক কোনায় দখল নেয় সবুর খানসহ পাকিস্তানপন্থি কুখ্যাত রাজাকারের দল। সেটাও করেছিলেন জিয়াউর রহমান পরিকল্পিতভাবেই। ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর ভোট কারচুপি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিচারপতি সাত্তারকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে নিয়ে আসে বাঙালির ইতিহাসের আরেক খলনায়ক এইচএম এরশাদ। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ড. কামাল হোসেনকে প্রার্থী মনোনীত করেছিল। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ছেঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা সুটকেস বাহিনীর শিখ-ী বৃদ্ধ সাত্তারকে সরিয়ে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। এরশাদ ক্ষমতা দখল করে জিয়ার পাকিস্তানি অসমাপ্ত কাজে নিবিড়ভাবে হাত দেন। মাজার-পীর ও লেডি সংস্কৃতির নব উত্থান ঘটে রাজনীতিতে। চরম ভ-ামির অংশ হিসেবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কায়েম করেন। বিভিন্ন পীর, বিশেষ করে আটরশির পীর চলে আসেন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কে হবেন এ সিদ্ধান্ত আসত আটরশি থেকে। কথিত আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট কর্তৃক প্যানেল নির্বাচনের রাতেই এক প্রার্থী চলে গিয়েছিলেন আটরশি; কিন্তু অধিকতর চতুর অন্যজন প্রতিদ্বন্দ্বী বহর আটরশি পৌঁছার আগেই এরশাদের এক বন্ধুকে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ সই করিয়ে নেন। মাদ্রাসা ও মসজিদকে ব্যবহার শুরু করেন রাজনৈতিক লুণ্ঠনের আবরণ হিসেবে। বেঁচে থাকলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারে যার ফাঁসি হতো, এমন রাজাকার নেতা মাওলানা মান্নানকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আনোয়ার জাহিদরা পাকিস্তানিকরণের সিপাহসালার হিসেবে যোগ দেন এরশাদ বাহিনীতে। একই ধারাবাহিকতায় চুরির দায়ে এরশাদ জেল খাটার পর খালেদা জিয়ার উজির বাহিনীতে এসে শামিল হন আলবদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী আর আলী আহসান মুজাহিদ। জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এরশাদও হ্যাঁ-না গণভোটের খেলা আয়োজন করেছিলেন। এবার ভোটার উপস্থিতি দেখানো হয় ৯৫ শতাংশ, যার ৭১ শতাংশ এরশাদের ১৮ দফা কর্মসূচির পক্ষে। সামরিক শাসন চলতে থাকে। ১৯৮৩ সালের শুরুতে আওয়ামী লীগের ১৫ দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। ৯ এপ্রিল হোটেল ইডেনে অনুষ্ঠিত ১৫ দলীয় ঐক্যজোটের এক সম্মেলনে শেখ হাসিনা সামরিক শাসনবিরোধী ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ১৯৮৬ সালের মার্চে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এরশাদবিরোধী আন্দোলন তুমুল আকার ধারণ করে। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে কয়েকবার গৃহবন্দি করা হয়। ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার সমাবেশমুখী মিছিলে গুলি চালিয়ে এরশাদের পেটোয়া বাহিনী ৩৮ নেতাকর্মীকে হত্যা করে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। শুরু হলো শেখ হাসিনাকে হত্যার আনুষ্ঠানিক মহড়া, যা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভাঙা সুটকেস বাহিনীর অন্যতম কর্ণধার হাওয়া ভবনখ্যাত তারেক রহমানের নেতৃত্বে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ পায়। লেডি (মেরি)-পীর-বাম-রাজাকার-গোয়েন্দা শাসিত শাসনব্যবস্থার ভিত রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মীয় অনুশাসনের বহু দূরে অবস্থানকারী এরশাদ রাষ্ট্রের জন্য ধর্ম নির্ধারণ করে দেন ইসলাম। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতি নিয়ে রাজনীতিই ছিল এর উদ্দেশ্য। কোনো কিছুতেই এরশাদের শেষরক্ষা হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এরশাদবিরোধী আন্দোলন এত বেগবান হয় যে, জরুরি অবস্থা জারি করেও এরশাদ ব্যর্থ হন। সামরিক-বেসামরিক আমলারা পক্ষ ত্যাগ করতে শুরু করেন। আ স ম রব ও মওদুদরা পিছুটান দিতে থাকেন। ১৯৯০-এর ৬ নভেম্বর শেখ হাসিনা পান্থপথের জনসভায় সাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ দেখান। ৬ ডিসেম্বর সেই রূপরেখা অনুযায়ী এরশাদ শাসনের অবসান হয়। তারপরও ষড়যন্ত্রকারীরা দমে যায়নি। ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সূক্ষ্ম কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে ক্যান্টনমেন্টবাসী। ক্যান্টমমেন্টে অবস্থানকারী খালেদা জিয়ার দল ৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াতের সহযোগিতায় ক্ষমতাসীন হয়। ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েও আসনসংখ্যার হিসাবে আওয়ামী লীগ আবারও রাজপথে। ক্যান্টনমেন্ট নিবাসী খালেদা জিয়া তার উত্তরসূরি ক্যান্টনমেন্টবাসী জিয়া-এরশাদের মতোই নির্যাতন, নিপীড়ন, লুণ্ঠন, সীমাহীন দুঃশাসনের রাজত্ব কায়েম করেন। ১৯৯২ সালে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগী হন। বিভিন্ন কমিটি ও উপকমিটি গঠন করে দলীয় রাজনীতিতে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় মেধার সমাবেশ ঘটান। আওয়ামী লীগ তার ঐতিহ্যকে অক্ষুণ রেখে আধুনিক মানসিকতার দলে রূপান্তরিত হয়। ঘাতক-দালাল নির্মূল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আওয়ামী লীগ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনও বেগবান করা হয়। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের এক নির্বাচন করে বিএনপি; কিন্তু ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। ৩০ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন। ২১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে অংশ নেন। শেখ হাসিনার বিজয় আঁচ করতে পেরে ক্যান্টনমেন্টবাসী অন্ধকারের শক্তি আবারও অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়, জাগ্রত জনতার প্রতিরোধের ভয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিচক্ষণতায় তা ব্যর্থ হয়। ২৩ জুন সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। বাংলার জনগণ তাদের হৃত মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আবার ফিরে পায়। আবার সক্রিয় হয় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা। ২০০১ সালে পাকিস্তানপন্থিদের আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা হয়। এবার জামায়াতে ইসলামী চলে আসে ক্ষমতার কেন্দ্রে, মন্ত্রিসভায় ঠাঁই করে নেয় তারা, জঙ্গি উত্থানের সব পৃষ্ঠপোষকতা শুরু হয় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, সামরিক গোয়েন্দারা হাওয়া ভবনের সঙ্গে মিলেমিশে শুরু করে অস্ত্র এবং মাদকের ব্যবসা, দশ ট্রাক অস্ত্র এরই অংশ। শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলাসহ পরিচালনা করা হয় একাধিক হত্যাপ্রচেষ্টা। একই ধারায় দেশ চলে ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত। এমনকি ২০০৭-০৮ সালে আবারও দেশকে দখলে নেয় পাকিস্তানি মানসিকতার সামরিক গোয়েন্দা ব্রিগেডিয়ার বারী ও আমিনরা। একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তার কারণেই ২০০৯-পরবর্তী বাংলাদেশ সেনা বা সেনাসমর্থিত শাসনের অবসান হয়। বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়নের মহাসড়কে। -অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান,উপাচার্য,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়...

বাংলাদেশের ১১.৩ শতাংশ মানুষ অতি দরিদ্র

১৪মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্তমানে বাংলাদেশের ১১.৩ শতাংশ মানুষ অতি দরিদ্র। আর দরিদ্র মানুষের হার ২১.৮ শতাংশ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। গতকাল হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে(এইচআইইএস) প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানে এ তথ্য প্রকাশ করেন বিবিএসের মহাপরিচালক ড. কৃষ্ণা গায়েন। এ সময় প্রকল্প পরিচালক ড. দিপংকর রায়, পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং যুগ্ম-পরিচালক একেএম আশরাফুল হক উপস্থিত ছিলেন। ২০১৮ সালের প্রক্ষেপন অনুযায়ী বিবিএস এ তথ্য প্রকাশ করেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ, সেখানে ২০১৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ২৪.৩ শতাংশে। আর ২০০৫ সালে যেখানে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ২৫.১ শতাংশ, সেখানে ২০১৬ সালে তা কমে ১২.৯ শতাংশ হয়েছে।খানার আয় ব্যয়, জরিপ অনুযায়ী দেশের খানা প্রতি মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৮৮ টাকা। ২০১০ সালে ছিল ১১.৪৭৯ টাকা। মাথাপিছু আয় ২০১৬ সালে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪০ টাকা, যা ২০১০ সালে ছিল ২ হাজার ৫৫৩ টাকা। সর্বশেষ হিসেবে পরিবার ভিত্তিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭১৫ টাকা। ২০১০ সালে যা ছিল ১১ হাজার ২০০ টাকা।এদিকে মাথাপিছু আয় ও ব্যয় বাড়লেও খাদ্যগ্রহণের প্রবণতা কমেছে। বলা হয়েছে, ২০১০ সালে মাথাপিছু ৪১৬ গ্রাম ভাত গ্রহণ করা হলেও এর পরিমাণ নেমেছে ৩৬৭ গ্রামে। ২০১৬ সালে মাথাপিছু গম গ্রহণের প্রবণতা ১৯.৮৩ গ্রামে। ২০১৬ সালের পরিমাণ ২৬.০৯ গ্রাম। মাথাপিছু ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ ২০১৬ সালে ২ হাজার ২১০ কিলোক্যালরিতে নেমে এসেছে। যা ২০১০ সালে মাথাপিছু গড়ে ২ হাজার ৩১৮ কিলোক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করা হতো।স্বাধীনতার পর থেকে অর্থের বড় অংশ খাদ্যে ব্যয় করা হলেও এবার খাদ্য বহির্ভূত খাতে বেশি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে পরিবারগুলোর গড় অর্থ ব্যয়ের ৪৭.৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে খাদ্যে। এ সময়ে খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫২.৩০ শতাংশে। যা ২০১৬ সালে খাদ্য খাতে ৫৪.৮ শতাংশ ও অন্য খাতে ৪৫.২০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছিল। কৃষ্ণা গায়েন জানান, ২০০৫ সালে মোট ১০ হাজার ৮০টি পরিবার, ২০১০ সালে ১২ হাজার ২৪০টি পরিবার নিয়ে জরিপ করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে নমুনা খানার সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৬ হাজার ৮০টি করা হয়। এই প্রকল্পের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্ব দারিদ্র্য নিরসন দিবসে। তিনি বলেন, চলতি মাসেই এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন বই আকার প্রকাশ করা হবে। ...

মানবিক দিক বিবেচনায় জারিন দিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কথা ভাবছে ছাত্রলীগ

২৩মে,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বহিষ্কারের যন্ত্রণা মেনে নিতে না পেরে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ছাত্রলীগের সাবকে কেন্দ্রীয় নেত্রী জারিন দিয়া। তবে মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে তার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। বুধবার (২২ মে) রাত ১০টার দিকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে জারিন দিয়াকে দেখতে যান। সেখানে তারা এমন আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে সংগঠনটির গত কমিটির সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ জানান, রাত ১০টার দিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জারিন দিয়াকে দেখতে আসেন। তখন তারা দিয়ার বাবা-মায়ের কাছে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়ার আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, দিয়া তার ভুল বুঝতে পেরেছে। তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। আর মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আমরা তার বহিষ্কারাদেশ বিবেচনা করবো। মধুর ক্যান্টিনে মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার হওয়ায় পর গেল ২০ মে সোমবার রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন জারিন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।-আরটিভি ...

খালেদা জিয়াকে নেয়া হতে পারে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে

২২মে,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিনে আর বেশিদিন থাকা হচ্ছে না বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। তাকে শিগগির নেয়া হতে পারে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে। এ জন্য ভিআইপি হাজতখানা প্রস্তুত করা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের প্রথমদিকে তাকে সেখানে স্থানান্তর করার সম্ভাবনা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দায়িত্বশীল কারা কর্মকর্তা মঙ্গলবার বলেন, খালেদা জিয়া থাকবেন কেন্দ্রীয় কারাগারের মহিলা জেলের একটি এক তলা ভবনে। যেটি মূল কারাগারের মধ্যে হলেও পৃথক সীমানাপ্রাচীর ঘেরা। সেখানে দুটি ভিআইপি হাজতখানা রয়েছে। তার একটি খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। নতুন করে রং করা ছাড়াও দুই কক্ষের হাজতখানাটি টাইলসে মোড়ানো। কারাবিধি অনুযায়ী প্রথম শ্রেণীর বন্দি হিসেবে কক্ষের ভেতর একটি খাট, চেয়ার-টেবিল ও একটি আলনা দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া কক্ষটিতে অ্যাটাস্ট বাথরুমসহ একটি সিলিং ফ্যানও আছে। মূল কক্ষের সঙ্গে লাগোয়া আরেকটি ছোট কক্ষে তার ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফাতেমার থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সূত্রটি জানায়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ সব সময় সতর্ক থাকবে। এ জন্য বিশেষ চিকিৎসক দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে তিনি অসুস্থ বোধ করলেই তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া যায়। এ ছাড়া তার খাওয়া-দাওয়ার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। কারণ খালেদা জিয়া কারাগারে ভাত খান না বললেই চলে। প্রায় প্রতিদিনই তার খাবার মেন্যু হচ্ছে সুপ ও নুডলস। কারাগারের রান্নাঘরেই এ খাবার তৈরি করা হয়। এ ছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে খাবার দিয়ে গেলে সেগুলো কারাবিধি অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রিলিজ করা হয়। কয়েকজন কারা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুব প্রয়োজন না পড়লে তিনি দায়িত্বরত কারারক্ষীদের ডাকেন না। বেশিরভাগ সময় একা চেয়ারে বসে থাকেন। দুপুরের খাবার সারেন দুপুর ২টার পর। সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন যেসব মামলা চলছে সেগুলো বিচার চলবে কেরানীগঞ্জ কারাগারের ভেতর ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত নতুন একটি আদালত কক্ষে। ইতিমধ্যে ওই আদালত কক্ষটিও প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আদালত কক্ষটিতে আইনজীবী ও সাংবাদিকদের বসার পৃথক ব্যবস্থা আছে। এখানে খালেদা জিয়ার মামলাসহ মোট ১৭টি মামলার বিচারকাজ চলবে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে দু ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে সম্প্রতি বলা হয়েছে, বিএনপির চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপের দিকে যাচ্ছে। তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। অপরদিকে সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন।...

ধর্ষণ প্রতিরোধক শাড়ি এখন বাজারে!

১৬মে,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত হচ্ছে সমাজ। কিন্তু মানসিকতায় বিশেষ পরিবর্তন আসেনি। তাই তো আজও মহিলাদের ধর্ষিতা হওয়ার জন্য দায়ি করা হয় তাঁর পোশাককে। পোশাকই নাকি সমাজে ধর্ষকের জন্ম দেয়। সমাজের সেই সব মানুষের চিন্তাধারায় সজোরে ধাক্কা দিতে বাজারে এল নতুন এক পোশাক। যা ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম যে কোনও পরিস্থিতিতে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল দিল্লির ঘটনার একটি ভিডিও। যেখানে এক মহিলাকেই স্পষ্ট বলতে শোনা গিয়েছে, খাটো পোশাকের মেয়েদের ধর্ষণ করা উচিত। আরও মজার বিষয় হল, মহিলার সপক্ষে অনেকেই সুর চড়িয়ে বলেন, খাটো পোশাক সত্যিই ধর্ষণের অন্যতম কারণ। অর্থাৎ তাঁদের মতে, মহিলারা আরও মার্জিত-ঢাকা পোশাক পরলেই ধর্ষণ সমস্যার সমাধান হবে। হায়! যদি এমনটাই হত, তবে তিন মাসের শিশুর ধর্ষণের খবর কি আর শিরোনামে উঠে আসত? কিংবা বোরখা পরিহিতার গায়ে কি কখনও যৌন হেনস্থার আঁচ লাগত? সেসব প্রশ্নের উত্তর অবশ্য অধরা। এ প্রসঙ্গ আপাতত থাক। তবে খাটো পোশাকের পালটা দিতে তরুণদের একটি দল হাজির করেছে সুপার সংস্কারি শাড়ি। নিজেদের ওয়েবসাইটে এই অদ্ভুত শাড়ির কথা ব্যাখ্যা করেছে তারা। তবে পুরোটাই মজা করে। তাঁদের মতে, পোশাকই যদি ধর্ষণের কারণ হয়, তবে এমন শাড়িই মহিলাদের পরা উচিত। তাহলেই মুশকিল আসান। মূলত দিল্লির ওই ঘটনার বিরোধিতা করতেই এমন উদ্যোগ। ওয়েবসাইটটিতে শাড়ির বিবরণে লেখা রয়েছে, এই পোশাকে রয়েছে ধর্ষণ-প্রতিরোধক প্রযুক্তি। শাড়িটি পরলে ধর্ষক ওই মহিলাকে দেখতেই পাবেন না। যৌনপিপাসুদের হাত থেকে বাঁচতে এই অত্যাধুনিক শাড়ি অবশ্যই নিজের কালেকশনে রাখুন। যখন আপনাকে দেখাই যাবে না, তখন ধর্ষণের কোনও আশঙ্কাও থাকবে না। যদিও বাস্তবে এ শাড়িতে এমন কিছুই নেই। আসলে মজার ছলেই সমাজের সেই সব মুখোশ পরা মানুষদের কটাক্ষ করতে চেয়েছে তরুণদের এই দল। হিংসাত্মক পথে না হেঁটে প্রতিবাদ জানিয়েছে হাস্যরসের মাধ্যমে৷ ওয়েবসাইটে বলা আছে, শাড়িগুলি অনলাইনে অর্ডারও করা যাবে। ১০০, ২০০, ৫০০ টাকা নানা মূল্যের শাড়ি রয়েছে। তবে নিছকই ব্যবসার জন্য শাড়িগুলি তারা বিক্রি করছে না। এই অর্থ সমাজের পিছিয়ে পড়া মেয়েদের শিক্ষার জন্য ব্যবহার করা হবে। যাতে হিংসার বিরুদ্ধে নিজেরাই রুখে দাঁড়াতে পারে তারা। তাই এই অর্থকে অনুদান বলতেই আগ্রহী ওই তরুণরা।...

মনে হয় তিনি স্বর্গে বাস করছেন

১০ মে,শুক্রবার ,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম : এশিয়ার সবচেয়ে মোটা নারী তকমাপ্রাপ্ত ভারতের মুম্বাইয়ের অমিতা রজনী নিজের ওজন ৩০০ কেজি থেকে ২১৪ কেজিই কমিয়ে ফেলেছেন। দেখতে কদাকার স্থুলকায় নারী থেকে তিনি এখন স্লিমফিট সুন্দরী।চার বছরে দুটি অস্ত্রোপচার এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি তার ওজন কমিয়েছেন। ৩০০ কেজি থেকে কমে তার ওজন এখন মাত্র ৮৬ কেজি। ভারতের মুম্বাইয়ের এই নারীর চিকিৎসক বেরিয়াট্রিক সার্জন ডা. শশাঙ্ক শাহ জানিয়েছেন, ৪২ বছরের অমিতাই ছিলেন এশিয়ার সবচেয়ে মোটা নারী।দেশটির একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাত্কারে অমিতা রজনী বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। পোশাক বদলানো বা সামান্য একটু হাঁটার জন্যও প্রয়োজন হতো সাহায্যের। টানা ৮ বছর শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি।অমিতা বলেছেন, এই আট বছরে একদিনও বাড়ির বাইরে বের হননি, দেখেননি সূর্যের আলো। তাকে দেখলেই তার ভাইয়ের ৬ মাস বয়সী ছেলে কাঁদতে শুরু করতো। এখানেই শেষ নয়; মুটিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কিডনির জটিলতা, ২ ডায়াবেটিস এবং শ্বাসকষ্ট ছিল তার।ভারতের লীলাবতী এবং হিন্দুজা হাসপাতালে দুবার বেরিয়াট্রিক সার্জারি হয় তার। অস্ত্রোপচারের পর ৩০ দিন চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন তাকে। এ সময় ফিজিওথেরাপি এবং ব্রিদিং এক্সারসাইজও চলতো।অমিতা জানিয়েছেন, এখন মনে হয় তিনি স্বর্গে বাস করছেন। সুস্থ হওয়ার পর ঘুরে দেখেছেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত।...

এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভাবনা

১১মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভাবনা ( মুহম্মদ জাফর ইকবাল)১. এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় একুশ লাখ ছেলেমেয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল, এর মাঝে প্রায় বিরাশি শতাংশ পাস করেছে। সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সময়মতো পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়েছে। মনে আছে একটা সময় ছিল যখন হরতালের পর হরতাল দিয়ে আমাদের জীবনটাকে একেবারে এলোমেলো করে দেওয়া হতো! আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার রুটিন দেওয়ার সময় রুটিনের নিচে লিখে রাখতাম অনিবার্য কারণে পরীক্ষা নেওয়া না গেলে অমুক দিন পরীক্ষা নেওয়া হবে। আমরা যারা একটু বেশি দুঃসাহসী ছিলাম তারা সারাদিন হরতাল শেষে সন্ধ্যাবেলাও পরীক্ষা নিয়েছি। হঠাৎ করে ইলেকট্রিসিটি চলে গেলে যেন পরীক্ষা নিতে পারি সেজন্য মোমবাতি রেডি রাখতাম। শুধু মুখ ফুটে কোনও একটা রাজনৈতিক দলকে উচ্চারণ করতে হতো অমুকদিন হরতাল, ব্যস সারাদেশ অচল হয়ে যেতো! মনে আছে, আমি অনেকবার রাজনৈতিক দলের কাছে অনুরোধ করতাম, হরতালের সময় যেরকম হাসপাতাল অ্যাম্বুলেন্সকে হরতালমুক্ত রাখা হতো সেরকম স্কুল কলেজ এবং পরীক্ষা যেন হরতালমুক্ত রাখা হয়! কিন্তু কে আমাদের কথা শুনবে? সেই হরতাল দেশ থেকে উঠে গেছে। আমার মাঝে মাঝে নিজেকে চিমটি কেটে দেখতে হয় সত্যিই এটা ঘটেছে নাকি স্বপ্ন দেখছি! এভাবে আরও কিছুদিন কেটে গেলে ছোট ছেলেমেয়েদের একদিন বোঝাতে হবে হরতাল জিনিসটি কী! শুধু যে হরতাল উঠে গেছে, তা নয়, মনে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত প্রশ্নফাঁস থেকেও আমরা মুক্তি পেয়েছি। এই মাত্র কদিন আগেও মায়েরা রাত জেগে বসে থাকতেন, ফেসবুক থেকে ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন ডাউনলোড করে সেটা সমাধান করিয়ে নিজের বাচ্চাদের হাতে তুলে দিতেন মুখস্থ করার জন্য। (হয়তো বাবারাও কিংবা অন্য আত্মীয়-স্বজনও এটা করেছেন, কিন্তু আমার কাছে যেসব তথ্য এসেছে সেখানে মায়েদের কথাটাই বেশি এসেছে, তাই মায়েদের কথা বলছি এবং সুস্থ স্বাভাবিক মায়েদের কাছে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এরকম কুৎসিত একটা বাক্য লেখার জন্য।) প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমার ক্ষোভটা একটু বেশি, কারণ মনে আছে আমি এটা নিয়ে চেঁচামেচি শুরু করার পর হঠাৎ করে আবিষ্কার করেছিলাম আমার এই বিশাল নাটক করার পরও আমার সাথে কেউ নেই! আমি মোটামুটি একা। কোনোভাবেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা বোর্ডগুলোকে একবারও স্বীকার করানো যায়নি যে, আসলেই দেশে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্যাটির অস্তিত্ব স্বীকার করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই সমস্যাটির সমাধান হবে কেমন করে? শেষপর্যন্ত মন্ত্রণালয় যখন স্বীকার করতে শুরু করল যে আসলেই প্রশ্নফাঁস হচ্ছে তখন মোটামুটি ম্যাজিকের মতো সমস্যাটি দূর হয়ে গেলো! পরীক্ষার খাতা দেখার ব্যাপারেও একটা শৃঙ্খলা এসেছে, চোখ বন্ধ করে বেশি নম্বর দেওয়ার প্রক্রিয়াটাও মনে হয় বন্ধ হয়েছে, বাকি আছে শুধু প্রশ্নের মান। আগের থেকে যথেষ্ট উন্নত হয়েছে কিন্তু এখনো মনে হয় মানসম্মত প্রশ্ন করা শুরু হয়নি, শিক্ষকরা সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারেন না বলে অভিযোগ আছে। এখনও মাঝে মাঝেই গাইড বই থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন চলে আসে। সে কারণে গাইড বইয়ের প্রকাশক এবং কোচিং ব্যবসায়ীদের অনেক আনন্দ। ভালো প্রশ্ন করা খুব সহজ কাজ নয়, একজনকে এই দায়িত্ব দিলেই সেটা হয়ে যায় না। কিন্তু যেহেতু একটা প্রশ্ন প্রায় বিশ লাখ ছেলেমেয়ে ব্যবহার করে সেই প্রশ্নটি অনেক মূল্যবান, তার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়ানো দরকার। এ রকম প্রশ্নগুলো যারা করেন তাদের যে সম্মানী দেওয়া হয়, সেটা রীতিমতো হাস্যকর। আমি সুযোগ পেলেই শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের বলি প্রশ্ন করার জন্য হোটেল সোনারগাঁয়ে একটা সুইট ভাড়া করতে, প্রশ্নকর্তারা সেখানে থাকবেন ভাবনাচিন্তা করে সুন্দর প্রশ্ন করে সেটা টাইপ করে একেবারে ক্যামেরা রেডি করে দিয়ে বাড়ি যাবেন। গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা আমার কথা বিশ্বাস করেন না। তারা ভাবেন আমি ঠাট্টা করছি। আমি কিন্তু ঠাট্টা করে কথাগুলো বলি না, সত্যি সত্যি বলি। স্কুল-কলেজের শিক্ষক হলেই তাদের হেলাফেলা করা যাবে সেটা আমি বিশ্বাস করি না। যখন তারা বিশ লাখ ছেলেমেয়ের জন্য প্রশ্ন করছে তখন তারা মোটেও হেলাফেলা করার মানুষ না। তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। পরীক্ষার মানসম্মত প্রশ্ন করা হলে অনেক বড় একটা কাজ হবে। সবাই পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে চায়, মানসম্মত প্রশ্ন হলে শুধু তারাই ভালো নম্বর পাবে যারা বিষয়টা জানে। কোচিং সেন্টার থেকে ভালোভাবে পরীক্ষা দেওয়ার টেকনিক শিখে লাভ হবে না। সেজন্য ভালো প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো প্রশ্ন করার পরও আরো একটা বিষয় থেকে যায়। আমরা যখন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম তখন সকালে এক পেপার বিকালে আরেক পেপার পরীক্ষা দিয়েছি! প্রত্যেকদিন পরীক্ষা, মাঝে কোনও গ্যাপ নেই। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর ঝড়ের গতিতে পরীক্ষা শেষ! এটা নিয়ে যে আপত্তি করা যায় সেটাও আমরা জানতাম না। খুব যে কষ্ট হয়েছে কিংবা পরীক্ষার পর অর্ধেক ছেলেমেয়ে পাগল হয়ে গেছে সে রকম কিছু শুনিনি। সেই বিষয়টা ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা যায়। (আমার এই বক্তব্য শুনে পরীক্ষার্থীরা চাপাতি হাতে নিয়ে আমাকে খুঁজবে সেরকম একটা আশংকা আছে, তারপরও বলছি!) পরীক্ষা লেখাপড়া নয়, শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দিনের পর দিন কাটিয়ে দেওয়ার মাঝে কোনও আনন্দ নেই। ঝটপট পরীক্ষা শেষ করে বাকি সময়টা নির্ভেজাল আনন্দের মাঝে কাটানো হচ্ছে জীবনকে উপভোগ করা। বাচ্চাদের কেন জীবন উপভোগ করতে শেখাব না? ২. প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পর আমরা পত্রপত্রিকায় এবং টেলিভিশনে পরীক্ষার্থীদের আনন্দোজ্জ্বল ছবি দেখতে পাই। এই বয়সটিতে সবকিছুকেই রঙিন মনে হয় তাই পরীক্ষার পর তাদের আনন্দ এবং উচ্ছ্বাসটিও হয় অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত, অনেক বেশি তীব্র। দেখতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু প্রতিবছরই এই আনন্দে উদ্ভাসিত ছেলেমেয়েগুলোর ছবি দেখার সময় আমি এক ধরনের আশঙ্কা অনুভব করি। এই বয়সটি তীব্র আবেগের বয়স, আমি নিশ্চিতভাবে জানি অসংখ্য ছেলেমেয়ের তীব্র আনন্দের পাশাপাশি কিছু ছেলেমেয়ে রয়েছে যাদের পরীক্ষার ফলটি তাদের মনমতো হয়নি। সেজন্য কয়দিন মন খারাপ করে থেকে আবার নতুন উৎসাহ নিয়ে জীবন শুরু করে দিলে আমার কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু সেটি হয় না, প্রতিবছরই দেখতে পাই পরীক্ষার ফল বের হওয়ার পর বেশকিছু ছেলেমেয়ে একেবারে আত্মহত্যা করে ফেলে। এই বছর এখন পর্যন্ত পাঁচটি ছেলেমেয়ের খবর পেয়েছি যারা আত্মহত্যা করেছে। সারাদেশে এরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এদের মাঝে ছেলে আছে, তবে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। এসএসসি পরীক্ষার্থী আছে সেরকম দাখিল পরীক্ষার্থী আছে। পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি সেজন্য আত্মহত্যা করেছে যেরকম আছে, যথেষ্ট ভালো করেছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিপিএ ফাইভ হয়নি বলে আত্মহত্যা করেছে সেরকম ঘটনাও ঘটেছে। কী ভয়ঙ্কর একটি ঘটনা। একজন মানুষের জীবন কত বড় একটি ব্যাপার সেই জীবনটি থেকে কত কী আমরা আশা করতে পারি, সেই জীবনটিকে একটি কিশোর কিংবা কিশোরী শেষ করে দিচ্ছে কারণ তার পরীক্ষার ফল ভালো হয়নি, এটি আমরা কেমন করে গ্রহণ করব? যখনই এরকম একটি ঘটনার কথা পত্রপত্রিকায় দেখি আমার বুকটি ভেঙে যায়। শুধু মনে হয়, আহা আমি যদি তার সঙ্গে একটুখানি কথা বলতে পারতাম। মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে পারতাম জীবনটা কত বড়, তুচ্ছ একটা পরীক্ষার তুচ্ছ একটা ফলকে পিছনে ফেলে জীবনে কত বড় একটা কিছু করে ফেলা যায়। পৃথিবীতে সেরকম কত উদাহরণ আছে। প্রত্যেকটা মানুষকেই জীবনে কত ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়, একজন মানুষের জীবনে যতটুকু সাফল্য তার থেকে ব্যর্থতা অনেক বেশি। সেই ব্যর্থতা এলে কি কখনো হাল ছেড়ে দিতে হয়? ভবিষ্যতে আরও কত সুন্দর জীবন অপেক্ষা করছে আমরা সেটি কি কল্পনা করতে পারি? কিন্তু আমার কখনো এই অভিমানী ছেলেমেয়েগুলোর সঙ্গে দেখা হয় না। তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার সুযোগ হয় না। শুধু পত্র-পত্রিকায় খবরগুলো দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। আমি আশা করে থাকি আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা এবং তাদের মা-বাবারা বুঝতে পারবেন যে পরীক্ষার এই একটি ফল পৃথিবীর বিশাল কর্মযজ্ঞের তুলনায় কিছুই না। পরীক্ষায় মনের মতো ফল না করেও একটি চমৎকার জীবন হওয়া সম্ভব। শুধু ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হওয়াই জীবন নয়, ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে এই পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ আশ্চর্যরকম সুখী হয়ে জীবন কাটিয়েছে, তারা পরিবারকে দিয়েছে, সমাজকে দিয়েছে, দেশকে দিয়েছে এমনকী পৃথিবীকে দিয়েছে। লেখাপড়ার সত্যিকার উদ্দেশ্যটি মনে হয় আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে কিংবা তাদের মা-বাবাদের এখনো বোঝাতে পারিনি! ৩. আত্মহত্যার খবর পড়ে যখন মন খারাপ করে বসে থাকি তখন তার পাশাপাশি অদম্য মনোবলের একজনের কাহিনি পড়ে আবার মনটি আনন্দে ভরে ওঠে। তামান্না আখতার নামে একটি কিশোরী জন্ম নিয়েছে দুই হাত এবং একটি পা ছাড়া। সে সেই ছেলেবেলা থেকে অসাধারণ লেখাপড়া করে এসেছে, এসএসসিতেও তার মনের মতো পরীক্ষার ফল হয়েছে। আমার আনন্দ সেখানে নয়, আমার আনন্দ তার স্বপ্নের কথা পড়ে। সে বড় হয়ে প্রথমে ডাক্তার হতে চেয়েছিল এখন সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে! আমি মাঝে মাঝে নতুন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের সামনে বক্তৃতা দেই। যদি বেঁচে থাকি তাহলে এমন তো হতেও পারে যে সেরকম কোনও একটি সভায় হঠাৎ করে দেখব সামনে একটি হুইল চেয়ারে মাথা উঁচু করে তামান্না বসে আছে। স্বপ্ন দেখতে দোষ কী? আরও একটি আনন্দের ব্যাপার হয়েছে। আমি সবসময়েই বলে থাকি আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি যে এখানে ছেলেরা এবং মেয়েরা সমানভাবে লেখাপড়া করে যাচ্ছে। আমি মোটামুটিভাবে বিশ্বাস করি মেয়েরা যখন জীবনের সবক্ষেত্রে ছেলেদের সমান সমান হয়ে যায় তখন এই দেশটি নিয়ে আমাদের আর কোনও দুর্ভাবনা করতে হবে না। এবারে এসএসসি পরীক্ষার ফল দেখে মনে হলো আমরা সেদিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেছি! মেয়েরা এর মাঝে ছেলেদের থেকে ভালো করতে শুরু করেছে। লেখক : অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট...

বাংলাদেশে জঙ্গি ঘাঁটি গড়তে দেব না: একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক :আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এলে লন্ডন থেকে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে চান শেখ হাসিনা। ভোটের মুখে ভারতীয় সাংবাদিকদের দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বুধবার এ কথা জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের নাম না-করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ভারত-সহ কোনও প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের ঘাঁটি করতে দেব না। আসন্ন ভোটে জয়ের প্রশ্নে আশাবাদী হয়েও সতর্ক থাকতে চাইছেন আওয়ামি লিগ নেত্রী। তাঁর কথায়, বিএনপি ও জামাতে ইসলামির জোট ভালই জানে, তারা নির্বাচনে জিততে পারবে না। সন্ত্রাস প্রশ্নে তাদের অতীত রেকর্ড খুব খারাপ। ভোট বানচালের চেষ্টা করতে পারে তারা। কিন্তু এ বার আমরা শুধু নই, দেশবাসীও সতর্ক।আলাপচারিতায় এ দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই নিয়ে স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন হাসিনা। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীকে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক অতীত অর্থাৎ ২০১৩-১৪ সালের বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, মনে করে দেখুন ২০১৩ সালেরডিসেম্বরে বিএনপি-জামাত কী ভাবে স্কুলে, বাসে, অটোয়, স্টিমারে আগুন দিয়েছিল। বাবার সামনে শিশুর গায়ে আগুন ধরায়। বাস থেকে নামিয়ে ড্রাইভারের গায়ে পেট্রোল ঢালে। এটা কোন ধরনের আন্দোলন? কী অর্জন হয় এ থেকে? মানুষের সমর্থন পাচ্ছে না, তাই এ বারেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে চাইছে তারা।চলতি ভোট প্রস্তুতিতে একটি চিত্র খুবই স্পষ্ট। বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে আওয়ামি লিগের প্রতীক নৌকার অজস্র পোস্টার ব্যানার চোখে পড়লেও বিএনপির ধানের শিস কার্যত অনুপস্থিত। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে তাদের পোস্টার। প্রচারও করতে দিচ্ছে না আওয়ামি লিগ। অনেকে বলছেন, বিএনপি শিবির যেন ঝড়ের আগে থম মেরে রয়েছে। বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে শেখ হাসিনার ব্যাখ্যা, আমরাও দেখছি। ওদের প্রার্থী রয়েছে কিন্তু পোস্টার নেই। অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের কারণে ওরা অনেক জায়গায় পোস্টার লাগাতে পারছে না, আর নালিশ করছে আমাদের নামে। আসলে ওরা প্রত্যেকটি আসন নিলামে চড়িয়েছিল। যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে টিকিট দিয়েছে। এক একটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে প্রথমে। পরে এক জনকে রেখে বাকিদের বাতিল করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই ওদের যারা পুরনো লোক, তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। পুরো বিষয়টির কলকাঠি নাড়া হচ্ছে লন্ডন থেকে। লন্ডনে থাকা তারেককে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে হাসিনার বক্তব্য, তিনি গ্রেনেড হামলা-সহ বহু অপরাধে যুক্ত। তারেক বাংলাদেশের নাগরিক। তাই বিচারের জন্য ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হবে।ভোটের আগে পাক দূতাবাসের মাধ্যমে আইএসআই তৎপরতা বাড়াচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হাসিনার বক্তব্য, আমরাও জানি এই তৎপরতা চলছে। আসলে বিএনপির অনেক নেতার শরীরটা পড়ে থাকলেও আত্মা রয়েছে ওখানে। তবে এ জন্য আইএসআইকে দোষ দিই না। বিএনপি নেতাদেরই দিই। অস্ত্র চোরাকারবার আর হাওয়ালা থেকে করা অঢেল টাকায় লন্ডনে বসে তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে।ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে হাসিনার বক্তব্য, গোটা বিশ্বের কাছে এটা একটা উদাহরণ। ছিটমহল বিনিময়ের মত বিষয় নিয়ে বহু দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। কিন্তু আমরা কি সুন্দরভাবে করলাম! একটা বিষয় দেখেছি যে বাংলাদেশের কোনও বিষয় এলে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধিতা ভুলে যেন এক হয়ে যায়।ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, গোটা বিশ্বের কাছে এটা একটা উদাহরণ। ছিটমহল বিনিময়ের মতো বিষয় নিয়ে বহু দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। কিন্তু আমরা কী সুন্দর মিটমাট করলাম! একটা বিষয় দেখেছি, বাংলাদেশের কোনও বিষয় এলে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি বিরোধিতা ভুলে যেন এক হয়ে যায়! কিন্তু সব বিষয়ে এক হয় কি? এই মুহূর্তে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করতে নারাজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এমনকি বাংলাদেশের ইলিশের ভারতে রফতানির বিষয়টিতেও বিশদে কিছু বলতে চাইলেন না। হাসিমুখে শুধু জানিয়েছেন, পানি পেলেই তিনি ইলিশ দিতে তৈরি! আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হল।...

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : বাংলাদেশের পুনর্জন্মের ভিত্তি

১৭মে,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তার কারণেই ২০০৯-পরবর্তী বাংলাদেশ সেনা বা সেনাসমর্থিত শাসনের অবসান হয়। বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়নের মহাসড়কে বাঙালির স্বাধীন জাতিসত্তা তথা পৃথক জাতি রাষ্ট্রের চেতনার অন্যতম ভিত্তি যদি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে ধরে নেওয়া হয় তাহলেও ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় বাঙালির রাষ্ট্রভাষা বাংলা হবে, এর বিরোধীদের মধ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যাও কম ছিল না। তাদের অনেকে আমাদের রাজনীতিতে নেতৃত্বস্থানীয়ও ছিলেন। খাজা নাজিমউদ্দিন ও নুরুল আমিনের নাম সবাই জানলেও ভেতরে ভেতরে তাদের সংখ্যা ছিল প্রচুর। তাদের ধারণা ছিল, সমগ্র পাকিস্তানে উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে তা ইসলাম আর ভূগোলের বিভ্রান্তি নিয়ে সৃষ্ট পাকিস্তানের অখ-তার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। তারা বাংলা ও বাঙালিত্বের মধ্যে হিন্দুয়ানির গন্ধ সবসময়ই পেত। যার ফলে দেখা যায়, ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রসংগীত ও রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ করা হয় পূর্ব পাকিস্তানে। তারও আগে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের সময়ও বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধেও এ দেশে প্রচুর লোকের অবস্থান ছিল। ৬৬ সালে যখন ছয় দফা ঘোষণা করা হয়, তখনও ছয় দফাকে ভারতীয়দের প্ররোচনায় ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করার লোক এ দেশে প্রচুর ছিল। পরবর্তী সময়ে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ও আইয়ুবশাহীর পক্ষে এবং ৭০-এর নির্বাচনে বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের বিপক্ষে প্রচুর বাঙালি অবস্থান নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সংবিধান ও গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও নিপীড়নের সহায়ক হিসেবে কাজ করেছিল হাজার হাজার আলবদর, রাজাকার। জামায়াতে ইসলামীসহ অনেক অতিবাম রাজনৈতিক দল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করে পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধে নেমেছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দুনিয়ার অধিকাংশ দেশই আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিরোধিতাকে পরাজিত করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ জাতি বিজয় অর্জন করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। পরাজিত হয় ৫২, ৫৪, ৬১, ৬৬, ৬৯, ৭০-এর বাঙালি চেতনার বিরুদ্ধাবলম্বনকারী শক্তি। কিছুদিনের জন্য পরাজিত শক্তি চুপচাপই ছিল; কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে হত্যার মধ্য দিয়ে পুনরায় ক্ষমতাসীন হয় দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের বিরোধীপক্ষ ৭১-এর পরাজিত শক্তি। আসলে ওই দিন যারা রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে তারা মূলত আবার পূর্ব পাকিস্তানকেই কায়েম করে। মোশতাক, জিয়ার নেতৃত্বে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন হয় আজীবন বাঙালিত্বের বিরোধিতাকারী অপশক্তি। ইতিহাসের চাকা ঘুরতে থাকে পেছনের দিকে। ১৯৭৬ সালের ৩ মে এক ফরমান জারি করে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলোকে পুনর্বাসিত করেন। রাজনীতিতে নিয়ে আসা হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীকে। ১৯৭৬ সালের ২১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সায়েমের কাছ থেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদ কেড়ে নিয়ে কিছুদিন পর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে আইয়ুবীয় কায়দায় হ্যাঁ-না ভোটে ৮৮.৫ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিতে ৯৮.৮৮ শতাংশ ভোট তার পক্ষে দিয়েছে বলে প্রচার করেন। ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই পিপিআর ঘোষিত হওয়ার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবিত হয়। যদিও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় আরও দুটি আওয়ামী লীগ তৈরির চেষ্টা করা হয়। আওয়ামী লীগে একাধিক বিভাজন সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু সময়ের পরীক্ষায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মূল আওয়ামী লীগই টিকে যায়। সামরিক শাসনের মধ্যে সেনানিবাসে বসে রাষ্ট্রীয় অর্থে উচ্চাভিলাষী ও ক্ষমতালিপ্সু সামরিক-বেসামরিক পাকিস্তানপন্থি দালাল ও সুবিধাবাদী দলছুট রাজনীতিকদের নিয়ে প্রথমে জাগো দল পরে বিএনপি গঠন করা হয়। ১৯৭৭ সালের ৯ এপ্রিল সেনাপ্রধান ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকা অবস্থায় জিয়াউর রহমান জাগো দলে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালের ১ মে থেকে উন্মুক্ত রাজনীতি শুরু হয়। জিয়া নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধন করে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে শুধু সেনাবাহিনী প্রধানের রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যবস্থা করেন। ১৯৭৮ সালের ৩ জুন ব্যাপক কারচুপিমূলক নির্বাচনে ৭৮.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জিয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। রাজনীতি রাজনীতিকদের জন্য ডিফিকাল্ট করার রাজনীতির প্রবর্তক ও মানি ইজ নো প্রবলেম অর্থনীতির জনক জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ব্যাপক জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত বিএনপি সংসদ দখল করে। প্রথমে মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে সিনিয়র মন্ত্রী এবং পরে ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ তিনি মারা গেলে পাকিস্তানপন্থি মুসলিম লীগ নেতা শাহ্ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। বাংলাদেশকে পাকিস্তানিকরণের ষোলকলা পূর্ণ করলেন জিয়াউর রহমান। পুরো দেশ চলে গেল পাকিস্তানি ভাবধারার লোকদের দখলে। বাকি থাকল শুধু পতাকা আর মানচিত্রটি, জাতীয় সংগীতটি বদলানোর চেষ্টার ধৃষ্টতাও দেখালেন তারা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বলবৎ হওয়া সামরিক আইন ও রাত্রিকালীন সান্ধ্য আইন প্রত্যাহার করা হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল। ১৯৮১ সালের ১৩-১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের সময় ভাগ্যক্রমে বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনা নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন দিল্লিতে। সভাপতি পদ গ্রহণে শেখ হাসিনাকে রাজি করানো এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগের অংশ হিসেবে দিল্লিতে একাধিক বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন আবুল মালেক উকিল, ড. কামাল হোসেন, জিল্লুর রহমান, আবদুল মান্নান, আবদুস সামাদ আজাদ, এম কোরবান আলী, জোহরা তাজউদ্দীন, সাজেদা চৌধুরী, ডা. এসএ মালেক, আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে কয়েক দফা বৈঠক হয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। এরই মধ্যে পাকিস্তানপন্থি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিএনপি দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু করে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রতিরোধের জন্য। তারা সারা দেশে প্রচুর লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করে। জয় ও পুতুল জলবসন্তে আক্রান্ত হওয়ায় শেখ হাসিনার ঢাকা প্রত্যাবর্তন কয়েকদিন বিলম্বিত হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দুপুর ১২টায় পুতুলকে নিয়ে ঢাকায় আসেন শেখ হাসিনা। কিছুটা হলেও ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের মতো। ওই দিন বঙ্গবন্ধুর অবতরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছিল। শেখ হাসিনার ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের মধ্য দিয়ে যে ভিত্তিকে উপড়ে ফেলার চেষ্টায় নড়বড়ে করে ফেলা হয়েছিল, তা পুনঃগ্রথিত হওয়ার যাত্রার শুভসূচনা। শেখ হাসিনাকে পেয়ে বাঙালি তার বাঙালিত্ব ও বাংলাদেশকে ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বাঁধল। আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু সে;াগানে। জনস্রোতে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল। অনেক ঝুঁকি নিয়েই অবতরণ করেছিল শেখ হাসিনাকে বহনকারী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ৭০৭ বোয়িং বিমানটি। লাখো লাখো মানুষ রাস্তার দু পাশে দাঁড়িয়েছিল। গগনবিদারী সে;াগানের মধ্যে বেরিয়ে আসেন সাদা রঙের ওপর কালো ডোরাকাটা তাঁতের মোটা শাড়ি পরা প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তখন কাঁদছিলেন, প্রকৃতিও একই পথ ধরল। চারদিক অন্ধকার হয়ে বৃষ্টি শুরু হলো, সঙ্গে ঝড়। ট্রাক ও মিছিল চলছিল খুব ধীরগতিতে। সেই মিছিলে যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। মিছিল বনানী কবরস্থান হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে আসতে তিন ঘণ্টা সময় লাগল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যখন শেখ হাসিনা গণসংবর্ধনার মঞ্চে দাঁড়ালেন, তখনও প্রচ- ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দাঁড়িয়েছিল কমপক্ষে দশ লাখ মানুষ। শেখ হাসিনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবেগময় ভাষণ দেন। তবে ভাষণে দৃঢ়তার কোনো অভাব ছিল না। আওয়ামী লীগের মতো স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী বৃহৎ সংগঠনটিকে নেতৃত্বদানে যে তিনি নিশ্চিতভাবে সফল হবেন তার বক্তৃতায় সে লক্ষণই পরিলক্ষিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তি সংগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য আমি এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই। তার আগমনে গণজোয়ার নিয়ে আসে সারা দেশে। হতাশাগ্রস্ত আওয়ামী লীগ কর্মীরা সুসংগঠিত হতে শুরু করে। বিপন্ন যে জাতি দীর্ঘ স্বাধীনতা-সংগ্রামের সব অর্জন হারাতে বসেছিল, তাদের মনে আবারও হারানো মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ফিরে পাওয়ার আশা ফিরে আসে। শুরু হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের পথচলা। এরই মধ্যে ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে নিহত হন। অবশ্য এটি ছিল জিয়ার আমলে অনেক সামরিক অভ্যুত্থানের একটি। ৭৫ থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত সময়ে সেনাবাহিনীতে বহু অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানে প্রাণ দিতে হয় হাজার হাজার সেনাসদস্যকে। তাদের অনেককেই বিনাদোষে জিয়াউর রহমান হত্যা করেছিলেন বলে বহু প্রমাণ আছে। জিয়াউর রহমানের হত্যার মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসনের অবসান হলো না, বরং উল্টো হেলিকপ্টার-সানগ্লাস-সাফারির জায়গায় জেঁকে বসল ছেঁড়া গেঞ্জি ও ভাঙা সুটকেস বাহিনী। কালুরঘাট এলাকা থেকে কথিত জিয়ার লাশের বাক্স ঢাকায় এনে লুই আই কানের স্থাপত্য নকশার চরম বিচ্যুতি ঘটিয়ে মাজার নির্মাণ করা হলো পবিত্র সংসদ এলাকায়। পাঠক লক্ষ করবেন, জিয়ার কথিত দ্বিতীয় কবরস্থানকে মিডিয়ায় এবং বিএনপির পক্ষ থেকে মাজার হিসেবে প্রচার চালানো হয়। অবশ্য জিয়ার মাজার তৈরির আগেই সংসদ ভবন এলাকায় সামনের দিকে আরেক কোনায় দখল নেয় সবুর খানসহ পাকিস্তানপন্থি কুখ্যাত রাজাকারের দল। সেটাও করেছিলেন জিয়াউর রহমান পরিকল্পিতভাবেই। ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর ভোট কারচুপি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিচারপতি সাত্তারকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে নিয়ে আসে বাঙালির ইতিহাসের আরেক খলনায়ক এইচএম এরশাদ। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ড. কামাল হোসেনকে প্রার্থী মনোনীত করেছিল। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ছেঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা সুটকেস বাহিনীর শিখ-ী বৃদ্ধ সাত্তারকে সরিয়ে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। এরশাদ ক্ষমতা দখল করে জিয়ার পাকিস্তানি অসমাপ্ত কাজে নিবিড়ভাবে হাত দেন। মাজার-পীর ও লেডি সংস্কৃতির নব উত্থান ঘটে রাজনীতিতে। চরম ভ-ামির অংশ হিসেবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কায়েম করেন। বিভিন্ন পীর, বিশেষ করে আটরশির পীর চলে আসেন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কে হবেন এ সিদ্ধান্ত আসত আটরশি থেকে। কথিত আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট কর্তৃক প্যানেল নির্বাচনের রাতেই এক প্রার্থী চলে গিয়েছিলেন আটরশি; কিন্তু অধিকতর চতুর অন্যজন প্রতিদ্বন্দ্বী বহর আটরশি পৌঁছার আগেই এরশাদের এক বন্ধুকে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ সই করিয়ে নেন। মাদ্রাসা ও মসজিদকে ব্যবহার শুরু করেন রাজনৈতিক লুণ্ঠনের আবরণ হিসেবে। বেঁচে থাকলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারে যার ফাঁসি হতো, এমন রাজাকার নেতা মাওলানা মান্নানকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আনোয়ার জাহিদরা পাকিস্তানিকরণের সিপাহসালার হিসেবে যোগ দেন এরশাদ বাহিনীতে। একই ধারাবাহিকতায় চুরির দায়ে এরশাদ জেল খাটার পর খালেদা জিয়ার উজির বাহিনীতে এসে শামিল হন আলবদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী আর আলী আহসান মুজাহিদ। জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এরশাদও হ্যাঁ-না গণভোটের খেলা আয়োজন করেছিলেন। এবার ভোটার উপস্থিতি দেখানো হয় ৯৫ শতাংশ, যার ৭১ শতাংশ এরশাদের ১৮ দফা কর্মসূচির পক্ষে। সামরিক শাসন চলতে থাকে। ১৯৮৩ সালের শুরুতে আওয়ামী লীগের ১৫ দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। ৯ এপ্রিল হোটেল ইডেনে অনুষ্ঠিত ১৫ দলীয় ঐক্যজোটের এক সম্মেলনে শেখ হাসিনা সামরিক শাসনবিরোধী ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ১৯৮৬ সালের মার্চে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এরশাদবিরোধী আন্দোলন তুমুল আকার ধারণ করে। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে কয়েকবার গৃহবন্দি করা হয়। ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার সমাবেশমুখী মিছিলে গুলি চালিয়ে এরশাদের পেটোয়া বাহিনী ৩৮ নেতাকর্মীকে হত্যা করে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। শুরু হলো শেখ হাসিনাকে হত্যার আনুষ্ঠানিক মহড়া, যা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভাঙা সুটকেস বাহিনীর অন্যতম কর্ণধার হাওয়া ভবনখ্যাত তারেক রহমানের নেতৃত্বে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ পায়। লেডি (মেরি)-পীর-বাম-রাজাকার-গোয়েন্দা শাসিত শাসনব্যবস্থার ভিত রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মীয় অনুশাসনের বহু দূরে অবস্থানকারী এরশাদ রাষ্ট্রের জন্য ধর্ম নির্ধারণ করে দেন ইসলাম। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতি নিয়ে রাজনীতিই ছিল এর উদ্দেশ্য। কোনো কিছুতেই এরশাদের শেষরক্ষা হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এরশাদবিরোধী আন্দোলন এত বেগবান হয় যে, জরুরি অবস্থা জারি করেও এরশাদ ব্যর্থ হন। সামরিক-বেসামরিক আমলারা পক্ষ ত্যাগ করতে শুরু করেন। আ স ম রব ও মওদুদরা পিছুটান দিতে থাকেন। ১৯৯০-এর ৬ নভেম্বর শেখ হাসিনা পান্থপথের জনসভায় সাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ দেখান। ৬ ডিসেম্বর সেই রূপরেখা অনুযায়ী এরশাদ শাসনের অবসান হয়। তারপরও ষড়যন্ত্রকারীরা দমে যায়নি। ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সূক্ষ্ম কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে ক্যান্টনমেন্টবাসী। ক্যান্টমমেন্টে অবস্থানকারী খালেদা জিয়ার দল ৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াতের সহযোগিতায় ক্ষমতাসীন হয়। ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েও আসনসংখ্যার হিসাবে আওয়ামী লীগ আবারও রাজপথে। ক্যান্টনমেন্ট নিবাসী খালেদা জিয়া তার উত্তরসূরি ক্যান্টনমেন্টবাসী জিয়া-এরশাদের মতোই নির্যাতন, নিপীড়ন, লুণ্ঠন, সীমাহীন দুঃশাসনের রাজত্ব কায়েম করেন। ১৯৯২ সালে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগী হন। বিভিন্ন কমিটি ও উপকমিটি গঠন করে দলীয় রাজনীতিতে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় মেধার সমাবেশ ঘটান। আওয়ামী লীগ তার ঐতিহ্যকে অক্ষুণ রেখে আধুনিক মানসিকতার দলে রূপান্তরিত হয়। ঘাতক-দালাল নির্মূল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আওয়ামী লীগ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনও বেগবান করা হয়। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের এক নির্বাচন করে বিএনপি; কিন্তু ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। ৩০ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন। ২১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে অংশ নেন। শেখ হাসিনার বিজয় আঁচ করতে পেরে ক্যান্টনমেন্টবাসী অন্ধকারের শক্তি আবারও অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়, জাগ্রত জনতার প্রতিরোধের ভয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিচক্ষণতায় তা ব্যর্থ হয়। ২৩ জুন সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। বাংলার জনগণ তাদের হৃত মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আবার ফিরে পায়। আবার সক্রিয় হয় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা। ২০০১ সালে পাকিস্তানপন্থিদের আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা হয়। এবার জামায়াতে ইসলামী চলে আসে ক্ষমতার কেন্দ্রে, মন্ত্রিসভায় ঠাঁই করে নেয় তারা, জঙ্গি উত্থানের সব পৃষ্ঠপোষকতা শুরু হয় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, সামরিক গোয়েন্দারা হাওয়া ভবনের সঙ্গে মিলেমিশে শুরু করে অস্ত্র এবং মাদকের ব্যবসা, দশ ট্রাক অস্ত্র এরই অংশ। শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলাসহ পরিচালনা করা হয় একাধিক হত্যাপ্রচেষ্টা। একই ধারায় দেশ চলে ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত। এমনকি ২০০৭-০৮ সালে আবারও দেশকে দখলে নেয় পাকিস্তানি মানসিকতার সামরিক গোয়েন্দা ব্রিগেডিয়ার বারী ও আমিনরা। একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তার কারণেই ২০০৯-পরবর্তী বাংলাদেশ সেনা বা সেনাসমর্থিত শাসনের অবসান হয়। বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়নের মহাসড়কে। -অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান,উপাচার্য,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়


এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভাবনা

১১মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভাবনা ( মুহম্মদ জাফর ইকবাল)১. এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় একুশ লাখ ছেলেমেয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল, এর মাঝে প্রায় বিরাশি শতাংশ পাস করেছে। সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সময়মতো পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়েছে। মনে আছে একটা সময় ছিল যখন হরতালের পর হরতাল দিয়ে আমাদের জীবনটাকে একেবারে এলোমেলো করে দেওয়া হতো! আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার রুটিন দেওয়ার সময় রুটিনের নিচে লিখে রাখতাম অনিবার্য কারণে পরীক্ষা নেওয়া না গেলে অমুক দিন পরীক্ষা নেওয়া হবে। আমরা যারা একটু বেশি দুঃসাহসী ছিলাম তারা সারাদিন হরতাল শেষে সন্ধ্যাবেলাও পরীক্ষা নিয়েছি। হঠাৎ করে ইলেকট্রিসিটি চলে গেলে যেন পরীক্ষা নিতে পারি সেজন্য মোমবাতি রেডি রাখতাম। শুধু মুখ ফুটে কোনও একটা রাজনৈতিক দলকে উচ্চারণ করতে হতো অমুকদিন হরতাল, ব্যস সারাদেশ অচল হয়ে যেতো! মনে আছে, আমি অনেকবার রাজনৈতিক দলের কাছে অনুরোধ করতাম, হরতালের সময় যেরকম হাসপাতাল অ্যাম্বুলেন্সকে হরতালমুক্ত রাখা হতো সেরকম স্কুল কলেজ এবং পরীক্ষা যেন হরতালমুক্ত রাখা হয়! কিন্তু কে আমাদের কথা শুনবে? সেই হরতাল দেশ থেকে উঠে গেছে। আমার মাঝে মাঝে নিজেকে চিমটি কেটে দেখতে হয় সত্যিই এটা ঘটেছে নাকি স্বপ্ন দেখছি! এভাবে আরও কিছুদিন কেটে গেলে ছোট ছেলেমেয়েদের একদিন বোঝাতে হবে হরতাল জিনিসটি কী! শুধু যে হরতাল উঠে গেছে, তা নয়, মনে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত প্রশ্নফাঁস থেকেও আমরা মুক্তি পেয়েছি। এই মাত্র কদিন আগেও মায়েরা রাত জেগে বসে থাকতেন, ফেসবুক থেকে ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন ডাউনলোড করে সেটা সমাধান করিয়ে নিজের বাচ্চাদের হাতে তুলে দিতেন মুখস্থ করার জন্য। (হয়তো বাবারাও কিংবা অন্য আত্মীয়-স্বজনও এটা করেছেন, কিন্তু আমার কাছে যেসব তথ্য এসেছে সেখানে মায়েদের কথাটাই বেশি এসেছে, তাই মায়েদের কথা বলছি এবং সুস্থ স্বাভাবিক মায়েদের কাছে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এরকম কুৎসিত একটা বাক্য লেখার জন্য।) প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমার ক্ষোভটা একটু বেশি, কারণ মনে আছে আমি এটা নিয়ে চেঁচামেচি শুরু করার পর হঠাৎ করে আবিষ্কার করেছিলাম আমার এই বিশাল নাটক করার পরও আমার সাথে কেউ নেই! আমি মোটামুটি একা। কোনোভাবেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা বোর্ডগুলোকে একবারও স্বীকার করানো যায়নি যে, আসলেই দেশে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্যাটির অস্তিত্ব স্বীকার করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই সমস্যাটির সমাধান হবে কেমন করে? শেষপর্যন্ত মন্ত্রণালয় যখন স্বীকার করতে শুরু করল যে আসলেই প্রশ্নফাঁস হচ্ছে তখন মোটামুটি ম্যাজিকের মতো সমস্যাটি দূর হয়ে গেলো! পরীক্ষার খাতা দেখার ব্যাপারেও একটা শৃঙ্খলা এসেছে, চোখ বন্ধ করে বেশি নম্বর দেওয়ার প্রক্রিয়াটাও মনে হয় বন্ধ হয়েছে, বাকি আছে শুধু প্রশ্নের মান। আগের থেকে যথেষ্ট উন্নত হয়েছে কিন্তু এখনো মনে হয় মানসম্মত প্রশ্ন করা শুরু হয়নি, শিক্ষকরা সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারেন না বলে অভিযোগ আছে। এখনও মাঝে মাঝেই গাইড বই থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন চলে আসে। সে কারণে গাইড বইয়ের প্রকাশক এবং কোচিং ব্যবসায়ীদের অনেক আনন্দ। ভালো প্রশ্ন করা খুব সহজ কাজ নয়, একজনকে এই দায়িত্ব দিলেই সেটা হয়ে যায় না। কিন্তু যেহেতু একটা প্রশ্ন প্রায় বিশ লাখ ছেলেমেয়ে ব্যবহার করে সেই প্রশ্নটি অনেক মূল্যবান, তার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়ানো দরকার। এ রকম প্রশ্নগুলো যারা করেন তাদের যে সম্মানী দেওয়া হয়, সেটা রীতিমতো হাস্যকর। আমি সুযোগ পেলেই শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের বলি প্রশ্ন করার জন্য হোটেল সোনারগাঁয়ে একটা সুইট ভাড়া করতে, প্রশ্নকর্তারা সেখানে থাকবেন ভাবনাচিন্তা করে সুন্দর প্রশ্ন করে সেটা টাইপ করে একেবারে ক্যামেরা রেডি করে দিয়ে বাড়ি যাবেন। গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা আমার কথা বিশ্বাস করেন না। তারা ভাবেন আমি ঠাট্টা করছি। আমি কিন্তু ঠাট্টা করে কথাগুলো বলি না, সত্যি সত্যি বলি। স্কুল-কলেজের শিক্ষক হলেই তাদের হেলাফেলা করা যাবে সেটা আমি বিশ্বাস করি না। যখন তারা বিশ লাখ ছেলেমেয়ের জন্য প্রশ্ন করছে তখন তারা মোটেও হেলাফেলা করার মানুষ না। তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। পরীক্ষার মানসম্মত প্রশ্ন করা হলে অনেক বড় একটা কাজ হবে। সবাই পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে চায়, মানসম্মত প্রশ্ন হলে শুধু তারাই ভালো নম্বর পাবে যারা বিষয়টা জানে। কোচিং সেন্টার থেকে ভালোভাবে পরীক্ষা দেওয়ার টেকনিক শিখে লাভ হবে না। সেজন্য ভালো প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো প্রশ্ন করার পরও আরো একটা বিষয় থেকে যায়। আমরা যখন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম তখন সকালে এক পেপার বিকালে আরেক পেপার পরীক্ষা দিয়েছি! প্রত্যেকদিন পরীক্ষা, মাঝে কোনও গ্যাপ নেই। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর ঝড়ের গতিতে পরীক্ষা শেষ! এটা নিয়ে যে আপত্তি করা যায় সেটাও আমরা জানতাম না। খুব যে কষ্ট হয়েছে কিংবা পরীক্ষার পর অর্ধেক ছেলেমেয়ে পাগল হয়ে গেছে সে রকম কিছু শুনিনি। সেই বিষয়টা ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা যায়। (আমার এই বক্তব্য শুনে পরীক্ষার্থীরা চাপাতি হাতে নিয়ে আমাকে খুঁজবে সেরকম একটা আশংকা আছে, তারপরও বলছি!) পরীক্ষা লেখাপড়া নয়, শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দিনের পর দিন কাটিয়ে দেওয়ার মাঝে কোনও আনন্দ নেই। ঝটপট পরীক্ষা শেষ করে বাকি সময়টা নির্ভেজাল আনন্দের মাঝে কাটানো হচ্ছে জীবনকে উপভোগ করা। বাচ্চাদের কেন জীবন উপভোগ করতে শেখাব না? ২. প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পর আমরা পত্রপত্রিকায় এবং টেলিভিশনে পরীক্ষার্থীদের আনন্দোজ্জ্বল ছবি দেখতে পাই। এই বয়সটিতে সবকিছুকেই রঙিন মনে হয় তাই পরীক্ষার পর তাদের আনন্দ এবং উচ্ছ্বাসটিও হয় অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত, অনেক বেশি তীব্র। দেখতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু প্রতিবছরই এই আনন্দে উদ্ভাসিত ছেলেমেয়েগুলোর ছবি দেখার সময় আমি এক ধরনের আশঙ্কা অনুভব করি। এই বয়সটি তীব্র আবেগের বয়স, আমি নিশ্চিতভাবে জানি অসংখ্য ছেলেমেয়ের তীব্র আনন্দের পাশাপাশি কিছু ছেলেমেয়ে রয়েছে যাদের পরীক্ষার ফলটি তাদের মনমতো হয়নি। সেজন্য কয়দিন মন খারাপ করে থেকে আবার নতুন উৎসাহ নিয়ে জীবন শুরু করে দিলে আমার কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু সেটি হয় না, প্রতিবছরই দেখতে পাই পরীক্ষার ফল বের হওয়ার পর বেশকিছু ছেলেমেয়ে একেবারে আত্মহত্যা করে ফেলে। এই বছর এখন পর্যন্ত পাঁচটি ছেলেমেয়ের খবর পেয়েছি যারা আত্মহত্যা করেছে। সারাদেশে এরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এদের মাঝে ছেলে আছে, তবে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। এসএসসি পরীক্ষার্থী আছে সেরকম দাখিল পরীক্ষার্থী আছে। পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি সেজন্য আত্মহত্যা করেছে যেরকম আছে, যথেষ্ট ভালো করেছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিপিএ ফাইভ হয়নি বলে আত্মহত্যা করেছে সেরকম ঘটনাও ঘটেছে। কী ভয়ঙ্কর একটি ঘটনা। একজন মানুষের জীবন কত বড় একটি ব্যাপার সেই জীবনটি থেকে কত কী আমরা আশা করতে পারি, সেই জীবনটিকে একটি কিশোর কিংবা কিশোরী শেষ করে দিচ্ছে কারণ তার পরীক্ষার ফল ভালো হয়নি, এটি আমরা কেমন করে গ্রহণ করব? যখনই এরকম একটি ঘটনার কথা পত্রপত্রিকায় দেখি আমার বুকটি ভেঙে যায়। শুধু মনে হয়, আহা আমি যদি তার সঙ্গে একটুখানি কথা বলতে পারতাম। মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে পারতাম জীবনটা কত বড়, তুচ্ছ একটা পরীক্ষার তুচ্ছ একটা ফলকে পিছনে ফেলে জীবনে কত বড় একটা কিছু করে ফেলা যায়। পৃথিবীতে সেরকম কত উদাহরণ আছে। প্রত্যেকটা মানুষকেই জীবনে কত ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়, একজন মানুষের জীবনে যতটুকু সাফল্য তার থেকে ব্যর্থতা অনেক বেশি। সেই ব্যর্থতা এলে কি কখনো হাল ছেড়ে দিতে হয়? ভবিষ্যতে আরও কত সুন্দর জীবন অপেক্ষা করছে আমরা সেটি কি কল্পনা করতে পারি? কিন্তু আমার কখনো এই অভিমানী ছেলেমেয়েগুলোর সঙ্গে দেখা হয় না। তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার সুযোগ হয় না। শুধু পত্র-পত্রিকায় খবরগুলো দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। আমি আশা করে থাকি আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা এবং তাদের মা-বাবারা বুঝতে পারবেন যে পরীক্ষার এই একটি ফল পৃথিবীর বিশাল কর্মযজ্ঞের তুলনায় কিছুই না। পরীক্ষায় মনের মতো ফল না করেও একটি চমৎকার জীবন হওয়া সম্ভব। শুধু ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হওয়াই জীবন নয়, ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে এই পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ আশ্চর্যরকম সুখী হয়ে জীবন কাটিয়েছে, তারা পরিবারকে দিয়েছে, সমাজকে দিয়েছে, দেশকে দিয়েছে এমনকী পৃথিবীকে দিয়েছে। লেখাপড়ার সত্যিকার উদ্দেশ্যটি মনে হয় আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে কিংবা তাদের মা-বাবাদের এখনো বোঝাতে পারিনি! ৩. আত্মহত্যার খবর পড়ে যখন মন খারাপ করে বসে থাকি তখন তার পাশাপাশি অদম্য মনোবলের একজনের কাহিনি পড়ে আবার মনটি আনন্দে ভরে ওঠে। তামান্না আখতার নামে একটি কিশোরী জন্ম নিয়েছে দুই হাত এবং একটি পা ছাড়া। সে সেই ছেলেবেলা থেকে অসাধারণ লেখাপড়া করে এসেছে, এসএসসিতেও তার মনের মতো পরীক্ষার ফল হয়েছে। আমার আনন্দ সেখানে নয়, আমার আনন্দ তার স্বপ্নের কথা পড়ে। সে বড় হয়ে প্রথমে ডাক্তার হতে চেয়েছিল এখন সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে! আমি মাঝে মাঝে নতুন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের সামনে বক্তৃতা দেই। যদি বেঁচে থাকি তাহলে এমন তো হতেও পারে যে সেরকম কোনও একটি সভায় হঠাৎ করে দেখব সামনে একটি হুইল চেয়ারে মাথা উঁচু করে তামান্না বসে আছে। স্বপ্ন দেখতে দোষ কী? আরও একটি আনন্দের ব্যাপার হয়েছে। আমি সবসময়েই বলে থাকি আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি যে এখানে ছেলেরা এবং মেয়েরা সমানভাবে লেখাপড়া করে যাচ্ছে। আমি মোটামুটিভাবে বিশ্বাস করি মেয়েরা যখন জীবনের সবক্ষেত্রে ছেলেদের সমান সমান হয়ে যায় তখন এই দেশটি নিয়ে আমাদের আর কোনও দুর্ভাবনা করতে হবে না। এবারে এসএসসি পরীক্ষার ফল দেখে মনে হলো আমরা সেদিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেছি! মেয়েরা এর মাঝে ছেলেদের থেকে ভালো করতে শুরু করেছে। লেখক : অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ

২০মে,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৮ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করেছে দেশবাসী। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায় রচনা করে কতিপয় জঘন্য এবং বিপদগামী সেনা সদস্য। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ইতিহাসে আজীবন ঘৃনীত হয়ে থাকবে।সেই কালো রাতে বিদেশে অবস্থান করার কারণে প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা। পরে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ভারত হয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রিয় মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। লাখো জনতা সেদিন অভ্যর্থনা জানায় গনতন্ত্রের মানস কন্যা শেখ হাসিনাকে। সেদিন শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর জন্য শুধুমাত্র বিমানবন্দরেই উপস্থিত হয় ১৫ লক্ষ্য মানুষ। ১৯৮১ সালের ফ্রেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। দেশে ফিরেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলন শুরু করেন শেখ হাসিনা। এরই ধারাবাহিকতায় ৯০ এর গণ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হয় এবং বিজয় হয় গণতন্ত্রের। ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে মোট চার মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয় শেখ হাসিনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন। ছিলেন রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকও। শিক্ষা জীবন থেকেই শেখ হাসিনা গণ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিরোধী শক্তি কমপক্ষে ১৯ বার সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে বিভিন্ন সময়ে। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রত্যেকবারই প্রাণে বেঁচে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে সংসদ ভবন চত্বরে সাব জেলে পাঠায়। প্রায় ১ বছর পর ২০০৭ সালের ১৯ জুন তিনি মুক্তি লাভ করেন। গণতন্ত্রের মানস কন্যা শেখ হাসিনা মিয়ানমার সামরিক সরকারের হাতে নির্যাতিন এবং বিতাড়িত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করে সৃষ্টি করেছেন মানবতার এক অনন্য উদাহরণ। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে নিচ্ছে। সমুদ্র বিজয় শেখ হাসিনার অন্যতম সাফল্য। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ২১ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার যে মহৎ উদ্দেশ্য তা সমৃদ্ধ করেছে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বকে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, বেড়েছে মাথাপিছু আয়। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জায়গায়। যা বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে কল্পনা করা যেত না। কিছু দিনের মধ্যেই পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল এর মত বড় বড় প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন দেখবে এ দেশের জনগন। ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়ন কেবল মাত্র শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব বলে এদেশের জনগণ ইতিমধ্যে বিশ্বাস এবং আস্থা স্থাপন করে ফেলেছে। শিক্ষাখাতে যে পরিবর্তন বাংলাদেশে ঘটেছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনও ঘটেনি। উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের মানুষ এখন খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ন। অর্থাৎ সার্বিক উন্নয়ন বলতে যা বুঝায় শেখ হাসিনা তা করে দেখিয়েছেন। পরিশেষে বলা যায়, মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মানুষের হৃদয় মন্দিরে সহস্র শতাব্দি ধরে বেঁচে থাকবে নিজ কর্মগুণে। লেখক: মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী , সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিষ্ট , গবেষক ও সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম ।

আজকের মোট পাঠক

32954

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত