এরশাদের মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার শোক

১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গতকাল রোববার সকালে মারা যান। বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার সক্রিয় প্রবীণতম রাজনীতিকের জীবনাবসানের পর শোক জানান ভারতীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক। এরই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও শোক জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তার শোকবার্তায় লিখেন, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। আজ (রোববার) সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। এরশাদের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মমতা আরও লিখেন, আদতে কোচবিহারের বাসিন্দা মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে আমার অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। প্রয়াত এরশাদ বাংলাদেশের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের সংসদের বিরোধী দলনেতা ছিলেন। তার প্রয়াণে রাজনৈতিক জগতে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল। আমি মুহম্মদ এরশাদের পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি । ১৯৩০ সালে জন্ম হয় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। কেউ কেউ বলেন, তার জন্ম অবিভক্ত ভারতের কোচবিহারের দিনহাটায়। পরে তার পরিবার পূর্ব পাকিস্তানে চলে যায়। তবে নিজের আত্মজীবনীতে এরশাদ লিখেছেন- তার জন্ম কুড়িগ্রামে মামার বাড়িতে। আর জাতীয় পার্টি জানাচ্ছে, এরশাদের জন্ম ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলায়। তবে তার পৈত্রিক ভিটা রয়েছে ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটায়। সেখানেই তার বাল্যজীবন কেটেছে।...

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

১৪জুলাই২০১৯,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত করেছে। দেশটির পশ্চিম নুসা তেনগারা প্রদেশের সুম্বাওয়ায় ওই ভূমিকম্পটি আঘাত করেছে। সুম্বাওয়া ছাড়াও মাতারাম, বিমা ও ওয়েনগাপুসহ বেশ কয়েকটি শহরে কম্পন অনুভূত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও জিওফিজিক্যাল সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে সুম্বাওয়ার দক্ষিণপশ্চিমে ওই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তবে ভূমিকম্পটির তীব্রতা অনেক হলেও সেখানে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিএমকেজি। ...

ব্রহ্মপুত্রের পানিতে বিপর্যস্ত উত্তর-পূর্ব ভারত, বন্যায় নিহত ১০

১৩জুলাই২০১৯,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তর-পূর্ব ভারতের জনজীবন। এখন পর্যন্ত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চলমান বন্যায় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতের আসাম রাজ্য। রাজ্যের ব্রহ্মপুত্র নদের পানি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে সেখানে ছয়জন নিহত হয়েছেন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে আট লাখের বেশি মানুষ। রাজ্যের ৩৩টি জেলার মধ্যে ২১টি বর্তমানে বন্যাকবলিত। এসব জেলার সাতশও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘরবাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে মানুষজন। আসামের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো- লখিমপুর, ধেমাজি, বিশ্বনাথ, সেনাতপুর, ডারনিং, বরপেটা, চিরাং, নলবাড়ি, বঙ্গাইগাঁও, গোয়ালপাড়া, মোরিগাঁও ও হোজাই। রাজ্যের অন্যতম প্রধান নদ ব্রহ্মপুত্রের পানি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। গুয়াহাটি অঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরেই এ নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে আসামের যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে রাজ্যটির বহু জায়গায় পর্যটকরা আটকে পড়েছেন। এ ছাড়া বন্যার পানিতে কাজিরাঙ্গা অভয়ারণ্য প্লাবিত হওয়ায় সেখান থেকে পালাতে শুরু করেছে বন্যপ্রাণীরা। এদিকে আসামের বাইরে অরুণাচল, মিজোরামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যেও প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে আবহাওয়া কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।...

পাকিস্তানে মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি

১১জুলাই২০১৯,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:যেসব রাজনীতিকের বিচার চলছে অথবা সাজা হয়েছে তাদের সাক্ষাৎকার বা সংবাদ সম্মেলন সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এ নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তানের মন্ত্রীপরিষদ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজের একটি সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করার কারণে সরকার বন্ধ করে দেয় তিনটি টেলিভিশন চ্যানেল- আবতক টিভি, ২৪ নিউজ এবং ক্যাপিটাল টিভি। এ ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার বিষয়ক গ্রুপ রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারর্স (আরএসএফ) ও কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।পাকিস্তানে সাংবাদিকরা যখন প্রচণ্ড চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন তখন এমন উদ্যোগকে বিরক্তিকর স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার ইঙ্গিত বলে আখ্যায়িত করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারর্স। এ নিয়ে মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী শাফকাত মেহমুদ বলেছেন, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি যদি মিডিয়ায় সাক্ষাতকার দেন তার বিষয়ে আমরা নতুন নীতি গ্রহণ করেছি। তার ভাষায়, আপনি জেলে ছিলেন। দেশের অর্থ লুটের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন।আর যখন আপনি জেল থেকে বেরিয়ে এলেন এবং সবার সঙ্গে সাক্ষাতকার দেবেন- এটা কোনো গণতন্ত্রে ঘটতে পারে না। তবে সরকারের এমন নীতির কড়া সমালোচনা করেছে আরএসএফ। তারা বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞাকে পাকিস্তানে বিরোধী দলকে দমন এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের কন্ঠরোধের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়ায় পাকিস্তানে স্বৈরাচারী প্রবণতারই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মিডিয়ার অধিকার বিষয়ক গ্রুপ কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। এর এশিয়া প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী স্টিভেন বাটলার এমন উদ্যোগকে সহজ ও নগ্ন সেন্সরশিপ বলে আখ্যায়িত করেছেন। পাকিস্তানি মিডিয়া বিষয়ক গ্রুপ মিডিয়া ম্যাটারস ফর ডেমোক্রেসির পরিচালক সাদাফ খান বলেছেন, এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে পাকিস্তানে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক প্রেস সেন্সরশিপ চলছে। মঙ্গলবার আবতক টিভি, ২৪ নিউজ এবং ক্যাপিটাল টিভি মরিয়ম নওয়াজের সংবাদ সম্মেলন সম্প্রচার করার পর তিনটি চ্যানেলরই সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ প্রথমে একে একটি কারিগরী ত্রুটি বলে বর্ণনা করেছিল। কিন্তু রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বলছে, এটি নির্লজ্জ সেন্সরশীপ ছাড়া আর কিছু নয়। পাকিস্তানের ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষের কথা অনুযায়ী কাজ করছে বলেও অভিযোগ করছে আরএসএফ। মাত্র গত সপ্তাহেই পাকিস্তানের জিও নিউজ টিভিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির একটি সাক্ষাৎকার দেখানোর সময় মাঝপথে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। পাকিস্তানে বহু বছর ধরেই এমন অভিযোগ আছে যে, সেখানে সামরিক বাহিনী গণমাধ্যমে স্পর্শকাতর এবং সমালোচনামূলক খবর বন্ধে চাপ দিয়ে থাকে। সামরিক বাহিনী অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। ...

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে মুক্তি ভবন এর চাবি তুলে দিলেন মেয়র

১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: উত্তর কাট্টলীর মাওলানা তমিজুর রহমান বাড়ির প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছের পরিবারের নিকট নবনির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চসিকের অর্থায়নে এ ঘর নির্মিত হয়। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার দুপুরে সিটি করপোরেশনের কনফারেন্স রুমে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণের মেলা বসে। অনুষ্ঠানে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছের স্ত্রী মিসেস খোরশেদা বেগমের নিকট মুক্তি ভবন এর চাবি হন্তান্তর করেন মেয়র। করপোরেশন ২০১৭ সালে নগরের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বসতভিটায় পাকা বাড়ি তৈরি করার বিশেষ উদ্যোগ নেয়। নগরীর ৫০ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার গৃহ নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় ১৫ কোটি টাকা। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন, ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা নুর আহম্মদ এবং ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা কুতুব উদ্দিনের গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু করে চসিক। ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছের গৃহ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সাড়ে ৯শ বর্গফুট বিশিষ্ট এ মুক্তি ভবন নির্মাণ করতে চসিকের ব্যয় হয়েছে ২৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এটাই চট্টগ্রাম শহরের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম মুক্তি ভবন। এতে থাকছে ২টি বেডরুম, ১টি কিচেন, ১টি ডাইনিং, ২টি টয়লেট এবং ১টি ড্রইনিং রুম। বাকি মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তারা দেশ স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। তাদের কারণেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে চলার ও বলার অধিকার লাভ করেছি। জাতিকে সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ঋণ অবশ্যই শোধ করতে হবে। তাই অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহ নির্মাণ করে দিয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেখার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে চসিক। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। মেয়রের কাছ থেকে মুক্তি ভবনের চাবি পেয়ে যারপরনাই খুশি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছের পরিবার। মরহুমের পুত্র হুমায়ুন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ৪ বছর আগে আমার পিতা মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি ২ গণ্ডার চেয়ে কম বসত ভিটে রেখে যেতে পেরেছেন। এই ভিটার উপর একটি বেড়ার ঘর ছিল। সেখানে আমি, মা ও বোন কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলাম। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রস্তাবে সিটি করপোরেশন এই মুক্তি ভবন নির্মাণ করে দিয়েছে। এজন্য চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নিকট আমাদের পরিবার কৃতজ্ঞ। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চসিক প্যানেল মেয়র ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, মো. জহুরুল আলম জসিম, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, ডেপুটি কমান্ডার শহীদুল হক সৈয়দ, সহকারী কমান্ডার সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, খোরশেদ আলম (যুদ্ধাহত), এফ এফ আকবর খান, কোতোয়ালী থানা কমান্ডার সৌরিন্দ্রনাথ সেন, আকবরশাহ থানা কমান্ডার মো. সেলিমউল্লাহ, পাহাড়তলী থানা কমান্ডার হাজী জাফর আহামদ, খুলশী থানা কমান্ডার মো. ইউসুফ, বন্দর থানা কমান্ডার কামরুল আলম, বাকলিয়া থানা কমান্ডার মো. আলী হোসেন, সদরঘাট থানা কমান্ডার মো. জাহাঙ্গীর আলম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী কাজী নুরুল আবছার প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।...

ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ৮ যাত্রী নিহত

১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,স্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ৮ যাত্রী নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধায় ঢাকা-ঈশ্বরদী রেল সড়কের উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী এলাকার অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করে উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান কৌশিক আহমেদ জানান, ৮ জন নিহতের সংবাদ পেয়েছি আমরা। বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি। উল্লাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি বলেও জানান তিনি। এদিকে, দুর্ঘটনার পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।- আলোকিত বাংলাদেশ ...

জয়পুরহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-মেয়ের করুণ মৃত্যু

১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,স্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম: কাপড় শুকানোর তার যে বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসেছিল, তা জানতেন না স্বপ্না বেগম (৩৪)। আজ সোমবার সকালে রোদে কাপড় শুকাতে গেলে তারের সংস্পর্শে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কাতরাতে থাকেন তিনি। এ সময় তাঁর শিশুসন্তান শিমু আকতার (৪) মায়ের চিৎকারে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। এ সময় মায়ের সঙ্গে সেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে। তারপর মা-মেয়ে দুজনেরই করুণ মৃত্যু হয়। সকাল সোয়া ৭টার দিকে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়িহাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল লতিফ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত স্বপ্না বেগম উপজেলার মোলামগাড়িহাট গ্রামের কৃষক ফরিদুল সোনারের স্ত্রী। শিমু আকতার তাঁদের একমাত্র সন্তান ছিল। কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফরিদুল সোনারের বাড়ির ভেতরে রোদে কাপড় শুকানোর জন্য মোটা জিআই (লোহার তার) তার টানানো ছিল। গতকাল রাতে বৃষ্টির সময় ওই তারের সঙ্গে পাশের খোলা বৈদ্যুতিক ছেঁড়া তারের স্পর্শ হলে তারটিতে বিদ্যুতের সংযোগ ঘটে। আজ সকালে বাড়ির ভেজা কাপড় শুকানোর জন্য স্বপ্না বেগম ওই তারে কাপড় শুকানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কাতরাতে থাকেন। তাঁর চিৎকারে শিশুসন্তান শিমু দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরলে মা ও মেয়ে দুজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। এ সময় পরিবারের লোকজন চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় চিকিৎসক তাঁদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।...

পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু কক্সবাজারে

১৪জুলাই২০১৯,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড় ধসে মোঃ আনোয়ার সাদেক (৩৫) ও তার স্ত্রী ওয়ারেসা বেগম (৩০) নামের স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ জুলাই) দিনগত রাত তিনটার দিকে চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বমুরকুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা মাটি সরিয়ে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। চকরিয়া বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মতলব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। এসময় ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বমুরকুল গ্রামের রবিউল আলমের ছেলে মোঃ আনোয়ার সাদেকের বসতবাড়িতে একটি পাহাড় ধসে পড়ে। এতে আনোয়ার সাদেক ও তার স্ত্রী ওয়ারেসা বেগম মাটিচাপা পড়ে। এসময় স্থানীয়রা মাটি সরিয়ে তাদের মৃত অবস্থায় বের করে। মরদেহ দুটি তার বাড়িতে রয়েছে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি পেলে আমরা মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করব।...

ধর্ষণ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে

১৩ জুলাই২০১৯,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম/ঢাকা: শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকরীকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তা দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন নারী সাংবাদিকরা। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিশু ধর্ষণ, শিশু হত্যা বন্ধের দাবিতে নারী সাংবাদিক কেন্দ্র আয়োজিত মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ এ দাবি করেন। এতে সংগঠনের সভাপতি নাসিমুন আরা হক বলেন, ধর্ষণ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সাথে পর্নোগ্রাফি ও মাদকের আমদানি বন্ধ করতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নারী বিদ্বেষী বক্তব্য বন্ধের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির তার বক্তব্যে বলেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- দিতে হবে ও তা দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি ধর্ষণকারীদের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও নিন্দা জানান। নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা বলেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারী নরপশুদের মৃত্যুদন্ড দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি পুরুষদেরও নারী ও শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হবার আহ্বান জানান। এতে আরো বক্তব্য রাখেন সম্প্রতি ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু সায়মার বাবা আবদুস সালামসহ আখতার জাহান মালিক, দিলরুবা খান, নাসরিন শওকত, সানজীদা সুলতানাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সদস্যরা।...

স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে বাড়ছে ২ হাজার ৪১ টাকা

৪জুলাই২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ছে। বৃহস্পতিবার থেকে স্বর্ণের দাম ভরিতে দুই হাজার ৪১ টাকা বাড়বে। আজ বুধবার বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। এর আগে গত ১৮ জুন থেকে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ (১১.৬৬৪ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছিল ৫০ হাজার ১৫৫ টাকা। বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম পড়বে ৪ হাজার ৪৭৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম হবে ৫২ হাজার ১৯৬ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর দিন ১৪ জুন স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। তখন প্রতি ভরি সোনায় সর্বোচ্চ এক হাজার ১৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। অবশ্য এর ৩ দিনের মাথায় ১৮ জুন সংগঠনটি প্রতি ভরি সোনায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয়। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরিতে বাড়ছে ২ হাজার ৪১ টাকা। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে সনাতন পদ্ধতির সোনা ও রুপার দাম।...

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে যা আছে

১৩জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০১৯-২০ অর্থবছরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানী ভাতা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের শতকরা ১৪ দশমিক ২১ ভাগ এবং জিডিপির শতকরা ২ দশমিক ৫৮ ভাগ। গত অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিলো ৬৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির সংখ্যা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ জনে বাড়ানো এবং উপবৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এবারের বাজেটে বড় আকারের ব্যয় মেটাতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদায় করবে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, এনবিআর বহির্ভূত কর আদায় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কর ছাড়া আদায় বা প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য হচ্ছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বেশি ধরা হয়েছে। মোবাইল: মোবাইল গ্রাহকের কথা বলার ওপর করহার বাড়ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চলমান ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একজন গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে তা থেকে প্রায় ২৭ টাকা কর বাবদ নিয়ে যাবে সরকার, যা এখন ২২ টাকা। ফলে গ্রাহক যত বেশি কথা বলবে, তত বেশি কর পাবে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট প্রস্তাবে তিনি এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। এর আগে বাজেটে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয় এবং পরে ওই প্রস্তাবে সই করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এটি দেশের ৪৮তম ও বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট। যদিও গত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে অনেক বাজেট প্রণয়নে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। বর্তমানে মোবাইল সেবার ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং তার সঙ্গে ১ শতাংশ সারচার্জসহ মোট করের পরিমাণ প্রায় ২২ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যমান করের সঙ্গে বাড়তি ৫ শতাংশ যোগ হচ্ছে। বাড়তি করহার পাস হলে মোবাইল সেবায় মোট করহার দাঁড়াবে প্রায় ২৭ শতাংশ। ফলে গ্রাহকের কথা বলার খরচ আরও বেড়ে যাবে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল সেবার বাইরে এখন প্রতি সিম সংযোজন এবং প্রতিস্থাপনে ১০০ টাকা নির্ধারিত কর দিতে হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সিমকে প্রথমবারের মতো করের আওতায় আনা হয়। তবে প্রথমদিকে নির্ধারিত কর ছিল ৩০০ টাকা। ক্রমান্বয়ে তা কমিয়ে আনা হয়। গ্রাহকের সংখ্যা বাড়াতে নিজেরাই এই কর দেয় মোবাইল অপারেটররা। যদিও এই কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে মোবাইল অপারেটররা। বিড়ি-সিগারেটের দাম: নতুন অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রস্তাবিত বাজেটে বাড়ছে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যের সম্পূরক শুল্ক। ফলে বাড়বে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের দাম। প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, সিগারেটের নিম্নস্তরের ১০ শলাকার দাম ৩৭ টাকা। যাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ। মধ্যম স্তরের ১০ শলাকার দাম ৬৩ টাকা এবং ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক। আর উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ৯৩ টাকা ও ১২৩ টাকা। আর এতে থাকছে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের প্রস্তাব। হাতে তৈরি ফিল্টারবিহীন বিড়ির ২৫ শলাকার দাম ১৪ টাকা এবং ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক। ফিল্টারযুক্ত বিড়ির ২০ শলাকার দাম ১৭ টাকা ও ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের দাম ১৫ টাকা এবং ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণের জন্য বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে। পেনশন: প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সবার জন্য পেনশনের ব্যবস্থা রাখার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, সরকারি যে পেনশন ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে জনসংখ্যার খুব সামান্য একটি অংশ এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। দেশের সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের সব কর্মীকে ক্রমান্বয়ে পেনশন সুবিধার আওতায় আনতে শিগগিরই ইউনিভার্সাল পেনশন অথরিটি গঠন করবে সরকার। সেই সঙ্গে পেনশনভোগীদের সবাইকে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতির আওতায় আনা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ইএফটি পদ্ধতিতে ২৭ হাজার পেনশনভোগী তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যমে পেনশনের টাকা পাচ্ছেন। আগামী অর্থবছরে সব পেনশনভোগী এই পদ্ধতির আওতায় চলে আসবেন। এদিকে দেশের ইতিহাসে ১২তম দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টা ৭ মিনিটে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্য শুরু করার জন্য স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ করেন। এ সময় স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, আপনি চাইলে বসে বাজেট বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। আওয়ামী লীগের সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম পাশ থেকে অর্থমন্ত্রীকে বাজেট বক্তব্য কীভাবে উপস্থাপন করতে হয়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছিলেন। এরপর, অর্থমন্ত্রী তার আসনে বসে বাজেট বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। অর্থমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ও বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি এবারের বাজেটকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাজেট বলে অভিহিত করেন। তার আগে সাদা পাঞ্জাবির ওপর মুজিব কোট পরে তিনি সংসদে প্রবেশ করেন। ...

শিক্ষা টিভি চালুর পরিকল্পনা: দীপু মনি

১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,স্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম: নামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্লাস টেলিভিশনে প্রচার করতে শিক্ষা টিভি চালুর পরিকল্পনার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সোমবার (১৫ জুলাই) জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন সচিবালয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যঅধিবেশনে ডিসিরা ভালো শিক্ষকদের অতিথি করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তাব তুললে তিনি এ কথা জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকায় বা অন্য জায়গায় অত্যন্ত ভালো কিছু বিদ্যালয় আছে যেগুলোর অনেক সুনাম আছে। সেখানকার শিক্ষকদের অনেক সুনাম আছে। একটা প্রস্তাব আছে তাদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার। তিনি বলেন, আমরা যেটা বলেছি, তার চেয়ে বরং খুব কম খরচে, এখন তো টেলিভিশনের দাম তেমন না। সব বিদ্যালয়ে কিন্তু সেই টেলিভিশনের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের খুব ভালো ভালো শিক্ষকদের ভালো ক্লাসগুলোকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে একই সঙ্গে সব স্কুলে দেখাতে পারি। সেজন্য একটা 'শিক্ষা টিভি' জাতীয় কোনো কিছু চিন্তা করা যায় এবং সেটি করা গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যারা শিক্ষক আছেন তারাও শেখানো পদ্ধতি থেকে উপকৃত হবেন।...

১৭ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণা

৮জুলাই২০১৯,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ১৭ জুলাই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আজ সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন। সকাল ১০টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেওয়া হবে। পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ১ এপ্রিল। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ জন। এর মধ্যে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শুধু এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪৭ জন।...

নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপ গেল ইংল্যান্ডে

১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:দীর্ঘ ২৩ বছর পর বিশ্বকাপ গেল নতুন ঘরে। অস্ট্রেলিয়া শুনতে শুনতে যাদের বিরক্ত চলে আসছিল, তাদের এবার হাঁফ ছেড়ে বাঁচার পালা। বিশ্বকাপ গেল ক্রিকেটের জন্মভূমিতে। বিশ্বকাপের এগারটি আসরে তিনবার ফাইনাল খেললেও কোনোবার শিরোপা জেতেনি তারা। ১৯৭৯ তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার, ১৯৮৭ তে অস্ট্রেলিয়া আর ১৯৯২ তে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ২৭ বছর ধরে সেমি-ফাইনালেও উঠতে পারেনি ইংলিশরা। আজ সেই সব আক্ষেপের ইতি টানল তারা। লর্ডসে টস জয়ী নিউজিল্যান্ড সিদ্ধান্ত নেয় আগে ব্যাট করার। অথচ ম্যাচ শুরুর আগেই হয়েছে বৃষ্টি। তাতেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি কিউই অধিনায়কের। আগে ব্যাট করতে নেমে দিক হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা। দুই উদ্বোধনীর জুটি থেকে আসেনি বড় সংগ্রহ। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ধুকতে থাকা মার্টিন গাপটিলের উপর ফাইনাল ম্যাচেও বিশ্বাস রেখেছিল কিউই ম্যানেজমেন্ট। সেটার মর্যাদা দিতে পারেনি গাপটিল। মাত্র ১৯ রানে ক্রিস ওকসের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ফেরেন সাজঘরে। আরেক ওপেনার তখন কেন উইলিয়ামসনকে নিয়ে লড়াই করছেন ইংলিশ বোলারদের সঙ্গে। এই জুটি থেকে আসে ৭৪ রান। গোটা আসরে দলকে টেনে আনা উইলিয়ামসন আজ বড় কিছু দিতে পারেননি দলকে। মাত্র ৩০ রান করে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে। এরমধ্যে হ্যানরি নিকোলস তুলে নেন অর্ধশতক। তবে এগোতে পারেননি বেশিদূর। ৫৫ রানের মাথায় বোল্ড করে বিদায় করেন প্লাঙ্কেট। নিকোলসের বিদায়ের চাপ সামলে আর ঘুরে দারাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। টম ল্যাথাম ৪৭ রান করলেও বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪১ রা তুলতে পারে কিউইরা। ইংলিশদের হয়ে সমান ৩টি করে উইকেট নেন প্লাঙ্কেট ক্রিস ওকস। একটি করে উইকেট নেন জোফরা আর্চার আর মার্ক উড। স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্যটা মামুলিই হয়ে গেল বটে। ইংলিশরা যখন এই লক্ষ্য তাড়া করতে নামে তখন ২৪১ রান যেন ৩৪১ রানে ঠেকে! যে জেসন রয়ের উপর নির্ধিদায় আস্থা রাখা যায়, সেই রয়ও আজ ১৭ রানে ফেরেন ম্যাট হ্যানরির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। চাপের শুরু এখানেই। জো রুট মাত্র ৭ রান করে বিদায় নেন কলিন ডি গ্র্যান্ডওমের বলে ল্যাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে। জনি বেরিষ্টোও আজ হতাশ করে লর্ডসের কানায় কানায় ভরা গ্যালারির হাজারো মানুষকে। মাত্র ৩৬ রানে ফেরেন লকি ফার্গুসনের বলে বোল্ড হয়ে। এউইন মরগ্যানের ৯ রানে বিদায় যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো। দলীয় রান তখন ৮৬ রান। এখান থেকেই ইংলিশদের ঘুরে দাঁড় করান আরেক নিউজিল্যান্ড বংশোদ্ভূত বেন স্টোকস আর জস বাটলার। দুইজনের জুটি থেমে ১১০ রানের জুটি গড়ে দলীয় ১৯৬ রানের মাথায়। জস বাটলার বিদায় নেন ৬০ বলে ৫৯ রান করে ফার্গুসনের বলে ক্যাচ দিয়ে। এরপর যেন স্টোকস একা হাতে নিজের পৈতৃক ভূমিকে হারানোর জন্য বদ্ধপরিকর হয়ে পড়েন। যার হাতে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা হারিয়েছিল ইংল্যান্ড সেই স্টোকসের কাছেই যে আরও বড় অর্জন অপেক্ষা করছে সেটা কে জানত। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে ৯৮ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলে নাটকীয়ভাবে ম্যাচ টাই করেন স্টোকস। সুপার ওভারে ম্যাচ গড়ালে আগে ব্যাট করে ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে ১৫ তোলে বেন স্টোকস (৮) আর জেসন রয় (৭)। ১৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে জোফরা আর্চারের ওভার মোকাবেলা করতে হয় কিউই দুই ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল আর জিমি নিশামকে। আর্চারের প্রথম ডেলিভারিতেই আসে ওয়াইডে ১রান, প্রথম বলে দুই রান নেন নিশাম। দ্বিতীয় বলে নিশামের লেগ প্রান্ত দিয়ে ছয়। পরের বলে আবারও আসে দুই রান। পঞ্চম বলে আসে ১ রান। শেষ বলে লাগে দুই রান। এখানেই ঝামেলা পাকায় দুই কিউ ব্যাটসম্যান। শেষ বলে দুই রান নিতে গিয়ে দ্বিতীয়বার প্রান্ত বদলের সময় রান আউট হয়ে যান গাপটিল। এখানেই হেরে যায় নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন লকি ফার্গুসন ও জিমি নিশাম। ১টি করে উইকেট নেন ম্যাট হেনরি ও গ্র্যান্ডওম। এই ম্যাচকে নাটকীয় জয় বললেও বোধহয় ভুল হবে। অভিনন্দন ইংল্যান্ড। অভিনন্দন পাওয়ার দাবিদার নিউজিল্যান্ডও।...

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ড

১৪জুলাই২০১৯,রবিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বহুল প্রতীক্ষার ফাইনাল। লর্ডসে চোখ সবার। সেই চোখ শুরুতে খানিক ঝাপসা করে দিয়েছিল বৃষ্টি। এখন আর নেই বৃষ্টির চোখ রাঙ্গানি। একটু দেরিতে হলেও শুরু হয়েছে ম্যাচ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর ক্রিকেট পেতে যাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপের শিরোপা? শেষ হাসি হাসবে কে। তার আগে লর্ডসে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও হুট করেই বৃষ্টি নামে সকালে। পিচে আছে ঘাসও। দুইয়ে মিলে সুবিধাটা নিতেই চাইবে টসে হেরে বোলিং পাওয়া এউইন মরগ্যান। ইংল্যান্ড: জেসন রয়, জনি বেরিস্টো, জো রুট, ইয়ন মরগ্যান (অধিনায়ক), বেন স্টোকস, জস বাটলার (উইকেট-রক্ষক), ক্রিস ওকস, লিয়াম প্লাঙ্কেট, জোফরা আর্চার, আদিল রশিদ ও মার্ক উড। নিউজিল্যান্ড: মার্টিন গাপটিল, হেনরি নিকোলস, কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), রস টেলর, জিমি নিশাম, টম ল্যাথাম (উইকেট-রক্ষক), কলিন ডি গ্র্যান্ডওম, মিচেল স্যান্টনার, ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্ট ও লকি ফার্গুসন।...

স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা ছবির মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু নিশাত সালওয়ারের

১৪জুলাই২০১৯,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এবার বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবে কাজ শুরু করলেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার প্রথম রানারআপ নিশাত নাওয়ার সালওয়া। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা ছবির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে যাত্রা শুরু হলো তার। চলচ্চিত্রটিতে তার বিপরীতে নায়ক হিসেবে দেখা যাবে হ্যান্ডসাম দ্য আল্টিমেট ম্যানর দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন এ কে আজাদকে। এরইমধ্যে গত ১২ জুলাই থেকে রাজধানীর উত্তরায় মহরত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছে। এতে অংশ নেন নায়িকা সালওয়া, নায়ক একে আজাদ-সহ অন্য কলাকুশলীরা। এ প্রসঙ্গে নিশাত নাওয়ার সালওয়া বললেন,প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রে কাজ করছি। ভালো লাগছে। আমি নিজের যোগ্যতা ও মেধার সর্বোচ্চটা ঢেলে দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়ার চেষ্টা করবো। প্রথম ছবি, প্রথম অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। আশা করছি দর্শকদের ভালো লাগার মতো কিছু দিতে পারবো । ...

মুক্তি পাচ্ছে না ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ভালোবাসা ডটকম

১১জুলাই২০১৯,বৃহস্পতিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মুক্তি পাচ্ছে না ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র -ভালোবাসা ডটকম। ২০১৫ সালে ছবির শুটিং শুরু হয়। সেন্সর বোর্ডে ছাড়পত্র পায় ২০১৬ সালে। মাঝে তিন বছর বিরতি নিয়ে আগামী কাল শুক্রবার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল মোহাম্মদ আসলাম পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি। মোহাম্মদ আসলাম বলেন, আমরা ছবিটি মুক্তির জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সারা দেশে বেশ কিছু সিনেমা হলও বুকিং পেয়েছিলাম। তবে ঢাকার ভেতরে তেমন সিনেমা হল পাচ্ছি না। বেশির ভাগ সিনেমা হলে ঈদের সময় শাকিব খানের মুক্তি পাওয়া দুটি চলচ্চিত্র চলবে। তাছাড়া কলকাতার একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে। মূলত ঢাকায় কম সিনেমা হল পাওয়ায় আমরা এখনই চলচ্চিত্রটি মুক্তি দিচ্ছি না। আসলাম আরো বলেন, ছবিটি আমি শুরু করেছিলাম ২০১৫ সালে। টানা শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে ছবির শুটিংও শেষ করেছিলাম। ২০১৬ সালে ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র পায়। তবে প্রযোজক হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় আর ছবিটি মুক্তি দিতে পারিনি। ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভি, নিঝুম রুবিনা ও রাহা। এ ছাড়া ছবিতে অভিনয় করেছেন ডন, অমিত হাসান, রেহানা জলি, রেবেকা, সিরাজ হায়দার প্রমুখ। নিহাল মুভিজ প্রযোজিত এ সিনেমার গল্পে দেখা যাবে, কলেজপড়ুয়া এক ছেলের প্রেমে পড়ে একই কলেজের দুই ছাত্রী নিঝুম ও রাহা। তাদের প্রেম নিয়ে ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। -ভালোবাসা ডটকম- সিনেমায় মোট ছয়টি গান ব্যবহার করা হয়েছে। গানগুলোর কথা লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ, সংগীতায়োজন করেছেন কাজী জামাল। কণ্ঠ দিয়েছেন কনা, ন্যানসি, পড়শী, ডলি সায়ন্তনী, রাজিব ও এস আই টুটুল।- এনটিভি ...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

পাঁচ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে রোববার

১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,বিশেষ প্রতিনিধি ,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশে প্রথমবারের মতো পাঁচ দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে। ৩৩৩ প্রস্তাব নিয়ে ডিসি সম্মেলন শুরু হবে রোববার। এই প্রথম স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের জন্য থাকছে আলাদা আলাদা সেশন। প্রতি বছরের মতো এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সকাল ৯টায় সম্মেলন উদ্বোধন হবে। গতকাল সচিবালয়ে ,জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯ নিয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। এর আগে সাধারণত তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন হতো। এবার ডিসি সম্মেলন ১৪ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ১৮ জুলাই। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান, জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে ডিসিদের বৈঠক হবে। তিনি বলেন, এবার সম্মেলনে মোট ২৯টি অধিবেশন হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে কার্য অধিবেশন ২৪টি। এ ছাড়া একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান, একটি মুক্ত আলোচনা, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও একটি সমাপনী অনুষ্ঠান হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়া মোট ৫৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশগ্রহণ করবে। কার্য অধিবেশন গুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। অধিবেশন গুলো হবে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এবার ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে ৩৩৩টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, জেলা প্রশাসকদের তাৎক্ষণিক যদি কোনো প্রস্তাব থাকে সেটি অধিবেশনে উপস্থাপন হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ বছর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক প্রস্তাব পাওয়া গেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ-সংক্রান্ত। এ বিভাগ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ২৯টি। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (২৬টি প্রস্তাব) ও ভূমি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত (২০টি) প্রস্তাব পাওয়া গেছে। ১৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে দিকনির্দেশনা নেবেন জেলা প্রশাসকরা। ১৮ জুলাই বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের (স্পিকার না থাকায়) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডিসিরা দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন শফিউল আলম। ১৭ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সকাল পৌনে ৯টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ডিসিরা বৈঠক করবেন। ডিসি সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন, দারিদ্র বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়। এ বিষয়গুলো মূলত আলোচনায় স্থান পাবে।...

১লা জানুয়ারি থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২,৩২৯

৪জুলাই২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:গত ছয় মাসে সারা দেশে ২,১৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২,৩২৯ জন নিহত ও ৪,৩৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতের তালিকায় ২৯১ নারী ও ৩৮১ শিশু রয়েছে। চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক, আন্ত:জেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কসহ সারা দেশে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন শিপিং এন্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জনের প্রাণহানি এবং ৭২৫ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৪০১টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছে যথাক্রমে ৪১৫ জন ও ৮৮৪ জন। এই মাসে নিহতের তালিকায় ৫৮ নারী ও ৬২ শিশু রয়েছে। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত ও ৮২০ জন আহত হয়েছে। এপ্রিলে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩২৭টি। এতে ৩৪০ জন নিহত ও ৬১০ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৮ নারী ও ৫৩ শিশু রয়েছে। মে মাসে ২৯৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ নারী ও ৪৪ শিশুসহ ৩৩৮ জন নিহত হয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছে ৫০৪ জন। জুনে দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৬৭। এতে ৪৩৯ জন নিহত ও ৮১৮ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ৪৯ ও ৬৯।...

কাকরাইলের পার্টি কার্যালয়ে এরশাদের মরদেহ

১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শেষবারের মতো সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে কাকরাইলের দলীয় কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে সর্ব সাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ আছর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে তৃতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির দ্বিতীয় নামাজে জানাজা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কাকরাইলের দলীয় কার্যালয়ে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জানাজার পূর্বে এরশাদের ভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের এরশাদের জন্য ক্ষমা চেয়ে তার আত্মার শান্তি কামনায় সকলের কাছে দোয়া চান। এছাড়া দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া চান। এদিকে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির নামাজে জানাজায় অংশ গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণে সংসদ এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা। গতকাল রবিবার (১৪ জুলাই) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এইচ এম এরশাদ। গতকালই বাদ জোহর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মরদেহ সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হয়। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মৃত্যুর পর পরই দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা দলের পক্ষ থেকে সিএমএইচে গণমাধ্যমের কাছে এরশাদের ব্যাপারে পরবর্তী কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। এ সময় সেখানে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ সোমবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এরশাদের মরদেহ রাখা হবে দলীয় নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। বাদ আসর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এরশাদের আরও একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ফের সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হবে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) হেলিকপ্টারে করে এরশাদের মরদেহ রংপুর নিয়ে যাওয়া হবে। বাদ জোহর রংপুর জেলা স্কুলের মাঠে এরশাদের শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নামাজে জানজার স্থান পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানান রাঙ্গা।...

নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠন পিছিয়েছে

১৪জুলাই২০১৯,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক ,ঢাকা,নিউজ একাত্তর ডট কম:বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট এ মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে করা খালেদা জিয়ার আবেদনের উপর শুনানি হবে।কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দ্বিতীয় ভবনে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ-৯ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালত আজ রোববার এ আদেশ দেন।আজ খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া কারা কর্তৃপক্ষও তাকে অসুস্থতার জন্য আদালতে হাজির করেনি। তাই খালেদা জিয়ার পক্ষে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে দেন।খালেদা জিয়ার পক্ষে আজ আদালতে ছিলেন মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জিয়াউদ্দিন জিয়া ও জয়নুল আবেদীন মেজবাহ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।...

রুক্ষ শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যায় অ্যালোভেরা

১৩জুলাই২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রুক্ষ শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যায় অ্যালোভেরা কার্যকারি উপাদান। ত্বকের যত্নে অনেকেই নিয়মিত অ্যালোভেরার রস বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু অ্যালোভেরাও যে ওজন কমাতে পারে সে খবর কয়জন জানে? অ্যালোভেরায় রয়েছে অ্যালোইন নামের প্রোটিন। যা সরাসরি ফ্যাট না কমালেও শরীরে জমে থাকা টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। তবে একটা বিষয়ে সতর্ক থাকবে হবে সবাইকে। অ্যালোভেরার রস বেশি পরিমাণে শরীরে গেলে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া হতে পারে। তাই অ্যালোভেরার রস খান সঠিক পরিমাণে। কি পরিমাণ অ্যালোভেরার রস আমাদের শরীরে প্রয়োজন তা জানা থাকা দরকার। এক গ্লাস পানিতে ৫০ মিলিলিটার অ্যালোভেরা রস মিশিয়ে দিনের যে কোনও সময় খেতে পারেন। ব্লাড সুগার, হজমের সমস্যা, পাকস্থলির সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে এই রস। দ্রুত শরীরের বাড়তি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অ্যালোভেরার রস অত্যন্ত কার্যকরী। তবে সাবধান! গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অ্যালোভেরার রস অনেক বড় ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ ডার্মাটোলজি তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গর্ভবতী মহিলা বা নতুন মায়েদের ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিকর এই রস। কারণ অ্যালোভেরার রস জরায়ু বা ইউটেরাসের সংকোচন ঘটায়। এ ছাড়াও অন্ত্রনালীতে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে।...

যেসব নারীকে বিয়ে করা হারাম

১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:যেসব নারীকে বিয়ে করা হারাম নিম্নে বর্ণিত ১৩ প্রকার নারীকে বিয়ে করা হারাম: ১. আপন মা, বাবা ও দাদা-নানার স্ত্রীরা এবং তাদের কামভাব নিয়ে স্পর্শকৃত নারী। এরূপ ঊর্ধ্বতন সব দাদা-নানার স্ত্রীরা। ২. মেয়ে এবং ছেলে ও মেয়ের ঘরের সব নাতনি। ৩. সহোদরা, বৈপিত্রেয়-বৈমাত্রেয় ফুফু। ৪. সহোদরা, বৈপিত্রেয়-বৈমাত্রেয় খালা। ৫. সহোদরা, বৈপিত্রেয়-বৈমাত্রেয় বোন ও তাদের সন্তানাদি। ৬. সহোদরা, বৈপিত্রেয়-বৈমাত্রেয় ভ্রাতৃকন্যা ও তাদের সন্তানাদি। ৭. দুধমাতা, তার মাতা, দাদি, নানিএমনিভাবে ওপরের সব নারী। ৮. স্ত্রীর মেয়ে, যদি স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস হয়ে থাকে। ৯. পুত্রবধূ, আপন ছেলের হোক বা দুধছেলের হোক। ১০. আপন শাশুড়ি, দাদিশাশুড়ি, নানিশাশুড়ি এবং ওপরে যারা রয়েছে। ১১. দুই বোন একত্রীকরণ, এমনিভাবে ফুফু ও তার ভাতৃকন্যা, খালা ও তার ভাগ্নিকন্যাকে একসঙ্গে বিয়ের মধ্যে রাখা। ১২. উল্লিখিত রক্ত সম্পর্কের কারণে যারা হারাম হয়েছে, দুধ সম্পর্কের কারণেও তারা সবাই হারাম হয়। ১৩. যে মেয়ে অপরের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ রয়েছে। এ ছাড়া অন্য সব নারীকে বিয়ে করা হালাল। (দেখুন : সুরা : নিসা, আয়াত ২৩-২৪) স্ত্রীর বর্তমানে শালিকে বিয়ে করা অবৈধ কোনো নারী কারো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ থাকাকালীন তার বোনের সঙ্গে বিয়ে সম্পূর্ণ হারাম। প্রথম বোনের সঙ্গে তালাক হয়ে গেলে মহিলার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর অথবা বোন মারা গেলে তখন তার বোনের সঙ্গে বিয়ে বৈধ। (হিন্দিয়া : ১/২৭৭) পরস্পর লেগে থাকা যমজ দুই বোনের বিয়ের বিধান জন্মগতভাবে পরস্পর জড়ানো যমজ দুই বোনের জন্ম হলে দুই বোনকে এক ব্যক্তি একত্রে বিয়ে করতে যেমন পারবে না, তেমনি দুই বোনকে দুই ব্যক্তির কাছে বিয়ে দেওয়াও সম্ভব নয়। শুধু এক বোনকে একজন লোকের কাছে বিয়ে দিলেও পর্দার বিধান রক্ষা করে তাকে নিয়ে সংসার করা সম্ভব হবে না। তাই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান হবে, অপারেশনের মাধ্যমে দুই বোনকে আলাদা করার চেষ্টা করা, যা বর্তমান যুগে ব্যয়বহুল হলেও সম্ভব। অতঃপর দুই বোনকে পৃথক দুই ব্যক্তির কাছে বিয়ে দেওয়া। আর পৃথক করা কোনোভাবে সম্ভব না হলে তাদের চিরকুমারী থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৬২; ইমদাদুল ফাতাওয়া: ২/২৩৯) চাচাতো ভাই-বোনের মেয়েকে বিয়ে করা বৈধ আপন ভাই বা বোনের মেয়েকে বিয়ে করা হারাম। তবে চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাই ও বোনের মেয়ে মুহাররমাতের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই তাদের বিয়ে করা জায়েজ হবে। (বিনায়া : ৪/৫০৮) দুধবোন ও তার মেয়েকে বিয়ে করা হারাম শরিয়তের আলোকে দুধবোনকে বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষেধ। বংশীয় সম্পর্কে সহোদর বোনের মেয়েকে বিয়ে করা যেমন হারাম, দুধবোনের মেয়ে বিয়ে করাও তেমনি হারাম। (বুখারি, হাদিস: ২৬৪৫; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২) প্রাপ্তবয়স্ক স্বামী স্ত্রীর দুধ পান করলে স্ত্রী হারাম হবে না সাবালক স্বামীর নিজ স্ত্রীর দুধ পান করা শরিয়তে নিষিদ্ধ ও গর্হিত কাজ। তবে এর দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হবে না। সহবাসের সময় উত্তেজনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্ত্রীর স্তন মুখে নিতে পারবে, তবে দুধ যেন ভেতরে না যায় তা খেয়াল রাখতে হবে। (আদ্দুররুল মুখতার: ৩/২২৫) পালিত মেয়েকে বিয়ে করা বৈধ যদি কারো পালিত মেয়ে ওই ব্যক্তির স্ত্রীর অথবা কোনো মাহরামের দুধ দুই বছর বয়সের মধ্যে পান করে না থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে জায়েজ। এ ক্ষেত্রে পর্দা করাও ফরজ। (সুরা : আহজাব, আয়াত ৩৩; ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ: ৭/২৪৪) কামভাব নিয়ে পুত্রবধূকে স্পর্শ করা ও তাকানো শ্বশুরের জন্য পুত্রবধূর দিকে কুদৃষ্টিতে তাকানো মারাত্মক গুনাহ ও হারাম। যদি শ্বশুর কামভাব নিয়ে পুত্রবধূর খালি শরীরে বা পাতলা কাপড়ের ওপর দিয়ে স্পর্শ করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ছেলের জন্য ওই পুত্রবধূ হারাম হয়ে যাবে। তবে শর্ত হলো, স্পর্শের বিষয়টি স্বীকারোক্তি বা সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে অথবা ছেলে ওই কথার দাবিকারীকে প্রবল ধারণামতে সত্য মনে করতে হবে। এ অবস্থায় উভয়ে পৃথক হয়ে যেতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৬০, রদ্দুল মুহতার ৩/৩৩) জামাতা-শাশুড়ি পরস্পর কামভাব নিয়ে দেখা বা স্পর্শ করা বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দিকে কামভাব নিয়ে তাকালে গুনাহ হলেও হুরমাতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয় না। বরং খোলামেলা কোনো অঙ্গ কামভাবে স্পর্শ করার দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয় তথা স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যায়। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস: ১০৮৩২) অবৈধ শয্যাসঙ্গিনীর মেয়েকেও বিয়ে করা হারাম যার সঙ্গে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে তার মেয়েকে বিয়ে করাও অবৈধ। কেননা ওই মেয়ের সঙ্গে এখন তার কন্যার সম্পর্ক হয়ে গেছে। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৬০) তালাক গ্রহণ ছাড়া অন্যজনের সঙ্গে বিয়ে আগের স্বামীর তালাক প্রদান ছাড়া অন্য কোনো বিয়ে শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। ওই বিয়ে বাতিল বলে গণ্য হবে। তেমনি আগের স্বামীর ইদ্দত চলাকালেও বিয়ে বাতিল হবে। (তাফসিরুল জালালাইন, পৃষ্ঠা ১০৪; রদ্দুল মুহতার : ৩/৫১৯) ইহুদি-খ্রিস্টান মেয়ে বিয়ে করা বর্তমান যুগের ইহুদি-খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী বলে যারা পরিচিত, নির্ভরযোগ্য মতানুসারে তারা ইহুদি-খ্রিস্টানদের মূলনীতির অবিশ্বাসী। বর্তমানে বাস্তব আহলে কিতাব নেই বললেই চলে। এ ছাড়া বর্তমানে তাদের নারীদের বিয়ে করা অনেক ফিতনার কারণ হয়ে থাকে বিধায় তাদের বিয়ে করা বৈধ নয়। তবে এ ধরনের নারীদের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেলে তার ব্যাপারে খোঁজ নিতে হবে যে সে প্রকৃত অর্থে মুসা (আ.) ও ঈসা (আ.)-এর আনীত ধর্মে বিশ্বাসী কি না। তাওরাত বা ইঞ্জিলে বিশ্বাসী কি না। এবং আল্লাহকে বিশ্বাস করে কি না। যদি সত্যিই তা হয় তাহলে তাকে দাওয়াতের মাধ্যমে মুসলমান বানানোর চেষ্টা করার শর্তে ওই বিয়েকে বাতিল বলা যাবে না। আর যদি প্রমাণিত হয় যে সে নাস্তিকতায় বিশ্বাসী, তাহলে এই বিয়ে বাতিল বলে গণ্য হবে। (রদ্দুল মুহতার: ৩/৪৫; ফাতাওয়া দারুল উলুম: ৭/২৬১) হিন্দু-মুসলিম বিয়ের বিধান শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসলিম পুরুষ কোনো হিন্দু মহিলাকে, তেমনি মুসলিম নারী হিন্দু পুরুষকে বিয়ে করতে পারে না, যতক্ষণ তারা ইসলাম গ্রহণ না করে। ইসলাম গ্রহণ ছাড়া বিয়ে অবৈধ। এ ধরনের বিয়ে শরিয়তে বিয়ে বলে গণ্য হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা মুশরিককে বিয়ে কোরো না, যতক্ষণ তারা ঈমান না আনে। (সুরা: বাকারা, আয়াত: ২২১)।...

সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই আলো ছড়ায় ঈদ

৪জুন২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রমজানের ঈদ এবং কোরবানির ঈদ নিয়ে প্রতিবছরই সংবাদপত্রে লেখা বেরোয়। একটি সংযমের মাস, অন্যটি ত্যাগের উৎসব। এই সংযম ও ত্যাগ নিয়ে আমিও কতবার লিখেছি, তার সীমা সংখ্যা নেই। নজরুল তো এই দুই ঈদ নিয়ে একটি গান, একটি কবিতাই লিখে ফেলেছেন। রমজানের ঈদ নিয়ে তিনি লিখেছিলেন গান, রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। কোরবানির ঈদ নিয়ে লিখেছিলেন কবিতা, ওরে হত্যা নয় আজ সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন। এই গান ও কবিতা দুটিই একসময় প্লাবন সৃষ্টি করেছিল দেশে। দুই ঈদ সম্পর্কেই নজরুল লিখেছিলেন, সারাদিন উপবাসে থেকে ইফতার ও সেহিরতে যথেচ্ছ পান ভোজন করাটা ত্যাগ এবং সংযম কোনোটাই নয়। গরিব প্রতিবেশীকে অনাহার অর্ধাহারে রেখে নিজে ইফতারি-সেহিরর নামে পোলাও-কোর্মা খাওয়াটা সংযম নয়, বরং ভণ্ডামি। কোরবানির ঈদ সম্পর্কে তিনি লিখেছিলেন, বনের পশুকে নয়, তুই আগে মনের পশুকে হত্যা কর। তা না পারলে কেবল পশু হত্যা কোনো কাজ দেবে না। রমজানের ঈদের নাম ঈদুল ফিতর। অর্থাৎ ফিতরের ঈদ। এই ঈদ বা উৎসব গরিব প্রতিবেশীকে শরিক না করে পালন করা যায় না। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গরিব প্রতিবেশীকে দিতে হয়। ইসলামে ফিতরা, জাকাত ইত্যাদি প্রবর্তন করা হয়েছিল গরিবদের প্রতি ধনীদের দায়িত্ব পালনের জন্য। দুই ঈদের আরো একটি উদ্দেশ্য ছিল সমাজে শ্রেণি ব্যবধান ঘোচানো। গরিব আর ধনী, অভিজাত আর অনভিজাত পাশাপাশি বসে নামাজ পড়ছে, নামাজ শেষে মনিব আর চাকর কোলাকুলি করছে। দেড় হাজার বছর আগে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক ব্যবস্থা। বর্তমানে আরো উন্নত যুগের উন্নত সামাজিক ব্যবস্থার সময়েও এই দৃশ্য বিরল। নারীরা ঘোড়ায় চড়ে পুরুষের পাশাপাশি যুদ্ধ করে এই দৃশ্য দেখা ইসলামের প্রথম যুগেই সম্ভব ছিল। মোল্লাবাদের আবির্ভাবের ফলে ইসলামের এই মৌলিক আদর্শ, নারীমুক্তি, দাসমুক্তি, শ্রেণি সাম্য, আর্থিক সাম্য, অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান ও সহিষ্ণুতা প্রায় বিলুপ্তির পথে। ইসলামকে তার প্রকৃত আদর্শে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য পরবর্তীকালে যেসব সংস্কারক চেষ্টা করেছিলেন, যেমন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম মালেক, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ সংস্কারকের বেশির ভাগকেই উগ্র মোল্লাবাদীরা হত্যা করেছিল। বাংলাদেশের সৌভাগ্য, সেই প্রাচীনকালে ব্রাহ্মণ্য শাসনের অত্যাচার-উত্পীড়নে অতিষ্ঠ এবং বর্ণবিভাগে বিভাজিত দেশটিতে প্রধানত পারস্য থেকে আগত ধর্ম প্রচারকরা ইসলাম প্রচার করেছেন। উত্পীড়িত মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছে। শ্রেণি বিভক্তিতে পীড়িত অস্পৃশ্য নিম্ন শ্রেণির হিন্দু ও বৌদ্ধরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছে। তাদের অস্পৃশ্যতা দূর হয়েছে। মানবাধিকার ফিরে পেয়েছে। পণ্ডিত মোতাহার হোসেন চৌধুরীর মতে, বাঙালির স্থানীয় কালচার তার জাতীয় কালচার। ইসলাম যে বহিরাগত কালচার সঙ্গে করে এনেছে, তা ধর্মীয় কালচার। এ দুইয়ের মিলনে-মিশ্রণে যে বাঙালি কালচার গড়ে উঠেছে, তা ধর্মনিরপেক্ষ কালচার। এই কালচারের প্রভাবে ধর্মীয় উগ্রতা কখনো প্রশ্রয় পায়নি। মিলন ও ভালোবাসায় সুফিবাদ, মরমি বৈষ্ণববাদ ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। ব্রিটিশ আমলেও বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের প্রধান উৎসব ছিল রমজানের ঈদ ও সর্বজনীন দুর্গাপূজা। রমজানের ঈদ ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে শরৎকালে সরকারি অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ এক মাস ছুটি থাকত। শহরে কর্মরত মানুষ ছুটিতে গ্রামে ফিরে আসত। ঈদ ও পূজা উপলক্ষে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে মিলন ঘটত। পাকিস্তান আমলে সামাজিক জীবন ও রাজনীতিতে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার বিভেদ বেড়ে ওঠে। দুই সম্প্রদায়ের বাঙালি জীবনেই তার ছাপ পড়ে। বাংলাদেশ হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সংগ্রামের পর স্বাধীনতা লাভ করায় অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তার ভিত্তি শক্ত হবে; রমজানের ঈদ, দুর্গাপূজা, বৈশাখী উৎসব, ভাষা দিবস প্রভৃতি জাতীয় উৎসবে রূপান্তরিত হবে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু বাধা পড়ে উগ্র ওয়াহাবিবাদ, মওদুদীবাদ ইত্যাদি মতবাদের আবির্ভাবের ফলে। এই ওয়াহাবিবাদ থেকেই কট্টর জঙ্গিবাদ বা পলিটিক্যাল ইসলাম জন্ম নেয়। তা শুধু জাতীয় উৎসবগুলোকেই ধর্মীয় করেনি, জাতীয় রাজনীতিকেও ধর্মীয় কালচার দ্বারা প্রভাবিত করে যেসব ধর্মীয় উৎসব জনগণের মিলিত উৎসবে পরিণত হয়েছিল, তাতেও বিভাজন ঘটায়। বাঙালির সমাজ এখন বিভাজিত সমাজ। তার হাজার বছরের মিশ্র সংস্কৃতি এখন ধর্মীয় সংস্কৃতি দ্বারা আচ্ছন্ন। স্বাধীনতাযুদ্ধে বাঙালি মুসলমান যতটা স্বদেশে ফিরেছিল, বিএনপি-জামায়াতের শাসন এবং মোল্লাবাদের উত্থানে ততটাই স্বদেশবিমুখ হয়েছে। এ অবস্থাকেই কবি শামসুর রাহমান বলেছিলেন, অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। এই উটের পিঠ থেকে স্বদেশকে নামাতে সময় লেগেছে ২১ বছর। এই যুদ্ধ চলেছে ২১ বছরের বেশি এবং এখনো চলছে। বাংলাদেশে রমজানের খুশির চাঁদ এখন খণ্ডিত। দুর্গাপূজার মণ্ডপ পুলিশ পাহারায় রাখতে হয়। এই অবস্থা থেকে জাতীয় উৎসবগুলোকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের কৈশোরে রমজানের ঈদে হিন্দু ও বৌদ্ধরাও উৎসবে যোগ দিত। তারা নামাজ পড়তে আসত না। আসত উৎসবের খাওয়াদাওয়ায় যোগ দিতে। অনুরূপ আমরাও দুর্গা ও সরস্বতীর পূজার উৎসবের অংশে যোগ দিতাম। বৌদ্ধ পূর্ণিমার উৎসবে মেতে উঠতাম। বাঙালির সংস্কৃতি, সমাজ ছিল মিশ্র ও মিলিত। তার উৎসবও তাই। বাংলাদেশে তার হাজার বছরের লোকায়ত সমাজ ও সভ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ থাকবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একাধিকবার গড়ের মাঠে রমজানের ঈদের নামাজের বিশাল জামাতে যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। দেখেছি, মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধান রায়, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় এই ঈদের জামাতে আসতেন। এখন আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা নামাজ পড়তে আসেন না। নামাজের আগে যে খুতবা পাঠ হয়, সেই সময় খতিবের পাশে বসেন। খুতবা পাঠ শেষ হলে মুসলমানদের ঈদ মোবারক জানান। তাদের সমস্যা ও অভিযোগ দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশেও দুর্গাপূজায়, বুদ্ধপূর্ণিমায় বা উপজাতীয়দের কোনো ধর্মীয় উৎসবে যে দলের সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তারা যায়। যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী যখন মন্ত্রী, তিনিও পুলিশসহ দুর্গাপূজার মণ্ডপে গেছেন। সেটা ছিল লোক-দেখানো যাওয়া। একদিকে মন্ত্রী গেছেন পূজামণ্ডপে, অন্যদিকে তাঁর দলের লোকেরা মন্দিরে হামলা করেছে, মূর্তি ভেঙেছে। এইচ এম এরশাদের আমলে তো সরকারের নিযুক্ত গুণ্ডারা মন্দির ও মূর্তি ভেঙেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। অতঃপর বিশ্বজনমতের নিন্দা ও চাপের মুখে আবার সরকারি খরচে ভাঙা মন্দির মেরামত করেছে। এই অবস্থা ভারতেও দেখা গেছে। মহররমের মিছিলে হামলা হয়েছে। ঈদের জামাতে বোমা মারা হয়েছে। মসজিদ ভাঙা হয়েছে। গরু কোরবানির জন্য সংখ্যালঘু মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ভারতে ৭০০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছে। বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদাররা হাজার বছরের প্রাচীন রমনা কালীমন্দির ভেঙেছে। একদিকে ভারতে দাপট দেখাচ্ছে হিংস্র হিন্দুত্ববাদ এবং বাংলাদেশে দাপট দেখাচ্ছে উগ্র ইসলামী জঙ্গিবাদ। অথচ কোনো ধর্মেই হিংসাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। ধর্মে হিংসা ঢুকিয়েছে মোল্লাবাদীরা এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ রাজনীতিকরা। একে রুখতে হলে ধর্মের পবিত্র অনুষ্ঠানগুলোকে মোল্লাবাদীদের খপ্পরমুক্ত করতে হবে। রমজানের ঈদ, দুর্গাপূজার মতো উৎসবগুলোকে সাম্প্রদায়িক মিলনের কেন্দ্র করে তোলার জন্য সরকারকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে অবশ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অনেকটাই ফিরে আসে। সংখ্যালঘুদের পূজা-পার্বণও অনেকটা হামলামুক্ত হয়। কিন্তু বড় কাজ হবে এই উৎসবগুলোকে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত উৎসব করে তোলা। ইউরোপে যেমন খ্রিস্ট ধর্মের ক্রিসমাস উৎসব সব ধর্ম-বর্ণের মানুষই পালন করে। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, আনন্দময়ীর আগমনের বাজনা যেন হিন্দুর ঘরেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই বেজে উঠে। আর নজরুল বলেছিলেন, রমজানের ঈদের চাঁদ যেন কেবল মুসলমানের ঘরে আলো না ছড়িয়ে সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই আলো ছড়ায়। এবারের রমজানের ঈদে আমাদের সবার প্রার্থনা হোক, এই চাঁদ যেন সব বিভেদ-বিবাদের মেঘ সরিয়ে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার ঘরে আনন্দের আলো ছড়ায়। সবার জন্য রইল ঈদ মোবারক।-আবদুল গাফফার চৌধুরী ...

এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভাবনা

১১মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভাবনা ( মুহম্মদ জাফর ইকবাল)১. এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় একুশ লাখ ছেলেমেয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল, এর মাঝে প্রায় বিরাশি শতাংশ পাস করেছে। সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সময়মতো পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়েছে। মনে আছে একটা সময় ছিল যখন হরতালের পর হরতাল দিয়ে আমাদের জীবনটাকে একেবারে এলোমেলো করে দেওয়া হতো! আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার রুটিন দেওয়ার সময় রুটিনের নিচে লিখে রাখতাম অনিবার্য কারণে পরীক্ষা নেওয়া না গেলে অমুক দিন পরীক্ষা নেওয়া হবে। আমরা যারা একটু বেশি দুঃসাহসী ছিলাম তারা সারাদিন হরতাল শেষে সন্ধ্যাবেলাও পরীক্ষা নিয়েছি। হঠাৎ করে ইলেকট্রিসিটি চলে গেলে যেন পরীক্ষা নিতে পারি সেজন্য মোমবাতি রেডি রাখতাম। শুধু মুখ ফুটে কোনও একটা রাজনৈতিক দলকে উচ্চারণ করতে হতো অমুকদিন হরতাল, ব্যস সারাদেশ অচল হয়ে যেতো! মনে আছে, আমি অনেকবার রাজনৈতিক দলের কাছে অনুরোধ করতাম, হরতালের সময় যেরকম হাসপাতাল অ্যাম্বুলেন্সকে হরতালমুক্ত রাখা হতো সেরকম স্কুল কলেজ এবং পরীক্ষা যেন হরতালমুক্ত রাখা হয়! কিন্তু কে আমাদের কথা শুনবে? সেই হরতাল দেশ থেকে উঠে গেছে। আমার মাঝে মাঝে নিজেকে চিমটি কেটে দেখতে হয় সত্যিই এটা ঘটেছে নাকি স্বপ্ন দেখছি! এভাবে আরও কিছুদিন কেটে গেলে ছোট ছেলেমেয়েদের একদিন বোঝাতে হবে হরতাল জিনিসটি কী! শুধু যে হরতাল উঠে গেছে, তা নয়, মনে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত প্রশ্নফাঁস থেকেও আমরা মুক্তি পেয়েছি। এই মাত্র কদিন আগেও মায়েরা রাত জেগে বসে থাকতেন, ফেসবুক থেকে ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন ডাউনলোড করে সেটা সমাধান করিয়ে নিজের বাচ্চাদের হাতে তুলে দিতেন মুখস্থ করার জন্য। (হয়তো বাবারাও কিংবা অন্য আত্মীয়-স্বজনও এটা করেছেন, কিন্তু আমার কাছে যেসব তথ্য এসেছে সেখানে মায়েদের কথাটাই বেশি এসেছে, তাই মায়েদের কথা বলছি এবং সুস্থ স্বাভাবিক মায়েদের কাছে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এরকম কুৎসিত একটা বাক্য লেখার জন্য।) প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমার ক্ষোভটা একটু বেশি, কারণ মনে আছে আমি এটা নিয়ে চেঁচামেচি শুরু করার পর হঠাৎ করে আবিষ্কার করেছিলাম আমার এই বিশাল নাটক করার পরও আমার সাথে কেউ নেই! আমি মোটামুটি একা। কোনোভাবেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা বোর্ডগুলোকে একবারও স্বীকার করানো যায়নি যে, আসলেই দেশে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্যাটির অস্তিত্ব স্বীকার করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই সমস্যাটির সমাধান হবে কেমন করে? শেষপর্যন্ত মন্ত্রণালয় যখন স্বীকার করতে শুরু করল যে আসলেই প্রশ্নফাঁস হচ্ছে তখন মোটামুটি ম্যাজিকের মতো সমস্যাটি দূর হয়ে গেলো! পরীক্ষার খাতা দেখার ব্যাপারেও একটা শৃঙ্খলা এসেছে, চোখ বন্ধ করে বেশি নম্বর দেওয়ার প্রক্রিয়াটাও মনে হয় বন্ধ হয়েছে, বাকি আছে শুধু প্রশ্নের মান। আগের থেকে যথেষ্ট উন্নত হয়েছে কিন্তু এখনো মনে হয় মানসম্মত প্রশ্ন করা শুরু হয়নি, শিক্ষকরা সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারেন না বলে অভিযোগ আছে। এখনও মাঝে মাঝেই গাইড বই থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন চলে আসে। সে কারণে গাইড বইয়ের প্রকাশক এবং কোচিং ব্যবসায়ীদের অনেক আনন্দ। ভালো প্রশ্ন করা খুব সহজ কাজ নয়, একজনকে এই দায়িত্ব দিলেই সেটা হয়ে যায় না। কিন্তু যেহেতু একটা প্রশ্ন প্রায় বিশ লাখ ছেলেমেয়ে ব্যবহার করে সেই প্রশ্নটি অনেক মূল্যবান, তার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়ানো দরকার। এ রকম প্রশ্নগুলো যারা করেন তাদের যে সম্মানী দেওয়া হয়, সেটা রীতিমতো হাস্যকর। আমি সুযোগ পেলেই শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের বলি প্রশ্ন করার জন্য হোটেল সোনারগাঁয়ে একটা সুইট ভাড়া করতে, প্রশ্নকর্তারা সেখানে থাকবেন ভাবনাচিন্তা করে সুন্দর প্রশ্ন করে সেটা টাইপ করে একেবারে ক্যামেরা রেডি করে দিয়ে বাড়ি যাবেন। গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা আমার কথা বিশ্বাস করেন না। তারা ভাবেন আমি ঠাট্টা করছি। আমি কিন্তু ঠাট্টা করে কথাগুলো বলি না, সত্যি সত্যি বলি। স্কুল-কলেজের শিক্ষক হলেই তাদের হেলাফেলা করা যাবে সেটা আমি বিশ্বাস করি না। যখন তারা বিশ লাখ ছেলেমেয়ের জন্য প্রশ্ন করছে তখন তারা মোটেও হেলাফেলা করার মানুষ না। তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। পরীক্ষার মানসম্মত প্রশ্ন করা হলে অনেক বড় একটা কাজ হবে। সবাই পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে চায়, মানসম্মত প্রশ্ন হলে শুধু তারাই ভালো নম্বর পাবে যারা বিষয়টা জানে। কোচিং সেন্টার থেকে ভালোভাবে পরীক্ষা দেওয়ার টেকনিক শিখে লাভ হবে না। সেজন্য ভালো প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো প্রশ্ন করার পরও আরো একটা বিষয় থেকে যায়। আমরা যখন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম তখন সকালে এক পেপার বিকালে আরেক পেপার পরীক্ষা দিয়েছি! প্রত্যেকদিন পরীক্ষা, মাঝে কোনও গ্যাপ নেই। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর ঝড়ের গতিতে পরীক্ষা শেষ! এটা নিয়ে যে আপত্তি করা যায় সেটাও আমরা জানতাম না। খুব যে কষ্ট হয়েছে কিংবা পরীক্ষার পর অর্ধেক ছেলেমেয়ে পাগল হয়ে গেছে সে রকম কিছু শুনিনি। সেই বিষয়টা ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা যায়। (আমার এই বক্তব্য শুনে পরীক্ষার্থীরা চাপাতি হাতে নিয়ে আমাকে খুঁজবে সেরকম একটা আশংকা আছে, তারপরও বলছি!) পরীক্ষা লেখাপড়া নয়, শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দিনের পর দিন কাটিয়ে দেওয়ার মাঝে কোনও আনন্দ নেই। ঝটপট পরীক্ষা শেষ করে বাকি সময়টা নির্ভেজাল আনন্দের মাঝে কাটানো হচ্ছে জীবনকে উপভোগ করা। বাচ্চাদের কেন জীবন উপভোগ করতে শেখাব না? ২. প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পর আমরা পত্রপত্রিকায় এবং টেলিভিশনে পরীক্ষার্থীদের আনন্দোজ্জ্বল ছবি দেখতে পাই। এই বয়সটিতে সবকিছুকেই রঙিন মনে হয় তাই পরীক্ষার পর তাদের আনন্দ এবং উচ্ছ্বাসটিও হয় অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত, অনেক বেশি তীব্র। দেখতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু প্রতিবছরই এই আনন্দে উদ্ভাসিত ছেলেমেয়েগুলোর ছবি দেখার সময় আমি এক ধরনের আশঙ্কা অনুভব করি। এই বয়সটি তীব্র আবেগের বয়স, আমি নিশ্চিতভাবে জানি অসংখ্য ছেলেমেয়ের তীব্র আনন্দের পাশাপাশি কিছু ছেলেমেয়ে রয়েছে যাদের পরীক্ষার ফলটি তাদের মনমতো হয়নি। সেজন্য কয়দিন মন খারাপ করে থেকে আবার নতুন উৎসাহ নিয়ে জীবন শুরু করে দিলে আমার কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু সেটি হয় না, প্রতিবছরই দেখতে পাই পরীক্ষার ফল বের হওয়ার পর বেশকিছু ছেলেমেয়ে একেবারে আত্মহত্যা করে ফেলে। এই বছর এখন পর্যন্ত পাঁচটি ছেলেমেয়ের খবর পেয়েছি যারা আত্মহত্যা করেছে। সারাদেশে এরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এদের মাঝে ছেলে আছে, তবে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। এসএসসি পরীক্ষার্থী আছে সেরকম দাখিল পরীক্ষার্থী আছে। পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি সেজন্য আত্মহত্যা করেছে যেরকম আছে, যথেষ্ট ভালো করেছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিপিএ ফাইভ হয়নি বলে আত্মহত্যা করেছে সেরকম ঘটনাও ঘটেছে। কী ভয়ঙ্কর একটি ঘটনা। একজন মানুষের জীবন কত বড় একটি ব্যাপার সেই জীবনটি থেকে কত কী আমরা আশা করতে পারি, সেই জীবনটিকে একটি কিশোর কিংবা কিশোরী শেষ করে দিচ্ছে কারণ তার পরীক্ষার ফল ভালো হয়নি, এটি আমরা কেমন করে গ্রহণ করব? যখনই এরকম একটি ঘটনার কথা পত্রপত্রিকায় দেখি আমার বুকটি ভেঙে যায়। শুধু মনে হয়, আহা আমি যদি তার সঙ্গে একটুখানি কথা বলতে পারতাম। মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে পারতাম জীবনটা কত বড়, তুচ্ছ একটা পরীক্ষার তুচ্ছ একটা ফলকে পিছনে ফেলে জীবনে কত বড় একটা কিছু করে ফেলা যায়। পৃথিবীতে সেরকম কত উদাহরণ আছে। প্রত্যেকটা মানুষকেই জীবনে কত ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়, একজন মানুষের জীবনে যতটুকু সাফল্য তার থেকে ব্যর্থতা অনেক বেশি। সেই ব্যর্থতা এলে কি কখনো হাল ছেড়ে দিতে হয়? ভবিষ্যতে আরও কত সুন্দর জীবন অপেক্ষা করছে আমরা সেটি কি কল্পনা করতে পারি? কিন্তু আমার কখনো এই অভিমানী ছেলেমেয়েগুলোর সঙ্গে দেখা হয় না। তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার সুযোগ হয় না। শুধু পত্র-পত্রিকায় খবরগুলো দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। আমি আশা করে থাকি আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা এবং তাদের মা-বাবারা বুঝতে পারবেন যে পরীক্ষার এই একটি ফল পৃথিবীর বিশাল কর্মযজ্ঞের তুলনায় কিছুই না। পরীক্ষায় মনের মতো ফল না করেও একটি চমৎকার জীবন হওয়া সম্ভব। শুধু ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হওয়াই জীবন নয়, ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে এই পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ আশ্চর্যরকম সুখী হয়ে জীবন কাটিয়েছে, তারা পরিবারকে দিয়েছে, সমাজকে দিয়েছে, দেশকে দিয়েছে এমনকী পৃথিবীকে দিয়েছে। লেখাপড়ার সত্যিকার উদ্দেশ্যটি মনে হয় আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে কিংবা তাদের মা-বাবাদের এখনো বোঝাতে পারিনি! ৩. আত্মহত্যার খবর পড়ে যখন মন খারাপ করে বসে থাকি তখন তার পাশাপাশি অদম্য মনোবলের একজনের কাহিনি পড়ে আবার মনটি আনন্দে ভরে ওঠে। তামান্না আখতার নামে একটি কিশোরী জন্ম নিয়েছে দুই হাত এবং একটি পা ছাড়া। সে সেই ছেলেবেলা থেকে অসাধারণ লেখাপড়া করে এসেছে, এসএসসিতেও তার মনের মতো পরীক্ষার ফল হয়েছে। আমার আনন্দ সেখানে নয়, আমার আনন্দ তার স্বপ্নের কথা পড়ে। সে বড় হয়ে প্রথমে ডাক্তার হতে চেয়েছিল এখন সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে! আমি মাঝে মাঝে নতুন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের সামনে বক্তৃতা দেই। যদি বেঁচে থাকি তাহলে এমন তো হতেও পারে যে সেরকম কোনও একটি সভায় হঠাৎ করে দেখব সামনে একটি হুইল চেয়ারে মাথা উঁচু করে তামান্না বসে আছে। স্বপ্ন দেখতে দোষ কী? আরও একটি আনন্দের ব্যাপার হয়েছে। আমি সবসময়েই বলে থাকি আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি যে এখানে ছেলেরা এবং মেয়েরা সমানভাবে লেখাপড়া করে যাচ্ছে। আমি মোটামুটিভাবে বিশ্বাস করি মেয়েরা যখন জীবনের সবক্ষেত্রে ছেলেদের সমান সমান হয়ে যায় তখন এই দেশটি নিয়ে আমাদের আর কোনও দুর্ভাবনা করতে হবে না। এবারে এসএসসি পরীক্ষার ফল দেখে মনে হলো আমরা সেদিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেছি! মেয়েরা এর মাঝে ছেলেদের থেকে ভালো করতে শুরু করেছে। লেখক : অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট...

পাঁচ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে রোববার

১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,বিশেষ প্রতিনিধি ,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশে প্রথমবারের মতো পাঁচ দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে। ৩৩৩ প্রস্তাব নিয়ে ডিসি সম্মেলন শুরু হবে রোববার। এই প্রথম স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের জন্য থাকছে আলাদা আলাদা সেশন। প্রতি বছরের মতো এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সকাল ৯টায় সম্মেলন উদ্বোধন হবে। গতকাল সচিবালয়ে ,জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯ নিয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। এর আগে সাধারণত তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন হতো। এবার ডিসি সম্মেলন ১৪ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ১৮ জুলাই। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান, জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে ডিসিদের বৈঠক হবে। তিনি বলেন, এবার সম্মেলনে মোট ২৯টি অধিবেশন হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে কার্য অধিবেশন ২৪টি। এ ছাড়া একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান, একটি মুক্ত আলোচনা, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও একটি সমাপনী অনুষ্ঠান হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়া মোট ৫৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশগ্রহণ করবে। কার্য অধিবেশন গুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। অধিবেশন গুলো হবে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এবার ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে ৩৩৩টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, জেলা প্রশাসকদের তাৎক্ষণিক যদি কোনো প্রস্তাব থাকে সেটি অধিবেশনে উপস্থাপন হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ বছর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক প্রস্তাব পাওয়া গেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ-সংক্রান্ত। এ বিভাগ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ২৯টি। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (২৬টি প্রস্তাব) ও ভূমি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত (২০টি) প্রস্তাব পাওয়া গেছে। ১৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে দিকনির্দেশনা নেবেন জেলা প্রশাসকরা। ১৮ জুলাই বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের (স্পিকার না থাকায়) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডিসিরা দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন শফিউল আলম। ১৭ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সকাল পৌনে ৯টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ডিসিরা বৈঠক করবেন। ডিসি সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন, দারিদ্র বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়। এ বিষয়গুলো মূলত আলোচনায় স্থান পাবে।


সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই আলো ছড়ায় ঈদ

৪জুন২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রমজানের ঈদ এবং কোরবানির ঈদ নিয়ে প্রতিবছরই সংবাদপত্রে লেখা বেরোয়। একটি সংযমের মাস, অন্যটি ত্যাগের উৎসব। এই সংযম ও ত্যাগ নিয়ে আমিও কতবার লিখেছি, তার সীমা সংখ্যা নেই। নজরুল তো এই দুই ঈদ নিয়ে একটি গান, একটি কবিতাই লিখে ফেলেছেন। রমজানের ঈদ নিয়ে তিনি লিখেছিলেন গান, রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। কোরবানির ঈদ নিয়ে লিখেছিলেন কবিতা, ওরে হত্যা নয় আজ সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন। এই গান ও কবিতা দুটিই একসময় প্লাবন সৃষ্টি করেছিল দেশে। দুই ঈদ সম্পর্কেই নজরুল লিখেছিলেন, সারাদিন উপবাসে থেকে ইফতার ও সেহিরতে যথেচ্ছ পান ভোজন করাটা ত্যাগ এবং সংযম কোনোটাই নয়। গরিব প্রতিবেশীকে অনাহার অর্ধাহারে রেখে নিজে ইফতারি-সেহিরর নামে পোলাও-কোর্মা খাওয়াটা সংযম নয়, বরং ভণ্ডামি। কোরবানির ঈদ সম্পর্কে তিনি লিখেছিলেন, বনের পশুকে নয়, তুই আগে মনের পশুকে হত্যা কর। তা না পারলে কেবল পশু হত্যা কোনো কাজ দেবে না। রমজানের ঈদের নাম ঈদুল ফিতর। অর্থাৎ ফিতরের ঈদ। এই ঈদ বা উৎসব গরিব প্রতিবেশীকে শরিক না করে পালন করা যায় না। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গরিব প্রতিবেশীকে দিতে হয়। ইসলামে ফিতরা, জাকাত ইত্যাদি প্রবর্তন করা হয়েছিল গরিবদের প্রতি ধনীদের দায়িত্ব পালনের জন্য। দুই ঈদের আরো একটি উদ্দেশ্য ছিল সমাজে শ্রেণি ব্যবধান ঘোচানো। গরিব আর ধনী, অভিজাত আর অনভিজাত পাশাপাশি বসে নামাজ পড়ছে, নামাজ শেষে মনিব আর চাকর কোলাকুলি করছে। দেড় হাজার বছর আগে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক ব্যবস্থা। বর্তমানে আরো উন্নত যুগের উন্নত সামাজিক ব্যবস্থার সময়েও এই দৃশ্য বিরল। নারীরা ঘোড়ায় চড়ে পুরুষের পাশাপাশি যুদ্ধ করে এই দৃশ্য দেখা ইসলামের প্রথম যুগেই সম্ভব ছিল। মোল্লাবাদের আবির্ভাবের ফলে ইসলামের এই মৌলিক আদর্শ, নারীমুক্তি, দাসমুক্তি, শ্রেণি সাম্য, আর্থিক সাম্য, অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান ও সহিষ্ণুতা প্রায় বিলুপ্তির পথে। ইসলামকে তার প্রকৃত আদর্শে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য পরবর্তীকালে যেসব সংস্কারক চেষ্টা করেছিলেন, যেমন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম মালেক, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ সংস্কারকের বেশির ভাগকেই উগ্র মোল্লাবাদীরা হত্যা করেছিল। বাংলাদেশের সৌভাগ্য, সেই প্রাচীনকালে ব্রাহ্মণ্য শাসনের অত্যাচার-উত্পীড়নে অতিষ্ঠ এবং বর্ণবিভাগে বিভাজিত দেশটিতে প্রধানত পারস্য থেকে আগত ধর্ম প্রচারকরা ইসলাম প্রচার করেছেন। উত্পীড়িত মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছে। শ্রেণি বিভক্তিতে পীড়িত অস্পৃশ্য নিম্ন শ্রেণির হিন্দু ও বৌদ্ধরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছে। তাদের অস্পৃশ্যতা দূর হয়েছে। মানবাধিকার ফিরে পেয়েছে। পণ্ডিত মোতাহার হোসেন চৌধুরীর মতে, বাঙালির স্থানীয় কালচার তার জাতীয় কালচার। ইসলাম যে বহিরাগত কালচার সঙ্গে করে এনেছে, তা ধর্মীয় কালচার। এ দুইয়ের মিলনে-মিশ্রণে যে বাঙালি কালচার গড়ে উঠেছে, তা ধর্মনিরপেক্ষ কালচার। এই কালচারের প্রভাবে ধর্মীয় উগ্রতা কখনো প্রশ্রয় পায়নি। মিলন ও ভালোবাসায় সুফিবাদ, মরমি বৈষ্ণববাদ ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। ব্রিটিশ আমলেও বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের প্রধান উৎসব ছিল রমজানের ঈদ ও সর্বজনীন দুর্গাপূজা। রমজানের ঈদ ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে শরৎকালে সরকারি অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ এক মাস ছুটি থাকত। শহরে কর্মরত মানুষ ছুটিতে গ্রামে ফিরে আসত। ঈদ ও পূজা উপলক্ষে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে মিলন ঘটত। পাকিস্তান আমলে সামাজিক জীবন ও রাজনীতিতে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার বিভেদ বেড়ে ওঠে। দুই সম্প্রদায়ের বাঙালি জীবনেই তার ছাপ পড়ে। বাংলাদেশ হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সংগ্রামের পর স্বাধীনতা লাভ করায় অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তার ভিত্তি শক্ত হবে; রমজানের ঈদ, দুর্গাপূজা, বৈশাখী উৎসব, ভাষা দিবস প্রভৃতি জাতীয় উৎসবে রূপান্তরিত হবে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু বাধা পড়ে উগ্র ওয়াহাবিবাদ, মওদুদীবাদ ইত্যাদি মতবাদের আবির্ভাবের ফলে। এই ওয়াহাবিবাদ থেকেই কট্টর জঙ্গিবাদ বা পলিটিক্যাল ইসলাম জন্ম নেয়। তা শুধু জাতীয় উৎসবগুলোকেই ধর্মীয় করেনি, জাতীয় রাজনীতিকেও ধর্মীয় কালচার দ্বারা প্রভাবিত করে যেসব ধর্মীয় উৎসব জনগণের মিলিত উৎসবে পরিণত হয়েছিল, তাতেও বিভাজন ঘটায়। বাঙালির সমাজ এখন বিভাজিত সমাজ। তার হাজার বছরের মিশ্র সংস্কৃতি এখন ধর্মীয় সংস্কৃতি দ্বারা আচ্ছন্ন। স্বাধীনতাযুদ্ধে বাঙালি মুসলমান যতটা স্বদেশে ফিরেছিল, বিএনপি-জামায়াতের শাসন এবং মোল্লাবাদের উত্থানে ততটাই স্বদেশবিমুখ হয়েছে। এ অবস্থাকেই কবি শামসুর রাহমান বলেছিলেন, অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। এই উটের পিঠ থেকে স্বদেশকে নামাতে সময় লেগেছে ২১ বছর। এই যুদ্ধ চলেছে ২১ বছরের বেশি এবং এখনো চলছে। বাংলাদেশে রমজানের খুশির চাঁদ এখন খণ্ডিত। দুর্গাপূজার মণ্ডপ পুলিশ পাহারায় রাখতে হয়। এই অবস্থা থেকে জাতীয় উৎসবগুলোকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের কৈশোরে রমজানের ঈদে হিন্দু ও বৌদ্ধরাও উৎসবে যোগ দিত। তারা নামাজ পড়তে আসত না। আসত উৎসবের খাওয়াদাওয়ায় যোগ দিতে। অনুরূপ আমরাও দুর্গা ও সরস্বতীর পূজার উৎসবের অংশে যোগ দিতাম। বৌদ্ধ পূর্ণিমার উৎসবে মেতে উঠতাম। বাঙালির সংস্কৃতি, সমাজ ছিল মিশ্র ও মিলিত। তার উৎসবও তাই। বাংলাদেশে তার হাজার বছরের লোকায়ত সমাজ ও সভ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ থাকবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একাধিকবার গড়ের মাঠে রমজানের ঈদের নামাজের বিশাল জামাতে যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। দেখেছি, মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধান রায়, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় এই ঈদের জামাতে আসতেন। এখন আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা নামাজ পড়তে আসেন না। নামাজের আগে যে খুতবা পাঠ হয়, সেই সময় খতিবের পাশে বসেন। খুতবা পাঠ শেষ হলে মুসলমানদের ঈদ মোবারক জানান। তাদের সমস্যা ও অভিযোগ দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশেও দুর্গাপূজায়, বুদ্ধপূর্ণিমায় বা উপজাতীয়দের কোনো ধর্মীয় উৎসবে যে দলের সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তারা যায়। যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী যখন মন্ত্রী, তিনিও পুলিশসহ দুর্গাপূজার মণ্ডপে গেছেন। সেটা ছিল লোক-দেখানো যাওয়া। একদিকে মন্ত্রী গেছেন পূজামণ্ডপে, অন্যদিকে তাঁর দলের লোকেরা মন্দিরে হামলা করেছে, মূর্তি ভেঙেছে। এইচ এম এরশাদের আমলে তো সরকারের নিযুক্ত গুণ্ডারা মন্দির ও মূর্তি ভেঙেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। অতঃপর বিশ্বজনমতের নিন্দা ও চাপের মুখে আবার সরকারি খরচে ভাঙা মন্দির মেরামত করেছে। এই অবস্থা ভারতেও দেখা গেছে। মহররমের মিছিলে হামলা হয়েছে। ঈদের জামাতে বোমা মারা হয়েছে। মসজিদ ভাঙা হয়েছে। গরু কোরবানির জন্য সংখ্যালঘু মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ভারতে ৭০০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছে। বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদাররা হাজার বছরের প্রাচীন রমনা কালীমন্দির ভেঙেছে। একদিকে ভারতে দাপট দেখাচ্ছে হিংস্র হিন্দুত্ববাদ এবং বাংলাদেশে দাপট দেখাচ্ছে উগ্র ইসলামী জঙ্গিবাদ। অথচ কোনো ধর্মেই হিংসাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। ধর্মে হিংসা ঢুকিয়েছে মোল্লাবাদীরা এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ রাজনীতিকরা। একে রুখতে হলে ধর্মের পবিত্র অনুষ্ঠানগুলোকে মোল্লাবাদীদের খপ্পরমুক্ত করতে হবে। রমজানের ঈদ, দুর্গাপূজার মতো উৎসবগুলোকে সাম্প্রদায়িক মিলনের কেন্দ্র করে তোলার জন্য সরকারকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে অবশ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অনেকটাই ফিরে আসে। সংখ্যালঘুদের পূজা-পার্বণও অনেকটা হামলামুক্ত হয়। কিন্তু বড় কাজ হবে এই উৎসবগুলোকে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত উৎসব করে তোলা। ইউরোপে যেমন খ্রিস্ট ধর্মের ক্রিসমাস উৎসব সব ধর্ম-বর্ণের মানুষই পালন করে। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, আনন্দময়ীর আগমনের বাজনা যেন হিন্দুর ঘরেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই বেজে উঠে। আর নজরুল বলেছিলেন, রমজানের ঈদের চাঁদ যেন কেবল মুসলমানের ঘরে আলো না ছড়িয়ে সকল ধর্মের মানুষের ঘরেই আলো ছড়ায়। এবারের রমজানের ঈদে আমাদের সবার প্রার্থনা হোক, এই চাঁদ যেন সব বিভেদ-বিবাদের মেঘ সরিয়ে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার ঘরে আনন্দের আলো ছড়ায়। সবার জন্য রইল ঈদ মোবারক।-আবদুল গাফফার চৌধুরী

এ কোন সমাজে আমরা বসবাস করছি?

৩জুলাই২০১৯,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম:সমাজ পরিবর্তন মানে সামাজিক কাঠামো ও সমাজের মানুষের কার্যাবলি ও আচরণের পরিবর্তন। তাদের মানসিকতার পরিবর্তন। মনে রাখতে হবে বিশৃঙ্খল অপরাধপ্রবণ অবক্ষয়গ্রস্ত সমাজে বসবাস করে উন্নত রুচি ও সংস্কৃতির অধিকারী হওয়া যায় না। এমন সমাজে পুড়িয়ে ও প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা বন্ধ করা সহজ কাজ নয়। আমরা চাই, পরিকল্পিত ও বিন্যস্ত সমাজ। নীতিবোধ ও চারিত্রিক মূল্যবোধ সমাজ গঠনের প্রধান শক্তি, যা আমরা হারিয়ে ফেলেছি।মানুষকে বলা হয় সৃষ্টির সেরাজীব, আশরাফুল মাখলুকাত। বর্তমান সমাজের মানুষ মানবিকতা হারিয়ে যেভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, তাতে তাদের কী অভিধায় চিহ্নিত করা যেতে পারে। মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে মানুষকে পুড়িয়ে মারতে পারে, প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করতে পারে ভাবতেও অবাক লাগে। এ কোন সমাজে আমরা বসবাস করছি? এমন অপরাধপ্রবণ, অসহিষ্ণু ও অবক্ষয়গ্রস্ত সমাজ কি আমরা চেয়েছিলাম। নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হলো। বিশ্বজিৎ, রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে মারা হলো। এ ছাড়াও আবু শাহিন নামের এক ভ্যানচালককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে তার ভ্যান ছিনতাই করে নিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। দেশে প্রকাশ্যে এরকম লোমহর্ষক নৃশংস ঘটনা যদি একের পর এক ঘটতেই থাকে তা হলে সমাজের অস্তিত্বই বিপন্ন হতে বাধ্য।নয়ন বন্ডরা জন্ম থেকে অপরাধী থাকে না।রিফাত হত্যার আগে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ করে বেড়াতো। তাদের সেই অপরাধের জন্য যদি কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হতো তাহলে আজকের এই নৃশংস কাজ করার সাহস পেত না। নয়ন বন্ড বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। তাকে প্রকাশ্যে শাস্তির আওতায় আনা গেলে অনেক চাঞ্চল্যকর অজানা তথ্য বেরিয়ে আসতো। দেশবাসী জানতে পারতো তার পেছনের মদদদাতা ও শক্তিদাতা কারা। যেমন আমরা জানতে পেরেছি নুসরাত হত্যার ব্যাপারে।এটা সত্য সামাজিক অবক্ষয় দিনে দিনে চরম আকার ধারণ করছে। হেন কোনো অপরাধ নেই, যা সমাজে সংঘটিত হচ্ছে না। স্ত্রী স্বামীকে, স্বামী স্ত্রীকে, মা-বাবা নিজ সন্তানকে, ভাই ভাইকে অবলীলায় হত্যা করছে। প্রেমের কারণে অর্থ সম্পত্তির লোভে সমাজে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অন্যদিকে হতাশা নিঃসঙ্গতা বঞ্চনা অবিশ্বাস আর অপ্রাপ্তিতে সমাজে আত্মহননের ঘটনাও বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকের অর্থ জোগাড় করতে না পেরে ছেলে খুন করছে বাবা-মাকে, স্বামী খুন করছে স্ত্রীকে কিংবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে। অন্যের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য কিংবা কাউকে ফাঁসিয়ে দেয়ার নিমিত্তে নিজের সন্তানকে হত্যা পর্যন্ত করছে। পারিবারিক বন্ধন স্নেহ ভালোবাসা মায়া মমতা আত্মার টান সবই যেন আজ স্বার্থ আর লোভের কাছে তুচ্ছ। আসলে আমরা আজ যে সমাজে বাস করছি সে সমাজ আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। আমরা নানারকম সামাজিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হচ্ছি। পা পিছলে ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছি। সমাজের একজন সুস্থ এবং বিবেকবান মানুষ হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয় কী তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কি সামাজিক ক্ষেত্রে, কি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে- সর্বক্ষেত্রেই অবক্ষয় দেখতে পাচ্ছি; যা একজন শান্তিকামী মানুষ হিসেবে আমরা স্বাধীন ও একটি গণতান্ত্রিক দেশে কল্পনা করতে পারছি না। এ অবক্ষয় ইদানীং আরো প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। সামাজিক মূল্যবোধ তথা ধৈর্য, উদারতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলা, শিষ্টাচার সৌজন্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, অধ্যবসায়, নান্দনিক সৃষ্টিশীলতা, দেশপ্রেম, কল্যাণবোধ, পারস্পরিক মমতাবোধ ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলি লোপ পাওয়ার কারণেই সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়। যা বর্তমান সমাজে প্রকট। সামাজিক নিরাপত্তা আজ ভূলুণ্ঠিত। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে, দেশের সামগ্রিক যে অবক্ষয়ের চিত্র এর থেকে পরিত্রাণের কোনো পথই কি আমাদের খোলা নেই? আমাদের অতীত বিস্মৃতির অতল গহ্বরে নিমজ্জিত, বর্তমান অনিশ্চিত এবং নিরাপত্তাহীনতার দোলাচলে দুলছে এবং ভবিষ্যৎ মনে হচ্ছে যেন পুরোপুরি অন্ধকার। যারা সমাজকে, রাষ্ট্রকে পদে পদে কলুষিত করছে, সমাজকে ভারসাম্যহীন ও দূষিত করে তুলছে, সমাজের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার ক্ষুর্ণ করছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। চারদিকে যে সামাজিক অবক্ষয় চলছে, তারুণ্যের অবক্ষয়- এর কি কোনো প্রতিষেধক নেই? আমাদের তরুণরা আজ হতাশ এবং দিশেহারা। লেখাপড়া শিখেও তারা চাকরি পাচ্ছে না। ফলে অনেকেই ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বড় ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ খুন-ধর্ষণের মতো, ডাকাতির মতো অমানবিক এবং সমাজবিরোধী কাজেও জড়িয়ে পড়ছে। কেউবা হয়ে পড়ছে নানা ধরনের মাদকে আসক্ত। অনেকেই আবার সন্ত্রাসীদের গডফাদারদের লোভনীয় হাতছানিতে সাড়া দিয়ে সন্ত্রাসে লিপ্ত হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে তাদের এই অধঃপতনের জন্য দায়ী কে? দায়ী আমরাই। আমরাই তাদের সুপথে পরিচালিত করতে পারছি না। এর পাশাপাশি ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দখল ব্যাপারটি তো দেশের সর্বত্রই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে কে আমাদের পরিত্রাণ দেবে এবং কে-ইবা আমাদের পথ দেখাবে? নৈতিক শিক্ষার প্রথম ও প্রধান কেন্দ্র হচ্ছে পরিবার। পরিবারের সদস্যরা যদি নৈতিক হয় তা হলে সন্তানরাও নৈতিক হয়ে উঠবে। সমাজের স্বাভাবিক ও সুস্থ গতিপ্রবাহ রক্ষা করার দায়িত্ব কার, সরকার, সমাজপতি নাকি সমাজের সচেতন মানুষের। সমাজ পুনঃনির্মাণের দায়িত্বই বা কার? আপতদৃষ্টিতে এসব প্রশ্ন সহজ মনে হলেও এর সমাধান বেশ জটিল। সমাজে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বসবাস করে, বিচিত্র এদের মানসিকতা ও রুচি। এদের কোনো সমান্তরাল ছাউনির মধ্যে আনা কঠিন। তবে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা, সামাজিক অপরাধ কমিয়ে আনাসহ নানা পদক্ষেপ নিতে হবে সম্মিলিতভাবে। সমাজ রক্ষা করা না গেলে পরিবার রক্ষা করা যাবে না, ব্যক্তিকে রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়বে। বাংলাদেশে সমাজ পরিবর্তনের উপাদানসমূহ ব্যাখ্যা করা জরুরি।সমাজ পরিবর্তন মানে সামাজিক কাঠামো ও সমাজের মানুষের কার্যাবলি ও আচরণের পরিবর্তন। তাদের মানসিকতার পরিবর্তন। মনে রাখতে হবে বিশৃঙ্খল অপরাধপ্রবণ অবক্ষয়গ্রস্ত সমাজে বসবাস করে উন্নত রুচি ও সংস্কৃতির অধিকারী হওয়া যায় না। এমন সমাজে পুড়িয়ে ও প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা বন্ধ করা সহজ কাজ নয়। আমরা চাই, পরিকল্পিত ও বিন্যস্ত সমাজ। নীতিবোধ ও চারিত্রিক মূল্যবোধ সমাজ গঠনের প্রধান শক্তি, যা আমরা হারিয়ে ফেলেছি।সামাজিক জীবন ব্যক্তির কাছে এক আশীর্বাদ, এর পূর্ণতা লাভ করে সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমে। সমাজ ব্যবস্থা এমনই হওয়া উচিত, যাতে ব্যক্তির স্বপ্ন ভঙ্গ না হয়। কিন্তু আমরা কী দেখতে পাচ্ছি। সমাজে অপরাধ এতটাই বেড়েছে যে একদিকে ব্যক্তি নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ অন্যদিকে সমাজও ধীরে ধীরে অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। এটা প্রতিরোধে প্রয়োজন সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা। এই দায়িত্ব নিতে হবে পরিবার ও সমাজকেই। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রেরও যথেষ্ট করণীয় রয়েছে। সমাজের একশ্রেণির বর্বর পাষন্ড মানুষের হাতে অনেকের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ছে, অবলীলায় জীবন চলে যাচ্ছে। এমনকি শিশুর জীবনও চলে যাচ্ছে আপনজনের হাতে। এই ধরনের আত্মঘাতী প্রবণতা রোধ করতে না পারলে একদিকে যেমন সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে অন্যদিকে পরিবারের সদস্যরাও থাকবে নিরাপত্তাহীন। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য ভয়ঙ্কর বিপদ ডেকে আনবে। সুতরাং সময় থাকতেই সাবধান হওয়া সমীচীন। এই অবক্ষয়ের আরেক চিত্র ইদানীং সমাজে শিশু হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাওয়া। আমাদের কোমলমতি শিশুরা কোনো দিক থেকেই এখন আর নিরাপদ নয়। নানা কারণে তাদের জীবনঝুঁকি বেড়ে গেছে। কখনো তারা দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে অথবা অপহরণ ও হত্যার নিষ্ঠুর শিকার হচ্ছে, আবার কখনো তারা পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে।এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে সারা দেশে সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ শিশু। এর মধ্যে নির্মমতার শিকার হয়ে মারা গেছে ৯৮৮ শিশু। গত বছরের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় এ বছরের প্রথম ৬ মাসে শিশু ধর্ষণের হার বেড়েছে ৪১ শতাংশ। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা জাতীয় নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) পরিসংখ্যানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এই পরিসংখ্যান দ্বারা এটাই প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়, সমাজে আমরা আমাদের কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি। এটা আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা।এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অপার সম্ভাবনা ও স্বপ্ন নিয়ে যে শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার কথা সেখানে কেন তাদের অকালে মৃত্যু হবে? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রের কি কোনো ভূমিকা নেই? অথচ শিশু অধিকার সংরক্ষণ করা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কেবল শিশু অপহরণ ও হত্যাই নয়, নারীর অবমাননা, লাঞ্ছনা, ধর্ষণ ও হত্যাও সমাজে বেড়ে গেছে। বিয়ের পর একজন নারীর সবচেয়ে ভরসাস্থল ও নিরাপদ জায়গা হচ্ছে তার স্বামী। সব ধরনের পারিবারিক ও সামাজিক বৈরী পরিবেশ থেকে বাঁচিয়ে রাখার কথা যে স্বামীর, যে স্ত্রীর স্বপ্ন, ভালোবাসা একজন স্বামীকে ঘিরে, সেই স্বামীই হয়ে ওঠে লোভী, ভয়ঙ্কর, নির্যাতক।কোনোভাবেই আমাদের সমাজ যেন আলোর দিকে অগ্রসর হতে পারছে না।একবিংশ শতাব্দীতে এসেও নারীরা নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হতে থাকবে এটা যেখানে সমর্থনযোগ্য নয়। এ বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক এবং সার্বিক অর্থেই আশঙ্কারও বটে।সামাজিক সুস্থতা আনয়নের পাশাপাশি নতুন সমাজ নির্মাণের জন্য এ ধরনের অবক্ষয়কে প্র্রতিরোধ করতে হবে এবং যে কোনো মূল্যে। এ জন্য ব্যাপকভাবে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন এবং এর কোনো বিকল্প নেই। লেখকঃ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম।

আজকের মোট পাঠক

32579

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত