বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১, ২০১৯

নিউজিল্যান্ডে অস্ত্র আইন সংস্কারে বৈঠকে মন্ত্রিসভা

১৮মার্চ,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিউজিল্যান্ডের অস্ত্র আইনে জরুরি ভিত্তিতে পরিবর্তন আনার জন্য আজ (সোমবার) কিছুক্ষণের মধ্যেই দেশটির মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনা হবে। ওই হামলায় ৫০ জন মারা গেছেন। হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন টারান্ট একটি সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে। হামলাকারী যে ধরণের সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছিল, আশা করা হচ্ছে, দেশটির মন্ত্রী পরিষদ সে ধরণের অস্ত্রের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। ঘটনার পরে পুলিশ জানায়, টারান্টের অস্ত্রটি বৈধ, যে কারণে তার গুলি কিনতেও অসুবিধা হয়নি। সেদিনই বিষয়টি নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এর আগে কয়েকবারই অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনতে চাইলেও সেটি শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। কিন্তু এবার এই ভয়াবহ ঘটনার পর তড়িঘড়ি আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এদিকে, ওই দুই হামলায় নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে ক্রাইস্টচার্চের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো স্বজনদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর শুরু হয়নি। বুধবার নাগাদ পরিবারের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সেখানকার করেনার কার্যালয়। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্টের দুটি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে সেখানকার পুলিশ। পুলিশ বলছে, ওই এলাকায় টারান্ট জন্মেছেন ও বেড়ে উঠেছেন। এপ্রিলের ৫ তারিখে টারান্টকে আবার আদালতে হাজির করা হবে। ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে হামলার ঘটনা ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং করেছিলেন ব্রেন্টন টারান্ট। ব্রেন্টন টারান্ট এর আগে এক তথাকথিত ইশতেহার প্রকাশ করেন যেখানে তিনি তার সহিংস কট্টর দক্ষিণপন্থী মতাদর্শ তুলে ধরেছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের ভাষায়, ব্রেন্টন টারান্ট আসলে একজন 'উগ্র দক্ষিণপন্থী সন্ত্রাসবাদী। সূত্র: বিবিসি...

ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় ৪ বাংলাদেশি নিহত

মার্চ,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় এখন পর্যন্ত চার বাংলাদেশি নিহতের তথ্য পেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা হলেন- স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ, নারায়ণগঞ্জের মোহাম্মদ উমর ফারুক, চাঁদপুরের মোজাম্মেল হক ও গৃহিণী হোসনে আরা ফরিদ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম নিহত চার বাংলাদেশির তথ্য পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের একজন করে সদস্যকে নিউজিল্যান্ডে নেয়ার ব্যবস্থা করবে দেশটির সরকার। তারা চাইলে লাশ দেশে নিয়ে আসতে পারবেন। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহতের সংখ্যা ছয়জনও হতে পারে। স্থানীরা ধারণা করছেন নিখোঁজরাও নিহত। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালান ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নামে এক অস্ট্রেলীয়। এতে এ পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আর এ হামালায় আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশত মানুষ।...

সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে বিজেপির আমলে: মমতা ব্যানার্জি

১৩মার্চ,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের আমলে দেশে সংখ্যালঘু ও দলিতদের উপরে অত্যাচার করা হচ্ছে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে তিনি মঙ্গলবার দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশে কৃষকদের উপরে, দলিতদের উপরে অত্যাচার, সংখ্যালঘুদের উপরে অত্যাচার, মা-বোনেদের উপরে অত্যাচার, ছাত্র-যুবকে বঞ্চনা, শ্রমিক-কৃষককে লাঞ্ছনা করা হচ্ছে। মমতা বলেন, ইতিহাসকে পরিবর্তন করে দেয়া হচ্ছে, বিভিন্ন সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশে একটা ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে। অনেক সময় ঘোষিত জরুরি অবস্থার থেকে অঘোষিত জরুরি অবস্থা বেশি মারাত্মক হয়। তৃণমূল নেত্রী বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে সংবিধানকে আঘাত করা হয়েছে। বিদ্বেষ, ঘৃণার রাজনীতি চলছে। মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করে দেয়া হয়েছে। বিজেপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ওদের লজ্জা থাকা উচিত। দেশে গো-রক্ষক সিন্ডিকেট, লিঞ্চিং সিন্ডিকেট আমদানি করেছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক নিউজ ছড়ানো হচ্ছে। গণমাধ্যমকে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত রোববার (১০ মার্চ) ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন সাধারণ নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী সব মিলিয়ে সাত দফায় ভোট গ্রহণ হবে। শুরু হবে ১১ই এপ্রিল, শেষ হবে ১৯শে মে। ভোট গণনা হবে ২৩শে মে। একই সঙ্গে উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ, সিকিম ও অরুণাচল- এই চারটি রাজ্যে লোকসভা ছাড়া বিধানসভা নির্বাচনও হবে। ...

মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস্ এর উদ্যেগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন উদযাপন

১৭মার্চ,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: হাজার বৎসরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৯৯ তম জন্ম বার্ষিকি উপলক্ষে মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস্ এন্ড জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর কমিটির উদ্যেগে সংগঠনের কার্যালয়ে অদ্য ১৭ ই মার্চ এক আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের জেলা কমিটির মহাসচিব মোঃ ফজলুল ইসলাম ভূইয়াঁর সঞ্চালনায় ও চেয়ারম্যান লোকমান আলির সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,বিশেষ অতিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহানগর কমিটির কমিটির চেয়ারম্যান এম.এ নুরুন্নবী চৌধুরী,জেলার ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল আনোয়ার দুলাল,মহানগর এর মহাসচিব তছলিম কাদের চৌধুরী,এতে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির যুগ্ন মহাসচিব মিলি চৌধুরী,জেসমিন সুলতানা,জুয়েল বড়য়া,যুগ্ন সাংগঠনিক সচিব মোঃ হানিফ,মহানগর কমিটির যুগ্ন মহাসচিব নুরুল ইসলাম,মহিলা বিষয়ক সচিব শিরিন আক্তার,মোঃ হারুন,আমজাদ চৌধুরী,সুজন আর্চায্য,আবুল কাসেম প্রমূখ। আলোচনা সভা শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অত;ার মাগফিরাত ও বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মহাসচিব জনাব ওবায়দুল কাদেরের রোগ মুক্তি এবং দেশের কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। ...

ব্রাশফায়ারে নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ নিহত ৫ রাঙামাটিতে

১৮মার্চ,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে বাঘাইছড়ির নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। সোমবার সন্ধ্যার দিকে নয়মাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীরর সদস্য(ভিডিপি) মো. আল আমিন, বিলকিস (৩৫), মিহির কান্তি দত্ত ও কিশালয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আমির হোসেন। রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাঘাইছড়ির কংলাক থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে পাঁচজন নিহত হন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ঘটনায় আরও ৭-৮ জন গুলিবিদ্ধ আছেন। আহতদের বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে। ...

নরসিংদীতে মা-মেয়েকে গণধর্ষণ

১৬মার্চ,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলায় মহাসড়কে বিকল হয়ে যাওয়া বাস থেকে মা ও মেয়েকে ফুসলিয়ে অন্য বাসে তুলে দেয়ার কথা বলে আটকে রেখে গণধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সৃষ্টিঘর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩০) ও আব্দুল বারেকের ছেলে শফিককে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সৃষ্টিঘর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মা ও মেয়েকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, শুক্রবার বিকেলে ঢাকা থেকে বাসে করে ধর্ষণের শিকার মা ও মেয়ে হবিগঞ্জ যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সৃষ্টিঘর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে বাসটি বিকল হয়ে যায়। এসময় গ্রেপ্তার দেলোয়ার ও শফিক মা ও মেয়েকে অন্য বাসে তুলে দেয়ার কথা বলে স্থানীয় একটি জুটমিলের পরিত্যক্ত কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে আলাদা দুটি কক্ষে আটকে রেখে মা ও মেয়েকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। এসময় মা ও মেয়ের চিৎকারে আসামিরা পালিয়ে যায়। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মা বাদী হয়ে ছয়জনের নামে মামলা করেছেন। পরে পুলিশ রাতেই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তাদের আজ শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।...

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল

৪মার্চ,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় হাইকোর্টের দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে প্রধান চার আসামি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। রোববার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দণ্ডিত আসামিদের পক্ষে পৃথক আপিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবীরা। আপিলকারীরা হলেন, Rab-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ রানা, সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা নূর হোসেন। তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, মাসুদ রানা ও নূর হোসেনের পক্ষে আইনজীবী হলেন অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, মাহবুবুর রহমান, এসএম শাহজাহান ও এসএম লুৎফুর রহমান আকন্দ। আর আরিফ হোসেনের পক্ষে রয়েছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এরপর একই বছরের ২২ জানুয়ারি নিম্ন আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্স তথা মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদনের জন্য পূর্ণাঙ্গ রায়সহ যাবতীয় নথি পাঠানো হয় হাইকোর্টে। পরে কারাবন্দি আসামিরা পর্যায়ক্রমে আপিল করেন। এ আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট গতবছর ২২ আগস্ট রায় দেন। রায়ে ১৫ জনকে নিম্ন আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। আর ১১ জনকে নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের সাজার পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া নিম্ন আদালতে ৯ জনকে দেয়া বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো ডেথ রেফারেন্স ও কারাবন্দি আসামিপক্ষের করা আপিলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ মামলায় রায় ঘোষণা করে। গত বছর ১৯ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তখনকার কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন, তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন ও নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর এবং অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নূর হোসেন, তারেক সাঈদসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল আলাদা অভিযোগপত্র দেয়। দুই মামলারই অভিযোগপত্রে অভিন্ন আসামি উল্লেখ করা হয়।...

নিপা ভাইরাসে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

৪মার্চ,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর জন্য নিপা ভাইরাসকে দায়ী করেছেন গবেষকরা। উপজেলার ভান্ডারদহ নয়াবাড়ি গ্রামের এলাকায় গবেষক দলের সরেজমিন তদন্ত এবং রোগের নমুনা পরীক্ষার পর রোববার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এ তথ্য জানিয়েছে। রোববার আইইডিসিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোগের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, মৃত ব্যক্তিদের সকলের জ্বর, মাথা ব্যথা, বমি ও মস্তিষ্কে ইনফেকশনের (এনসেফালাইটিস) উপসর্গ ছিল। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে হতে একজনের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় এবং উক্ত নমুনায় নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উপরোক্ত আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশনে প্রথম মৃত ব্যক্তির খেঁজুরের কাঁচা রস পান করার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস না পাওয়া গেলেও অন্যান্য মৃত ব্যক্তিগণ প্রথম মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছিল বলে আইইডিসিআর ধারণা করছে। এছাড়া জীবিত সন্দেহাভাজন রোগীদের রক্তে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি না পেলেও বিভিন্ন সময়ে মৃত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নিপা ভাইরাস রোধে আইইডিসিআর সবাইকে খেঁজুরের কাঁচা রস পান না করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের নিপা সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা (মাস্ক ও গ্লাভস পরে) আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবাদানের পরামর্শ দিয়েছে। আইইইডসিআর, আইসিডিডিআর,বি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি দল ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি মরিচপাড়া গ্রাম ও হাসপাতালগুলোতে তদন্ত চালিয়েছিল। নয়াবাড়ি গ্রামে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে বাবা-মা ও দু সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। এদের মধ্যে ৯ ফেব্রুয়ারি ফজর আলীর ছেলে তাহের আলী (৫৫) মারা যান। এ ঘটনার ১১ দিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি একইভাবে মারা যান জামাতা হাবিবুর রহমান (৩৫) এবং পরের দিন মারা যান তাহের আলীর স্ত্রী হোসনে আরা (৪৫)। এর দু দিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি তার দুই ছেলে ইউসুফ আলী (৩০) ও মেহেদী হাসানও (২৪) মারা যান। মৃতদের বাড়ি থেকে আশপাশের এক কিলোমিটারে জনসাধারণের চলাচলে নিষেদজ্ঞা জারি করে উপজেলা প্রশাসন, অজ্ঞাত রোগের আতঙ্কে বন্ধ করে দেওয়া হয় দুটি বিদ্যালয়।...

৭ মার্চ আসছে কটন কাগজে ভার্নিশ যুক্ত ১০০ টাকার ব্যাংক নোট

৫মার্চ,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী ৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে শতভাগ কটন কাগজে ভার্নিশ যুক্ত ১০০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট ছাড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস এবং এর অন্যান্য অফিস থেকে এই নোট ইস্যু করা হবে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, উচ্চ মূল্যমানের ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আরো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে উন্নতমানের কোটিংকৃত দীর্ঘস্থায়ী ১০০ শতাংশ কটন কাগজে ইউভি কিউরিং ভার্নিশ যুক্ত করে গভর্নর ফজলে কবিরের স্বাক্ষর সম্বলিত ১৪০ মিমি X ৬২ মিমি পরিমাপের ১০০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট মুদ্রণ করা হয়েছে। নতুন প্রচলিত এ নোটের ডিজাইন ও রং অপরিবর্তিত রয়েছে। নোটের দুদিকে ভার্নিশের প্রলেপ সংযোজন করা হয়েছে। এর ফলে নোটটি চকচকে করবে, স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে, কম ময়লা হবে এবং এর উপর কলম দিয়ে লেখা কঠিন হবে। এছাড়া, নতুন মুদ্রণ করা এ নোটটি ব্যবহারের সময় আগের নোটের মত খসখসে না হয়ে কিছুটা পিচ্ছিল হবে। প্রচলিত ১০০ টাকার নোটের আগের সব বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন থাকবে। নোটের রং, ডিজাইন ও অন্যান্য সব নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (জলছাপ, ওভিআই কালিতে লেখা ১০০, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩টি বিন্দু, মাইক্রোপ্রিন্ট, খসখসে লেখা ইত্যাদি) অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন মুদ্রিত বর্ণিত নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলন থাকা ১০০ টাকা মূল্যমানের অন্যান্য নোটও বৈধ ব্যাংক নোট হিসেবে আগের মতোই চালু থাকবে। ...

বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধার কাজ চলমান : অর্থমন্ত্রী

২০ফেব্রুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধার কাজ এখনও চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,রিজার্ভ চুরি সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। এসব প্রমাণাদিসহ যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করার জন্য ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি আইনী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আমাদের পক্ষে মামলা দায়ের করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমরা এ মামলাটি দায়ের করতে পেরেছি। অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ব্যবস্থাপনাও বাংলাদেশ ব্যাংক করে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সংরক্ষণ করা হয়। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের রিজার্ভ এখানেই সংরক্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো-বিগত ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ শ্রীলংকা ও ফিলিপাইনে পাচার করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক হ্যাকাররা ৭০টি ভুয়া পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে ৯৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে ৫টি ভুয়া পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ট্রান্সফার কার্যকর করার পর নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ সন্দিহান হয়ে বাকি পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশনগুলো এক্সিকিউট করেনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, রিজার্ভ চুরির বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে সরকার চুরির অর্থ উদ্ধার, চুরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ চুরিরোধে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তিনি দ্রুত সরকারের কাছে একটি তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। পরবর্তীতে পুলিশের সিআইডিকে এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। ড. ফরাস উদ্দিনের রিপোর্টটি যাতে এ তদন্তে প্রভাব না ফেলে, এ জন্য তা প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, রিজার্ভ চুরির বিষয়টি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং এর সাথে বিদেশী একাধিক প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ইউএসর এফবিআই এবং ফিলিপাইন সরকার তদন্তে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীলংকা থেকে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয় এবং ফিলিপাইন থেকে ১৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনা হয়েছে। বাকি ৬৬ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্ধারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই নিজ দেশে হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং ফিলিপাইনে এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল মানি লন্ডারিংয়ের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে।...

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে বেড়ে ওঠবে শিশুরা: শিক্ষামন্ত্রী

১৪মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি, নেতৃত্বের গুণাবলী তৈরি, ভোটাধিকার প্র্রয়োগের অভিজ্ঞতা অর্জন, সর্বোপরি গণতান্ত্রিক চর্চার লক্ষ্যে সারা দেশে আজ বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক পর্যায়ে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন হচ্ছে। সরেজমিনে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেগম সুফিয়া মডেল হাইস্কুলের স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনের মাধ্যমে সকল শিশুরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে বেড়ে ওঠবে। তারা দায়িত্বশীল হবে ও নিজেদের কাজ নিজেরা করতে শিখবে। সবাই মিলে কিভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় সেটি শেখবে। এসময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় এবারও নির্বাচন হচ্ছে। আমি আশা করি এটি অব্যাহত থাকবে, যেসব স্কুল এর আওতার বাইরে আছে তারাও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে। মন্ত্রী স্কুলের বিভিন্ন কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের ভোট দান কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফসিউল্লাহ, কালিয়াকৈর থানার নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুর আমিন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানাসহ স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।-ইউএনবি...

আরও ১৩ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে আধুনিক ভবন

১৫ ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্যক সুযোগ-সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে ২০২১ সালের মধ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হচ্ছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এই অবকাঠামো নির্মাণ কাজে প্রাধান্য পেয়েছে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছরে সারা দেশের দুই হাজার ৪০০ মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নির্বাচিত আরও এক হাজার ৮০০টি মাদ্রাসায় একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় গত ১০ বছরে ২০০৯ থেকে ২০১৮ শিক্ষাখাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ১১ হাজার ৩০৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আর ১২ হাজার ৬৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ কাজ ২০২১ সালের মধ্যে শেষ করা হবে। আর ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে পুরনো জরাজীর্ণ ভবনগুলোর। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের (ইইডি) মাধ্যমে গত ১০ বছরে সারা দেশে মোট ২৩ হাজার ৯৭৯টি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ আরও সাত হাজার ৬৪১টি ভবন সংস্কার করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গাইড লাইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার বিবেচনা করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আর ই-টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবকাঠামো নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়ায় নির্মাণ কাজের গুণগত মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা জানান, সরকারি হাইস্কুল ও কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে ৬ থেকে ১০তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বাড়তি সুবিধা দিতে লিফটও স্থাপন করা হচ্ছে ভবনগুলোতে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রতি বছর দেড় হাজার থেকে দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হবে। ২০২১ সালের পর স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় অবকাঠামো নির্মাণের আর কোনও কাজ বাকি থাকবে না। ...

বিশ্বসেরা ক্রীড়াবিদের তালিকায় সাকিব-মুশফিক-মাশরাফি

১৮মার্চ,সোমবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইএসপিএনের তৈরি করা বিশ্বের বিখ্যাত ১০০ ক্রীড়াবিদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের তিন তারকা ক্রিকেটার- সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। এই তালিকার এক নম্বরে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এতে সাকিবের অবস্থান ৯০, মুশফিকের ৯২ আর মাশরাফির ৯৮। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এই প্রথমবারের মতো ইএসপিএনের বিখ্যাত ১০০ ক্রীড়াবিদের তালিকায় স্থান করে নিলেন। এতে বিশ্বের অন্য ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন বিরাট কোহলি (৭), মহেন্দ্র সিং ধোনি (১৩), যুবরাজ সিং (১৮), সুরেশ রায়না (২২), রোহিত শর্মা (৪৬), রবিচন্দ্রন অশ্বিন (৪২), হরভজন সিং (৭৪) ও শিখর ধাওয়ান (৯৪)। আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি আছেন তিন নম্বরে। রোনালদোর পরেই আছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল তারকা লেবর্ন জেমস। চার নম্বরে আছেন ব্রাজিলীয় ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়র। ৭৮টি দেশের প্রায় ৮০০ ক্রীড়াবিদের মধ্য থেকে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। মূলত, তিনটি বিষয়কে এই তালিকা তৈরির সময় জোর দেয়া হয়েছে- গুগলে ওই নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে খোঁজার সংখ্যা, ফেসবুক-টুইটারে তাদের অনুসারীর সংখ্যা আর বিজ্ঞাপন ও পণ্যের দূতিয়ালি থেকে করা আয়। ...

ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনায় পিএসএলে নীরবতা পালন

১৬মার্চ,শনিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালের আল-নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় প্রায় অর্ধশত নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক। তবে অল্পের জন্য বেঁচে যান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। নারকীয় সেই হামলা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা ক্রীড়াঙ্গনে। সেই শোক ছুঁয়ে গেছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দ্বিতীয় এলিমিনেটর ম্যাচেও। শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ও পেশোয়ার জালমি। ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্রসহ সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের প্রতি শোক জানিয়ে এদিন কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। অবশ্য ম্যাচের আগে পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা। সে ম্যাচে ইসলামাবাদকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দ্বিতীয় আসরের শিরোপাজয়ী দল পেশোয়ার। ম্যাচজুড়ে ধারাভাষ্যকারদের আলোচনায়ও ছিল হামলার ভয়াবহতা। ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালে আজ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট। তবে নৃশংস ওই হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ম্যাচটি বাতিল করা হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দেশের পথে রয়েছে। হামলার ভয়াবহতায় সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। পাশাপাশি বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছে। তবে বহু হতাহতের ঘটনায় শোক এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।...

১০১ টাকা দেনমোহরে সিমলা-পলাশের বিয়ে

২৭ফেব্রুয়ারী,বুধবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাই চেষ্টার পর আলোচনায় আসা পলাশ-সিমলা দম্পতির বিয়ে হয়েছিল ১০১ টাকা দেনমোহরে। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ ঢাকা নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ওই বছরের ৬ নভেম্বর তাদের বিচ্ছেদ হয়। বিয়ের হলফনামায় পলাশের জন্ম তারিখ উল্লেখ আছে ১৯৯১ সালের ১ জানুয়ারি। অন্যদিকে সিমলার জন্ম তারিখ উল্লেখ আছে ৪ ডিসেম্বর ১৯৮২। সেই হিসেবে সিমলার থেকে পলাশ ৮ বছর ২৮ দিনের ছোট। বিয়ের কাবিন নামায় পলাশের ঠিকানা দেয়া আছে, মোহম্মদ পলাশ আহমেদ, পিতার নাম মো. পিয়ার জাহান, মাতার নাম-রেনু বেগম, গ্রাম দুধঘাটা, পোস্ট-মঙ্গলের গাঁও, থানা-সোনারগাঁও, জেলা-নারায়ণগঞ্জ। অন্যদিকে সিমলার ঠিকানা দেয়া আছে, সামসুন নাহার সিমলা, পিতার নাম মৃত মিয়া আব্দুল মাজেদ, মাতা নুরুন নাহার, গ্রাম শৈলকুপা, পোস্ট-শৈলকুপা, থানা শৈলকুপা, জেলা ঝিনাইদহ। জানা গেছে, সিমলার অভিনীত এক সিনেমার পরিচালকের বাসায় ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম দেখা হয় পলাশ-সিমলার। এরপর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে। সর্বশেষ বিয়েতে রূপ নেয় সেই সম্পর্ক।-somoynews...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

মুজিব বর্ষ উদযাপনে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণা

১৩মার্চ,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিবস ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ হিসেবে পালনের জন্যে আওয়ামী লীগের প্রচার সেলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এই ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সভাপতি এইচ টি ইমাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গত দশ বছরে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, তাতে সকল সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ভারতকেও পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি গত দশ বছরের উন্নয়ন নিয়ে একটি বিশেষ প্রকাশনা করবে। আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতার ৯৯তম জন্মদিন ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে এবং আগামী বছরের (২০২০ সালের) ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সে উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে প্রকাশনাসহ নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।- আরটিভি ...

শুরু হলো অদম্য সাহস আর আত্মপ্রত্যয়ের অগ্নিঝরা মার্চ

১মার্চ,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: শুরু হলো অদম্য সাহস আর আত্মপ্রত্যয়ের অগ্নিঝরা মার্চ। ১৯৭১ এর এই মাসকে ধরা হয় মুক্তি সংগ্রামের চূড়ান্ত ক্ষণ হিসাবে। এ মাসেই দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন স্বাধীনতাকামী জনতা। নতুন পতাকা, বজ্রকন্ঠ ঘোষণা ও কালোরাত- সব মিলিয়ে নানা ঘটনা প্রবাহে উত্তাল ছিল মার্চ মাস। ছিল শতবাধা, প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধও ছিল অবিরত। শুরুটা বাহান্নতে, এরপর মুক্তি সংগ্রামের নানা ধাপ অতিক্রম করে, ৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জয় পায় বাঙালি। শুরু হয় পাকিস্তানী সামরিক জান্তার নীল নকশা বাস্তবায়ন। বাঙালিও সমস্ত শক্তি দিয়ে প্রতিবাদ করেছিল। একাত্তরের সাতই মার্চ। দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু দাঁড়ালেন জনতার সামনে। বললেন, বাঙালির বঞ্চনার কথা, শোষণ আর শাসিত হবার কথা। উনিশ মিনিটের এক জাদুকরী ভাষণে জাতিকে দীপ্ত মুক্তিসেনানিতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ২৫ শে মার্চ ১৯৭১। বাঙালি জীবনে আসে নিকষ কালো রাত। পাকিস্তানি বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্বিচারে হত্যা করে ঘুমন্ত সাধারণ মানুষকে। এ রকম নানা ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকলো একাত্তরে মার্চ। উত্তাল সেই মার্চ একই সাথে অহংকার ও সাহসের। অপরিসীম ত্যাগের পর বাঙালি স্বাধীনতা অর্জন করেছে ঠিক। তবে এখনও অর্জনের আছে অনেক কিছু। আর তাই দীর্ঘ সময় পার করেও প্রতিবছরই মার্চ যেন বাঙালিকে নতুন বোধ ও চেতনায় জাগ্রত করে।...

ভোটের ফল বাতিলের দাবিতে রোকেয়া হলে রাতভর ছাত্রীদের বিক্ষোভ

১৩মার্চ,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার পদত্যাগ ও ভোটের ফল বাতিলের দাবিতে রাতভর বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছিল। তারা জানান, রোকেয়া হলের ভেতরে চলা বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কাজী মৌসুমী, মুনিরা দিলশাদ ইলা, শ্রবণা শফিক দীপ্তি, সৈয়দা তাসলিমা হোসেন নদীসহ বেশ কয়েকজন। তারা সবাই ডাকসুর বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন। বিক্ষোভের বিষয়ে রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের জিএস প্রার্থী মুনিরা দিলশাদ ইলা বলেন, ভোট কারচুপির অভিযোগে আমরা হল প্রভোস্টের পদত্যাগ চাই। আর তার পদত্যাগের দাবিতেই আমরা এই বিক্ষোভ করছি। রোকেয়া হলে যত ভোটার রয়েছে, তার একভাগ ভোটও কাস্ট হয়নি। আর যতটুকু ভোট কাস্ট হয়েছে, সেখানেও কারচুপি করা হয়েছে। ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী শ্রবণা শফিক দীপ্তি বলেন, প্রহসনের এই ভোটের ফল অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। প্রভোস্ট জিনাত হুদা হলে কারচুপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। এদিকে, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। উল্লেখ্য, গেলো সোমবার (১১ মার্চ) ভোটের দিন সকাল ৮টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে রোকেয়া হলের জন্য বরাদ্দ ৯টি ব্যালট বাক্সের মধ্যে তিনটি ব্যালট বাক্স পাওয়া না যাওয়ায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় একঘণ্টা দেরিতে। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হলের তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে ট্রাংক ভরে রাখা বিপুল পরিমাণ ব্যালট উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ালে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। পরে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও তা বর্জন করে ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সব সংগঠন।...

একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার

১২মার্চ,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নবনির্বাচিত ভিপি (সহ-সভাপতি) নুরুল হক নূরকে অভিনন্দন জানিয়ে বরণ করে নিয়েছে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে তাকে বরণ করে নেন। এ সময় দুজন হাসিমুখে কোলাকুলি করে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। ছাত্রলীগ সভাপতি ও ডাকসুর নব-নির্বাচিত ভিপির এ সময় কথাবার্তা হয়। সেখানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও অন্যান্য দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও ডাকসুর নব-নির্বাচিত জিএস (সাধারণ সম্পাদক) গোলাম রাব্বানীকে দেখা যায়নি। ছাত্রলীগ সভাপতির সঙ্গে কোলাকুলির পর বিশ্ববিদ্যালয়ে নুরুল হক ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন নিয়ে আগের দেয়া ঘোষণা প্রত্যাহারের কথা জানান। টিএসসি মিলনায়তনে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, আমি পারিনি তো কী হয়েছে, নুরুল হক তা পূরণ করবে। আমাদের সবার চাওয়া-পাওয়া নুরুল হক পূরণ করবে। স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ যেন ঠিক থাকে সেজন্য সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বানও জানান তিনি। এ সময় নুরুল হক বলেন, আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের যে ঘোষণা দিয়েছিলাম, তা প্রত্যহার করা হলো। তবে পুনর্নির্বাচনের দাবি অব্যাহত থাকবে। আমার ওপর ছাত্রলীগ যে হামলা করেছে, সেটার বিচারের দায়িত্ব আমি ছাত্রলীগ সভাপতির ওপর দিলাম। এর আগে দুপুরে ভিসির বাসভবনের সামনে ছাত্রলীগের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন ছাত্রলীগ সভাপতি। তিনি বলেন, সবার প্রতি সম্মান রেখে তোমরা এই স্থান থেকে চলে যাও। না হলে তোমরা আমাকে মানো না। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শোভন বলেন, তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখো। অনেক সময় নিজেকে বলি দিতে হয়। এটা তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার জন্য আমরা সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। সভাপতির নির্দেশের পরে নেতাকর্মীরা ভিসির বাসভবনের সামনে নেয়া অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ওই এলাকায় যান চলাচল শুরু হয়। সোমবার রাত ৩টা ২৪ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পদাধিকার বলে ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ডাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন। বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নূর ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে নির্বাচন করেন। তিনি ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। ডাকসুর ভিপি পদে নূর জয়ী হলেও জিএস, এজিএসসহ বেশিরভাগ পদে ছাত্রলীগের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। জিএস পদে গোলাম রাব্বানী ও এজিএস পদে সাদ্দাম হোসাইন বিজয়ী হন। ভিপি ছাড়াও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেলের আখতার হোসেন জয়লাভ করেন।...

সুস্থ থাকতে সব খাবার পাতে

১১ ফেব্রুয়ারী ,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম : ষাটের দশকে সেভেন কান্ট্রিজ স্টাডিতে বিজ্ঞানীরা জানান যে ভূমধ্যসাগরের আশপাশের এলাকায় চর্বিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া সত্ত্বেও মানুষের হৃদরোগ কম হয়। তার অন্যতম কারণ হিসাবে উঠে আসে অলিভ অয়েল, বাদাম ও সামুদ্রিক মাছ। তাঁদের খাবারের প্রায় সব চর্বিটুকুই আসত অলিভ অয়েল, বাদাম ও সামুদ্রিক মাছ থেকে৷ অলিভ অয়েল ও বাদাম (আমন্ড, চিনেবাদাম, কাজু, হেজেলনাট, ম্যাকাডামিয়া নাট) হল মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড বা মুফা-র বড় উৎস৷এছাড়া অ্যাভোক্যাডো, বাদাম ক্যানোলাস্যাফ্ তেল, ন্যাচারাল পিনাট বাটারেও প্রচুর মুফা আছে৷যদিও এদের ক্যালোরি একটু বেশি৷এছাড়া আর কোনও দোষ নেই৷কাজেই নিয়মিত অল্প করে মুফা সমৃদ্ধ খাবার খানা। সামুদ্রিক মাছে আছে পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড বা পুফা৷আখরোট, সয়াবিনের দুধ ও টোফু, সূর্যমুখী তিসি ও কুমড়োর বীজ, সানফ্লাওয়ার সয়াবিন ও কর্ন অয়েলেও বেশ ভাল পরিমাণে আছে৷ ওমেগা থ্রি ভার্সেস ওমেগা সিক্স: পুফা মূলত দু রকম৷ওমেগাথ্রি ও ওমেগাসিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড৷খারাপ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে, ভাল কোলেস্টেরল বাড়াতে এদের ভূমিকা আছে৷শরীরের অন্যান্য আরও কাজেও লাগে তারা৷ সবচেয়ে ভাল ফল পেতে সারা দিনের খাবারে ওমেগাসিক্স ও ওমেগাথ্রির অনুপাত সমান থাকা দরকার৷ নাহলে ২ : ১ বা নিদেনপক্ষে ৪ : ১ রাখতেই হবে৷ না হলে হৃদরোগ, ডায়াবিটিস, অ্যার্থ্রাইটিস, অ্যালঝাইমার ডিজিজ, ক্যানসার ইত্যাদির আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে৷বয়সের ছাপ পড়তে পারে দ্রুত৷মন মেজাজ খারাপ হওয়া থেকে শুরু করে ডিপ্রেশনের প্রকোপ বাড়তে পারে৷কাজেই কীভাবে ওমেগাসিক্স কম খেয়ে ওমেগাথ্রি সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া যায়, তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা দরকার৷ খাবারে ওমেগা সিক্স ও ওমেগা থ্রি-র অনুপাত ঠিক থাকলে স্মৃতিশক্তি ভাল থাকে, ক্লান্তি কমে, প্রকোপ কমে স্কিজোফ্রেনিয়া এডিএইচ ডিসঅর্ডারের মতো রোগের৷ কী খাবেন, কীভাবে খাবেন: তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছে এবং অর্গানিক পশুর মাংসে ভাল জাতের ওমেগা থ্রি আছে প্রচুর পরিমাণে৷আছে আখরোট, তিসি, ব্রাসেল্স স্প্রাউট, পালং, পার্সলে ইত্যাদিতেও৷তবেতামানেকিছুটাখাটো৷তাও সবধরনের খাবার মিলিয়ে মিশিয়ে খেলে প্রয়োজন মিটে যায়৷কোনও কারণে খাওয়া সম্ভব না হলে সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন৷ প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খেলে ওমেগা সিক্স এর ঝামেলা কম থাকে৷কম থাকে ট্রান্সফ্যাটের বিপদ৷কাজেই কেক, বিস্কুট, প্যাকেটজাত ফুড, ইনস্ট্যান্ট নুডুল্স, আইসক্রিম ইত্যাদি খাওয়া কমান৷ সয়াবিন, বাদাম ও বীজে ওমেগা সিক্স বেশি থাকলেও এ সবের অন্য উপকার আছে বলে অল্প করে খাওয়া ভাল৷ ছাঁকা তেলে ভাজা যত কম খাওয়া যায় তত ভাল৷টাটকা তেলে ভেজে খেলে ক্ষতি কম হলেও, একেবারে নেই এমন নয়৷আর পোড়া তেলে ভাজলে তো কথাই নেই৷ট্রান্সফ্যাটে ভরপুর থাকে সে খাবার৷ অল্প করে ফুল ফ্যাট খাবার খান৷যেমন, হোল মিল্ক, ফুল ফ্যাট ইয়োগার্ট বা চিজ৷লো ক্যালোরি সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সপ্তাহে দু এক দিন এক চামচ ঘি ও মাখন খেতে পারেন৷খেতেপারেনপিনাটবাটার৷তৈলাক্তমাছসপ্তাহেদু দিন অবশ্যই খাবেন৷বাকিদিনে দেশি চিকেন, জৈব খাবার বা ঘাস খেয়ে বড় হওয়া গরু বা পাঁঠার মাংসের লিন কাট, দেশি মুরগির ডিম, রাজমা, ছোলা, ডাল, সয়াবিন খান৷কখনওসখনও পোর্ক খেলেও লিন কাটই খাবেন৷ বাঙালি রান্না সর্ষের তেলে করাই ভাল৷ক্যানোলা বা ফ্ল্যাক্সসিড অয়েলেও রাঁধতে পারেন৷আর অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন স্যালাড ড্রেসিংয়ে বা সতে শাক সব্জি চিকেনে৷পাউরুটিতে মাখনের বদলে লাগিয়ে খেতে পারেন। অলিভ অয়েল ফ্রিজে রাখুন৷নাহলে আলো ও তাপে তার উপকারী দিক কমে দিনে দিনে৷কম তেলে ঢিমে আঁচে রান্না করুন খাবারদাবার৷ স্ন্যাক্স হিসেবে অল্প সেঁকা বাদাম খান, সপ্তাহে ৪-৫ দিন৷ক্যালোরি বেশি বলে ২৫ গ্রামের বেশি না খাওয়াই ভাল৷হার্ট, কোলেস্টেরল, সব ঠিক থাকবে৷রক্তচাপ বেশি থাকলে নুন ছাড়া খাবেন৷তেল, বীজ বা বাদাম স্বাদে বা গন্ধে তেতো লাগলে বুঝবেন তার উপকার কমতে শুরু করেছে বা কমে গেছে৷তখন তাকে বাদ দিয়ে দেওয়াই শ্রেয়৷ ...

জেনে রাখুন,বাচ্চাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে যে খাবার

১ ফেব্রুয়ারী ,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম :সন্তান হওয়ার পর তাদের মেধাবিকাশ নিয়ে সব বাবা-মাই খুব চিন্তিত থাকেন। শুধু চিন্তা করলেই হবে না, বাচ্চার মেধাবিকাশের পাশাপাশি স্মৃতিশক্তিও যেন ভালো হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। জেনে রাখুন এমনই কিছু খাবার যা বাচ্চাদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য উপকারী। ওটমিল : ব্রেকফাস্টে বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন। এতে স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকবে না। মাছ : মাছে আছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এবং ডিএইচএ। বহু গবেষণায় দেখা গেছে যে খাবারে কম পরিমাণে ডিএইচএ থাকলে স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাদাম : আমন্ড বা যে কোনো বাদামে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। তবে বিশেষ করে কাজু বাদামে থাকে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড। তাই সন্তানকে বাদাম খাওয়াতে ভুলবেন না। ফল : যেসব ফল এবং সবজিতে বেসি পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, তা মস্তিষ্কের পক্ষে খুব ভালো। ব্লুবেরি ও স্ট্রবেরিতে থাকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মনোযোগ এবং শর্ট টার্ম মেমরি ভালো রাখতে সাহায্য করে। ড্রাই ফ্রুটস : ড্রাই ফ্রুটসে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা বাচ্চাকে সজাগ রাখতে সাহায্য করে। বাচ্চার ব্রেকফাস্টে বা টিফিনে কিশমিশ, চেরি ইত্যাদি ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে দিতে পারেন। দই : যে বাচ্চারা ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খায় তারা অনেক চটপট ও কোনো নতুন জিনিস শিখে নিতে পারে। ক্যালসিয়াম বাচ্চাদের হাড় মজবুত করে এবং অ্যাক্টিভ থাকতে সাহায্য করে। বাচ্চাকে দিনে একবার দই খাওয়াতে চেষ্টা করুন। ডিম : ডিমে প্রচুর পরিমাণে কোলিন থাকে যা শরীরে নিউরোট্রান্সমিটার অ্যাসিটিলকোলিন তৈরি করতে সাহায্য করে। শরীরে যদি সঠিক পরিমাণে অ্যাসিটিলকোলিন তৈরি না হয় তাহলে, কোনো কিছু মনে রাখতে অসুবিধা হতে পারে। ডিমে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড থাকে যা বাচ্চার মস্তিষ্কের পক্ষে খুবই ভলো।...

বাংলাদেশে জঙ্গি ঘাঁটি গড়তে দেব না: একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক :আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এলে লন্ডন থেকে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে চান শেখ হাসিনা। ভোটের মুখে ভারতীয় সাংবাদিকদের দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বুধবার এ কথা জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের নাম না-করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ভারত-সহ কোনও প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের ঘাঁটি করতে দেব না। আসন্ন ভোটে জয়ের প্রশ্নে আশাবাদী হয়েও সতর্ক থাকতে চাইছেন আওয়ামি লিগ নেত্রী। তাঁর কথায়, বিএনপি ও জামাতে ইসলামির জোট ভালই জানে, তারা নির্বাচনে জিততে পারবে না। সন্ত্রাস প্রশ্নে তাদের অতীত রেকর্ড খুব খারাপ। ভোট বানচালের চেষ্টা করতে পারে তারা। কিন্তু এ বার আমরা শুধু নই, দেশবাসীও সতর্ক।আলাপচারিতায় এ দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই নিয়ে স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন হাসিনা। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীকে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক অতীত অর্থাৎ ২০১৩-১৪ সালের বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, মনে করে দেখুন ২০১৩ সালেরডিসেম্বরে বিএনপি-জামাত কী ভাবে স্কুলে, বাসে, অটোয়, স্টিমারে আগুন দিয়েছিল। বাবার সামনে শিশুর গায়ে আগুন ধরায়। বাস থেকে নামিয়ে ড্রাইভারের গায়ে পেট্রোল ঢালে। এটা কোন ধরনের আন্দোলন? কী অর্জন হয় এ থেকে? মানুষের সমর্থন পাচ্ছে না, তাই এ বারেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে চাইছে তারা।চলতি ভোট প্রস্তুতিতে একটি চিত্র খুবই স্পষ্ট। বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে আওয়ামি লিগের প্রতীক নৌকার অজস্র পোস্টার ব্যানার চোখে পড়লেও বিএনপির ধানের শিস কার্যত অনুপস্থিত। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে তাদের পোস্টার। প্রচারও করতে দিচ্ছে না আওয়ামি লিগ। অনেকে বলছেন, বিএনপি শিবির যেন ঝড়ের আগে থম মেরে রয়েছে। বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে শেখ হাসিনার ব্যাখ্যা, আমরাও দেখছি। ওদের প্রার্থী রয়েছে কিন্তু পোস্টার নেই। অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের কারণে ওরা অনেক জায়গায় পোস্টার লাগাতে পারছে না, আর নালিশ করছে আমাদের নামে। আসলে ওরা প্রত্যেকটি আসন নিলামে চড়িয়েছিল। যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে টিকিট দিয়েছে। এক একটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে প্রথমে। পরে এক জনকে রেখে বাকিদের বাতিল করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই ওদের যারা পুরনো লোক, তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। পুরো বিষয়টির কলকাঠি নাড়া হচ্ছে লন্ডন থেকে। লন্ডনে থাকা তারেককে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে হাসিনার বক্তব্য, তিনি গ্রেনেড হামলা-সহ বহু অপরাধে যুক্ত। তারেক বাংলাদেশের নাগরিক। তাই বিচারের জন্য ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হবে।ভোটের আগে পাক দূতাবাসের মাধ্যমে আইএসআই তৎপরতা বাড়াচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হাসিনার বক্তব্য, আমরাও জানি এই তৎপরতা চলছে। আসলে বিএনপির অনেক নেতার শরীরটা পড়ে থাকলেও আত্মা রয়েছে ওখানে। তবে এ জন্য আইএসআইকে দোষ দিই না। বিএনপি নেতাদেরই দিই। অস্ত্র চোরাকারবার আর হাওয়ালা থেকে করা অঢেল টাকায় লন্ডনে বসে তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে।ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে হাসিনার বক্তব্য, গোটা বিশ্বের কাছে এটা একটা উদাহরণ। ছিটমহল বিনিময়ের মত বিষয় নিয়ে বহু দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। কিন্তু আমরা কি সুন্দরভাবে করলাম! একটা বিষয় দেখেছি যে বাংলাদেশের কোনও বিষয় এলে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধিতা ভুলে যেন এক হয়ে যায়।ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, গোটা বিশ্বের কাছে এটা একটা উদাহরণ। ছিটমহল বিনিময়ের মতো বিষয় নিয়ে বহু দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। কিন্তু আমরা কী সুন্দর মিটমাট করলাম! একটা বিষয় দেখেছি, বাংলাদেশের কোনও বিষয় এলে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি বিরোধিতা ভুলে যেন এক হয়ে যায়! কিন্তু সব বিষয়ে এক হয় কি? এই মুহূর্তে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করতে নারাজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এমনকি বাংলাদেশের ইলিশের ভারতে রফতানির বিষয়টিতেও বিশদে কিছু বলতে চাইলেন না। হাসিমুখে শুধু জানিয়েছেন, পানি পেলেই তিনি ইলিশ দিতে তৈরি! আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হল।...

তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগের জয়ে কতটা সমর্থন দেবে?

অনলাইন ডেস্ক :বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার সারা দেশ থেকে নির্বাচিত কিছু তরুণদের সঙ্গে বিশেষ এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বসেছিলেন। বলা হচ্ছে, তাদের পরামর্শ ও পরিকল্পনার কথা শুনেছেন তিনি। বাংলাদেশে কাছাকাছি সময়ে বড় যে আন্দোলনগুলো হয়েছে সেগুলো প্রায় সবই তরুণদের আন্দোলন। সবচাইতে আলোচিত কোটা আন্দোলন বা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন যেভাবে সামাল দেয়া হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগের সাথে তরুণ প্রজন্মের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে প্রথমবার ভোটারের সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। পাঁচই জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে যে পাঁচটি বিষয় সবচাইতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিলো তার অন্যতম হল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যু। ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ইস্যুও তরুণদের আকর্ষণ করতে প্রচারণায় ব্যবহার করা হয়েছে। বলা হয় সেবার তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগের জয়ে ভূমিকা রেখেছিলো। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তারা তরুণদের এবার কিভাবে আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন? তিনি বলছেন, আমরাতো পৃথিবীটা তাদের হাতের মুঠোর ভেতরে এনে দিয়েছি, দিন বদলের সনদ ডিজিটাল বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে। তারা পৃথিবীর যে প্রান্তে বিচরণ করতে চায় সেখানেই তারা যেতে পারে। এই যে সুবিধাগুলো তাদেরকে দিয়েছে বর্তমান সরকার। তথ্য প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছি। এগুলো সবকিছু হচ্ছে তরুণদের জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ ভোটাররা বুঝতে শেখার পর গত দশ বছর আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোন দলকে ক্ষমতায় দেখেনি। অন্য কোন দলকে যাচাই করার কোন সুযোগ তারা পায়নি। কাছাকাছি সময়ে তাদের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল কোটা সংস্কার ও সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলন। এ দুটি আন্দোলনই একটি পর্যায়ে ক্ষমতাসীনদের জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠেছিলো। দুটি আন্দোলনের ক্ষেত্রেই সরকারের ভূমিকা সেসময় প্রশ্নের মুখে পড়েছিলো। কোটা সংস্কারের আন্দোলনের ক্ষেত্রে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখছে না বলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিলো। শেষমেশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলেও অনেক নাটক ও বিলম্বের পর। এই আন্দোলন দুটি তারা সঠিকভাবে সামাল দেননি বলে মনে করেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ। তিনি বলছেন এর প্রভাব ভোটে হয়ত পরতে পারে। তিনি বলছেন, দুটো আন্দোলনই নির্বাচনের খুব কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই হয়েছে। আরও সেনসিটিভভাবে এটা সামাল দেয়া যেতো। তা করা হয়নি বা করতে পারেনি সরকার। তরুণদের কিছু ইনসেনসিটিভ কিছু ঘটনার অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেটার কিছু প্রভাবতো পড়বে তবে তিনি মনে করছেন, বর্তমান সরকার একটা যায়গায় তরুণদের উপর অনেক নজর দিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তারা করার চেষ্টা করেছে সেখানে তরুণদের মাথায় রেখে অনেক কাজ হয়েছে। সেটিও নিশ্চয়ই কোন প্রভাব ফেলবে। তবে এই মুহূর্তে তরুণদের জন্য কোন ইস্যুটা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ, তারা কি চায়, তাদের কোন বিষয়টি সবচাইতে দরকার, তাদের উদ্দেশ্য করে ইশতেহারে এমন কিছু থাকে না যা তাদের আকর্ষণ করতে পারে, বলছিলেন তিনি। তরুণরা আসলে কি চায়? সেটি বোঝার জন্য অনেকের সংগে কথা বলে মনে হল চাকরী বিষয়টা এই বেশিরভাগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কথা হচ্ছিলো নিশিতা মিতুর সাথে। তিনি এবছর ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বের হয়েছেন। বাংলাদেশে এই বয়সী আরও অনেকের মতোই সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। তিনি বলছিলেন তার কাছে এখন সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একটা ভালো চাকরি। তিনি বলছেন, কোটা আন্দোলন নিয়ে একটা সেইযে ঘোলাটে পরিবেশ, তার একটা স্বচ্ছ অবস্থান এটাই বোধহয় তরুণরা এখন সবচেয়ে বেশি ভাবছে।...

মুজিব বর্ষ উদযাপনে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণা

১৩মার্চ,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিবস ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ হিসেবে পালনের জন্যে আওয়ামী লীগের প্রচার সেলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এই ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সভাপতি এইচ টি ইমাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গত দশ বছরে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, তাতে সকল সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ভারতকেও পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি গত দশ বছরের উন্নয়ন নিয়ে একটি বিশেষ প্রকাশনা করবে। আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতার ৯৯তম জন্মদিন ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে এবং আগামী বছরের (২০২০ সালের) ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সে উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে প্রকাশনাসহ নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।- আরটিভি


বাংলাদেশে জঙ্গি ঘাঁটি গড়তে দেব না: একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক :আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এলে লন্ডন থেকে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে চান শেখ হাসিনা। ভোটের মুখে ভারতীয় সাংবাদিকদের দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বুধবার এ কথা জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের নাম না-করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ভারত-সহ কোনও প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের ঘাঁটি করতে দেব না। আসন্ন ভোটে জয়ের প্রশ্নে আশাবাদী হয়েও সতর্ক থাকতে চাইছেন আওয়ামি লিগ নেত্রী। তাঁর কথায়, বিএনপি ও জামাতে ইসলামির জোট ভালই জানে, তারা নির্বাচনে জিততে পারবে না। সন্ত্রাস প্রশ্নে তাদের অতীত রেকর্ড খুব খারাপ। ভোট বানচালের চেষ্টা করতে পারে তারা। কিন্তু এ বার আমরা শুধু নই, দেশবাসীও সতর্ক।আলাপচারিতায় এ দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই নিয়ে স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন হাসিনা। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীকে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক অতীত অর্থাৎ ২০১৩-১৪ সালের বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, মনে করে দেখুন ২০১৩ সালেরডিসেম্বরে বিএনপি-জামাত কী ভাবে স্কুলে, বাসে, অটোয়, স্টিমারে আগুন দিয়েছিল। বাবার সামনে শিশুর গায়ে আগুন ধরায়। বাস থেকে নামিয়ে ড্রাইভারের গায়ে পেট্রোল ঢালে। এটা কোন ধরনের আন্দোলন? কী অর্জন হয় এ থেকে? মানুষের সমর্থন পাচ্ছে না, তাই এ বারেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে চাইছে তারা।চলতি ভোট প্রস্তুতিতে একটি চিত্র খুবই স্পষ্ট। বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে আওয়ামি লিগের প্রতীক নৌকার অজস্র পোস্টার ব্যানার চোখে পড়লেও বিএনপির ধানের শিস কার্যত অনুপস্থিত। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে তাদের পোস্টার। প্রচারও করতে দিচ্ছে না আওয়ামি লিগ। অনেকে বলছেন, বিএনপি শিবির যেন ঝড়ের আগে থম মেরে রয়েছে। বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে শেখ হাসিনার ব্যাখ্যা, আমরাও দেখছি। ওদের প্রার্থী রয়েছে কিন্তু পোস্টার নেই। অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের কারণে ওরা অনেক জায়গায় পোস্টার লাগাতে পারছে না, আর নালিশ করছে আমাদের নামে। আসলে ওরা প্রত্যেকটি আসন নিলামে চড়িয়েছিল। যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে টিকিট দিয়েছে। এক একটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে প্রথমে। পরে এক জনকে রেখে বাকিদের বাতিল করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই ওদের যারা পুরনো লোক, তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। পুরো বিষয়টির কলকাঠি নাড়া হচ্ছে লন্ডন থেকে। লন্ডনে থাকা তারেককে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে হাসিনার বক্তব্য, তিনি গ্রেনেড হামলা-সহ বহু অপরাধে যুক্ত। তারেক বাংলাদেশের নাগরিক। তাই বিচারের জন্য ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হবে।ভোটের আগে পাক দূতাবাসের মাধ্যমে আইএসআই তৎপরতা বাড়াচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হাসিনার বক্তব্য, আমরাও জানি এই তৎপরতা চলছে। আসলে বিএনপির অনেক নেতার শরীরটা পড়ে থাকলেও আত্মা রয়েছে ওখানে। তবে এ জন্য আইএসআইকে দোষ দিই না। বিএনপি নেতাদেরই দিই। অস্ত্র চোরাকারবার আর হাওয়ালা থেকে করা অঢেল টাকায় লন্ডনে বসে তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে।ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে হাসিনার বক্তব্য, গোটা বিশ্বের কাছে এটা একটা উদাহরণ। ছিটমহল বিনিময়ের মত বিষয় নিয়ে বহু দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। কিন্তু আমরা কি সুন্দরভাবে করলাম! একটা বিষয় দেখেছি যে বাংলাদেশের কোনও বিষয় এলে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধিতা ভুলে যেন এক হয়ে যায়।ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, গোটা বিশ্বের কাছে এটা একটা উদাহরণ। ছিটমহল বিনিময়ের মতো বিষয় নিয়ে বহু দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। কিন্তু আমরা কী সুন্দর মিটমাট করলাম! একটা বিষয় দেখেছি, বাংলাদেশের কোনও বিষয় এলে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি বিরোধিতা ভুলে যেন এক হয়ে যায়! কিন্তু সব বিষয়ে এক হয় কি? এই মুহূর্তে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করতে নারাজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এমনকি বাংলাদেশের ইলিশের ভারতে রফতানির বিষয়টিতেও বিশদে কিছু বলতে চাইলেন না। হাসিমুখে শুধু জানিয়েছেন, পানি পেলেই তিনি ইলিশ দিতে তৈরি! আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হল।

বসবাসযোগ্য হোক ঢাকা পরিকল্পিত শিক্ষার আশা

লন্ডনভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্যা ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা ইআইইউ বাসযোগ্যতা নির্ণয়ে বিশ্বের ১৪০টি শহরের যে তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানে বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবে এবারও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এটি অবশ্য প্রকাশ করেছে ১৪ আগস্ট ২০১৮ সালে। তাদের জরিপ অনুযায়ী বিশ্বের বাসযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে প্রথম ১০টি হলো- অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, অস্টেলিয়ার মেলবোর্ন, জাপানের ওসাকা, কানাডার ক্যালগেরি, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, কানাডার ভ্যাঙ্কুভার, জাপানের টোকিও, কানাডার টরেন্টো, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড। বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসের অযোগ্য শহরগুলোর প্রথমে রয়েছে সিরিয়ার দামেস্ক। তালিকার পরবর্তী শহরগুলো হলো- ঢাকা, নাইজেরিয়ার লাগোস, পাকিস্তানের করাচি, পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মরিসবি। ২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় দেশি-বিদেশি বহুমুখী যুদ্ধ চলছে। বিমান হামলা, বোমা বিস্ফোরণ এমনকি রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারও হচ্ছে সেখানে। ফলে দামেস্কের বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় এক নম্বরে থাকা অস্বাভাবিক নয়; কিন্তু আমাদের স্বপ্নছোঁয়া উন্নয়নশীল দেশের রাজধানী ঢাকা বছরের পর বছর বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকার তলানিতে থাকাটা গভীর বেদনা আর শংকা তৈরি করে। যদি সিরিয়ায় যুদ্ধ না থাকত তবে ঢাকা বসবাস অযোগ্য নগরীর তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করত, এই ভাবনাও আমাদের কাচুঁমাচুঁ করে। অবশ্য আশংকা তো আর নতুন নয়। রাজধানী ঢাকা আর নাগরিক সমস্যা সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে বহু আগেই। আমাদের প্রাণের শহর বর্তমানে ঢাকার ভেতরের চিত্র দিন দিন প্রত্যাশার বেড়াজাল ছিন্ন করছে। শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদী দখলদারিত্বের কবলে পড়ে আবদ্ধ জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে ঐতিহাসিক এই নদ-নদী। নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে দুর্বিষহ যানজট, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংকট, পয়ঃনিস্কাশনের জটিলতা, দুর্গন্ধময় ও বিষাক্ত বাতাস, দূষিত পরিবেশ, অসম্ভব ঘনবসতি, ভেজাল খাবার, গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্দশা, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি, মাদকের ভয়াল ছোবল, ছিনতাই, আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য, লাগামহীন বাসা ভাড়া, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ইত্যাদি নানা সমস্যা। অসংখ্য সমস্যার মধ্যে যেটি প্রধান হয়ে উঠেছে তা হচ্ছে যানজট। এ সমস্যা এখন নিত্যদিনের নৈমিক্তিক বিষয়। যানজটে মানুষের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়, তার হিসাব বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন সময়ে দিয়েছে। বুয়েটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে যানজটের কারণে বছরে ২২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিপিআরসি বলেছে ২০ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ জাতিসংঘের ইউএনডিপি এক গবেষণায় বলেছে, যানজটে বছরে ক্ষতি হয় ৩৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বাস্তবতা হয়তো আরো ব্যাপক, ভিন্ন, আমাদের অন্তরাত্মা বিমর্ষ বিদির্ণ। ঢাকা মহানগরে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ও বিভিন্ন নির্মাণকাজের কারণে বায়ুদূষণ আশঙ্কাজনক; মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম) ১৭২ মাইক্রোগ্রাম। অথচ জাতীয়ভাবে পিএম ৬৫ মাইক্রোগ্রাম। জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিও ভয়াল ভয়াবহ। মশাবাহিত রোগ; যেমন- চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু প্রভৃতির ঝুঁকি রয়েছে যথেষ্ট মাত্রায়। ময়লা-আবর্জনার কারণে দূষিত পরিবেশ; পেটের পীড়া, জন্ডিস ও টাইফয়েড আক্রান্ত হয় মানুষ। ঢাকার একটি বার্ষিক উপদ্রব ডায়রিয়া। বছরে দুবার, বর্ষার শুরুতে ও শেষে এ উপদ্রব দেখা দেয়। পয়োনিস্কাশন ভালো নয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ঢাকার মলমূত্রের মাত্র ২ শতাংশের নিরাপদ নিষ্কাশন হয়। বাকিটা মিশে যায় প্রকৃতিতে, পানির উৎসে। বিবিএস ও ইউনিসেফের তথ্য মতে, ঢাকায় সরবরাহ করা পানির দুই-তৃতীয়াংশে মলবাহিত জীবাণু থাকে। এটি জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় ঝুঁকি। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভালো নয় বলে একটু বৃষ্টি হলেই স্যুয়ারেজ, ড্রেন আর পাইপের পানি একাকার হয়ে যায়। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা প্রকট সমস্যা। ঘন্টাখানেকের টানা বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় ঢাকার রাস্তাঘাট। কিছু এলাকা; যেমন- মিরপুর, মানিকনগর, মালিবাগ, ওয়্যারলেস, তেজগাঁও, পল্লবীর কালশী রোড, দৈনিক বাংলা মোড়ে রাস্তায় পানি থইথই করে। ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী যাত্রীরা। বেশির ভাগ রাস্তা ও গলি অপ্রশস্ত, ইট-খোয়া-বিটুমিন ওঠা, ময়লায় ভর্তি। এসবের ফল যানজট। রাস্তার সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ নেই। সারা বছর খোঁড়াখুঁড়ি চলে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক না হলেও সন্তোষজনক নয়। ছিনতাই-রাহাজানি নিত্য ঘটনা; খুনখারাবি আছে। বাজারও নিয়ন্ত্রণহীন, বিশেষ করে শাকসবজির বাজার। পাইকারি ও খুচরা দরে পার্থক্য অনেক। বাসযোগ্যতার সূচকে এসব তথ্য-উপাত্ত বিবেচনা করেই তালিকা চূড়ান্ত করে। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলশ্রুতিতে যেসব সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে তার সবগুলোর উপস্থিতি এখানে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো সমস্যা এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, সেগুলোর সমাধান আদৌ সম্ভবপর কিনা তা ভাবনার বিষয়। দেশের রাজধানী শহরে বসবাসকারী নাগরিকদের যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার কথা তার ধারে কাছেও নাই অভাগা নগরবাসী। তারপরও প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ ঢুকছে এ শহরের পেটে। বিদ্যমান জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরো কিছু মানুষ, সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সমস্যা আর প্রকট হয়ে উঠছে পুরাতন সমস্যা। এক দুঃসহ জীবন পার করছে এই নগরবাসী। বিভিন্ন সময় ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করার উপায় নিয়ে অনেক নগরবিশারদ, জ্ঞানী গুণী ব্যক্তি তাদের মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করেন। প্রতিটি সরকারই বিভিন্ন সময়ে তাদের নানামুখী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে থাকে। কখনো কখনো কিছু বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ চোখেও পড়ে। এসব পদক্ষেপের বেশির ভাগই সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছতে পারে না। মাঝপথেই হোঁচট খায়, অর্থের অপচয় হয়, জনগণের ভোগান্তি যে স্তরে ছিল সেই স্তরেই আটকে থাকে। ভাবা হয়ে থাকে অতিরিক্ত জনসংখ্যাই মূল সমস্যা। যে পরিমাণ মানুষ এখানে বাস করে তার ভার সহ্য করার ক্ষমতা এ শহরটি হারিয়ে ফেলেছে। বাকশক্তি থাকলে নিশ্চিত অনেক আগেই চিৎকার করে জানিয়ে দিত এ অক্ষমতার কথা। ঘর থেকে বের হলেই চোখে পড়বে হাজারো মানুষের নানামুখী । রাস্তাঘাট, টার্মিনাল, শপিংমল, পার্কÑ কোথায় নেই মানুষের ভিড়। সরকারি হিসাবে ঢাকায় বর্তমান বসবাসরত জনসংখ্যা ১ কোটি ৬৫ লক্ষ। আর প্রতি বর্গকিলোমিটার বাস করে ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। এসব মানুষের বাসস্থান পয়ঃনিস্কাশন সুবিধা পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ চলাচলের পর্যাপ্ত যানবাহন বাস, রিকশা, চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষার জন্য স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় তো কোন না কোনভাবে ব্যবস্থা হচ্ছে। এত মানুসের চাওয়া পূরণ করা এই শহরটির পক্ষে সম্ভব কিনা তাও তো ভাবনায় ফেলার কথা। সকল নাগরিকের পরিপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মতো সম্পদ, সামর্থ্য এ রাষ্ট্রের যেমন নেই, সামর্থ্য থাকলেও এই ছোট্ট জায়গায় সে ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করাও সম্ভব নয়। একারণেই জনসংখ্যার ভার কমানো, শহরমুখী প্রবণতা রোধ করার জোরালে পদক্ষেপই অযোগ্য এই শহরটিকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার প্রথম পদক্ষেপ। গ্রামে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, জীবনযাত্রার মান সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির জন্যই স্লোগান হচ্ছে আমার গ্রাম, আমার শহর আর তা সম্ভব হলে গ্রামাঞ্চলে বিকল্প কাজের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মৌল মানবিক চাহিদা মিটিয়ে আমার গ্রাম স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হবে। অন্যদিকে শহরমুখী প্রবণতাও রোধ করা যাবে। গ্রামে প্রচুর সম্পদ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক যে, প্রতিটি সরকার ঢাকা শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান যত পদক্ষেপ নিয়েছে, যত অর্থ ব্যয় করেছে বা যত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার এক-দশমাংশ পদক্ষেপও নেয়নি গ্রামাঞ্চলে। স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে শহরমুখী প্রবণতা রোধ করা যেতো। গ্রামীণ পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে প্রয়োজন নিরীখে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষাতেও জোর দেওয়া হয়নি। একটি জাতির উন্নতির চাবিকাঠি হলো ডিপ্লোমা শিক্ষা। দারিদ্র বিমোচন, স্বনির্ভর জাতি গঠন ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ডিপ্লোমা শিক্ষাই হচ্ছে প্রধান অবলম্বন। মেধা ও মননে আধুনিক এবং চিন্তা চেতনায় অগ্রসর একটি সুশিক্ষিত জাতিই একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। সেজন্যই ডিপ্লোমা শিক্ষাকে জাতির মেরুদ- বলা হয়। জাতির মেরুদ- শিক্ষা, জ্ঞান, প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা শিক্ষার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ডিপ্লোমা শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো- জ্ঞান সঞ্চারণ, নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। দুভার্গ্য যে এসমস্ত প্রযুক্তিমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেশীরভাগই রাজধানীমুখী ঢাকা শহরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ডিপ্লোমা শিক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী বিচ্ছিন্ন মতাদর্শের ভিন্ন ভিন্ন ৭টি প্রতিষ্ঠানও ঢাকা শহরে। বাংলাদেশের সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে স্বাস্থ্য, কৃষি, মেরিন প্রকৌশল শিক্ষায় ১১৭২ টি ইনস্টিটিউটের মধ্যে ঢাকাতেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে অর্ধেকের বেশি ৬১৮ টি। বাকি ৫৫৪ প্রতিটি করা হয়েছে ৩৩টি জেলায়। ৩০টি জেলায় কোন ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে কেবল প্রকৌশল বিষয়টি নিয়ে মাতামাতি করলে উৎপাদনমুখী শিক্ষার মাত্র ৭/৮ ভাগ করা হয়, বাকীরা থাকে আঁধারে। ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত ৬১৮টি ইনস্টিটিউটে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়। শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকায় অবস্থিত সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বাকি অল্প কিছু নিজেই শিল্প, কারখানা, খামার, হাসপাতাল, ক্লিনিক গড়ে তুলেন। ঢাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করে ঢাকা শহরের উপর জনসংখ্যার বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যদিকে বাকি ৩৩টি জেলায় ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের স্বল্পতা এবং ৩০টি জেলায় ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকা সত্বেও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র/ছাত্রীরা প্রতিবছর ডিপ্লোমা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিভাগ, জেলা, উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত ইপিজেট, স্পেশাল ইকোনামিক জোন, বিসিক শিল্প নগরীতে প্রতিষ্ঠিত শিল্পগুলোতে প্রশিক্ষিত দক্ষ যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতাল, ক্লিনিকে প্রশিক্ষণবিহীন অদক্ষ লোক নিয়োগ দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ভুল চিকিৎসার শিরোনাম হচ্ছে। ঢাকা শহরের জনসংখ্যার চাপ হ্রাস করতে হলে প্রতিটি উপজেলায় জেলায় ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট নির্মাণ করে শিল্প কারখানা, খামার, হাসপাতাল, ক্লিনিকে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা শহরে নতুন করে কোন শিল্প কারখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক যাতে গড়ে না উঠে তার জন্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট অনুমোদন স্থগিত করতে হবে। এই চিন্তা থেকেই পরিকল্পিত ডিপ্লোমা শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিকল্পিত শিল্প কারখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক পরিকল্পিত ঢাকা মহানগরী, পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সমন্বিত কর্মফলে দূর হবে আঞ্চলিক উন্নয়ন বৈষম্য। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি হবে আলোকিত রাজধানীর নাগরিকরাও আলাদা মর্যাদা ভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। খন রঞ্জন রায়, মহাসচিব,ডিপ্লেমা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল,khanaranjanroy@gmail.com

আজকের মোট পাঠক

32825

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত