বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন
২৭,অক্টোবর,মঙ্গলবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাবার মৃত্যুর একদিন পরই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামতে হয়েছে কিংস এলেভেন পাঞ্জাবের ভারতীয় ব্যাটসম্যান মানদ্বীপ সিংকে। একদিকে বাবাকে হারানোর শোক, অন্যদিকে আইপিএলে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ- কঠিন এ পরিস্থিতিটা নিজের ব্যাট দিয়েই জয় করেছেন ২৮ বছর বয়সী এ ডানহাতি ওপেনার। সোমবার রাতে হায়দরাবাদের বিপক্ষে পাঞ্জাবের ৮ উইকেটের সহজ জয়ে বড় অবদান রেখেছেন মানদ্বীপ। মাত্র [২৯ বলে ৫১ রানের ঝড় তুলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ক্রিস গেইল, তবে ইনিংসের সূচনা করতে নেমে শেষপর্যন্ত খেলে ৫৬ বলে ৬৬ রান করে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন মানদ্বীপ। এটি ছিল পাঞ্জাবের টানা পঞ্চম জয়। নিজেদের ইনিংসের ১৬তম ওভারে ব্যক্তিগত অর্ধশত পূরণ করেছিলেন মানদ্বীপ। এরপর তেমন কোনো উদযাপন না করে সরাসরি তিনি তাকান আকাশপানে, যেনো বুঝিয়ে দেন এই ইনিংসটি প্রিয় বাবার জন্যই। কঠিন চাপ নিয়ে খেলতে নেমে এমন ব্যাটিংয়ের জন্য সতীর্থরা তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছে। ম্যাচশেষে মানদ্বীপ জানিয়েছেন, তার বাবার সবসময়ের ইচ্ছা ছিল যে, তিনি প্রতি ম্যাচে নটআউট থাকবেন। নিয়তির কী খেল! বাবার মৃত্যুর পর খেলা প্রথম ম্যাচেই অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েছেন মানদ্বীপ। যে কারণে প্রয়াত বাবার কথা আরও বেশি বেশি মনে পড়ছে তার। তিনি বলেন, বাবা সবসময় আমাকে বলতেন, তোমার প্রতি ম্যাচেই নটআউট থাকা উচিত। এ জিনিসটাই আজকে করতে চেয়েছি। এমনকি ম্যাচের আগেও রাহুলকে (লোকেশ রাহুল) বলছিলাম, আমাকে আমার খেলাটা খেলতে দেয়া হোক। হয়তো প্রথমে কিছু বল নেবো, তবে দলের জন্য ম্যাচ ঠিকই জেতাতে পারব। আমি মনে করি, বাবা এখন থাকলে অনেক খুশি হতেন যে, আমি ম্যাচ শেষ করতে পেরেছি। এবারের আসরের প্রথম সাত ম্যাচে মাত্র ১টি জিতেছিল পাঞ্জাব, তখন পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান ছিল সবার নিচে। অষ্টম ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাঞ্জাব। টানা পাঁচটি ম্যাচ জিতে এখন ১২ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলে চার নম্বরে উঠে এসেছে তারা। যার ফলে উজ্জ্বল হয়েছে প্লে-অফে খেলার সম্ভাবনা। এমন প্রত্যাবর্তনের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মানদ্বীপ বলেছেন, এটা পুরোপুরি আমাদের আত্মবিশ্বাস, যা আমরা শেষের কয়েক ম্যাচে দেখাতে পেরেছি। যাই হোক না কেন, পাঞ্জাবি লড়াইটা প্রতি ম্যাচেই দেখাতে হবে আমাদের। আইপিএলে অন্যতম সেরা দল আমরা এবং আমাদের স্বাধীনভাবেই খেলা উচিত। শুরুর দিকে দূর্ভাগ্য ছিল, এখন ম্যাচগুলো আমাদের পক্ষে আসছে। ক্রিস গেইলের সঙ্গে ১০.১ ওভারে ১০০ রানের জুটির ব্যাপারে তার ভাষ্য, আমার সৌভাগ্য যে ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, বিরাট কোহলিদের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা পেয়েছি। গেইলের সঙ্গে আমার শুরুটা ২০১০ সালে, কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে। তখন থেকেই আমরা দুজন বন্ধু। সে খুবই বিনয়ী। তার সঙ্গে ব্যাটিং করাটা খুব সহজ।
তামিম-মুশফিকদের পেছনে ফেলে সেরা ব্যাটসম্যান চট্টগ্রামের ছেলে ইরফান
২৬,অক্টোবর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শ্রীলঙ্কা সফর বাতিল হয়ে যাওযায় খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দেশের ক্রিকেট অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিন করে বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপ নামে একটি ওয়ানডে টুর্নামেন্ট। রোববার (২৬ অক্টোবর) পর্দা নেমেছে যেটির। টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ের পাশাপাশি সুযোগ পেয়েছিলেন জাতীয় দলের আশে-পাশে থাকা দলের (এ দল, এইচপি দল) বেশ কিছু খেলোয়াড়ও। তিন দলের ৪৫ জন খেলোয়াড়দের মধ্যে চট্টগ্রামের ছিলেন ছয়জন খেলোয়াড়। এরমধ্যে জাতীয় দলের ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হকের সাথে জাতীয় তারকা নাঈম হাসান, ইয়াসির আলী রাব্বিদের সাথে সুযোগ পান উদীয়মান দুই তারকা ক্রিকেটার ইরফান শুক্কুর ও শাহাদাত হোসেন দিপু। বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপে প্রথম রাউন্ডে সবার ওপরে থাকলেও, শেষপর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি নাজমুল শান্ত একাদশ। ফাইনাল ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রেসিডেন্টস কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একাদশ। হারলেও ফাইনালে মনোমুগ্ধকর ইনিংস খেলেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ভালো খেলা চট্টগ্রামের ইরফান শুক্কুর। তাতেই জাতীয় দলের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের পেছনে ফেলে টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যনের পুরষ্কার পান ইরফান শুক্কুর। তবে আসরের সেরা ব্যাটসম্যানের তালিকায় সবার ওপরের দুইটি নাম নাজমুল একাদশেরই। অদ্ভুত মিল, দুজনই আবার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। তারা হলেন নির্ভরতার প্রতীক মুশফিকুর রহীম ও সাম্প্রতিক সময়ে নিজের জাত চেনানো বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর। আসরে মুশফিক করেছেন ২১৯ রান, ইরফানের ব্যাট থেকে এসেছে ২১৪ রান। সন্দেহ নেই, প্রেসিডেন্টস কাপ খেলতে নামার আগে পুরো টুর্নামেন্টের বাকি সব খেলোয়াড়দের চেয়ে ভালো প্রস্তুতি ছিলো উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীমের। যার প্রতিফলন দেখা গেছে মাঠেও। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১ রানে আউট হয়ে গেলেও, পরের তিন ম্যাচে খেলেছেন যথাক্রমে ১০৩, ৫২ ও ৫১ রানের ইনিংস। পরে ফাইনাল ম্যাচে আউট হয়েছেন ১২ রান করে। পুরো আসরে মুশফিকের চেয়ে তো দূরে থাক, তার সমান তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংসও খেলতে পারেননি আর কোনো ব্যাটসম্যান। পাঁচ ম্যাচে ৪৩.৮০ গড়ে ২১৯ রান করার মাধ্যমে যোগ্য হিসেবেই আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মুশফিক, পেয়েছেন ২ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার। তবে আসরের সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কার কিন্তু পাননি মুশফিক। তার ব্যাট থেকে সর্বোচ্চ ২১৯ রান এলেও, সেরা ব্যাটসম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ৫ রান কম করা ইরফান শুক্কুর। পুরো আসরে ৭১.৩৩ গড়ে ২১৪ রান করেছেন ইরফান। যেখানে দুইটি ফিফটি ছাড়াও ছিল একটি ৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। মজার বিষয় হলো, নাজমুল একাদশের হয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম ও শেষ ম্যাচেই শুধু ফিফটি পেরুতে পারেননি মুশফিক; ঠিক এ দুই ম্যাচেই দলের হাল ধরে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন ইরফান। দুটি ম্যাচেই চাপে ছিলো দল। প্রথম ম্যাচে দলকে জেতাতে পারলেও, শেষ ম্যাচে আর পারেননি ইরফান। একার লড়াইয়ে ৭৫ রানের ইনিংস খেললেও বাকিদের ব্যর্থতায় ফাইনালে পরাজিত দলেই থাকতে হয়েছে ইরফান-মুশফিকদের। বাংলাদেশ এ দল এবং এইচপি দলের হয়ে খেলা ইরফান যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করেছেন। উইকেটের সামনে ব্যাট হাতে যেমন দুর্দান্ত সময় কাটছে ইরফানের তেমনি উইকেটের পেছনে উইকেটরক্ষক হিসেবেও বেশ ভাল করছেন এই বাঁহাতি। দীর্ঘ সময় পর ম্যাচ খেলতে নামা ক্রিকেটারদের বেশিরভাগই ব্যাট হাতে সফল হতে পারেননি। সেখানে ইরফান শুক্কুর তারকা না হয়েও সুযোগটাকে কাজে লাগান বেশ ভালভাবেই। স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের কারনে উপরে ব্যাট করার সুযোগ না পেয়েও (ব্যাট করেছেন সাত নম্বরে) ইরফান শুক্কুর করেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। যদিও যে পজিশনে তিনি ব্যাট করতে নামেন সে অবস্থায় ইনিংস বড় করার সুযোগ থাকে কম।
এবার ঘরের মাঠেও জয় পেল না জুভেন্টাস
২৬,অক্টোবর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাঝে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডায়নামো কিয়েভকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন ক্লাব জুভেন্টাস। এর আগে ও পরের ম্যাচের ভেন্যু বদল হলেও, পরিবর্তন হয়নি ম্যাচের ফলাফলে। দুই ম্যাচেই ১-১ গোলে ড্র করেছে ওল্ড লেডিরা। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ক্রতোনের মাঠে খেলতে গিয়ে ১-১ গোলে ড্র নিয়ে ঘরে ফিরেছিল জুভেন্টাস। মাঝে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটি জিতলেও, পরের রোববারের ম্যাচে আবার ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা। তাও কি না নিজেদের ঘরের মাঠে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভিন্ন দুই মাঠে খেলা দুইটি ম্যাচেই জয়বঞ্চিত থাকল ইতালিয়ান সিরি 'আ'র টানা নয়বারের চ্যাম্পিয়নরা। সবশেষ জুভেন্টাসকে তাদেরই ঘরের মাঠে রুখে দিয়েছে তুলনামূলক দুর্বল দল ভেরোনা। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় দলের সঙ্গে নেই সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যে কারণে নিজেদের পরিকল্পনা ও ফরমেশনেও খানিক বদল আনতে বাধ্য হন জুভেন্টাস কোচ আন্দ্রে পিরলো। যা খুব একটা কাজে দেয়নি। ঘরের মাঠে খেলতে নামলেও প্রথমার্ধে কোনো গোল করতে পারেনি জুভেন্টাস। তবে প্রতিপক্ষ ভেরোনার রক্ষণে ভয় ঢোকানোর কাজটা ভালোভাবেই করেছেন পাওলো দিবালা, আলভারো মোরাতারা। শুধু পাননি গোলের দেখা। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৬০ মিনিটের সময় অতিথিদের এগিয়ে দেন ভেরোনায় লোনে খেলতে আসা আন্দ্রে ফাভিল্লি। এর আগে প্রথমার্ধেও একবার জালের ঠিকানা খুঁজে নিয়েছিল ভেরোনা। কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে জুভেন্টাস। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে দিবালার শট ফেরে ক্রসবারে লেগে। এর এক মিনিট পরেই সমতা ফেরান ডেজান কুলসেভস্কি। মোরাতার পাস থেকে গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা এ তরুণ মিডফিল্ডার। বাকি সময়ে আর গোল না হওয়ায় ১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচ ড্র করে পাঁচ ম্যাচ শেষে মাত্র ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পাঁচ নম্বরে অবস্থান করছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। শীর্ষে থাকা এসি মিলানের সংগ্রহ ৪ ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট।
১৪ রানে ৭ উইকেট হারাল হায়দরাবাদ, অবিশ্বাস্য জয় পাঞ্জাবের
২৫,অক্টোবর,রবিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ধারাভাষ্য কক্ষে মাইক হাতে সুনিল গাভাস্কার বলেই দিলেন, 'আইপিএল অসম্ভব টুর্নামেন্ট, অবিশ্বাস্য! একটুও ভুল বলেননি গাভাস্কার, অসম্ভবকে সম্ভব করা কিংবা অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের চমকে দেয়ার কাজটা এবার দারুণভাবে করে চলেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। যার সবশেষ উদাহরণ কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যকার ম্যাচটি। যেখানে মাত্র ১২৬ রানের পুঁজি নিয়েও ১২ রানে জিতে গেছে পাঞ্জাব। জয়ের খুব কাছে পৌঁছেও শেষপর্যন্ত বিব্রতকর এক পরাজয়ই দেখল হায়দরাবাদ। এ জয়ে প্লে-অফের সম্ভাবনাও আর বাড়িয়েছে প্রীতি জিনতার দল। অথচ পাঞ্জাবের করা ১২৬ রানের জবাবে একপর্যায়ে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই ১০০ রান করে ফেলেছিল হায়দরাবাদ। তাদের জয় যখন মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র, তখনই মরণ কামড় বসায় পাঞ্জাব। অবিশ্বাস্য বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে মাত্র ১১৪ রানেই তারা অলআউট করে দিয়েছে হায়দরাবাদকে। অর্থাৎ শেষের ৭ উইকেট মাত্র ১৪ রানে হারিয়েছে হায়দরাবাদ। আরও নির্দিষ্ট করে বললে মাত্র ৪ রান করতেই নিজেদের শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারের দল। মিডল ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নজিরবিহীন ব্যর্থতায় এত সহজ ম্যাচটিও জিততে পারেনি হায়দারাবাদ। রান তাড়া করতে নেমে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন হায়দরাবাদের দুই ওপেনার জনি বেয়ারস্টো এবং ডেভিড ওয়ার্নার। রানের চাহিদা যেখানে ছিল ওভারপ্রতি ছয়ের একটু বেশি, পাওয়ার প্লে'র ছয় ওভার থেকে প্রায় ৯ গড়ে ৫২ রান তুলে নেন ওয়ার্নার ও বেয়ারস্টো। কিন্তু ইনিংসের সপ্তম ওভারে অধিনায়ক ওয়ার্নার ফিরে গেলেই মোড়ক লেগে যায় হায়দরাবাদের ইনিংসে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকা ওয়ার্নার আউট হন ৩ চার ও ২ ছয়ের মারে সাজানো ২০ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে। শেষপর্যন্ত এটিই হয়ে থাকে হায়দরাবাদের ইনিংসের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস। এক ওভার পর সাজঘরের পথ ধরেন চারটি চারের মারে ২০ বলে ১৯ রান করা বেয়ারস্টোও। পরের ওভারে ফিরে যান আব্দুল সামাদও, করেন ৫ বলে ৭ রান। তিন ওভারে ৩ উইকেট হারালেও, ৯ ওভারে ৬৭ রান করে ফেলায় শেষের ৬৬ বলে মাত্র ৬০ রান বাকি ছিল হায়দরাবাদের। পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় এ সহজ সমীকরণও পূরণ করতে পারেনি আইপিএলের ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা। তবু চতুর্থ উইকেট জুটিতে আশা জাগিয়েছিলেন মনিশ পান্ডে ও বিজয় শঙ্কর। দুজন মিলে যোগ করেন ৩৩ রান। ফলে জয়ের পথেই ছিল হায়দরাবাদ। দলীয় সংগ্রহ ঠিক ১০০ পূরণ হতেই আউট হন ১৫ রান করা মনিশ। তখনও জয় নিয়ে চিন্তা ছিল না হায়দরাবাদের। কেননা ৬ উইকেট হাতে রেখে ২৩ বলে করতে হতো ২৭ রান। সমীকরণটা একসময় নেমে আসে ১৪ বলে ১৭ রানে, হাতে ছিল ছয়টি উইকেট। ইনিংসের ১৮তম ওভারে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরে যান ২৬ রান করা বিজয়। নিজের সঙ্গে যেন হায়দরাবাদের জয়টাও নিয়ে যান তিনি। কেননা এরপর আর মাত্র ৪ রান করতে পেরেছে হায়দরাবাদ। নির্ধারিত ২০ ওভারের এক বল আগেই ১১৪ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হেরেছে ১২ রানের ব্যবধানে। পাঞ্জাবের পক্ষে বল হাতে সবাই দারুণ অবদান রেখেছেন। নিজের ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান খরচায় ১ উইকেট নিয়েছেন তরুণ লেগস্পিনার রবি বিষ্ণুই। যা বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথ। পরে মাত্র ১৭ রানে ৩ উইকেট নেন ক্রিস জর্ডান এবং শেষ ওভারে জোড়া আঘাত হানা আরশদ্বীপের ঝুলিতে যায় ২৩ রানে ৩টি উইকেট। অবিশ্বাস্য এ জয়ে প্লে-অফের দাবি আরও জোরদার করল পাঞ্জাব। টানা চার ম্যাচে চার জয় পাওয়া পাঞ্জাবের ঝুলিতে এখন রয়েছে ১১ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট, টেবিলে অবস্থান পঞ্চম। সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে রয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তাদের নিচে নামাতে পারলেই প্লে-অফের টিকিট পাবে পাঞ্জাব। এর আগে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের মারমুখী ব্যাটসম্যানরা কেউ জ্বলে উঠতে পারেননি দুবাইয়ের পিচে। ক্রিস গেইল, লোকেশ রাহুল, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, নিকোলাস পুরানদের নিয়ে গড়া দল পুরো ২০ ওভার খেলে করতে পেরেছে ৭ উইকেটে মোটে ১২৬ রান। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ধীরেসুস্থে শুরু করেছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। দশম ওভার যখন চলে, ১ উইকেটে রান ছিল ৬৬। সেখান থেকে ২২ রানের মধ্যে আর ৪টি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে লোকেশ রাহুলের দল। অধিনায়ক রাহুল আর ক্রিস গেইল রান পেলেও টি-টোয়েন্টির সঙ্গে মানানসই ইনিংস খেলতে পারেননি। রাহুল ২৭ বলে ২ চার আর ১ ছক্কায় করেন ২৭, গেইলও ২০ রান করেন ২০ বলে, ২ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায়। ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (১৩ বলে ১২), দীপক হুদারাও (২ বলে ০)। ফলে ৮৮ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারায় পাঞ্জাব। সেখান থেকে দলকে একটু একটু করে যা এগিয়েছেন নিকোলাস পুরান। ২৮ বলে শেষ পর্যন্ত ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন পাঞ্জাবের এই ব্যাটসম্যান, যে ইনিংসে ছিল মাত্র ২টি বাউন্ডারির মার। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন সন্দ্বীপ শর্মা, জেসন হোল্ডার আর রশিদ খান। নিজের ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচ করেন সময়ের অন্যতম সেরা লেগস্পিনার আফগান রশিদ খান।
ধোনির চেন্নাইকে উড়িয়ে সিংহাসনে বসলো দিল্লি
২৪,অক্টোবর,শনিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এবারের আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। সেই ম্যাচে জয়ে পেয়েছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। তবে দ্বিতীয়বারের সাক্ষাতে প্রতিশোধ নিতে ভুলেনি মুম্বাই। তাও আবার বড় ব্যবধানের জয় তুলে ১০ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে কাইরন পোলার্ডের দল। চেন্নাইকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে মুম্বাই। আর নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার ১০ উইকেটের পরাজয় বরণ করলো চেন্নাই। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে চেন্নাইকে ব্যাটিয়ে পাঠায় মুম্বাই। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি ধোনিরা। ট্রেন্ট বোল্ট ও জসপ্রীত বুমরাহদের গোলার সামনে ৯ উইকেটে মাত্র ১১৪ রানে থামে চেন্নাই। ব্যাটিংয়ে স্যাম কারেন (৫২) ছাড়া দলের আর কেউ দাঁড়াতেই পারেননি। বোল্ট ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান নিয়ে দিয়ে একাই নেন ৪ উইকেট। বুমরাহজ ও রাহুল চাহার ২টি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন। ১১৫ রান তাড়া করতে নেমে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে কোনো বেগই পেতে হয়নি মুম্বাইকে। অপরাজিত থাকা দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক (৪৬) ও ইশান কিষানের (৬৮) ঝাড়ো ইনিংসের সুবাদের ১২.২ ওভারেই ১১৬ রান করে ফেলে তারা। এই পরাজয়ে প্রথমবারের মতো প্লে-অফে খেলার স্বপ্নটাও একেবারে ফিকে হয়ে গেছে ধোনিদের। ১১ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে একেবারে তলানিতে চেন্নাই। প্লে-অফে খেলতে হলে বাকি তিন ম্যাচের প্রত্যেকটিতে জয় পেতে হবে তাদের। সেক্ষেত্রে তাদের পয়েন্ট হবে ১২। তবে তাতেও চেন্নাইয়ের প্লে-অফে খেলার আশা নেই বললেই চলে। কারণ ১০ ম্যাচে সমান ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ওপর সারিতে আছে যথাক্রমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, দিল্লি ক্যাপিটালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। আর সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে চারে কলকাতা নাইট রাইডার্স। কেকেআর যদি বাকি চার ম্যাচের একটিতেও জেতে তবে ১২ পয়েন্ট নিয়ে অন্য তিন দলের সঙ্গে প্লে-অফে খেলা নিশ্চিত করে ফেলবে।
করোনা আক্রান্ত রোনালদোর জন্য মেসির বার্তা
২৩,অক্টোবর,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিলো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। টুর্নামেন্টের জি গ্রুপে রয়েছে মেসির বার্সেলোনা ও রোনালদোর জুভেন্টাস। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বুধবার মুখোমুখি হবে এ দুই দল। বার্সা ও জুভের ম্যাচটি নিয়ে কোনো সংশয় নেই, তবে অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে মেসি-রোনালদোর মুখোমুখি লড়াই। রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর এ ম্যাচ দিয়েই প্রথমবারের মতো একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামতেন এ দুই বিশ্বতারকা। কিন্তু বাঁধ সাধল করোনাভাইরাস। গত ১৩ অক্টোবর প্রথমবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন জুভেন্টাসের পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের তখনও দুই সপ্তাহ বাকি থাকায় তার খেলা নিয়ে তেমন সংশয় দেখা যায়নি তেমন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দ্বিতীয় করোনা পরীক্ষায়ও পজিটিভ এসেছে রোনালদোর নমুনার ফলাফল। যার ফলে এখন পুরোপুরি অনিশ্চয়তায় বুধবারের ম্যাচে রোনালদোর অংশগ্রহণ। জুভেন্টাসের পক্ষ থেকে উয়েফাকে জানানো হয়েছে, রোনালদোর সবশেষ অবস্থা। ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে করা করোনা পরীক্ষায় যদি নেগেটিভ হন রোনালদো, তাহলে মাঠে নামতে কোনো বাধা থাকবে না তার। আর এটিরই অপেক্ষায় রয়েছেন রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বী মেসি। তিনি আশা করছেন, শিগগিরই সুস্থ হয়ে যাবেন রোনালদো এবং খেলবেন বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচে। কেননা বিশ্ব ফুটবলে মেসি-রোনালদোর লড়াইটা বরাবরই স্পেশাল। যেটা নিয়মিতই দেখা যেতো স্প্যানিশ লা লিগায়। ইংল্যান্ডভিত্তিক ব্রডকাস্টিং প্রতিষ্ঠান ডিএজেএনকে মেসি বলেছেন, অবশ্যই! ক্রিশ্চিয়ানো যখন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলতো, তখন ম্যাচগুলো (এল ক্লাসিকো) স্পেশাল ছিল। তাদের বিপক্ষে ম্যাচ বরাবরই স্পেশাল। তবে সাথে ক্রিশ্চিয়ানো থাকলে ম্যাচের পরিবেশ-পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। তবে এখন যে আর এল ক্লাসিকোতে ক্রিশ্চিয়ানর মুখোমুখি হওয়া সম্ভব নয়, এই বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন মেসিও। তাই তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটিতে চির প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে মাঠে নামতে মুখিয়ে রয়েছেন। আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেরে উঠবেন রোনালদো। মেসির ভাষ্য, এটা (এল ক্লাসিকোর লড়াই) এখন অতীত। আমরা সবাই এখন সামনের দিনের কথা ভাবি, নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত হই। বুধবার তেমনই একটা চ্যালেঞ্জের সামনে পড়া লাগতে পারে। আমরা আশা করছি শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবে রোনালদো এবং সেই ম্যাচে খেলবে। তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের দল দুইটিও (রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা) অনেক জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী ছিল। ক্রিশ্চিয়ানোর সঙ্গে আমার যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল এবং এখনও আছে; সেটা আজীবনই থাকবে। দুজনের এই লড়াই অনেকদিন ধরেই চলছে। এত উচ্চপর্যায়ে এত লম্বা সময় ধরে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে নেয়া সহজ বিষয় নয়। চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপপর্বের ম্যাচে দারুণ এক লড়াই উপহার দেয়ার কথা জানিয়ে মেসি বলেন, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা এবং বিশ্বের সব ফুটবল ভক্তরাই দারুণ সব ম্যাচ উপভোগ করেছে। আমরা আশা করছি বুধবারও তাদের তেমনই কিছু উপহার দিতে পারব। বুধবার ক্রিশ্চিয়ানোর জুভেন্টাসের মুখোমুখি হওয়ার আগে আরও একটি কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছে মেসির বার্সেলোনার সামনে। শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় নিজেদের ঘরের মাঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদকে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো ম্যাচে স্বাগত জানাবে বার্সেলোনা।
রাজস্থানকে হারিয়ে লড়াইয়ে টিকে রইলো হায়দরাবাদ
২৩,অক্টোবর,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবশেষে জয়ে ফিরল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে স্টিভেন স্মিথের রাজস্থান রয়্যালসকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্লে-অফের আশা টিকিয়ে রাখলো ডেভিড ওয়ার্নারের দল। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজস্থান আর হায়দরাবাদের লড়াইয়ের চেয়ে বড় বিষয় ছিল সাবেক দুই অসি অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের লড়াই। স্মিথ যখন অসি অধিনায়ক ছিলেন, তখন সহ-অধিনায়ক ছিলেন ওয়ার্নার। দুই সতীর্থের লড়াইয়ে যে জিতে কে হারে সেটাই ছিল দেখার। অবশেষে স্মিথকে হারিয়ে দিলেন ওয়ার্নার। পয়েন্ট টেবিলে অবস্থানটা খুব বেশি শক্ত-পোক্ত নয়। তবে, আজ যদি রাজস্থানের কাছে হেরে যেতো হায়দরাবাদ, তাহলে নিশ্চিত বলা যায়, টুর্নামেন্ট থেকেই হয়তো ছিটকে যেতো তারা। রাজস্থানকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে একই কাতারে উঠে এলেও রান রেটের ব্যবধানে ৫ নম্বরে রয়েছে ওয়ার্নারের দল। সমান ৮ পয়েন্ট রয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এবং রাজস্থান রয়্যালসেরও। দুবাইয়ে ১৫৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে অবশ্য কিছুটা বিপদে পড়েছিল হায়দরাবাদ। ৪ রান করে আউট হয়ে যান ডেভিড ওয়ার্নার। ১০ রান করে বিদায় নেন জনি বেয়ারেস্টও। ১৬ রানের মাথায় দলের সেরা দুই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে যখন দুশ্চিন্তায় শেষ হায়দরাবাদ শিবির, তখনই ঘুরে দাঁড়ায় মানিস পান্ডে এবং বিজয় শঙ্কর জুটি। এই দুজনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ১৪০ রানের জুটি। ৪৭ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন মানিস পান্ডে। ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছক্কা মারেন ৮টি। বিজয় শঙ্কর অপরাজিত থাকেন ৫১ বলে ৫২ রানে। ৬টি বাউন্ডারি মারলেও একটিও ছক্কা নেই তার ইনিংসে। শেষ পর্যন্ত ১১ বল হাতে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন তারা দুজন। জোফরা আরচার একাই নেন হায়দরাবাদের ২ উইকেট। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান সংগ্রহ করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান। ৩৬ রান করেন সাঞ্জু স্যামসন। ৩০ রান করেন বেন স্টোকস। রায়ান পারাগ ২০ এবং স্মিথ করেন ১৯ রান।
অ্যাটলেটিকোর জালে বায়ার্নের হালি
২২,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শক্তির বিচারে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে সামনের সারিতেই থাকবে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের নাম। কিন্তু উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ঠিক পাত্তাই পেল না তারা, হজম করেছে এক হালি গোল। বিব্রতকর পরাজয়েই ফিরতে হয়েছে ঘরে। চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মান ক্লাব বায়ার্ন। মাস দুয়েক আগে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০১৯-২০ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছিল বায়ার্ন। অ্যাটলেটিকোকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নতুন মৌসুমের শুরুটাও ঠিক সেখান থেকেই করল তারা। এ নিয়ে বর্তমান কোচ হানসি ফ্লিকের অধীনে ২০তম বারের মতো কোনো ম্যাচে ৪ বা ততোধিক গোল করল বায়ার্ন। ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগের মধ্যে গত এক বছরে এতবার কোনো দল প্রতিপক্ষের জালে হালি গোল দিতে পারেনি। ফ্লিকের এই হালি উৎসবের সবশেষ শিকারই হলো অ্যাটলেটিকো। গত আসরের ফাইনাল ম্যাচে পিএসজির বিপক্ষে একমাত্র গোলটি করেছিলেন কিংসলে কোম্যান। সেই তিনিই নতুন আসরের প্রথম ম্যাচে করলেন জোড়া গোল। তার সঙ্গে স্কোরশিটে একবার করে নাম তুলেছেন লিওন গোরেৎজকা এবং কোরেন্টিন তলিসো। ম্যাচে কোনো গোলের দেখা না পেলেও প্রথম বড় সুযোগটা এসেছিল অ্যাটলেটিকোর সামনেই। মাত্র তৃতীয় মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। পরে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে বায়ার্নও। অবশ্য এতে তাদের দায় ছিল না। নিকলাস সুলের শট গিয়ে আঘাত হানে পোস্টে। তবে ২৭ মিনিটের সময় আর আক্ষেপ করতে হয়নি বায়ার্নকে। জশুয়া কিমিচের এগিয়ে দেয়া বল ধরে ম্যাচের প্রথম গোল করেন ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড কোম্যান। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মিনিট চারেক আগে গোরেৎজকার নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বায়ার্ন। এবার তাকে বল এগিয়ে দেন প্রথম গোলদাতা কোম্যান। দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ম্যাচের ৬৬ মিনিটের সময় প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে জোরালো এক শটে তৃতীয় গোলটি করেন তোলিসো। এর মিনিট ছয়ের পর অনেকটা এক প্রচেষ্টায় নিজের দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে দলের হালি পূরণ করেন কোম্যান। দারুণ জয়ে মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন। একই গ্রুপে দিনের অন্য ম্যাচে আরবি সালজবার্গ ও লোকোমোটিভ মস্কোর মধ্যকার ম্যাচটি ড্র হয়েছে ২-২ গোলে।
এবার আইসিসিতে হলুদের সাজে ব্যাট হাতে সানজিদার ছবি
২১,অক্টোবর,বুধবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মঙ্গলবার দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যতম আলোচনার বিষয়বস্তু ছিলো নারী দলের ক্রিকেটার সানজিদা ইসলামের গায়ে হলুদের ফটোশুট। যেখানে দেখা গেছে, গায়ে হলুদের পোশাকেই ব্যাট-বল হাতে মাঠে নেমে পড়েছেন সানজিদা। তার এসব ছবি এখন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শুধু দেশের মধ্যেই নয়, রীতিমতো বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হয়ে গেছে হলুদের সাজে ব্যাট হাতে করা এই ফটোশুটের ছবি। যা এখন আপলোড করা হয়েছে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রোফাইল থেকেও। আইসিসির পাশাপাশি জনপ্রিয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোতেও চলে গেছে সানজিদার এই অভিনব ফটোশুটের খবর। নিজেদের টুইটার হ্যান্ডলে সানজিদার গায়ে হলুদের এই বিশেষ ফটোশুটের কয়েকটি ছবি একসঙ্গে কোলাজ বানিয়ে আপলোড করেছে আইসিসি। যেখানে তারা লিখেছে, পোশাক, গহনা এবং ব্যাট- একজন ক্রিকেটারের বিয়ের ফটোশুট যেমন হওয়া মানায়। একই ফটোশুটের ছবি আপলোড করে ক্রিকইনফোতে লেখা হয়েছে, যেই বিয়ের ফটোশুট আমাদের সোজা বোল্ড করে দিয়েছে। বাংলাদেশ দলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার সানজিদা ইসলাম দারুণ কিছু পোজ দিয়েছে। তিনি বিয়ে করেছেন রংপুরের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার মীম মোসাদ্দেককে। উল্লেখ্য, গত শনিবার ক্রিকেটার মীম মোসাদ্দেকের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন সানজিদা। শুক্রবার ছিল গায়ে হলুদ। হলুদের ছবি তুলতেই রংপুর স্টেডিয়ামে ছুটে গিয়েছিলেন সানজিদা। সেখানে ফটোসেশনের একপর্যায়ে ব্যাট-বল দেখে কনে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি। স্থানীয় ছেলেপুলেরা টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট খেলছিল। সানজিদা তাদের কাছ থেকে ব্যাটটা চেয়ে নেন। পেছনে অগোছালো তিন স্ট্যাম্প রেখে নেমে পড়েন ব্যাটিংয়ে। গিয়ে ছিলেন ফটোগ্রাফির জন্য, সেই সুন্দর মুহূর্ত আর মিস হয় কী করে! সানজিদার গায়ে হলুদের সাজে এমন ব্যাটিংয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হতে সময় নেয়নি। ক্রিকেটের প্রতি টান ছোটবেলা থেকেই। ২০০৯ সালে ভর্তি হন বিকেএসপিতে। ২০১২ সালে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকও হয়ে যায় সানজিদার। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ৫৪ ওয়ানডে ও ১৬টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। ২০১৮ সালে এশিয়া কাপজয়ী দলের সদস্যও ছিলেন এই ব্যাটসম্যান। সানজিদার স্বামী মীম মোসাদ্দেক পরিচিত মুখ না হলেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেন রংপুর বিভাগীয় দলের হয়ে। ঢাকায় খেলেছেন প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে।