খুলনায় মিডিয়া কাপ ক্রিকেটের উদ্বোধন
০৬নভেম্বর,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: খুলনায় সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে ওয়ালটন-খুলনা প্রেসক্লাব মিডিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পর্দা উঠেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি থেকে বেলুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজা। এ সময় খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সী মাহবুব আলম সোহাগ, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেন মিন্টু, শেখ আবু হাসান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাহিদ হোসেন, দৈনিক সময়ের খবরের সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, দৈনিক দক্ষিণাঞ্চলের সম্পাদক এস এম সাহিদ হোসেন, প্রেসক্লাবের সহকারী সম্পাদক (ক্রীড়া) আহমেদ মুসা রঞ্জু, ম্যানগ্রোভ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. মুমিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন মিয়া,বিশ্বাস প্রোপার্টিজের সিইও মো. আজগর বিশ্বাস তারা, ওয়ালটনের এরিয়া ম্যানেজার শাহানুর আলম, বিআরবি কেবলসের খুলনা অফিস ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। খুলনার সাংবাদিকদের নিয়ে মোট ৪টি দল প্রতিযোগিতার অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে রূপসা টাইগার্স মুখোমুখি হয়েছে শিবসা ওয়ারিয়র্সের। একই দিন বিকেলে ভৈরব রাইডার্সের প্রতিপক্ষ মধুমতি চ্যালেঞ্জার্স। সিঙ্গেল লীগ পদ্ধতিতে খেলা শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দু’টি দল ফাইনালে উঠবে। আগামী ১০ নভেম্বর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টে ওয়ালটন ছাড়াও সহযোগিতা করছে বিআরবি কেবলস, বিশ্বাস প্রোপারটিজ, ম্যানগ্রোভ ইনস্টিটিউট, খুলনা এয়ার টুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, মৌরি এন্টারপ্রাইজ ও এক্সট্রিম গ্রুপ।
সাকিবের কাছে সেরা মুহূর্ত হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জয়
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অনেক বড় বড় অর্জনের সাক্ষী হয়ে আছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দেশকে অনেক সেরা মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত অর্জনের পাল্লাটাও কম নয়। ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্তের কোনো অভাব নেই তার। তবে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার মনে করেন, তার ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত এখনও অর্জন করতে পারেননি। বিশ্বকাপ জিতলেই সেই স্বপ্ন পূরণ হবে মনে করেন তিনি। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভক্ত ও সাংবাদিকদের পাঠানো এক প্রশ্ন উত্তর পর্বে এ কথা জানান সাকিব। তবে এখন পর্যন্ত অর্জিত সেরা মূহূর্তের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয় আর গেল বিশ্বকাপে নিজের পারফর্ম্যান্সকে সেরা মনে করেন ৩৩ বছর বয়সী তারকা। সাকিব বলেন, সেরা মুহূর্ত এখনও আসেনি। সেরা মুহূর্ত হবে বাংলাদেশের হয়ে কোনো বিশ্বকাপ জয়, সেটা ওয়ানডে হোক বা টি-টোয়েন্টি। এ পর্যন্ত যদি মনে করি, সেরাগুলোর একটি হলো অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট ম্যাচ জয় ও এবারের বিশ্বকাপে আমার পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত দিক থেকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয়ে সাকিব প্রথম ইনিংসে ৮৪ রান করার পাশাপাশি ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন। আর বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে ৮৬ গড়ে ৬০৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন । যা ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেরা অলরাউন্ড পারফর্ম্যান্স। বিশ্বকাপ ভাবনার কথা বলতে গিয়ে সাকিব বলেন, টি-টোয়েন্টিতে আমি জানি না আমরা কতটা এগিয়েছি। তবে এই সংস্করণের একটা সৌন্দর্য্য হলো, কেউ ফেবারিট নয়, যে কোনোদিন যে কোনো দল যে কাউকে হারাতে পারে। ওইটা আমাদের একটা ভরসা। যেহেতু আমরা এখন নিয়মিত টি-টোয়েন্টি খেলছি, ২০১৫-১৬ থেকে, অনেক ভালো একটা দল আমরা, অনেক বুঝতে পারি কিভাবে খেলা উচিত, সেটা আমাদের সাহায্য করবে আরেকটু ভালো খেলার জন্য। ২০২৩ বিশ্বকাপ এখনও বেশ দূরে। করোনাভাইরাসের কারণে সেভাবে খেলাও হয়নি। আমার মনে হয় না, এটা নিয়ে কেউ ভাবতে পেরেছে। হয়ত এক-দেড় বছর আগে থেকে ওটা নিয়ে ভাবনা শুরু হবে।
মুম্বাইকে উড়িয়ে প্লে-অফে হায়দরাবাদ, বিদায় কলকাতার
০৪নভেম্বর,বুধবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাঠে খেলেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। তবে টিভির পর্দায় ম্যাচটির দিকে সজাগ দৃষ্টি ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। কেননা এ ম্যাচের ফলাফলের ওপরেই নির্ভর করছিল তাদের প্লে-অফ ভাগ্য। শেষপর্যন্ত ভাগ্য তাদের দিকে মুখ ফিরে তাকায়নি, টিভির পর্দায় প্রিয় দলের বিদায় নিশ্চিত হওয়াটাই দেখেছে কলকাতার ভক্ত-সমর্থকরা। সমীকরণটা সহজ ছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জন্য। নেট রানরেট বেশ ভালো, ১৩ ম্যাচে আছে ১২ পয়েন্ট। ফলে শেষ ম্যাচ জিতলেই পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় দল হয়ে পাওয়া যাবে প্লে-অফের টিকিট। আর হারলে বিদায় নিশ্চিত, সেক্ষেত্রে সেরা চারে পৌঁছে যাবে কলকাতা। এমন যখন পরিস্থিতি, তখনই যেন নিজেদের সেরা ম্যাচটা খেলল হায়দরাবাদ। রীতিমতো উড়িয়ে দিলো টেবিল টপার মুম্বাইকে, সোজা ১০ উইকেটে জিতে নিয়েছে ম্যাচ। মুম্বাইয়ের করা ১৪৯ রান টপকে যেতে কোনো উইকেট হারায়নি হায়দরাবাদ, উল্টো বল বাকি ছিল ১৭টি। আইপিএল ইতিহাসে দশ উইকেটে জয়ের এটি ১৪তম ঘটনা। হায়দরাবাদের জন্য এত বড় জয়ের স্বাদ পাওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা এটি। ২০১৬ সালের আসরে গুজরাট লায়নসের বিপক্ষে ১০ উইকেটে জিতেছিল তারা। মুম্বাইয়ের জন্য দশ উইকেটে হারের তৃতীয় ঘটনা এটি। ২০১১ সালের পর প্রথমবারের মতো ১০ উইকেটে কোনো ম্যাচ হারল তারা। হায়দরাবাদের এত বড় জয়ের ম্যাচ দিয়েই শেষ হলো আইপিএলের প্রথম পর্বের ৫৬ ম্যাচ। সব দলের ১৪টি করে ম্যাচ শেষে সেরা চার দল হয়ে প্লে-অফে নাম লেখানো দলগুলো হলো যথাক্রমে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস, দিল্লি ক্যাপিট্যালস, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। মুম্বাইয়ের করা ১৫০ রান তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও ঋদ্ধিমান সাহার ১৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই ম্যাচ জিতে নিয়েছে হায়দরাবাদ। অধিনায়ক ওয়ার্নার ৫৮ বলে ৮৫ ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ঋদ্ধির ব্যাট থেকে এসেছে ৪৫ বলে ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। এই ইনিংসের মাধ্যমে আইপিএলে নিজের টানা ষষ্ঠ আসরে পাচশ'র ওপরে রান করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ওয়ার্নার। যা নেই বিশ্বের আর কোনো ব্যাটসম্যানের। এছাড়া এ নিয়ে ২৩তমবারের মতো কোনো শতরানের জুটি গড়লেন তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গই দিয়েছেন ঋদ্ধি। যা হায়দরাবাদকে এনে দিয়েছে প্লে-অফের টিকিট। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই রোহিত শর্মাকে (৪) হারায় মুম্বাই। তবে কুইন্টন ডি কক আর সূর্যকুমার যাদবের ঝড়ো ব্যাটে একটা সময় মোটামুটি ভালো অবস্থানে ছিল দলটি। ডি কক ১৩ বলে ২৫ রানে আউট হলেও চালিয়ে যাচ্ছিলেন সূর্য। ১১ ওভার শেষে মুম্বাইয়ের বোর্ডে ছিল ২ উইকেটে ৮১ রান। কিন্তু সূর্য ২৯ বলে ৩৬ করে ফেরার পরই বড় ধাক্কা খায় দলটি। ১ রান তুলতে মুম্বাই হারায় আরও ৩ উইকেট। সেই বিপদের মুখে ধরে খেলতে থাকেন ঈষাণ কিশান। দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন দেখেশুনে। শেষতক ১৭তম ওভারে এসে আউট হন ৩০ বলে ৩৩ করা এই ব্যাটসম্যান। পরের সময়টায় কাইরন পোলার্ড বলতে গেলে একাই খেলেছেন। ইনিংসের শেষ ওভারে জেসন হোল্ডারের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ঝড়ো ৪১ রান করে দিয়ে যান ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। ২৫ বলের যে ইনিংসে ২ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কায় হাঁকান তিনি। সানরাইজার্স বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল সন্দ্বীপ শর্মা। ৩৪ রানে ৩টি উইকেট নেন এই পেসার। ২টি করে উইকেট নেন জেসন হোল্ডার আর শাহবাজ নাদিম।
এক মাসের মধ্যেই অভিষেক হলো সেই রেকর্ডগড়া ব্যাটসম্যানের
০৩নভেম্বর,মঙ্গলবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছে স্বাগতিক পাকিস্তান। আজ (মঙ্গলবার) জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার মিশনে নেমেছে তারা। ম্যাচটিতে টস জিতে আগে ব্যাট করছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। এই ম্যাচে নিজেদের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে জিম্বাবুয়ে। কার্ল মুম্বার বদলে ডানহাতি পেসার ডোনাল্ড তিরিপানোকে সুযোগ দিয়েছে তারা। অন্যদিকে নির্ভার পাকিস্তান তাদের একাদশে পরিবর্তন এনেছে চারটি। আবিদ আলি, ফাহিম আশরাফ, ইমাদ ওয়াসিম ও হারিস রউফের জায়গায় নেয়া হয়েছে ফাখর জামান, খুশদিল শাহ, ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। এদের মধ্যে বাকি সবার আগেই ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও, এ ম্যাচ দিয়েই অভিষেক হয়েছে বাঁহাতি মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান খুশদিল শাহর। গত মাসে ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন খুশদিল। যার সুবাদে এবার অভিষেক হলো তার। গত ৯ অক্টোবর খেলা খুশদিলের ইনিংসটি পাকিস্তানি কোনো ব্যাটসম্যানের দ্রুততম এবং বিশ্বে পঞ্চম দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ড, ৮ চার আর ৯ ছক্কায় ঠিক ১০০ রান করেন তিনি। তার আগে পাকিস্তানি কোনো ব্যাটসম্যানের দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ছিল আহমেদ শেহজাদের, ৪০ বলে। জিম্বাবুয়ে একাদশ: ব্রায়ান চারি, চামু চিবাবা (অধিনায়ক), সিকান্দার রাজা, ক্রেইগ আরভিন, ব্রেন্ডন টেলর (উইকেটরক্ষক), সিন উইলিয়ামস, উইসলি মাধভেরে, টেন্ডাই চিসোরো, ডোনাল্ড তিরিপানো, রিচার্ড এনগারাবা, ব্লেসিং মুজরাবানি। পাকিস্তান একাদশ: ফাখর জামান, ইমাম-উল হক, বাবর আজম (অধিনায়ক), হায়দার আলি, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), ইফতিখার আহমেদ, খুশদিল শাহ, ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ মুসা, মোহাম্মদ হাসনাইন, শাহিন আফ্রিদি।
আবারও ঘরের মাঠে হারল ম্যান ইউ, নেমে গেল ১৫ নম্বরে
০২নভেম্বর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নতুন মৌসুমের শুরুটাই পরাজয় দিয়ে করেছিল ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। নিজেদের ঘরের মাঠে তারা ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে হেরেছিল ১-৩ গোলে। সেই পরাজয় দিয়ে শুরুর পর ছয় ম্যাচ শেষেও ঠিক ছন্দ খুঁজে পায়নি ওলে গানার সুলশারের দল। বিশেষ করে ঘরের মাঠ অর্থাৎ ওল্ড ট্র্যাফোর্ড যেন তাদের নিজেদের জন্যই হয়ে গেছে মৃত্যুপুরী। সবশেষ রোববার রাতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তারা হারল আর্সেনালের কাছে, ০-১ ব্যবধানে। অথচ আর্সেনালের বিপক্ষে গত ১৪ বছরে ঘরের মাঠে কোনো ম্যাচ হারেনি ম্যাচ ইউ। রোববার রাতের আগে সবশেষ ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড থেকে ১-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছিল গানাররা। আর্সেনালের বিপক্ষে পরাজয়ের ফলে চলতি মৌসুমে এখনও ঘরের মাঠে জয়ের দেখা পেল না ম্যান ইউ। ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে ১-৩ গোলে হারের পর, টটেনহ্যাম হটস্পারের কাছে তারা বিধ্বস্ত হয় ১-৬ গোলে। পরে চেলসির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করলেও ফের হারল আর্সেনালের কাছে। এর চেয়ে বরং প্রতিপক্ষের মাঠেই ভালো করছেন মার্কাস র‍্যাশফোর্ড, ম্যাসন গ্রিনউডরা। ব্রাইটনের মাঠে ৩-২ ও নিউক্যাসলের মাঠে ৪-১ গোলে জিতেছে ম্যান ইউ। অর্থাৎ ছয় ম্যাচে মাত্র ২ জয় ও ১ ড্র'তে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সেরা দলটির সংগ্রহ এখন মাত্র ৭ পয়েন্ট। নামতে নামতে পয়েন্ট টেবিলের ১৫ নম্বরে নেমে গেছে তারা। রোববারের ম্যাচটি ছিল ম্যান ইউর হয়ে ওলে গানার সুলশারের শততম ম্যাচ। কিন্তু উপলক্ষ্যটি রাঙাতে পারেননি তার শিষ্যরা। ঘরের মাঠে খুব একটা আধিপত্য ছিল না ম্যান ইউর খেলায়, জোরালো কোনো সুযোগও তৈরি করতে পারেনি তারা। পুরো ম্যাচে মাত্র ২টি শট তারা করতে পেরেছে লক্ষ্য বরাবর, যা থেকে মেলেনি গোল। অবশ্য ম্যান ইউর সমান দুইটি শটই লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল আর্সেনাল। সেখান থেকেই একটি গোল আদায় করে নেয় তারা। তবে সেটি ছিল আবার পেনাল্টি কিক থেকে। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে হেক্টর বেল্লেরিনকে ডি-বক্সে ফাউল করেন পল পগবা। পেনাল্টি পায় আর্সেনাল। সহজ সুযোগে দলকে জয়সূচক গোল এনে দেন পিয়েরে এমেরিক আউবেমেয়াং। এই জয়ের পরও পয়েন্ট টেবিলের ৮ নম্বরে উঠে এসেছে আর্সেনাল। সাত ম্যাচে ৪ জয় ও ৩ পরাজয়ের ১২ পয়েন্ট রয়েছে তাদের ঝুলিতে। অন্যদিকে ছয় ম্যাচে ২ জয় ও ১ ড্র'তে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ১৫ নম্বরে অবস্থান ম্যান ইউর। শীর্ষে থাকা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলের সংগ্রহ ৭ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট। দিনের আরেক ম্যাচে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মাঠে ২-১ গোলে হারা এভারটন সাত ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে। অ্যাস্টন ভিলার মাঠে ৪-৩ গোলে জেতা সাউথ্যাম্পটন সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে ও উলভারহ্যাম্পটন ওয়ানডারার্সের অবস্থান চতুর্থ।
ব্যাঙ্গালুরুকে সহজেই হারিয়ে চারে ওঠে এল হায়দরাবাদ
০১ নভেম্বর,রবিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এই ম্যাচটি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জন্য ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। পয়েন্ট তালিকার সাত নম্বরে ছিল ডেভিড ওয়ার্নারের দল। একটি জয়ই তাদের তুলে নিয়ে আসলো চার নম্বরে। দুই নম্বরে থাকা রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে অল্প রানে গুটিয়ে দিয়ে ৫ উইকেট আর ৩৫ বল হাতে রেখে জিতেছে হায়দরাবাদ। লক্ষ্য ছিল মাত্র ১২১ রানের। শুরুতেই ডেভিড ওয়ার্নারকে (৮) হারানোর পর ঋদ্ধিমান সাহা আর মনিশ পান্ডে দলকে ভরসা দিয়েছেন। ৩২ বলে ৩৯ রান করে আউট হন ঋদ্ধিমান। ১৯ বলে ২৬ করেন মনিশ। এরপর কেন উইলিয়ামসন (৮) আর অভিষেক শর্মা (৮) সুবিধা করতে না পারলেও তেমন বিপদে পড়তে হয়নি হায়দরাবাদকে। ১০ বলে ১ আর ৩ ছক্কায় হার না মানা ২৬ রানে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন জেসন হোল্ডার। এর আগে পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করেও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বোলারদের তোপে ৭ উইকেটে ১২০ রানেই আটকে যায় বিরাট কোহলির দল। শারজায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল ব্যাঙ্গালুরু। ২৮ রানের মধ্যে সাজঘরের পথ ধরেন দেবদূত পাডিক্কেল (৫) আর বিরাট কোহলি (৭)। দুটি উইকেটই নেন সন্দ্বীপ শর্মা। এরপর কিছুটা ভরসা দিয়েছিলেন জস ফিলিপ আর এবি ডি ভিলিয়ার্স। তবে তাদের কারও ব্যাটিংই টি-টোয়েন্টির সঙ্গে মানানসই ছিল না। ২৪ বলে ২৪ করেন ডি ভিলিয়ার্স, ৩১ বলে ৩২ ফিলিপ। চালিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। কিন্তু ১৮ বলে ২১ রানের বেশি যেতে পারেননি তিনিও। ফলে ১০৬ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ব্যাঙ্গালুরু। ততক্ষণে ইনিংসের ১৭ ওভার পেরিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত আর তাই পুঁজিটা বড় হয়নি কোহলির দলের। থেমেছে ১২০ রানেই। ২৪ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন গুরকিরাত সিং। হায়দরাবাদের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন দুই পেসার সন্দ্বীপ শর্মা আর জেসন হোল্ডার। একটি করে উইকেট টি নটরাজ, শাহবাজ নাদিম আর রশিদ খানের।
২১ রানে ৬ উইকেট হারাল জিম্বাবুয়ে, স্বস্তির জয় পাকিস্তানের
৩০অক্টোবর,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ওয়াহাব রিয়াজের করা ফুললেন্থের ডেলিভারিতে জিম্বাবুয়ের শেষ ব্যাটসম্যান ব্লেসিং মুজরাবানি সরাসরি বোল্ড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিতভাবেই স্বস্তির একটা বাতাস বয়ে গেছে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমের শরীরে। কেননা ব্রেন্ডন টেলর ও ওয়েসলে মাধভেরের ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানকে ভয়ই পাইয়ে দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে প্রথম ম্যাচটিতেই হারতে বসেছিল পাকিস্তান। টেলর ও মাধভেরের জুটিতে মনে হচ্ছিল ২৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ফেলবে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু দলীয় ২৩৪ রানে মাধভের আউট হলে মাত্র ২১ রানের মধ্যে শেষের ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। যার ফলে পাকিস্তান পায় ২৬ রানের জয়। পাকিস্তানিদের মনে ভয় জাগানোর কাজটা যদি করে থাকেন টেলর ও মাধভের, তাহলে প্রশান্তি এনে দেয়ার কাজটা করেছেন দলের দুই পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ওয়াহাব রিয়াজ। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো নিয়েছেন ৫ উইকেট নিয়েছেন আফ্রিদি, ওয়াহাবের শিকার ৪টি। শেষের পাঁচ ওভারে এ দুজনই নিয়েছেন জিম্বাবুয়ে ৬টি উইকেট। শাহিন-ওয়াহাবের তোপে বৃথাই গেছে টেলরের ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি। মাধভেরের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১১৯ রানের জুটি গড়ার মাধ্যমে ম্যাচটি প্রায় কাছাকাছি নিয়ে যান টেলর। কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে যখন ৪৮ রানের প্রয়োজন, তখন সাজঘরে ফিরে যান ৭ চারের মারে ৬১ বলে ৫৫ রান করা মাধভের। পরের ওভারেই আফ্রিদির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ওয়াহাবের হাতে ক্যাচ দেন সেঞ্চুরিয়ান টেলর। আউট হওয়ার আগে ১১৬ বলের ইনিংসে ১১ চার ও ৩ ছয়ের ১১২ রান করেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞতম এ ক্রিকেটার। তার বিদায়ের পর আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি জিম্বাবুয়ে, অলআউট হয়ে গেছে ২৫৫ রানে, ম্যাচ হেরেছে ২৬ রানে। শুরুর দিকের ব্যাটসম্যানরা নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ হলেও, শেষদিকের ঝড়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮১ রান করে ফেলে পাকিস্তান। ফিফটি করেছেন বাঁহাতি ওপেনার ইমাম উল হক ও বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার হারিস সোহেল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৪৭ রান যোগ করেন আবিদ আলি ও ইমাম উল হক। আবিদ সাজঘরে ফেরেন ৩০ বলে ২১ রান করে। পরে উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারার অপরাধে দোষী হন অধিনায়ক বাবর আজম (১৮ বলে ১৯) ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান (২৯ বলে ১৪)। এরই মাঝে ব্যক্তিগত অর্ধশত হাঁকিয়ে ৬ চারের মারে ৭৫ বলে ৫৮ রান করে হাস্যকর এক রানআউটের শিকার হন ইমাম। দলীয় ২০০ রান পূরণ করে সাজঘরের পথ ধরেন ইনিংসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হারিস সোহেলও। তার ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ২ ছয়ে ৮২ বলে ৭১ রান। শেষদিকে পাকিস্তানকে ২৮১ রান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব ইমাদ ওয়াসিমের। অপরাজিত ইনিংসে তিনি করেন ২৬ বলে ৩৪ রান, যেখানে ছিল এক চার ও দুই ছয়ের মার। এছাড়া ফাহিম আশরাফ করেন ১৬ বলে ২৩ রান। জিম্বাবুয়ের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮২ রান। জিম্বাবুয়ের পক্ষে বল হাতে ২টি করে উইকেট নেন টেন্ডাই চিসোরো এবং ব্লেসিং মুজরাবানি।
গোল পেলেন মেসি, দুর্দান্ত খেলে জুভেন্টাসকে হারাল বার্সা
২৯অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ম্যাচের ফলাফল বলছে, বার্সেলোনা ২ : ০ জুভেন্টাস। অথচ বার্সার জালে তিনবার বল জড়িয়েও জিততে পারেনি জুভেন্টাস! কেননা তিনটি গোলই অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরমধ্যে দুবার লাইন্সম্যান ফ্ল্যাগ তুলেই জানিয়ে দেন অফসাইডের কথা। তৃতীয় গোলটি বাতিল হয় ভিআরএ-এর মাধ্যমে। এই তিনবারই বল জালে জড়ান জুভেন্টাস স্প্যানিশ স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতা। ফলে তুরিনে নিজেদের মাঠেই বার্সেলোনার বিপক্ষে ২-০ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ওল্ড লেডিদের। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোবিহীন দলটি মাঠের খেলায় ছিল ছন্নছাড়া। বিপরীতে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ জি-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় তুলে নিয়েছে কাতালান জায়ান্টরা। বার্সার হয়ে গোল দুটি করেন ফ্রেঞ্চ তারকা ওসুমানে দেম্বেলে ও আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি। এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ জির শীর্ষে বার্সা। আর এক জয় ও পরাজয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাস। ইনজুরি ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ম্যাচের শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে বার্সা বস রোনাল্ড কোম্যানকে। ইনজুরিতে দলে জায়গা হয়নি ব্রাজিলিয়ান তারকা ফিলিপ কৌতিনহোর। শেষ ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় বাদ পড়েছেন ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে। তার জায়গায় সুযোগ পান তরুণ ডিফেন্ডার রোনাল্ড আরাহো। এছাড়া রাইট ব্যাকে সার্জিনো ডেস্টের জায়গায় খেলেছেন অভিজ্ঞ সার্জিও রবার্তো। অন্যদিকে করোনার কারণে জুভেন্টাস দলে পায়নি সেরা খেলোয়াড় রোনালদোকে। তাও বেশ শক্তিশালী একাদশ নিয়েই মাঠে নামে দুই দল। ম্যাচ শুরুর ৩ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত অতিথি বার্সেলোনা। ডি বক্সের বাইরে থেকে নেয়া মিরালেম পিয়ানিচের বল কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন জুভেন্টাসের গোলকিপার সেজনি। ফিরতি বলে গ্রিজম্যানের জোরালো শট বারে লেগে ফিরে আসে। সে দফায় রক্ষা পেলেও ১০ মিনিট পরই গোল করে বার্সেলোনা। ম্যাচের ১৩ মিনিটে মেসির লম্বা করে বাড়ানো পাস ডি বক্সের বাইরে পান ওসুমানে দেম্বেলে। সেখান থেকে জোরালো শটে গোল করেন এ তরুণ ফরোয়ার্ড। জালে প্রবেশ করার আগে বলটি জুভেন্টাস খেলোয়াড় কিয়েসার পায়ে লেগে কিছুটা দিক পরিবর্তন করেছিল। ফলে জুভেন্টাস গোলরক্ষক সেজনির তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায়ই ছিল না। পরের মিনিটেই বার্সেলোনার জালে বল ঢুকান মোরাতা, তবে সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এরপর ২২ মিনিটে সহজ সুযোগ মিস করেন বার্সা সুপারস্টার মেসি। অসাধারণ বিল্ডআপে গড়া আক্রমণে গ্রিজম্যানের নিখুঁত ব্যাকহিলে ডিবক্সে বল পান মেসি। সেটি গোলপোস্টের বাইরে মেরে দেন আর্জেনটাইন তারকা। সমতা ফেরাতে মরিয়া থাকা জুভেন্টাস চেষ্টার কমতি রাখেনি। ২৯ মিনিটে মোরাতার শট ফের খুঁজে পায় বার্সেলোনার জাল। এবারও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ৩৩ মিনিটে আলবার একটি শটও গোলপোস্টের কিঞ্চিৎ বাইরে দিয়ে চলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের ১১ মিনিটে কোয়াদরাদোর পাসে বার্সার জালে আবারও বল ঢোকান মোরাতা। এবার ভিএআরে (ভিডিও এসিসট্যান্ট রেফারি) গোলটি বাতিল হয়। বলা বাহুল্য, তৃতীয়বারওঅফসাইডে ছিলেন জুভেন্টাস তারকা। ম্যাচের ৬১ মিনিটের সময় লিড দ্বিগুণ হতে পারত বার্সার। তবে মেসির নেয়া শটটি ইঞ্চি দূরত্বে গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৭৪ মিনিটে মেসির অসাধারণ পাস থেকে গোল করতে পারেননি ফ্রেঞ্চ তারকা গ্রিজম্যান। এরই মধ্যে ম্যাচের ৮৫ মিনিটে পিয়ানিচকে ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ তথা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জুভেন্টাস ডিফেন্ডার মেরিহ ডেমিরাল। ৯০ মিনিটে মেসির বাড়ানো বল ডিবক্সে পান বার্সার তরুণ তুর্কি আনসু ফাতি। বলটি নিয়ে সামনে এগুতেই তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন জুভেন্টাস মিডফিল্ডার বারনার্ডেস্কি। এতে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে গোল করার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেননি মেসি। এই গোলের মাধ্যমেই জুভেন্টাসের শেষ আশার প্রদীপটাও নিভে যায়। পুরো ম্যাচেই অসাধারণ খেলেছেন মেসিরা। তবে পাওলো দিবালাসহ জুভেন্টাসের বেশকিছু খেলোয়াড় পুরো ম্যাচেই নিষ্প্রভ ছিলেন। পুরো ম্যাচে ৫৯.২ শতাংশ বল দখলে রেখেছে অতিথিরা। বিপরীতে জুভেন্টাসের দখলে ছিল ৪০.৮ শতাংশ। গোলের উদ্দেশে মেসিরা শট নিয়েছেন ১৩টি, যার ৪টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। অন্যদিকে ১০টি শট করলেও কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না জুভেন্টাসের। জুভেন্টাসের ৪ খেলোয়াড়কে হলুদ ও একজনকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। বিপরীতে বার্সার একজন রেফারির হলুদ কার্ডের তালিকায় নাম লেখিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার থেকে মুক্ত, স্বাধীন সাকিব আল হাসান
২৮,অক্টোবর,বুধবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা, এরপরই শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে সাকিব আল হাসানের। ২৮ অক্টোবর রাতেই মুক্ত হয়ে যাবেন সাকিব আল হাসান। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে আবার আগের মতই মুক্ত, স্বাধীন সাকিব আল হাসান। গত বছর ২৮ অক্টোবর আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়েন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। অনেকেরই ধারণা, লঘু পাপে গুরুদণ্ড- হয়েছে সাকিবের। তিনি ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত ছিলেন না। আইসিসি দূর্নীতি দমন কমিশন তার বিপক্ষে কোনোরকম ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আনতে পারেনি। আনেওনি। তার বিপক্ষে একটাই অভিযোগ, সাকিব বাজিকরদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে তা নিজ দেশের বোর্ড কিংবা আইসিসি দুর্নীতি দমন শাখাকে জানাননি। যা আইসিসির প্রচলিত আইন ও নিয়মে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেই গণ্য করা হয়। তাই সাকিব এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। এদিকে সাকিবের ভক্ত, সমর্থক ও অনুরাগীর সবাই উৎফুল্ল। রোমাঞ্চিত। প্রিয় ক্রিকেটার আবার আগের মত মুক্ত হয়ে মাঠে ফিরতে যাচ্ছেন। আবার ব্যাট ও বল হাতে মাঠে নামবেন। ঘূর্ণি যাদুতে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে সর্বাধিক সমীহ আদায় করে নেবেন। আর বুদ্ধি খাটিয়ে বল করে ব্যাটসম্যানকে বোকা বানাবেন। চওড়া উইলো দিয়ে বিপক্ষ বোলারদের করবেন শাসন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও সাকিবের ফিরে আসার প্রহর গুনছে। দেশের ক্রিকেটের বড় সম্পদ ও জাতীয় দলের প্রধান চালিকাশক্তি সাকিব ফেরা মানেই টিম বাংলাদেশ চাঙ্গা হওয়া। দলের ব্যাটিং ও বোলিং শক্তি আবার আগের মত হয়ে যাওয়া।এ কারণেই ভাবা হচ্ছে, সাকিবের শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াটা বিসিবির জন্য বড় স্বস্তির ও আনন্দের। সবার জানা, সাকিব বরাবরই থ্রি ইন ওয়ান। একজন অতি কার্যকর বোলার। দলের সেরা স্পিনার ও তিন ফরম্যাটেই এক নম্বর উইকেট টেকিং বোলার। সঙ্গে অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ। সেই সাথে দলে তার উপস্থিতিটাই অনেক বড়। সাকিব মানেই অন্যদের বাড়তি অনুপ্রেরণা। আর পারফরমার সাকিবতো এক নম্বর। গত বিশ্বকাপই তার প্রমাণ। সাকিব একা ব্যাট হাতে জ্বলে উঠে দলকে টেনে নিয়ে গেছেন। তার অভাবে ব্যাটিং দুর্বল হয়ে পড়েছিল বেশ। আর বোলিং ডিপার্টমেন্ট বিশেষ করে স্পিন আক্রমণের ধারও কমে গিয়েছিল অনেকটাই। সেই অতিকার্যকর সাকিব দলে ফেরার অর্থ জাতীয় দলের শক্তি ৩০ভাগ বেড়ে যাওয়া। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজনের কন্ঠেও সে কথাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে। তিনিও মনে করেন, সাকিব দলে ফেরা একটা স্বস্তি। সেই সাথে আনন্দের। তিনি সাকিবের কাছ থেকে অগের মত অতি কার্যকর পারফরমেন্সেরও প্রত্যাশা করছেন। বুধবার মিডিয়ার সাথে আলাপে বিসিবি প্রধান নির্বাহী বলেন, সাকিব আমাদের (বিসিবির) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। অবশ্যই তার প্রত্যাবর্তন আমাদের জন্য কমফোর্ট ও আনন্দের বিষয়ও। আমরা আশা করবো, উনি যেভাবে আমাদের জাতীয় দলে ও অন্যান্য টুর্নামেন্টে অবদান রেখেছেন সেভাবেই ফিরে আসবেন।