শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১
আওয়ামী রাজনীতির কঠিন দুঃসময়ে আদর্শিক ও পরিক্ষীত যোদ্ধার নাম গিয়াস উদ্দিন হিরু
২৪,ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা।অকুতোভয় সাহসী বীর।চট্রলার আলোচিত ১২ ছাত্রনেতার অন্যতম।চট্রগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ৮৬ - ৯০ এর দিকে দাপুটে নেতা ছিলেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরচ্চার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের হিরুর ভুমিকা অতুলনীয়।দলের জন্য তার জীবনের মুল্যবান সময় এমনকি ২০ টির উপর মামলা হুলিয়া নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে যায়। জেল জুলুমের শিকার আর হুলিয়া নিয়ে মাঠের পরিক্ষীত সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা প্রিয় হিরু।যার ফলশ্রুতিতে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতার মুখ দেখে। রাত দিন লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে ও তাদেরকে বিতাড়িত করতে গিয়ে এরশাদ সরকার মার্শাল আইনে বিচার করে হিরুর উপর ষ্টিম রোলার চালায় যা ইতিহাসের অংশ।সেই ৮০ /৯০ এর দুঃসময়ে রাজনীতি করতে গিয়ে তার জীবনে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়। সেই দুঃসময়ের কাল অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হিরুর ত্যাগ আর তিতিক্ষার কথা বর্ননাতীত।আওয়ামী পরিবারের সন্তান হিসাবে সাতকানিয়া ধর্মপুরে পিতার আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত দল আওয়ামী লীগের ঘরনার ছেলে হিসাবে হিরু ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৮০সালের দিকে স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি থেকে ৮৬ সালে চট্টগ্রাম সরকারি মহসিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি, এক সময়ে ১৯৯৪ সালের দিকে জাতীয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য,২০০২ সালের দিকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং ১ম সদস্য নির্বাচিত হন।চট্রগ্রাম কেন্দিক সিটি কলেজ গ্রুপের অন্যতম হলেন হিরু।তার বন্ধু শহীদ কামাল উদ্দিনের মৃত্যুতে কিছুটা নমনীয় থাকলে আবারও মাঠের রাজনীতির পুরোধা ছিলেন। ১৯৯৪ সালে বিখ্যাত রাজাকার গোলাম আজমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ততকালীন জোট সরকারের রোষানলে পড়েন।৯৬ সালের দিকে বিএনপির বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে জীবনের নেমে আসে এক ভয়াবহ অবস্থা যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ২০০১,১/১১ বিএনপি -জামাত ও অগনতান্তিক আন্দোলন করতে গিয়ে প্রায় ৩০টির উপর মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তবু্ও দমে থাকেনি। জীবনের মুল্যবান সময়, মেধা, টাকা, শ্রম ও ত্যাগ করে সব কিছু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভোটের অধিকার বাস্তবায়নে বীর চট্রলার নায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন যা ইতিহাসের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আজীবন মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে যাওয়া একটা নাম হিরু। ২০১২ সালের দিকে নিজ এলাকায় পিতার চেয়ারম্যান আসনে বসতে নিজ গ্রাম সাতকানিয়া ধর্মপুরে যায় কিন্তু জেলা, উপজেলা আওয়ামী লীগ এই পরিক্ষীত ও আদর্শিক যোদ্ধার নাম নাদিয়ে দলচ্যুত ব্যক্তির নাম দেয়।হিরু নাম না দেওয়া তিনি সোজা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতার দুয়ারে দুয়ারে যাই সেই সামান্য একজন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হতে।কিন্তু সেই মনোনয়ন তার কপালে জুটল না যা ইতিহাসের অংশ হিসেবে আজ গন্য হল কিন্তু সেই দলচ্যুত পরাজিত লোক আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে চেয়ারম্যান হয় আর হিরুর মত আদর্শিক ও পরিক্ষীত সাবেক ছাত্রনেতা সামান্য একটা দলীয় চেয়ারম্যান মনোনয়ন পায়না। দীর্ঘদিন,সাংস্কৃতিক জোট, খেলাঘর আসর, কামাল স্মৃতি সংসদের সংগঠনে মাধ্যমে হাজারো নেতার কারিগর ছিলেন হিরু। সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে আলকরন, ফিরঙ্গীবাজার, মাদারবাড়ী, পাথরঘাটা, আন্দরকিল্লা, জামালখান ওয়ার্ড সহ বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তুলছে হাজার হাজার নেতা কর্মী যা নতুন প্রজন্মের জন্য আর্শীবাদ।আর দুঃসময়ে সিটি কলেজ ছাত্রলীগের ঘাটি হিসেবে গড়ে তুলছে।১/১১,২০০১ এর কঠিন সময়ে চট্রগ্রাম মহানগর ছাড়া পার্শ্ববর্তী পটিয়া, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাশখালী, লোহাগড়া, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, ফেনি সহ বিভিন্ন জায়গায়র নির্যাতিত লোকের আশ্রয়স্থল হিসাবে হিরুর অবদান ভুলবার নয়। দীর্ঘদিন পদ বঞ্চিত হওয়ার পর ২০০৬ সালের চট্রগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কোনো দায়িত্ব পায়নি।২০১২ সালে সম্মেলনে চট্রগ্রাম মহানগর সম্মেলনে তাকে কোনো পদে রাখেনি।কারণ হিরুর জনপ্রিয় তুঙ্গে।দমে থাকার লোক নয় বলে আদর্শিক ও পরিক্ষীত যোদ্ধা হিরু আবারও গতির সঞ্চার করে রাজনীতি করে যাচ্ছে। এলাকার মানুষের ভালবাসা আর কর্মীদের নিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ৮০,৯০ দশকের জিয়া, এরশাদ স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলন, ৯৬ খালেদা বিরোধী আন্দোলন ও ২০০১, ১/১১ আন্দোলন সংগ্রামে চট্রগ্রাম মহানগর নিউমার্কেট চত্ত্বরে হরতাল সহ আন্দোলন সংগ্রামে হিরুর অবদান কিংবদন্তি। স্বৈরচ্ছার ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অনস্বীকার্য। অনেক সংগ্রাম আর আন্দোলন করে দলকে ক্ষমতায় আনলে তাদের কপালে জুটল না কোন ভালো পদবী বা এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। আদর্শিক ও পরিক্ষীত সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতার পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও উন্নয়নমুলক কাজের মাধ্যমে নিজ গুণে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও আর কখনো ক্ষমতা আর টাকার নিকট পরাজিত হয়ে হিরুর নিকট কোন ভালো পদবী জুটেনি। চট্রগ্রাম মহানগর এলাকায় সিটি কলেজ গ্রুপ শক্তিশালী। আর সাতকানিয়া ধর্মপুর ইউনিয়নে তার জনপ্রিয় তুঙ্গে যা বলার উপেক্ষা রাখেনা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা স্থানীয় সরকার কমিটির প্রতিটি সদস্যদের কাছে আকুতি মিনতি এমনকি কান্নায় জর্জরিত হয়ে তার রাজনীতির ত্যাগের কথা তুলে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে দুঃসময়ের রাজনীতির নায়ক হিরু।নমিনেশন বোর্ড তাকে নমিনেশন না দিয়ে স্থানীয় জেলা ও উপজেলার সুপারিশে টাকার বিনিময়ে দলচ্যুত ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দিল যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা।দলের দুঃসময়ের কর্মী তথা আন্দোলন সংগ্রামের পুরোধা হিরুর মত আদর্শিক নেতার মুল্যায়ন হল না যা আমাদের রাজনীতির জন্য অশুভ সংকেত। আজ অবহেলিত ও আদর্শিক যোদ্ধা হিরুর মুল্যায়ন করাতো দুরের কথা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নক্সা করে গেছে এক শ্রেণীর ধান্ধাবাজ ও বর্ণচোরা লোক।এলাকায় তার সুনাম আছে। সব জায়গায় হাইব্রিড, চামচা, ব্যবসায়ী আর দলচ্যুত ব্যক্তির নিকট বন্দী মনোনয়ন আর রাজনীতির পদবি।হিরুর ত্যাগ তিতিক্ষা আর লড়াই সংগ্রামের কথা বিবেচনা করে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে মনোকষ্ট পেয়ে শেষ অবধি হার্ট অ্যাটাক আক্রান্ত হয়ে আর ফিরে এলোনা প্রিয় হিরু। রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিক্ষীত ও আদর্শিক যোদ্ধারা বড়ই অসহায়।তারা দুঃসময়ে রাজনীতি করেছেন বলে আজ দলের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। আর দলের আদর্শিক যোদ্ধারা মনোনয়ন না পেয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে বলে দলের তেরেটা বাজাচ্ছে সবক্ষেত্রে। কেন্দ্রীয় নেতা ও বোর্ডের সদস্যদের নিকট গিয়েছে সামান্য একটা ওয়ার্ড চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য কিন্তু সেই তার ত্যাগের মূল্যায়ন পাবে বলে আশায় বুক বেধে আছে।অধির আগ্রহের সাথে কাজ করে যাচ্ছে সামান্য একজন প্রতিনিধি হওয়ার জন্য আর যেখানে তার ছাত্র প্রছাত্ররা বিভিন্ন জায়গায় এমপি, মন্ত্রী, কেন্দ্রীয় নেতা, সচীব, আমলা, মেয়র, উপজেলার চেয়ারম্যান এমনকি সব জায়গায় তার লোক ভালো পদে অধিষ্ঠিত।সব জায়গায় তার ছাত্ররা ভালো আছে সেখানে আদর্শিক ও পরিক্ষীত আওয়ামী লীগ নেতা হিরুর অবস্থান তেমন ভালো নেই,খুবই অসহায়।সবাই ক্ষমতা আর টাকার নিকট জিম্মি।হিরুর মত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সাবেক ছাত্রনেতা চেয়ারম্যান হলে সুবিধা অনেক । কেননা হিরুর বন্ধুরা সচিব,অতিরিক্ত সচিব বা ভালো পদে আছে। কর্মকর্তাগন তার নিকট কোন বিষয় নয়।শিক্ষিত হিরু ত্যাগী ও আদর্শিক নেতা হিসাবে নিজ গুণে কাজ করতে পারবে। কোন এমপি,মন্ত্রীর দরকার হবে না বিধায় সবাই তাকে সমীহ করে যাবে। এক শ্রেণির নেতারা চামচা আর ক্ষমতার অপব্যবহার করে আজ রাজনীতির তেরেটা বাজাচ্ছে। হিরু ক্ষমতার বাইরে থেকে কিছু পায়নি দলের শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়ে গেছে যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিজ স্ত্রী ও অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরন করেন।ক্ষমতার আওয়ামী লীগ তাকে কিছুই দেয়নি শুধু পেয়েছে বিষাদ আর জ্বালা। কোন তদবির ও ব্যবসা করতে পারেনি বলে হিরুরা শুধু আদর্শ নিয়ে বেচে ছিল।জীবনের সুখ নামক তার কাছ থেকে অনেক দুরে।দল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও হিরুরা ক্ষমতার বাইরে ছিল। জীবন সংগ্রাম করতে করতে এক সময়ে জীবন্ত কিংবদন্তি বীর হিরু পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে বিদায় নিয়েছে। আজীবন মানুষেরা হিরুদেরকে হিরু হিসাবে মনে রাখবে।কারণ আদর্শ কাকে বলে তা হিরুর কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া যাবে। ছাত্র জীবনে তার বক্তব্য,মেধা আর কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে ছিল আমার রাজনীতির অনুপ্রেরণা। ঢাকায় আসলে সর্ব প্রথমে আমাকে ফোন দিবে। ক্ষমতার রাজনীতির দৈন্যদশার কথা গুলো বলবে আর সাহসীকতার আদর্শিক রাজনীতির করার জন্য বারংবার উপদেশ দিত।আজ কষ্ট লাগে কারণ চট্রলার ছাত্র রাজনীতির এক আদর্শিক লিজেন্ড বিদায়।বিদায় বীর ছাত্র জনতার অভিভাবক। বিদায় প্রিয় নেতা হিরু।এমন এক কঠিন দুঃসময়ে ছিল তবুও কখনো আপোষ করেননি।নিজের পরিবার কখনো চিন্তা করতনা শুধু দল আর জননেত্রী শেখ হাসিনার চিন্তায় মগ্ন থাকত।অবহেলিত হিরুরা আসলেই হিরু। তার আদর্শ বাস্তবায়নে আমরা মত হাজার হাজার কর্মী এগিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন আমিন।তার আত্ত্বার মাগফেরাত কামনা করছি ও বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।- লেখক: তসলিম উদ্দিন রানা,কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ
কৃষি পণ্য কমিশন গঠন জরুরী
২৩,ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সর্বজন গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কৃষি পণ্য কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবী। যা কৃষি মন্ত্রণালয় বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিদ্বন্ধী হবে না বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। সংসদে নীতি নির্ধারণ ও আইন প্রনয়ণের ক্ষেত্রে আজ কৃষকের কোন প্রতিনিধি নেই। তাই কৃষককের সংগঠন আজ জরুরী হয়ে পড়েছে। যে সংগঠন কৃষকের সুখ, দুঃখ ও অভাব অভিযোগ নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকদের সাথে কথা বলবে। করোনাকালে কৃষিখাতে সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের প্রণোদনা সঠিক হলেও পর্যাপ্ত ছিলো না বলা যায়। কিন্তু ঋণ প্রণোদনা প্রদানের চেয়ে নগদ আর্থিক প্রণোদনা বেশি কার্যকর। কেননা প্রান্তিক কৃষকের পক্ষে বিভিন্ন দাপ্তরিক জটিলতা অতিক্রম করে ঋণ গ্রহন করা দুরূহ। যে কারণে করোনার আপতকালে কৃষককে নগদ ২৫০০ টাকা প্রদান বিশেষ সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে কৃষিখাতে করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগ নিয়ে ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরো বলেন, কৃষি বান্ধব আর কৃষক বান্ধব কথাটি যে এক নয় করোনাকালে তা আরো সুস্পষ্ট হয়েছে। সরকার কৃষি বান্ধব হলেই কৃষকের যে উপকার হবে তা বলা যায় না। কৃষি উৎপাদন, সরবরাহ, বিপনন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কৃষক যেন মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দ্বারা প্রতারিত না হয় তার জন্য সরকারকে কৃষক বান্ধব হতে হবে। প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল না হয়ে স্থানীয় সরকার, এনজিও ও ব্যক্তিখাতকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। করোনার অভিঘাতে বিভিন্ন খাতে যে বিপর্যয় ঘটেছে তার খাতওয়ারি মূল্যায়ণ এখনো সম্ভব হয়নি। তবে করোনা বিপর্যয়ে সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট না হলেও তা সঠিক সময়ে নেয়া হয়েছে। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় দুভাবে সেটি গ্রহন করা হয়েছে। একটি ছিল চলমান উদ্যোগ আরেকটি করোনা বিপর্যয় কালীন বিশেষ উদ্যোগ। সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষিখাত ব্যাপক ভূমিকা রাখলেও পোশাক সহ অন্যান্য শিল্পখাতের মতো এই খাতের সাথে সংশ্লিষ্টরা তাদের দু:খ-দুর্দশায় ততোটা গুরুত্ব পায় না। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, এফবিসিসিআই ইত্যাদি সংগঠনের মতো কৃষকদের কোন শক্ত সংগঠন নেই। ফলে কৃষকদের সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পুরোপুরি চাপ তৈরি করা যায় না। করোনাকালে পোশাক শিল্প, শিল্প-কলকারখানা, আমদানি-রপ্তানী বাণিজ্য সহ অন্যান্য খাতে সরকারের প্রণোদনা প্রবাহ যেভাবে লক্ষ্য করা গেছে, সেভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষক ও কৃষিখাত সংশ্লিষ্টদের জন্য প্রণোদনা প্রবাহ তেমন জোরদার ছিল না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত সরকার ঘোষিত প্রণোদনা পৌছায়নি। তবে কৃষি বান্ধব এই সরকার করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় তাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। করোনা প্রতিরোধে যখন সারা দেশে লকডাউন চলছিলো তখনও আমাদের কৃষক-কৃষানি ভাই ও বোনেরা ঘরে বসে থাকেনি। আমাদের জন্য ফলন উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। তাই করোনার অভিঘাতে আবারো প্রমাণিত হয়েছে কৃষি আমাদের অর্থনীতির সবচেয়ে মজবুত জায়গা। ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে কৃষিখাতে করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় জনাব কিরণ ১০ দফা সুপারিশ প্রদান করেন। সুপারিশগুলি হচ্ছে- অতি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ঋণের সুদ মওকুফ করা, কৃষকদের ঋণের কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ আরো বাড়ানো, অতি ক্ষতিগ্রস্থদের কৃষকদের এককালীন সাহায্য দেওয়ার জন্য তহবিল গঠন করা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী কৃষি কমিশন গঠন করা, কৃষি প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি শ্রমিকদের অন্তর্ভূক্ত করা, নারী কৃষকরা যেন প্রণোদনা থেকে বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করা, প্রণোদনা প্রদানের উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, প্রকৃত কৃষকদের জন্য স্বল্পমূল্যে ও সহজ কিস্থিতে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, প্রকৃত কৃষকদের কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান করা ও এর আওতা বাড়ানো। প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে সরকারি দল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মঈনুল আলম, সাংবাদিক অনিমেষ কর, সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা এবং সাংবাদিক কাবেরী মৈত্রেয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ক্রেস্ট, ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
শেষ পর্যন্ত ভ্যাকসিনেই আস্থা
৬,ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: একুশ শতকের শুরুতেই মানবজাতির ইতিহাসে নেমে আসে ভয়াবহ এক দুর্যোগ। একটি ভাইরাস সারা বিশ্বের মানুষকে থামিয়ে দেয়। থামিয়ে দেয় কর্মচঞ্চল প্রতিটি রাষ্ট্রের চলমান গতি। প্রায় গত এক বছর বিশ্ব থমকে গিয়েছিল। এখনও বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমেনি সবটা। তাই পৃথিবী তার ছন্দে ফেরেনি। গত দশ মাসে সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২২ লাখ মানুষের। এর মাঝেই উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এই ভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিস্কারের জন্য বা প্রতিষেধকের জন্য বিস্তর গবেষণা চালিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে শিল্পোন্নত দেশগুলিতে। এর মাঝে অক্সফোর্ডের গবেষক দল অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে তাদের ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের জন্য উৎপাদন শুর করে। আরও কয়েকটি দেশ এবং ওষুধ কোম্পানিগুলোও করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদন ও বাজারজাত করে। এই ভ্যাকসিন নিয়ে সাধারণ মানুষ নানা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় ছিল। সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল। পাশপাশি গুজবের কারণেও বিভ্রান্ত ছিল। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা যায়: করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের প্রতি আস্থা বেড়েছে বিশ্ববাসীর। আগে যেসব মানুষ টিকা নেয়ার ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন তারাও এখন টিকা নিতে চাইছেন। স্বেচ্ছায় টিকা নেয়ার আগ্রহ বাড়ায় মহামারি অবসানের আশা তৈরি হয়েছে। এক জরিপের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এমন তথ্য জানানো হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অর্ধেকই বলেছেন, আগামী সপ্তাহে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে তারা তা গ্রহণ করবেন। ভ্যাকসিনের প্রতি আস্থার কথা বলেছেন আরও বেশি মানুষ। রয়টার্স আরও জানায়: অক্সফোর্ড এর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ইউনিট এবং যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, প্রায় সাড়ে ১০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ দেয়া হয়েছে। রয়টার্সের গ্লোবাল ট্র্যাকারে এখন মোট টিকা দেয়ার সংখ্যা প্রায় প্রায় সাড়ে নয় কোটি। করোনা এখনও বিশ্বের ৪৪টি দেশে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক জানান: মহামারি অবসানের জন্য বিশ্বব্যাপী নিদিষ্ট পর্যায়ে ভ্যাকসিন প্রয়োজন। এর জন্য বড় দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। অবশেষে করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে করোনা ভ্যাকসিন নতুন আশার আলো দেখাতে শুরু করেছে। মানুষের আস্থায় ফিরে এসেছে বিজ্ঞান। আবারও ঘুরে দাঁড়াবে পৃথিবী। আবারও বিশ্ব ফিরবে তার চিরাচয়িত কর্মযজ্ঞে। শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা মনে করি।- সম্পাদকীয় মতামত
ড্রাইভিং একটি স্মার্ট পেশা
২,ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: বলা চলে একজন গাড়ি চালক যখন গাড়িতে উঠে তখন পৃথীবির সবচেয়ে দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে মনে করে। তার নিজের এবং পাবলিক নিরাপত্তা হয় প্রধান লক্ষ্য। তার পর আয় রোজগার। একজন গাড়ি চালকের যাত্রী হিসেবে- বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষদের তারা সেবা প্রদান করে থাকে। যার মধ্যে- ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, আইনজীবি, সাংবাদিক,লেখক, নায়ক, গায়ক, খেলোয়াড়, সেলিব্রেটি ও বিভিন্ন পেশাজীবী রয়েছেন। ড্রাইভিং একটি স্মার্ট পেশা। পৃথিীবির সকল ড্রাইভারদের সুখ-দুখ নাম-বদনামে অনুভূতির ভাগ থাকা সমুচিন। প্রয়োজনে তাদের সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াটা ও প্রয়োজন। ড্রাইভিং একটি স্মার্ট পেশা।বলা যায় ড্রাইভিং একটি মানসিক উৎকর্ষ সাধনের ব্যায়াম। মন এবং মগজ একত্রে কাজ করে গাড়ি চালানোর সময়।দায়িত্বশীলতা ও ধ্যান বৃদ্ধি করে,যা মেডিটেশনের মত কাজ করে।পৃথিবীতে সকল গাড়ির অপারেশনাল সিস্টেম এক। তাই সকল চালকের অবস্থা ও অবস্থান এবং কর্মপদ্ধতি এক।এটা ব্যাপার না উন্নত না অনুন্নত দেশের চালক।এটি একটি সম্মানীয় কাজ। He is a proud to be A professional Driver।- লেখক: মো.ইরফান চৌধুরী।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়াটা জরুরী নাকি ছাত্রছাত্রীদের সুস্থতা জরুরী?
১,ফেব্রুয়ারী,সৃজন দত্ত,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারী করোনা ভাইরাসের কবলে পতিত ১১ মাস সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এর মধ্যে ৩০শে জানুয়ারী সকালে গণভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এইচ এস সি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেনে ফেব্রুয়ারীতে পর্যবেক্ষণের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিবেন। তিনি আরো বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত সকলের করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিৎ করতে হবে। বিশে^র গুটি কয়েক দেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে আবার বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে তাদের সংক্রমনের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী মহামারীর করালগ্রাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দিপু মনি চলতি বছরের এস এস সি, এইচ এস সি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার তারিখ ঘোষনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া সহ অটো পাশের দাবীতে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকদিন ধরে মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করে আসছে, তাছাড়া তাদের দাবী ফিরিয়ে দিন ১১ মাস, নয়তো দিন অটো পাস। তাছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘ সময় ছাত্র ছাত্রীদের সংগে বইয়ের দুরত্ব বজায় থাকার কারণে বিপুল শিক্ষার্থীদেরকে বই মুখী করা এখন চ্যালেঞ্জ। কারণ দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়াশুনায় বিচ্যুতি ঘটেছে, নিত্য নৈমত্তিক পড়াশুনা করার প্রবণতা হ্রাস পেয়ে পড়াশুনা না করার একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। একবার অটোপাশ দেওয়ায় ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে অটো পাশ চাওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। তা ভবিষ্যতে ভোগান্তি বাড়াবে, কারণ অটোপাশ সুফলের চেয়ে কুফল বয়ে আনবে। এতে করে মেধার সঠিক বিকাশ উন্মোচিত হবে না, সাথে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীর পথ চলার গতির বাধার সম্মুখীন হবে। অনতিবিলম্বে ছাত্র ছাত্রীদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুখী করে পড়াশুনার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন জন ও গণমাধ্যম সহ শিক্ষক, অভিভাবক, সমাজের সচেতন নাগরিকদেরকে দূর্যোগের করাল গ্রাস থেকে উত্তোরণে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে। সবকিছু সঠিক বটে, তা স্বত্তেও বাস্তবতাকে অস্বীকার করা কারো উচিৎ নয়। কারণ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলল বটে, তাতে আমাদের সকল শ্রেনীর জন সাধারণের মনে রাখতে হবে- আমাদের সন্তানদের স্স্থু থাকার নৈতিক ও কর্তব্য শুধু সরকারের একা নয়, সকলের উপর দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তায়। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩০/০১/২০২১ ইং তারিখে তাহার মহা মূল্যবান বক্তব্যে অনেকে সেন্টিমেন্টাল হচ্ছেন, বক্তব্য দিচ্ছেন, পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করছেন কিন্তু এগুলো করতে গিয়ে যদি এর সাথে জড়িত কেউ সংক্রমিত হয় তবে তার দায়িত্ব কে নেবে? যারা সমালোচনা করছেন এ পদ্ধতিতে ফলাফল দেওয়ার কারণে তারা কি দায়িত্ব নেবেন? নিশ্চয় তারা কেউ নেবেন না। বাস্তব বড়ই কঠিন। বাস্তবতার আলোকে সবকিছু মেনে নিয়ে সম্মুখে এগিয়ে যেতে হবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।
সামাজিক মাধ্যম, টিকটক, কিশোর গ্যাং- শব্দগুলো পরিবার ও সমাজে আতঙ্ক
২৯,জানুয়ারী,শুক্রবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেশ কদিন ধরে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া এক মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে দেশে। পুলিশের অনুসন্ধান ও আইনের বিচারে সত্য প্রকাশিত হোক একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে। এটাই কাম্য। এ ঘটনার রেশ ধরে পারিবারিকভাবে সন্তানের দায়িত্ব পালন নিয়ে পিতামাতা ও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আসলে সময়ের সাথে সাথে পারিবারিক ও সামাজিক নিয়ম কানুন, রীতিনীতি অনুযায়ী সন্তান লালন-পালনের চিন্তাভাবনা ও পাল্টে যাচ্ছে ক্রমশ। আজকাল আধুনিকতা ও স্বাধীনতার নামে স্কুল কলেজগামী ছেলেমেয়েরা যে ধরনের চলাফেরা করে তা সমাজের জন্য যে কল্যাণকর নয় তার প্রমাণ কিশোর গ্যাং, সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার কিংবা জনপ্রিয়তার লোভের টিকটক কর্মকাণ্ড। প্রযুক্তির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে মানুষকে এগিয়ে যেতে হবে এটা যেমন সত্যি, তেমনিভাবে নিয়মনীতি মেনে পরিশীলিতভাবে জীবন পরিচালনা করাটাই হলো আধুনিকতা। এ বোধটা সন্তানকে দিতে হবে পরিবার থেকে। বর্তমান সময়ে দেখা যায় ব্যস্ত জীবনের দোহাই দিয়ে বাবা মা সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে পারে না। সন্তানরা পরিবার, আত্মীয়-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এককভাবে বড় হয়। তাদের সঙ্গী হয় মোবাইল আর ইন্টারনেটের জগত। কোনো বাচ্চা ব্যস্ত হয় গেমস নিয়ে, কোনো বাচ্চা বন্ধুত্বের নামে সম্পর্ক গড়ে তুলে আবেগের বশে বিপথে চলে। আবার কেউ ফ্যান্টাসিতে করছে টিকটক কিংবা গ্রুপ ম্যাসেজিংয়ে কোনো বড় ভাইয়ের নেতৃত্বে তৈরি হয় কিশোর গ্যাং। পরিবারের পারস্পরিক বন্ধনের দূরত্ব কোনো দিন যন্ত্র দিয়ে ঘুচানো যায় না এটা বুঝতে হবে পরিবার ও সমাজকে। সন্তান যখন বিপথে যায় তখন মনে হয় তার হাতে আদর ভালোবাসার নামে দামী মোবাইল তুলে দিয়ে কতটা ভুল করেছে। তাই সন্তানকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দেবার সাথে সাথে সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। তা না হলে প্রতিটি মুহূর্তে সামাজিক মাধ্যম, টিকটক বা কিশোর গ্যাংয়ের আতংকে ভুগতে হবে পরিবার ও সমাজকে। একটা অস্থির সময়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে আমাদের তরুণসমাজ। আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এখন পরিবারের আর্থিক অবস্থা বেশ প্রভাব ফেলে তাদের মাঝে। অনেকে বন্ধুদের সমতালে চলতে গিয়ে নিজেদের চাহিদা মেটাতে সহজ রাস্তা হিসাবে বেছে নেয় অনৈতিক কার্যক্রমকে। আবার এলাকায় প্রভাব খাটাতে হয়ে যায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। অন্যদিকে ইন্টারনেটের ব্যবহার করে অচেনা জগতে হারিয়ে গিয়ে বন্ধুত্বের নামে ভুল পথে চলে। আর সে ভুল পরিবেশে ডুবে থাকে রাত দিন। যার ফলে কাছের মানুষের চেয়ে সে অচেনা জগতের মানুষকে অনেক বেশি আপন মনে করে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে আমার-আপনার সন্তানরা। প্রতিটি পরিবার আজকাল চিন্তিত তাদের সন্তানদের আচার-আচরণ নিয়ে। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে দেখা যায়, বাচ্চারা আনন্দ করার চেয়ে ব্যস্ত থাকে মোবাইল নিয়ে। টিকটকের অমুক ভাই, তমুক ভাই হয় তাদের আলোচনা বিষয়। দেশের ইতিহাস সংস্কৃতি ঐতিহ্য নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। কারণ এখন আর স্কুল-কলেজ, পাড়া-মহল্লায় সেভাবে সাহিত্য সংস্কৃতির অনুষ্ঠান আয়োজন হয় না। বইয়ের মুখস্থ বিদ্যার বাইরে যে একটা জগত আছে তার চর্চা আজকাল তেমনভাবে হয় না। সন্তান কেন কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়ছে, সে কেন টিকটক করে তা নিয়ে সবার আগে চিন্তা করতে হবে পরিবারকে। একটা দামি মোবাইল সন্তানকে ভালোবেসে উপহার দেবার আগে; তাকে বুঝাতে হবে প্রযুক্তির ব্যবহার একটা মাত্রা থাকে বয়সের ব্যবধানে। সবার জন্য সব কিছু প্রযোজ্য নয়।ঠিক একইভাবে সন্তানের বন্ধু হয়ে খোঁজ রাখতে হবে তার চেনা জানার জগতকে। সে মিথ্যা বললে কেন বলছে তা জানতে হবে। কথায় আছে, শাসন করা তারেই সাজে, সোহাগ করে যে’। অতিমাত্রায় শাসন করলে সন্তানের সাথে যেমন দূরত্ব বাড়ে, তেমনিভাবে অতিরিক্ত ভালোবাসাতে ও সে প্রশ্রয় পেয়ে যায়। আর এর ফলে সন্তান নিজের মত যা খুশি করার সুযোগ নিয়ে দূরে সরে যায় বাবা মা হতে। সুতরাং সন্তানের প্রতি নিজের দায়িত্বটাকে যথাযথ পালনের চেষ্টা করতে হবে সবার আগে। ব্যস্ততার অজুহাতে সন্তানকে যন্ত্র নির্ভর জীবন দিলে তা কোনোদিনই হিতকর হবে না। আজকের তরুণ সমাজ আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের জীবন থেকে ভুলগুলো শুধরে দিতে হলে বাবা মাকেই সবার আগে বন্ধু হতে হবে। তাদের চলাফেরায় বাস্তব চিত্রকে বুঝাতে হবে। উঠতি বয়সের ফ্যান্টাসি জীবনে যে বির্পযয় ডেকে আনে তা শেখাতে হবে সঠিক সময়ে। তা না হলে এ সমাজে কিশোর গ্যাং, টিকটক প্রবনতা কমবে না।- লেখক: হাসিনা আকতার নিগার: কলামিস্ট।
ক্ষমতা আর টাকার নিকট জিম্মি প্রিয় রাজনীতি- তসলিম উদ্দিন রানা
৩০ডিসেম্বর,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: এডভোকেট আইয়ুব হোসেন মৃত্যু্ঞ্জয়ী- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ৮২ এর দিকে দাপুটে নেতা ছিলেন।১৯৮৪ সালে শিবিরের সাথে সংঘর্ষ হয় এতে শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে ও তাদেরকে বিতাড়িত করতে গিয়ে শিবিরের ৪ জন নিহত হওয়ার পর এরশাদ সরকার মার্শাল আইনে বিচারের পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে আর সেই মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সংকটময় জীবন যাপন করে।সেই দুঃসময়ে রাজনীতি করতে গিয়ে তার জীবনে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়।সেই দুঃসময়ের কাল অতিক্রম করে এগিয়ে যায়। তারপর প্রাইভেটে লেখাপড়া করেন আর নওগা জেলায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এক সময়ে ৮৮সালের দিকে (সুলতান - রহমান) কমিটি অনুমোদিত নওগা জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ৯৪ সালের দিকে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন।১৯৯৮ সালে ধামরাইহাট ইউনিয়ন বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ও এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ করেন। ৮০,৯০ দশকের জিয়া,এরশাদ স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলন,,৯৬ খালেদা বিরোধী আন্দোলন ও ২০০১,১/১১ আন্দোলন সংগ্রামে আইয়ুবের অনেক অবদান আছে তা ভুলবার নয়।তার পরিবারের দুই ভাই মুক্তিযোদ্ধা আর পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ। এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অতুলনীয়।অনেক সংগ্রাম আর আন্দোলন করে দলকে ক্ষমতায় আনলে তাদের কপালে জুটল না কোন পদবী বা জনপ্রতিনিধি। দেশের সেরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতার পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজের মাধ্যমে নিজ গুণে একবার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হলেও আর কখনো স্থানীয় এমপির দাপটে কোন পদবী এমনকি তার নিজ পৌরসভা ধামরাইহাট দীর্ঘ ১৫ বছর পর নির্বাচন হলে তৃনমুল থেকে তার নাম পর্যন্ত দেয়নি।যার কারণে কেন্দ্রীয় নেতার সুপারিশ নিয়ে নমিনেশন নিলেও ক্ষমতা আর টাকার নিকট পরাজিত হয়ে নমিনেশন পায়নি। ছোট একটা পৌরসভা নওগা জেলার ধামরাইহাট।প্রায় ১৫ বছর যাবত কোন নির্বাচন ছাড়া মেয়র ছিলেন এমপির লোক।সেই ১৫ বছরের জঞ্জাল সরানোর জন্য আদর্শিক ও পরিক্ষীত এডভোকেট আইয়ুব হোসেন মামলা পরিচালনা করে জিতে নির্বাচন করাচ্ছে আর সেই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা স্থানীয় সরকার কমিটির প্রতিটি সদস্যদের কাছে আকুতি মিনতি এমনকি কান্নায় জর্জরিত হয়ে তার রাজনীতির ত্যাগের কথা তুলে ধরলেও নমিনেশন বোর্ড তাকে নমিনেশন দেয়নি।অসহায় হয়ে খালি হাতে বাড়িতে যেতে হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। আজ অবহেলিত ও আদর্শিক যোদ্ধা আইয়ুবের কোন মুল্যায়ন নাই।সব জায়গায় হাইব্রিড,চামচা,ব্যবসায়ী,এমপিলীগের কাজে বন্দী মনোনয়ন।আর কত ত্যাগ করলে জুটবে দলীয় মনোনয়ন সেটা প্রশ্ন আইয়ুবের মত হাজারো রাজনৈতিক পরিক্ষীত ও আদর্শিক কর্মীর?কখন তাদের ভাগ্য আর দলের আদর্শিক যোদ্ধারা মনোনয়ন পাবেসেটা তার প্রশ্ন? আইয়ুব মেয়র প্রার্থী ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতা ও বোর্ডের সদস্যদের নিকট গিয়েছিলেন সামান্য একটা মেয়র হওয়ার জন্য কিন্তু সেই তার ত্যাগের মূল্যায়ন পায়নি।সেখানে দেওয়া হয়েছে দলের নবাগত রাজনীতিক এমপির ঘনিষ্ঠ ভাজন লোক।এমপির বাইরে লোকজন রাজনীতির মাঠে কোন পদে বা দলীয় নমিনেশন দেবে না সেটা সেই দাম্ভিকতার সাথে বলেছে। এমনকি ওয়ার্ড,ইউনিয়ন,উপজেলায় সব জায়গায় তার লোক ভালো পদে অধিষ্ঠিত।কেউ ভয়ে কোন কিছু বলেনা।সেখানে আদর্শিক ও পরিক্ষীত আওয়ামী লীগ খুবই অসহায়। দেখার কেউ নাই।সবাই ক্ষমতার নিকট জিম্মি। আইয়ুবের মত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মেয়র হলে তাদের অসুবিধা।কেননা আইয়ুবের সব বন্ধুরা সচিব,অতিরিক্ত সচিব বা ভালো পদে আছে।প্রশাসনের কর্মকর্তাগন তার নিকট কোন বিষয় নয়।এডভোকেট আইয়ুবের তো শিক্ষিত,ত্যাগী ও আদর্শিক ছাত্রনেতারা মফস্বল এলাকায় নেতৃত্বে আসলে লোকাল প্রশাসন দলীয় নেতা কর্মিকে একটু সমীহ করে চলবে।কারণ -প্রশাসনের কর্তাবাবুরা কোন না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে চাকুরীতে এসেছে।তারা আইয়ুবদের মতো কারো না কারো বন্ধু, বড় ভাই বা ছোট ভাই হবে।কাজ করা তার জন্য খুব সহজ হবে।সব বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে যেতে কোন সমস্যা হবে না।এলাকার উন্নয়ন করতে এমপির প্রয়োজন হবেনা আর জনতার নেতা হবে বলে স্থানীয় এমপি সাহেব ত্যাগী ও আদর্শিক আইয়ুবদেরকে এত ভয় পায়। আইয়ুবদের দলে বা জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে যথাযথ মূল্যায়ন হলে পরিক্ষীত আর আদর্শিক যোদ্ধারা বেশি খুশী হতাম। দলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মাননীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে নতুন উদ্যোমে এগিয়ে যেত।দল সুসংগঠিত হত আর আদর্শ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে আইয়ুবেরা আজীবন কাজ করত। লেখক: তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্র নেতা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা।
অতিথি পাখি শিকার নয়
২১ডিসেম্বর,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: শীত এলেই বাংলাদেশে আগমন ঘটে অতিথি পাখির। অতিথি পাখি অতিথিদের মতোই। এরা আমাদের মেহমানের মতো। শীত শেষ হলেই ওরা চলে যায়। বা অনেক প্রজাতির পাখি আমাদের দেশে থেকে যায়। এরা আমাদের সম্পদ। অতিথি পাখির আগমনে দেশের নদ-নদীর সৌন্দর্যকে বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়। প্রতি বছর এ সময়ে জলাশয়,বিল,হাওর,পুকুর,ভরে যায় রঙবেরঙের নাম না জানা পাখিতে। আদর করে আমরা সেগুলোকে অতিথি পাখি নামে ডাকি। নাম অতিথি হলেও এসব পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে আমাদের দেশে হাজির হয় নিজেদের জীবন বাঁচাতে। অতিথি পাখি দেখে লোকে আনন্দ পায়। এর কলকাকলিতে ভরে ওঠে পরিবেশ। পাখি আমাদের পরিবেশের অংশ। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখি শিকার না করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। কিছু অসাধু ও অসচেতন মানুষ প্রতি বছর অনেক পাখি নিধন করে। অনেকেই শখের বশে ও খাবারের জন্য পাখি শিকার করে। বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী নিয়ে নীতি থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় মানুষের হাতে মারা যাচ্ছে অনেক পাখি।- লেখক: মো.ইরফান চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক- পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন লিমিটেড।
বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে নারীর ক্ষমতায়ন একটি অন্যতম শর্ত
২০ডিসেম্বর,রবিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: গ্রামীণ জীবনে এখন নারীর ক্ষমতায়নের রূপান্তর চলছে। অর্থাৎ গ্রামীণ নারীরাও এখন জীবন উন্নয়নের রূপান্তরে সরব ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নারীদের জীবনমান পরিবর্তন হচ্ছে। আর তাতে নারীরাই সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন। আবার নারীরাই নারীদের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অংশীদার হয়ে উঠেছেন। তবে সময় এখন নারীর জীবন রূপান্তরের। সারা বিশ্ব এখন নারী উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরব। শুধু তাই নয়, নারীদের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা এসডিজি অর্জনে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে উন্নয়নকে টেকসই করতে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে হবে। কৃষিক্ষেত্র ও গৃহস্থালি থেকে শুরু করে সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণ এখন অনেক বেড়েছে। নারীর এ অবদানকে পরিপূর্ণ মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। নারীর অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, নারীর সক্ষমতা বাড়ানো, স্বাবলম্বী করা এবং নারীর নিজের ভাগ্য নিজেরই গড়ার সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের মূল ধারায় নারীদের যুক্ত করতে হবে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং সব প্রতিষ্ঠানকে আরও সম্পৃক্ত হয়ে সহযোগী মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সমাজে নারীর অধিকার নিশ্চিতে আইনের ইতিবাচক প্রয়োগ হচ্ছে। শুধু আইন দিয়ে নয়, মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনে আরও সচেষ্ট হতে হবে। গ্রাম্য সমাজে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক আবহে নারীর অবদান এখন দৃশ্যমান। তবে সামগ্রিক উন্নয়নে আরও অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। অতীতে পারিবারিক কাজে পুরুষের নির্দিষ্ট কিছু ভূমিকা ছিল। বর্তমানে সেসব কাজেও নারীরা সমতালে অংশ নিচ্ছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। এ অর্থে নারীর উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। নারীরা যেসব ক্ষেত্রে শ্রম দিচ্ছেন তাদের সব ধরনের শ্রমের স্বীকৃতি দিয়ে দেশের উন্নয়নকে ভিন্ন মাত্রায় ত্বরান্বিত করা সম্ভব। দেশের উন্নয়নের ধারায় নারীদের সংখ্যা আরও ইতিবাচক করতে কাজ করার অবকাশ আছে। এখন বাংলাদেশের গ্রামীণ নারী সমাজের সর্বত্র উন্নয়ন দৃশ্যমান। সমাজ এবং অর্থনীতিতে নারীর ভূমিকা সরব। গ্রামীণ নারী সমাজে সমঅধিকার, নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। ঘরোয়া কাজে নারীর অবদান স্বীকৃতির মাধ্যমে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করা সম্ভব। দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান উৎপাদনে বাংলাদেশের উন্নয়নের নারী এখন চালিকা শক্তি। তাদের সামর্থ্য বাড়ানোর সুযোগ করে দিতে হবে। গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। যদি গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় নারীর সব ধরনের বৈষম্য দূর করা যায় তাহলে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা সম্ভব। অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী অর্মত্য সেন বলেছিলেন, মানব সূচক উন্নয়নে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের নারীরা অনেক এগিয়েছে। এটি জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব আনবে। তাছাড়া দেশের শীর্ষ কর্মপদে বাংলাদেশ নারীদের ক্ষমতায়ন দৃশ্যমান করেছে। এটিরও একটি শুভ প্রভাব অনিবার্য। সাহস, যোগ্যতা, আত্মসম্মানবোধ ও সুশিক্ষার মাধ্যমে গ্রামীণ নারী তার নিজের সমযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করছে। নারীকে পুরুষের মত সমসুযোগ ও নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে পারলেই অর্থনৈতিক মুক্তি সুনিশ্চিত। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়ন একটি অন্যতম শর্ত। কোরানে কারিমে নারীর প্রতি অত্যন্ত সম্মান দেখিয়ে নারী নির্যাতনকারীকে ঘৃণ্য অপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যেসব কারণে নারীরা সমাজে নির্যাতিত হয়, সেসব থেকে বিরত থাকতে মুসলমানদের আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন। নারী নির্যাতনকারীকে প্রতিরোধ করার কথাও আলেমরা বলে থাকেন। দেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসবের মূলে রয়েছে নারীর প্রতি মমত্ববোধ, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার অভাব। ক্ষেত্রবিশেষে নারীর সম্পদের মোহ ও লালসা মানুষের অন্তরকে লোভাতুর করে তোলে। এ কারণে নির্যাতনের শিকার হতে হয় নারীকে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানা উপায়ে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন চলছে। ধর্ষণ, নারী পাচার, এসিড নিক্ষেপ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্তের শিকারসহ নানা উপায়ে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে। ইসলাম পরিপন্থী এসব লোমহর্ষক নির্যাতন বন্ধের উপায় খুঁজে বের করে সমস্যার সমাধানে ধর্মপ্রাণ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চেষ্টা চালানো খুবই জরুরি। নারী নির্যাতন বন্ধে অভিভাবক মহলের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা দরকার। সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে যে, নারী-পুরুষ মিলে যে ঘর-সংসার, বহু ঘর নিয়ে যে মুসলিম সমাজ, সেখানে প্রত্যেকেরই গুরুত্ব, মর্যাদা, অধিকার ও ভূমিকা রয়েছে। ইসলামি জীবনদর্শনে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধে পবিত্র কোরানের সুরা আন নুর-এ আল্লাহ তায়ালা যে সুন্দরতম সামাজিক বিধিবিধান দিয়েছেন, তা অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ। আল্লাহ নির্দেশিত এসব বিধান যথাযথভাবে কার্যকর হলে নারী নির্যাতন চিরতরে বন্ধ হবে এবং মানবজীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হবে। সুতরাং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ইসলামের সামাজিক বিধিবিধানের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার করতে সমাজের ধর্মীয় নেতাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। কোন পথে সমস্যার সমাধান। ইসলাম দ্বান্দ্বিকতাকে সমর্থন করে না; বরং সব দ্বান্দ্বিকতার সুষম সমাধান দিয়ে শান্তিময়তার নিশ্চয়তা বিধান করে। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ একজন আরেকজনের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক। এ অপূর্ণতা নিরসনে একজনকে আরেকজনের পরিপূরক করে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ সম্পর্কের ভিত্তি টানাহিঁচড়া, দর কষাকষি ও দ্বান্দ্বিকতা নয়; এ সম্পর্ক হলো প্রেমময় ভালোবাসার। এখানে নির্যাতন, অবজ্ঞা ও অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।- লেখকঃ সাবরিন জেরিন, সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সহ সম্পাদক, নিউজ একাত্তর ডট কম।

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর