লেবাননের বিস্ফোরণে নিখোঁজ রাশেদের মৃতদেহ মিলল হাসপাতালে
১০আগস্ট,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর যে বাংলাদেশি নিখোঁজ ছিলেন তাকে একটি হাসপাতালে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা জানানো হয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ রাশেদ। বাংলাদেশি শ্রমিক মোহাম্মদ রাশেদ বিস্ফোরণের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন, জানিয়ে দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সেরি ও ফার্স্ট সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাকে হারুন হাসপাতালে শনিবার মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। রাশেদের পাসপোর্টের তথ্য থেকে জানা গেছে, তিনি নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। বৈরুতে গত মঙ্গলবার ভয়াবহ দুটি বিস্ফোরণ হয়। এই ঘটনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ সদস্যসহ মোট ১০৮ জন প্রবাসী আহত হন। মারা গেছেন ৫ জন। আহত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশটির তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় বিভিন্ন দেশের ১৫৮ জন নিহতের পাশাপাশি ৬ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এমন দুর্ঘটনার জন্য দেশটির সাধারণ মানুষ সরকারকে দায়ী করে রাস্তায় নেমেছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন লেবানিজ আর্মির অবসরপ্রাপ্ত কয়েক জন অফিসার। তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দখলের ঘোষণাও দিয়েছেন।
মানবিক সংকটের মুখে লেবানন: জাতিসংঘ
০৯আগস্ট,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে খাদ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া ও দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে দেশটিতে মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করছে জাতিসংঘ। খবর বিবিসি। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, লেবানন প্রায় ৮৫ শতাংশ খাদ্যশস্য আমদানি করে। সংস্থাটি এরই মধ্যে বৈরুতবাসীর জন্য পাঁচ হাজার প্যাকেট খাদ্যদ্রব্য পাঠিয়েছে। প্রতি প্যাকেটে পাঁচ সদস্যের পরিবার একমাস চলতে পারবে। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, লেবাননের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিস্ফোরণের কারণে আরো ভেঙে পড়েছে। বিস্ফোরণে তিনটি হাসপাতাল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ডব্লিউএইচওর গুদামে রাখা ১৭ কনটেইনার ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামও বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে গেছে। বহিঃসংশ্লিষ্টতার সন্দেহ প্রেসিডেন্টের: বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাইরের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা দেখছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন। বিস্ফোরণটির সঙ্গে বোমা হামলা বা বাইরের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখার কথা বলেছেন তিনি। স্থানীয় গণমাধ্যমে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, বিস্ফোরণের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রকেট বা বোমা অথবা অন্য তত্পরতার মধ্য দিয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ থাকতে পারে এতে। তবে বিস্ফোরণের কারণ গাফিলতি কিংবা দুর্ঘটনা কিনা, তা-ও দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্টের দেয়া এ বক্তব্য নিশ্চিত করেছে তার কার্যালয়। ক্ষোভে ফুঁসছে লেবাননবাসী: লেবাননের কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের জন্য বন্দরের গুদামে হাজার হাজার টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিরাপদে না রাখাকে দুষছেন। বিপজ্জনক এ পদার্থের গুদাম নিরাপদে কেন রাখা হলো না? এর জন্য দায়ী কে? এমন নানা প্রশ্নের জবাব চেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফুঁসছে লেবাননবাসী। প্রেসিডেন্ট আউন এর আগে বলেছিলেন, মারাত্মক বিস্ফোরক পদার্থ বন্দরের গুদামে অনিরাপদভাবে বছরের পর বছর ধরে মজুদ করে রাখা হয়েছিল। প্রাথমিক একটি তদন্তে ওই বিস্ফোরকের মজুদ নিয়ে গাফিলতিকে দোষারোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। আগের অবস্থায় ফেরার আশা নেই: লেবাননে বিস্ফোরকের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত রাজধানী বৈরুতে তছনছ হয়ে যাওয়া জীবন আবার আগের অবস্থায় ফেরার আশা দেখছেন না অসহায় হয়ে পড়া বাসিন্দারা। গত মঙ্গলবার বৈরুতের বন্দর এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে শহরটির অর্ধেকই ধূলিসাৎ হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪৫ জন। লাখো মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে খাদ্যদ্রব্যের মজুদ। যতদূর চোখ যায় কেবল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ধ্বংসস্তূপ। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার নিজেদের বাড়িঘর নতুন করে তোলার চেষ্টা করছে বৈরুতবাসী। কিন্তু আগের অবস্থা আর ফিরে পাওয়ার আশা নেই অনেকের। কেবল বৈরুতের বাসিন্দারাই নন, বিশ্লেষকরাও বলছেন, এ নগরী আর কখনই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের সহযোগী অধ্যাপক করিম মাকদিসি বলেন, বিস্ফোরণের পর বৈরুত আবার সেই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে আমি মনে করি না। বিশ্বের সঙ্গে লেবাননের যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
কেরালার প্লেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ২০
০৮আগস্ট,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের কেরালার কোঝিকোড় বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি এক্সপ্রেস প্লেন। ১৮৪ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রুসহ দুবাই ফেরত ফ্লাইটটি অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে খাদে পড়ে দুই টুকরো হয়ে যায়। এতে দুই পাইলটসসহ ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী। শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস-সহ ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো। বিজেপির সংসদ সদস্য কে জে আলফন্স প্রথম টুইটে জানান, পাইলটসহ একজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। পরে পুলিশ ২০ জন নিহত হওয়ার খবর জানায়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সিভিল অ্যাভিয়েশন রেগুলেটর ডিজিসিএ এর ডিরক্টরেট জেনারেল অরুণ কুমার বলেন, এটা দুবাই থেকে কোঝিকোডে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি এক্সপ্রেস ফ্লাইট ছিল। অতিরিক্ত গতির ল্যান্ডিংয়ের কারণে রানওয়ে থেকে ছিটকে খাদে পড়ে প্লেনটি। এটি দুই খণ্ড হয়ে ভেঙে পড়লেও আগুন ধরেনি। যেটা জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়ায়। আমাদের উদ্ধারকারী দল এখনো ঘটনাস্থলে রয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা বের করার চেষ্টা চলছে। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে রানওয়েতে অবতরণের সময় ছিটকে পড়ে প্লেনটির সামনের দিকটি প্রায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। প্লেনটি বন্দে ভারত প্রকল্পের অংশ যা করোনা ভাইরাস মহামারির সময়ে বিদেশ থেকে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার উদ্দেশে চলাচল করছে। সিভিল অ্যাভিয়েশন রেগুলেটর ডিজিসিএ বলছে, দুর্ঘটনার সময় প্লেনটি রানওয়ে থেকে ছিটকে ৩০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। ফ্লাইটটিতে ১৭৪ জন্য পূর্ণবয়স্ক, ১০ জন শিশু, দুই জন পাইলট ও চারজন ক্রু ছিল। যদিও প্রথমে সব মিলিয়ে ১৯২ জন ছিল বলে জানায় সংবাদ মাধ্যমগুলো। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। পাইলট উইং কমান্ডার দীপক বসন্ত শেঠ ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফাইটার প্লেনের সাবেক পাইলট ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন ক্যাপ্টেন অখিলেশ কুমার। দুজনই এ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলেও এটির রানওয়ে আকারে খুব বড় নয়। এমনকী রানওয়ের শেষ প্রান্তেও জায়গা কম। এ কারণে অনেক বড় এয়ারক্রাফট এই বিমানবন্দরে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রেখেছে নিরাপত্তাজনিত কারণে। প্লেনটি অবতরণের আগে কয়েকবার আকাশে চক্কর দেয় বৈরী আবহাওয়ার কারণে। দুর্ঘটনার পর ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী, দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় নৌকাডুবিতে ৭ উদ্ধারকর্মী নিহত
০৭আগস্ট,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দক্ষিণ কোরিয়ায় বন্যার পানিতে নৌকা উল্টে গিয়ে সাতজন উদ্ধারকর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা ইওনহাপের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। খবর রয়টার্স। গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা ও ভূমিধস হয়েছে। নতুন করে আরো বন্যা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু অংশে টানা ৪৪ দিন ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ২০১৩ সালের পর এটা সবচেয়ে দীর্ঘ বর্ষা মৌসুম। ইওনহাপ সংবাদ সংস্থা জানায়, গতকাল উদ্ধারাভিযান চালানোর সময় রাজধানী সিউলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চুনচেওন শহরে তিনটি নৌকা উল্টে যায় এবং স্রোতে ভেসে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নৌকার কিছু আরোহী নিখোঁজ রয়েছে এবং এখনো হতাহতের খবর নিশ্চিত হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছে ১১ জন। গত কয়েক দিনেই ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সিউলের হান নদী পানিতে ফুলেফেঁপে উঠেছে। ফলে বেশ কয়েকটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। নদীপথের কিছু মহাসড়কও বন্ধ করা হয়েছে। বুধবার কিছু বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চুং সাই-কিয়ু। বেশ কয়েকটি প্রদেশকে বিশেষ দুর্যোগ অঞ্চল ঘোষণার পরামর্শকে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। ইওনহাপ বলছে, শুক্রবারের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। চিহ্নিত অঞ্চলগুলোতে অধিক সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে- ইসাইয়াস তাণ্ডবে ৮ জনের মৃত্যু
০৬আগস্ট,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ কারোলিনায় ভয়াবহ হারিকেন ইসাইয়াসের তাণ্ডবে অন্তত ৮ হনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রায় ২৭ হাজার বাসিন্দা। বাংলাদেশ সময় বুধবার (৫ আগস্ট) ভোরে হারিকেনটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার- এনএইচসির বরাত দিয়ে আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘণ্টায় ১০৫ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানা এ হারিকেন নিউ ইয়র্ক, নিউজার্সি, ফিলাডেলফিয়ায় তাণ্ডব চালায়। যেখানে অসংখ্য গাছপালা শিকড় উপড়ে পড়ে। এতে করে বেশ কিছু জায়গায় সাময়িক বন্ধ রয়েছে রেলসেবা। এদিকে, প্রবল বৃষ্টিপাতে হাডসন নদীর অববাহিকায় থাকা অসংখ্য মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। নিউজার্সি ট্রানজিটসহ কিছু স্থানে বন্ধ রয়েছে ফেরি ও রেল যোগাযোগ। এমতাবস্থায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় গভর্নর। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করার পর শক্তি কমে এটি একটি ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হয়েছিল। পরে ফের শক্তি সঞ্চয় করে, এক মাত্রার হারিকেনে পরিণত হয়ে এটি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ও সাউথ ক্যারোলিনার দিকে বয়ে যায়। উল্লেখ্য, চলতি বছর এই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নয়টি ঘূর্ণিঝর আঘাত হানল। করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে নতুন আরেক বিপর্যয়ের মুখে পড়ল দেশটি।
সেই রায়হান কবিরকে ৩১ অগাস্ট ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া
৫আগস্ট,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারীর মধ্যে অভিবাসীদের প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় সেখানে গ্রেপ্তার রায়হান কবিরকে অগাস্টের শেষে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বুধবার মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক খায়রুল দিজাইমি দাউদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সেদেশের গণমাধ্যম। এক সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্যের বরাতে এদিন মালয়েশিয়া গেজেট ও দ্য স্টার জানিয়েছে, মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশের পরবর্তী ফ্লাইট যাবে ৩১ অগাস্ট। সেই ফ্লাইটে তাকে পাঠানো হতে পারে। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতি মালয়েশিয়ার সরকারের আচরণের সমালোচনা করে আল-জাজিরার তথ্যচিত্রে দেওয়া সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর ২৪ জুলাই রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৩ জুলাই আল জাজিরা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ওই প্রামাণ্য প্রতিবেদনে মহামারীর মধ্যে অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন রায়হান কবির। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, মহামারীর মধ্যে অবৈধ শ্রমিকদের আটক ও জেলে পাঠানোর মাধ্যমে মালয়েশিয়া সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এটা কোনো মানবিক আচরণ হতে পারে না। তবে দেশটির সরকারের কর্মকর্তারা আল জাজিরার ওই খবর ভুল, বিভ্রান্তিকর এবং অন্যায্য বলে দাবি করেন। ওই প্রতিবেদন সম্প্রচারের পর দেশটিতে ক্ষোভের সঞ্চার হলে রায়হানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ আল জাজিরার সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদে তলব করার পর মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ তুলেছে, দেশটির সরকার গণমাধ্যমের প্রতি দমনমূলক আচরণ করছে। রায়হানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবির মধ্যে বুধবার তাকে ফেরত আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছে ২৫ বছর বয়সী এই অভিবাসীর পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাউদ বলেন, রায়হান কবিরের বিষয়ে তদন্ত শেষ করে করেছে পুলিশ এবং তদন্ত প্রতিবেদন পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তার ভ্রমণের পাস বাতিল করা হয়েছে। তদন্ত চূড়ান্ত হলে আমরা তাকে বাংলাদেশে পাঠাব। ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি রায়হানকে মালয়েশিয়ায় কালো তালিকাভুক্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রধান। এর ফলে রায়হান পরে আর কখনও মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবেন না বলে জানান দাউদ।
বেঁচে আছি, বিশ্বাসই হচ্ছে না
৫আগস্ট,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেশ অনেকদিন ধরেই লেবাননের পরিস্থিতি ঘোলাটে। সরকারের নানা অনিয়মের প্রতিবাদের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকটের দ্রুত সমাধান চেয়ে মানুষ সড়কে নেমেছে বারবার। এরমধ্যে বেশ কয়েকবার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এসবের মধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সাদ হারিরি পদত্যাগ করেন। এতে কোনো সমাধান তো আসেইনি উল্টো অর্থনৈতিক সংকট দেশটিকে যেন একেবারে গলাটিপে ধরেছে। সংকট যখন পিছু ছাড়ছে না এমন সময়ে মঙ্গলবারে (০৪ আগস্ট) বৈরুতে বিস্ফোরণ দেশটির অর্থনীতিতে যে বাজে প্রভাব ফেলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিভ্রান্তিকর, বিধ্বংসী এবং সর্বনাশা এ বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত ৭৮ জনের প্রাণ গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আর এতে আহত হয়েছেন আরও ৪ হাজারের মতো মানুষ। পুরো শহরজুড়ে এবং বাইরেও অনুভূত হওয়া বৈরুত বন্দরের এ বিস্ফোরণের প্রত্যক্ষদর্শী-ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। বৈরুতের বাসিন্দা নাদা হামজা তাদের মধ্যে একজন। তিনি যে বেঁচে আছেন এটাই এখন তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি একটি বৈদ্যুতিক স্থাপনার মাত্র কয়েক মিটার দূরে ছিলাম। বিস্ফোরণের সময় আমি গাড়ি থেকে দ্রুত বের হয়ে গেলাম এবং দৌড়ে একটি ভবনের প্রবেশদ্বারে পৌঁছানোর পর মনে হলো, ভবনটি ধ্বংস হয়ে গেছে পুরোপুরি। এরপর আমি বারবার বাবা-মাকে কল করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আমি যে এখনো বেঁচে আছি তা বিশ্বাস করতে পারছি না। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের সহযোগী অধ্যাপক নাসের ইয়াসিন বিস্ফোরণের সময় বৈরুতের বাইরে ছিলেন। বিস্ফোরণ এতই শক্তিশালী ছিল যে তার কাছে মনে হয়েছে ঘটনা ঘটেছে কাছে কোথাও। তিনি বলেন, আমরা প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভব করলাম। এটি ছিল ভয়ংকর। আগে কখনো এমন ভয়ংকর দৃশ্য দেখিনি। আমি গৃহযুদ্ধ, ইসরায়েলি আক্রমণের মধ্যে জীবন কাটিয়েছি। আমার অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে বলতে পারি, এটি লেবাননে হওয়া সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ। আমরা এখনো জানি না কী ঘটেছে। তবে, এটি যে বড় কোনো ঘটনার ইঙ্গিত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশটির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মাদ খলিফা। আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করার জন্য ঘটনার পর ছুটে গেছেন হাসপাতালে। বিস্ফোরণের সময় তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন বলে জানান। তিনি বলেন, আমি পরিবারের সদস্যদের বললাম ভূমিকম্প হচ্ছে, তোমরা নিজেদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা করো। বলতে না বলতেই সবকিছু ধসে পড়লো। আমি কোনোক্রমে এ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে দ্রুত হাসপাতালে চলে এসেছি আহতদের সাহায্য করতে। সাবেক ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা খালেদ হামাদি এ ঘটনাকে বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনি প্রায় এক কিলোমিটারের মতো দূরে ছিলেন। তিনি বলেন, এটা বিপর্যয় ছাড়া আর কিছু নয়। বিভিন্ন সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে টুকরো টুকরো জানালার কাচ। যেখানে-সেখানে বহু লোকজন আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। সবকিছু মিলিয়ে আমাকে গৃহযুদ্ধের শেষদিনের কথা মনে করিয়ে দিল। আহত একজনের পুরো শরীরই রক্তমাখা। তিনি বলেন, কী হয়েছে আসলে পুরোপুরি বুঝতে পারিনি। আমি জানি না আসলে কী ঘটেছে। আমি মাছ ধরছিলাম। শুনলাম কোথায় নাকি আগুন লেগেছে। তাই বাড়ির দিকে গেলাম দ্রুত, শুনতে পেলাম বিস্ফোরণের শব্দ। এরপর দেখি আমি আহত। এদিকে বিস্ফোরণের কারণে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন। একইসঙ্গে তিনি মনে করেন, দেশে দুই সপ্তাহের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা উচিত। অপরদিকে ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের কারণ যাই হোক না কেন, এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব।
চীন-তাইওয়ান একত্রিত হবেই, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি চীনের
০৪আগস্ট,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তাইওয়ানের সঙ্গে সামরিক মহড়ার জন্য সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় চীনের সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা কর্নেল রেন গুয়োকোয়াং যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র তার ভুল শুধরে নেবে এবং একই ভুল বারবার করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের পদক্ষেপ 'দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও জানান তিনি। ১ আগস্ট বেইজিংয়ে প্রেস কনফারেন্সে রেন গুয়োকোয়াং আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ যা এ অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করবে। এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভুল এবং খুবই বিপজ্জনক। যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা উচিত চীন অবশ্যই একত্রিত হবে (তাইওয়ানের সাথে), এবং চীনা জাতির মহান জাতীয় পুনরুজ্জীবন অবশ্যই অর্জিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপ খুব ভুল বার্তা পাঠাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ একক চীনের নীতিকে লঙ্ঘন করেছে। কর্নেল রেন গুয়োকোয়াং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এসপারকে দাম্ভিক বলেও আখ্যা দেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় উপকূলে ৭জন মেরিন সেনা নিখোঁজ
০৩আগস্ট,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন বাহিনীর ৭ সদস্য ও ১ জন নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন। তারা সকলেই নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করে তল্লাশি তৎপরতা বন্ধ করা হয়েছে। খবর ভয়েস অব আমেরিকার। জানা যায়, এসব মেরিন সেনারা একটি উভচর যানে প্রশিক্ষণে ছিলেন। যানটিতে পানি ঢকে ডুবে গেলে প্রশিক্ষণরত ১৫জনের মধ্যে ৮জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কমান্ডিং অফিসার ক্রিস্টোফার ব্রনজি এক বিবৃতিতে জানান, দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে আমাকে এই উদ্ধার মিশনের সমাপ্তি টানতে হচ্ছে। আমাদের মেরিন ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা অভাবনীয় উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছিলেন। তবে আমরা এদেরকে রক্ষা করতে পারিনি।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর