শুক্রবার, মে ২৯, ২০২০
করোনা: ইন্টারনেট মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে উঠেছে
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে যখন সবকিছু বন্ধ তখন ইন্টারনেট হয়ে উঠেছে মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। আমরা আমাদের দাপ্তরিক কাজ ও পড়াশোনার জন্য এখন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। এমনকি কাউকে দেখতে চাইলেও আমাদের এ প্রযুক্তির শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। আমাদের বিনোদনের প্রাথমিক উৎসও এখন ইন্টারনেট। এ সময়ে ইন্টারনেটে আমরা প্রচুর সময় ব্যয় করছি। জানুয়ারি থেকে মার্চের শেষ ভাগ পর্যন্ত বড় শহরগুলোতে ইন্টারনেট ট্রাফিক প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেড়েছে। নির্দিষ্ট কিছু অনলাইন সেবাদান প্রতিষ্ঠানের চাহিদা আকাশ ছুঁয়েছে। সহকর্মী, পরিবার ও বন্ধুদের সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার জায়গা নিয়েছে ভিডিও কল। পুরো ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালের প্রথম দুই মাসে অনেক বেশি মানুষ ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার জুম ব্যবহার করছে। ঘরে অবস্থানকালে বিনোদনের চাহিদাও অনেক বেড়েছে। রেকর্ডসংখ্যক মানুষ এখন জনপ্রিয় অনলাইন পিসি গেম স্টোর স্টিম ব্যবহার করছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এর ব্যবহার বেড়েছে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। এমনকি অনলাইন মুদি দোকানগুলো তাদের ব্যবসা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্রাহককে ভার্চুয়াল লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইন্টারনেট কি তবে তার ইতিহাসের সবচেয়ে আকস্মিক উল্লম্ফন দেখছে? এখানে কিছু প্রতিবন্ধকতাও তৈরি হয়েছে। ওয়াইফাইয়ের গতি কমে গেছে, ওয়েবসাইটগুলো চাপ নিতে পারছে না এবং ভিডিও কল কেটে যাচ্ছে। তবে এসব ছোটখাটো দুর্ঘটনা ছাড়া ইন্টারনেট দারুণভাবে তার কাজ করছে। অবশ্য ইন্টারনেট এ পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে সংগ্রাম করছে বলে মনে করেন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেডের বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ রোগান। পাশাপাশি যত বেশি আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করব, তত বেশি বিভ্রান্তি আমাদের চোখে পড়বে। যদিও আপনি কেবল সংক্ষিপ্ত ও স্থানীয় প্রভাবগুলো দেখতে পাবেন, বিস্তৃত প্রভাবগুলো না। সামগ্রিক ব্যবহারের পাশাপাশি, আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারনেট ব্যবহার করছি। অফিসের কাজ শেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহারের যে সূচি তা এখন দুনিয়াজুড়ে বদলে গেছে। এখন দুপুরের খাবারের আগে থেকেই ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ ব্যবহার দেখা যাচ্ছে, বলেছেন ক্লাউডফ্লেয়ারের সিইও ম্যাথিউ প্রিন্স। যদিও এটা কেন হচ্ছে, তা পরিষ্কার নয়। হতে পারে ভার্চুয়াল মিটিং অথবা ক্লাসরুমে অনেক সময় দিতে হচ্ছে। ক্লাউডফ্লেয়ার বলছে, ইতালিতে ইন্টারনেটের ব্যবহার ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে, যেখানে আগে থেকেই ইন্টারনেটের বহুল ব্যবহার সেখানে এই পরিবর্তনটি কম। অবশ্য উল্লেখ করা প্রয়োজন দক্ষিণ কোরিয়া করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ইতালির চেয়ে বহুগুণ সফল। তাই হয়তো দেশটিতে মহামারীজনিত এই ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি পায়নি। ক্লাউডফ্লেয়ারের দেয়া উপাত্তগুলো দেখাচ্ছে কীভাবে মানবিক কার্যকলাপ সিটি সেন্টারকে পেছনে ফেলেছে এবং শহরতলিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এ উপাত্ত বলছে, ফেব্রুয়ারি ১৯ থেকে মার্চের ১৮ তারিখের মাঝে দিনের বেলা ইন্টারনেটের ব্যবহার কীভাবে বদলেছে। এর আগে-পরে অনেক মানুষ ঘরে বসে কাজ শুরু করেছে। আরবান হাবগুলো লাল হয়ে গেছে, যার অর্থ ইন্টারনেটের ব্যবহার কমেছে। অন্যদিকে চারপাশে তৈরি হয়েছে সবুজ রঙের বলয়, যা ব্যবহার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আকস্মিকভাবে চাহিদা বাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট মার্কেটের জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন তদবির করার পর চাপ এড়াতে নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, ফেসবুকসহ ভিডিও স্ট্রিমিং কোম্পানিগুলো ভিডিও চিত্রের মান কমিয়ে দিতে সম্মত হয়। মূলত ভিডিও অ্যাকাউন্টগুলো ইন্টারনেট ট্রাফিকের জন্য অর্ধেকের বেশি দায়ী। ট্রাফিকের কারণে সৃষ্ট চাপের বাইরে আরো দুটি কারণে ইন্টারনেটের ওপর চাপ তৈরি হয়। একটি হচ্ছে স্থানীয় যে ডাটা সেন্টার থেকে আপনি বাসায় সংযোগ নিচ্ছেন তারা সাধারণত দুর্বল হয়ে থাকে। যাদের অনেকেই পুরনো কেবল ব্যবহার করে। অনেক ক্ষেত্রে টিভির জন্য তৈরি করা কেবলগুলো এখানে ব্যবহার করা হয়। যে কারণে ভিডিওগুলো দুর্বল দেখা যায়। পাশাপাশি এর ব্যান্ডউইডথও থাকে অনেক কম। যা কিনা কাজের গতিকে অনেক কমিয়ে দেয়। এছাড়া আশপাশের অনেকেই যখন একসঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তখন এর ওপর বেশ চাপও তৈরি হয়। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে কোম্পানিগুলোকে এখন একাধিক অবস্থান থেকে ট্রাফিক পরিচালনা করতে হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ ড্রপবক্স দিয়ে হাজারো ব্যবহারকারীকে সহজেই সংযুক্ত করা যায়, যখন কিনা তারা একই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অথবা অফিস বিল্ডিংয়ে থাকে। তখন সব কার্যক্রম একটিমাত্র উচ্চগতির সংযোগ দ্বারা পরিচালনা করা যায়। কিন্তু এখন সেই সব হাজারো ব্যবহারকারী সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা কয়েকশ ভিন্ন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে।বণিক বার্তা। এসব ছোটখাটো সমস্যার পরও ইন্টারনেট দুনিয়াজুড়ে ভালোভাবেই তার কাজ করছে। এজন্য আমরা শিল্প বিপ্লবকে ধন্যবাদ দিতে পারি। দুই দশক আগেও ইন্টারনেটে মানুষের বাণিজ্যিক আগ্রহ ছিল সামান্য। যার অর্থ হচ্ছে এর অবকাঠামো প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে গেছে। একটি বড় সংবাদ সবকিছুকে বদলে দিতে পারে। ইন্টারনেটে এখন অনেক ইন্ডাস্ট্রি একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গেছে। কমকাস্টের মতো টেলিকম কোম্পানি, কন্টেট তৈরির জন্য নেটফ্লিক্স, রিটেইল জায়ান্ট অ্যামাজন, ভার্চুয়াল স্টোরেজ সরবরাহকারী ড্রপবক্স শক্তিশালী সার্ভার ব্যবহারের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। যার ফলে সক্ষমতা, গতি ও পারফরম্যান্স সবকিছুই বেড়েছে। ইন্টারনেটের এ বাণিজ্যিকীকরণ নেটওয়ার্কের একটি শক্তিশালী জাল তৈরি করেছে, যা দারুণভাবে কাজ করছে। ক্লাউড পরিষেবা দ্বারা পরিচালিত নেটফ্লিক্স ও ড্রপবক্সের মতো কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রম অনেক দ্রুতগতির করেছে। যখন চাহিদা বাড়ছে তখন বাড়তি সার্ভার ব্যবহার করা হচ্ছে। কভিড-১৯-এর কারণে এটি বিস্তৃত হয়েছে। তবে এর বাইরে কিছু সমস্যাও আছে। ইন্টারনেটের এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজে মানুষের স্পর্শের প্রয়োজন হচ্ছে। যেখানে সার্ভার বদলে দেয়া বা ঠিক করার প্রয়োজন হচ্ছে। যা কিনা কেবল ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষে সম্ভব। কিন্তু লকডাউন অবস্থায় এ কাজগুলো করা এখন বেশ কঠিন। এছাড়া সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়লে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও হার্ডওয়্যার পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। চীন হচ্ছে অপটিক্যাল ফাইবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যারের সবচেয়ে বড় উৎপাদক। এখন সাপ্লাই বন্ধ হয়ে গেলে, তা বিশ্বের অনেক জায়গায় ইন্টারনেট সেবাকে বাধাগ্রস্ত করবে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোর জনসাধারণকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে। কিন্তু সবকিছু মিলিয়ে চিন্তা করলে ইন্টারনেট বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী ও তাত্পর্যময় রূপ নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে।
টাকাতেও এক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে করোনাভাইরাস
0৮এপ্রিল,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাস থেকে দূরে থাকতে সাধারণ মানুষ একের পর এক উপায় খুঁজে বের করছেন। কখনো মাস্ক কখনো আবার গ্লাভসের সহায়তা নিচ্ছেন। এদিকে করোনা থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিভিন্ন দেশের প্রশাসনগুলো। এমন পরিস্থিতিতে হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণা উঠে এলো। টাকার নোটে এক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে করোনাভাইরাস। এমনকি ব্যাংক থেকে আসা নতুন টাকাতেও একদিন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের বেঁচে থাকার সম্ভবনা বেশি। অন্যদিকে, মাস্কে সাতদিন পর্যন্ত করোনাভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে। এমনই তথ্য দিচ্ছে হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের গবেষণা। হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা বলছে, করোনাভাইরাস কাপড়ে সেভাবে বাঁচে না। তবে, কাপড় পরিষ্কার রাখা ও ধুয়ে রাখা জরুরি। গবেষকদের দাবি, সিজনড কাঠের ত্বকেও সেভাবে বাঁচে না করোনা। তবে সবকিছুই নির্দিষ্ট সময় পর ধুয়ে মুছে রাখা ভালো বলে মত তাদের।সূত্র,দেশে বিদেশে। এদিকে, হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের দাবি, টাকায় একদিন করোনাভাইরাস বাঁচলেও টিস্যু পেপারে তিন ঘণ্টার বেশি বাঁচতে পারে না কোভিড-১৯ রোগের ভাইরাস। এমনকি প্রিন্টেড কোনো কাগজেও ৩ ঘণ্টার বেশি করোনা বাঁচবে না বলে মত বিজ্ঞানীদের।
হোম কোয়ারেন্টিনে যে আমলগুলো করা যায়
২৭মার্চ,শুক্রবার,ইসলামী জীবন,নিউজ একাত্তর ডট কম: ধৈর্য ও নামাজ : নামাজের মাধ্যমে বেশি বেশি বিপদ থেকে পরিত্রাণ প্রার্থনা করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৪৫) ইস্তিগফার : দুনিয়ায় আমাদের ওপর বিপদাপদ আসার অন্যতম কারণ আমাদের গুনাহ। আমাদের কৃতকর্মের ফল হিসেবেই কখনো কখনো আমাদের ওপর বিভিন্ন বড় ধরনের বিপদ আসে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর তোমাদের প্রতি যে মুসিবত আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর অনেক কিছুই তিনি ক্ষমা করে দেন। (সুরা : শুরা, আয়াত : ৩০) মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, নিজেদের ক্ষমতাবান ভাবতে শুরু করে এবং দুর্বলদের ওপর প্রভুত্ব কায়েম করতে চায়, তখনই মহান আল্লাহ বিভিন্ন আজাব দিয়ে মনে করিয়ে দেন, মানুষ কতটা দুর্বল। অতীতে বহু জাতিকে এ ধরনের অভ্যাসের কারণে মহান আল্লাহ আজাব দিয়ে শাস্তি দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ফেরাউনের বংশ ও তাদের আগের লোকদের আচরণের মতো তারা আল্লাহর আয়াতগুলো অস্বীকার করেছে, ফলে তাদের পাপের কারণে আল্লাহ তাদের পাকড়াও করেছেন। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিশালী, কঠিন আজাবদাতা। (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৫২) কিন্তু বান্দা যখন তার ভুল স্বীকার করে মহান আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, তাওবায় লিপ্ত হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাকে আজাব থেকে রক্ষা করেন। মহান আল্লাহ বলেন, আল্লাহ তাদের আজাব দানকারী নন, এমতাবস্থায় যে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করছে। (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৩৩) আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হলো, তখন নবী (সা.) ভীত অবস্থায় উঠলেন এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয় করছিলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে আসেন এবং এর আগে আমি তাঁকে যেমন করতে দেখেছি, তার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কিয়াম, রুকু এবং সিজদা সহকারে নামাজ আদায় করলেন। আর তিনি বললেন, এগুলো হলো নিদর্শন, যা আল্লাহ পাঠিয়ে থাকেন, তা কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। বরং আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। কাজেই যখন তোমরা এর কিছু দেখতে পাবে, তখন ভীত অবস্থায় আল্লাহর জিকির, দোয়া এবং ইস্তিগফারের দিকে ধাবিত হবে। (বুখারি, হাদিস : ১০৫৯) জিকির : সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্য থেকে অন্যতম নিদর্শন। এগুলো দেখা দিলে রাসুল (সা.) ভীষণ চিন্তিত হয়ে যেতেন। লম্বা কিরাত ও সিজদায় নামাজ পড়তেন। এবং সাহাবায়ে কেরামকে এই মুহূর্তগুলোতে বেশি বেশি দোয়া, তাকবির, নামাজ ও সদকার প্রতি গুরুত্ব দিতেন। ইরশাদ হয়েছে, কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। তাঁর মহত্ত্ব ঘোষণা করবে এবং নামাজ আদায় করবে ও সদকা প্রদান করবে। (বুখারি, হাদিস : ১০৪৪) উল্লেখ্য, এখানে আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা বলতে যেমন আল্লাহর মহত্ত্ব বোঝায়, এমন জিকিরের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে, তেমনি বিভিন্ন হাদিসে আজানের কথাও বলা হয়েছে। সম্প্রতি ফ্রান্সে দেখা গেছে, মানুষ করোনা থেকে বাঁচতে সবাই নিজেদের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আজান দিচ্ছে। আবার কুয়েতে সবাই জোরে তাকবির দিচ্ছে। বিপদের মুহূর্তে এই দুই ধরনের কাজই আমরা করতে পারি। বেশি বেশি আল্লাহু আকবার জিকির করতে পারি। সদকা : বিপদের মুহূর্তে আমরা বেশি বেশি সদকা করতে পারি। কারণ সদকার মাধ্যমে বিপদ দূর হয়ে যায়। মানুষের হায়াতে বরকত হয়, অপমৃত্যু কমে ও অহংকার অহমিকা থেকে মুক্ত থাকা যায়। (আত্তারগিব ওয়াত তারহিব : ২/৬৫) আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার ঈদুল আজহা অথবা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের জন্য আল্লাহর রাসুল (সা.) ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, হে মহিলা সমাজ! তোমরা সদকা করতে থাকো। কারণ আমি দেখেছি, জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই বেশি। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, কী কারণে, হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বলেন, তোমরা বেশি পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাকো আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও। (বুখারি, হাদিস : ৩০৪) তা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে সমাজের একটি বড় অংশকে বেকার করে দিয়েছে, বেশি বেশি সদকার মাধ্যমে তাদেরও অনেক বড় সহযোগিতা হবে। দোয়া : জুবাইর ইবনে আবু সুলাইমান, ইবনু জুবাইর ইবনু মুত্বইম (রা.) সূত্র থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমার (রা.)-কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল ও সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে এই দোয়াগুলো পড়া ছেড়ে দিতেন না। উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়াতা ফিদদুনিয়া ওয়াল আখিরাতি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া, ওয়াল আফিয়াতা ফী দ্বিনি ওয়া দুনিয়ায়া, ওয়া আহলি, ওয়া মালি, আল্লাহুম্মাসতুর আওরাতি, ওয়া আমিন রওআতি, আল্লাহুম্মাহফাজনি মিন বাইনি ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খলফি ওয়া আন ইয়ামিনি ওয়া আন শিমালি ওয়া মিন ফাউকি ওয়া আউজুবিকা বিআজামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতি। অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্ষমা এবং আমার দ্বিন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আপনি আমার দোষত্রুটিগুলো ঢেকে রাখুন এবং ভীতিপ্রদ বিষয়গুলো থেকে আমাকে নিরাপদ রাখুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হিফাজত করুন আমার সম্মুখ হতে, আমার পিছন দিক হতে, আমার ডান দিক হতে, আমার বাম দিক হতে এবং আমার ওপর দিক হতে। হে আল্লাহ! আমি আপনার মর্যাদার ওয়াসিলায় মাটিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭৪) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সুরা বাকারার শেষে এমন দুটি আয়াত রয়েছে যে ব্যক্তি রাতের বেলা আয়াত দুটি তিলাওয়াত করবে তার জন্য এ আয়াত দুটিই যথেষ্ট। (বুখারি, হাদিস : ৪০০৮) মুআজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রা.) হতে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক বর্ষণমুখর খুবই অন্ধকার কালো রাতে আমাদের নামাজ পড়াবার জন্য আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে খুঁজছিলাম। আমরা তাঁকে পেয়ে গেলাম। তিনি বললেন, বলো। আমি কিছুই বললাম না। পুনরায় তিনি বলেন, বলো। আমি কিছুই বললাম না। তিনি আবার বললেন, বলো। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! কী বলব? তিনি বলেন, তুমি সন্ধ্যায় ও সকালে উপনীত হয়ে তিনবার সুরা কুল হুয়াল্লাহু (সুরা ইখলাস), সুরা নাস ও ফালাক পড়বে; এতে তুমি যাবতীয় অনিষ্ট হতে রক্ষা পাবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৮২) কোরআন তিলাওয়াত : আমাদের যেহেতু সাধারণত ব্যস্ততার কারণে কোরআন তিলাওয়াতে সময় কম দেওয়া হয়, অনেকের রমজান ছাড়া কোরআন খতমের সুযোগই হয় না। তাদের জন্য বর্তমান সময়টা কোরআন খতম করার জন্য উপযুক্ত সময়। আল্লাহ হয়তো ঘরে ঘরে কোরআন তিলাওয়াতের উসিলায় আমাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন।- কালের কন্ঠ
কট্টর দেশভক্ত- পাত্রী চেয়ে ভারতীয় চিকিৎসকের বিজ্ঞাপন
১৯ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপনে মাঝে মধ্যেই মজার উপাদান দেখা যায়। বিশেষত পাত্রপক্ষের এমন সব চাহিদা থাকে, যা এক কথায় অসাধারণ। এবার এমনই এক চমকদার বিজ্ঞাপনের সন্ধান মিলেছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাচ্ছে মজার রসদ। ভারতীয় এক যুবকের দেয়া ওই বিজ্ঞাপন ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে। সেখানে এক হিন্দু ব্রাহ্মণ মেয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। জাত-ধর্ম উল্লেখ করে বিজ্ঞাপন দেয়া অবশ্য নতুন কিছু নয়। তবে তার সঙ্গে আর যা কিছু যোগ করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করাটা মোটেই সহজ নয়। বিজ্ঞাপনটিতে পাত্রের যে বিবরণ রয়েছে, তাতে পাত্রের নাম ডা. অভিনব কুমার। পেশায় দন্ত্য চিকিৎসক, লম্বা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। বিহারের ভাগলপুরের বাসিন্দা। ব্রাহ্মণ, গোত্র-ভরদ্বাজ। আর নিজের চাহিদার কথা জানিয়ে তিনি লিখেন, পাত্রী হতে হবে ফর্সা, সুন্দরী, বিশ্বাসযোগ্য, যত্নশীল, সাহসী, ধনী। কট্টর দেশভক্তি থাকতে হবে। ভারতীয় সেনার ক্ষমতা বাড়ানোয় বিশেষ আগ্রহী হতে হবে। সন্তানের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। ভালো রাঁধতে জানতে হবে। বিহার কিংবা ঝাড়খণ্ডের ভারতীয়, হিন্দু, ব্রাহ্মণ, চাকরিরত মেয়ে চাই। ও হ্যাঁ, অবশ্য কুণ্ডলী আর ৩৬ গুণ মিলিয়ে নিতে হবে। তবে পাত্রের বিয়ে করার কোনও তাড়া নেই। সেকথাও জানিয়েছেন বিজ্ঞাপনের নিচে। ফোন নম্বর দিয়ে লেখা হয়েছে, আমি কোনও ফোন রিসিভ করবো না। শুধু এসএমএস-এ কথা বলবো।
বসন্ত রঙিন ভালোবাসার দিন,নারী পুরুষ সবাই রঙে রঙিন
১৪ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দখিন হাওয়ার গুঞ্জরণে হৃদয়ে জেগেছে রেশমি পরশ। নিসর্গ জেগেছে নতুন রূপে। হাওয়ায়-হাওয়ায় দোল লেগেছে বাংলার প্রকৃতিতে। প্রকৃতি আজ জানান দিচ্ছে, আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় ,ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। কবির শঙ্কা দূর করে ফুল ফুটেছে। গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। শীতের খোলসে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্কন এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে।প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ বাসন্তি রঙের শাড়ি পরবে নারীরা। রঙে রঙিন হবে নারী, পুরুষ সবাই। ১লা ফাল্গুনের সঙ্গে আজ যোগ হয়েছে ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস। একই দিনে দুটি দিবসের আনন্দ ছুঁয়ে যাবে প্রাণে। বসন্তের এই দিনে হৃদয় উদার, উন্মুক্ত করতে হবে। বসন্তকে আজ বরণ করে নিতে হবে। কবিগুরু তাই বলেছেন, আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে/তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে/কোরো না বিড়ম্বিত তারে/ আজি খুলিয়ো হৃদয়দল খুলিয়ো/ আজি ভুলিয়ো আপনপর ভুলিয়ো। বসন্তকে বরণ করে নিতে বেশ কিছু দিন ধরে ছিল নানা প্রস্তুতি। শপিং মল থেকে বিউটি পার্লার, ফুলের দোকানে ব্যস্ত তরুণ-তরুণীরা। ব্যস্ততা ছিলো, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের। শোভাযাত্রার বৈচিত্রময় আয়োজনের ব্যস্ততা শেষে আজ বরণ করা হচ্ছে বসন্তকে।
আগামীকাল বসন্তের প্রথম দিন এবং ভালবাসা দিবস
১৩ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামীকাল শুক্রবার বসন্তের প্রথম দিন এবং ভালবাসা দিবস। বাসন্তি রঙের শাড়ি আর হলুদ পাঞ্জাবীতে নগর জুড়ে ছুটবে তরুণ-তরুণীর দল। হৃদয়জুড়ে থাকা ভালবাসা আর হাতে রঙ্গীণ ফুলে মানুষের মতো প্রকৃতিও সাঝবে নতুন রঙে। এই উপলক্ষেই রাজধানীতে জমে উঠেছে ফুলের বাজার। তারুণ্যের ভিড়ে ফুল কেঁনাবেচায় পড়েছে বাড়তি প্রভাব। উৎসব বরণ করতে শহরজুড়ে বাড়তি দামেও ফুল বিকিকিনি হচ্ছে।এবার ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত উৎসব একই দিনে এবং ছুটির দিন পড়েছে, যেকারণে ফুলবিক্রি বেশি হবে। এবং ফুলের দাম বাড়তি থাকবে।
মায়ের নামে মসজিদ নির্মাণ করছেন নায়িকা রোজিনা
নকশা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢালিউডের আশির দশকের জনপ্রিয় নায়িকা রোজিনা। চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি ঢাকায় মঞ্চ নাটক করতেন। রোজিনার জন্ম রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের জুরান মোল্লা পাড়ায়। সেখানে মা খাদিজা বেগমের নামে খাদিজা জামে মসজিদ নির্মাণ করছেন এই অভিনেত্রী। সোমবার বিকালে মসজিদটির নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী। জানা গেছে, প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে খাদিজা জামে মসজিদ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া খুব শিগগিরই এই অভিনেত্রী মা খাদিজা বেগমের নামে একটি চক্ষু হাসপাতালের নির্মাণ কাজও শুরু করবেন। এ প্রসঙ্গে রোজিনা বলেন, জম্মভূমির কথা সব সময় মনে পড়ে। ব্যস্ততার কারণে গোয়ালন্দে তেমন আসা হয় না। এখানে যেন বারবার আসতে পারি সে জন্য বাড়ির সামনে মায়ের নামে মসজিদ নির্মাণ করছি। এখানে চক্ষু হাসপাতাল করার চিন্তা আছে। সকলের সহযোগিতা পেলে সেটি কাজ শুরু করবো। ১৯৭৭ সালে আয়না ছবিতে ছোট একটি চরিত্রে শায়লা নাম নিয়ে প্রথম দর্শকের সামনে আসেন রোজিনা। এরপর- রাজমহল ছবিতে নায়িকা হিসেবে তার অভিষেক হয়। ছবিটি ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায়। ছবিটি সে সময় সুপার ডুপার হিট করায় রোজিনাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। পুরো আশির দশকে রোজিনা ছিলেন ঢালিউডের চাহিদা সম্পন্ন নায়িকা ।

নকশা পাতার আরো খবর