শুক্রবার, মে ২৯, ২০২০
দেশের মানুষ হাসপাতালে সেবা পাচ্ছেন না:রিজভী
২২ মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীরা নূন্যতম চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার সকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, আজকে করোনায় আক্রান্ত যেসব রোগী তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে কোনো বেড নাই। বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চিকিৎসার জন্য মানুষ হাহাকার করছে। মানুষ করোনায় আক্রান্ত হলেও ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন না। যদি পজেটিভ হয় কোথায় চিকিৎসা নেবে তারা। হাসপাতালে বেড নাই, কোনো চিকিৎসা নাই কিচ্ছু নাই। সরকার ফ্লাইওভার করেছে কিন্তু একটা হাসপাতালেও নির্মাণ করেননি। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যে আধুনিক সরঞ্জাম দরকার সেটা দেননি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আপনারা (সরকার) উন্নয়ন দেখাচ্ছেন। এসব করে আপনার নেতা-কর্মীদের পকেট ফুলতে ফুলতে একেবারে বেলুনের মতো করে দিয়েছেন। মানে টাকা এতো বেশি পকেটে ঢুকেছে-বেলুনের মতো। রাজধানীর উত্তরার ৪৭ নং ওয়ার্ডে মহানগর উত্তরের যুগ্ম সম্পাদক এম কফিলউদ্দিনের উদ্যোগে দুঃস্থ ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণের এই অনুষ্ঠান হয়। এ সময়ে মহানগর উত্তরের আহসানউল্লাহ হাসান, এবিএমএ রাজ্জাক, মোতালেব হোসেন রতন, মমতাজ উদ্দিন, এফ ইসলাম চন্দন, সফুরউদ্দিন মৃধা, সাইফুল ইসলাম সরুজ, তাজুল ইসলাম, মো. মুনির, জাহিদ মাস্টারসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পূর্ব ছাত্রদলের উদ্যোগে দুঃস্থ ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করেন রিজভী। এ সময়ে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণসহ মহানগর পূর্বের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা কার্যক্রমে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা
২১মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাব মোকাবেলা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরকারের পাশাপাশি সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। দুর্যোগ কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষের আশ্রয়, চিকিৎসেবা প্রাপ্তি ও খাদ্য সহায়তা প্রদানে তৎপর রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষয়-ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করেন। উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বিপর্যস্ত উপকূলাঞ্চলসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতার নির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নেতারা সরকারের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করায় এবং জনসাধারণকে আশ্রয়কেন্দ্রসহ নিরাপদ আশ্রয়স্থলে অবস্থান নিশ্চিত করায় ক্ষয়-ক্ষতি অনেকটা হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে বলে অবহিত করেন। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন জেলা নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ এমপি, আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংকটের শুরু থেকে অসহায় ও গরিব মানুষের পাশে আছে: কাদের
১৮মে,সোমবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনার দুর্যোগকালে বিএনপির দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন না করে এবং জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত বিষোদগার করে যাচ্ছে। আজ সোমবার (১৮ মে) এক ভিডিও বার্তায় ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি দলে দলে মানুষ গ্রামে যাচ্ছেন। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন মার্কেটের মানুষের অতিরিক্ত ভিড় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এসময় সবাইকে যার যার অবস্থানে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের ছুটি কাটানোর অনুরোধ করছি। সামান্যতম নিয়মের উপেক্ষা নিজের ও আশপাশের মানুষের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংকটের শুরু থেকে অসহায় ও গরিব মানুষের পাশে আছে। আমি নেতাকর্মীদের ঈদে কর্মহীন, বেকার ও ভাসমান মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সমাজের ধনী ও বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি অসহায় কর্মহীন মানুষের পাশে সবার আগে ছুটে গেছে আওয়ামী লীগ। আমি এসময় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিত্তবান, সামর্থ্যবানদের অসহায় ও প্রবাসী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, করোনা যুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে যারা লড়াই করছেন তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা কোনও অবস্থাতেই মনোবল ও ধৈর্য্য হারাবেন না। এসময় আপনারা যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছেন সেজন্য দেশ ও দেশবাসীর আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আপনারা হতাশ হবেন না শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনাযুদ্ধে জয়ী হবো। দেশবাসীকে সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংকটের পরীক্ষিত নেতৃত্ব শেখ হাসিনা প্রতি আপনার আস্থা রাখুন। সবার সম্মিলিত প্রয়াসে দুর্দিন ইনশাআল্লাহ কেটে যাবে। সংকটের রাত যত গভীর হবে সম্ভাবনার সুবর্ণ সকাল ততই ঘনিয়ে আসবে।
সরকারের সমালোচনার নামে বিএনপি রাজনৈতিক হীন কৌশল অবলম্বন করেছে : ওবায়দুল কাদের
১০মে,রবিবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদো বলেছেন, সরকারের সমালোচনার নামে বিএনপি রাজনৈতিক হীন কৌশল অবলম্বন করেছে। তিনি বলেন, কোন ঘটনার প্রকৃত সত্য তুলে না ধরে তা টুইস্ট করে রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা হিসাবে প্রচার করাও অপরাধ। সত্যতা যাচাই না করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপকৌশল কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়। ওবায়দুল কাদের আজ রোববার সকালে তার সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত আনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও গণসমাজে বিভ্রান্তি তৈরির অপকৌশল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক বলেন, ত্রাণ বিতরণের কাজে অস্বচ্ছ কিছু হলে প্রকৃত সত্য যে কেউ তুলে ধরতে পারে। কিন্তু সেটিকে টুইস্ট করে রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা হিসেবে প্রচার করাটা নিশ্চয়ই অপরাধের শামিল। যেকোন পদক্ষেপের সাথে যে কারোর একমত বা দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে সত্যতা যাচাই না করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপকৌশল কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, মহামারী তথা দুর্যোগের এই সময় প্রয়োজন সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। এ কথা আমরা বারবার বলেছি। আমরা একথাও বলেছি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যাতে অপপ্রয়োগ না হয় সে ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক থাকবে। যারা অপপ্রয়োগ করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকার ও দলের ত্রাণ তৎপরতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ পর্যন্ত দেশে চার কোটি মানুষের মাঝে নগদ ও ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া দলীয়ভাবে সারাদেশে নেতাকর্মীরা প্রায় এক কোটি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা ও নগদ সহায়তা প্রদান করেছে। ত্রাণ চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধির সংখ্যা ৬১ হাজার ৫৬৯ জন। এদের সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। যে কজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। অপরাধী দলীয় লোক হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। করোনার কারণে প্রবাসী বাঙালিরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে কাদের বলেন, বিশ্বে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ প্রবাসী বাঙালি রয়েছে। এদের অধিকাংশই কর্মহীন হয়ে পড়েছে এবং অনেকেই ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাসগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিতে পারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার দোকানপাট তথা বাণিজ্যকেন্দ্র সীমিত পর্যায়ে খোলার অনুমতি দিয়েছে। ব্যবসায়ী ক্রেতা-বিক্রেতা সকলকে আমি স্বাস্থ্যবিধিসহ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।
জনরোষ থেকে বাঁচতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করছে সরকার
০৯মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কেবল সরকারকে জনরোষের আগুন থেকে রক্ষার জন্যই অপব্যাবহার চলছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেইসঙ্গে অবিলম্বে এই গণবিরোধী আইন বাতিল করার দাবি জানান তিনি। আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের নামে সরকারের স্বৈরাচারী আচরণের প্রতিবাদ’শিরোনামে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেশের কয়েক জায়গায় বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে সরকারের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার ওপর লেখালেখি করার কারণে বেশ কয়েকজনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নতুন করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।মানবজমিন। তিনি বলেন, দেশে একটি কার্য্করী মানহানি আইন থাকা সত্ত্বেও নির্যাতন ও হয়রানির উদ্দেশ্যে ডিজিটাল আইনকেই বারবার ব্যবহার করছে সরকার। মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে পেছনে হাতমোড়া অবস্থায় হ্যান্ডকাফ পড়া সাংবাদিকের ছবিসহ সংবাদ, ডিজিটাল আইনকে সরকার কিভাবে সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে চলছে তার একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ। বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার তো দূরে থাকুক মানুষ তার কষ্টের কথাও যাতে ভার্চুয়াল জগতে প্রকাশ করতে না পারে তার জন্য একের পর এক পরিপত্র জারি করে চলেছে সরকার। বিটিআরসির মতো একটি নিরপেক্ষ রাষ্টীয় প্রতিষ্ঠানকে পরিণত করেছে ডিজিটাল জগতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রধান পুলিশি প্রতিষ্ঠানে। শুধু বিএনপি নয়, সকল রাজনৈতিক দলই নয় দেশের সকল মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদপত্র সম্পাদকদের সম্মিলিত সংগঠন বারবার ওই গণবিরোধী আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হরদম গ্রেপ্তার করা হচ্ছে ও আতঙ্কের মধ্যে রাখা হয়েছে। অথচ ত্রাণের চাল-চোর ও গম-চোরেরা নিরাপদে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসবের মধ্য দিয়ে সরকারের নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং ফ্যাসিবাদী চরিত্রের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে চলমান বৈশ্বিক করোনা মহামারির সময়ে সারা দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনের অপপ্রয়োগ করে গ্রেপ্তার ও হয়রানির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বিএনপি। সেইসঙ্গে রাজনৈতিক বন্দীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
সরকার মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে: রিজভী
০৮মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লকডাউন খুলে দিয়ে সরকার মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আজকে ভয়ংকর পরিস্থিতিতে যখন সংক্রমনের মাত্রা বাংলাদেশের বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে তখন সরকার লকডাউন খুলে দিয়ে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। সরকারের কাছে অর্থনীতি আগে বড় বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ আগে। মানুষের জীবন চলে যাচ্ছে এটা বড় কথা নয়। আজ শুক্রবার গাজীপুর মহানগর যুবদলের উদ্যোগে টঙ্গী বাজার এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানুষের লাশ রাস্তাঘাটে পড়ে থাকছে। টেস্ট করার কোন উপায় নাই। পর্যাপ্ত মেডিকেল সহায়তা নেই। এটা সরকার খেয়াল করছে না। কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না । মানুষের জীবন তাদের কাছে বড় নয় তাদের কাছে টাকা অনেক বড় কথা। যে খাদ্য ছিল তা দিয়ে ২-৩ মাস গরিব মানুষকে চালাতে পারতাম। বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য পৌঁছে দিতে পারতাম না। নিশ্চয়ই পারতাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেনা বাহিনীকে দিয়ে যারা গার্মেন্টসে কাজ করে, দিন আনে দিন খায়, রিকশাচালক তাদের সবাইকে দিতে পারতাম। সরকার ঐদিকে যায়নি। সরকারের কথা হচ্ছে মানুষ মরুক আমার যায় আসে না। আমার হাতে টাকা থাকলেই বড় বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, পর্যাপ্ত মেডিকেল ইকুইপমেন্ট না পেয়ে হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স মারা যাচ্ছে। যারা প্রতিবাদ করছে তাদের বরখাস্ত করা হচ্ছে চাকরীচ্যুত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডাক্তার আবদুল্লাহ বলেছেন এটা করা ঠিক হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর একটি কমিটি করেছেন করোনা প্রতিরোধের জন্য। বিশেষজ্ঞ কারিগরি কমিটি।তারাও বলছেন আপনি পুন‌র্বিবেচনা করুন এখন লকডাউন খুলবেন না। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন সারা পৃথিবীর মধ্যে করোনায় ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর কোন ভ্রুক্ষেপ নাই। আজকে রাস্তাঘাট খুলে দেওয়া হয়েছে, যানবাহন চলছে, গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার লোক কাজে যাচ্ছে। এতে কত লোক করোনায় আক্রান্ত হবে। তাদের না থাকবে চিকিৎসা না থাকবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। মৃত্যুর দিকে মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। এই সরকার এই রকম পরিস্থিতির মধ্যে দেশ পরিচালনা করছে। এই পরিচালনা হচ্ছে ধ্বংসের পরিচালনা, পরিচালনা হচ্ছে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিচালনা। ত্রাণ বিতরণের সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, লাকডাউনে গরিব মানুষ, কৃষক-শ্রমিক, দিন আনে দিন খায় তাদের চলবে কি করে। পেটের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে এটা কিছুই মানতে চায় না।আমাদের দল বিএনপিকে বলেছি সারাদেশের মানুষের সাথে থাকতে। বিএনপি'র চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুই বছর অন্যায়ভাবে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছিল। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সারাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারাদেশের প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখছেন।আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সকল স্তরের নেতাকর্মীরা যেন মানুষের পাশে দাঁড়ায়।বিএনপির নেতা-কর্মীরা খাবেন অন্যরা খাবে না এমন যেন না হয়। আমরা সেটাই চেষ্টা করছি। নিজেদের টাকায় কেনা ১৩ লক্ষ পরিবারকে সহায়তা করেছি। বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সারাদেশে ত্রাণ বিতরণ করছেন। তিনি আরো বলেন, আমরা সরকারে নেই আমরা সরকারের জুলুমের মধ্যে আছি। আমাদের অনেক ছাত্রদল যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করছে। কেন তারা মানুষকে ত্রাণ দিচ্ছে। অরোরা জনগণের টাকা কেনা ত্রাণ চুরি করছে। ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর মহানগর বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক সকার জাবেদ আহমেদ , গাজীপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি প্রভাষক বশির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ভাট, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদারসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জামায়াত থেকে বহিষ্কৃতদের নতুন দল,আমার বাংলাদেশ পার্টি (এ বি পার্টি)
০২মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জামায়াত থেকে বেরিয়ে আসা ও বহিষ্কৃতদের সমন্বয়ে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এ বি পার্টি) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। শনিবার (২ মে) দুপুরে বিজয়নগরে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণা করা হয়।সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনিবআর) সাবেক চেয়ারম্যান এএফএম সোলাইমান চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুকে সদস্য সচিব করে ২২৩ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ নামের রাজনৈতিক প্লাটফরম থেকেই এই নতুন দলের ঘোষণা আসলো।জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিস্কৃত দলটির মজলিসে শুরার সাবেক সদস্য ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয় গত বছরের ২৭ এপ্রিল।এই সংগঠনের পক্ষ থেকে কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, কোনও তত্ত্ব বা আদর্শের চর্চা করা হবে না। কোনও ধর্মভিত্তিক দল করা হবে না। মানুষের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা হবে।এ প্রেক্ষাপটে গত একবছর ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় সেমিনার, মতবিনিময়সভার মাধ্যমে দল গোছানোর কাজটি করেন জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতারা।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আবারও গুরুতর অসুস্থ
২৭এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আবারও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল রোববার থেকে তার পেটে প্রচণ্ড ব্যাথা ও বমি হচ্ছে।বর্তমানে তিনি বাসায় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম রিজভীর চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে আছেন। রুহুল কবির রিজভী সকলের দোয়া কামনা করেছেন। রুহুল কবির রিজভী ১৯৮৪ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় পেটে গুলিবিদ্ধ হলে সাবএকিউট ইনটেস্টাইনাল অবসট্টাকসন সমস্যায় ভোগেন। তার পেটে অস্ত্রোপচার থেকে এ সমস্যা হয়। এ রোগের জন্য পূর্বে তিনি আমেরিকায় অপারেশন করেছিলেন। মাঝে মাঝে তিনি কম্প্লিকেশন (complication) বা সমস্যায় ভোগেন। রুহুল কবির রিজভী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় গত বছর এ রোগে ভুগছিলেন। এসময় তার পেটে প্রচন্ড ব্যথা ও বমি হয়।
আমি বিশ্বাস করি মানুষ জিতবে,মানুষের কল্যাণ হবে
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসকে অদৃশ্য শত্রু আখ্যা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সবার অহংকার পানির সঙ্গে মিশে গেছে। তবুও আমি বিশ্বাস করি মানুষ জিতবে। মানুষের কল্যাণ হবে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গুম, খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেয়া এই ঈদ উপহার বিতরণের সময় তিনি একথা বলেন। ফখরুল বলেন, আজকে করোনাভাইরাস অদৃশ্য শত্রু। যার কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। বিশ্বের সমস্ত বিজ্ঞানী ও গবেষণা কাজে আসছে না। সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় গুম, খুন ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পরিবারের জন্য বেশ কয়েকবছর ধরে ঈদ উপহার দেয় বিএনপি। এবারের এই কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহাসচিব বলেন, আজকে সারাদেশে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন সংগ্রামের সবচেয়ে বড় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে দুই বছরের বেশি সময় কারাগারে রাখা হয়েছে। এখন শর্তসাপেক্ষে তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়া হয়েছে। আমাদের ছাত্রদল, যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম, খুন ও অপহরণ করা হয়েছে। তবুও এরমধ্যে দিয়ে আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করছি। তিনি বলেন, আজকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য যেসব তরুণ যুবক সংগ্রাম করতো তাদেরকে ধরে নিয়ে গুম, অপহরণ করা হয়েছে। একজন দুজন করে রাতের অন্ধকারে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা প্রতিবছর তাদেরকে স্মরণ করছি। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবসময় তাদের খোঁজ-খবর নেন। সেজন্য আমরা পবিত্র রমজান মাসে ঈদকে সামনে রেখে নির্যাতিত পরিবারগুলোকে ঈদ উপহার প্রদান করছি। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গুম খুনের শিকার বেশকিছু পরিবারের সদস্য ও ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি পাতার আরো খবর