শুক্রবার, জুন ৫, ২০২০
মানবতা হোক মানুষের জন্য
২৩মে,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজও মানুষকে ভাবায় বিখ্যাত সংগীত শিল্পী ভূপেন হাজারিকার সেই গান- মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভূতি কি পেতে পারে না ও বন্ধু। পরপারে পাড়ি দেওয়া একজন বিখ্যাত সংগীত শিল্পী আজ আমাদের মাঝে না থাকলেও আছে তার গান। আমরা মানুষ যখন ক্রান্তিকাল সময় পার করি ঠিক তখনই আমাদের কাছে ফিরে আসে কালজয়ী সেই গানটি। কিন্তু আমরা আজও মানুষ হয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছি? অবশ্যই অনেকে দাঁড়াচ্ছেন। কিন্তু যাদের কে দেখতে চাই তাড়াই কি অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছি? নাকি নি:স্ব কোন মানুষই অসহায়দের পাশে গিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন? অথচ মহান আল্লাহ যাকে অর্থ-সম্পদ দিয়েছেন তিনি সে সম্পদ থেকে অভাবী অসহায় মানুষকে সাহায্য করলে তাতে মহান সৃষ্টি কর্তা খুশি হন। কিন্তু আমাদের অনেক বিত্তশালীরা হা-হুতাশ করে বেড়ায়। তাদের নাই নাই অভ্যাসটা যায় না। আপনার যা আছে তা নিয়েই সুখে থাকুন। বেশি চাওয়া পাওয়া করে লাভ কি বলুন, কতদিনেই বাঁচবেন এ জগতে একদিন না একদিনতো চলে যেতেই হবে। নিজের বিবেক-বুদ্ধি-মনুষ্যত্ব ও মূল্যবোধকে কাজে লাগালেই তো হয়। দেখুন বাইরে অসহায় মানুষরা একমুঠো খাবারের জন্য হাত বাড়িয়ে অপেক্ষা করছে। ওদের কোন কাজ নেই। তাই রোজগার ও নেই। একজন অসহায় মা তাঁর সন্তানের মুখে খাবার দিতে পারছেন না। সেই মায়ের যন্ত্রণা একটু বোঝার চেষ্টা করুন! তার সন্তান যখন কাঁন্নাকাটি করে, তখন তিনি কতটা অসহায় বোধ করেন! হঠাৎ বেকার হয়ে যাওয়া বাবা যখন তাঁর সন্তানের মুখে আহার জোগাতে ব্যর্থ হন, তখন তাঁর মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। তিনিই হয়তো সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এই কঠিন বিপদে তাঁর যাওয়ার যায়গা কোথায় বলুন! ভালোই তো ছিলো সব কিছু। কেন হটাৎ এমনটি ঘটল? এতে কি ওই অসহায় মানুষগুলোর কোন হাত ছিলো? আমারা মানুষ হয়ে ওদের পাশে দাঁড়াবো না? ওদের কষ্টের সময় সহানুভূতির হাত বাড়াব না! তাহলে আর আমরা কিসের মানুষ! মানুষের মানবিক গুনাবলিই যদি না থাকে তাহলে কিসের মানুষ আমরা! মানবিকতাই তো মানুষের আসল পরিচয়! সাড়া বিশ্বে যখন করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ ক্রন্তিকাল সময় কাটাচ্ছেন, ঠিক তখনই শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের একজন সাধারন ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনই দেখিয়ে দিলেন মানবিক গুন। বয়স আশি বছর। একটা সময় কৃষি কাজ করলে ও দুর্ঘটনায় পা হারানো নাজিমুদ্দিন কাজ করতে না পারায় বর্তমানে ভিক্ষা করেন। ভিক্ষা করে সংসার চালান তিনি। নিজের বসতঘর মেরামতের জন্য ভিক্ষা থেকে খুব কষ্ট করে গত কয়েক বছরে জমিয়েছিলেন ১০ হাজার টাকা। তিনি তাঁর সে জমানো টাকা ঝিনাইগাতির কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের তহবিলে দান করেন। ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনের প্রসংসা করেছেন স্বয়ং সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ও। তিনি বলেন, তার এই উদারতা এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বিশ্বে। মানুষ বসবাসযোগ্য একটি গ্রহ। আর এই গ্রহটিকে আমরা যাতনা যত্মে রাখার কথা রাখিনি ততটা যত্মে। অন্যদিকে আমরা কিছু কিছু বিত্তশালীরা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার জন্য এবং নিজেদের ভোগ বিলাস আর লোভ-লালসাকে পরিপূর্ণ করতে এই গ্রহটিকে নিংড়ে নিয়েছি। একবার ও ভাবিনি এর পরিণাম কি হবে? আমাদের অসীম চাহিদার লাগাম ধরব দূরে থাক বরঞ্চ ডাইনোসরের মতো খাই খাই লালসায় আজ আমরা নিজেদেরকেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছি। মানুষ বাঁচলে বাঁচবে মানবতা, বাঁচবে দেশ। মানুষ বাঁচানোর সর্বজনীন প্রচেষ্টায় আমরা সকলে এক, এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। এখন থেকে আমাদের সক্রিয়তা, ঐক্যবদ্ধতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ খুব বেশি প্রয়োজন। করোনাভাইরাস এমন এক অজানা আতঙ্ক যে বিশ্বের কোন দেশই এর থেকে মুক্ত হতে পারেনি, নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি। পৃথিবীর সব মানুষরাই এখন অজানা আতঙ্কে ভূগছে। এ বুঝি করোনাভাইরাসের কবলে পড়ছে! মানবজাতির উপর প্রকৃতির এ এক ভয়ঙ্কর শাস্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। সামান্য এক ভাইরাস, যা চোখে দেখা যায় না, অথচ তার ভয়ে সবার ঘুম হারাম! জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে যখন খেটে খাওয়া মানুষেরা না খেয়ে দিন পার করছেন। তখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ সামগ্রী ও উপহার সামগ্রী বিতরণের উদ্যেগ নেন। দেশের সরকার প্রধানের এমন মানবিকতাই সকলে সন্তুষ্ঠ হলেও অত্যান্ত দু:খ প্রকাশ করে বলতে হয়, ত্রাণ বিতরন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণ চুরির ঘটনা ও শুরু হয়েছে দেশে। এই মহাবিপর্যয়ের সময় অনেক জনপ্রতিনিধি ত্রাণ চুরি করছে বলা হচ্ছে ভিবিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। আবার অধিকাংশ সময়ই দেখা যচ্ছে যে সকল জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণ চুরি করছেন তার চেয়ে ঢের বেশি জনপ্রতিনিধিরা মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। আবার অনেক বিত্তশালী পরিবারের সন্তানেরা ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে সহদরে নিনিন্মবিত্ত পরিবারকে সহযোগীতা করছেন। এই দুর্যোগ সময়ে যে শুধু অসহায়, নিন্মবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরা কষ্ট পাচ্ছে তা কিন্তু নই, এর সাথে খাদ্য না পেয়ে কষ্ট পাচ্ছে, বিড়াল, কুকুর, কাক ও। বিড়াল, কুকুর, কাকদের প্রদান খাদ্যের উৎস হলো, হোটেলে বা ঘর বাড়ি থেকে বাদ পড়া খাবার গুলো। যা থেকে বঞ্চিত আজ এই প্রাণী গুলো ও। তবে বেশ কিছুদিন আগে এক নিউজ চ্যানেলে দেখলাম বেশ কিছু তরুণরা কিছু কুকুর এবং কাকদের খাবার দিয়েছেন। তা সত্যিই প্রসংশনীয়। কিন্তু এই প্রসংশনীয় উদ্যেগে আমরা আরো অনেক মানুষকে দেখতে চাই। আসুন আমরা মানবতার হাত বাড়াই। সাধারণ মানুষের পাশে দাড়ায়। মানুষের চরিত্র নিয়ে লিখে শেষ করা যাবে না। তবে দিন শেষে এই কথাটি বলতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে যে এখনো পৃথিবীতে খারাপ মানুষের চেয়ে ভালো মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। না হলে পৃথিবী টিকে থাকতো না। মহামারী এই করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচাতে দিনরাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, ডাক্তার, স্বাস্থ্য কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, পুলিশ সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এমনকি প্রিয়জন, প্রিয়মুখকে এক নজর দেখার অদম্য ইচ্ছেটিকে দমন করছেন তারা। লেখক: মো.ইরফান চৌধুরী,এডমিন- তরুণ প্রজন্মের ডাক,প্রকাশক- অধিকার নিউজ বিডি,কলামিস্ট,মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক।
মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহবান ৭ রাষ্ট্রদূতের
০৮মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংকটকালীন সময়ে বাস্তবভিত্তিক তথ্য প্রচার নিশ্চিতে মুক্ত গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সাত বিদেশি রাষ্ট্রদূত। বৃহস্পতিবার তারা প্রায় একইরকম বার্তা সম্বলিত টুইট করেন নিজ নিজ একাউন্ট থেকে। এতে তারা বলেন, বর্তমানে যে মহামারি চলছে এ সময়ে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা তথা মানুষের স্বার্থ নিশ্চিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। পাশাপাশি দেশে গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহবান জানান তারা। কোনো গণমাধ্যমকর্মীর যাতে কন্ঠরোধ না করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেন ওই সাত রাষ্ট্রদূত। বৃহস্পতিবার যেসব রাষ্ট্রদূত এ বিবৃতি প্রদান করেন তারা হলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিঙ্ক, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শারলোটা স্লাইটার, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্ট্রাপ পিটারসন, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন ও ডাচ রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারওয়েইজ। তাদের টুইটে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করা হয়। ইউরোপীয় এক রাষ্ট্রদূত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে মামলা দায়েরের কথা জানান। বৃটিশ রাষ্ট্রদূত রবার্ট ডিকসন তার টুইটে বলেন, গণমাধ্যম যাতে তার কাজ করতে পারে এবং মানুষ যাতে মত প্রকাশে স্বাধীন থাকে তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ন।মানবজমিন। ইউরোপীয় ইয়নিয়নের দূত রেন্সজে তেরিঙ্ক বলেন, সংকটকালীন সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সব কিছুর থেকে বেশি জরুরি। মানুষের অবশ্যই সত্য ও তথ্যনির্ভর সংবাদ জানার সুযোগ থাকতে হবে।
সংবাদপত্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র
২৮এপ্রিল,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবশেষে পার্লামেন্ট সদস্যরা প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন। ইস্টারের দীর্ঘ ছুটির পর বুধবার অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে শেষ পর্যন্ত একজন এমপি প্রশ্ন করেছেন। লেবার পার্টির নতুন নেতা কির স্টারমার হাউস অব কমন্সে পাঁচটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছেন। যদিও পরিসংখ্যান, সরবরাহ, পরীক্ষা ও কেয়ার হোম নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রশ্ন করে যাচ্ছে গণমাধ্যম। সংবাদপত্রে মন্ত্রীদের চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, তুলনামূলক চিত্র দেখানো হয়েছে, রসদ স্বল্পতা ও অসত্য মিথ্যা ভাষণ প্রকাশ করা হয়েছে। এই সময়টাতেও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা কিছুটা হলেও বহাল থেকেছে। তবে সেটি এমপিদের মাধ্যমে নয় বরং গণমাধ্যমের সহায়তায়। আমি সাধারণত নিজের শিল্প নিয়ে ঢোল পিটাই না। সংবাদপত্রগুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই আত্মতুষ্টির শিল্প। কিন্তু এই মহামারী যখন শেষ হয়ে যাবে তখন সংবাদপত্রগুলোর চলার পথ বন্ধ হয়ে গেলে বা দেউলিয়া হয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ রাস্তায় হেঁটে যাওয়া কোনো সাংবাদিকের সম্মানে লাইনে দাঁড়িয়ে হাততালি দেবে কিনা আমার সন্দেহ আছে। অন্যান্য গণমাধ্যম তাদের মতো করে কাজ করছে। তবে আমি বিবিসির মোর অর লেস, ব্রিফিং রুম এবং চ্যানেল ফোরে বিজ্ঞানীদের বিতর্ক অনুষ্ঠানের কমবেশি সমীহ করি। তবে ডাউনিং স্ট্রিটের ওই দৈনিক নিরস সংবাদ সম্মেলনের বিকল্প পেতে চাইলে অবশ্যই আমাদের আন্তরিকত সংবাদপত্রগুলোর দিকে নজর দিতেই হবে। গত সপ্তাহে আমরা যদি মাস্ক পরা নিয়ে মন্ত্রীদের ওপর নির্ভর করে থাকতাম বা তাদের ছাপোষা বিজ্ঞানীদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতাম তাইলে কিন্তু কিছুই জানা যেত না। যদি আমরা কভিড-১৯ এ মৃত্যুর পরিসংখ্যানের বিষয়ে সরকারি বার্তার ওপর নির্ভরশীল থাকলে আমরা জানতেই পারতাম না যে, ওই সংখ্যাটা কেবল ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের হাসপাতালে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা, কেয়ার হোম বা বাড়িতে মৃত্যুর সংখ্যা এটিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে নেয়া হোয়াইটহলের (ব্রিটিশ সরকার) ভাইরাস মডেলটি স্বাধীন মহামারী বিশেষজ্ঞদের কিন্তু সংবাদপত্রের মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। (পরে সেটি পরিত্যক্ত হয়)। স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, করোনা পরীক্ষা নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির এবং রাজধানীর অব্যবহৃত আইসিইউ শয্যা নিয়ে তথ্য কিন্তু সাংবাদিকরাই তুলে ধরেছিলেন, কোনো এমপি নন। অবশ্যই গণমাধ্যম খবর প্রকাশ সমাধানের মতো সমস্যাও বটে। মানুষের আগ্রহ ও নেতিবাচক সংবাদের প্রতি সংবাদপত্রের আসক্তির কারণেই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিগুলো প্রধান শিরোনাম হয়ে ওঠে।বণিক বার্তা। বিবিসির নিউজ টেন তো দেখার অযোগ্য পড়েছে। এরা যেভাবে মানুষের আচরণ নিয়ে অসন্তোষের কথা প্রচার করতে তা নামান্তরে মান্য করো নয়তো মরো সরকারের এই বার্তাকেই শক্তিশালী করছে। এভাবে আতঙ্ক প্রচার করার ফলে হয়তো তারা দর্শক পাচ্ছে, কিন্তু এ কৌশল তো সাধারণ মানুষকে বিষয়টি বুঝতে কোনো সহায়তাই করছে না। এই মুহূর্তে করোনাভাইরাস নিয়ে জানা ও অজানার মধ্যে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে তা ত্রাসের রাজনীতির জন্য খুবই সহায়ক। এই সময়ের রাজনীতিকদের অনুপস্থিতির কারণেই সাংবাদিকদের মন্ত্রণালয়গুলোর বিভ্রান্তি ও বিমুঢ়তার পর্দা ভেদ করতে হচ্ছে। একমাত্র জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের সর্বশেষ চার্টকে কেমব্রিজের পরিসংখ্যানবিদ ডেভিড স্পাইজেলহল্টার অন্যান্য অসুস্থতাজনিত মৃত্যুর সঙ্গে কভিড-১৯ এর মৃত্যুর একমাত্র নিরপেক্ষ তুলনা বলে অভিহিত করেছেন। এখান থেকেই পাওয়া যাচ্ছে পাঁচ বছরের গড় মৃত্যুর তুলনায় অতিরিক্ত মৃত্যুর চিত্র। যদিও এটা খুশি হওয়ার মতো কোনো তথ্য নয়, তবে এটা অন্তত অর্থবহ। পার্লামেন্টে এমন তথ্য কেউ উল্লেখ করেননি। এগুলো আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। মানুষের জীবন বনাম অর্থনীতির বিতর্ক যখন ক্রমেই উচ্চকিত হচ্ছে, সেটিও আলোচনার একমাত্র প্ল্যাটফর্ম গণমাধ্যম। এই সঙ্কট থেকে মুক্তির নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার একধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক লকডাউনে রয়েছে। সরকার বলছে এটা এখন ভাবার সময় নয়। এ ধরনের বক্তব্য হয়তো তাদের মাঝেমধ্যে গৃহীত স্বৈরতান্ত্রিক নীতিতে কিছুটা আবরণ ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু এটা এই সময় সঠিক নীতি নয়। এই মহামারীতে অর্থনীতি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমনটি হয়নি। এ কারণে এই সময় সরকারের নীতি কৌশল নিয়ে পার্লামেন্টে গভীর পযালোচনা হওয়া উচিত। এটা জরুরি। এটি সাধারণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও দরকারি। তথ্য হলো আশ্বস্ত করার উপকরণ। তর্ক-বিতর্কে হয় ক্ষমতায়ন, এটি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক প্রশমন করে। সরকার যদি মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় মধ্যে চরম নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই আগে আস্থা অর্জন করতে হবে। সংবাদপত্র এখন এক অদ্ভূত পরিস্থিতির মুখোমুখি: সীমিত বিজ্ঞাপনের বাজার বহু বিস্তৃত হয়ে যাওয়ার মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মধ্যে অনলাইন। দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস, টেলিগ্রাফ ও ফিনান্সিয়াল টাইমসের অনলাইনে পাঠকদের সংখ্যা বেড়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সেটা দ্বিগুণ হয়েছে। নির্ভরযোগ্য, সুসম্পাদিত এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক খবরের চাহিদা নিঃসন্দেহে আকাশচুম্বি। এতে অর্থযোগ প্রায় অসম্ভব। সংবাদপত্রের সুরক্ষা প্রাচীর হলো বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব। কিন্তু এ দুটি খাত থেকেই অনবরত আয় কমে যাচ্ছে। সংবাদপত্রগুলো ভালো সংবাদিকতার মূল দিয়ে যাচ্ছে আর লাভবান হচ্ছে গুগল ও ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠান। এই সঙ্কটে স্থানীয় অনেক সংবাদপত্র টিকে থাকার সম্ভাবনা কম। যেখানে ছাপা পত্রিকাগুলোর ভবিষ্যত আরো ভয়ঙ্কর। বড় যারা এদের খেয়ে ফেলছে তারা অবশ্য স্থানীয়দের এই করুণ দশায় তাদের দায় স্বীকার করছে। এরই মধ্যে বিবিসি তার স্থানীয় বার্তাসংস্থাগুলোর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু স্থানীয় সংবাদপত্রকে ভর্তুকি দেয়া শুরু করেছে। গুগল ছোট ও মাঝারি প্রকাশনাগুলোকে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এটা যেন টর্পেডোর আঘাতে ডুবতে থাকা জাহাজে লাইফর দেয়ার মতো উপহাস! তবে স্বাধীন সংবাদ পরিবেশন ও চলমান নানা বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনা তুলে ধরা যে শিল্পের প্রধান কাজ তার জন্য রাষ্ট্রীয় সমর্থনের আইডিয়া আমি পছন্দ করি না। এখন নির্ভর করছে আগামী মাসগুলোতে সরকার কীভাবে পরিচালিত হয়। আমি এখনও বিশ্বাস করি, বেশিরভাগ পত্রিকা আগামী দিনগুলোতে নিজের মতো চলতে পারবে। এরই মধ্যে মন্ত্রীদের নির্দেশে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের বিজ্ঞাপন কমিয়ে আনা হয়েছে। গত বছরের কেয়ারএনক্রস রিপোর্টে সংবাদপত্র সংগঠনগুলোকে ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলো থেকে কিছু অর্থ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এটা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আরো বিস্তৃত করার পদক্ষেপেরই একটি অংশ হতে পারে এটি। সংবাদপত্রগুলো এখন যেটি পারে সেটি হলো বর্তমানের এ সঙ্কট যাদের চরম ভোগান্তি ও যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের অব্যাহতভাবে প্রশান্তি দিয়ে যাওয়া। কিন্তু তারা যদি ক্রমেই অদৃশ্য হয়ে যেতে শুরু করে তবে তারা শুধু সরকারের করোনাভাইরাস নীতির আরেক শিকারে পরিণত হবে তা নয়। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র। লেখক: সাইমন জেনকিন্স, দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার কলাম লেখক
গণমাধ্যমকর্মীরা এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় চলে গেছে
২৭এপ্রিল,সোমবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,নিউজ একাত্তর ডট কম:তথ্য দিয়ে দেশবাসীকে চলমান ঘটনার আপডেট জানাচ্ছেন সাংবাদিকরা। প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্তব্যরত সাংবাদিকরা দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে নিজেরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে নিয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীরা করোনাভাইরাসের থাবায় পড়ছেন। ইতোমধ্যেই কয়েকজন গণমাধ্যামকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের কেউ হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং কেউ কোয়ারান্টিনে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সাংবাদিক ও কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৬ জন গণমাধ্যমকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মী ছাড়াও গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন।প্রথম আলোর একজন সিনিয়র সাংবাদিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বেসরকারি ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের একজন ক্যামেরাপার্সন, যমুনা টিভির একজন সংবাদকর্মী, দীপ্ত টিভির চার সংবাদকর্মী, এটিএন নিউজের একজন সংবাদকর্মী, যমুনা টিভির নরসিংদী প্রতিনিধি, একাত্তর টিভির গাজীপুর প্রতিনিধি, বাংলাদেশের খবরের একজন সংবাদকর্মী, দৈনিক সংগ্রামের এক সংবাদকর্মী, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা পত্রিকার সম্পাদক, রেডিও টুডের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, ভোরের কাগজের বামনা উপজেলা (বরগুনা) প্রতিনিধি এবং আরটিভি অনলাইনের একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া মাছরাঙা টিভির সাধারণ সেকশনের একজন কর্মকর্তা, চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের একজন কর্মী এবং বাংলাভিশনের একজন গাড়িচালক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বিবেচনায় শুরু থেকে সঠিক গাইডলাইন ও প্রস্তুতির অভাবে আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনো কোনো গাইডলাইন প্রণয়ন করা না হলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। এদিকে ঝুঁকি বিবেচনায় গণমাধ্যমকর্মীরা সরকারের কাছে প্রণোদনার আবেদন জানিয়েছেন।গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, সংবাদ সংগ্রহের কাজে বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়। মনের ভেতরে আতঙ্ক কাজ করে। এ কারণে আক্রান্ত হব ধরে নিয়েই কাজ করে যেতে হচ্ছে। করোনাভাইরাস ইস্যু গণমাধ্যমের জন্য নতুন ইস্যু।সাধারণত যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যে ধরনের প্রস্তুতি দেখা যায় শুরুর দিকে দেখা গেছে আমাদের মিডিয়াগুলো ওই ধরনের প্রস্তুতির দিকে যাচ্ছে। গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে যে সার্বিক ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার তা নেওয়া হয়নি। এর ফলে ১৬ জন সাংবাদিক ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন। সাংবাদিকদের সমস্যা একজন ডাক্তারের থেকে ভিন্ন। একজন ডাক্তার যখন কোনো রোগীকে সেবা দিতে যান তখন তিনি জানেন, রোগীর কাছে যাচ্ছেন। কিন্তু সাংবাদিক যখন সংবাদ সংগ্রহ করতে যান তখন তিনি জানেন না, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি কিংবা রোগী আছে কিনা। গণমাধ্যমকর্মীরা এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় চলে গেছে। ইতোমধ্যে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে, আগামী দিনগুলোতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট হবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।
ভিন্ন এক মহিমায় শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান
২৪এপ্রিল,শুক্রবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,নিউজ একাত্তর ডট কম: লকডাউন। অবরোধ। ঘরবন্দি মানুষ। ১৮০ কোটি মুসলিমের বেশিরভাগের অবস্থাও তাই। এমনই এক পরিস্থিতিতে তাদের জীবনে এসেছে রমজান। মুসলিমদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র মাস। সারা পৃথিবীর মুসলমানদের জন্য এ এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। এমন রমজান তাদের জীবনে আগে কখনও আসেনি। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মসজিদে বড় জামাতে এখন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যে কারণে মসজিদে গিয়ে তারাবির নামাজ পড়ার সুযোগ এবার তাদের হচ্ছে না। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়ার গবেষক ফাইজাল মূসা আল জাজিরাকে বলেছেন,এমন পরিস্থিতি অতীতে কখনও হয়েছে আমার জানা নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ গেছে, অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসেছে, কিন্তু অতীতের কোন লেখালেখিতে বা সাহিত্যে বর্তমান পরিস্থিতির মত কিছু পাওয়া যায় না। যুদ্ধের সময়, দুর্যোগের সময়েও মুসলমানরা একসাথে তাদের ধর্মীয় আচার পালন করেছে। নজিরবিহীন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি বিশ্ব। চারদিকে কেবল ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি। এমন পরিস্থিতি কারও কল্পনাতেও ছিল না। হতাশা চারদিকে। কিন্তু মুমিনের জীবনেতো হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। ইসলামি স্কলাররা বলছেন, মুসলিমরা প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা চালাবে আর আল্লাহর ওপর ভরসা করবে। মানুষ মারা যাচ্ছে। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সারা পৃথিবীতে দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে করোনা। এটা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। আবার এই পরিস্থিতিতে বহু মানুষ তার স্রষ্টার কাছে, আল্লাহর কাছে ফিরে গেছেন। মানুষ নিজেকে সমর্পণ করেছেন আল্লাহর কাছে। আমাদের জীবনযে কত ক্ষণস্থায়ী, যেকোন মুহুর্তে যে তা চলে যেতে পারে সে চিরন্তন সত্যটা আবার মানুষ বুঝতে শুরু করেছে। স্রষ্টা আমাদের কতোটা করুণা করেন তা আমরা প্রতিটা মুহুর্তে অনুভব করতে পারছি। মানুষের এই অসহায়ত্বের সময়ে ভিন্ন এক মহিমায় আমাদের দেশেও হাজির হচ্ছে রমজান। সংযমের মাস। এবারের রমজান আমাদের সামনে সুযোগ হয়ে এসেছে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শণের। ইসলামি স্কলাররা বাড়িতে তারাবির নামাজ পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে খোঁজ নিন আপনার প্রতিবেশির। নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই। আর আত্মসমর্পণ করি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে। ফিরে যাই আল্লাহর কাছে। সুরা আত-তাগাবুনের ১১ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, কোন মুসিবত কখনও আল্লাহর অনুমতি ছাড়া আসে না। যে আল্লাহর উপর ঈমান রাখে আল্লাহ তার দিলকে হেদায়াত দান করেন। আর আল্লাহ সব বিষয়ে জানেন।
সারাবিশ্বে করোনা প্রতিরোধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকরাই
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম:দিন যতই যাচ্ছে, করোনা পরিস্থিতির ততই অবনতি হচ্ছে। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সামনে কঠিন পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। বিশ্লেষকরাও বলছেন, এ মাসটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে, চিকিৎসা ব্যবস্থা সপ্রসারিত করা না হলে সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা কার্যক্রম গতিশীল করার বিকল্প নেই।এমনকি করোনা বহির্ভূত রোগের চিকিৎসাও বন্ধ বা স্থগিত। হাসপাতালগুলোর নামকরা চিকিৎসকরা চেম্বার বন্ধ করে বাসায় ঢুকে আছে। অর্থাৎ, রোগ নিরাময় এবং রোগীর সেবা নিয়ে যে হাসপাতাল ও চিকিৎসক, তারা এ আদর্শ দূরে ঠেলে চলে গেছে। আমাদের দেশে বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলো যতটা না চিকিৎসা সেবার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে উঠেছে, তার চেয়ে বেশি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তাদের এই ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির অনেক নজির দেশের মানুষের জানা। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, দেশের ক্রান্তিকালে এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং তাদের চিকিৎসক হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগী দেখলেই চিকিৎসা দিতে অপারগতা দেখিয়ে যাচ্ছে, না হয় কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং চিকিৎসকদের এমন সুবিধাবাদী আচরণে যৌক্তিক কারণেই প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেন এবং এমন চিকিৎসকের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে চিকিৎসা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উষ্মা প্রকাশের পর বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনর চিকিৎসা দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। বলা বাহুল্য, প্রধানমন্ত্রী এই উষ্মা প্রকাশ না করলে তারা করোনা চিকিৎসার ঘোষণা দিত না। প্রশ্ন হচ্ছে, অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পন্ন বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কেন চিকিৎসার কথা বলতে হবে? দেশ এবং দেশের মানুষের দুঃসময়ে তাদের এভাবে গুটিয়ে থাকা কি চরম অমানবিকতা নয়? অথচ চিকিৎসা সেবা মানে মানব সেবায় ব্রতী হওয়া। আমাদের দেশের অধিকাংশ চিকিৎসক এখন আর এই আদর্শ ধারণ করে না। তাদের লক্ষ্যই হয়ে পড়েছে এ পেশার মাধ্যমে ব্যবসা করা। যার প্রমাণ দিয়েছে করোনা চিকিৎসা দিতে অনীহা প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে। এ ক্ষেত্রে তাদের মানবিকতার কোনো প্রকাশ ঘটেনি। অথচ আমরা দেখেছি, ইটালিতে করোনা চিকিৎসা করতে গিয়ে ইতোমধ্যে অন্তত ১০০ জন চিকিৎসক নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে। এক চিকিৎসক দম্পতি রোগীর চিকিৎসা দিতে দিতে একই দিনে মৃত্যুবরণ করে মানুষের মনে ভাস্বর হয়ে রয়েছে। এছাড়া ইউরোপ-আমেরিকায় অবসরে চলে যাওয়া অনেক চিকিৎসক নিজেদের এ পেশায় ফিরিয়ে এনে করোনা চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছে। তাদের কেউ জোরও করেনি কিংবা আহবান জানায়নি। স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে মানবতার সেবায় তারা আত্মনিয়োগ করেছে। এর বিপরীত চিত্র দেখা যায় আমাদের দেশে। আমাদের বেসরকারি হাসপাতাল এবং অধিকাংশ চিকিৎসক ব্যবসা বুঝলেও মানবতা বোঝে না। করোনা পরিস্থিতির ধারাবাহিক অবনতির আগেই আমরা করোনা চিকিৎসায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সবার আগে নিশ্চিত করার কথা বলেছি। কারণ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাতে না পারলে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে। ইতোমধ্যে সরকারের তরফ থেকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত পিপিইসহ সনাক্তকরণ কিট দেয়া হয়েছে। তারপরও অনেক চিকিৎসকের মধ্যে অনীহার প্রবণতা রয়েছে। অথচ মানবতার সেবায় নিজের পেশার যথার্থতা প্রমাণের এটাই উত্তম সুযোগ। এ পেশায় ঝুঁকি থাকা স্বাভাবিক। তাই বলে দেশ ও জাতির সংকটকালে পিছিয়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। চীনের চিকিৎসকরা যদি পিছিয়ে থাকত, তাহলে দেশটির মহামারী কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা কি কল্পনা করা যায়? বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা চিকিৎসা দেয়ার ঘোষণা দিলেও এর জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি নেয়া দরকার তার কিছুই এখন পর্যন্ত নেয়নি। তাদেরই প্রমাণ করতে হবে, এ ঘোষণা দায় সারার জন্য দেয়া নয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত হাসপাতালগুলো এই দুদিনে মানব সেবায় সর্বোচ্চ অবদান রাখতে এটাই সকলের কামনা। বলা বাহুল্য, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলো এগিয়ে এলে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসত। চিকিৎসকদেরও উচিৎ করোনা মহামারী বিস্তার ঠেকাতে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসা। সাধারণ মানুষের পক্ষে করোনা প্রতিরোধ কি সম্ভব? সারাবিশ্বে করোনা প্রতিরোধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকরাই। যুদ্ধটা একার্থে তাদেরই। তারা জান বাজি করেই লড়ে যাচ্ছে। তারা ভালো করেই জানে, করোনা প্রতিরোধ করতে না পারলে এ থেক কেউই রক্ষা পাবে না। আমরা আশা করব, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং চিকিৎসক সকলেই করোনা চিকিৎসায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসবে। সরকারের উচিত হবে বেসরকারি হাসপাতালগুলো কার্যকরভাবে করোনা চিকিৎসা ও অন্যান্য চিকিৎসা দিচ্ছে কিনা তা মনিটর করা। যারা চিকিৎসা দিচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া।লেখক:মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সম্পাদক,নিউজ একাত্তর ডট কম ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান,দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশ ।
চৈত্রসংক্রান্তি আজ শেষ,আগামীকাল পহেলা বৈশাখ
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম:১৪২৬ বঙ্গাব্দের শেষ দিন আজ। বাংলার রীতি অনুসারে বর্ষ বিদায়ের বিশেষ দিন চৈত্রসংক্রান্তি। কবি জীবনানন্দের ভাষায় পুরনো সে-নক্ষত্রের দিন শেষ হয়/নতুনেরা আসিতেছে বলে।আসছে নতুন বছর ১৪২৭ বঙ্গাব্দ। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বর্ষবরেণের দিন পহেলা বৈশাখ। এ কারণেই জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় আর নতুনকে বরণের প্রস্তুতিতে আজ মুখর থাকার কথা বাংলাদেশ ও পাশের দেশ ভারতের বাঙালি অধ্যুষিত জনপদগুলো। কিন্তু মরণব্যাধি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে জনসমাগম এড়ানোর জন্য বর্ষ বিদায় ও নববর্ষ বরণের সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। বাংলা সনের সমাপনী মাস চৈত্রের শেষ দিনটি সনাতন বাঙালির লৌকিক আচারের চৈত্রসংক্রান্তি।পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নিউজ একাত্তর ডট কম এর সকল লেখক, পাঠক, সংবাদকর্মী, বিজ্ঞাপনদাতা এবং শুভানুধ্যায়ীদের ও দেশবাসিকে বাংলা নববর্ষের শভেচ্ছা।
মানুষ নয়, মনুষ্যত্বের মৃত্যুতে দু:খ হয়
২২মার্চ,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: দর্শন মানে দেখা, দেখলে দার্শনিক হয় না। কোপালের চোখ দিয়ে দেখার নাম দর্শন নয়, অন্তরের চোখ দিয়ে দেখলে দার্শনিক হয়। এই পৃথিবীতে কোন কিছুই স্থায়ী নয়। কোন জিনিসের সৃষ্টি হলে তার ধ্বংস হবেই - সেই কারণে পৃথিবীর উন্নত জীব মানুষ মরণশীল । মৃত্যু স্বাভাবিক - তাই মৃত্যুতে কোন দুঃখ নেই। কিন্তু এই মানুষের মধ্যে মুল্যবান জিনিস হল মনুষ্যত্ব - যার জন্য সে অন্নান্য প্রাণীর চেয়ে উন্নত। এই মনুষ্যত্ব যখন সে হারিয়ে ফেলে তখন সে পরিনত হয় হিংস্র পশুতে। প্রবাদ আছে, মানুষের জন্ম শিশু, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আদর্শ চেতন যিশু না হয় পশু। কবি কাজী নজরুল ইসলাম লেখেছেন- শুন আমরা বৃদ্ধি পাচ্ছি গরু-ছাগলের মত। কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদ বলেছেন, পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ জানে না তারা মানুষ, জানলে অমানুষের কাজ করতো না। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, আমি মানুষের মৃত্যুতে দুঃখ পাই না মনুষ্যত্বের মৃত্যুতে দুঃখ পাই। মানুষের মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা কিন্তু মনুষ্যত্বের নয়। পশুর গর্ভে পশুর জন্ম হয়, বৃক্ষের জন্ম বৃক্ষে, কিন্তু মানুষের গর্ভে মানুষ হয় না। মানুষ মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হয়। পশুকে পশু হওয়ার, বৃক্ষকে বৃক্ষ হওয়ার আহ্বান জানানো হয় না, শুধু মানুষকেই মানুষ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। যে ব্যক্তি মানুষ ও অমানুষের পার্থক্য বুঝেনা সে প্রকৃত মানুষ নয়। মানুষ ও অমানুষের পার্থক্য বুঝতে লাগে পরিশুদ্ধ হৃদয়। পশুকে অপশু বলে কেউ সম্বোধন করে না, কিন্তু আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হয়ে যখন পশুর কাজ করে তখন তাকে বলে অমানুষ। কোন মানুষের মনুষ্যত্ব এর মৃত্যু হলে প্রত্যক্ষ না হোক, পরোক্ষ ভাবে সেই মানুষের মৃত্যু হয়। যে মানুষ তার মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে সে গভীর অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যায় এবং তার মৃত্যুর পর পৃথিবীর কেউ আর তাকে মনে রাখে না। আর যে মানুষের মনুষ্যত্ব বেঁচে থাকে, সে দেশের কল্যানে কিছু করে, তাই সে পৃথিবীর মানুষের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। হয়তো তার নশ্বর দেহের পরিসমাপ্তি ঘটে, কিন্তু তার কৃতিত্বের পরিসমাপ্তি ঘটে না, যার জন্য সে অমর হয়ে থাকে।লেখকঃ মো. ইরফান চৌধুরী,প্রচার ও প্রকাশনা সচিব(এমজেএফ), চট্টগ্রাম মহানগর,ব্লগার ও সোশ্যাল এওয়ারন্যাস ওয়ার্কার,প্রাবন্ধিক ও (ছাত্র)।

বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর