পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ডিসেম্বরে শুরু : সিইসি
০২নভেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জানুয়ারির মধ্যে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যেসব পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে, সেগুলোর ভোট আগামী ডিসেম্বরের শেষ দিকে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আপাতত পাঁচ ধাপে এসব নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। ইসির আশা, পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন মে মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে। পৌরসভার নির্বাচন ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সোমবার (২ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে এ তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। সিইসি বলেন, আজ আমরা লম্বা মিটিং করেছি। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন যেগুলো ডিউ হয়েছে, সেগুলো পরিচালনা করা, শিডিউল তৈরি এবং রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ থেকে শুরু করে যেগুলো করণীয়, সেগুলো ঠিক করেছি। জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে যেসব নির্বাচন ডিউ হবে, সেগুলো হয়তো আমরা করে ফেলবো, হয়তো ডিসেম্বরের শেষ দিকে। সেরকম প্রস্তুতি আমাদের আছে। তিনি বলেন, পৌরসভার নির্বাচন ইভিএমে হবে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচন বা সাধারণ নির্বাচন সবগুলো ইভিএমে করা যাবে না। হয়তো কিছুসংখ্যক করা যেতে পারে, এনআইডির ডিজি পৌরসভার নির্বাচনগুলো ঠিক করার পরে যদি মনে করেন, তার ক্যাপাসিটি আছে তবে হয়তো কিছু নির্বাচন ইভিএমে করবে। সিইসি জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পৌরসভা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের যেসব নির্বাচন ডিউ হবে, সেগুলো করা হবে। এ সময়ের পৌরসভা খালি হবে ২০টির ওপর। এছাড়া অনেকগুলো হবে উপনির্বাচন। নূরুল হুদা বলেন, আমরা আশা করি, পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন মে মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে। এগুলো ধাপে ধাপে করা হবে। আমাদের অনুমান, পাঁচটি ধাপে নির্বাচন শেষ করতে পারবো। এখনও আমরা ঠিক করিনি কয় ধাপে নির্বাচন করা হবে।
নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ: মালিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ
০২নভেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের দায়ে দুই ভবন মালিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। সোমবার (২ নভেম্বর) দুই ভবন মালিক আদালতে আত্মসমর্পণ করলে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল আলম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তারা হলেন- নগরের আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডের হোটেল ইস্টার্ন ভিউ’র মালিক মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া এবং তার স্ত্রী কহিনুর বেগম। স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফয়েজ আহমদ জানান, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া এবং কহিনুর বেগম সিডিএ থেকে ২টি ৬ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেন। কিন্তু তারা নকশা বহির্ভূতভাবে একটি ভবন ৬ তলার পরিবর্তে ৮ তলা এবং অন্যটি ৬ তলার পরিবর্তে ১১ তলা নির্মাণ করেন। অথারাইজেশন বিভাগ এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। ফয়েজ আহমদ বলেন, আদালত মামলা দুটি আমলে নিয়ে দুই আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন। সোমবার তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গান্ধী আশ্রম-উন্নয়ন বোর্ড আইন অনুমোদন
০২নভেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গান্ধী আশ্রম (ট্রাস্টি বোর্ড) আইন, ২০২০ এবং উন্নয়ন বোর্ড আইনসমূহ (বিলুপ্তকরণ) আইন, ২০২০ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (০২ নভেম্বর) ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয় প্রান্ত থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এতে অংশ নেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সামরিক শাসনামলের দ্য গান্ধী আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্টি অর্ডিন্যান্স-১৯৭৫ করে বাংলায় নতুন আইন করে নিয়ে আসা হয়েছে। নতুন করে কোনো বিধান এরমধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আইনের উল্লেখযোগ্য দিক নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গান্ধী ট্রাস্টি একটি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হবে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে। আইনের বিধানাবলি অনুযায়ী স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন ও হস্তান্তর বোর্ডের কাছে থাকবে। সরকার একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবেন এবং ছয়জন ট্রাস্টি মিলে সাতজনের বোর্ড হবে। আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এ বোর্ড জনগণকে শান্তি ও সম্প্রতিতে জীবন-যাপন, সাবলম্বী করতে সক্ষম করে এমন প্রশিক্ষণ দেবে, সুতাকাটা, বুনন, মৎস্য চাষ, কুঠির শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিধবা-এতিম-দুস্থদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ এসব কাজের মধ্যে কার্যাবলি সীমাবদ্ধ থাকবে। বোর্ডের একটি তহবিল থাকবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারসহ অন্যান্য উৎস থেকে তারা তহবিল সংগ্রহ করবে। উন্নয়ন বোর্ড আইনসমূহ (বিলুপ্তকরণ) আইন, ২০২০ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দ্য ডেভেলপমেন্ট বোর্ড লস অর্ডিন্যান্স-১৯৭৬ অনুযায়ী ডিভিশনাল ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, জেলা ডেভেপমেন্ট বোর্ড, হাওর ডেভেলপমেন্ট বোর্ড ইত্যাদি থাকবে না। এটা বাংলায় নিয়ে আসা হয়েছে।
কাশিমপুর কারাগারে হত্যা মামলার আসামির ফাঁসি কার্যকর
০২নভেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী সন্তানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি আব্দুল গফুরের (৪৭) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। রোববার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে কারা কর্তৃপক্ষ। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আব্দুল গফুর লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানার দক্ষিণ চরলরেঞ্জ এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে। এ সময় গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম, সিভিল সার্জন ডা. মো. খায়রুজ্জামান, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানায় পারিবারিক কলহের জেরে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী কন্যা শিশুকে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়। এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৮ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রোববার রাতে কাশিমপুর কারাগারে এ রায় কার্যকর করা হয়।
চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরের কার্যক্রম ঢেলে সাজানো হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
০১নভেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরের কার্যক্রম ঢেলে সাজানো হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। রোববার (১ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরের কার্যক্রম অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরের প্রশাসনিক ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) চেয়ারম্যান কাজী হাসান আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. তৌফিকুল আরিফ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, বিএফডিসির পরিচালক রশিদ আহমদ, চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরের মহাব্যবস্থাপক কমান্ডার এম আর কে জাকারিয়াসহ চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, চিন্তা-চেতনা ও পরিকল্পনাকে ঘিরে চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৎস্য সেক্টরের উন্নয়নের জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা করছেন। মৎস্য বন্দরের উন্নয়নে যা কিছু করা দরকার, সরকার সবকিছুই করবে। আমরা সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কর্ম সম্পাদনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করা চলবে না। এ প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে অর্থবহ করা যায়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ দিন সকালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের আওতাধীন আঞ্চলিক হাঁস-মুরগী খামার পরিদর্শন করে খামারের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। এরপর বাংলাদেশ ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে (পিআরটিসি) অ্যানিমেল ডিজিজ ডায়াগনস্টিক ল্যাব এবং ফিড অ্যানালাইসিস ও ফুড সেফটি ল্যাব পরিদর্শন করেন তিনি। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন তিনি। একই দিন দুপুরে মেরিন ফিশারিজ অ্যাকাডেমিতে নবনির্মিত অগ্রণী ব্যাংক ভবন উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।
দক্ষ যুব সমাজ গড়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
০১নভেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা বহুমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যাতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, যেন পর মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেরা কাজ করতে পারে সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। তিনি বলেন, জাতির পিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ছাত্র ও যুব সমাজই অস্ত্র তুলে নিয়েছিল, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। আমাদের প্রতিটি অর্জনের পেছনে যুবকদের অনেক অবদান রয়েছে। আজ রোববার বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। গণভবন থেকে ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার প্রধান বলেন, মাত্র ৫৪ বছর বয়সেই ঘাতকদের গুলিতে বঙ্গবন্ধুকে চলে যেতে হয়েছে। তিনি দেশ স্বাধীন করে দিয়েছিলেন যাতে এ দেশের মানুষ উন্নত জীবন পায়। একটি ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। মাত্র ৯ মাসেই তিনি একটি সংবিধান রচনা করেছিলেন। যেখানে এদেশের যুবকদের অধিকার ও কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশ গড়ে তোলার পেছনে যুবকদেরও অবদান রয়েছে। একটি দেশকে গড়ে তুলতে হলে যে বয়সটি দরকার, সেটা যুবকদেরই বয়স। এ বয়সেই সবকিছু চিন্তা ভাবনা করে মেধা ও শ্রম দিয়ে একটি দেশ গড়ে তোলা যায়। শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫- পরবর্তী সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা আমাদের ছাত্র ও যুবকদের বিভ্রান্তের পথে নিয়েছিল। তাদের হাতে অস্ত্র ও অর্থ তুলে দিয়ে অবৈধ ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অপরদিকে, সেই সময়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫-৯৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ এক কদমও এগোতে পারেনি। অথচ আমাদের ভাল সম্ভাবনা ছিল। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে সবচেয়ে বেশি তরুণ প্রজন্ম রয়েছে, যারা সুযোগ পেলে দেশকে ভাল কিছু দিতে পারে, কাজ করতে পারে। জাতির পিতা সেদিকে লক্ষ্যই রেখে যুবকদের প্রশিক্ষিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন এই যুবকরাই। বাংলাদেশ যাতে বিশ্বের বুকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে। সেই সাথে আমাদের দেশ যেন আত্মনির্ভরশীল ও আত্মপর্যাদাশীল হতে পারে সে জন্য জাতির পিতার আদর্শ সামনে নিয়ে আমাদের যুব সমাজ গড়ে তুলতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
পায়েল হত্যার দায়ে হানিফ বাসের চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারের মৃত্যুদণ্ড
০১নভেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুই বছর আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েলকে হত্যা করে সেতুর উপর থেকে লাশ ফেলে দেওয়ার ঘটনায় হানিফ পরিবহনের বাস চালক, তার সহকারী ও সুপারভাইজারের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রোববার চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। মামলার তিন আসামি হানিফ পরিবহনের বাসচালক জামাল হোসেন, তার সহকারী ও ভাই ফয়সাল হোসেন এবং সুপারভাইজার জনি এ সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পায়েলের মামা মামলার বাদী গোলাম সরোয়ার্দী বিপ্লব আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার রায় পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করলেন। ২০১৮ সালের ২১ জুলাই রাতে দুই বন্ধু আকিবুর রহমান আদর ও মহিউদ্দিনের সঙ্গে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে রওনা হওয়ার পর নিখোঁজ হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েল। ২৩ জুলাই মুন্সিগঞ্জ উপজেলার ভাটেরচর সেতুর নিচের খাল থেকে পায়েলের লাশ উদ্ধার করে গজারিয়া থানা পুলিশ। এরপর হানিফ পরিবহনের ওই বাসের সুপারভাইজার জনিকে ঢাকার মতিঝিল এবং চালক জামাল হোসেন ও তার সহকারী ফয়সাল হোসেনকে আরামবাগ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তাদের জবানবন্দির বরাতে পুলিশ জানায়, গজারিয়া এলাকায় গাড়ি যানজটে পড়ায় প্রসাব করার কথা বলে বাস থেকে নেমেছিলেন পায়েল। বাস চলতে শুরু করলে তিনি দৌড়ে এসে ওঠার সময় দরজার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সংজ্ঞা হারান। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার বদলে দায় এড়াতে ভাটেরচর সেতু থেকে নিচের খালে ফেলে বাস নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন চালক ও সুপারভাইজার। পায়েলকে অচেতন অবস্থায় সেতু থেকে খালে ফেলে দেওয়ার আগে তার পরিচয় গোপন করতে বাসচালক মুখ থেঁতলে দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করে তার পরিবার। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র পায়েলের বাসা চট্টগ্রামের হালিশহর সিডিএ আবাসিক এলাকায়। তার বাবা গোলাম মাওলা ও বড় ভাই গোলাম মোস্তফা কাতার প্রবাসী। বড় ভাইয়ের সন্তান হওয়ার খবরে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন পায়েল। সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পথেই ঘটে ওই ঘটনা। পায়েলের মৃত্যুর পর তার মামা গোলাম সরোয়ার্দী বিপ্লব বাদী হয়ে চালক জামাল হোসেন, তার সহকারী ফয়সাল হোসেন ও সুপারভাইজার জনিকে আসামি করে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানায় ওই হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গজারিয়া থানার পুলিশ ওইবছর ৩ অক্টোবর তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। প্রথমে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার বিচার কাজ শুরু হলেও পায়েলের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ মামলাটি চট্টগ্রামের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরে করে। ওই আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আবদুল হালিম ২০১৯ সালের ২ এপ্রিল তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। সেখানে সাক্ষ্যগ্রহণও শুরু হয়। কিন্তু আসামিপক্ষের আবেদনে হাই কোর্টের আদেশে ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ পাঠানো হয়। আসামিপক্ষ ঢাকার এ ট্রাইবুনালে আগের আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের তলব করে (রিকল) পুনরায় জেরার আবেদন জানান। বিচারক তাতে সায় দিলে আবার শুরু থেকে সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ফলে রায় পিছিয়ে যায়।

জাতীয় পাতার আরো খবর