রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন
১২নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেট, গুলিস্তান রমনা ভবন ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তিনটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) পৌনে ২টার দিকে পল্টন থানার (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, গুলিস্তান রমনা ভবনের সামনে পল্টন থেকে সদরঘাটগামী ভিক্টর ক্লাসিক গাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে কেউ আগুন লাগিয়ে দিতে পারে। বাসটি যাত্রী বোঝাই ছিল। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মামুন অর রশিদ বলেন, আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রেসক্লাবের সামনে ঘাটারচর টু চিটাগাং রোডে চলাচলকারী রজনীগন্ধা পরিবহনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, রাজধানীর শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে ও গুলিস্তান রমনা ভবনের সামনে দুটি গাড়িতে আগুনের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে দুটি করে মোট চারটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং আগুন নির্বাপণ করা হয়েছে। হতাহতের কোনো সংবাদ এখনো পাওয়া যায়নি।
বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি কমিয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
১১নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমিয়ে কিভাবে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা যায় সে ব্যাপারে সুপ্রীম কোর্টকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। বুধবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে সুপ্রীম কোর্টের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৯ গ্রহণ করে রাষ্ট্রপতি বিচারকদের বলেন, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমিয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করুন। রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী বছর আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে বিচার বিভাগ স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে বিচারপতিদের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে আবদুল হামিদের সাথে সাক্ষাত করে রিপোর্ট পেশ করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতিকে বার্ষিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক কার্যক্রম বিশেষ করে করোনাকালে বিচার কার্যক্রম সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রপতি করোনাকালে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করায় বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, করোনায় বিচার বিভাগের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছেন এবং অনেকে মারাও গেছেন। তারপরও বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন- বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার, বিচারপতি তারিক-উল-করিম, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি নাইমা হায়দার। এ সময় রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
১৭ নভেম্বর থেকে সিলেট-মাস্কাট রুটে চলবে ইউএস-বাংলা
১১নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে সিলেট-মাস্কাট-সিলেট রুটে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স জানায়, সপ্তাহের প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার রাত ৭টা ৩০মিনিটে সিলেটের এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে উড্ডয়ন করবে এবং স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩০ মিনিটে মাস্কাটে অবতরণ করবে। প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার মাস্কাট থেকে স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে উড্ডয়ন করে পরদিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে সিলেটে অবতরণ করবে। বর্তমানে ইউএস-বাংলা প্রতি সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে মাস্কাট ও বুধ ও রোববার চট্টগ্রাম থেকে মাস্কাট রুটে দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইউএস-বাংলা সোম ও বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাস্কাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং পরেরদিন মঙ্গল ও শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১টায় মাস্কাটে অবতরণ করে। অন্যদিকে মাস্কাট থেকে মঙ্গল ও শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ২টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে এবং সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আবার বুধ ও রোববার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে মাস্কাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে মাস্কাটে অবতরণ করে। অপর দিকে মাস্কাট থেকে বৃহস্পতি ও সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১২ টা ৩০মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে এবং সকাল ৫টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামে অবতরণ করে। বর্তমানে মাস্কাট ছাড়াও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক রুট গুয়াংজু, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, দোহা, কলকাতা ও চেন্নাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
সারোয়ার আলমকে বদলির নেপথ্যে কোনো কারণ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১১নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: Rab এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে বদলি করার নেপথ্যে কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বুধবার (১১ নভেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান। Rab সদরদফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে গত ৯ নভেম্বর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। তিনি জালিয়াতি, ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সারোয়ার আলমকে বদলি করার নেপথ্যে কোনো কারণ আছে কি-না, জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, নেপথ্যে কোনো কারণ নেই। সরকারি কর্মকর্তা; দেখেন আমার পিআরও আজ এখানে আছেন, কালকে উনি অন্যখানে চলে যেতে পারেন, এটাই নিয়ম। আমাদের সেক্রেটারি (সচিব) সাহেবরা বদলি হয়ে যাচ্ছেন। আমাদের জয়েন্ট সেক্রেটারিরা প্রমোশন পেয়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন। এটাই সরকারি নিয়ম। সারোয়ার আলম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব অনেক দিন ধরে ওখানে ছিলেন। তিনি হয়তো আরও ভালো জায়গায় যাবেন, ভালো জায়গার জন্য অন্য জায়গায় সরবেন, তাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এএসপি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হচ্ছে
১১নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্যাতনে পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এএসপি) মোহাম্মদ আনিসুল করিম শিপনের মৃত্যুর ঘটনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। বুধবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে এক বার্তায় এ তথ্য জানায় পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ। পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, এএসপি শিপন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইজিপির নির্দেশে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে যেন এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার কোনো পুনরাবৃত্তি না হয়। প্রসঙ্গত, উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিনিয়র এএসপি শিপনকে রাজধানীর আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন সেখানে কোনো মানসিক রোগের চিকিৎসক ছিলেন না। হাসপাতালের কর্মচারীরা চিকিৎসা দেয়ার অজুহাতে তাকে জোর করে দোতলার একটি অবজারভেশন কক্ষে তাকে নিয়ে যায়। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই কক্ষে নির্মম নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা ফয়েজ উদ্দিন বাদী হয়ে আদাবর থানায় মামলা করেন। মামলার ১০ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আনিসুল করিম শিপন ৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। সর্বশেষ তিনি বরিশাল মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তিনি এক সন্তানের জনক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
শেখ হাসিনা গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন: তথ্যমন্ত্রী
১১নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান ও এরশাদ সরকারের হাতে বন্দি ও ভূলুণ্ঠিত গণতন্ত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিরিয়ে এনেছেন বলে জানালেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। শহীদ নূর হোসেন স্মরণে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক জীবন্ত পোস্টার হিসেবে সব সময় নূর হোসেনের নাম রক্তাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে, এক্ষেত্রে নূর হোসেনের অবদান চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে আসার পর থেকেই গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। যে গণতন্ত্র বারবার জিয়াউর রহমান, এরশাদ সরকারের হাতে বন্দি ও ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, সেই গণতন্ত্রকে তিনি ফিরিয়ে এনেছেন। গতকাল মিন্টু রোডে সরকারি বাসভবনে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতিদ্বয়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে কীভাবে দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়েছিল, সেটা সবাই জানে। পরবর্তী সময়ে জনগণ যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রায় দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, তখনো তারা অব্যাহতভাবে ১২ বছর ধরে দেশকে অন্ধকারের দিকেই নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে, নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করেছে; বিএনপি নেতাদের এমন মন্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির এসব গত্বাঁধা অভিযোগ আমরা এক যুগ ধরে শুনে আসছি। বিএনপি যে জনগণকে নিয়ে ভাবে না, সেটিরই বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে তাদের সব বক্তৃতা-বিবৃতি, আন্দোলন-সংগ্রাম সবই নির্বাচন কমিশন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারকেন্দ্রিক। আর বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করেছে বিএনপি। তিনি জানান, বিএনপির জন্মটাই হয়েছে অগণতান্ত্রিকভাবে, সেনাছাউনির মধ্যে, শত শত সেনাবাহিনীর অফিসার এবং জওয়ানের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে।
পিতার কোলে আর যেতে পারবে না ছোট্ট শিশুটি
১০নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হাসিখুশি পরিবারটিতে এখন বিরাজ করছে বিষাদের ছায়া। পিতার কোলে আর যেতে পারবে না ছোট্ট শিশুটি। শিশুটি জানেও না তার পুলিশ অফিসার বাবা কখনো ফিরবে না। তিনি নিথর হয়ে গেছেন। পৃথিবীর নির্মম নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে না ফেরার দেশে বাবা। সোমবার সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে মানসিক চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিমকে টেনে-হিঁচড়ে ও ধস্তাধস্তি করে একটি কক্ষে নিয়ে যান হাসপাতালের ছয় কর্মী। দ্বিতীয়তলার ওই কক্ষে নেওয়ার পর তাকে মেঝেতে উপুড় করে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরা হয়। ধস্তাধস্তির সময় তাকে মারধরও করা হয়। একজন কনুই দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাতও করেন। ধস্তাধস্তির ঠিক ৪ মিনিটের মাথায় একেবারে নিস্তেজ হয়ে যান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় গাজীপুর মহানগরীর রাজবাড়ী মাঠে তার জানাজা হয়। এরপর শহরের কেন্দ্রীয় কবরাস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আনিসুল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাইজুদ্দিন আহমেদ রাজধানীর আদাবর থানায় মামলা করেছেন। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে তারা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। ওই সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আনিসুল করিমের ভাই রেজাউল করিম জানান, আনিসুল পারিবারিক ঝামেলার কারণে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তারা ভর্তির ফরম পূরণ করছিলেন। ওই সময় কাউন্টার থেকে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী তাকে দোতলায় নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা জানান যে আনিসুল অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। তাকে দ্রুত হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগজনিত সমস্যা থাকলেও তা তেমন প্রকট ছিল না। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিটুনিতেই তার মৃত্যু হয়েছে। ২০১১ সালে আনিসুল করিম বিয়ে করেন। তার স্ত্রীর নাম শারমিন সুলতানা। এ দম্পতির চার বছর বয়সী সাফরান নামে একটি ছেলে রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র আনিসুল করিম ৩১ বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। এক সন্তানের জনক আনিসুলের বাড়ি গাজীপুরে। সর্বশেষ আনিসুল করিম বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনারে দায়িত্বে ছিলেন। শেরেবাংলানগর থানার ওসি জানে আলম মিয়া বলেন, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আনিসুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ বলেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ৮-৯ জন লোক মিলে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করছেন। কেউ মাথায়, কেউ বুকে আঘাত করেছেন। কাউকে আবার এএসপি আনিসুল করিমের হাত বাঁধতে দেখা গেছে। তারা সবাই হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়, ক্লিনার, এখানে কেউ চিকিৎসক ছিলেন না। তাই আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড। সূত্র: দেশ বিদেশ
সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়: প্রধানমন্ত্রী
১০নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কোভিড-১৯ মহামারি স্মরণ করিয়ে দেয়, সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়। এজন্য বৈষম্য হ্রাস, দারিদ্র্য বিমোচন ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে আমাদের গ্রহকে সুরক্ষিত করতে হবে। আরো জোরদার করতে হবে আমাদের বহুপাক্ষিক প্রয়াস। স্পেন সরকার আয়োজিত বহুপাক্ষিকতা জোরদারে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে আগে ধারণ করা ভিডিও বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) একথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আজকের গ্লোবালাইজড বিশ্বে গঠনমূলক বহুপাক্ষিকতার কোনো বিকল্প নেই। মানবজাতির অভিন্ন অগ্রগতি ও আইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক নির্দেশনার এটিই একমাত্র পথ। কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে যে, সম্মিলিত কার্যক্রম, একতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপরই বৈশ্বিক সমৃদ্ধি নির্ভর করছে। ইতিহাস প্রমাণ করে যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা থেকে যে কোনো বিচ্যুতি মানবজাতির জন্য বিপর্যয় নিয়ে আসবে। মহামারির কারণে সংকটের মোকাবিলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জনগণের জীবিকার সুরক্ষায় আমরা ইতোমধ্যেই ১৪.১৪ বিলিয়ন বরাদ্দ দিয়েছি, যা আমাদের জিডিপির ৪.৩ শতাংশ। মহামারির প্রভাব সত্ত্বেও সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ ৫.২৪ শতাংশ জিডিপি অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পর্যায়ে বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টা না নিলে বৈশ্বিক পুনরুদ্ধার হবে না এবং কখনোই সেটি টেকসই হবে না। আমাদের সবাইকে আন্তর্জাতিক শান্তি, সুরক্ষা ও বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর জাতীয় কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। বাংলাদেশ বহুপক্ষীয়তার পতাকা বাহক এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে সর্বোচ্চ উপস্থিতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি-সুরক্ষার পক্ষে জোরালোভাবে কাজ করছে। আমরা এসডিজি বাস্তবায়নে গোটা সমাজ এই নীতি অবলম্বন করেছি, আমরা প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দ্বিতীয়বারের মতো ৪৮ সদস্যের ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের নেতৃত্বের জন্য নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ সম্মানিত বোধ করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এলডিসি অবস্থান থেকে উন্নয়ন ঘটিয়েছি। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে বহুপাক্ষিকতার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি ও আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে। জাতিসংঘের ৭৫তম বার্ষিকী স্মরণে বাংলাদেশে ২১ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক ঘোষণা গৃহীত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘোষণায় আমরা আমাদের একীভূত সমৃদ্ধির জন্য অংশীদারিত্বের দায়িত্ব ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার উপর জোর দিয়েছি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের জন্য ২০৩০ সালের এজেন্ডা এগিয়ে নিতে এবং প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। যদিও এসব আন্তর্জাতিক উপাদান ও বোঝাপাড়া থেকে সুবিধাগুলো অর্জনে বলিষ্ঠ বহুপক্ষীয়তা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহুপাক্ষিকতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার চেতনা বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত। এতে বলা হয়েছে, আমরা স্বাধীনতায় উন্নতি করতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আকাঙ্ক্ষাগুলো বজায় রেখে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার প্রতি আমাদের পূর্ণ অবদান রাখতে পারি। তিনি আরো বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) তার ভাষণে সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব এবং জাতিসংঘের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জাতিসংঘ দুঃখ, দুর্দশা ও সংঘাতের এই পৃথিবীতে ভবিষ্যৎ মানুষের আশার কেন্দ্র হয়ে থাকবে। তার মন্তব্য এখনও আমাদের বহুপাক্ষিকতার ভিত্তি হয়ে আছে। অনুষ্ঠানে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেন এবং কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট, কানাডার প্রধানমন্ত্রী, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, জর্ডানের উপপ্রধানমন্ত্রী, সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিউনিসিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কেরিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক ভাইস মিনিস্টারের আগে ধারণ করা ভিডিও ভাষণ অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়। জাতিসংঘের ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপনের ভিডিও এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের মন্তব্যের একটি ভিডিও প্রদর্শিত হয় এসময়।
৩ লাখ টন চাল আমদানি করবে সরকার
১০নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি বছর বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি সরকার। চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে চাল সরবরাহ করেননি মিলমালিকরা। উল্টো করোনা দুর্যোগের মধ্যেও বাজারে চালের দাম আরো বাড়িয়ে দেন তারা। যার কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরু, মাঝারি ও মোটা সব চালের দাম বাড়তির দিকে। সামনে আমনের ফলনে কোনো বিপর্যয় দেখা দিলে চালের বাজার আরো অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এ আশঙ্কা থেকে চলতি অর্থবছর দুই-তিন লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জিটুজি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এসব চাল আমদানি করা হবে। অর্থ ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় চাল আমদানির এ সিদ্ধান্ত হয়। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে ওই সভায় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, কৃষি সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভার কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিতরণ চাহিদা মিটিয়ে চলতি অর্থবছর শেষে সমাপনী সরকারি মজুদ সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা মজুদ গড়ে তোলা, বর্তমানে মোটা চালের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারদর এবং সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলতি অর্থবছর দুই-তিন লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বণিক বার্তাকে বলেন, চাল আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলেই আমদানি করা হবে। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে সরকারি পর্যায়ে সেভাবে চাল আমদানি হয়নি। এখন কোন প্রেক্ষাপটে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এবার প্রচুর বৃষ্টিপাত ছিল, চার-পাঁচবার বন্যা হয়েছে। তাই আমন উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না হওয়ার একটা শঙ্কা রয়েছে। তবে অতি বন্যায় যে পরিমাণ আমন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল তা হবে না। তার পরও যদি আমন উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না হয়, তাহলে আমরা হয়তো চাল আমদানি করব। তবে শুল্ক কমিয়ে বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করা হবে না। খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভাকে আমদানি পরিস্থিতির বিষয়ে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে গত ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২ লাখ ১৬ হাজার টন গম সরকারিভাবে আমদানি করা হয়েছে। তবে এ সময়ে সরকারিভাবে কোনো চাল আমদানি করা হয়নি। একই সময়ে বেসরকারিভাবে মাত্র ৬০ টন চাল ও ১৬ লাখ ৯১ হাজার টন গম আমদানি করা হয়েছে। সরকারিভাবে চাল আমদানির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয় চাল আমদানির সিদ্ধান্তটা সঠিক। কারণ বাংলাদেশে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় চালের বাজারে একটু ঘাটতি দেখা দিলে সেটা বড় প্রভাব ফেলে। সরকারের গুদামে যদি কিছুটা শর্ট দেখা দেয়, তাহলে বাইরেও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে চালের সংকট তৈরি করে। ফলে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। আবার তখন তড়িঘড়ি করে দেশের বাইরে থেকে আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও আমদানি সিন্ডিকেট সৃষ্টি হয়। তাই আমদানি করে হলেও সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ রাখতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি গুদামে মজুদ বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, কোনো কারণে যদি সরকারি গুদামে খাদ্যপণ্য কমে যায়, তাহলে বেসরকারি খাতে ব্যবসায়ীরাও সিন্ডিকেট করে খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, যা অতীতে তারা করেছে। তাই সময় থাকতেই আমদানি করে হলেও গুদামে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ গড়ে তোলা উচিত। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর দেশে খাদ্যশস্যের মোট মজুদের পরিমাণ ১০ লাখ ৩ হাজার মেট্টিক টন। এর মধ্যে চাল ৭ লাখ ২৫ হাজার টন এবং গম ২ লাখ ৭৮ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে সরকারের গম ও চাল মিলিয়ে খাদ্য মজুদ ছিল ১৫ লাখ ৯৬ হাজার টন। তার মানে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর খাদ্য মজুদের ঘাটতি প্রায় ছয় লাখ টন। আবার গত এক মাসের ব্যবধানে মজুদ কমেছে প্রায় তিন লাখ টন। তার মানে মজুদ কমছে খুব দ্রুত।

জাতীয় পাতার আরো খবর