আজ থেকে শুরু হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ
১৯নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সারাদেশে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২০। এবার এর প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রস্তুতি, দুর্যোগ মোকাবেলায় আনবে গতি। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ২১ নভেম্বর পর্যন্ত এ সপ্তাহ উদযাপন করবে। এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ এ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং কমপ্লেক্সে এ সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো শহিদুজ্জামান এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন উপস্থিত থাকবেন। ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ তাঁর বাণীতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও উন্নত প্রশিক্ষনের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, সরকার এ লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি বলেন, শিল্পায়ন ও নগরায়নের ব্যাপকতার ফলে দেশে দুর্ঘটনার হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন দুর্যোগে উদ্ধারকাজ পরিচালনায় দেখা দিচ্ছে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ। এসকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও উন্নত প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। সরকার এ লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমি আশা করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেন, আমি আশা করি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা নতুন উদ্যমে সাহস, সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবেন। শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সকল দুর্যোগ-দুর্ঘটনার বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যে ১৯ নভেম্বর থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২০ উদযাপিত হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। এ উপলক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি শুভেচ্ছা জানান। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা যায়, এবারের সপ্তাহ পালনের মূল লক্ষ্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করা। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তিন দিনব্যাপী সারাদেশে নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে।
শীতে করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতি আছে: প্রধানমন্ত্রী
১৮নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ও শীতকালে সংক্রমণ বৃদ্ধির যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব, সময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ বিশ্ব মহামারিকে সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ কিছুটা কমে এলেও যেকোনো মুহূর্তে তা আসন্ন শীতকালে আবার বেড়ে যেতে পারে বলে বিশেজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইতোমধ্যে ইউরোপ ও আমেরিকায় দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও শীতকালে সংক্রমণ বৃদ্ধির যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আসন্ন শীত মৌসুমে যাতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ না বাড়তে পারে সেজন্য নো মাস্ক, নো সার্ভিস নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সারাদেশের পয়েন্ট অব এন্ট্রিসমূহ যথা- বিমান, স্থল, নৌবন্দরসমূহে আগত যাত্রীদের স্ক্রিনিং কার্যক্রম ২১ জানুয়ারি থেকে অব্যাহত আছে। বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্ল্যান (বিপিআরপি) তৈরি করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। করোনার বর্তমান ও আসন্ন শীতকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশব্যাপী গৃহীত কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে ৬টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে ভ্যাকসিন সংগ্রহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৩ কোটি ভ্যাকসিন আমদানির লক্ষ্যে ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী সরকারিভাবে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কোয়ারেন্টিন কার্যক্রম অব্যাহত আছে। ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মোট ৩৬১টি কোয়ারেন্টিন সেন্টার প্রস্তুত আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা যাবে। মহামারি চলাকালে ঝুঁকি মোকাবিলায় অপ্রয়োজনীয় জমায়েত, সভা, সেমিনার সীমিত রাখা, মসজিদ, মন্দির, বিবাহ, খেলাধুলা, সিনেমা, থিয়েটার ও রাজনৈতিক সমাবেশ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। করোনা সংক্রমণ রোধে ব্যানার, লিফলেট, এক্স স্ট্যান্ড, ডিজিটাল ব্যানার, পেপার ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা করা হয়েছে এবং তা অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি। সরকারি দলের আরেক সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, করোনাকালে আমরা উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর কাছ থেকে জরুরি আপদকালীন অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে আপদকালীন সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৭২০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধের জন্য এশিয় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, করোনা ভাইরাসের টিকা ও চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহের জন্য এডিবি আরও ৩০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে। করোনাকালে কর্মসংস্থানের জন্য বিশ্ব ব্যাংক ১০৫ কোটি মার্কিন ডলার দিয়েছে। আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে তৈরি পোশাক খাতের জন্য ১১০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা পেয়েছি। জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৈরি পোশাক ও চামড়া শিল্পের জন্য ১১৩ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক আমাদের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে নিয়মের মধ্যে আনতে কমিটি করা হবে
১৮নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বা ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফর্মকে নিয়ম-নীতির মধ্যে আনতে একটি কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বুধবার (১৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করা দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষকে সুষ্ঠু সুন্দর বিনোদন দিতে পারে একইসঙ্গে দেশ ও সমাজ গঠন, তরুণদের মনন গঠন, দেশকে স্বপ্নের ঠিকানায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই প্ল্যাটফর্মগুলো কিভাবে কাজ করতে পারে সে নিয়ে একটি কমিটি করে দেবো। এই কমিটি শুধু নিয়ম-নীতির মধ্যে আনার জন্য কাজ করবে তা নয়। আমাদের দেশে এই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কিভাবে প্রমোট হয়, উদ্যোক্তারা আসে, দেশে এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়, সে বিষয়ে তারা সাজেশন দেবে। এটিই আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্ত। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ওভার দ্য টপ বা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম মানুষের ব্যবহারের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক। এজন্য মানুষ ধীরে ধীরে এই প্ল্যাটফর্মে অভ্যস্ত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ওটিটি কনটেন্ট নিয়ে অনেক পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। যা আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে কৃষ্টি ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এসেছিল। তখন আমরা সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছিলাম৷ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে একটি নিয়ম-নীতির মধ্যে আনার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভারতেও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কোন কিছু আপলোড করার আগে একটি নিয়ম-নীতির মধ্য করার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আমাদের আজকের বৈঠকের উদ্দেশ্য হচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে কীভাবে একটি নিয়ম-নীতির মধ্যে নিয়ে আসা যায়। একইসঙ্গে আমাদের দেশীয় উদ্যোক্তাদের এ বিষয়ে উৎসাহিত করা যায়। আমাদের দেশে এখন অন্য দেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এসে কাজ করছে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, তারা আমাদের দেশ থেকে রাজস্ব নিয়ে চলে যাচ্ছে। আমাদের দেশে কোন জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম না থাকায় নির্মাতারাও বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হচ্ছে। এ বাস্তবতায় আমরা চাই এখাতে আমাদের উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসুক। পাশাপাশি আমাদের দেশে বিশ্বমানের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। যেটি শুধু আমাদের দেশের মানুষদের বিনোদন দেবে তা নয়, বিশ্ব প্রেক্ষাপটে যাতে অন্য দেশ থেকেও আমরা রাজস্ব অর্জন করতে পারি সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের উদ্যোক্তারা কাজ করবে। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের (ডিএফপি) মাধ্যমে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম করা যায় কি না সেটা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। আজকে আমরা প্রাথমিকভাবে আলাপ আলোচনা করেছি। এ নিয়ে আমরা যারা বেসরকারি উদ্যোক্তা রয়েছে যারা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করে তাদের ডেকেছি। সেখানে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কিভাবে নিয়ম-নীতির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, সহসা আমরা একটি বড় কমিটি করে দেবো। বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরকার কোন রাজস্ব পাচ্ছে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আমাদের দেশ থেকে যেগুলো আপলোড করা হচ্ছে সেগুলো থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পাচ্ছে। কিন্তু যেগুলো বিদেশ থেকে আপলোড করা হচ্ছে সেগুলো থেকে কোন ভ্যাট পাচ্ছি না। বিশেষ করে যারা এই প্ল্যাটফর্ম চালায় তারা কোন ট্যাক্স দিচ্ছে না।
বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি থেকে সরবে না: জয়
১৮নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বাংলাদেশ তার প্রতিষ্ঠাকালীন ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি থেকে সরে যেতে পারে না। তিনি বলেন, আমরা যে ধর্মেরই হই না কেন, আমরা সবাই বাঙ্গালি। মঙ্গলবার রাতে ইয়াং বাংলা আয়োজিত জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর রিচার্স এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তরুণ সংগঠকদের উদ্দেশ্যে জয় বলেন, প্রতিবার আপনাদের দেখে আমি অনুপ্রাণিত হই। তিনি বলেন, আমাদের দেশে নালিশ করার একটা সংস্কৃতি রয়েছে। কিন্তু এই তরুণরা নালিশ না করে সমাজের সমস্যা সমাধানে নিজ মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। জয় বলেন, অন্যের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সিআরআই চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ যারা এখানে পুরস্কার পেয়েছেন এবং যারা পাননি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আপনারা সেই কাজটি করছেন। জয় আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে যখন বিভিন্ন উন্নত দেশে মৃত্যুর হার অনেক বেশি, সেখানে আমাদের মৃত্যুর হার কম। একটি মৃত্যুও অবশ্য কাম্য নয়। তারা তাদের মেধাবী ডাক্তারদের কথা শোনেনি। কিন্তু আমরা শুনেছি। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক ধারা এখনো উন্নতির দিকে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক উন্নত দেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কিন্তু নেতৃত্বগুণে আমরা এখনো উন্নতি করছি। দেশ ও সমাজের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাওয়া তরুণদের ৩০টি সংগঠনকে আজ জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে ইয়াং বাংলা আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এই ৩০টি সংগঠনকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। ডা. নুজহাত চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিআরআই ট্রাস্টি নসরুল হামিদ বিপু। বিজয়ীদের কাছে সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট ও ল্যাপটপ পৌঁছে দেয়া হবে। এ ছাড়াও শীর্ষ মনোনয়ন পাওয়া সকল তরুণ সংগঠন পাবে সার্টিফিকেট। প্রায় তিন লাখ সদস্য, ৫০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী এবং ৩১৫টির বেশি সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে চলা- ইয়াং বাংলার লক্ষ্য- ভিশন-২০২১ এ দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে তরুণ প্রজন্মকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনকে বিশ্বে তুলে ধরা।- বাসস
চতুর্থ পরীক্ষায়ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর করোনা নেগেটিভ
১৮নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চতুর্থবার কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ এসেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের। এর আগের তিনবারের পরীক্ষায় একবার করোনা পজিটিভ এসেছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। তবে ফল নেগেটিভ এসেছিল অন্য দুবার। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) গভীর রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত শনিবার (১৪ নভেম্বর) আইইডিসিআরে প্রথম পরীক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীনের কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। পরদিন রোববার (১৫ নভেম্বর) রাজারবাগ সম্মিলিত পুলিশ হাসপাতালে তাদের করোনা পরীক্ষায় দুজনেরই ফলাফল নেগেটিভ আসে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এর পরদিন সোমবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর ডিএমএফআর মলিকিউলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকসে তৃতীয় দফায় পরীক্ষা করা হলে মন্ত্রীর করোনা নেগেটিভ আসে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার চতুর্থ দফায় আইইডিসিআরে মন্ত্রীর কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হলে এর ফলাফল নেগেটিভ আসে। মন্ত্রী এবং জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব সুস্থ আছেন। ওনাদের শরীরে কোভিডের কোনো লক্ষণ নেই।
সংসদে বিল পাস: আকাশপথে দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ বাড়ছে ছয় গুণ
১৮নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আকাশপথে পরিবহনের সময় দুর্ঘটনায় যাত্রী আহত বা নিহত হলে এবং ব্যাগেজ নষ্ট বা হারিয়ে গেলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়াতে এ-সংক্রান্ত আইনের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় সংসদ। গতকাল সংসদে আকাশপথে পরিবহন (মন্ট্রিল কনভেনশন) বিল-২০২০ সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বিলের ওপর দেয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন। আগে আকাশপথে পরিবহনের সময় যাত্রীর মৃত্যু বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে ক্ষতিপূরণ ছিল ২০ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা। বিলটি পাসের ফলে এ ক্ষতিপূরণ ১ কোটি ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৩৪ টাকা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে ফ্লাইট বিলম্বের কারণে পরিবহনকারীর দায় ২০ ডলারের পরিবর্তে ৫ হাজার ৭৩৪ ডলার, ব্যাগেজ বিনষ্ট বা হারানোর জন্য প্রতি কেজিতে ২০ ডলারের পরিবর্তে ১ হাজার ৩৮১ ডলার এবং কার্গো বিমানের মালামাল বিনষ্ট বা হারানোর জন্য প্রতি কেজিতে ২০ ডলারের পরিবর্তে ২৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে তার সম্পত্তির বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তির মধ্যে এ আইনের বিধানের আলোকে ক্ষতিপূরণের অর্থ ভাগ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ পক্ষ বা বীমাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অথবা আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে। আকাশপথে পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনায় যাত্রীর মৃত্যু বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে এবং ব্যাগেজ নষ্ট বা হারানোর ক্ষেত্রে ওয়ারশ কনভেনশন-১৯২৯-এর আলোকে দেশে বর্তমানে প্রচলিত দ্য ক্যারেজ বাই এয়ার অ্যাক্ট-১৯৩৪, দ্য ক্যারেজ বাই এয়ার (ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন) অ্যাক্ট-১৯৬৬ এবং দ্য ক্যারেজ বাই এয়ার (সাপ্লিমেন্টারি কনভেনশন) অ্যাক্ট-১৯৬৮ আছে। এ তিনটি আইনের আলোকে প্রাণহানী, আঘাত ও ব্যাগেজ নষ্ট বা হারানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কম ছিল। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ১৯৯৯ সালে মন্ট্রিল কনভেনশন গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ওই কনভেনশনে ১৯৯৯ সালেই স্বাক্ষর করে। ১৯৯৯ সালে মন্ট্রিল কনভেনশন গ্রহণের পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশে তা অনুসমর্থন হয়নি। মন্ট্রিল কনভেনশনটি অনুসমর্থন করে নতুন আইন প্রণয়ন করলে মৃত্যু, আঘাত ও মালামাল হারানো বা নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাওয়া সহজ হবে। মন্ট্রিল কনভেনশন রেটিফিকশন করে প্রণীত খসড়া আইনটি অনুমোদিত হলে যাত্রীর মৃত্যু বা আঘাত, ব্যাগেজ ও কার্গোর ক্ষতি বা হারানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের হার পূর্বের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পাবে। গত জুন ২৩ জুন বিলটি সংসদে তোলা হয়। পরে বিলটি এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। গত জানুয়ারিতে বিলটিতে অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কনভেনশনের আলোকে নতুন আইন না হওয়ায় কোনো দুর্ঘটনার জন্য বর্তমানে প্রচলিত আইনে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ খুবই কম এবং তা আদায়ের পদ্ধতি অস্পষ্ট, সময়সাপেক্ষ ও জটিল। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আকাশে চলাচলকারী যাত্রীর অধিকার সুরক্ষা ও মালামাল পরিবহন সুনিশ্চিতকরণ, যাত্রীর মৃত্যুর কারণে পরিবারকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ প্রায় ছয় গুণ বৃদ্ধি এবং আদায় পদ্ধতি সহজ করতে আইনটি প্রয়োজন।
গ্রামীণ রাস্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশ
১৭নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গ্রামীণ রাস্তা ও অবকাঠামো নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫টি প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প: বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর প্রকল্পের প্রথম সংশোধন অনুমোদন দিয়েছে। এ প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নির্দেশনা দিয়েছেন। বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ৩০৫ কোটি বাড়িয়ে ৯৫০ কোটি থেকে ১ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনা সচিব আসাদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী খুবই গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন যে, আমরা অনেক কাজ করছি গ্রামীণ রাস্তা, গ্রামীণ অবকাঠামোর। কাজগুলো সত্যিকার হচ্ছে কি না, কোয়ালিটিফুল (মানসম্মত) হচ্ছে কি না- সেগুলো ভালো করে পরখ করতে হবে। এসময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেছেন, মাল্টিপ্লেয়ার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন। তারপরও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কাজের কোয়ালিটি যেন ঠিক থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তায় যেন পানি না জমে। কারণ রাস্তায় পানি জমলে সেটা নষ্ট হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী আরেকটা মাস্টারপ্ল্যান করার কথা বলেছেন, কোন রাস্তা, কত রাস্তা, কোথায় করা হবে সে বিষয়ে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নেতৃত্বে গ্রামীণ রাস্তা ও অবকাঠামো নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। ৫ হাজার ৯০৫ কোটি ৫৯ লাখ খরচে আজকের একনেকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে আসাদুল ইসলাম বলেন, এ রাস্তাগুলো খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতি দ্রুত এগুলো করতে হবে। তবে অন্যান্য মন্ত্রণালয় যারা রাস্তা করে বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজটা করতে হবে। যাতে কোনো ওভারলেপিং না হয়। কোন কাজটুকু করতে হবে, কত কাজ বাকি থাকছে, কোন মন্ত্রণালয় করলে ভালো হয়- এগুলো সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। আগামী বর্ষা আসার আগেই যেন মূল কাজগুলো হয়ে যায়। তাতে সাশ্রয়ী হবে। নদী ভাঙনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব বলেন, নদী ভাঙন রক্ষায় মূল কৌশল হবে আমাদের একটা চ্যানেলে সবসময় প্রবাহ রাখা। প্রয়োজনে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে নিয়মিত আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং রাখতে হবে। নদীর প্রবাহ ঠিক রাখলে ভাঙন থেকে আমরা অনেকাংশে রক্ষা পাবো। এজন্য কোনো ডুবোচর বা কোনো চর যদি থাকে, সেগুলো চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে বর্ষায় যখন পানির খুব চাপ বেড়ে যায় তখন সেই চাপ যেন আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, এজন্য একটা বাফার জোন থাকতে হবে, বাঁধের পাশাপাশি। যাতে বাঁধ বা লোকালয়কে ক্ষতিগ্রস্ত না করে পানিগুলো সেখানে থাকতে পারে। আর বড় নদীর পাশে যেসব ছোট ছোট নদী থাকে, সেগুলো অনেক সময় ভরাট হয়ে যায়। সেগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। যার কারণে বড় নদী অনেক প্রশস্ত হয়ে যায়, আমাদেরকে প্লাবিত করে ফেলে বা বাঁধ ভেঙে ফেলে। এই কাজগুলো যে ড্রেজিং, ক্যাপিটাল ড্রেজিং, নিয়মিত ড্রেজিং, বাফার জোন তৈরি করা, ছোট ছোট নদীগুলো খনন করা, রক্ষণাবেক্ষণ করা- এগুলো আজকে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ছিল।
তাঁতিদের জন্য হবে উদ্যোক্তা পল্লী : বস্ত্রমন্ত্রী
১৭নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তাঁতিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং মূলধন যোগানের কষ্ট দূর করতে সরকার উদ্যোক্তা পল্লী করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড আয়োজিত- তাঁত নীতিমালা-২০২০ বিষয়ক কর্মশালায় মন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের তাঁতশিল্পে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য কাজ করা হবে। তাঁত বোর্ডের নিজস্ব জমিতে তাঁতিদের জন্য আলাদা করে একটি পল্লী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেখানে একই জায়গায় মেলা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে। তাঁত বস্ত্রে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ব্যবসার স্থান সংকুলান করা হবে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রফতানির জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হবে, তাঁত পণ্যের বাজারজাতকরণ সুবিধা সৃষ্টি করা হবে এবং পরিবর্তিত বাজারে ভোক্তার চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নতুন নতুন ডিজাইন উদ্ভাবন এবং দক্ষ ডিজাইনার ও মানব সম্পদ তৈরিতে কাজ করা হবে। তিনি আরও বলেন, তাঁত শিল্প এবং তাঁতিদের উন্নয়ন করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। যার মাধ্যমে তাঁতিদের জীবনমানের উন্নয়ন করা সম্ভব বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় তেমন নীতিমালাই প্রণয়ন করবে। আমি আশা করি, এ কর্মশালার মাধ্যমে তাঁতিদের জন্য যুগোপযোগী, কার্যকর ও সহায়ক একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে আরও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সদস্য রেজাউল করিমসহ তাঁত বোর্ডে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সর্বদা জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন মওলানা ভাসানী : রাষ্ট্রপতি
১৭নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেছেন, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সব সময় ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন। জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেন। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বানীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। মো. আব্দুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এক অবিস্মরণীয় নাম। ১৯১৯ সালে ব্রিটিশবিরোধেী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। তার (ভাসানী) নেতৃত্বের ভিত্তি ছিল সমাজে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ, কৃষক-শ্রমিক-সাধারণ জনগণ। তেভাগা ও লাঙল যার জমি তার আন্দোলনসহ তিনি অধিকার বঞ্চিত অবহেলিত মেহনতি মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি বলেন, ক্ষমতার কাছে থাকলেও ক্ষমতার মোহ তাকে কখনো টলাতে পারেনি। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন নির্মোহ, অনাড়ম্বর ও অত্যন্ত সাদাসিধে একজন মানুষ। রাষ্ট্রপতি বলেন, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তার দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশ ও জনগণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে বলে রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর