বসলো পদ্মাসেতুর ৩৯তম স্প্যান, দৃশ্যমান ৫৮৫০ মিটার
২৭নভেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় পদ্মাসেতুতে ৩৯ তম স্প্যান বসানো সম্পন্ন হয়েছে। ৬১৫০ মিটার পদ্মাসেতুতে স্প্যান বসিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে ৫,৮৫০ মিটার। আর মাত্র দুইটি স্প্যান বসানো গেলে দৃশ্যমান হবে ৩০০ মিটার। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের ১০ ও ১১ নম্বর পিলারের ওপর টু-ডি স্প্যানটি বসানো হয়েছে। ৩৮তম স্প্যান বসানোর ছয়দিনের মাথায় যা বসানো হয়। অনুকূল আবহাওয়া আর কারিগরি জটিলতা দেখা না দেওয়ায় সফলভাবে কার্যক্রমটি সম্পন্ন হয়। প্রকৌশলীদের টার্গেট অনুযায়ী গেল মাসেও চারটি এ মাসেও চারটি স্প্যান বসানো হলো। শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে মাওয়া প্রান্তের ১০ ও ১১ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যানটি বসানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান আবদুল কাদের। এর আগে, সকাল ৯টায় ৩৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি বহন করে রওনা দেয়। এরপর নির্ধারিত পিলারের কাছে এসে পৌঁছায় সকাল ৯টা ৪০মিনিটের দিকে। পদ্মাসেতুর প্রকৌশলী সূত্র জানায়, দুই পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে স্প্যান বহনকারী ভাসমান ক্রেনটি পৌঁছে নোঙর করার কাজ শুরু করে। ৬টি ক্যাবলের (তার) মাধ্যমে মূল নদীতে নোঙর সম্পন্ন করে পজিশনিং করার কাজটি সম্পন্ন করে। এরপর স্প্যানটিকে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে তোলা হয় পিলারের উচ্চতায়। তারপর রাখা হয় দুইটি পিলারের বেয়ারিংয়ের উপর। এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৫৮৫০ মিটার। স্প্যানটি বসানোর জন্য ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রকৌশলীদের বেগ পেতে হয়নি। কোনো রকম বাধা ছাড়াই স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে খুশি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। পদ্মাপারের মানুষদের মধ্যেও বইছে আনন্দের জোয়ার। এদিকে, সেতুর ১০ ও ১১ নম্বর পিলারের আশেপাশে চলাচলকারী নৌযানগুলো যাতে স্প্যান বসানোর কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত না করে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুইটি বোট সারাক্ষণ সেখানে অবস্থান করে নিরাপদ দূরত্ব দিয়ে নৌযান চলাচলের জন্য নির্দেশনা দেয়। প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, গেল মাসেও টার্গেট অনুযায়ী চারটি স্প্যান বসানো হয়েছে সেতুতে। আর ৩৯তম স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে চারটি স্প্যান বসানোর টার্গেট সম্পন্ন হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সেতুর ১১ ও ১২ নম্বর পিলারে ৪০তম স্প্যান (স্প্যান ২-ই) বসানোর পরিকল্পনা আছে প্রকৌশলীদের। চলতি বছরের বিজয় দিবসের আগেই মাওয়া প্রান্তে ৪১তম স্প্যানটি বসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান বসানো হয়েছিল। প্রথম স্প্যান থেকে শুরু করে আজ ৩৯তম স্প্যান বসানো পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময় ছিল ৩ বছর একমাস ২৮ দিন। পদ্মাসেতু নির্মাণে প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব। এর মধ্যে বসানো হয় এক হাজার ২৩৯টির বেশি রোড স্ল্যাব। এছাড়া ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। এরমধ্যে বসানো হয় এক হাজার ৮৪৮টির বেশি রেল স্ল্যাব। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের বসানো স্প্যানগুলোতে এসব স্ল্যাব বসানো হচ্ছে। মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে দুইটি স্প্যানের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মাসেতুর কাঠামো। সেতুর উপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।
শিগগিরই ভুয়া অনলাইনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা- তথ্যমন্ত্রী
২৭নভেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভুয়া অনলাইনের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানালেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। মন্ত্রী গতকাল বলেন, ২০০৯ সালে হাতেগোনা কয়েকটি অনলাইন ছিল, এখন অনলাইনের সংখ্যা অনেক, তবে সবগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সহায়ক নয়। সেজন্য আমরা অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম শুরু করেছি। পরিকল্পনা আছে এ বছরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন যতদূর সম্ভব সম্পন্ন করা। একই সঙ্গে যেসব অনলাইন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহূত হয়, যেসব অনলাইন গুজবের সঙ্গে যুক্ত, সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে, সেগুলোর ব্যাপারে আমরা আগামী বছর থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া শুরু করব। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে তাদের অনলাইন জার্নাল রিপোর্টার্স ভয়েস উদ্বোধন ও ডিআরইউ সদস্য লেখক সম্মাননা ২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। অনলাইন নিউজপোর্টাল রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার পর এ আইনগত ব্যবস্থা শুরু হবে উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, এটি যেমন সমাজের চাহিদা, একইভাবে সাংবাদিক সমাজেরও চাহিদা। যে অনলাইন নিউজপোর্টালগুলো সত্যিকার অর্থে সংবাদ পরিবেশনের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা না করে ভিন্ন উদ্দেশ্যে কাজ করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা পৃথিবীর প্রেক্ষাপট। উন্নত দেশগুলোয় এক্ষেত্রে অনেক শৃঙ্খলা স্থাপন করা সম্ভবপর হয়েছে, যেটি এখনো এখানে পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে দিতে গিয়ে অনেক সময় ভুল সংবাদ এবং অসত্য তথ্য পরিবেশিত হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায়, অনেক বেশি ক্লিক পাওয়ার জন্য দেয়া হেডিংয়ের সঙ্গে ভেতরের সংবাদের মিল নেই। বিশেষ করে যে অনলাইনগুলোয় কোনো অনুষ্ঠান চলাকালীন সংবাদ পরিবেশনের ক্ষমতা রিপোর্টারকে দেয়া থাকে, সেখানে অনেক অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে দেখা যায়।
আওয়ামী লীগ অপরাধী রক্ষার ঢাল হবে না: কাদের
২৭নভেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তাদের দল অপরাধী রক্ষার ঢাল হবে না। শেখ হাসিনার কাছে অপরাধীর পরিচয় অপরাধীই। গুটিকয়েক মানুষের অপরাধের জন্য সরকারের সব অর্জন ম্লান হতে দেয়া যায় না। অপরাধের দায় ব্যক্তির, দলের নয়। গতকাল সরকারি বাস ভবন থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কাদের। তিনি বলেন, সাংগঠনিকভাবে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি প্রশ্রয় দেয়া হয় না। যেকোনো অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া মাত্রই নেয়া হচ্ছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা। অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছিলেন, তা এখনো চলমান আছে, ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মন্ত্রী বলেন, পুরো দেশে সাংগঠনিক নেতৃত্বের ওপর দলীয় সভাপতির দৃষ্টি রয়েছে। শেখ হাসিনার কাছে সবার পারফরম্যান্সের রিপোর্টও রয়েছে। যারা বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি, দলীয় দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের কার্যক্রমও গুরুত্বসহকারে মনিটর করা হচ্ছে। সম্প্রতি দুটি জেলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কেন্দ্র হতে তৃণমূলের জন্য দলীয় প্রধানের একটি বার্তা। মজবুত এবং গণমুখী সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রধান লক্ষ্য, বিভিন্ন ইউনিটে পারস্পরিক সমঝোতা, সমন্বয় এবং সম্প্রীতির অভাব দেখা দিলে সংগঠনে অচলাবস্থা তৈরি হয়। দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাকে এখন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সততা, নিষ্ঠা এবং দলের প্রতি ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা থেকে কেন্দ্রে পুরস্কৃত করা হয়েছে। কাদের বলেন, মানুষের ভাগ্য বদলের জন্য বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ কারো ব্যক্তিগত ভাগ্যবদল ও স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়। দলের প্রতি ত্যাগ, সততা ও নিষ্ঠা থাকলে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তৃণমূল থেকে সময়মতো যে কাউকে যেকোনো দায়িত্ব দল এবং সরকারে দিতে পারেন।
ম্যারাডোনার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
২৬নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। যুগে যুগে তাঁর ক্রীড়ানৈপুণ্য ভবিষ্যৎ ফুটবল খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী এই ফুটবল মহানায়কের আত্মার শান্তি কামনা করেন। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
টিকা সবাই পাবে
২৬নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের টিকা এলে পর্যায়ক্রমে সবাই তা পাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটার কমপ্লেক্স উদ্বোধন করে তিনি বলেন, টিকা যাতে সবাইকে দেয়া যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এবং সেই ব্যবস্থা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। যার যেখানে যখন প্রয়োজন হবে। ভ্যাকসিন যখন অ্যাভেইলেবল হবে, তখন আমরা এটা দিতে থাকব। বাংলাদেশ সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সেই ব্যবস্থা রেখেছে।এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদসহ চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চিন্তা থেকেই দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী
২৬নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চিন্তা থেকেই তাঁর সরকার দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, এখন থেকেই উদ্যোগী না হলে দেশ পিছিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা আসছে। এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা মাথায় রেখেই আমাদের দক্ষ কর্মজ্ঞান সম্পন্ন লোকবল সৃষ্টি করতে হবে। সেটার জন্য এখন থেকেই উদ্যোগ না নিলে আমরা পিছিয়ে যাব। সুতরাং আমরা পিছিয়ে যেতে চাইনা। এজন্য প্রশিক্ষণটা সাথে সাথে দরকার। কারণ আমরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাই। বিশ্ব প্রযুক্তিগতভাবে যতটুকু এগোবে আমরা তারসঙ্গে তাল মিলিয়েই আমরা চলবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সন্ধ্যায় ফ্রিল্যান্সার আইডি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আজ সন্ধ্যায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেরে বাংলা নগরস্থ বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, সমাজের কমবেশি সকলে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি জানলেও ফ্রিল্যান্সার এতদিন তাঁদের পরিচয় নিয়ে সমস্যায় ছিলেন। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত পরিচিত কার্ড বা ফ্রি ল্যান্সিং আইডির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। কর্মসংস্থান, উপার্জন বা দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে এই কার্ডটি ব্যবহার করা যাবে। যা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ব্যাংকিং বা ভিসার আবেদন, বাসা বা অফিস ভাড়া এমনকি বাচ্চাদের স্কুল ভর্তি করার মত বিষয়গুলোতে সহজ করে দেবে। সংশ্লিষ্ট ওয়েব সাইটের মাধ্যমে (www.freelancer.com.bd) দেশের প্রায় সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার আইটি কর্মরত এখানে রেজিষ্ট্রেশন করে পরিচয় পত্র গ্রহণের সুযোগ পাবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন,আমি জানি আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক মেধাবী। অল্পতেই তাঁরা শিখতে পারে। সরকার হিসেবেই আমাদের কাজ হচ্ছে সেই সুযোগটা সৃষ্টি করে দেওয়া। সেটাই আমরা করে দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, সারাদেশে ৩৯টি হাইটেক বা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। এগুলোর নির্মাণ শেষ হলে প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। যার মধ্যে যুব সমাজই সবথেকে বেশি কাজ পাবে। দেশ এবং বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আসবে এবং দক্ষ কর্মীবাহিনীর সৃষ্টি হবে। তাঁর সরকার চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রতিযোগিতা মোকাবেলায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১টি বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপনসহ দক্ষ কর্মীবাহিনী সৃষ্টিতে নানারকম প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। সভাপতিত্ব করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে লার্নিং এন্ড আর্নিং এর ওপর নির্মিত ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ সংক্রান্ত পৃথক দুটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক একটি এ্যানিমেটেড ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন পরিবেশিত হয় অনুষ্ঠানে।
ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ
২৫নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টিকা বিষয়ক আন্তর্জাতিক জোট গ্যাভি কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় করোনার ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা পাবে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের মধ্যে এই টিকা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মা, শিশু ও কৈশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, ৬৮ মিলিয়ন বা ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ। গ্যাভি কোভ্যাক্স সুবিধা থেকে বাংলাদেশ এই ভ্যাকসিন পাবে। প্রতিজন দুই ডোজ করে এই ভ্যাকসিন পাবেন। বুধবার করোনা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য জানান। ডা. শামসুল হক বলেন, সারা পৃথিবীতেই এখন ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ হচ্ছে। কিন্তু ভ্যাকসিন যেটাই আসুক আমরা যেন সেটা পেতে পারি সে লক্ষ্যেই কাজ হচ্ছে। ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই বা গ্যাভি-টিকা বিষয়ক আন্তর্জাতিক জোট) কাজ করছে। যখনই করোনার ভ্যাকসিন আসুক না কেন, সারা পৃথিবীর মানুষ যেন একসঙ্গে পায় সে বিষয়ে গত ৪ জুন গ্লোবাল ভ্যাকসিন সামিট হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় কো ভ্যাক্স ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে পৃথিবীর সবাই যেন সমহারে ভ্যাকসিন পায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, যারা আগে জাতীয় ভ্যাকসিন বিতরণ পরিকল্পনা জমা দেবে তারাই আগে ভ্যাকসিন পাবে। গ্যাভি যখন থেকে পরিকল্পনা জমা নেয়া শুরু করবে, আশা করছি আমরা প্রথম দিনই আমাদের পরিকল্পনা জমা দিতে পারবো। গত জুলাই বাংলাদেশ কোভ্যাক্সে আবেদন করে এবং গ্যাভি সেটি গ্রহণ করে গত ১৪ জুলাই। বাংলাদেশ গ্যাভির কাছ থেকে ৬৮ মিলিয়ন বা ছয় কোটি ৮০ লাখ ভ্যাকসিন পাবে ( দুই ডোজ) ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য। আর তাতে করে জনসংখ্যার হারে হয় ৩৪ মিলিয়ন বা তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষ আর এটা পাওয়া যাবে ২০২১ সালের মধ্যে। তবে গ্যাভি এটা বিনা পয়সায় দেবে না এর জন্য কো ফিন্যান্সিং এ যেতে হবে সরকারকে আর এটা এক দশমিক ছয় থেকে দুই ডলারের মধ্যে কিনতে পারবো। আর বাংলাদেশ এ নিয়ে কাজ করছে। তবে ভ্যাকসিন আসার আগে জরুরি হচ্ছে ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান নিয়ে কাজ হচ্ছে যেটা একেবারেই শেষ পর্যায়ে বলে জানান ডা. শামসুল হক। গ্যাভি ভ্যাকসিন ছাড়াও বাংলাদেশ সরকার সরাসরি ভ্যাকসিন কেনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে- এমন তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, সরকার ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন কেনা যাবে চার ডলারের বিনিময়ে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পরিবহন খরচ সব মিলিয়ে, এর সঙ্গে পরে যোগ হবে আরও এক ডলার। সেখান থেকে বাংলাদেশ কিনতে পারবে ৩০ মিলিয়ন ডোজ। এজন্য অর্থ বিভাগ প্রায় ৭৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে এই ভ্যাকসিন অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রি কোয়ালিফায়েড হতে হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকতে হবে। জনগণের সেফটির (নিরাপত্তা) কথা চিন্তা করে সবকিছু করা হবে যদিও চুক্তি করা হয়েছে। এ দুটি ভ্যাকসিনের সোর্স ছাড়াও সিনোভ্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলে জানান শামসুল হক। তিনি বলেন, জেএসকে গ্রুপের সেনোফি এবং ফাইজারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং যদি সেরকম আর্জেন্সি হয়ে তাহলে কীভাবে তাদের ভ্যাকসিন পাওয়া যেতে পারে সে নিয়েও কথা হচ্ছে। তবে কোনো কোনো ভ্যাকসিন আমাদের দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খুবই কোয়েশ্চেনেবল এবং পৃথিবীর অনেক দেশেই এত লো টেম্পারেচার এর ব্যবস্থা না থাকায় তারাও এ নিয়ে চিন্তিত। এসব ভ্যাকসিন বিষয়ে কাজ করতে কোভিড ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করেছে সরকার। এছাড়াও বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অব ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট কাজ করছে, রয়েছে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রিপায়ের্ডনেস অ্যান্ড ডেপ্লয়মেন্ট কোর কমিটি। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ( প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ( গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
হ্যাচারি পরিচালনায় আবেদন নিবন্ধন ও নবায়ন ফি বাড়ল
২৫নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হ্যাচারি পরিচালনায় আবেদন, নিবন্ধন ও নবায়ন ফি বেড়েছে। ফি বাড়াতে মৎস্য হ্যাচারি বিধিমালা, ২০১১ সংশোধন করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। গত ১৯ নভেম্বর সংশোধিত বিধিমালার গেজেট জারি করা হয়েছে। কার্প মাছের রেণু উৎপাদন হ্যাচারির আবেদন, নিবন্ধন ও নবায়ন ফি ছিল যথাক্রমে একশ, দুই হাজার ও এক হাজার টাকা। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, সেটা এখন বেড়ে হয়েছে দুইশত, তিন হাজার ও দুই হাজার টাকা। গলদা ও বাগদা চিংড়ি পিএল (পোস্ট লার্ভি) উৎপাদন হ্যাচারির ক্ষেত্রে বর্তমানে আবেদন, নিবন্ধন ও নবায়ন ফি যথাক্রমে দুইশ, সাড়ে সাত হাজার ও ছয় হাজার টাকা। আগে ছিল একশ, পাঁচ হাজার ও তিন হাজার টাকা। দেশীয় অন্যান্য মাছ ও মনোসেক্স তেলাপিয়া হ্যাচারির ক্ষেত্রে আবেদন, নিবন্ধন ও নবায়ন ফি ছিল যথাক্রমে একশ, দুই হাজার ও এক হাজার টাকা। সেটা এখন বেড়ে হয়েছে দুইশ, তিন হাজার ও দুই হাজার টাকা। বাহারী মাছের হ্যাচারির আবেদন ফি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা, নিবন্ধন ফি এক হাজার টাকা থেকে বেড়ে দেড় হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার টাকা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, মাছ ছাড়া অন্যান্য জলজ প্রাণীর হ্যাচারির আবেদন ফি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা, নিবন্ধন ফি ২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার টাকা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে নবায়ন ফি আগের মতোই এক হাজার টাকা রাখা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় ভাইরাসের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ভাইরাস অর্থ পোনা, রেণু, নপ্লি (লার্ভার প্রথম পর্যায়) ও পিএলের (লার্ভা পরবর্তী পর্যায়) রোগ সৃষ্টিকারী আণুবীক্ষণিক এবং অকোষীয় অণুজীব। সরকার সময় সময় গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে পোনা, রেণু, নপ্লি ও পিএলের জন্য ক্ষতিকর ভাইরাসের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করবে বলেও সংশোধিত বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। হ্যাচারি পরিচালনাকারী পোনা, রেণু, নপ্লি বা পিএল বিক্রি বা সরবরাহ করার আগে এতে ক্ষতিকর ভাইরাসের উপস্থিতি সরকার-স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করাবেন এবং এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে তা ভাইরাসমুক্ত বলে লিখিতভাবে ঘোষণা করবেন- বলে বিধিমালায় নতুন একটি বিধি যুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর