বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৮, ২০২১
সাড়ে ৩ হাত মাটি সুরক্ষিত রাখতে হারাম খাই না : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, আমি হারাম খাই না। আমার মন্ত্রণালয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ হয়, কেউ বলতে পারবে না আমাকে কারো টাকা দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, মৃত্যুবরণ করলে আমাকে সাড়ে ৩ হাত মাটির মধ্যে থাকতে হবে। সেটিকে আমি সুরক্ষিত রাখতে চাই। আমার মৃত্যু হলে মন্ত্রী হিসেবে কেউ ৫ হাত কবর করে দিতে পারবে না। এ জন্য আমি হারাম-টারাম খাইতে চাই না এবং খাই না। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার ইলেকশন। সদর উপজেলার উন্নয়ন করতে চাইলে আমার মনোনীতদের ভোট দেন। আমার মনোনীত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত। আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি আমাদের মনোনীতদের বিজয়ী করে আনুন, তাদের চুরি করতে দেব না, তারা কাজ করবেন। এতে আপনাদেরই ভালো হবে। আর কেউ খারাপ কাজ করলে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারবেন। তাদের কীভাবে শায়েস্তা করতে হয় তা অন্যভাবে করব। জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে আমাকে বরিশাল সদর আসন থেকে মনোনায়ন দেন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। আমি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট আমি জানি। সেজন্য আমি বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াই। এর ভেতরেও প্রতি শুক্র ও শনিবার আমি বরিশালে আসি। কারণ, আমি চাই আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য বানিয়েছেন। আমার সাথে দেখা করার জন্য ঢাকায় কারো যাওয়ার দরকার নেই। আমি আপনাদের জন্য প্রতি সপ্তাহে আসব। কেউ বলতে পারবেন না শুক্র এবং শনিবার দেখা করতে এসে পারেননি কিংবা ফিরে গেছেন, আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগে আমরা ভিক্ষুকের দেশ ছিলাম, এখন মধ্যম আয়ের দেশে চলে এসেছি। ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব। দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে সে কথাই সবসময় প্রধানমন্ত্রী চিন্তা করেন।
বাংলাদেশকে ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন উপহার দেয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের ২০ লাখ ডোজ বাংলাদেশকে উপহার দেয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা জানেন যে ভারতের উপহার হিসেবে আমাদেরকে দেয়া করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন ইতোমধ্যেই এখানে পৌঁছেছে। আমরা যে ভ্যাকসিন কিনেছি সেগুলো ২৫ থেকে ২৬ জানুয়ারি নাগাদ এখানে পৌঁছাবে। প্রধানমন্ত্র্রী তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেলিব্রেটিং হানড্রেড ইয়ারর্স অব দি ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা : রিফ্লেকশনস ফ্রম দ্য অ্যালামনাই- ইন্টারন্যাশনাল এন্ড ন্যাশনাল শীর্ষক ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ই-সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী ভাষণে এ কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কেনার ক্ষেত্রে সরকারী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তার সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে গোটা পৃথিবী থমকে গেছে। আশা করছি এই পরিস্থিতির একদিন অবসান ঘটবে। শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর রেহমান সোবহান অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. ইমতিয়াজ আহমেদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য পাঠ করেন এবং উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল প্রধানমন্ত্রী এবং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এর আগে ঢাবি ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত সুভ্যেনিয়র গ্রহন করেন।
ঘন কুয়াশায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সব ফ্লাইট বাতিল
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘন কুয়াশার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সবগুলো অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে। মূলত ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট অবতরণ করতে না পারায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিন ১৫০ যাত্রী নিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট (বোয়িং ৭০৭) মালয়েশিয়া থেকে এসে ঢাকায় নামতে না পেরে সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার ফরহাদ হোসেন খান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের তিনটি ফ্লাইটে ভ্রমণ করার কথা রয়েছে ৫ শতাধিক যাত্রীর। কিন্তু আপাতত তাদেরকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বিমানবন্দরেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফ্লাইট চালু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে
২১,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায়, ৪১ সালের মধ্যে সুখী সমৃদ্ধ শোষনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। তারা বলেন, পরাজিত শক্তি আবারো ষড়যন্ত্র করছে। ঐক্যবদ্ধভাবে এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার ছিল রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার তৃতীয় দিন। গত ১৮ জানুয়ারি বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা উত্তর টেবিলে উপস্থাপন ও ৭১ বিধির নোটিশের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। গত ১৯ জানুয়ারি চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সরকারি দলের সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ এ প্রস্তাব সমর্থন করেন। আজ আলোচনায় অংশ নেন, সরকারি দলের বীরেন শিকদার, ইকবাল হোসেন, মো.আলী আজগর, পংকজ নাথ, বেগম খাদিজাতুল আনোয়ার, বেগম জিন্নাতুল বাকিয়া, বেগম আঞ্জুম সুলতানা সীমা,জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী, নুরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিকল্প ধারার আব্দুল মান্নান। আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, ভাষণে রাষ্ট্রপতি সরকার সূচিত গত ১২ বছরের উন্নয়ন অগ্রগতিতে সাফল্যের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নত- সমৃদ্ধ দেশ গড়ার দিক-নির্দেশনাও দিয়েছেন। ভাষণে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন দর্শন তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক মহামারি সফলভাবে মোকাবেলা করে দেশ যে আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তাও উল্লেখ করা হয় ভাষণে। তারা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশ যে উন্নত অবস্থানে আসীন হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য তা সম্ভব হয়েছে। তারা এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের কৃষি, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সব খাতে ব্যাপক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন,পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, কর্নফূলি বঙ্গবন্ধু ট্যানেলসহ ২৪টি মেগা প্রকল্প সাফল্যের সাথে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব বাস্তবায়ন শেষ হলে দেশের অর্থনীতি বদলে যাবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী সমৃদ্ধশালী শোষনমুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মানে অনেকদূর এগিয়ে যাবে জাতি। তারা বিশ্ব ব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগিদের সহযোগিতা ছাড়া শত প্রতিকূলতার মুখে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করার প্রস্তাব করেন। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা এবং রাষ্ট্রনায়কোচিত সিদ্ধান্তেই এ সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। তারা কোরোনা মোকাবেলায় সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, আজ ২০ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে। এটাও শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে। সূত্র : বাসস
করোনার টিকা হস্তান্তর করলো ভারত
২১,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশের কাছে ২০ লাখ ডোজ করোনার টিকা হস্তান্তর করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাগুলো হস্তান্তর করা হয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাই স্বামী আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাগুলো হস্তান্তর করেন। এসময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ সরকারের দায়িত্বশীল অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে ২০ লাখ ডোজ টিকা (ভ্যাকসিন) দিচ্ছে ভারত। টিকাগুলো মুম্বাই থেকে নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ ফ্লাইটটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এ চিকিৎসা সহায়তা উপহার দিল ভারত।
২০২০ সালে চা উৎপাদন ৮৬ মিলিয়ন কেজি
২১,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিউজ ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০২০ সালে দেশের ১৬৭টি চা বাগান এবং ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান থেকে মোট ৮৬.৩৯ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। তবে এ বছর শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গে সমতলের চা বাগান ও ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান থেকে রেকর্ড পরিমাণ ১০.৩০ মিলিয়ন কেজি চা জাতীয় উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে। যা গত বছর ৯.৬০ মিলিয়ন কেজি ছিল। ২০২০ সালে উন্নয়নের পথনকশায় চায়ের উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছিল ৭৫.৯৪ মিলিয়ন কেজি। গত বছর বাম্পার ফলনের ফলে দেশে ৯৬.০৭ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল। এ বছরে কোভিডের কারণে হোটেল রেস্টুরেন্ট বা চায়ের দোকানে জনসমাগম কমে যাওয়ায় চায়ের চাহিদা প্রায় ১০-১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর চায়ের উৎপাদনও ১০ শতাংশ কমেছে। ফলে গত বছরের তুলনায় উৎপাদন কম হওয়া সত্ত্বেও বাজারে চায়ের চাহিদা ও যোগানে ভারসাম্য বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো: জহিরুল ইসলাম জানান, কোভিড পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের সকল চা বাগানের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। এছাড়াও উৎপাদনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিধি মেনে চা নিলাম কেন্দ্র চালু রাখা, সঠিক সময়ে ভর্তুকি মূল্যে সার বিতরণ, বাগানে কঠোরভাবে কোভিড প্রটোকল নিশ্চিতকরণ, চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, রেশন এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের ফলে ২০২০ সালে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতেও উৎপাদনের এ ধারাবাহিকতা থেকে এটাই প্রতিয়মান হয় যে যেকোন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশের চা শিল্প উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম অর্থ্যাৎ চা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও জানান, উত্তরবঙ্গে চা চাষিদের ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুলের মাধ্যমে চা আবাদ বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহের ফলে সমতলের চা বাগান ও ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান থেকে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
করোনাকালে বিশ্বমন্দা এড়াতে পেরেছে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী
২০,জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসকালে মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ পদক্ষেপের ফলে বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দার অনেকটাই বাংলাদেশ এড়াতে পেরেছে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আজ বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশনে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সাংসদ হাবিবর রহমান এবং জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নানের পৃথক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অন্য অনেক দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলেও বাংলাদেশ তা অনকটাই এড়াতে পেরেছে এবং মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ পদক্ষেপের ফলে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সহ অর্থনৈতিক অবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। সংসদ নেতা বলেন, ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনোমিক্স এন্ড বিজনেস রিচার্স এর ওয়াল্ড ইকোনোমিক লিগ টেবল ২০২১ অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি। এই রিপোর্টে মূলত সামনের বছর এবং আগামী ১৫ বছরে বিশ্বের কোন দেশের অর্থনীতি কি হারে বাড়বে তারই পূর্বাভাষ দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অন্য অনেক দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলেও বাংলাদেশ তা অনকটাই এড়াতে পেরেছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৮দশমিক ১৫ শতাংশ, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। তিনি আরো বলেন, শুরু থেকেই তাঁর সরকার সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে, যার ফলে এ পর্যন্ত কোভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, মৃত্যুর হার এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে অধিকতর সাফল্য দেখাতে পেরেছে। তিনকোটি ডোজ করোনা ভ্যাকসিন সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা দবলেন, শিগগিরই করোনার টিকা দেয়া শুরু হবে। জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারির অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনাকালে বাংলাদেশে এসে আটকে পড়া ও চাকুরিচ্যুত প্রবাসীদের নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর লক্ষ্যে সরকার বিভীন্ন কাযক্রম গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অনুরোধ জানিয়ে কোভিডকালে চাকুরিচ্যুত প্রবাসীদের সার্বিক কল্যাণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ফোনে যোগাযোগসহ পত্র প্রেরণ করা হয়। এতে তিনটি বিষয় গুরুত্ব দেওয়া হয়। চাকরিচ্যুত প্রবাসী কর্মীদের ন্যূনতম খাদ্য ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ, চাকুরিচ্যুতদের যাবতীয় দেনা পাওনা পরিশোধসহ ছয় মাসের বেতনভাতা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো এবং বিদেশে কর্মসস্থান ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য ওই দেশগুলোতে কোভিড-১৯ রিকভারি এন্ড রেসপন্ড ফান্ড গঠনের সুপারিশ। সূত্র : বাসস
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু
২০,জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এবার মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে যাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২। মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) একটি পরামর্শক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মধ্য দিয়ে মহাকাশে বাংলাদেশের দ্বিতীয় কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এর ধরণ ও প্রকৃতি নির্ধারণে মঙ্গলবার ফ্রান্সের কোম্পানি প্রাইস ওয়াটার হাউজ কুপার্সের সঙ্গে এ চুক্তি হয়। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরীয়ার আহমেদ চৌধুরী এবং প্রাইস ওয়াটার হাউজ কুপার্স অ্যাডভাইজরির ড. লুইগি স্ক্যারিয়া নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) প্রধান কার্যালয়ে এক অনলাইন অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএসসিএল চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং বিএসসিএল পরিচালনা পর্ষদ সদস্য ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহাকাশে- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের পথযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এ চুক্তির মাধ্যমে। ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০২৩ সালের মধ্যে এর কার্যক্রম চালু হওয়ার ঘোষণা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট নির্ভর সম্প্রচার ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে।
শহীদ আসাদ গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী
২০,জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদ আসাদ এ দেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার আত্মত্যাগ ভবিষ্যতেও আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে প্রেরণা যোগাবে। বুধবার (২০ জানুয়ারি) শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শহীদ আসাদসহ বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৬৯ সালের এ দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তায় চলমান মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ওরফে আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এভাবে আরও অনেক প্রাণ ঝরে পড়ে এবং আহত হন। শহীদ আসাদের এই আত্মত্যাগ চলমান আন্দোলনে নতুনমাত্রা যোগ করে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যমূলক আচরণ এবং দমন পীড়নে বাংলার মানুষ যখন দিশেহারা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ছয়দফা তখন বাঙালির মুক্তির দিশারি হিসেবে আবির্ভূত হয়। ছয়দফা হয়ে ওঠে বাঙালির প্রাণের দাবি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছয় দফার সপক্ষে প্রবল জনমতের জোয়ার দেখে আতঙ্কিত সামরিক জান্তা আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে, যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে সমধিক পরিচিত। বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন নতুনমাত্রা পায়। বঙ্গবন্ধু পরিণত হন নিপীড়িত ও নির্যাতিত বাঙালির মুক্তির মূর্তপ্রতীকে। তিনি বলেন, কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে গর্জে ওঠে সারা বাংলার মানুষ। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তায় ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে আসাদুজ্জামান শহিদ হন এবং অনেকে আহত হন। স্বাধিকারের দাবিতে সোচ্চার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পর্যায়ক্রমে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করে। সেদিনের সেই আন্দোলন পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। পাকিস্তানি স্বৈরসরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে করা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পতন হয় স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের।

জাতীয় পাতার আরো খবর