স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির আস্ফালন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন : তথ্যমন্ত্রী
১৪,ডিসেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সংস্কৃতির বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সোমবার সকালে দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন বুঝতে পেরেছিল বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে যাচ্ছে, তখন জাতিকে পঙ্গু করার হীন উদ্দেশ্যে সেদিন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল। তাই যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ইতিহাসের পাতায় এই দিনটি কালো দিন হিসেবেই থাকবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পরও সেদিন যারা বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা এঁকেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী ও তাদের দোসর-অনুসারীরা এখনো ও বাংলাদেশে সক্রিয় উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, সেদিন যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, যারা মুক্তিযোদ্ধাদের কাফের, ইসলামবিরোধী বলে ফতোয়া দিয়েছিল, তারাই আজকে ভাস্কর্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। জাতির স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পরও স্বাধীনতাবিরোধীদের এ ধরণের আস্ফালন মেনে নেয়া যায় না। তাই এদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদের মন্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। এজন্য আমি মহান স্রষ্টার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। কিন্তু উনি হাসপাতাল থেকে ফিরে এসেই দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে যেভাবে আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন, এতে মনে হচ্ছে আসলে উনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হন নাই। উনার আরো একটু চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। এর পরপরই রাজধানীর রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পুস্পস্তবকবক অর্পণ শেষে এখনো দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের আস্ফালন কেন- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি যারা বেশ কয়েকবার রাষ্ট্র ক্ষমতা ছিল, তারা স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে সহযোগিতা করছে। দলগতভাবে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী, বুদ্ধিজীবী হত্যার নীল নকশা প্রণয়নকারী, আলবদর বাহিনী গঠনকারী, নারী নির্যাতনের সাথে যুক্ত জামায়াতে ইসলামীকে জোটসঙ্গী করে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার কারণেই এখনো স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আস্ফালন করার অপচেষ্টা করে। ঐক্যবদ্ধভাবে এদের রুখতে হবে। সূত্র : বাসস
নূর হোসাইন কাসেমীর দাফন সম্পন্ন
১৪,ডিসেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর তুরাগ এলাকায় আল্লামা কাসেমী প্রতিষ্ঠিত জামিয়া সুবহানিয়া মাহমুদনগর, ধউর, মাদরাসায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর প্রেস সচিব মুনীর আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকাল সোয়া ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। আল্লামা কাসেমীর ছোট ছেলে মুফতি জাবের কাসেমী তার বাবার জানাজা নামাজে ইমামতি করেন। জানাজায় শীর্ষ আলেমদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দারুল উলুম দেওবন্দের শুরা সদস্য মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান, আমিরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, বেফাক সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসান, শায়খ জিয়া উদ্দিন, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব, মাওলানা নাজমুল হাসান, মাওলানা মাহফুজুল হক রাহমানিয়া, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা হাসান জামিল, আল্লামা কাসেমীর ছোট ভাই মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের প্রমুখ। রোববার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।
ফুলেল শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন
১৪,ডিসেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আপামর জনসাধারণ, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়েছে। সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে সর্বস্তরের জনসাধারণ এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রায়েরবাজার বধ্যভূমি উম্মুক্ত করে দেওয়া হলে শীতের কুয়াশা উপেক্ষা করেই জনগণের ঢল নামে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। সকাল থেকে দুপুর অবদি একটানা চলে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। প্রথমেই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এরপর একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ যুবলীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, শেখ হাসিনা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে আসা জনসাধারণ, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংগঠন বাংলাদেশে মৌলবাদী, ধর্মান্ধ উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আস্ফালন রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
১৪,ডিসেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা মহামারি পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ১০ মিনিটে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী। পৃথিবীর ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতি স্মরণ করছে একাত্তরে বিজয়ের ঠিক আগে প্রাণ হারানো জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। পরাজয় নিশ্চিত জেনে ১৬ ডিসেম্বরের আগে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন বাংলাদেশের ইতিহাসে নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশনা ও মদদে একশ্রেণির দালালরা এ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে। পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করার এ নীলনকশা প্রণয়ন করে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা আজ পর্যন্ত গণনা করা হয়নি। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ শীর্ষক গ্রন্থ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এদের মধ্যে ৯৯১ জন ছিলেন শিক্ষাবিদ, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবী এবং ১৬ জন সাহিত্যিক, শিল্পী ও প্রকৌশলী। বুদ্ধিজীবী নিধনের এ তালিকায় ঢাকা বিভাগে ২০২ জন শিক্ষক ও ১০ জন আইনজীবীকে হত্যা করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগে ২২৪ জন শিক্ষক ও ১০ জন আইনজীবীকে হত্যা করা হয়। খুলনা বিভাগে ২৮০ জন শিক্ষক ও ছয়জন আইনজীবীকে হত্যা করা হয়। রাজশাহী বিভাগে ২৬২ জন শিক্ষক ও ১৫ জন আইনজীবীকে হত্যা করা হয়। তবে এ তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নাম ছিল না। যাদের হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন এ এন এম মুনীর চৌধুরী, ড. জিসি দেব, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, আবদুল মুকতাদির, এস এম রাশীদুল হাসান, ড. এন এম ফয়জুল মাহী, ফজলুর রহমান খান, এ এন এম মুনীরুজ্জামান, ড. সিরাজুল হক খান, ড. শাহাদাত আলী, ড. এম এ খায়ের, এ আর খান খাদিম, মো. সাদেক, শরাফত আলী, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন অধ্যাপক মীর আবদুল কাইয়ুম, হাবিবর রহমান, সুখরঞ্জন সমাদ্দার, ড. আবুল কালাম আজাদ। সাংবাদিক ছিলেন সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, খোন্দকার আবু তালেব, নিজামুদ্দীন আহমদ, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, শেখ আবদুল মান্নান (লাডু), সৈয়দ নাজমুল হক, এম আখতার, আবুল বাসার, চিশতী হেলালুর রহমান, শিবসদন চক্রবর্তী, সেলিনা পারভীন। এছাড়া শিল্পী ছিলেন আলতাফ মাহমুদ, সাহিত্যিক পূর্ণেন্দু দস্তিদার, মেহেরুন্নেসা, দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহাসহ আরও অসংখ্য নাম।
সিনহা হত্যা: অপকর্মের তথ্য জেনে যাওয়ায় হত্যার পরিকল্পনা করেন ওসি প্রদীপ
১৩,ডিসেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের অপকর্মের তথ্য জেনে যাওয়ায় থানায় বসেই মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যার পরিকল্পনা হয়। Rabর তরফে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য দেয়া হয়েছে। সিনহা হত্যার পর বাহারছড়া ক্যাম্পের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ বাকি আসামিদের নিয়ে মাদক উদ্ধারের নাটক সাজান ওসি প্রদীপ। রোববার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে Rab এর মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন Rab এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ। সিনহা হত্যায় ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে। কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন Rab-15 এর কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. খায়রুল আলম। অভিযুক্তদের মধ্যে ১৪ জন কারাগারে এবং একজন পলাতক। আর দুইজনের নাম, ঠিকানার মিল না থাকার কারণে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়। দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর আলোচিত মামলাটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়া হলো আজ। প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর আদালত এলাকায় এএসপি মো. খায়রুল আলম বলেন, সিনহা হত্যা মামলাটি আমরা নানাভাবে তদন্ত করেছি। তদন্তে পাওয়া তথ্যগুলো সাজিয়ে চার্জশিট হিসেবে জমা দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হত্যার ঘটনা তদন্তে নেমে Rab এ ঘটনায় ১৫ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপসহ ১৪ জন কারাগারে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার, বাহারছড়া ক্যাম্পের পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, টেকনাফ থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছাড়াও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএনের তিনজন এবং স্থানীয় তিনজনসহ মোট ১৪ জনকে অভিযুক্তের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিনহা হত্যার পর গত ৫ই আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে, যিনি সিনহাকে গুলি করেছিলেন। টেকনাফ থানার ওসি (বরখাস্ত) কুমার দাশকে করা হয়েছে ২ নম্বর আসামি।
যথাসময়ে স্থানীয় সরকারের সব ভোট হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
১৩,ডিসেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের সব ভোট যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। রোববার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজ দফতরে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এসট্রাপ পিটারসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে মন্ত্রী এ কথা জানান। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো যথাসময়ে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সঠিক মানুষ নির্বাচনের জন্য বড় ধরনের উপকরণ হিসেবে কাজ করে, সুতরাং সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি চান একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি নির্বাচন নিয়ে সব দেশেই আলোচনা-সমালোচনা হয়। আমাদের দেশেও বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে এবং হতে পারে। তবে বিষয়টি হলো আমরা এ ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। ইউপি, পৌরসভা, জাতীয় নির্বাচনসহ সব ধরনের নির্বাচনে যেন জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। বর্জ্য থেকে ডেনমার্কের বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ডেনমার্ক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পারচেজ কমিটির মাধ্যমে একটি প্রকল্প পাস করা হয়েছে। দক্ষিণেরটা এখনও প্রক্রিয়াধীন। চট্টগ্রামও এগিয়ে আসছে, খুলনায়ও হবে। আমরা চাই দ্রুত বাংলাদেশকে যেন বর্জ্য থেকে মুক্ত করতে পারি এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। যারা জাতির প্রয়োজনে সবার আগে এগিয়ে আসবে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করবো, আমাদের পার্টিকুলার কোনো চয়েজ নেই। যাদের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ বেশি সংরক্ষিত হবে, তাদের সঙ্গে কাজ করবো আমরা।
জানুয়ারিতেই দেশে আসবে করোনার টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
১৩,ডিসেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জানুয়ারিতেই দেশে করোনার টিকা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন জাহিদ মালেক। রোববার (১৩ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরে ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটের সঙ্গে ভ্যাকসিন সংক্রান্ত চুক্তি সই হওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে জানুয়ারিতেই ভ্যাকসিনের প্রথম চালান পাবে বাংলাদেশ। এরপর প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে ৬ মাসে ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসবে। তিনি আরও বলেন, অক্সফোর্ড ছাড়াও রাশিয়া চীন ও যুক্তরাষ্ট্রেও ভ্যাকসিনের বিষয়ে যোগাযোগ হচ্ছে। অক্সফোর্ডের করোনা টিকা ৩ কোটির বেশি দিতে না পারলে অন্য দেশ থেকে ভ্যাকসিন আনা হবে। জানা গেছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ নির্মাতা অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনটি ভারতে উৎপাদন করবে সিরাম ইন্সটিটিউট। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে এই ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশ নিয়ে আসছে। গত ৫ নভেম্বর এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল।
সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে জবাব দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
১৩,ডিসেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ যুদ্ধ চায় না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সার্বভৌমত্বের ওপর কোনও আঘাত এলে তার সমুচিত জবাব দেয়ার মতো সক্ষমতা থাকতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর। রোববার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কোর্স সমাপনীর ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জোরপূর্বক রোহিঙ্গা পাঠালেও মিয়ানমারের সঙ্গে সংঘাতে যায়নি বাংলাদেশ। আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা শান্তি চাই। কেউ যদি আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত দিতে আসে তার প্রতিঘাত করার মত সক্ষমতা আমাদের অর্জন করতে হবে। সেভাবেই আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। শেখ হাসিনা আরও বলেন, মিয়ানমার থেকে ১০ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। আমরা তাদের সাথে এখনও সংঘাতে যাইনি। আলোচনা করে এটা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বোঝা দ্রুত সমাধান করতে হবে।
তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির
১২,ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে- চতুর্থ ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এ কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে এবারের ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের কার্যক্রম রাষ্ট্রপতি উদ্বোধন করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রযুক্তি উন্নয়নের হাতিয়ার। তাই অনুকরণের পরিবর্তে আমাদের উদ্ভাবনের ওপর জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, জিডিটাল বাংলাদেশের সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমাদের নতুন ও পরিবর্তিত প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আব্দুল হামিদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি হচ্ছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার। এর ফলে বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন ও অগ্রগতির অপার সম্ভাবনার পাশাপাশি বহুমুখী চ্যালেঞ্জেরও সৃষ্টি হয়েছে। নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে প্রযুক্তি দ্রুত পরিরর্তিত হচ্ছে। এমনকি প্রযুক্তি এতোটাই দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে যে- এর ফলে অনেক প্রযুক্তি অচল হয়ে যাচ্ছে। তিনি সকল-ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধ এবং এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের তথ্যপ্রযুক্তির ফলে সৃষ্ট সকল সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার সক্ষমতার দিক থেকে যুবসমাজকে যথেষ্ট দক্ষ ও উদ্যোগী উল্লেখ করে আব্দুল হামিদ বলেন, এজন্য, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে, তারা দেশকে কাক্সিক্ষত উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছে দিবে। কোভিড-১৯ মহামারীকালে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালনের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, মুজিব শতবর্ষে দাঁড়িয়ে আমাদের একইসাথে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দুনিয়া বদলে দেওয়া করোনা মহামারী মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে সরকার নিরলস প্রয়াস চালাচ্ছে। তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে করোনা মহামারীর এই কঠিন সময়ে দূরে থেকেও আমরা পরস্পর সংযুক্ত থাকতে পারছি। চতুর্থবারের মতো ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপযাপনের এই আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে গ্রাম ও শহরের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পাচ্ছে। আব্দুল হামিদ বলেন, গত তিন বছর ধরে ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালন করে আসছে আইসিটি ডিভিশন। এবার এর চতুর্থ আসর। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতিহার অনুযায়ী এবারের ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের প্রতিপাদ্য যদিও মানছি দূরত্ব, তবুও আছি সংযুক্ত। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কী ও আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর একটা যুগসন্ধিক্ষণ হচ্ছে ২০২১ সাল। এই যুগসন্ধিক্ষণে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে আমাদের নিরলস প্রয়াস চালাতে হবে। ২০২১ সালের মধ্যে- ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সফলতার পথ ধরে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গঠনের পথে আরও সাহস ও আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যেতে পারবো এ প্রত্যাশা করছি। রাষ্ট্রপতি আশা করেন, ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জিডিটাল বাংলাদেশ গঠনের সফলতার পথ ধরে আমরা আরো সাহসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের সাথে সামনে এগিয়ে যেতে পারব। অনুষ্ঠানে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ১৫ ব্যক্তি, দল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে শিশুশিল্পীদের একটি নাটিকার ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিতি ছিলেন ডাক, টেলি যোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ্, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম এবং বঙ্গভবন সংশ্লিষ্ট সচিবগণ।

জাতীয় পাতার আরো খবর