বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১
ভাসানচর পৌঁছাল আরও ২২৬০ রোহিঙ্গা
৩,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজার থেকে ভাসানচর স্থানান্তরের পঞ্চম দফার প্রথম দিনে আরও ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা ভাসানচর পৌঁছেছে। সকাল ১০ টা ২০ মিনিটে নৌবাহিনীর ছয়টি জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভাসানচরের উদ্দেশে যাত্রা করে। এটি একদিনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গার নতুন আবাসস্থলে গমন। চট্টগ্রাম বোট ক্লাব জেটিঘাটে জাহাজের বহরকে বিদায় জানান ও স্থানান্তর প্রক্রিয়া তদারকি করেন চট্টগ্রাম নৌ-অঞ্চলের প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম মোজাম্মেল হক ও নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। জানা যায়, ঘন কুয়াশার কারণে আজ জাহাজ ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। জাহাজের বহরটি দুপুর আড়াইটার দিকে পর্যায়ক্রমে ভাসানচর পৌঁছে। এ ছয়টি জাহাজের সাথে রোহিঙ্গাদের মালামালবোঝাই আরো একটি জাহাজ রয়েছে। এসব মালামালের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সাথে অনেকেই তাদের পালিত হাঁস-মুরগীও নিয়েছেন। আগামীকাল পঞ্চম দফার দ্বিতীয় দিনে আরো দুহাজার রোহিঙ্গা ভাসানচর যাবে। বোট ক্লাব জেটিতে অপেক্ষমাণ রোহিঙ্গারা জানায়, অত্যধিক শরণার্থীর চাপে উখিয়া-টেকনাফের আশ্রয় শিবিরগুলোতে তাদের জীবন-যাপন দুর্বিষহ ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাসের প্রেক্ষিতে উন্নত পরিবেশে বসবাসের আশায় তারা স্বেচ্ছায় ভাসানচর যাচ্ছে। আজ জাহাজ ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হলেও কারো চোখে-মুখে বিরক্তির ছাপ দেখা যায়নি। বরং পুরোটা সময় নিজেরা খোশগল্পে মেতেছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ৫০ টিরও বেশি বাসে করে এদের চট্টগ্রামে আনা হয়। গভীর রাতে পৌঁছে পতেঙ্গাস্থ বিএএফ শাহীন কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পে খাওয়া-দাওয়াশেষে তারা সেখানে রাত্রি যাপন করে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচর স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয় গত বছরের ৪ ডিসেম্বর। প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যায়। দ্বিতীয় ধাপে ২৯ ডিসেম্বর ১ হাজার ৮০৫ জনকে ভাসানচর নেয়া হয়। তৃতীয় ধাপে ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি দুইদিনে ৩ হাজার ২০০ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পৌঁছে দেয়া হয়। চতুর্থ ধাপের প্রথম দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি ২ হাজার ১৪ জন ও দ্বিতীয় দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি ৮৭৯ জন রোহিঙ্গা ভাসানচর স্থানান্তরিত হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার পঞ্চম ধাপের দ্বিতীয় দিনের স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষ হলে ১৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার থেকে ভাসানচর পৌঁছাবে। সরকার মোট এক লক্ষ রোহিঙ্গাকে ভাসানচর স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে। সেখানে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাদের জন্য পরিচ্ছন্ন গুচ্ছ আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে।
ভ্যাকসিন প্রদানে সফলতা দেখিয়েছে স্বাস্থ্যখাত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৩,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত করোনা ভ্যাকসিন প্রদানে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট সফলতা দেখিয়েছে। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন প্রদানে বিশ্বের বহু দেশ এখনও হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু দেশের স্বাস্থ্যখাত এই ভ্যাকসিন প্রদানে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট সফলতা দেখিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারলে আগামীতেও ভ্যাকসিন প্রদানে দেশের সুনাম বিশ্বব্যাপি অক্ষুন্ন থাকবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ডিপ্লয়মেন্ট ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক বিশেষ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। জাহিদ মালেক বলেন, গত ১ মাস দেশব্যাপি ভ্যাকসিন প্রদানে বাংলাদেশের প্রশংসা কেবল দেশেই নয়, বিদেশ থেকেও হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশের ৪৫ লাখ ৭৭ হাজারেরও বেশি মানুষ ভ্যাকসিন নিতে রেজিস্ট্রেশন করেছে এবং ইতোমধ্যেই ৩৩ লাখ ৪১ হাজারেরও বেশি মানুষ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই দেশের ১ হাজার ৭টি ভ্যাকসিন বুথে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে। আগামী জুলাই পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে কোভ্যাক্স এর ১ কোটি ৯ লাখ ভ্যাকসিনসহ মোট ৪ কোটি ভ্যাকসিন দেশের মানুষের শরীরে প্রদানের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ভ্যাকসিন প্রদানে ভবিষ্যতে যাতে কোন রকম সমন্বয়হীনতা দেখা না দেয় সেজন্য প্রতি ১৫ দিন পর পর সচিবালয়ে অন্তত একটি করে ভ্যাকসিন আপডেট সভা করা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরবর্তী ধাপে দেশের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট একটি অংশসহ দেশে থাকা বিদেশি নাগরিকদের, বিভিন্ন বন্দরে কর্মরত ব্যক্তিদের, দেশের পাঁচ তারকা হোটেলে কর্মরত ব্যক্তিদেরকেও ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। আগামীতে আরো ভ্যাকসিন ক্রয় করতে বিশ্বের বিভিন্ন দাতা সংস্থাসমূহ প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা প্রদানে আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন হাতে চলে এলে ভ্যাকসিন প্রদানে ৪০ বছরের বাধ্যবাধকতা কমিয়ে আনা হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন।
অপরাজিতা সম্মাননা পেলেন ১০ বিশিষ্ট নারী
৩,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ বিশিষ্ট নারীকে দেয়া হয়েছে অপরাজিতা-২০২১ সম্মাননা। স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে প্রথমবারের মতো এবার ভিন্নধারায় এ সম্মাননা দেয়া হয়। এ বছর অপরাজিতাদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নারী। তারা হলেন- আয়েশা বেগম, মুস্তারী শফি, রিজিয়া বেগম, হাফিজা বেওয়া ও শিল্পী শাহিন সামাদ। অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন কথা সাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, নারী উদ্যোক্তা মৌসুমি ইসলাম, প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম, পর্বত আরোহী নিশাদ মজুমদার ও ফিফা রেফারি জয়া চাকমা। মঙ্গলবার (২ মার্চ) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আমিন জুয়েলার্স ও বাঘবাংলা এন্টারটেইনমেন্টের আয়োজনে অপরাজিতা-২০২১ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন আমিন জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আমিনুল ইসলাম, কাজী এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইসমত আরা জাকিয়া, এনটিভির পরিচালক আসফাক উদ্দিন আহমেদ, বাঘবাংলা এন্টারটেইনমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব ইবনে সুলতান প্রমুখ।
ঢাকা-জলপাইগুড়ি ট্রেন উদ্বোধন করবেন হাসিনা-মোদি
২,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ২৬ মার্চ ঢাকা থেকে সরাসরি ভারতের নিউ জলপাইগুড়িতে যাত্রীবাহী রেল চালু হচ্ছে। এ দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর উদ্বোধন করবেন। মঙ্গলবার (২ মার্চ) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফর করবেন। এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন একটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ঢাকা থেকে সরাসরি ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি রেল জংশন পর্যন্ত নীলফামারী জেলার চীলাহাটি-হলদিবাড়ী রুটে চালানোর জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। সপ্তাহে কত দিন রেল চলবে, রেল ছাড়া ও পৌঁছানোর সময়, ভাড়া, ইমিগ্রেশন, রেলের নাম- এসব বিষয় উভয় দেশের রেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
খাদ্য-গৃহায়ণ-টিকায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
২,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মহামারির এই সময়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি সরকার মানুষের জীবিকা, খাদ্য, স্বাস্থ্য, গৃহায়ণ এবং কোভিড-১৯ টিকার বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (০২ মার্চ) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় (ভার্চ্যুয়াল) এ কথা বলেন তিনি। প্রাণঘাতী করোনা মহামারির কারণে চলমান অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য উন্নয়ন কাজের চেয়ে সরকার খাদ্য, গৃহায়ণ এবং ভ্যাকসিনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ যেন খাদ্য, বাসস্থান এবং চিকিৎসায় কোনো কষ্ট না পায়। জনগণ যাতে সহজভাবে জীবন-জীবিকা চালিয়ে যেতে পারে। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত টিকা দিতে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন আমরা কিনেছি, সামনে আরও নিতে হবে। ১৭ কোটির মতো আমাদের মানুষ। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত টিকা দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন। এ জন্য আমাদের টাকা রাখতে হবে। আরও ভ্যাকসিন কিনতে হবে। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে বাজেট-বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করে যাচ্ছি। বাজেট-বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
নির্বাচন কমিশনকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
২,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। মঙ্গলবার (২ মার্চ) জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় ভোটার দিবস ২০২১ উদযাপনের উদ্যোগকে রাষ্ট্রপতি স্বাগত জানান। তিনি ভোটারদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, এবারের জাতীয় ভোটার দিবসের প্রতিপাদ্য বয়স যদি আঠারো হয় ভোটার হতে দেরি নয় খুবই যথার্থ ও সময়োপযোগী হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় একজন ভোটার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন এবং তার নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিয়মিত ভিত্তিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে আসছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের হালনাগাদকরণ কার্যক্রমে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নিবন্ধিতদের এবং ২০২১ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত হালনাগাদ কার্যক্রমে নিবন্ধিতদের রিভাইজিং অথরিটির নিকট উত্থাপিত দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ একটি প্রশংসনীয় অর্জন। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকাভুক্তির পাশাপাশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রও প্রদান করে থাকে। আঠারো বছরের বেশি বয়সী সকল নাগরিকের ছবি ও আঙুলের ছাপের বায়োমেট্রিক তথ্যসহ কম্পিউটার-ভিত্তিক ডাটাবেইজ নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত করছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ব্যক্তির সঠিক পরিচয় যাচাই করে সকল সরকারি চাকরিজীবীর বেতন, পেনশন, মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক ও বিধবাভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সেবাপ্রদান সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সকল পর্যায়ের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশন তাদের সেবা কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভোটগ্রহণ পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার শুরু করেছে, যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের আকাঙ্খার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি বলেন,দেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বপালন করবে- এ প্রত্যাশা করি। তিনি জাতীয় ভোটার দিবস-২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
নোয়াখালীতে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার বিচার দাবিতে কালো পতাকা মিছিল
১,মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আ.লীগের দুপক্ষের গোলাগুলিতে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের বিচারের দাবিতে নোয়াখালীতে কালো পতাকা মিছিল হয়েছে। সোমবার (০১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বখতিয়ার শিকদার, অবয়ব সম্পাদক আবুল হাসেম, দৈনিক যুগান্তর জেলা প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান চৌধুরী, সময় টিভি নোয়াখালী প্রতিনিধি সাইফুল্লাহ কামরুল, দৈনিক যায়যায় দিন জেলা প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জু, দৈনিক দিশারী সম্পাদক আকাশ মো. জসিম, চ্যানেল ২৪ ও দৈনিক বণিক বার্তা জেলা প্রতিনিধি সুমন ভৌমিক, ৭১ টিভির জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমানসহ জেলায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের এ কালো পতাকা মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। ৪৫ ফিট লম্বা কালো পতাকার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে গণমাধ্যম কর্মীরা মিছিলে অংশ নিলেও দেয়া হয়নি কোনো স্লোগান। এ ছাড়া প্রত্যেক গণমাধ্যকর্মীর হাতে ছিল একটি করে কালো পতাকা। গণমাধ্যম নেতারা জানান, মুজাক্কির হত্যার সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সরকার দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষাকে বহুমাত্রিক করতে কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী
২৮,ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষাকে বহুমাত্রিক করতে কাজ করছে। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বহুমাত্রিক করে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেক্সটাইল, ডিজিটাল, প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি, ফ্যাশন ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে আধুনিক যুগে কী কী ধরনের বিষয় লাগে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, এভিয়েশন এন্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় করেছি অর্থাৎ বিষয় নির্বাচন করে বাংলাদেশের যেসব এলাকায় যে ধরনের শিক্ষার গুরুত্ব বেশি আমরা সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করে দিচ্ছি। যাতে সকলেই শিক্ষাটা যথাযথভাবে গ্রহণ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আরো ও বলেন, বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি শিক্ষা বা কারিগরি শিক্ষাটাই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কেননা, এটা দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। শেখ হাসিনা আজ সকালে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি, টিউশন ফি, ভর্তি সহায়তা ও চিকিৎসা অনুদান বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাষ্ট থেকে এদিন এক লাখ ৬৩ হাজার ৫৮২ জন শিক্ষার্থীকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উপবৃত্তি, টিউশন ফি, ভর্তি সহায়তা ও চিকিৎসা অনুদান বিতরণ করা হয়। সরকার প্রধান বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৪৫ কোটি ৮৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বাবদ বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপন করা হচ্ছে এবং প্রতিটি বিভাগীয় সদরে ১টি করে মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন প্রতি জেলায় একটি করে সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করা হচ্ছে । শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার সকল জেলা পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছে যেন ছেলে-মেয়েরা ঘরের খেয়ে বাবা-মায়ের চোখের সামনে থেকে পড়ালেখা করতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, প্রাথমিকসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষায় সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়াতে ছাত্র-ছাত্রী উভয়ের জন্য বর্ধিত হারে উপবৃত্তি প্রদান করে যাচ্ছে, ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গ সমতা অর্জন করায় বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে। এর ব্যাখায় তিনি বলেন, লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে আমি একটু বলতে চাই দেখা যাচ্ছে যে, মেয়েদের সংখ্যাই বেশি এবং ছেলেদের সংখ্যাটা কমে যাচ্ছে। সেটা যেন না হয় সেদিকে একটু নজর দেবেন। কারণ আমাদের লিঙ্গ সমতাটা একটু অন্য ধরনের হয়ে যাচ্ছে। ছেলেরা কেন কমে যাচ্ছে সেই বিষয়টা একটু দেখা দরকার। আমি মনে করি অভিভাবক, শিক্ষক সকলকেই এটা দেখতে হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে সঙ্গে পটুয়াখালীর গলাচিপা, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্বরপুর উপজেলা এবং বান্দরবন সদর উপজেলা সংযুক্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রী পরে উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মহামারি করোনার মধ্যেও যথাসময়ে বই বিতরণ করায় তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ বছরের প্রথম দিন ৪ কোটি ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ২২৬ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬২ হাজার ৩৯৪টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৬৬ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। কোভিড-১৯ এর কারণে দেশের সকল স্কুল, কলেজ এবং বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ থাকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমরা আশা করছি আগামী ৩০ মার্চ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সক্ষম হবো। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারি যারা রয়েছেন সকলকেই টিকা নিতে হবে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে কলেজ এবং শি^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকেও টিকা দেয়া হবে বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী দেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে তাঁর সরকারের সাফল্য প্রসঙ্গে বলেন, ৯৬ সালে সরকারে আসার পর তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয় । তিনি বলেন, সেখানে আনুষ্ঠানিক, উপানুষ্ঠানিক, মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্টান ভিত্তিক এবং বয়স্ক শিক্ষার ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছিল। এক্ষেত্রে বিভিন্ন এনজিও সহ বিভিন্ন সংগঠনকে কাজে লাগানো হয় বয়স্ক শিক্ষার জন্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রতিটি জেলাকে নিরক্ষরতামুক্ত ঘোষণা করা এবং এর ফলও পেতে শুরু করে। সকলের উদ্যোগে সকলের সহযোগিতায় খুব অল্প সময়েই কয়েকটি জেলাকে নিরক্ষরতামুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হয়। সেজন্য সে সময় ইউনিসেফ থেকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার বাবদ প্রায় ১০ হাজার ডলার প্রাপ্তি এবং সেটি দিয়ে একটি বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। ৪৫ শতাংশ থেকে শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশে উন্নীত করি। তবে, পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সেটি বন্ধ করে দেয়। সে সময় পিএইচডি বা উচ্চশিক্ষার্থে যেসব শিক্ষার্থীরা বিদেশে গমন করে তাদেরকে কোর্স কারিকুলাম বাদ রেখেই দেশে ফিরিয়ে আনে, বলেন তিনি। এ ধরনের সরকারী কর্মসূচিগুলো সরকার পরিবর্তন হলেই যেন বন্ধ হতে না পারে সেজন্যই আওয়ামী লীগ সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেজন্য যাই করি সবসময় এটা চিন্তা করি সরকার বদল হলেও যেন এগুলো বন্ধ না হয়। তিনি বলেন, তাঁর সরকার ৯৬ পরবর্তী সরকারে থাকার সময় দেশের বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে ১২টি নতুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়ে ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু করেছিল, সে সময় কম্পিউটার যন্ত্র্রাংশের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে সরকার প্রযুক্তি শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করে। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেই বিএনপি পরবর্তী ৫ বছরে দেশে সাক্ষরতার হার ফের ৬৫ ভাগ থেকে ৪৪ ভাগে নামিয়ে এনেছিল। তাঁর সরকারের প্রচেষ্টায় জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণীত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন পরীক্ষার ফলাফল ওয়েবসাইটে, মোবাইল ফোনের এসএমএসর মাধ্যমে অতিদ্রুত প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন এবং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনে করা হচ্ছে। পরীক্ষা বা মূল্যায়ন পদ্ধতির আধুনিকায়ন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার মান বেড়েছে এবং সব পাবলিক পরীক্ষায় ফলাফলও ভাল হচ্ছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমে আই.সি.টি. বিষয় আবশ্যিক করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ডিজিটাল কনটেন্ট ও অন্যান্য বিষয়ে ৫ লক্ষাধিক শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষা সম্প্রসারণে আওয়ামী লীগ সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ সম্পর্কে সরকার প্রধান বলেন, বর্তমানে শিক্ষার হার ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত ৩৩৭টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৩৩৯টি বেসরকারি কলেজ সরকারিকরণ করেছে। সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তায় উন্নীত করেছে এবং ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছে। এতে ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণ হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাকালীন সময়েও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার ৩৫১ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে ৫১৭ কোটি ৩৩ লক্ষ ১২ হাজার টাকা অবসর সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ৫ হাজার ৪৪৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর কল্যাণ ভাতার আবেদন নিষ্পত্তি করে ২১৮ কোটি ৬৩ লক্ষ ৮ হাজার ১৩৫ টাকা প্রদান করা হয়। তাঁর নির্দেশনাতেই ২০১২ সালে ১ হাজার কোটি টাকা সীড মনি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট গঠন করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ট্রাস্ট গঠনের পর থেকেই এ পর্যন্ত স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ১২ লাখ ১৯ হাজার ৭২৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ৯শ টাকা হারে ৬৬১ কোটি ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৮০ টাকার উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের মোট উপবৃত্তির শতকরা ৭৫ ভাগ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেয়েদের সংখ্যাটা একটু বেশি হলেও এখন ছেলেদেরকেও বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় পরিচালিত সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচি থেকে ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১২শ ২৮ কোটি ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৬০ টাকার উপবৃত্তি ও টিউশন ফি প্রদান করা হয়েছে। পাহাড়, হাওড়সহ বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষা সম্পসারণে সরকার সেসব এলাকায় আবাসিক বিদালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্গম, চরাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিবেচনায় নিয়ে এ অঞ্চলগুলোতে শতভাগ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ট্রাস্ট থেকে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিতকরণে মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫ হাজার টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৮ হাজার টাকা ও স্নাতক পর্যায়ে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। গত অর্থবছর পর্যন্ত ৮৫৩ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি সহায়তা বাবদ ৩১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। তিনি এ সম্পর্কে আরো বলেন, দুর্ঘটনার কারণে গুরুতর আহত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান প্রদানের ফলে অর্থাভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় ব্যাঘাত ঘটছে না। তাঁর সরকার যে একশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে সেখানেও অনেক টেকনিক্যাল হ্যান্ডস প্রয়োজন পড়বে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করতে পারলে তারা আমাদের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখতে পারবে।
অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনতে টিম গঠনের নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর
২৮,ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের উপকূলীয় ও সিলেট এলাকার অনাবাদি জমি চিহ্নিত করে দ্রুত চাষাবাদের আওতায় আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনে দ্রুত টিম গঠনের জন্য কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি আজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের(এডিপি) বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশ দেন। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো.মেসবাহুল ইসলাম সভা পরিচালনা করেন। ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চাল। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শাকসবজি, আলু, ভুট্টা, গমসহ ফলমূলের উৎপাদনও অনেক বেড়েছে। কিন্তু মানুষ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বলতে চালকেই বুঝে। সেজন্য, চালের উৎপাদন বৃদ্ধিতেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সিলেট ও উপকূলীয় এলাকায় এখনও অনেক অনাবাদি পতিত জমি আছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে কত জমি অনাবাদি আছে, তার কতটুকু চাষের আওতায় আনা যায়-তা স্টাডি করে দেখতে হবে। তিনি বলেন, সেখানে সেচের পানির অভাব রয়েছে। তবে ভূউপরিস্থ পানির জন্য কয়েকটা নদী রয়েছে। পাম্প ব্যবহার করে নদীর পানি কীভাবে সেচের জন্য কাজে লাগানো যায় তা স্টাডি করে বের করতে হবে, যাতে করে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়। মন্ত্রী এসময় সিলেট এলাকার অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনতে দ্রুত টিম গঠন করার নির্দেশ দেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর