বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১
৭ মার্চের ভাষণ সার্বজনীন মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার সমার্থক : ইউনেস্কো
২৪,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শিক্ষা সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সার্বজনীন মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও মর্যাদার সমার্থক বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক সংস্থার (ইউনেস্কো) মহাসচিব আদ্রে আজোউলে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর ১০ দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার ৭ম দিনে এক ভিডিও বার্তায় ইউনেস্কো মহাসচিব এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ঐতিহাসিক এ গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেশটির স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেয়ায় বাংলাদেশ এবং বিশ্ব এই দিনটি উদযাপন করছে। ইউনেস্কো যে কারণে এই ঐতিহাসিক ভাষণটি বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে, সেই একই কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে যোগ দিয়েছে। ইউনেস্কো মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের কয়েক বছর পরেই ইউনেস্কোতে যোগ দেয়। বাংলাদেশ ও ইউনেস্কোর মধ্যে বন্ধুত্ব স্থাপনের আজ সেই ঐতিহাসিক দিন। আদ্রে আজোউলে বলেন, আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে, বিশেষত কন্যা শিশু এবং নারীদের অত্যন্ত সমৃদ্ধ সহযোগিতার ইতিহাসের উদযাপন করছি। তিনি বলেন, সহযোগিতার মধ্যে আরও রয়েছে- পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ শহর এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং বেশ কয়েকটি বাঙালি ঐতিহ্যের পাশাপাশি জামদানি শাড়ি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিশেষ করে বহুসংস্কৃতিবাদের ক্ষেত্রে ইউনেস্কো-বাংলাদেশ সহযোগিতা একটি নমুনা বলে উল্লেখ করেন মহাসচিব। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে ঢাকায় ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট রয়েছে এবং বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানাই এজন্য যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে। আদ্রে আজোউলে বলেন, আমরা সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরষ্কার চালু করে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এই প্রতিশ্রুতি আরও জোরদার করব। বাংলাদেশ এবং ইউনেস্কোর এই বন্ধুত্ব আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান ইউনেস্কো মহাসচিব। তিনি বলেন, আসুন এই মুহূর্তে আমরা আশাবাদী হই এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করি এজন্য যে, মানবতার পক্ষে এই লড়াই, একই সঙ্গে অধিকার বা স্বাধীনতার পক্ষে।
হাসিনা বেগমের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
২৩,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজকের বিজনেস বাংলাদেশের সম্পাদক ও প্রকাশক, সাবেক ছাত্রনেতা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক মোঃ মেহেদী হাসান বাবুর রত্মগর্ভা মা ও আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এর সভাপতি এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেনের বড় বোন হাসিনা বেগমের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী মঙ্গলবার পালিত হয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের ২২ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। দীর্ঘদিন লিভারের জটিলতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। হাসিনা বেগম ছিলেন একজন সুগৃহীনী, পরোপকারী নারী। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে আজকের বিজনেস বাংলাদেশ, নিউজ একাত্তর পরিবারসহ নানা সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ শোক পালন করেন। এ উপলক্ষ্যে তাঁর নিজ গ্রামের বাড়িতে কোরআন খানী, মিলাদ মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করে তার পরিবার ।
জাতীয় বীরদের প্রতি ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
২৩,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে পুষ্প স্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে আজ সকাল সাড়ে দশটায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতি সৌধে পৌঁছান। স্মৃতিসৌধে লোটে শেরিংকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল শাহীনুল হক, ঢাকার পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট মো. মারুফ হোসেন সরদার এবং উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ। বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময়ে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। স্মৃিতসৌধে শেরিং পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। ভুটনের প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন বইতে লেখেন, মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশের সাহসী সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমার জন্যে সম্মানের বিষয়। তাদের এই ত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় সমুজ্জ্বল থাকুক। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গনে তিনি একটি লটকন ফল গাছের চারাও রোপন করেন। এর আগে আজ সকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং জাতির পিতা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে যোগ দিতে তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকা এসে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এ সময়ে রাষ্ট্রীয় অতিথির সম্মানে ২১ বার তোপধ্বনি করা হয়।
ঢাকায় পৌঁছেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী
২৩,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে অংশ নিতে তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোতে শেরিং। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ঢাকা এসেছেন তিনি। শেরিংকে বহনকারী বিমানটি আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে বাংলাদেশ ও ভুটানের দুই নেতার সম্মানে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সফরকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ ছাড়া জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশেষ অনুষ্ঠানমালায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আজ বিকেলে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। লোতে শেরিং আজ সন্ধ্যায় সোনারগাঁও হোটেলে প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত নৈশ ভোজে অংশ নেবেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। ওই বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এরপর বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সন্ধ্যায় ঢাকায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে- মুজিব চিরন্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে দেশটির রয়াল একাডেমি অব পারফর্মিং আর্টসের (রাপা) ২২ জন শিল্পী এবং চার জন সাংবাদিক গত সপ্তাহে ঢাকায় এসেছেন। সফরকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করবেন। আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সফর শেষে ভুটানে ফিরে প্রধানমন্ত্রীসহ প্রতিনিধিদলের সবাই ২১ দিন বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।
বঙ্গবন্ধুকে গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করায় বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা
২৩,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারত সরকার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আন্তর্জাতিক গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। সোমবার (২২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে ভারত সরকার আন্তর্জাতিক গান্ধী শান্তি পুরস্কার দিয়েছে। গান্ধী শান্তি পুরস্কার ভারত সরকার থেকে প্রদত্ত মহাত্মা গান্ধীর নামাঙ্কিত একটি বার্ষিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ১৯৯৫ সালে মহাত্মা গান্ধীর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গান্ধীজির মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারত সরকার এই পুরস্কার চালু করে। ২০১৯ সালে এই পুরস্কার পেয়েছেন ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাদ আল সাইদ।
দল-মত নির্বিশেষে হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির
২২,মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকার ও রাজনৈতিক দল যখন সততা, আন্তরিকতা দিয়ে জনস্বার্থে কাজ করে তখন জাতির উন্নতি ও কল্যাণ নিশ্চিত হবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, সাধারণ হতদরিদ্র মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে দল-মত নির্বিশেষে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। মুজিববর্ষে এটাই হবে সবচেয়ে বড়ো অর্জন। সোমবার (২২ মার্চ) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ১০ দিনের আয়োজনের ষষ্ঠ দিনে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সোমবার আয়োজনের থিম: বাংলার মাটি আমার মাটি। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এখন উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার পথে দ্রুত অগ্রসরমান। জলে-স্থলে-আকাশে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি দেশকে সোনার বাংলা হিসাবে গড়তে চেয়েছিলেন। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই আরাধ্য কাজ সম্পন্ন করেছেন, বাংলাদেশের স্থল ও সমুদ্রসীমা স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করেছেন। ৫৭তম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে যা সফলভাবে কাজ করছে। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার। তারই দেখানো পথে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে অযুত বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হতে পারে, সে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়। বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সত্তা, একটি ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে জাতি এগিয়ে যাক ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে।
জনকণ্ঠ সম্পাদকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক
২২,মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জনকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকালে এক শোক বার্তায় আতিকউল্লাহ খান মাসুদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি মরহুম আতিকউল্লাহ খান মাসুদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পৃথক এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এর আগে আজ (সোমবার) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়ার পথে আতিকউল্লাহ খান মাসুদের মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তার সম্পাদনায় ১৯৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় দৈনিক জনকণ্ঠ। বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতে আলোড়ন তুলে মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদও আসেন তুমুল আলোচনায়। এই পত্রিকাটি সর্বপ্রথম দেশের কয়েকটি স্থান থেকে একযোগে ছাপা শুরু করেছিল। পরে অবশ্য তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেপালের প্রেসিডেন্টের শ্রদ্ধা
২২,মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারী। সোমবার বেলা ১১টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান তিনি। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং একটি গাছ রোপন করেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে দুইদিনের সফরে নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী ঢাকায় পৌঁছান। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি ঢাকায় এসেছেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বিমানবন্দরে নেপালের প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানান। এসময় ২১ বার তোপধ্বনির পর বিমানবন্দরে নেপালের প্রেসিডেন্টকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এটিই বাংলাদেশে নেপালের রাষ্ট্রপতি পর্যায়ের প্রথম সফর। বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী ২২ ও ২৩ মার্চ দুইদিন ঢাকায় অবস্থান করবেন। সফরসূচী অনুযায়ী বিকেলে প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপরে তিনি জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও নেপালের শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি সাংস্কৃতিক পর্বেরও আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় নেপালের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। উভয় রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবার ট্রানজিট ও প্রটোকল চুক্তিতে অপারেশনাল লাইজেশন অব রহনপুর-সিঙ্ঘাবাদ রেলওয়ে ট্রানজিট চুক্তির বিষয়টি নতুন করে সংযোজন করা হতে পারে। এতে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর-ভারতের মালদহের সিঙ্ঘাবাদ সীমান্ত দিয়ে পণ্যবাহী ট্রেন নেপালের বিরাটনগর পর্যন্ত যাবে। মাঝে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করবে নেপাল। বর্তমানে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ট্রানজিট ও প্রটোকল চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় নেপালকে ৬টি পোর্ট অব কল দেয়া হয়। এগুলো হলো চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর, বেনাপোল, বাংলাবান্ধা, বিরল ও চিলাহাটি। এসব পোর্ট অব কলে নেপালের যানবাহন পণ্য পরিবহন করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাবান্ধা ছাড়া আর কোনো বন্দর দিয়ে নেপালে নিয়মিত পণ্য আসা-যাওয়া করে না। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে। চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোতে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন খাত, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হবে। আজ রাতেই রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ নেপালের প্রেসিডেন্ট এবং তার প্রতিনিধিদলের সম্মানে একটি নৈশভোজের আয়োজন করবেন। আগামীকাল (২৩ মার্চ) নেপালের প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি কাঠমান্ডু ফিরে যাবেন। নেপালের প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধিদলে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গিয়াওয়ালি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রেসিডেন্টের অফিস ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সিনিয়র কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করবে জাপান
২১,মার্চ,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বন্ধু রাষ্ট্র জাপান বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো। রোববার (২১ মার্চ) সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রদূত বলেছেন করোনা পরিস্থিতি শেষ হলে জাপান বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করবে। বাংলাদেশে জাপানী সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেও মাতারবাড়ি প্রকল্প এগিয়ে চলেছে। মাতারবাড়ি বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব হবে এবং এটা হবে গেম চেঞ্জার। নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানকে জায়গা দেওয়া হয়েছিল। এটি আগামী বছর প্রস্তুত হবে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন নাওকি ইতো। মীরেরসরাইয়ে হবে জাপানের জন্য দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাতারবাড়ি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর জাপান সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সফরে আমার বোন শেখ রেহানা ও ছোট ভাই শেখ রাসেল বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী ছিলেন। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই জাপান ও বাংলাদেশ যৌথভাবে এ টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। সৌজন্য সাক্ষাতকালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার পাঠানো বার্তা এবং ১৯৭৩ সালে জাতির পিতার জাপান সফরের ওপর নির্মিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টরি- ওয়েলকাম বঙ্গবন্ধু (১৯৭৩) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো। শুভেচ্ছা বার্তা ও ডকুমেন্টরি উপহারের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগাকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিরোধীদলের নেতা হিসেবে জাপান সফরের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাপান ছিল আমার স্বপ্নের রাজ্য। সাক্ষাতকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস।

জাতীয় পাতার আরো খবর