সোমবার, আগস্ট ২, ২০২১
সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন : সেতুমন্ত্রী
৩,এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন- করোনার বিরাজমান পরিস্থিতিতে সরকার আগামী সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে সরকার লকডাউন ঘোষণা করছে। শিল্প কলকারখানা সর্তসাপেক্ষ চালু থাকতে পারে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিস্তারিত জানাবে। ওবায়দুল কাদের আজ শনিবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন। এদিকে এক ভিডিও বার্তায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, দ্রত বেড়ে যাওয়া করোনা সংক্রমন রোধকল্পে সরকার ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই সারাদেশে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে লকডাউন চলাকালে শুধু জরুরী সেবা দেয় সেই ধরনের প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। আর শিল্প কলকারখানা খোলা থাকবে, যাতে করে শ্রমিকরা স্বাস্থ্য বিধি মেনে এবং বিভিন্ন শিপটিং ডিউটির মাধমে তারা কলকারখানায় কাজ করতে পারে। এদিকে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মাস্ক পরা জরুরি কর্তব্য বলে মনে করে সেগুলো পালন করার আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে, কিন্তু এখনো অনেকেই মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অনিহা দেখাচ্ছে, যা প্রকারান্তরে ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে আসতে পারে। নিজেদের সুরক্ষায় সবাই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করাই এখন মূল কাজ। বিএনপি যে নেতিবাচক ভাইরাসে আক্রান্ত তা করোনার চেয়েও ভয়াবহ মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মহামারিতে বিএনপি জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে ঘরে বসে মিডিয়ায় ঝড় তোলা আর সরকারের অন্ধ সমালোচনা ও মিথ্যাচারই করোনাকালে বিএনপির সফলতা। তারা সরকারের কোন উদ্যোগ চোখে দেখে না। একবার লকডাউন নিয়ে অপপ্রচার, আবার করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে মিথ্যাচার, কখনো কখনো সরকারের ব্যর্থতা খোঁজা বিএনপির রোজনামচা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হয়েও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নূন্যতম মূল্যবোধও তারা হারিয়ে ফেলেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের সম্পদ বিনষ্ট আর নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে বিএনপি এবং তার সহযোগীরা যে তান্ডবলীলা চালিয়েছে তার জন্য বিএনপিকেই জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। আন্দোলনের নামে জনগণের উপর প্রতিশোধ নেওয়াই এখন বিএনপির কৌশল। রমজানে অহেতুক মূল্য বৃদ্ধি ও মজুদদারিতা নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্ক রয়েছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, রমজান এলেই এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়, যা শাস্তি যোগ্য অপরাধ। ইতোমধ্যে সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, বাজার অস্থির করার যে কোন অপপ্রয়াস সরকার মেনে নিবে না। কোন ধরনের সিন্ডিকেটের কাছে সরকার বাজার ব্যবস্থাকে জিম্মি হতে দিবে না। সূত্র : বাসস
লকডাউনে বন্ধ থাকবে অফিস-মার্কেট, খোলা থাকবে শিল্পকারখানা, জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান
৩,এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে লকডাউনে যাচ্ছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শনিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে নিজ বাসা থেকে এক ভিডিও বার্তায় এ কথা জানান। লকডাউনে কী কী বন্ধ থাকবে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের জরুরি সেবা দেওয়া এমনসব প্রতিষ্ঠান যেমন- ডিসি অফিস, ইউএনও অফিস, ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অফিস, সংবাদপত্রএগুলো খোলা থাকবে। তিনি বলেন, আমরা মানুষের চলাফেরা একেবারে সীমিত করে দিতে চাচ্ছি। যাতে মানুষ ঘর থেকে বের না হয়। লকডাউনের মধ্যে শিল্প-কলকারখানা চালু থাকবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে একাধিক শিফট করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকরা কাজ করবেন। কলকারখানা বন্ধ করে দিলে অধিক সংক্রমিত জেলা থেকে মানুষ বাড়িতে যাবে। এতে ওই সব জেলাতেও সংক্রমিত হওয়ার সংখ্যা বাড়বে। তিনি বলেন, লকডাউনে সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। আদালত ও সব ধরনের মার্কেট বন্ধ থাকবে। লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে কিনা- প্রশ্নে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করছি। যখন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবো সেখানে তা স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে। আজ সন্ধ্যার মধ্যে প্রজ্ঞাপন হবে। কবে থেকে লকডাউন শুরু হবে- সে প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রজ্ঞাপনে সে বিষয়টি উল্লেখ থাকবে। আমরা আগে থেকে জানাচ্ছি যাতে মানুষ অন্য কোনো স্থানে গিয়ে আটকে না পড়েন। প্রস্তুতিটা নিতে পারেন। এরআগে ভিডিও বার্তায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, দ্রুত বেড়ে যাওয়া করোনা সংক্রমণ রোধ করতে সরকার ২/৩ দিনের মধ্যে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের চিন্তা করছে। গত কয়েক দিন থেকে করোনা সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সরকার লকাউনের দিকে যাচ্ছে। করোনা সংক্রমণের কারণে গতবছরের ১৮ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। গতবছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ দেখা যাওয়ায় ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে ৬৬ দিনের লকডাউন ছিল সারা দেশে। এই সময়ে জরুরি ছাড়া সব যানবাহন বন্ধ ছিল।
বিশ্বের ৬১ দেশ থেকে বাংলাদেশ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর
৩,এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সম্প্রতি মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইংল্যান্ড ছাড়া ইউরোপের ৪৯টি দেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য ১২টি দেশ থেকে বাংলাদেশে যাত্রী পরিবহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। শুক্রবার (২ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কার্যকর হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা। এর আগে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশে বিমান প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো হয়। বাংলাদেশে বিশ্বের ৬১ দেশর বিমান প্রবেশের এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সেই সঙ্গে রাত ১২টার পর আগতদের ১৪ দিনের হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে কোয়ারেন্টাইন প্রতিপালনে প্রয়োজনে আলোচনা সাপেক্ষে যাত্রীদের পোসপোর্ট জমা রাখার পরিকল্পনাও করছে বেবিচাক। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইউরোপের বাইরে ১২টি দেশ হলো- আর্জেন্টিনা, বাহরাইন, ব্রাজিল, চিলি, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পেরু, কাতার, সাউদ আফ্রিকা, তুরস্ক ও উরুগুয়ে।
২৬ মার্চকে বাংলাদেশ ডে ঘোষণা
৩,এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউচার ২৬ মার্চকে বাংলাদেশ ডে ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (৩ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউচার বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে ২৬ মার্চকে বাংলাদেশ ডে হিসেবে ঘোষণা দেন।
গণপরিবহন সংকট নিরসনে রাজধানীতে নামছে ৬০ দ্বিতল বাস
২,এপ্রিল,শুক্রবার,নিউজ ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও সংক্রমণ প্রতিরোধে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। বাসসহ সব গণপরিবহনে অর্ধেক আসন খালি রেখে যাত্রী তুলতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়। এতে ভাড়া বেড়েছে ৬০ শতাংশ। একই সঙ্গে অফিসে ৫০ শতাংশ উপস্থিতি ঠিকঠাক কার্যকর না হওয়ায় রাস্তায় বেরিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন অফিসযাত্রীরা। সড়ক অবরোধ করতেও বাধ্য হয়েছেন সাধারণ জনগণ। গত দু তিনদিন ঢাকায় গণপরিবহনের তীব্র এ সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ৬০টি দ্বিতল বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার (৪ এপ্রিল) ৬০টি ডাবল ডেকার বাস নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করবে। মূলত যেসব রুটে যাত্রী সংখ্যা বেশি এসব রুটকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। মূলত এখন বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফলে বিআরটিসর বাসগুলোও ডিপোতে অলস পড়ে আছে। এসব বাস অতিরিক্ত হিসেবে নগরীতে নামানো হবে। এ বিষয়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ৬০টি ডাবল ডেকার বাস রোববার থেকে রাজধানীতে নামবো। ঢাকার রাস্তায় বিআরটিসির ৩৫টি ডাবল ডেকার বাস ইতোমধ্যে নামানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬০টি বাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমার বিশ্বাস ৬০টি ডাবল ডেকার ফুলফেজে নামানো হলে যাত্রীদের পরিবহন সংকট অনেকটাই কমে আসবে।
সাংবাদিকের ওপর হামলা মানে গণতন্ত্রে আঘাত করা: ফরিদা ইয়াসমিন
২,এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের সহিংসতার ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শন করেছে জাতীয় প্রেসক্লাবের একটি প্রতিনিধি দল। শুক্রবার (০২ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব পরিদর্শনে আসেন। পরে দলটি বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। পরে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে বিনিময় করেন এবং আহত সাংবাদিকদের খোঁজ-খবর নেন। এ সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা মানে গণতন্ত্রে আঘাত করা। সম্প্রতি সহিংসতার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা ও গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় তাদের লক্ষ্য ছিল সাংবাদিকদের আঘাত করা। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ একটি ভয়াবহ ঘটনা। স্বাধীনতা দিবসে এ ধরনের ঘটনা মানে স্বাধীনতার মূলে আঘাত করা। তিনি এ সময় সব সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানান। পরিদর্শনকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বিক্ষুব্ধদের হামলায় আহত রিয়াজউদ্দিন জামি, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজনসহ জাতীয় প্রেসক্লাব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সহিংসতার ঘটনায় নতুন সাতটিসহ এখন পর্যন্ত ১৯টি মামলা হয়েছে। এতে গ্রেফতার হয়েছে ২৪ জন।
অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
২,এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি প্রত্যেক অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আরও মমতাময়ী, যত্নবান ও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তাদের সম্ভাবনাগুলোকে চিহ্নিত করে সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ ও মমতা দিয়ে গড়ে তোলা হলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের দক্ষ জনসম্পদে পরিণত হবে। শুক্রবার (২ এপ্রিল) বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২১ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৪তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষ্যে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাদের পরিবার ও পরিচর্যাকারীদের শুভেচ্ছা জানাই। তিনি আরও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য- মহামারিত্তোর বিশ্বে ঝুঁকি প্রশমন, কর্মক্ষেত্রে সুযোগ হবে প্রসারণ অত্যন্ত সময়োপযোগী হযেছে বলে আমি মনে করি। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিসহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কল্যাণে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩, নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট বিধিমালা ২০১৫, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা বিধিমালা ২০১৫, বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৮ এবং প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০১৯ প্রণয়ন করেছে। এসব আইনের সফল বাস্তবায়নে যথাযথ কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এর নিরলস প্রচেষ্টায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অটিজম বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টিসহ দেশের অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। তিনি বলেন, আমাদের সরকার অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিসহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল স্তরে তাদের অন্তর্ভূক্তি তথা ক্ষমতায়নকে বিশেষ প্রাধান্য দিতে তাদের জন্য বিশেষ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে এবং মূলধারার বিদ্যালয়সমূহে যেন অন্তর্ভূক্তিমূলক পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত হয় সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা তাদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন করেছি। পাশাপাশি, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিসহ সকল প্রতিবন্ধী মানুষকে শতভাগ ভাতার আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তিসহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিসহ সকল প্রতিবন্ধী মানুষের যোগাযোগ, শিক্ষা, সামাজিক দক্ষতা, স্পিচ বা ল্যাঙ্গুয়েজ দক্ষতা উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নে এ সকল কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা মহামারিতে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির অনলাইন প্রশিক্ষণ ও ক্লাস এবং সুযোগ-সুবিধা প্রদান অব্যাহত রাখা হয়েছে। আমি প্রত্যাশা করি, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় আমাদের সরকার গৃহীত নানামুখী উদ্যোগের ফলে তাদের জীবন আরো উন্নত ও আনন্দময় হবে। আমি বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২১ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
তাণ্ডবকারীদের অবস্থান কি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, প্রশ্ন আইজিপির
১,এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারীসহ বিভিন্ন স্থানে হেফজাতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, বারবার কেন রাষ্ট্রীয় সম্পতির ওপর আঘাত করা হচ্ছে? তাদের অবস্থানটা কি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে? বৃহস্পতিবার দুপুরে হেফাজতের তাণ্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে একথা বলেন তিনি। আইজিপি বলেন, আমরা দেখছি প্রায় প্রতিবছরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমন ন্যাক্কারজনক হামলা ঘটছে। একইভাবে হাটহাজারীতেও হামলা হচ্ছে। বারবার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে। বারবার কেন রাষ্ট্রীয় সম্পতির ওপর আঘাত করা হচ্ছে? অবস্থানটা কী বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে? তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, ১৮ কোটি বাংলাদেশি আপনাদের সঙ্গে রয়েছে। একসঙ্গে আমরা ভয়কে অতিক্রম করতে পারব। কোনও বিশেষ গোষ্ঠী কোনও একটি অঞ্চলকে উপদ্রুত এলাকা হিসেবে পরিণত করবে- এটা হতে দিব না। পুলিশপ্রধান বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানুষের নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে ঘুমানোর অধিকার আছে। এই অধিকার আমরা নিশ্চিত করব। যারা যার কাছে হামলার ভিডিও ও ছবি আছে তারা যেন তা পুলিশকে সরবরাহ করে। মামলা করেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে আমাদের কী অর্জন তাহলে! বারবার সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এভাবে হামলা করছে, ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত এই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে। আইজিপি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৭৪টি মাদ্রসা রয়েছে। এখানে ১ লাখ ৩ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। দিনে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে একশ' টাকা খরচ হলে বছরে ৩৫০ কোটি খরচ হয় এসব মাদ্রাসায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন, এই খরচ আপনারাই দিচ্ছেন। দ্বীনের খেদমতের জন্য দিচ্ছেন। আসলেই তারা দ্বীনের খেদমত করছেন? বারবার তারা সহিংসতার ঘটনা ঘটাচ্ছে। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হাটহাজারীতে ভূমি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫০ বছরেও এই রেকর্ড ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার হবে কিনা সংশয় রয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে ভুগতে হবে। পুলিশপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ঐহিত্যগতভাবে যার যার ধর্ম পালন করে থাকে। ধর্ম ব্যবসায়ী যারা, তাদের দুটি চরিত্র রয়েছে। তারা ওয়াজও করেন, আবার লাঠি নিয়ে মিছিলও করেন। আমাদের এখনই প্রকৃত ধার্মিক লোক ও ধর্ম ব্যবসায়ী- এই দুই শ্রেণির পার্থক্য বুঝতে হবে। তিনি বলেন, অনেক হুজুরের গাড়ি দেখেন, তারা গাড়ি কেনার টাকা পান কোথায়। দ্বীনের জন্য টাকা দেব, ধর্ম ব্যবসার জন্য টাকা দেব না। সাহস রাখবেন, ধৈর্য হারাবেন না। Rab এর মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (মিডিয়া) হায়দার আলীসহ উচ্চ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এবার লঞ্চের ভাড়াও বাড়ল ৬০ শতাংশ
১,এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের সরকারি নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে লঞ্চে ডেকের ভাড়া বাড়ল ৬০ শতাংশ। তবে কেবিনের ক্ষেত্রে কোনো ভাড়া বাড়বে না। বর্ধিত ভাড়া আজ (বৃহস্পতিবার) থেকেই কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে বুধবার (৩১ মার্চ) লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে আলোচনার পর ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবের চিঠি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক। সেখানে ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার কথা বলা হয়। করোনা সংক্রমণ রোধে গত সোমবার (২৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৮ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগের অধিক যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। পরে মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) ৬০ শতাংশ বাস ভাড়া বাড়িয়ে ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগ যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত বুধবার থেকে কার্যকর করা হয়। অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে আগে লঞ্চের ডেকের ভাড়ার হার ছিল ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য জনপ্রতি এক কিলোমিটারে এক টাকা ৭০ পয়সা। ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অর্থাৎ ১০০ কিলোমিটার পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য জনপ্রতি ভাড়া ছিল প্রতি কিলোমিটারে এক টাকা ৮০ পয়সা। এছাড়া জনপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ১৮ টাকা। এখন এর সঙ্গে ৬০ শতাংশ যুক্ত হলো। লঞ্চের সুযোগ-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে কেবিনের ভাড়া ডেকের (তৃতীয় শ্রেণি) ভাড়ার চার, তিন, দুই ও দেড়গুণ নির্ধারিত রয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর