বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১
পরিকল্পিত পদক্ষেপেই এসডিজি বাস্তবায়নকারী দেশের একটি হতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী
২২,জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকারের যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগের ফলেই বাংলাদেশ আজ এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশে^র শীর্ষ তিনটি দেশের একটিতে পরিনত হতে পেরেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠন করার পর থেকে আমরা নানা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি। যার ফলাফল আজকে আমরা এসডিজি বাস্তবায়নে বিশে^র তিনটি দেশের মধ্যে অন্যতম অবস্থানে রয়েছি। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা যে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আমাদের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এগুলো আমরা গ্রহণ করেছি। আবার আমাদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র, নির্বাচনী ইশতেহার-সেখানেও কিন্তু দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা আমরা ঘোষণা করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকের পূর্বে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কতৃর্ক প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বঙ্গবন্ধু-এর মোড়ক উন্মোচনকালে দেয়া ভাষণে একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে এবং পরিকল্পনা মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা শেরে বাংলা নগর পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা যে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়েছি এবং পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এগুলো গ্রহণ করেছি। আবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে ঘোষণা পত্র, গঠনতন্ত্র, নির্বাচনী ইশতেহার-সেখানেও দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা আমরা ঘোষণা করেছি এবং সেভাবেই সরকার গঠন করার পর থেকে নানা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি যার ফলাফল আজকে আমরা এসডিজি বাস্তবায়নে বিশে^র তিনটি দেশের মধ্যে অন্যতম অবস্থানে রয়েছি। তিনি বলেন, বিশেষ করে এই করোনাভাইরাসের কারণে যখন সমগ্র বিশে^র অর্থনীতি স্থবির সেই সময় বাংলাদেশ একদিকে করোনাভাইরাস মোকাবেলা ও মানুষকে সুরক্ষিত করা-অপরদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল রাখতে পেরেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমি মনে করি, আমরা সকলে মিলে কাজ করেছি এবং সবাইকেই আমি এজন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। কারণ, সকলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন বলেই এই অর্জনটা সম্ভব হয়েছে। তবে, আমাদের আরো অনেক দূর যেতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত সহব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নেও বাংলাদেশ অনেক অগ্রগামী ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিল এবং এসডিজির ক্ষেত্রেও সে পথেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং দিক দর্শন রয়েছে বলেই এই অর্জন সম্ভব হচ্ছে বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, আমার সবথেকে ভাল লাগে যখন আমরা কোন সিদ্ধান্ত নেই আমাদের যারা সহকর্মী- সামরিক, অসামরিক বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি সংস্থা থেকে শুরু করে আমাদের সংগঠন এবং সর্বোপরি দেশের জনগণ সেটাকে আপন করে নেয়, গ্রহণ করে এবং কার্যকর করতে আন্তরিক হয়। তাঁর সরকারকে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত এমনকি মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলা করেই আজকের অবস্থানে আসতে হয়েছে, স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো মোকাবেলা করেই বাংলাদেশ কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জাতির পিতা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তা আমাদের জন্য মাইলফলক আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের যে সাফল্য সেগুলো জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করেই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ লব্ধ অভিজ্ঞতা থেকেই এসেছে। তিনি বলেন, জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করেই নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমরা এদেশের মানুষকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি। ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস মোকাবেলা করবার মত আত্মবিশ্বাস আমরা পেয়েছি এবং এটি মোকাবেলার পরিকল্পনা এবং পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করতে পেরেছি। তিনি বলেন, এটা আমাদের জন্য কেবল নয় বিশে^র যে কোন দুর্যোগ প্রবণ এলাকার জন্যও করণীয়। ঝড়-ঝাপটা, জলোচ্ছ্বাস, ঘুর্ণিঝড়সহ যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যতই আসুক না কেন বাংলাদেশের জনগণ তা মোকাবেলা করতে পারে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেননা আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটা আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। শেখ হাসিনা এসময় জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সেই অমোঘ মন্ত্র কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না পুন:উচ্চারণ করেন।
সরকারের দক্ষ পরিচালনাতেই মধ্যম আয়ে উন্নীত দেশ : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
২১,জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সরকারের দক্ষ পরিচালনাতেই দেশ মধ্যম আয়ে উন্নীত হয়েছে, মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে । সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী একথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সচিব মো: মকবুল হোসেন এবং সংস্থা প্রধানবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশ যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে, সরকার দক্ষভাবে দেশ পরিচালনা করতে পেরেছে বিধায় এটি সম্ভবপর হয়েছে। করোনার মধ্যেও মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। এমনকি মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে আমরা ভারতকেও ছাড়িয়েছি। করোনার মধ্যেও এই অর্থবছরের সমাপ্তিলগ্নে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে যাচ্ছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। মূল্যস্ফীতি যখন স্থিতাবস্থায় থাকে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেশি হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে মানুষের আয় উন্নতি তথা দেশের অগ্রগতি বৃদ্ধি পায়। এটি গত ১২ বছর ধরে হয়ে আসছে, সেকারণেই দেশ এগিয়েছে। ড. হাছান বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন পত্রপত্রিকা বাংলাদেশের এই অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। শুধু বাংলাদেশে অনেকে সেই অগ্রগতি দেখতে পায় না, দেখেও কোথায় কি গলদ আছে সেটা খুঁজে বের করার নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালায়। দুএকটি সংবাদ মাধ্যমেও আমরা দেখতে পাই এ নিয়ে বি:ষণ করা হয় এবং এই অগ্রগতি আসলে কতোটুকু সে নিয়ে প্রশ্ন তোলার অপচেষ্টা চালু হয়। এই অপচেষ্টা আজকে হচ্ছে তা নয়, এই অপচেষ্টা গত সাড়ে ১২ বছর ধরেই হচ্ছে। এসত্ত্বেও দেশ এগিয়েছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই সরকারের বা যে কোনো দায়িত্বশীলের ব্যর্থতা, ত্রুটি নিয়ে আলোচনা হবে, কিন্তু পাশাপাশি অগ্রগতিটাও মানুষকে জানাতে হবে। কারণ মানুষ যখন দেশকে নিয়ে আশাবাদী হবে তখনই দেশ ও সমাজ এগিয়ে যাবে। আশাহীন মানুষ যেমন এগিয়ে যেতে পারেনা, আশাহীন সমাজও পারেনা। দেশের অগ্রগতি যদি বিশ্বের পত্রপত্রিকায় প্রচারিত হয় অথচ আমাদের দেশে ঠিকভাবে না হয়, সেটি খুবই দু:খজনক।
ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পাচ্ছে ১৭ কোটি মানুষ : পলক
২১,জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষ ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পাচ্ছে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারিকালে ই-ফাইলের মাধ্যমে গত ১৫ মাসেই প্রায় ৩৮ লক্ষ ফাইল নিষ্পন্ন হয়েছে। এতে লাল ফিতার দূরত্ব কমার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ন্যাশনাল হেল্প লাইন ৩৩৩ নম্বর থেকে বিগত ৪ বছরে মোট ৩ কোটি ৯৬ লাখ মানুষ সেবা নিয়েছে। জরুরি খাদ্য সহায়তা ছাড়াও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বিগত ১৫ মাসে আইসিটি বিভাগের ডক্টরস পুলের মাধ্যমে দেশের ৪০ লাখ মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন। জুনাইদ আহমেদ পলক আজ নাটোর জেলা এসোসিয়েশন ইউএসএ, ইনকর অভিষেক ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যোর মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইউএসএ ইনকর সাবেক প্রধান উপদেষ্টা নাসির আলী খান পল, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইউএসএ ইনকর সভাপতি ডা. আব্দুল লতিফ, বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার। জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দেশে ৭৫র পরবর্তী সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কখনোই দেশের নাগরিকদের জন্য একটি কলসেন্টারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। দেশের মানুষের সেবার জন্য তারা কখনো ভাল কিছু চিন্তা করেননি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য দৌহিত্র শেখ হাসিনার সুযোগ্য সন্তান ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথম বাংলাদেশে জরুরি কল সেন্টার স্থাপন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে যেমন জরুরি প্রয়োজনে ৯১১ এ কল করে দ্রুত পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়, তেমনি আমাদের দেশের ১৭ কোটি মানুষ ৯৯৯ ফোন করলে দ্রুত পুলিশ ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে যায়। মাত্র চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৯৬ লাখ মানুষ এ সেবা পেয়েছে। পলক বলেন, আমরা ১২ বছর আগেও নিম্ন আয়ের দেশ ছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা, মেধা, সাহসিকতা ও সততা দিয়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং প্রশাসনিক প্রায় সকল কার্যক্রম ডিজিটাল ফাইল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে নেয়া সম্ভব হয়েছে। দেশে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ই-কমার্স অনেক শক্তিশালী হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মত বাংলাদেশের মানুষ অনলাইনে শপিং করতে পারছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত যে কোন পণ্য, যে কোন সেবা ঘরে বসেই নাগরিকদেরকে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, গত ১৫ মাসে বিচারিক মামলা ভার্চুয়াল কোর্টে সম্পাদন হয়েছে যার মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার জামিন দেয়া হয়েছে। মহামারিকালে সরকার প্রায় দেড় কোটি পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৮৬ লক্ষ কর্মহীন পরিবারকে মোবাইল ফাইনান্সিয়াল ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে আইসিটি বিভাগের সেন্ট্রাল এইড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়ার সিস্টেমের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে সঠিক ব্যক্তিদেরকে আড়াই হাজার করে টাকা পাঠানো হয়েছে।
পদ্মা সেতুতে রেলপথের সব স্ল্যাব বসানো সম্পন্ন
২১,জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতুর রেলপথের সব স্ল্যাব বসানো সম্পন্ন হয়েছে। ২ হাজার ৯৫৯টি কংক্রিট স্ল্যাবের মাধ্যমে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল সেতুকে জোড়া দেয়া হয়েছে। তবে মূল সেতু থেকে মাটি পর্যন্ত পথের কাজ শেষ হলে রেললাইন বসানো হবে। এ পথের কাজ শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে। পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ প্রকল্পের অধীনে মূল সেতুতে রেলপথ এবং সেতুর দুই প্রান্তে ৫৩২ মিটার উড়ালপথ তৈরি করছে সেতু বিভাগ। সেতু ও এর দুই প্রান্তে রেললাইন বসানোর দায়িত্ব রেলপথ মন্ত্রণালয়ের। এজন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার ব্রড গেজ রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে, যার মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত। পুরো প্রকল্পের কাজ তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ঢাকা থেকে মাওয়া, মাওয়া থেকে ভাঙ্গা ও ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ। এর মধ্যে সেতু উদ্বোধনের দিন মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চালুর অগ্রাধিকার ঠিক করেছে রেলওয়ে। এ অংশের দূরত্ব ৪২ কিলোমিটার, কাজ এগিয়েছে ৭৭ শতাংশ। প্রকল্প সূত্র বলছে, রেলপথের পাশে গ্যাসের পাইপলাইন বসানোসহ আরো কাজ বাকি আছে। রেল ও সেতুর আলাদা দুই সংস্থা এবং দুই ঠিকাদার একসঙ্গে কাজ করতে পারবে না। এক্ষেত্রে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের আগে রেলপথ বুঝিয়ে দেয়া কঠিন। সেক্ষেত্রে দুই প্রান্তে রেললাইন বসালেও সেতু চালুর প্রথম দিন ট্রেন চালানো কঠিন হবে। সবচেয়ে বড় এ সেতুর যানবাহন চলাচলের পথ তৈরি করার কথা ২ হাজার ৯১৭টি স্ল্যাব জোড়া দিয়ে। আর ২২৮টি স্ল্যাব জোড়া দিলেই এ কাজ শেষ হবে। তবে আগামী এক বছরে রেললাইন বসানো ও স্টেশনের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান প্রকল্প কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সেতুর উপরের ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার রেললাইন বসাতেই ছয় মাস লাগবে। এজন্য গত জানুয়ারিতে সেতু প্রকল্পের পরিচালককে চিঠিও দিয়েছেন পদ্মা রেল লিংক প্রকল্পের পরিচালক। এতে সেতু চালুর ছয় মাস আগে রেললাইন বসানোর পথ বুঝিয়ে দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। জুনে সেতু চালু করলে জানুয়ারির শুরুতেই নির্ধারিত পথ বুঝিয়ে দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার থেকে ফাইজারের টিকা দেয়া শুরু
২০,জুন,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনা টিকা আগামীকাল সোমবার (২১ জুন) রাজধানীর তিনটি হাসপাতালে দেয়া শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১২০ জন করে মোট ৩৬০ জনকে টিকা দেয়া হবে। রোববার করোনা বিষয়ক নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমএনসিএইচ) ডা. মো. শামসুল হক এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এসকল হাসপাতালে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন কিন্তু টিকা গ্রহণ করেননি তারা এ টিকা নিতে পারবেন। যারা টিকা গ্রহণ করবেন তাদের সাতদিন অবজারভেশনে রেখে পরবর্তীতে এ টিকা দেয়া হবে। এর আগে গত ৩১ মে ফাইজার-বায়োএনটেকের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকার চালান দেশে এসে পৌঁছায়। ওই দিন রাত ১১টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইকে-৫৮৪ ফ্লাইট যোগে টিকার এ চালান এসে পৌঁছায়। গত ২৭ মে জরুরি ব্যবহারের জন্য ফাইজারের টিকা অনুমোদন পায়। এর আগে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, রাশিয়ার তৈরি স্পুৎনিক-ভি এবং চীনের সিনোফার্মের তৈরি টিকার অনুমোদন দেয় সরকার।
প্রথম ধাপের ইউপির ৩৭১টিতে ভোটগ্রহণ সোমবার: নির্বাচন কমিশন সচিব
২০,জুন,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সারাদেশে স্থগিত থাকা প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ সোমবার (২১ জুন)। একই দিন ১১টি পৌরসভা ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (২০ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার এ তথ্য জানান। সকালে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে নির্বাচনীসামগ্রী বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এসব সামগ্রী সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা। করোনা সংক্রমণ এড়াতে ভোটারদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই ভাবে সিলেট-৩, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচন আগামী ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।
ক্ষমতা ভোগের নয়, মানুষকে ভালো রাখাটাই বড়: প্রধানমন্ত্রী
২০,জুন,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতায় থেকে নিজে খাব, নিজে ভালো থাকব; এটা নয়। ক্ষমতা আমাদের কাছে ভোগের বিষয় নয়। কীভাবে মানুষকে ভালো রাখা যায়, সেটাই হলো বড়। তিনি বলেন, একটি ঘর পেয়ে দুঃখী মানুষের মুখে যে হাসি, এটাই জীবনের বড় পাওয়া। মানুষের জন্য মানুষ, এটাই তো সব থেকে বড় কথা। প্রধানমন্ত্রী রোববার (২০ জুন) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে ৫৩ হাজার ৩৪০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমির মালিকানাসহ বাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রান্ত থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কর্মকর্তা, কুড়িগ্রামের সদর, শেরপুরের ঝিনাইগাতি, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও সুবিধাভোগীরা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এছাড়া দেশের আরও ৪৫৯টি উপজেলা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৪২ হাজার ৬০৮ পরিবারকে বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে কক্সবাজারে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প। আমাদের সচিবরাও তাদের নিজস্ব অর্থায়নে ১৬০টি পরিবারকে ঘর করে দিয়েছেন। পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থা এ কাজে এগিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা লক্ষ্য স্থির করেছি- বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করব। এ জন্য শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছি, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছি, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেছি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গৃহহীন মানুষকে বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি। বস্তিবাসীর জন্য ঢাকায় ভাড়ায় থাকার জন্য ফ্ল্যাট করে দিচ্ছি। সরকারপ্রধান বলেন, অর্থনৈতিক নীতিমালায় আমরা তৃণমূলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। গ্রামপর্যায়ে মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া, তাদের খাদ্য, শিক্ষা ও বাসস্থান নিশ্চিত করা এবং তৃণমূল মানুষের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করছি। আশ্রয়ণের জন্য তহবিল করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে জমি পাব না, এ তহবিল থেকে জমি কিনে দেব। ঘরে করে দেব। আমরা চাচ্ছি, বাংলাদেশের কোনো মানুষ যেন গৃহহীন না থাকে। কোথাও কেউ গৃহহীন থাকলে আমাদের জানাবেন। আমরা তাদের বাড়ি করে দেব। আমি মনে করি- এতোটুকু করতে পারলে আবার বাবার (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) আত্মাটা শান্তি পাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পুরো বাংলাদেশ ঘুরেছি, গ্রাম-গঞ্জে, মাঠে-ঘাটে। কোথায় কী সমস্যা জানি। আওয়ামী লীগ অধিকার নিয়ে কাজ করে। জাতির পিতা মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বক্তব্যের শেষ করার আগে একটি অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব শেষ হচ্ছে না। টিকা নিয়ে আসছি, আরও আনব। এরমধ্যে কিন্তু সবার স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে চলা; হাতধোয়া, মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা দরকার। নিজে ভালো থাকবেন, অন্যকে ভালো থাকতে সহযোগিতা করবেন। এরপর সারাদেশে ৫৩ হাজার ৩৪০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমির দলিল ও ঘরের চাবি তুলে দেয়া হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে আমি যেহেতু যেতে পারিনি। আমার পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, ডিসি এবং ইউএনও জমির দলিল ও ঘরের চাবি তুলে দেবেন। দলিল ও চাবি তুলে দেয়ার পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। প্রসঙ্গত, আশ্রয়ণের দেয়া জমির দলিলে মালিকানা স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ নামে করে দেয়া হয়েছে। তাদের নামে স্থায়ী দলিলের পাশাপাশি নামজারি করে খাজনা দাখিলাও দেয়া হয়েছে। সেমিপাকা এসব বাড়িতে আছে দুটি রুম, একটি বড় বরান্দা, রান্না ঘর ও টয়লেট। পাশাপাশি সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও আছে। এছাড়াও আত্মনির্ভরশীল করতে ওইসব পরিবারের সদস্যদের জন্য কর্মসংস্থানের জন্য নানা ধরনের প্রশিক্ষণও রয়েছে। মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তের আলোকে দেশের সব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি এবং গৃহ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এ বছরের ২৩ জানুয়ারি প্রথম পর্যায়ে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা বাড়ি ও ব্যারাকে ৬৯ হাজার ৯০৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে জমিসহ গৃহ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আজকের আশ্রয়ণের মধ্য দিয়ে গত ছয়মাসে মোট এক লক্ষ ২৩ হাজার ২৪৪ পরিবারকে ভূমিহীন ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া গেল বছর প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সরকারের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা তাদের নিজস্ব অর্থায়নে ১৬০টি পরিবারকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা গৃহনির্মাণ করে দিয়েছেন। তারও আগে জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারকে বহুতল ভবনে একটি করে ফ্ল্যাট প্রদানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত চার হাজার ৪০৯টি পরিবারকে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও এক লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ সেমিপাকা ঘর প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এভাবে দেশের সব মানুষের জন্য স্থায়ী আবাসনের বন্দোবস্ত করবে সরকার।
​সারাদেশে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া শুরু
১৯,জুন,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দ্বিতীয় পর্যায়ের গণ টিকাদান আজ শনিবার সকালে শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলায় একটি কেন্দ্রে চীনের সিনোফার্মের টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই কর্মসূচি শুরু করেছে। ঢাকা শহরে কেন্দ্র রয়েছে চারটি। হাতে থাকা টিকা দেওয়া শেষ হলে দেশের ৩ শতাংশ মানুষ আপাতত টিকার আওতায় আসবে। ঢাকা জেলায় সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হচ্ছে চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেগুলো হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ইতিমধ্যে নিবন্ধন করা ব্যক্তিরা সিনোফার্মের টিকা পাবেন। এ পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৮২৯ জন। এঁদের মধ্যে ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন। এই টিকার দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। তাঁদের দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে সিনোফার্ম বা ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দেশে টিকাদান কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাতৃ, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায়। কর্মসূচির পরিচালক সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, খুব শিগগির ফাইজারের টিকাও দেওয়া শুরু হবে। তবে তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের নির্দেশনায় ১০ ধরনের মানুষকে চীনের টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অধিদপ্তর বলেছে, বাংলাদেশে বসবাসরত সব চীনা নাগরিক এই টিকা পাবেন। নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে ইতিমধ্যে নিবন্ধন করা ব্যক্তি যাঁরা এখনো কোনো টিকা পাননি, তাঁরা চীনের টিকা পাবেন। টিকা না পাওয়া সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের এই টিকা দেওয়া হবে। জনশক্তি উন্নয়ন ব্যুরো কর্তৃক অনুমোদিত বিদেশগামী বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীরা এই তালিকায় আছেন। এই টিকার অগ্রাধিকারের তালিকায় আছেন সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী এবং সরকারি নার্সিং ও মেডিকেল কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের এই টিকা দেওয়া হবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই টিকা পাবেন। প্রকল্পের তালিকায় আছে: পদ্মা সেতু প্রকল্প, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্প, এক্সপ্রেস হাইওয়ে প্রকল্প, রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প। এ ছাড়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং কোভিড-১৯ মৃতদেহ সৎকারে জড়িত ব্যক্তিরা সিনোফার্মের এই টিকা পাবেন।
সবাই যেন ভ্যাকসিন পায়, জাতিসংঘ মহাসচিবকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
১৮,জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতিসংঘ সদর দফতরে মহাসচিবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাথে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে করোনার ভ্যাকসিন সবাই যেন পায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় কোভিড ১৯ ভ্যাকসিনকে জনসাধারণের সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান তিনি। শুক্রবার জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব সাম্প্রতিক জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা সম্পর্কে উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি জাতিসংঘের কার্যক্রমে বিশেষত শান্তিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন দ্বিতীয় মেয়াদে পুনরায় নিয়োগের জন্য মহাসচিবকে অভিনন্দন জানান এবং তার প্রথম মেয়াদে জাতিসংঘের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে অব্যাহত মনোযোগের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান ড. মোমেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মহাসচিবের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ এখন আগের চেয়ে বেশি প্রয়োজন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকাশ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরেও অনেক প্রভাবশালী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়িয়েছে, যা হতাশাজনক। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিকতা উল্লেখ করে মহাসচিব বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্ব বাংলাদেশের উদারতা ভুলে যাবে না। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহাসচিবকে ভাসানচরের সুবিধাগুলি সম্পর্কেও অবহিত করেন এবং সেখানে জাতিসংঘের কার্যক্রমের গুরুত্বের উপর জোর দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। তিনি এসডিজির গ্রাজুয়েশন দেশগুলোর জন্য অব্যাহত সহায়তা ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান। বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর