বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৮, ২০২১
আগামী তিন দিনে বাড়বে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ
০৭,জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটেছে। এর প্রভাবে আগামী তিন দিনে দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার (৭ জুন) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরে জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। দেশের অবশিষ্টাংশে মৌসুমিবায়ু আরও অগ্রসর হওয়ার জন্য আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। মৌসুমি বায়ু চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। আজ সকাল ৯টা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি কিছু এলাকা থেকে প্রশমিত হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গতকাল (রোববার) কুষ্টিয়া ও নেত্রকোনা ছাড়া সারাদেশেই সামান্য থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে টেকনাফে ১২৯ মিলিমিটার। আর ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ১২ মিলিমিটার। অপরদিকে দেশের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল যশোরে, ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস আজ
০৭,জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ ৭ জুন (সোমবার), ঐতিহাসিক ছয়-দফা দিবস। ১৯৬৬ সালের এ দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬-দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়। এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তৎকালীন পুলিশ ও ইপিআরর গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন বাঙালি শহীদ হন। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপোষহীন সংগ্রামের ধারায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় পরাধীন বাঙালি জাতি। প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসলেও এ বছর বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট সংকটের কারণে ঐতিহাসিক এই দিনটিতে ব্যাপক জনসমাগম এড়িয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে দিবসটির কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামীকাল সূর্যোদয়ের ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। এছাড়াও সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ৬-দফা উত্থাপন করেন এবং পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্য সূচিতে যাতে এটি স্থান পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর এ দাবির প্রতি আয়োজক পক্ষ গুরুত্ব প্রদান করেনি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ৬-দফা দাবি উত্থাপন করেন। এ নিয়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন খবরের কাগজে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বলে চিহ্নিত করা হয়। পরে ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ১৩ মার্চ ৬-দফা এবং এ ব্যাপারে দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে অনুমোদন করিয়ে নেন। ৬-দফার মূল বক্তব্য ছিল- প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দুটি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর, শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দফতর স্থাপন। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬-দফা দাবির মুখে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ৬-দফা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্রের ভাষায় জবাব দেয়া হবে। এদিকে ৬-দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমগ্র পূর্ববাংলা সফর করেন এবং ৬-দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে অভিহিত করেন। ফলে শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। যশোর, ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ অন্যান্য কয়েকটি স্থানে ৬ দফার পক্ষে প্রচারকালে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন। ছয় দফা দাবী আদায় প্রসঙ্গে কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, আওয়ামী লীগ কর্মীরা যথেষ্ট নির্যাতন ভোগ করেছে। ছয় দফা দাবি যখন তারা দেশের কাছে পেশ করেছে, তখনই বোঝা হয়ে গিয়াছে যে তাদের দুঃখ কষ্ট ভোগ করতে হবে। এটা ক্ষমতা দখলের সংগ্রাম নয়, জনগণকে শোষণের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য সংগ্রাম। তিনি আরও লিখেছেন, আমার বিশ্বাস আছে আওয়ামী লীগের ও ছাত্রলীগের নিঃস্বার্থ কর্মীরা, তাদের সাথে আছে। কিছু সংখ্যক শ্রমিক নেতা- যারা সত্যই শ্রমিকদের জন্য আন্দোলন করে- তারাও নিশ্চয়ই সক্রিয় সমর্থন দেবে। এতো গ্রেপ্তার করেও এদের দমাইয়া দিতে পারে নাই। পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক ৬-দফাভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত হয়। এ দাবির সপক্ষে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বাঙালিরা বিজয়ী করে। অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর দলকে জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচারী পাকিস্তানের শাসকরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে আবারও বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা এবং সেই সময়ের ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ একটি নিবন্ধে লিখেছেন, ছয় দফা কে প্রতিহত করার জন্য পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বহু ষড়যন্ত্র করেছে। বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়েছে। তারপরও যখন ছয় দফা আন্দোলন রোধ করা যাচ্ছিল না, তখন বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে চিরতরে তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য তথা আগরতলা মামলা দেন। সেদিন ছয় দফা দাবি আদায় এবং বঙ্গবন্ধুকে কারামুক্ত করতে আমরা ছাত্ররা ৬৯-এর জানুয়ারির ৪ তারিখে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে ৪টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ছয়-দফাকে এগারো দফায় অন্তর্ভূক্ত করে গ্রামে-গঞ্জে-শহরে-বন্দরে-কলে-কারখানায় ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ. আ. ম. স আরেফীন সিদ্দিক বলেন, ৬ দফাই এনে দিয়েছে আমাদের তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দূর দৃষ্টি, অন্তঃদৃষ্টি ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এতই প্রখর ছিল যে, তিনি ৬ দফাকে এক দফার দাবিতে পরিণত করে বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলনের ডাক দেন। অওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ছয় দফার সময়ে এটা কেবল স্বায়ত্তশাসনের দাবি, অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি না- এমন বিতর্ক ছিল। তিনি বলেন, ৭০-এর নির্বাচন ছিল ৬-দফার প্রশ্নে ম্যান্ডেট। রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব ও লেখক নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই স্বাধীন বাংলাদেশের বিষয়টি বঙ্গবন্ধুর মাথায় ছিল। তাই ছয় দফা হঠাৎ কোন ব্যাপার ছিল না। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনীতির লক্ষ্যই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। ছয় দফার ভেতর দিয়েই প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা এসেছে। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ছয় দফা মুক্তির সনদ না হলেও এটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের একটা মাইল ফলক, যা অতিক্রম করার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সফল হয়েছিল।
চলমান বিধিনিষেধ ১৬ জুন পর্যন্ত বাড়লো
০৬,জুন,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধ আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সকল রাজনৈতিক-সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। রবিবার (৬ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, খাবারের দোকান সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। সেই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জেলা প্রশাসকরা স্ব স্ব এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এ বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব রকমের গণপরিবহন চলবে বলেও জানানো হয়। এর আগে গত ৩১ মে বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়িয়ে ৬ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সেই হিসেবে আজ চলমান বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রজ্ঞাপনে যেসব বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে সেগুলো হলো: ১. সব পর্যটনস্থল, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। ২. জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান- ওয়ালিমা, জন্মদিন , পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। ৩. খাবারের দোকান ও হোটেল- রেস্তোরাঁসমূহ সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ (টেকঅ্যাওয়ে/অনলাইন) করতে পারবে এবং আসন সংখ্যার অর্ধেক সেবাগ্রহীতাকে সেবা দিতে পারবে। ৪. কোভিড-১৯ এর উচ্চঝুঁকি সম্পন্ন জেলাসমূহের জেলা প্রশাসকরা সংশ্লিষ্ট কারিগরি কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে স্ব-স্ব এলাকার সংক্রমণ প্রতিরোধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন। ৫. আন্তঃজেলাসহ সব ধরনের গণপরিবহন আসনসংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে অবশ্যই যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।
মহাপরিচালক পদ রেখে জাতীয় আর্কাইভস বিল উত্থাপন
০৬,জুন,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহাপরিচালক পদের বিধান রেখে- বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভস বিল-২০২১ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে বিলটি উত্থাপন করা হয়। রোববার ( ৬ জুন) সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, জাতীয় আর্কাইভস পরিচালনায় একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে। এখানে একজন মহাপরিচালক থাকবেন। অধ্যাদেশে এই মহাপরিচালক পদ ছিল না। আইনটি পাস হলে নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ দেয়া হবে। বিদ্যমান আইনে রেকর্ড বিনষ্ট করার যে বিধান ছিল, খসড়া আইনে তা বাদ দেয়া হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, সরকারি রেকর্ড আর্কাইভসে থাকতে হলে তা ২৫ বছর বা তার বেশি পুরনো হতে হবে। ব্যক্তিগত রেকর্ডও আর্কাইভসে রাখা যাবে। ঐতিহাসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে এমন ৩০ বছর বা তার বেশি পুরনো ব্যক্তিগত রেকর্ডও আর্কাইভসে সংরক্ষণ করা যাবে। বিলে আর্কাইভসে রক্ষিত রেকর্ড চুরি, নষ্ট বা হ্যাক করলে তিন বছরের জেল ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আর রেকর্ড পাচার করলে পাঁচ বছরের জেল ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। আগের আইনে না থাকলে খসড়া আইনে রেকর্ডের সফটকপি করার বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে গবেষক ও তথ্য সেবাগ্রহীতাদের অনলাইন ডিজিটাল সেবা দেয়ার জন্য আর্কাইভস ডিজিটাল সেবা বা তথ্য প্রযুক্তি সেবা দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ফি দিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে গোপন কোনো দলিল না হলে তা সরবরাহ করার বিধান রাখা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে টোল আদায় ৬৪৩৪ কোটি টাকা : ওবায়দুল কাদের
০৬,জুন,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুমনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৪৩৪ কোটি ৩ লাখ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সেতুর জন্য নেয়া উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ২০৩৪ সালে পরিশোধ হবে বলেও জানান তিনি। রোববার সংসদের বৈঠকে বগুড়া-৫ আসনের হাবিবর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানান। এর আগে সকাল ১১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৪৩৪ কোটি ৩ লাখ টাকা টোল আদায় হয়েছে। এ সময়ে সেতুর পরিচালন, রক্ষানাবেক্ষণ ও ডিএসএল পরিশোধ বাবদ ব্যয় হয়েছে চার হাজার ১০৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। সংসদে মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে ৯৯ লাখ টাকা, ১৯৯৮-৯৯ অর্থ বছরে ৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, ১৯৯৯-২০০০ অর্থ বছরে ৬৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ২০০০-২১ অর্থ বছরে ৮২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, ২০০১-০২ অর্থ বছরে ৯৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, ২০০২-০৩ অর্থ বছরে ১০৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা, ২০০৩-০৪ অর্থ বছরে ১৩১ কোটি ৮ লাখ টাকা, ২০০৪-০৫ অর্থ বছরে ১৫২ কোটি, ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে ১৫৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে ১৭৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে ২০১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে ২১৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা, ২০০৯-১০ অর্থ বছরে ২৪২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, ২০১০-১১ অর্থ বছরে ২৬৯ কোটি ১০ লাখ টাকা, ২০১১-১২ অর্থ বছরে ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৩২৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৩২৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৩৫১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৪০৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৪৮৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৪৮৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৫৪৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৫৭৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৫৬০ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরে (মে/২০২১ পর্যন্ত) ৫৯৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা টোল আদায় হয়েছে। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৮ সালে সমাপ্ত বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্মাণ ব্যয় তিন হাজার ৭৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আদায়কৃত অর্থ থেকে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ সেতুর নির্মাণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহের ঋণ পরিশোধ করা হয়। তবে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় অথরাইজেশন শিডিউল অনুযায়ী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহ হতে নেয়া ঋণ সেতু হতে আদায় করা টোলের মাধ্যমে ২০৩৪ সাল নাগাদ পরিশোধ সম্পন্ন হবে।
ইউনেস্কোর আন্তঃরাষ্ট্রীয় কমিটিতে নির্বাচিত বাংলাদেশ
০৫,জুন,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য শীর্ষক ২০০৫ কনভেনশনের আন্তঃরাষ্ট্রীয় কমিটিতে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হলো বাংলাদেশ। ২০২১-২৫ মেয়াদের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে বাংলাদেশ নির্বাচিত হয়। এর আগে গত ১-৪ জুন ভার্চুয়ালি কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্রের ৮ম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৫ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্যারিসে ৪ জুন অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ২৪ সদস্য বিশিষ্ট রাষ্ট্রের মধ্যে ১২ সদস্য রাষ্ট্র পরবর্তী চার বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। এই রাষ্ট্রগুলো হলো-বাংলাদেশ, ফ্রান্স, নরওয়ে, জর্জিয়া, সার্বিয়া, কিউবা, জামাইকা, ভিয়েতনাম, বুরুন্ডি, মাদাগাস্কার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিস্তিন। নির্বাচিত হওয়ার পর, ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজী ইমতিয়াজ হোসেন ২০০৫ কনভেনশনের সকল সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এদিকে ইউনেস্কোর সংস্কৃতি সেক্টরের সহকারী মহাপরিচালক আরন্যাস্টো রেনাটো অটোনি তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরষ্কার প্রবর্তনে এগিয়ে আসায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার আগামী নভেম্বরে ইউনেস্কোর ৪১তম সাধারণ সভায় প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য, ইউনেস্কোতে সৃজনশীল অর্থনীতি ক্ষেত্রের কর্মকাণ্ড সমন্বিত হয় ২০০৫ কনভেনশনের মাধ্যমে।
ফেসবুকের নিরাপত্তা শাখায় যোগ দিলেন বাংলাদেশের মুন
০৫,জুন,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চাকরি পেয়েছেন বাংলাদেশের মেয়ে জারিন ফাইরোজ মুন। মে মাসের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটির সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং টিমে ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি। তিন মাস পর তার নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। জারিন ফাইরোজ মুনের বাড়ি শেরপুর জেলা শহরের গৌরীপুর মহল্লায়। তিনি বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ভার্চুয়ালি অফিস করতে হচ্ছে তাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিউইয়র্কের অফিসেই বসবেন তিনি। তার ছোট ভাই ফাহাদ বিন সাঈদ পিয়াস নিউজ একাত্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পিয়াস বলেন, বছরের শুরুর দিকে ফেসবুকের নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর মার্চের শুরুতে তিন ধাপে আপুর ইন্টারভিউ নেয় ফেসবুক। ইন্টারভিউয়ে সফল হওয়ার পরই ফেসবুক তার যোগদানের বিষয়ে বিস্তারিত জানায়। মুন ২০০৮ সালে শেরপুরের দিশা প্রিপারেটরি অ্যান্ড হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন মুন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায়ই মুন অনেক সাফল্য অর্জন করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক, বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদকসহ নানা পদকে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন শেষে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগও পেয়েছেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেয়ে তিনি সেখানে চলে যান।
প্রত্যেককে অন্তত ৩টি করে গাছ লাগাতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
০৫,জুন,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সবাইকে অন্তত একটি করে ফলজ, বনজ এবং ভেষজ গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে হিসেবে প্রত্যেককে মোট ৩টি করে গাছ লাগানোর জন্য আহ্বান জানান তিনি। কেবল গাছ লাগানোই নয়, একই সঙ্গে গাছের যত্ন নিতেও বলেন প্রধানমন্ত্রী। আজ শনিবার (৫ জুন) গণভবনে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২১ উদ্বোধনকালে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। আমি নিজে বৃক্ষরোপণ করলাম। সেইসঙ্গে আমি সব দেশবাসীকে আহ্বান জানাবো, যার যেখানে যতটুকু জায়গা আছে গাছ লাগান। তিনি বলেন, ৩টা করে গাছ লাগাতে পারলে সব থেকে ভালো হয়। আর সেটা যদি না পারেন একটা করে হলেও লাগাবেন। আমরা চাই যে একটা ফলজ, একটা বনজ, একটা ভেষজ এ ধরনের গাছ লাগাবেন। পরিবেশ রক্ষায়, নিজের আর্থিক সচ্ছলতা ও পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে সব থেকে যেটা সবচেয়ে বেশি উপযোগী সেটা হলো ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা। গাছের যত্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আপনারা সবাই গাছ লাগাবেন এবং গাছের যত্ন নেবেন। শুধু গাছ লাগালে হবে না, গাছ যাতে টিকে থাকে সে জন্য যত্ন নিতে হবে। এ গাছ ফল দেবে, কাঠ দেবে অথবা ওষুধ দেবে নানাভাবে উপকৃত হবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ আমাদের রক্ষা করতে হবে। এ দেশ আমাদের। আজকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে, আমাদের সবুজ বাংলাকে আরও সবুজ করতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশকে আমরা সোনার বাংলা হিসেবে গড়তে চাই। তিনি বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করি এবং আমাদের সোনার বাংলাকে আরও সোনার সবুজ বাংলা করি। বনায়নে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা জানিয়ে টানা ৩ বারের সরকার প্রধান বলেন, আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। আমরা এগিয়ে যাবো। বনায়নের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক সাফল্য। আমরা যে ব্যবস্থা নিয়েছি তার ফলে আজকে আমাদের প্রায় ২২ শতাংশ বনায়ন সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া আমাদের পারিবারিকভাবে বাগান সৃষ্টি হচ্ছে। সবাই এখন সচেতন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন জানান, এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, সচিব জিয়াউল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ
০৫,জুন,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ইকোসিস্টেম রেস্টোরেশন বা বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার। পৃথিবীকে বর্তমান সুউচ্চ দালানের শহর থেকে অতীতে বৃক্ষরাজ্যে ফেরানো সম্ভব নয় ঠিকই, কিন্তু আশেপাশের শহরকে আরও সবুজ করা যায়। বাড়ি বাড়ি বাগান পুনঃনির্মাণ করা যায়। নিজেদের পরিবেশ বিধ্বংসী মনোভাব পরিবর্তন করে নদী, উপকূলে বনাঞ্চল করা যায়। আর সেই চিন্তা থেকেই এবছর এই প্রতিপাদ্যটি বেছে নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির ঘোষণা অনুযায়ী বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার প্রতিপাদ্যে এবং প্রকৃতি সংরক্ষণ করি, প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করি স্লোগানে সমগ্র পৃথিবী এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে উপলক্ষ্য করে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্ম বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ ব্যবস্থা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও দিবসটি গুরুত্ব সহকারে পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় খুব জনসমাগম না করে স্ব স্ব সরকারি অফিসগুলো তাদের কর্মসূচি পালন করবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অংশ হিসেবে মুজিববর্ষে অঙ্গীকার করি, সোনার বাংলা সবুজ করি প্রতিপাদ্যে এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২১ উদযাপন করা হবে। এ স্লোগান মুজিববর্ষে বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকার বাংলাদেশকে সবুজে শ্যামলে ভরিয়ে দিতে সর্বস্তরের জনসাধারণকে উজ্জীবিত করবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। দিবসটি উপলক্ষে আজ ৫ জুন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সোনালু, জাম, আমড়া ও ডুমুর বৃক্ষের ৪টি চারা রোপণ করে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ২০২১ এর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এসময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপ-মন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এবং সচিব জিয়াউল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকবেন। এদিকে, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আজ সকাল ১১টায় বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করবেন। এছাড়া আগামীকাল রবিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক সেমিনার আয়োজন করেছে পরিবেশ সংশ্লিষ্ট সংগঠন- বেলা। এদিকে, জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচিসমূহের বহুল প্রচারের জন্য বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকল মোবাইল ফোন অপারেটরের মাধ্যমে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে জাতিসংঘ পরিবেশ সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ স্টকহোম সম্মেলনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এর দুই বছর পরে, ১৯৭৪ সালে একমাত্র পৃথিবী প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রথম বিশ্ব পরিবেশ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই বিশেষ দিনটি প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছে সামুদ্রিক দূষণ, মানব জনসংখ্যা, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, বন্যপ্রাণির মতো পরিবেশগত বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি স্বার্থে। ১৯৭৪ সালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস জনসাধারণের কাছে পৌঁছনোর জন্য একটি বিশ্বজনীন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতিবছর ১৪৩টিরও বেশি দেশ অংশ নেয়। প্রতি বছর পরিবেশের সুরক্ষায় একটি প্রতিপাদ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর