বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১
শাপলা চত্বরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চেয়েছিলো হেফাজত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৮,এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যায় কি-না সেই উদ্দেশ্যে হেফাজতে ইসলাম সহিংসতা চালিয়েছিল বলে আমাদের তদন্তে উঠে আসছে। বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হেফাজত সারাদেশে যথেষ্ট ভাংচুর করেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভূমি অফিসে জমির সব ধরনের কাগজপত্র থাকে। সেখানে হেফাজত অগ্নিসংযোগ করেছে। এর পেছনে নিশ্চয়ই উদ্দেশ্য ছিল অশান্তি সৃষ্টি করা। তারা ডিসির বাংলোয় অ্যাটাক করে, পুলিশের বাংলো অ্যাটাক করে এবং পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এমনকি তারা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ইনস্টিটিউটেও ভাঙচুর চালায়। এই শব্দগুলো একসঙ্গে মূল্যায়ন করলে তাদের মূল উদ্দেশ্য বের হয়ে আসবে। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটনো যায় কি-না সেই উদ্দেশ্যে হেফাজতে ইসলাম সহিংসতা চালিয়েছিল বলে আমাদের তদন্তে উঠে আসছে। তাদের অবশ্যই রাজনৈতিক অভিলাষ ছিল। হেফাজতের নানা ধরনের গোপনীয় কর্মকাণ্ড আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী খতিয়ে দেখছে। মন্ত্রী আরও বলেন, হেফাজতের ফিন্যান্স যারা করেছে তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। কিছু কিছু উপাদান পাচ্ছি, তবে এখনই অ্যানাউন্স করতে চাই না। আরও কিছুদিন তদন্ত করে তারপর অ্যানাউন্স করব। কার অ্যাকাউন্টে কোথা থেকে কত টাকা আসছে তদন্তে বের হয়ে আসবে। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, হেফাজতে ইসলামের গঠনতন্ত্রে পরিষ্কার লেখা আছে তারা কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে অংশগ্রহণ করবে না এবং তারা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি রাজনৈতিক বেড়াজালের মধ্যে আটকে বিভিন্ন অপকৌশলে চিহ্নিত জঙ্গি, চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং রাষ্ট্রের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। বাবুনগরীর মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাবুনগরীর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে মামলা ছিল। সে সময় আটকও হয়েছিল তিনি। পরে জামিন নিয়েছিল। সেটা এখন কোন অবস্থায় আছে জেনে এরপর জানাতে পারব। তার বিরুদ্ধে যেগুলো মামলা হয়েছে সবগুলো আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যে-ই অপরাধ করবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কার্বন নির্গমন রোধে জি-২০ দেশগুলোর প্রধান ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী
২৮,এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমন বন্ধে জি-২০ (গ্রুপ অফ টুয়েন্টি) দেশগুলোর প্রধান ভূমিকা কামনার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে প্যারিস চুক্তির কঠোর বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। দুই দিনের পররাষ্ট্র নীতি ভার্চুয়াল ক্লাইমেট সামিট-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রচারিত তাঁর পূর্বে ধারণকৃত বিবৃতিতে, প্রধানমন্ত্রী মারাত্মক কোভিড-১৯ ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে বিশ্বের সব দেশের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার উপরও জোর দেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নির্দিষ্ট সীমানায় আবদ্ধ নয়। যদি, একটি দেশ থেকে নির্গত হয়, তাতেও প্রতিটি দেশ প্রভাবিত হয়। সুতরাং, প্রতিটি দেশকে তার (যথাযথ) ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে, ধনী দেশগুলো, বিশেষ করে জি-২০ দেশগুলোকে বিশ্বব্যাপী (কার্বন) নির্গমন বন্ধে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। শেখ হাসিনা অভিমত ব্যক্ত করেন, প্যারিস চুক্তির কঠোর বাস্তবায়নই বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমন এবং এর ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধের একমাত্র উপায়। তিনি বলেন, গ্রহটিকে বাঁচাতে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় আগামীকাল নয়, আজ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী নি পর্যায়ের মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ (কার্বন) নির্গমনের জন্য ১০০ টি দেশ দায়ী এবং জি-২০ দেশগুলো ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী। শেখ হাসিনা অবশ্য প্যারিস চুক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাবর্তনের প্রশংসা করে বলেছেন, এটা ভালো খবর যে, যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস চুক্তিতে ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সিদ্ধান্তের এবং গত সপ্তাহে জলবায়ু বিষয়ক নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত করারও প্রশংসা করি। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্যারিস চুক্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অভিযোজন এবং প্রশমনের উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল গঠনের অঙ্গীকার করেছে। চলমান করোনাভাইরাস মহামারী সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে সারা বিশ্ব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিমত প্রকাশ করেন, মারাত্মক ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। কোভিড-১৯-এর পর, সম্ভবত জলবায়ু পরিবর্তনর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখন প্রতিটি দেশের জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু দুর্বল দেশগুলোর জন্য একটি বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বাড়ছে এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি সমস্ত অসুস্থতার জন্য প্রধানত দায়ী। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রার ক্রমাগত বৃদ্ধি মানব জাতির জন্য সবচেয়ে জরুরি উদ্বেগের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠতে না দিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু, তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রিন হাউস গ্যাসের নির্গমন রোধে এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট কিছু করা হয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলো প্রতিনিয়ত ভয়াবহ বন্যা, খরা, জোয়ারের ঢেউ, জলোচ্ছাস, বজ্রপাত ইত্যাদির মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিজ্ঞতা অর্জন করে আসছে। বর্তমানে আমার দেশে তাপপ্রবাহ চলছে। গত বছর বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশটির এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত বছর ভারী বৃষ্টিপাত ছাড়াও সুপার সাইক্লোন আমফানসহ বেশ কয়েকটি সাইক্লোন আঘাত হানে এবং এই সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ নয়, এবং বাস্তবিক অর্থে শুধু বাংলাদেশই নয়, বরং ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ)-এর কোন সদস্য রাষ্ট্রই উল্লেখযোগ্য কার্বন নিঃশরণকারী নয়। তিনি আরো বলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। প্রতি বছর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমার দেশের ২ শতাংশ জিডিপি হারাচ্ছি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় ১১ লাখের বেশি রোঙ্গিাকে আশ্রয় দিয়েছে। জোরপূর্বক-বাস্তুচ্যূত এই সব মিয়ানমারের নাগরিকদের পরিবেশগত-সংকটপূর্ণ কক্সবাজারে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে আশ্রয় দেয়ায় ওই এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সিভিএফ জলবায়ু অভিযোজনের সম্মুখভাগে রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম একটি ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে। তিনি আরো বলেন, ৮০০ এর বেশি অভিযোজন ও প্রশমন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা এখন পর্যন্ত আমাদের নিজস্ব সম্পদ থেকে ৪১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ পার্লামেন্ট চলমান জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণতাকে ২০১৯ সালে একটি বৈশ্বিক জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা দেশব্যাপী ৩০ মিলিয়ন বৃক্ষ রোপনের পরিকল্পনা করেছি এবং কম-কার্বনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে মুজিব ক্লাইমেট প্রোসপারিটি প্ল্যান প্রণয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর আমরা আমাদের জিডিপির প্রায় ২.৫ শতাংশ বা প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় টেকসই জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যয় করি। তিনি আরো বলেন, আমরা উপকূলীয় এলাকায় ১২ হাজার সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করেছি এবং ২০০ হাজার হেক্টর- গ্রিন বেল্ট করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশী বিজ্ঞানীরা লবনাক্ততা ও বন্যা সহনশীল শস্য, বৃষ্টির পানির সংরক্ষণের জলাধার ও পুকুর-বালি-ফিল্টার উদ্ভাবন করেছেন। এছাড়াও তারা উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য পানির ওপর ভাসমান কৃষি প্রযুক্তি ও ভ্রাম্যমান পানি শোধানাগার প্লান্ট উদ্ভাবন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উপকূলীয় জেলাগুলোর চরাঞ্চলে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ বন করছি। শেখ হাসিনা আরো বলেন, তাঁর সরকার সাইক্লোন-প্রবণ এলাকাগুলোর দরিদ্রদের জন্য সাইক্লোন সহনশীল টেকসই বাড়ি-ঘর নির্মাণ করছে। তিনি আরো বলেন, পানি সংরক্ষণ ও জলাশয়গুলো নাব্যতা বাড়াতে আমরা সারাদেশে নদী ও খাল ড্রেজিং করছি। ঢাকায় সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল অফিস অব গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন স্থাপনের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কেন্দ্রটি স্থানীয় উদ্ভাবিত অভিযোজন প্রচারণায় কাজ করে যাচ্ছে।
৫ মে পর্যন্ত বিধিনিষেধ বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি
২৮,এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কোভিড-১৯ বিস্তার রোধে দেশব্যাপী চলমান বিধিনিষেধ আগামী ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখা থেকে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। এর ঠিক দুদিন আগে (২৬ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সেটিরই উল্লেখ থাকল। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- ১. স্থল, নৌ ও বিমান যোগে যে কোন ব্যক্তি ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশের (পণ্য পরিবহন ব্যতীত) ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ২. সারাদেশে দোকানপাট ও শপিং মল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ৩. আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর নামাজের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। ৪. মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও চীন থেকে আগত যাত্রীদের ভ্যাকসিন গ্রহণের সনদসহ নন-কোভিড-১৯ সনদধারী যাত্রীগণ নিজ বাড়িতে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। ৫. উল্লেখিত দেশ থেকে আগত শুধুমাত্র নন-কোভিড-১৯ সনদধারীরা সরকার নির্ধারিত কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থায় থাকবেন। ৩-৫ দিনের মধ্যে চিকিৎসকগণ তাদের পরীক্ষা করে সম্মতি প্রদান করলে তারা স্ব স্ব বাড়িতে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। ৬. অন্যান্য দেশ থেকে আগত যাত্রীরা সরকার নির্ধারিত হোটেলে নিজ ব্যয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে ৭ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। সংক্রমণ না কমায় ২০ এপ্রিল আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে পরিস্থিতির উন্নতি সেভাবে না হওয়ায় ফের আজ বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো হলো।
৫ মে পর্যন্ত বন্ধ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট
২৭,এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের বিধিনিষেধ বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এ তথ্য জানিয়েছে। তবে সাত দেশে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ থাকবে না। বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান বলেন, আমরা ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা করছি। তবে আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে লকডাউন যেহেতু সাতদিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ জন্য ফ্লাইট চলাচলের বিধিনিষেধও পরবর্তী সাত দিনের জন্য অব্যাহত থাকবে। করোনায় বিধিনিষেধের মধ্যে ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। পরে তা বাড়িয়ে করা হয় ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় আবারও তা বাড়ানো হল ৫ মে পর্যন্ত। তবে প্রবাসীদের জন্য আগের মতোই সাতটি দেশে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। বর্তমানে ঢাকা থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, চীন, সিঙ্গাপুর, কুয়েত ও বাহরাইনে বিশেষ ব্যবস্থায় ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি রয়েছে। বিশেষ ফ্লাইটে সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে দেশে ছুটিতে আসা যেসব প্রবাসী আটকা পড়েছেন তারা কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন। ওই দেশে কোনো বাংলাদেশি আটকে পড়লে তারাও দেশে ফিরতে পারবেন। তবে কেউ ফিরতে চাইলে তার কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে এবং ফেরার পর তাকে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন শর্ত মানতে হবে।
লকডাউনের বিধিনিষেধ থাকছে আরও ৭ দিন
২৬,এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান বিধিনিষেধের (লকডাউন) মেয়াদ আরও সাত দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থাৎ আগামী ৫ মে পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকছে। আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামীকাল (মঙ্গলবার) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। উল্লেখ্য, দেশে প্রথমে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে আট দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়। সেই মেয়াদ শেষ হয় গত ২১ এপ্রিল মধ্যরাতে। তবে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় মেয়াদ ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এবার আরেক দফা এই মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
করোনা থেকে দ্রুত উত্তরণে উন্নত বিশ্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
২৬,এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কোভিড-১৯ মহামারি থেকে দ্রুত উত্তরণে উন্নত বিশ্ব, উন্নয়ন অংশীদার এবং আইএফআইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয়দের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের ৭৭তম বার্ষিক অধিবেশনে সোমবার ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, করোনা মহামারি অনেক মানুষকে দরিদ্র করে তুলেছে। বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা বিস্তৃতি, চাকরি ধরে রাখা এবং অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করার জন্য প্রায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা ভাগাভাগি করে সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্ক, বিমসটেক, বিবিআইএন, বিসিআইএম-ইসি এবং ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন ও কার্যকর সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চিকিৎসা জনগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার : রাষ্ট্রপতি
২৬,এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, চিকিৎসা সেবা জনগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারগণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ ও পুষ্টিসেবা পৌঁছে দিচ্ছে। সোমবার (২৬ এপ্রিল) কমিউনিটি ক্লিনিকের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে একথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম জোরদার ও টেকসই করার লক্ষ্যে সরকার ২০১৮ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগের অন্যতম কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম আজ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক প্রশংসিত হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি ক্লিনিক গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টিস্তর উন্নয়ন, জীবনমান বৃদ্ধি ও সার্বিক জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চলমান করোনা মহামারি মোকাবিলায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সার্বিক জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিক যেন গ্রামের দরিদ্র মানুষকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে, এ জন্য সরকার, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি গ্রুপ ও সাপোর্ট গ্রুপসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আরও উদ্যোগী হবেন- এ প্রত্যাশা করি। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আরও বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবাদানকারীর পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি ও জনগণকে এ কার্যক্রমের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস। আমি কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রমের সার্বিক সফলতা কামনা করি।
দেশের মানুষের জন্য পুষ্টিসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার : কৃষিমন্ত্রী
২৪,এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশের মানুষের জন্য পুষ্টিসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য পুষ্টিসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পুষ্টিসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। মন্ত্রী আরো বলেন, এই খাতে বিগত ১০ বছরে যে সকল প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে, উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে ও সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে, তার সঠিক ব্যবহার করতে পারলে, দেশ যেমন দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে তেমনি আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে মাছ, হাঁস-মুরগি, দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনেও উদ্বৃত্ত থাকবে। ড. আব্দুর রাজ্জাক আজ শনিবার বিশ্ব ভেটেনারি দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ভেটেনারি পরিষদের উদ্যোগে ভার্চুয়ালী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ভেটেরিনিয়ানদের উদ্দেশ্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে এই খাতকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। সকলের জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, পুষ্টিসম্মত খাবারের নিশ্চয়তার জন্য মানুষের আয় বাড়াতে হবে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। তা না হলে পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করলেও তা মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে থাকবে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ এবং এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. এ এস মাহফুজুল বারী। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাকৃবি এলামনাই এসোসিয়েশনের নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.মতিয়ার রহমান হাওলাদার, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান খান ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. শেখ আজিজুর রহমান।

জাতীয় পাতার আরো খবর