বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে : হাইকোর্ট
০৫মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। এটি প্রতিরোধে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে-তা আগামী সোমবারের মধ্যে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনার পর আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ তিনটি মৌখিক নির্দেশনা দেন। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে-এই মর্মে প্রকাশিত সংবাদ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী আদালতের নজরে নিয়ে আসলে, উচ্চ আদালত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে তিনটি মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- - স্থল বন্দর, নৌ বন্দর, বিমানবন্দর, বিশেষ করে বিমানবন্দরে যখন বিদেশিরা বাংলাদেশে আগমন করছেন, তখন অভ্যন্তরে প্রবেশের আগে তাদের কী ধরনের পরীক্ষা করা হচ্ছে, যারা পরীক্ষা করছেন তারা প্রশিক্ষিত কি না এবং যে যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে-সেগুলোর সক্ষমতা রয়েছে কিনা তা জানাতে বলেছেন। - সারা বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা ভাইরাসের জন্য পৃথক কেবিনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালগুলো এখন পর্যন্ত প্রাক প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি সকল বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও করোনা ভাইরাসের জন্য প্রাক প্রস্তুতিমূলক সকল ধরনের ব্যবস্থা (পৃথক কেবিনসহ চিকিৎসকের সরঞ্জাম) গ্রহণ করতে হবে। - প্রত্যেকটি হাসপাতালে বা বন্দরগুলোতে যেখানে শনাক্তের জন্য করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রয়োজন হবে সেখানের জন্য সরঞ্জামগুলো দেশে পর্যাপ্ত রয়েছে কিনা, যদি না থাকে জরুরি ভিত্তিতে আমদানি করার জন্য সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছেন। সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতে জানাতে হবে। এ বিষয়ে কেউ যেন ভীতি সঞ্চার না করে সে বিষয়ে সচেতনতার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।
সোনিয়া গান্ধী আসছেন ২৬ মার্চ
০৫মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ২৬ মার্চ ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বাংলাদেশ সফরে আসছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বুধবার এ কথা নিশ্চিত করেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করতে বাংলাদেশ সরকার বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ১৭ মার্চ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি শুরু হবে। এখন তার ক্ষণগণনা চলছে। মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিরাও যোগ দেবেন। জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সারা বছরই বিদেশি অতিথিরা ঢাকায় আসবেন। উৎসবের সূচনায় ১৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অল্পসংখ্যক বিদেশি অতিথি ঢাকায় আসবেন। পর্যায়ক্রমে গণ্যমান্য অতিথিরাও ঢাকায় পৌঁছবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে যথোপযুক্ত সম্মান জানানো হবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের আশপাশে ভারতের যেসব রাজ্য রয়েছে; ওই সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরও ১৭ মার্চের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তবে তারা মূল অনুষ্ঠানের মঞ্চে থাকবেন না। মঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি ভারতের অতিথিদের মধ্যে শুধু নরেন্দ্র মোদিই উপবিষ্ট থাকবেন। মুজিববর্ষের কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার লক্ষ্যে ২২ মার্চ ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ঢাকায় আসবেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে ওই দিন জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন হওয়ার কথা রয়েছে। অধিবেশনে প্রণব মুখার্জির ভাষণ দেয়ার কর্মসূচি রয়েছে। যদিও প্রণব মুখার্জি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ থাকায় তার সফর নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তাও রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বিদেশি অতিথিদের নিয়ে আসতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক দেশে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট বাতিল হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আগামী ২ বছর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খুব ব্যস্ততা চলছে। প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এখন আর কেউ বাঁকা চোখে তাকাতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী
০৫মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। সেই দেশকে কেউ অবহেলার চোখে দেখবে তা মেনে নিতে পারিনি। তাই যখনই ক্ষমতায় এসেছি দেশের জন্য কাজ করেছি। আজ বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। এখন আর কেউ বাঁকা চোখে তাকাতে পারে না। সেই বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হয়েছে। তিনি আজ বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ এবং বিশেষ গবেষণা অনুদান প্রদান- ২০২০ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রযুক্তিতে উন্নত হয়েছি। এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন। অথচ আগে প্রতি মিনিটে এই মোবাইলে কল করলেও দশ, ধরলেও দশ টাকা দিতে হতো। বাংলাদেশের উন্নয়নে গবেষণার গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশে স্ট্রবেরি উৎপাদন করা হচ্ছে। আজকে খাদ্যে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশে, সেটাও কিন্তু গবেষণার ফসল। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পাশাপাশি এখন পুষ্টির নিশ্চয়তা নিয়ে কাজ চলছে। মাছ, সবজি উৎপাদনেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। এসবই হয়েছে গবেষণার জন্য। তিনি গবেষণার মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণাটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু গবেষণা করলেই চলবে না, গবেষণার ফলাফল কী সেটাও জানতে চাই, সেটা যে দেশের জন্য কাজে লাগছে তা নিশ্চিত হতে হবে। দেশ স্বাধীনের পরেই বঙ্গবন্ধু আধুনিক শিক্ষার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ রোগে মারা গেলে আগে আল্লাহর ওপর চাপিয়ে দিতো, হায়াত নাই তাই বাঁচলো না বলা হতো। এই পরিস্থিতির উন্নয়নে ড. কুদরত ই খুদাকে দিয়ে, একজন বিজ্ঞানীকে দিয়ে, শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেন বঙ্গবন্ধু। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি বঙ্গবন্ধু যে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তা এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায়। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার যাত্রা শুরু করতেও পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি সেসময়েই। প্রধানমন্ত্রী জানান, এবারের ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ২০০ জনকে উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি। সেখান থেকেও উচ্চ শিক্ষার জন্য, গবেষণার জন্য অর্থ দিয়ে থাকি।
বিচারককে তাৎক্ষণিক বদলি আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত
০৪মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)র মামলায় পিরোজপুর-১ আসনের ক্ষমতাসীন দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও তার স্ত্রীর জামিন নামঞ্জুরের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিচারকের তাৎক্ষণিক ওএসডিসহ বদলি, এবং কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভারপ্রাপ্ত জজ কর্তৃক জামিন মঞ্জুরের ঘটনা বাংলাদেশের অধন্তন আদালতের বিচারিক ইতিহাসে বিরল ও ভয়াবহ দৃষ্টান্ত বিবেচনা করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে, দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের সম্ভাবনা বিকাশের স্বার্থে বিচার বিভাগকে কার্যকরভাবে নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন, দুদকর মামলায় জেলা ও দায়রা জজ কর্তৃক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তার স্ত্রীর জামিন নামঞ্জুরকে কেন্দ্র করে, তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিচারককে ওএসডি ও বদলি করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা এবং কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভারপ্রাপ্ত জজ কর্তৃক জামিন মঞ্জুরের ঘটনা অভূতপূর্ব, যা দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। এই ঘটনা আদালতের ওপর নির্বাহী বিভাগ ও রাজনৈতিক প্রভাবের ব্যাপক বিস্তার, প্রভাবশালীদের হাতে আইনের শাসনের জিম্মি হওয়া ও বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে ক্রমাগত বিকাশে তৎপর স্বার্থান্বেষী মহলকে আরো ক্ষমতায়িত করবে। তিনি আরো বলেন, আমরা সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি এ ধরনের আত্মঘাতী পথ পরিহার করে বিচার বিভাগকে বাস্তবেই স্বাধীন করার উপযোগী কার্যকর পথ অনুসরণের জন্য আহ্বান জানাই।
রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ সহায়তার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
০৪মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে গণহত্যার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় দেশটির রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠিকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য আরও ৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার সদর দফতরে রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবিলায় ২০২০ সালের যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান বা জেআরপি) ঘোষণা করে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং সহযোগী এনজিওগুলো। জেআরপিতে ৮৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৮৭ কোটি ৭০ লাখ কোটি ডলার) তহবিল গঠনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর পরদিনই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ সহায়তার ঘোষণা এলো। সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো গতকাল রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবিলায় ২০২০ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান' প্রকাশ করে। এতে রোহিঙ্গা শরণার্থী, তাদের আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত মানবিক সহায়তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ৫ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। মিলার বলেন, ‘মিয়ানমার ও বাংলাদেশের এই সংকটে মানবিক সহায়তায় সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনও শীর্ষ অবস্থানে আছে। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতার সূত্রপাত ও দেশটির সেনাবাহিনীর হামলার পর থেকে প্রতিবছরই আমরা এ অবস্থানে রয়েছি। এই নতুন তহবিল ঘোষণার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের মোট মানবিক সহায়তা প্রায় ৮২ কোটি ডলারে উপনীত হলো। এর মধ্যে প্রায় ৬৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারই দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য।
তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
০৪মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তরুণ প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি করার কথা বলেন। আজ বুধবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন, পাস করে চাকরির পিছে না ছুটে, ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এজন্য ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনতে যাচ্ছি, সিঙ্গেল ডিজিট করা হয়েছে। যাতে করে আমাদের উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়ে সুন্দর করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন সেই ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী। একটু সুযোগ পেলেই তারা অনেক ভালো কিছু করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এসএমই খাতে উৎপাদিত অনেক পণ্য বিশ্বমানের। এগুলোর সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্য জড়িত। তবে ঋতু-বৈচিত্র্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে পণ্য উৎপাদন করা যায়, তা দেখতে হবে। ক্রেতার চাহিদা কী, সেটাও দেখতে হবে; সেভাবেই পণ্য উৎপাদন করতে হবে। সার্বিক বিষয়ে গবেষণা করে পণ্যের চাহিদা, পণ্যের উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ করতে হবে। জনশক্তির উন্নয়নের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশকে এতোদিন সবাই সস্তা শ্রমের দেশ হিসেবে গণ্য করতো। আপনারা জানেন, ইতোমধ্যে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছি। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের দেশের প্রায় ৮ হাজারের মতো পোস্ট অফিস আছে। সেগুলো ডিজিটাল করেছি। নিজের ইউনিয়নে, নিজের ঘরে বসে পণ্য যাতে বিক্রি করা যায়, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
পাপিয়ার পাপ রাজ্যে যেতেন যারা
০৩মার্চ,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অপরাধ সম্রাজের রানী যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়ার আস্তানায় যাতায়াত করতো দেশের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। সম্প্রতি তাদের তালিকাও তৈরি করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ওয়েস্টিনের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) ফুটেজ ও পাপিয়ার মোবাইল ফোনের ভিডিও পর্যালোচনা করে এসব তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওই তালিকাসহ একটি প্রতিবেদন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দাখিল করা হয়েছে। পাপিয়ার মোবাইল ফোনের কললিস্ট থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দারা। এছাড়া পাপিয়া যেদিন দেশ ছাড়ার জন্য বিমানবন্দরে যান ওইদিনই সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা পাপিয়াকে দেশ ছাড়ার জন্য ১৭ বার কল করেছিলেন। এ বিষয়টিও ওই গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সূত্রটি জানায়, ওই কর্মকর্তা ভয়াবহ বিপদের কথা জানিয়ে পাপিয়া দম্পতিকে দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেন। এর পরই পাপিয়া দম্পতি দুই সহযোগীকে নিয়ে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনায় পাপিয়া। তার চেয়েও বেশি আলোচনায় কারা যেতেন পাপিয়ার ওই পাপের আস্তানায়? এসব জানতে উদগ্রীব অনেকেই। গোয়েন্দা সংস্থার ওই তালিকা অনুযায়ী, পাপিয়ার আস্তানায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল অন্তত ২১ জনের। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই ব্যক্তিত্বদের বাইরে গত এক মাসের ভিডিও ফুটেজে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আরও ৫ জনকে কয়েক দফা ঐ আস্তানায় যেতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওয়েস্টিন হোটেলের যে প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট ভাড়া নিয়ে পাপিয়া তার পাপের আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থাটি তার আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার গত এক মাসের ফুটেজ সংগ্রহ করে। এসব ফুটেজ পর্যালোচনায় বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়ার আস্তানায় যাতায়াত ছিল এমন ৫ জন সচিব, ১০ জন সংসদ সদস্য, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক দুই নেতা, দুই জন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এছাড়া তালিকায় আছেন ছাত্রলীগ সাবেক এক সভাপতি এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক এক শীর্ষ নেতা। নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওই নেতা পদ হারিয়েছেন। এসব বিষয়ে Rab-1 এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, আটকের পর পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে যেসব ভয়ঙ্কর তথ্য পাওয়া গেছে এখনও সেসব তথ্যের যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিজাত হোটেলে সুন্দরী সরবরাহ, তরুণীদের দিয়ে প্রভাবশালীদের ব্লাকমেইল করে উত্থান পাপিয়ার। পাপিয়ার অপরাধের সাক্ষী তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, যা এখন আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে। এরআগে Rabর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাপিয়া পিউয়ের মোবাইল ফোন অশ্লীল ভিডিওতে ঠাসা। এতে রয়েছে রাতের আড্ডায় ঘটা নানা অপকর্মের ভিডিও। বিভিন্ন হোটেলে নাচাগানার আসরে ভিআইপিদের উপস্থিতি ভিডিও করে রেখেছেন পাপিয়া। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে হোটেলে মনোরঞ্জনের বিশেষ মুহূর্ত তাদের অজান্তেই ভিডিও করে রাখতেন পাপিয়া। তার মোবাইল ফোন ঘেটে এগুলো পাওয়া গেছে। সূত্রমতে, রাজনীতির নারীদের নিয়ে বাণিজ্য করতেন পাপিয়া। রাজধানীর অভিজাত হোটেলগুলোয় মাঝেমধ্যেই ককটেল পার্টির আয়োজন করতেন। এসব পার্টিতে উপস্থিত হতেন সমাজের উচ্চস্তরের লোকজন। মদের পাশাপাশি পার্টিতে উপস্থিত থাকত উঠতি বয়সী সুন্দরী তরুণীরা। মদের নেশায় টালমাটাল আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কৌশলে ধারণ করা হতো ওই তরুণীদের অশ্লীল ভিডিও। পরে ওইসব ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করতেন পাপিয়া। বনিবনা না হলেই ফেসবুকে ছড়িয়েও দেয়া হতো। প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাপিয়াসহ চার জনকে গ্রেফতার করে Rab-1 এর একটি দল। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন, পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), তাদের সহযোগী সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)। গ্রেফতারের পর পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীর দেয়ার তথ্য অনুযায়ী হোটেল ওয়েস্টিনে পাপিয়ার নামে বুকিং করা বিলাসবহুল প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট এবং ফার্মগেট এলাকার দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় Rab। এসব স্যুট ও ফ্ল্যাট থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, ৫ বোতল বিদেশি মদ ও নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি ব্যাংক চেকবই, কিছু বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করে Rab।- একুশে টেলিভিশন
জয় বাংলা কনসার্টের টি-শার্ট, মগ ও পোস্টার প্রধানমন্ত্রীর হাতে
০৩মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হলো জয় বাংলা কনসার্ট ২০২০র লগোসমৃদ্ধ নান্দনিক টি-শার্ট, মগ ও পোস্টার। আগামী ৭ মার্চ রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে এই কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইয়াং বাংলা জানিয়েছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবারের আয়োজনে থাকছে ভিন্নমাত্রা। আরও জমকালো আয়োজন। এবারও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত স্বাধীনতার গান গেয়ে মঞ্চ মাতাবেন দেশের জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি ব্যান্ড দল। ইয়াং বাংলা আরও জানায়, এবারের কনসার্টে থাকছে ফুয়াদ অ্যান্ড ফ্রেন্ডস, আরবোভাইরাস, ক্রিপটিক ফেইট, শূন্য, নেমেসিস, ভাইকিংস, অ্যাভয়েড রাফা, চিরকুট, মিনার, লালন এবং এফ মাইনরের পরিবেশনা। এছাড়াও কনসার্টে থাকছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রাফিক্যাল রিপ্রেজেন্টেশন। জয় বাংলা কনসার্টের নিবন্ধন শিগগির শুরু হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ, মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল অ্যাড্রেসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা থাকছে এ বছরও। নিবন্ধনের মাধ্যমে কনসার্টটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে। উল্লেখ্য, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক উত্তাল ভাষণ স্মরণ করে দিনটি ঠিক করা হয়েছে।
তিস্তা বাদে ৭টি অভিন্ন নদীর চুক্তি চূড়ান্ত করতে চায় ভারত
০৩মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি বছরের শেষ নাগাদ তিস্তা বাদে সাতটি অভিন্ন নদী নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, আমাদের এই সাতটি নদীর পানি প্রবাহের তথ্য সমন্বয় করা দরকার, যাতে যত দ্রুত সম্ভব পানি বণ্টন চূড়ান্ত করা যায় সম্ভব হলে এ বছরের মধ্যেই। ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের চুক্তি বিষয়ে হর্ষ বর্ধন বলেন, এই বিশেষ নদীর পানি বণ্টনে একটি চুক্তি কেবল সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতৈক্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত করা যেতে পারে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শ্রিংলা অবশ্য বলেন, চুক্তির প্রক্রিয়াটি যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে কাজ করছে ভারত। তিনি বলেন, আমরা জানি সীমান্তের উভয় পাশেই এটি একটি আবেগময় বিষয় তবে আমাদের সরকারের প্রতিশ্রুতির কোনও কমতি নেই। তিনি সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. গওহর রিজভীর সভাপতিত্বে এ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। গত আগস্টে বাংলাদেশ ও ভারত সাতটি অভিন্ন নদী- মনু, মুহুরী, খোয়াই, গুমতি, ধরলা, ফেনী ও দুধকুমার নিয়ে একটি কাঠামো বা অন্তঃবর্তী পানি বণ্টন চুক্তি তৈরির ব্যাপারে ঐকমত্য হয়। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সোমবার দুই দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেন। তিনি বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রেটিজিক স্টাডিজ (বিআইএসএস) এবং ভারতীয় হাইকমিশনের যৌথভাবে আয়োজিত বাংলাদেশ এন্ড ইন্ডিয়া : এ প্রমিজিং ফিউচার শীর্ষক এক সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস এবং বিআইএসএস চেয়ারম্যান ফজলুল করিম। অভিন্ন নদীগুলোর প্রতিটির ব্যাপারে আলোচনার মাধ্যমে অগ্রগতির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েই স্বীকার করে উল্লেখ করে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে পানি বণ্টনের ব্যাপারে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে পুনঃরায় আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আমি আমাদের বন্ধুদের এখানে আশ্বস্ত করছি যে আমরা শুষ্ক মৌসুমে ন্যায্যভাবে পানি বণ্টনে সর্বোত্তম সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রিংলা বলেন, ৫৪ টি আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিকে সুষ্ঠু ও পরিবেশগতভাবে টেকসই উপায়ে বণ্টন ব্যবস্থা দুটি দেশের বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ। শ্রিংলা পুনরায় আশ্বস্ত করে বলেন, এনআরসি এবং সিএএ ইস্যু বাংলাদেশের ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, এনআরসি ভারতের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি, এর প্রভাব অন্য দেশের ওপর পড়বে না। দু দেশের সীমান্তরক্ষীরা প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করতে সম্মত হওয়ার পরও সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হওয়া সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শ্রিংলা এই হত্যাকাণ্ডকে ক্রস-বর্ডার অপরাধ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা দুদেশরই সমান সংখ্যক। তবে তিনি সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপদ রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা দু দেশের সীমান্ত রক্ষীদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তিনি আরো বলেন, সীমান্তে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই এক-একটি সমস্যা । শ্রিংলা সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, জিরো অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিবেশ, আরো সহযোগিতা, যৌথ টহল জোরদার এবং অভিন্ন সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ও সীমান্ত হত্যাকাণ্ড জিরো পযার্য়ে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। রোহিঙ্গা ইস্যু সম্পর্কে শ্রিংলা বলেন, এটি একটি বড় ধরনের মানবিক সমস্যা এবং এ বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনও ভিন্নমত নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় দেশই ভারতের প্রকৃত প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ফলে রোহিঙ্গা সংকটের যে কোনও পরাস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের ক্ষেত্রে পূর্ণ সমথর্ন প্রদানে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রিংলা বলেন, যতশিগগির সম্ভব, রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যে তাদের নিজ বাসভূমিতে নিরাপদে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের এই ফিরে যাওয়া নিরাপদ ও টেকসই হতে হবে। শ্রীংলা বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবতার পরিচয় দিয়েছে, ভারত তার প্রশংসা করে। তিনি বলেন, আমরা আইডিপি শিবির বন্ধের গুরুত্ব, আর্থসামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ প্রশ্নে সকল পযার্য়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। এ ছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে তাদের নিজ বাসভূমিতে ফিরে যাবার পরিবেশ সৃষ্টির কথাও বলেছি। তিনি বলেন, এ মাসে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর বাংলাদেশের জন্য ভারতের দৃঢ় সদিচ্ছা, আস্থা ও সম্মান দেখানোরই পরিচয় বহন করে। তিনি বলেন, আমরা এই সফরের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষায় অপেক্ষা করছি, কারণ বঙ্গবন্ধু বিশ্বব্যাপী যেমন একজন লৌহমানব হিসেবে স্বীকৃত, ঠিক তেমনি একজন আইকন এবং তিনি বাংলাদেশের ও এই উপমহাদেশের জন্য স্বাধীনতার আইকনিক প্রতীক। তিনি বলেন, ভারতে তার নামের একটি বিশেষ মাহাত্ম রয়েছে। বঙ্গবন্ধু ভারতে একজন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও বরণীয় ব্যক্তি হিসেবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

জাতীয় পাতার আরো খবর