মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৯, ২০২১
রোজার শুরুতেই সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজার চড়া
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাবে যাত্রী পরিবহন চলাচল বন্ধ। তবে চালু রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তথা সবজিবাহী গাড়ি চলাচল। ফলে, পর্যাপ্ত পণ্য মজুদ রয়েছে আড়ৎগুলোতে। সংকট নেই চাল উৎপাদনেও। তবুও রাজধানীজুড়ে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে চড়া মূল্য গুনতে হচ্ছে ভোক্তা সাধারণকে। করোনা সংকটকে ঘিরে গত একমাসে কয়েক দফা বেড়েছে চাল, ডাল, তেল, আদা, রসুন ও সবজির দাম। এবার রোজার শুরুতে তা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় খাদ্য মজুদ করছে। এছাড়া আছে কিছু ক্রেতাদের অধিক পণ্য কেনার মানসিকতা। এই দুইয়ে সয়লাব বাজার ব্যবস্থা। সরবরাহ নিশ্চিত করতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) মাঠে থাকলেও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। ফলে, এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। যার ভুক্তভোগী নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরা। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার সূত্রে জানা যায়, খুচরা বাজারগুলোতে মোকামের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি দাম নেয়া হচ্ছে সবজিতে। শাক-সবজির কমতি না হলেও অধিক দাম রাখায় হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, মোকামে অধিক দাম রাখায় বেশি মূল্যে বিক্রি করতে হয় তাদের। অথচ, মোকামের চিত্র বলছে উল্টো কথা। বাজারের তুলনায় অর্ধেক দাম নেয়া হচ্ছে সেখানে। ব্যবসায়ীদের দাবি, কাঁচামাল দ্রুত পচনশীল। বিক্রি না হলে পচে যায়, যে কারণে মোকামের দামের সঙ্গে বড় পার্থক্য থাকে। তবে কোনো কোনো পণ্যের দাম দ্বিগুণ আবার কিছু পণ্যের দাম চারগুণও বাড়ে। আবার বাজার ভেদে দামের পার্থক্যও আছে। অধিকাংশ বাজারে লম্বা বেগুন নেয়া হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি, শসার দামও একই। অথচ, ঢাকার বাহিরেই এ সবজিগুলো ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকার অধিক দাম রাখা হচ্ছে প্রতিটি সবজিতে। এছাড়া করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা, উস্তা ৩০-৪০ টাকা, বরবটি ৪০-৫০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, পটল ৪০-৫০, ঝিঙা ৪০-৫০ এবং চিচিঙ্গা ২০-৩০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। গাজর ৩৫-৪০ টাকা, টমেটো ২০-৩০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৬০, বড় কচু ৪৮-৫০, মুলা ৩০, প্রতি কেজি ধনিয়াপাতা ১৫০ এবং পুদিনা পাতা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। প্রতি হালি লেবু (ছোট) ৩০-৪০, বড় সাইজের লেবু ৬০-৭০, প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়, প্রতি পিস বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সবজির পাশাপাশি আবারও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। রোজাকে সামনে রেখা চাহিদা বৃদ্ধিতে সুযোগ পেয়েছে ব্যবসায়ীরা। এতে করেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ভোক্তাদের। রাজধানীর অধিকাংশ বাজারে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে মসুর ডালের দাম। প্রতিকেজি মোটা মসুর ডাল এতদিন ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। গত তিন দিনে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে এখন ১০০ টাকা হয়েছে। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে মাঝারি দানা মসুর ডাল ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় হয়েছে। সরু দানা মসুর ডাল ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজাার কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে হলুদ, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামও। বর্তমানে চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকা কেজিতে, যা গত সপ্তাহেও ছিল ৬৫ টাকা। আর পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬৫, দেশি রসুন ১শ থেকে ১৩০ ও আমদানি রসুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আদা হয়েছে এক লাফে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এছাড়া চিড়া, মুড়ি ও গুড়ের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। এখন প্রতি কেজি চিড়া ৭০, মুড়ি ৮০ এবং গুড়ের কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে খেজুর ২৫০ থেকে হাজার টাকা হয়েছে। ফলের মধ্যে মাল্টার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকা হয়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় লেবুর হালি গড়ে ৫০ টাকা হয়েছে। ব্রয়লার মুরগি দাম বেড়ে ১৩০ ও লেয়ার মুরগি ১৯০, সোনালি ২২০ টাকা হয়েছে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫০-৪০০ টাকা। গরুর মাংস ৬০০ ও খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনই বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন সংস্থার একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। জরিমানাও করা হচ্ছে। তারপরও অস্থিরতা থামছে না রাজধানীর বাজারগুলোতে। বিশেষ করে ডাল, তেল, আদা, রসুন ও সবজির দাম। গত কয়েকদিনে অতিরিক্ত দামে আদা বিক্রির অভিযোগে বেশ কয়েকটি দোকানকে জরিমানা ও সতর্ক করা হলেও তেমনটা কাজে আসেনি। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে দাম নিয়ন্ত্রণে এবার আগেই কিছুটা প্রস্তুতি নিয়েছিল সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি। অন্যান্য বছরের তুলনায় যার পরিমাণ ছিল কয়েকগুণ। কিন্তু সরবরাহ কম হওয়ায় তাতে তেমন সুফল আসছে না। এতে করে বাজারেই ভরসা করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের দাবি- অন্যান্য বছরের তুলনায় সরকারি-বেসরকারি গোডাউনগুলোতে এবার ৩০ শতাংশের বেশি খাদ্যপণ্য মজুদ রয়েছে। তারপরও রোজা শুরুর আগেই যেমনটা লাগাম ছাড়া ছিল নিত্যপণ্যের বাজার, রোজার শুরুতে তা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ বসছে না
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামীকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) বসছে না হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। অনিবার্য কারণবশত আদালত বসার সিদ্ধান্ত আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে ফুলকোর্ট সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভা থেকে আদালত খোলার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের স্বাক্ষরে আজ শনিবার পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের পর আদালত খোলার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের স্বাক্ষরে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বসার বিষয়ে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ছুটিকালে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সকল অধিক্ষেত্রের অতীব জরুরি বিষয়সমূহ শুনানির নিমিত্তে হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ওই সিদ্ধান্তের পর চলতি সপ্তাহে ২৬, ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং আগামী সপ্তাহে ৩, ৪ ও ৫ মে হাইকোর্ট বেঞ্চ বসার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এদিকে ওই সিদ্ধান্তের আলোকে আদালত কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে আদালত কক্ষ পরিদর্শন করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। এ সময় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি। জানা গেছে, অনলাইন ও স্বশরীরে আইনজীবীদের উপস্থিতি-এই দুই পদ্ধতিতেই শুনানির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ আইনজীবীর পক্ষ থেকে আদালত কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি ওঠায় আপাতত হাইকোর্ট বেঞ্চ বসার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
২ হাজার চিকিৎসক ও ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জরুরি ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে নন ক্যাডার ২ হাজার চিকিৎসক ও ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে। নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য পরবর্তীতে পদ সৃজন করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আজ শনিবার দুপুরে বৈঠক শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নবগঠিত মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান খান এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, মেধাক্রম অনুসারে চিকিৎসকরা নিয়োগ পাবেন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিয়ে রোগীদের যতোটা সম্ভব কাছে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার আহ্বান জানান।কোভিড ১৯ এর জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর কোনটিতেই কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে না। এসময়, হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং নার্সদের থাকার ব্যবস্থা করা আছে জানালেও হোটেলের নাম এবং সংখ্যা জানানো হয়নি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। বর্তমান পরিস্থিতে চিকিৎসা সরঞ্জামের কোন ঘাটতি নেই বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
করোনায় দেশে আরও ৯ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩০৯
২৫এপ্রিল,শনিবার,আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া,ঢাকা,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশে করোনাভাইরাসে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) থেকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৩০৯ জনের নমুনায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন আরও ৯ জন। মৃতদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ এবং ৫ জন নারী। জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে এই ৯ জনের মধ্যে ঢাকা শহরের তিন জন এবং ঢাকার বাইরের ছয় জন। ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জের দুই জন, টাঙ্গাইলের একজন, মাদারীপুরে একজন, ময়মনসিংহের একজন এবং জয়পুরহাটে দুই জন রয়েছেন। বয়সের দিক থেকে সাতজনই সত্তরোর্ধ্ব, বাকি দুজনের মধ্যে একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং একজন ষাটোর্ধ্ব। এ নিয়ে মোট প্রাণহানি হলো ১৪০ জনের। আর করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো মোট ৪ হাজার ৯৯৮। গত ২৪ ঘন্টায় মোট ৩ হাজার ৪২২ টি নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। সেখানে থেকে মোট ৩ হাজার ৩৩৭ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার থাকায় বেশি কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নমুনা শনাক্ত পরীক্ষা করা যায়নি। এর মধ্যেই শনাক্ত হয়েছেন ৩০৯ জন। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৩ হাজার ১১৩টি। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৪০ জন এবং এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৩৯৫ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৭ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৯৬ হাজার ১৬৯ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৭৪ হাজার ৪৯১ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬ হাজার ৪৮০ জন। মোট কোয়ারেন্টিন আছেন ৮০ হাজার ৯৭১ জন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। এসময় মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে বই পড়া, বাগান করা এবং শারীরিক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন তিনি। রোজার ইফতারে পানিসহ তরল খাবার বেশি করে গ্রহণেরও পরামর্শ দেন ডা. নাসিমা সুলতানা। এছাড়াও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশবাসীর প্রতি মোবারকবাদ জানান রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা গেছে বাংলাদেশের আকাশে। আর তাই শুরু হলো সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে রোজা রাখবেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভা শেষে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ কথা জানানো হয়। পবিত্র রমজান উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি মোবারকবাদ জানিয়ে বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, বছর ঘুরে মাহে রমজান আমাদের মাঝে সমাগত। রমজান পবিত্রতা ও তাৎপর্য অনুধাবন করে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে এর প্রতিফলন ঘটাতে এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সকলে অবদান রাখবেন এ প্রত্যাশা করি। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরো বলেন, রমজান মাসে নিজ নিজ ঘরে ইবাদত বন্দেগি করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে রমজানের তারাবিসহ অন্যান্য সব নামাজ নিজ নিজ বাসায় পড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আসুন পবিত্র রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাবতীয় ভোগবিলাস, হিংসা বিদ্বেষ উচ্ছৃঙ্খলতা ও সংঘাত পরিহার করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পরস্পরকে সহযোগিতা করি।
ঘনীভূত হচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান
২৫এপ্রিল,শনিবার,সাইফুল ইসলাম,ঢাকা,নিউজ একাত্তর ডট কম: বৈশাখের শুরুতে বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়। সাগরে ফুঁসতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এই ঝড়ের নাম দিয়েছে থাইল্যান্ড। বঙ্গোপসাগরে এই ঘূর্ণিঝড় যথেষ্ট শক্তিশালী বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর। এপ্রিলের শেষে অথবা মে মাসের প্রথমে উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। তবে কোন উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে আম্ফান তা এখনও স্পষ্ট নয়। সাগরে থিতু হলে স্পষ্ট হবে ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ বা কোথায় আছড়ে পড়তে। মৌসুমের প্রথম সাইক্লোনটি এপ্রিলেই তৈরি হতে পারে। শীঘ্রই বঙ্গোপসাগরে এই মৌসুমের প্রথম সাইক্লোন তৈরি হতে চলেছে। এর জেরে ২৭ এপ্রিল আন্দামান সাগরের উপর ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবে। পরদিন ২৮ এপ্রিল একই অঞ্চলে থেকে তা শক্তি সঞ্চয় করবে। ২৯ এপ্রিল ওই ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপে পরিণত হবে। ৩০ এপ্রিল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে সমুদ্রের ওপর দিয়ে বইতে শুরু করবে।
করোনা আক্রান্তে বাংলাদেশ ৪৭তম
২৪এপ্রিল,শুক্রবার,আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া,নিউজ একাত্তর ডট কম:বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। প্রতিদিন সংক্রমিতের সংখ্যা বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭তম। যুক্তরাষ্ট্রের পর আক্রান্ত বেশি হচ্ছে স্পেনে। করোনা বিভীষিকায় বিপর্যস্ত ইতালির অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হলেও আক্রান্তের হিসাবে দেশটি তৃতীয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর ধাপে ধাপে নমুনা পরীক্ষাও বাড়ানো হয়েছে। এখন প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজারের মতো টেস্ট করা হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যায় বাংলাদেশ বিশ্বে ৪৭তম স্থানে আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩,৬৮৬টি। আর রেকর্ডসংখ্যক ৫০৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৪ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪ জন। আইইডিসিইআর থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, সবমিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৯,৭৭৬টি। এসব পরীক্ষা থেকে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে মোট ৪,৬৮৯ জন। আর মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩১ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ১১২ জন। তবে সুস্থতার বিপরীতে করোনায় মৃত্যুহারের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ এগিয়ে। দেশ হিসেবে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বিচারে বাংলাদেশের ঠিক আগেই আছে পানামা (আক্রান্ত ৬,১৬৬) এবং ডমেনিকান রিপাবলিক (আক্রান্ত ৫৫৪৩)। আর করোনা আক্রান্তের দিক দিয়ে বিশ্বে সবার শীর্ষে আছে আমেরিকা। সেখানে মোট আক্রান্তের পরিমাণ ৮৮৬৭০৯ এবং মৃত্যু ৫০২৪৩। দ্বিতীয় স্থানে আছে স্পেন। ২১৯৭৬৪ আক্রান্তের থেকে মৃত্যু হয়েছে ২২৫২৪ জনের। ইতালিতে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দেশটি এখন আছে তৃতীয় স্থানে। তাদের মোট আক্রান্ত ১৮৯৯৭৩ এবং মৃত্যু ২৫৫৪৯ জন। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চলছে সরকার ঘোষিত ছুটি। ইতোমধ্যেই সেই ছুটি পঞ্চম ধাপে বেড়ে ৬ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। অতি সংক্রামক এই ব্যাধি থেকে নিরপাদ থাকতে সবাইকে ঘরে থাকার কথা বলে আসছে সরকার। সরকারের নির্দেশ মোতাবেক জনপ্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মানুষকে ঘরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগকে কখনো ভোট না দিয়ে থাকলেও তাকে রেশনকার্ডে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
২৪এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, 'যিনি আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচক, কোনো সময় আমাদের দলকে ভোটও দেননি, তিনিও যদি প্রকৃতপক্ষে অভাবী হন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নতুন পঞ্চাশ লাখ রেশন কার্ডে তার নাম অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার যে পঞ্চাশ লাখ পরিবারের মধ্যে ১০ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দিয়ে আসছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আরো যে পঞ্চাশ লাখ রেশন কার্ড দেয়া হবে, সেখানে প্রকৃতপক্ষে যাদের প্রয়োজন, তাদেরকেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, কোনো দলীয় পরিচয়ে নয়। আজ দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের সাথে করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণসহ নানা বিষয়ে সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। 'নতুন এই কার্ডটি করার ক্ষেত্রে আমাদেরকে একটু সতর্ক হতে হবে কারণ এ ধরণের কার্ড করার সময় কোন দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা যাবেনা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'যার প্রয়োজন, দলমত নির্বিশেষে তাকেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, এটি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ। সুতরাং সেভাবেই তালিকা করতে হবে। কারণ একজন মানুষও অভাবে থাকুক সরকার সেটা চায় না।' আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সরকারি দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই পালন করছে। আজকে একটি মাস দেশের সবকিছু বন্ধ। তারপরও আল্লাহর রহমত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে এখনও পর্যন্ত একজন মানুষও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। সুতরাং কেউ যেন না খেয়ে থাকে সেদিকে আমাদের দৃষ্টিপাত করতে হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় বিভিন্ন ভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারের ত্রাণ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। আমাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এনএনকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে যেসব গ্রামগুলোতে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে, সেগুলো আমরা চেষ্টা করছি আপনারা যাদেরকে দিচ্ছেন, তারা ছাড়া অন্যদেরকে দেবার জন্য। আমাদের দলের অনেক সামর্থবান নেতৃবৃন্দরাও ত্রাণ দিচ্ছেন। সমাজে যারা অবস্থাসম্পন্ন এবং সামর্থবান তারাও ত্রাণ দিচ্ছে। পুরো ত্রাণ কার্যক্রমের একটা সমন্বয় করতে হবে। কারো সর্দি কাশি হলেই তাকে করোনা রোগী সন্দেহ করা সঠিক নয় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'সর্দি-কাশিতো আমাদের সবসময়ই হয়ে থাকে। প্রত্যেক মানুষেরই হয়। এখন সামাজিক ভাবে হেয় করার জন্য দেখা যাচ্ছে কারো সর্দি-কাশি হলো, তার সাথে কারো বিরোধ আছে, তার সম্পর্কে করোনা রোগী এধরণের বিরূপ কথা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকেও সকলের খেয়াল রাখতে হবে। রাঙ্গুনিয়ায় কৃষক লীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ ইতোমধ্যে দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে আজ শুক্রবার থেকে তারা প্রতি ইউনিয়নে এই কার্যক্রম শুরু করবে, জানান তথ্যমন্ত্রী। পরে তথ্যমন্ত্রী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের সাথে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় প্রস্তুতি ও ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান, পৌরসভার মেয়র শাহজাহান সিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর