বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১
সাংবাদিক রোজিনা গ্রেপ্তার: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বয়কটের ঘোষণা
১৮,মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও তার মামলা প্রত্যাহারসহ তাকে দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ সাংবাদিক সমাজ। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে সসম্মানে তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব ইতিবাচক সংবাদ বয়কটের ঘোষণা সাংবাদিকদের। আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করে এই দাবি জানান এবং এই ঘটনার জন্য সাংবাদিকদের কাছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। এসময় যে আইনে রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা বাতিলের দাবি জানানো হয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে। অপরদিকে রোজিনা ইসলামের মামলা প্রত্যাহার ও তাকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামীকাল বুধবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে সচিবালয় রিপোর্টার্স ফোরাম। রোজিনা ইসলামের জামিন না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের ইতিবাচক সংবাদ বয়কটের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়াট রিপোর্টার্স ফোরাম বিএসআরএফ-এর সভাপতি তপন বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমরা বিএসআরএফ এর পক্ষ থেকে আমাদের সহকর্মী পেশাগত কাজে গিয়ে হেনস্তা, তাকে নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টা ১২টা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি করবো। রোজিনা ইসলামের জামিন না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব ব্রিফিং বর্জন করবো। তথ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবো এবং আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে জামিনের ব্যাপারে কথা বলবো। সোমবার রাতে তাকে গ্রেপ্তারে প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবি জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি। এছাড়াও রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারে নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হেলথ্ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ), বাংলাদেশ ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট ফোরাম বিজেসি ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। উল্লেখ্য, আজ (মঙ্গলবার) সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত সকাল ১১টার সংবাদ সম্মেলন বয়কট করেছে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)।
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের রিমান্ড নাকচ, জামিন শুনানি বৃহস্পতিবার
১৮,মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের রিমান্ড আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ড নামঞ্জুর করে রোজিনাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রোজিনার জামিনের আবেদনের আংশিক শুনানি শেষে বিচারক বাকি শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার তারিখ রেখেছেন। রোজিনার আইনজীবী এহসানুল হক সামাজী এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রোজিনাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে নেয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন। রোজিনা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হলে তার আইনজীবী এহসানুল হক সামাজী রিমান্ডের আবেদনের বিরোধিতা করে জামিন চান। শুনানি শেষে বিচারক জসিম উদ্দিন রোজিনার জামিন আদেশ ও রিমান্ড আবেদন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রোজিনার জামিনের আবেদনের আংশিক শুনানি শেষে বিচারক বাকি শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার তারিখ রেখেছেন।
স্বাস্থ্যের কর্মকর্তারা চেয়ারে বসতেই উঠে গেলেন সাংবাদিকরা
১৮,মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করে গ্রেফতারের প্রতিবাদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিকরা। এরই অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তিনজন অতিরিক্তি সচিব ব্রিফিং করতে আসলে তা বয়কট করে তারা উঠে যান। মঙ্গলবার (১৮ মে) বেলা ১১টায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিষয়ে ব্রিফিংয়ের কথা থাকলেও স্বাস্থের কর্মকর্তারা সম্মেলনকক্ষে প্রবেশ করেন ১১টা ২০ মিনিটে। এরপরই বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ সংবাদ সম্মেলন বয়কট ঘোষণা করে সবাইকে সম্মেলন কেন্দ্র ত্যাগ করার অনুরোধ জানান। এরপর সেখান থেকে চলে যান সাংবাদিকরা। তিনি বলেন, গতকাল রোজিনা ইসলামের বিষয়ে কথা বলতে এবং ঘটনা জানতে আমরা দীর্ঘ সময় স্বাস্থ্য সচিবের রুমের সামনে অপেক্ষা করেছি, তিনি দেখা করেননি। তিনি আমাদের বারবার অপমান করেছেন। আজকের এই ব্রিফিং আমরা বয়কট করছি। পরবর্তী কর্মসূচি আমাদের বিএসআরএফের জরুরি সভা শেষে নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নেবেন। তার এই ঘোষণার পর সব সাংবাদিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কট করে বেরিয়ে যান। এ সময় বিএসআরএফের অর্থ সম্পাদক মাসউদুল হক ও কার্যনির্বাহী সদস্য মোরসালীন বাবলা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আজ সকালে বাংলাদেশ বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ব্রিফিং বয়কটের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার ও বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সদস্য রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আজকের (মঙ্গলবার) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত বেলা ১১টার সংবাদ সম্মেলন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচি কার্যনির্বাহী কমিটির আজকের জরুরি সভা থেকে ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করছে বিএসআরএফ।
রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা: শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ, বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা
১৮,মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা এবং পরে শাহবাগ থানায় হস্তান্তরের ঘটনায় প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা। এদিকে এ ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠন ও সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোমবার রাতে শাহবাগ থানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকেরা বিক্ষোভ করেন। তাঁরা রোজিনা ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। সাংবাদিকেরা এ ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিবের প্রতি ধিক্কার জানান। সাংবাদিকেরা মন্ত্রী সচিবের পদত্যাগ দাবি করেন। রাত সাড়ে ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছিল। সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম সচিবালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে বিকেল তিনটার দিকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাঁকে একটি কক্ষে আটক করেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রোজিনা ইসলামকে ৯টার দিকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সচিবালয়ে আটক অবস্থায় সাংবাদিক রোজিনা একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা প্রথমে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন। এরপর তারা সেখান থেকে শাহবাগ থানায় চলে আসেন। সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ-স্লোগান দেন তাঁরা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ বলেন, রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় সাংবাদিকেরা উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত। স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতি ধারাবাহিক আক্রোশেরই প্রতিফলন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান বলেন, কোনো নিরপরাধ সাংবাদিক যেন হয়রানির শিকার না হয় সেটা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের বিবৃতি: বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা নিউইয়র্কভিত্তিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) এক টুইট বার্তায় রোজিনা ইসলামকে আটক এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে সচিবালয়ে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন। তাঁকে অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। সিপিজে তাদের টুইটে সচিবালয়ে আটক অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মেঝেতে পড়ে যাওয়া রোজিনা ইসলামের একটি ছবিও ব্যবহার করেছে। জাতীয় পার্টি: সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে আটক ও হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাঁর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা লজ্জাজনক। তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ: পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন নারী সাংবাদিকের ওপর সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগের এই আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। আইন ও সালিশ কেন্দ্র: রোজিনা ইসলামকে আটক ও হেনস্তার নিন্দা জানিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এক বিবৃতিতে বলেছে, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে রোজিনা ইসলাম কাজ করছেন। তিনি তাঁর প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে এনেছেন। এ ছাড়া করোনাকালীন সময়ে জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের দূর্বলতাগুলোও তাঁর প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। এসব প্রতিবেদন নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এমন একজন সাংবাদিককে পেশাগত কাজের সময় এভাবে আটক করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রোজিনাকে আটকের এ ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। সূত্র: প্রথম আলো
সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে
১৭,মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় সচিবালয়ে আটকে রেখে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে। রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। তাঁকে সেখানে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই ভবনে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রোজিনাকে আটকে রাখার কারণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি। পরে বিকেলে সাংবাদিকেরা সচিবালয়ের বাইরে জড়ো হয়ে রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও আটকে রাখার প্রতিবাদ করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, রোজিনা ইসলাম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অনন্য। আন্তর্জাতিকভাবে তাঁর স্বীকৃতি আছে। এমন একজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা অন্যায়, অনভিপ্রেত। কী কারণে এভাবে আটকে রাখা হয়েছে, অসুস্থ হওয়ার পরও তাঁকে হাসপাতালে না নেওয়ার বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। রোজিনাকে হেনস্তা করার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে হবে। রোজিনা ইসলামকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে, এ বিষয়ে সচিবালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকেরা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেন। কিন্তু সচিবের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু নথির ছবি তোলার অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় নিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে থানায় আনা হয়েছে। শাহবাগ থানার সামনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা অবস্থান করছেন। রোজিনা ইসলামকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী। তিনি অবিলম্বে রোজিনা ইসলামকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। সূত্র: প্রথম আলো
বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ২২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে: পরিকল্পনামন্ত্রী
১৭,মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে (১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭৩ টাকা) দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ কথা বলেন। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যরা বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে যোগ দেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০২০-২১ অর্থ-বছরে আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এর আগে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলার। তাই, এই প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৮৪.৮১ ধরে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭৩ টাকা হিসেবে করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দেশের জিডিপিও বৃদ্ধি পেয়েছে। জিডিপি বৃদ্ধি পেয়ে ২৭,৯৬,৩৫৮ কোটি টাকা থেকে এখন ৩০,৮৭,৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এটি অত্যন্ত ভাল অর্জন। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪০তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই শুভ দিনেই অর্জনটি প্রকাশ পেল। সভায়, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
আপন কর্ম মহিমায় শেখ হাসিনা হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের নির্মাতা : ওবায়দুল কাদের
১৭,মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আপন কর্ম মহিমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের নির্মাতা,হিমাদ্রি শিখর সফলতার মূর্ত-স্মারক,উন্নয়নের কান্ডারি। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি আলোচনা সভায় যুক্ত হন। এক অন্ধকার সময়ে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছিলেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছেন বলে আমরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম। তার কারণেই মুক্তিযুদ্ধের কথা, বঙ্গবন্ধুর কথা জানতে পেরেছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। সাম্প্রদায়িক ধারা থেকে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ধারা ফিরিয়ে আনতে শেখ হাসিনা নিরলস সংগ্রাম করে আসছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। বিশ্বে বাংলাদেশ এক মডেল রাষ্ট্র। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো অন্ধকারের বিরুদ্ধে, দুর্যোগের বিরুদ্ধে, ঝড়ের মধ্যে, সংকটে অপ্রতিরোধ্যভাবে অকুতোভয় এগিয়ে যাওয়ার এক বিরল রাজনৈতিক নেতৃত্ব শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময়কালে ঘটনা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুর রক্ত ভেজা মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন তার সুকন্যা শেখ হাসিনা। সেদিন সব রাস্তা মিছিলে মিশেছিল রাজধানী ঢাকার সাথে। মিছিলে মিছিলে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল ঢাকা শহর। ঝড়-ঝঞ্ঝা পূর্ণ পরিবেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের মিছিল সেদিন প্রতিরোধ করতে পারেনি সামরিক স্বৈরশাসক। দেশে ফিরেই তিনি দেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে শৃংখলমুক্ত করতে ছুটে বেড়ালেন সারাদেশ। কোন্দল আর কলহপূর্ণ আওয়ামী লীগকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে শৃংখল মুক্ত করতে তিনি লড়েছেন আপোষহীনভাবে। শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনের কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, চার দশকে তিনি অতিক্রম করেছেন দীর্ঘ পথ। মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে জীবনের জয়গান গেয়েছেন। ধ্বংস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে বারবার সৃষ্টির পতাকা উড়িয়েছেন। তিনি দল ও নিজেকে অতিক্রম করে গেছেন।পঁচাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনায়কের নাম শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে সৎ রাজনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। সবচেয়ে সাহসী ও মানবিক রাষ্ট্রনায়কদের নাম শেখ হাসিনা। ৭৫ পরবর্তী রাজনীতির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার নাম শেখ হাসিনা। সাত দশক বয়সী আওয়ামী লীগের চার দশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন শেখ হাসিনা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে শেখ হাসিনা আজও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। সংগ্রামী নেতা থেকে শেখ হাসিনা এক কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবেন না। তার মাথা কাজ করে পরবর্তী জেনারেশন নিয়ে। সে কারণে তিনি রাজনীতিকের সীমানা পেরিয়ে রাষ্ট্রনায়কে রূপান্তরিত হয়েছেন। তিনি সারা বিশ্বে আজ উন্নয়নের নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এসেছিলেন বলে খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ আজ খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশকে তিনি উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে নিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার অভিমুখে। তিনি ক্ষমতায় আসার পর জাতির পিতার হত্যা এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার করে বাংলাদেশ পাপমুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। করোনার মধ্যেও সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, আজকে করোনা অনেক কিছুই থামিয়ে দিয়েছে। জীবনের চাকাকে অচল করে দিয়েছে। কিন্তু পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেলের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম নদীর নিচে টানেল এটাও শেখ হাসিনার অবদান। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনা ঐক্য ও আদর্শের আলোকবর্তিকা হয়ে ১৭ মে দেশে এসেছিলেন : বাহাউদ্দিন নাছিম
১৭,মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, ১৯৮১ সালের ১৭ মে ঐক্য ও আদর্শের আলোকবর্তিকা হয়ে শেখ হাসিনা দেশে এসেছিলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে, রাজনৈতিক জীবনে ভয়াবহ দুর্দশা ছিলো। দেশে কোন গণতন্ত্র ছিলো না। জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিলো, ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিলো। এ দুটি ঘটনা একই ঘটনার ধারাবাহিক। তখন দেশ ও আওয়ামী লীগও করুন অবস্থায় ছিলো। তখন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে, আদর্শের প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়। তিনি বলেন, সেদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা আলোর দিশারি হয়ে দেশে আসেন। তিনি এসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশের মানুষকে জাগরিত করেছেন, ঐক্যবদ্ধ করেছেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে না আসলে আমরা এ পর্যায়ে আসতে পারতাম না। সেদিন তিনি দেশে আসায় আমরা স্বপ্ন দেখতে পেরেছি। শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি হওয়ার পরও খুনি, একনায়ক জিয়াউর রহমান তাকে দেশে আসতে বারণ করেছিলো। শেখ হাসিনা কিন্তু মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে দেশকে ভালোবেসে, মানুষকে ভালোবেসে জাতির পিতার স্বপ্নের গণতান্ত্রিক উন্নত সম্বৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দেশে এসেছিলেন, দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে এসেছিলেন বলেই জাতির পিতার হত্যার বিচার করা সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা খুনিদের সাথে আপোষ করেননি। বিচার না হলে আমরা কলঙ্কিত জাতি হয়ে থাকতাম। বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের সেই কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও এ সময়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, ম আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী শহীদুল্লাহ লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী ও খায়রুল হাসান জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা, দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ইতিহাসে একটি মাইলফলক
১৭,মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪০তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ সোমবার (১৭ মে)। ১৯৮১ সালের এদিনে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। দিনটি উপলক্ষে বিশেষ বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বলেছেন, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। বাণীতে রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। এ সময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় তারা প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু তারা দেশে ফিরতে পারেননি। বাবা, মা, ভাইসহ আপনজনদের হারানো বেদনাকে বুকে ধারণ করে পরবর্তীতে ৬ বছর লন্ডন ও দিল্লিতে চরম প্রতিকূল পরিবেশে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়। ১৯৮১ সালে ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ইডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ত্রয়োদশ জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এ ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৎকালীন নেতাদের এক দূরদর্শী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। নানা উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও ১৯৮১ সালের ১৭ মে ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে লাখো মানুষের ঢল নামে। সেদিন বাংলার জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসায় তিনি সিক্ত হন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সেদিন তিনি বলেছিলেন, সব হারিয়ে আজ আপনারাই আমার আপনজন। বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি এসেছি। আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই। রাষ্ট্রপতি বলেন, তার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে সুগম হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৯০র গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হয়, বিজয় হয় গণতন্ত্রের। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। এ সময় পাহাড়ি-বাঙালি দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধে পার্বত্য শান্তি চুক্তি এবং প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে তার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসে এবং জনগণের কল্যাণে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করা হয়। গণতন্ত্র, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারীর ক্ষমতায়ন, বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি, গ্রামীণ অবকাঠামো, বৈদেশিক কর্মসংস্থানসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জোট সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শুরু ও রায়ের বাস্তবায়নসহ সমুদ্রে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত স্থলসীমানা নির্ধারণ তথা ছিটমহল বিনিময় চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে সরকার গণমানুষের কল্যাণে নিরলস প্রয়াস চালান। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জোট সরকার টানা তিনবার ক্ষমতায় এসে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এবং সাফল্যের সঙ্গে সরকার পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি অর্জনসহ মাথাপিছু আয় বাড়ছে, কমছে দারিদ্র্যের হার। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। দেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করতে তিনি ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৪১ ও ডেল্টা প্ল্যান -২১০০ এর মতো দূরদর্শী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে শেখ হাসিনার এসব যুগান্তকারী কর্মসূচি বিশ্বে আজ রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সন্ধিক্ষণে এটি জাতির জন্য একটি অনন্য উপহার। মো. আবদুল হামিদ বলেন, বতর্মানে সারাবিশ্ব করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে বিপর্যস্ত। বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। মহামারি করোনার প্রভাবে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োচিত ও সাহসী পদক্ষেপের ফলে সরকার করোনার প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ। তিনি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সরকারের অব্যাহত সাফল্যসহ তার নিজের ও পরিবারের সব সদস্যের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর