সোমবার, আগস্ট ২, ২০২১
আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ করোনাভাইরাস মুক্ত হবে!
২৭এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনায় পুরো বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে আছে। বাংলাদেশেরও যেন প্রাণ নেই। মানুষ ঘরবন্দি। কবে শেষ হবে এই মহামারী, এই প্রশ্ন এখন সবার মনে। স্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা কেউই এ নিয়ে কিছু বলতে না পারলেও সিঙ্গাপুর ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ডিজাইনের ডাটা ড্রাইভিং ইনোভেশন ল্যাবরেটরি রোববার (২৬ এপ্রিল) বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কবে নাগাদ করোনাভাইরাস মুক্ত হবে তার একটি অনুমান ভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ১১ এপ্রিল থেকে বিশ্বব্যাপী করোনভাইরাসের সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। আগামী ৩০ মের মধ্যে ৯৭ শতাংশ, ১৭ জুনের মধ্যে ৯৯ শতাংশ এবং চলতি বছরের ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্ব শতভাগ করোনাভাইরাস মুক্ত হবে বলে অনুমান করা হয়।সময় টিভি। এ পরিসংখ্যানে গত ২৩ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে ভাইরাসের সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরিসংখ্যান অনুসারে, আগামী ১৯ মের মধ্যে ৯৭ শতাংশ, ৩০ মের মধ্যে ৯৯ শতাংশ এবং আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ করোনাভাইরাস মুক্ত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত জুলাইয়ের ২৫, ইতালি আগস্টের ২৪, সিঙ্গাপুর আগস্টের ৭, স্পেন আগস্ট ৬, যুক্তরাজ্য আগস্ট ১৩, ফ্রান্স আগস্ট ৪, জার্মানি জুলাইয়ের ৩১, জাপান সেপ্টেম্বরের ২৫ যুক্তরাষ্ট্র আগস্ট ২৬ এ করোনামুক্ত হবে বলেও প্রতিবেদনে জানা যায়।
ফোর্বসের সফল নারী নেতৃত্বের তালিকায় শেখ হাসিনা
২৬এপ্রিল,রবিবার,সাইফুল ইসলাম,ঢাকা,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রশংসা করে লেখেন, প্রায় ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস বাংলাদেশে। সেখানে দুর্যোগ কোনো নতুন ঘটনা নয়। আর এই করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেননি তিনি (শেখ হাসিনা)। তার এই তড়িত সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম (উই ফোরাম) বিষয়টিকে 'প্রশংসনীয়' বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিন। জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিনে করোনা মোকাবিলায় সফল নারী নেতৃত্বের তালিকায় স্থান করে নিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ম্যাগাজিনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বাংলাদেশে তা এখনও কার্যকর করতে পারেনি যুক্তরাজ্য। এর আগে করোনা মোকাবিলায় নারী নেতৃত্বে সফলতা বেশি আসছে বলে এক প্রতিবেদনে জানায় ফোর্বস ম্যাগাজিন। তখনও করোনার সংক্রমণ বাংলাদেশে সেভাবে দেখা যায়নি। এ সময় ৬ জন নারী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এই প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে নতুন করে ৮ নারী নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয় যেখানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে সবচাইতে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা ফেব্রুয়ারির শুরুতেই চীনে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মার্চের শুরুতে প্রথম সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হবার সঙ্গে সঙ্গে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন এবং কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। তিনি দেশের সকল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা রোগী শনাক্ত করতে স্ক্রিনিংয়ের জন্য মেশিন ব্যবহার করেন যেখানে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে পরীক্ষা করা হয়েছে (এদের মধ্যে ৩৭ হাজার মানুষকে দ্রুত কোয়ারেন্টাইনে প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়), যা এখনো যুক্তরাজ্য কার্যকর করতে পারেনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি এই তালিকায় আরও রয়েছেন বলিভিয়ার নেতৃত্ব দেয়া জেনাইন অ্যানেজ, ইথিওপিয়ার সাহলে-ওর্ক জেওডে, জর্জিয়ার সালোমেজ জওরাবিচভিলি, হংকংয়ের ক্যারি লাম, নামিবিয়ার সারা কুগংগেলোয়া, নেপালের বিদ্যা দেবী বান্দ্রে এবং সিঙ্গাপুরের হালিমাহ ইয়াকব।সময় টিভি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিন দাবি করছে, বিশ্বের যে সব দেশে করোনার লাগাম টেনে ধরতে পেরেছে সেগুলোর নেতৃত্বে রয়েছে নারীরা। ম্যাগাজিনটিতে উদাহরণ স্বরূপ জার্মান, তাইওয়ান, আইসল্যান্ড , নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের কথা বলা হয়।
১৩৮ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে
২৬এপ্রিল,রবিবার,সাইফুল ইসলাম,ঢাকা,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের নিজ নিজ জেলখানা ও ডিটেনশন সেন্টারগুলো খালি করছে। তারই অংশ হিসাবে ১৩৮ বাংলাদেশির কারাদণ্ড মওকুফ করে ঢাকায় ফেরত পাঠিয়েছে বাহরাইন। সন্ধ্যা ৬ টার দিকে বাহরাইন সরকারের ভাড়া করার গাল্ফ এয়ারের একটি স্পেশাল ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় পৌঁছে দেয়া হয়। মানামায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক অবস্থায় ১৫০ বাংলাদেশির দণ্ড কমিয়ে মুক্তি দেয়া হলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা বিশেষ করে কোভিড-১৯ এর উপসর্গ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ১৩৮ জনকে বিমানে তোলা হয়েছে। বাকীদের যখন সময় হবে তখন দেশে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মাস্কাটের জেলে থাকা ২৯২ বাংলাদেশিকে স্পেশাল ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয় ওমান সরকার। তারও আগে সৌদি আরব চলতি মাসের মাঝামাঝিতে ওমরাহ করতে গিয়ে আটকে পড়া ১৪৪ বাংলাদেশির সঙ্গে ১৬৮ প্রবাসী, যারা বিভিন্ন অপরাধে কারাগারে ছিলেন তাদের স্পেশাল বিমানে তুলে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। যদিও ঢাকা চেয়েছিল করোনার এই কঠিন মুহুর্তে কোনো প্রবাসী ফেরত না আসুক। বিশেষ করে জরুরি ভিত্তিতে তৈরি হতে যাওয়া ৪০০০ প্রবাসী বা বিদেশ ফেরতের একসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন সুবিধার কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময় চেয়েছিল বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করোনা সেলের প্রধান অতিরিক্ত সচিব ড. খলিলুর রহমান অবশ্য এটাকে রুটিন মাইগ্রেশন বলছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, এটি করোনা সংকটের কঠিন সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জেলখানা খালি করা সংক্রান্ত উদ্যোগেরই অংশ। এটি অব্যাহত থাকলে লাখ খানেক বাংলাদেশি কেবল মধ্যপ্রাচ্য থেকেই ফিরবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী।
করোনাভাইরাস আট জেলার সঙ্গে কাল ভিডিও কনফারেন্স করবেন প্রধানমন্ত্রী
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগামীকাল ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করবেন। সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই ভিডিও কনফারেন্স শুরু হবে। এতে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সকলে যুক্ত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম আজ বাসসকে এতথ্য জানান। জেলাগুলো হচ্ছে, বগুড়া, চাপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী এবং সিরাজগঞ্জ। প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং রেডিও স্টেশনগুলো এই ভিডিও কনফারেন্স সরাসরি সম্প্রচার করবে। এরআগে প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে চার দফা পৃথক ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৪৮টি জেলার সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে স্বাস্থ্যবিধিসমূহ মেনে চলার আহবান জানানোর পাশাপাশি সংকট উত্তরণে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজেরও ঘোষণা দেন।
আরও ৫২ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরো ৫২ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আজ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত জিও জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ কল্পে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, ত্রাণকার্য পরিচালনা, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে এ বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে ৪৯২টি উপজেলা পরিষদের জন্য ২৪ কোটি ৪৫ লাখ, ৬১টি জেলা পরিষদের জন্য ১৬ কোটি, ১২টি সিটি করপোরেশনের জন্য ৬ কোটি ৮০ লাখ এবং খ ও গ শ্রেণীর ১৩৮টি পৌরসভার জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ইতোপূর্বে গত ২৫ মার্চ করোনা সংক্রমন মোকাবিলায় ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৩২৮টি পৌরসভা ও ৪৯২টি উপজেলা পরিষদের জন্য সর্বমোট ৩৩ কোটি ২ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছিল।
তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আছে
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি করা জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় অনিয়ম এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ত্রাণ নিয়ে যেখানেই কোন রকম দুর্নীতির খবর আমরা পেয়েছি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। এখানে সীমিত সংখ্যক লোক জড়িত হয়েছে। গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় আমি মনে করি বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাজুল ইসলাম বলেন, অপরাধ সারা পৃথিবীতে আছে। অপরাধের শাস্তি যখন হয় তখন সে অপরাধ কমে যায়। সারা পৃথিবীতে এ প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করা হয়। চাল চুরির সংবাদ করতে যাওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান দ্বারা সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিক হোক, সরকারি কর্মকর্তা হোক বা সাধারণ কৃষক হোক কারো দ্বারা যদি কেউ অন্যায়ভাবে অপদস্ত বা ক্ষতিগ্রস্থ হয় সেটাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। আমরা যেমন ভালো কাজের জন্য তাদের প্রটেকশন দেবো, তেমনি খারাপ কাজের জন্যও শাস্তি দেবো। ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হয়েছে, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশন কতটুকু প্রস্তুত রয়েছে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই সতর্ক হলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। আর আমরা কীটনাশকের ব্যবস্থা করেছি। আর যেসব খাল ও ড্রেনে বর্জ্য জমে আছে সেগুলো দ্রুত পরিষ্কার করার জন্য সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, কেউ যেন অনাহারে না থাকে
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, কেউ যেন অনাহারে না থাকে। তিনি আজ দুপুরে রাজধানীতে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সীমিত পরিসরে অফিস খোলার প্রথম দিন অনলাইনে গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে একথা বলেন। এসময় তথ্যসচিব কামরুন নাহার, প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার ও মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে এ বিশেষ পরিস্থিতিতে যারা দিন এনে দিন খায়, যারা দরিদ্র, তাদের অসুবিধা না হয়। সরকারের পাশাপশি বিত্তবান, দয়ালু এবং সমাজসেবীরাও এগিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও সারাদেশে দরিদ্র মানুষের সহায়তা এগিয়ে এসেছে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য একজন মানুষও যেন অনাহারে না থাকে। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ড. হাছান জানান, করোনা ভাইরাস থেকে দেশবাসীকে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে এবং এ ভাইরাস যাতে জনসাধারণের মাঝে না ছড়ায়, সেজন্যে সরকার ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল এবং পরবর্তীতে সেই ছুটি বৃদ্ধি করে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছুটি চলাকালীনও যেহেতু জরুরি সেবা দিতে হয় সেজন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর যেমন তথ্য অধিদফতর, গণযোগাযোগ অধিদফতর, বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন চালু ছিল। সেকারণে আমাদের কর্মকর্তাদের সীমিত আকারে অফিস করতে হয়েছে। সম্প্রতি সরকার জরুরি বিভিন্ন বিভাগ এবং মন্ত্রণালয়, যেগুলো সবার সাথে যুক্ত সেগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ সরকারের নানা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আছে এবং সহায়তা পাচ্ছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ভিজিডির মাধ্যমে ১০ লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে সহায়তা দিচ্ছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা মূল্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। সাড়ে ১২ লাখ পরিবার ওএমএসের মাধ্যমে সহায়তা পাচ্ছে। আগামী মাসে ৩ লাখ পরিবার মৎস্য ভিজিএফ পাবে। এর বাইরে জেলা প্রশাসন শাক-সবজি, দুধ কিনে জনগণের মধ্যে বিতরণ করছে। ড. হাছান বলেন, এ বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল, ৪৯ কোটি টাকা ও শিশুখাদ্যের জন্য বিশেষ নগদ অর্থ ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাছাড়াও বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতাসহ নানাবিধ ভাতার মাধ্যমে দেশের আরো প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি লোক নানাধরণের সহায়তা পাচ্ছে। অর্থাৎ দেশের এক তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ সরকারের এই সহায়তার আওতার মধ্যে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সংকটের মধ্যেই সম্ভাবনা দেখতে পান সততা এবং সাহসই হচ্ছে তার শক্তির উৎস
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি করোনা পরিস্থিতি নিয়েও পুরনো নালিশের রাজনীতি শুরু করছে। তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি করোনা নিয়ে পুরনো নালিশের রাজনীতি শুরু করেছে বিএনপি। তারা শুরুতেই ছিল শীতনিদ্রায়, হঠাৎ জেগে আবিষ্কার করল সরকার একলা চলো নীতিতে আছে।ওবায়দুল কাদের আজ রোববার দুপুরে তার সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন। বিএনপি মাহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে তথ্য প্রমাণ ছাড়া চিরায়ত ভঙ্গিতে মিথ্যাচার করে একবার চুপ হয়ে গেলেন। এখন বলছে সরকার নাকি তথ্য গোপন করছে। কি তথ্য গোপন করেছে সেটা তো আপনি বললেন না। অভিযোগ করার আগে নির্ভুল তথ্য আপনার হাজির করা উচিত ছিল। শেখ হাসিনা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। আর এটাই আপনাদের গাত্রদাহের কারণ। তিনি বলেন, করোনা সংকট একটি বৈশ্বিক দুর্যোগ, এখানে তথ্য লুকোচুরির কোন বিষয় নেই। বর্তমান বিশ্বে তথ্য লুকোচুরির কথা হাস্যকর। সরকার করোনা সংকট মোকাবেলায় জনগণকে সাথে নিয়ে দিনদিন অধিকতর সক্ষমতা অর্জন করছে। এটা আপনাদের মনোকষ্টের কারণ। ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক সংকট নয়, এটা করোনা সংকট। এখন দরকার করোনা যোদ্ধা, ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ যারা ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ করছে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংকটের মধ্যেই সম্ভাবনা দেখতে পান। সততা এবং সাহসই হচ্ছে তার শক্তির উৎস। সংকট মোকাবেলা শুরু থেকেই দল-মত-নির্বিশেষে আমরা সকলের সহযোগিতা চেয়েছি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আপনারা সংকটেপতিত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত কি কাজ করেছেন। সরকার সকলকে নিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে সমন্বয়ে গড়ে তুলেছে কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ে। সকল সরকারি সংস্থা, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এ সংকট মোকাবেলায় সফল হবো ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা এখনো আহ্বান জানাই এই দুর্যোগ মোকাবেলায় ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে আসুন। গুজব নির্ভর ও নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করুন। মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে কাদের বলেন, রমজান মাসে এক শ্রেণীর মুনাফাখোর ও মজুদদার অসৎ ব্যবসায়ী বাজার অস্থিতিশীল করার দুরভিসন্ধিতে লিপ্ত। সরকার এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করোনা যুদ্ধে যারা সাহসীকতার সাথে জীবন বাজি রেখে মাঠে কাজ করছে তাদেরও ধন্যবাদ জানান।
রমজানকে কেন্দ্র করে আবারও সবকিছুর দাম বেড়েছে
২৬এপ্রিল,রবিবার,সাইফুল ইসলাম,ঢাকা,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা আতঙ্কে বেড়ে যাওয়া মশুর ডালের দাম রমজানকে কেন্দ্র করে আবারও বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে চিনির দামও। আর আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অ্যাংকর, মুগ ডাল ও ছোলা। হঠাৎ করে চিনি ও মশুর ডালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজান উপলক্ষে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহকারীরা চিনি ও মশুর ডালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। করোনা আতঙ্কে এমনিতেই স্থবির জনজীবন। এরমধ্যে রোজা উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের পণ্যের দাম বাড়ানোকে অমানবিক বলছেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, মানুষ আতঙ্কে থাকলেও মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা একের পর এক পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এমন অমানবিক কাজ অব্যাহত থাকলেও এই অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বাজার চিনি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়। গত সপ্তাহে ৭৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মোটা দানার মশুর ডালের কেজি ১০০ টাকা ছুঁয়েছে। ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মাঝারি দানার মশুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১১৫ টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবেও সপ্তাহের ব্যবধানে চিনি ও মশুর ডালের দাম বেড়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বাজারে এখন চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। টিসিবি বলছে, এক সপ্তাহ আগে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মোটা দানার মশুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। মাঝারি দানার মশুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১০০ থেকে ১১৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। এদিকে রোজার কেনাকাটা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাংকর, ছোলা ও মুগ ডালের দাম বেড়ে যায়। সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে এই পণ্য দু’টির দাম বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। আগের মতো অ্যাংকর ডাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি, ছোলা ৮০ থেকে ৯০, মুগ ডাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দেশে লাগামহীনভাবে বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে দাম বাড়া শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। করোনা ভাইরাস দেখা দেয়ার পর থেকে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ২০ টাকা এবং এক লিটারের বোতল জাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। আর রমজানকে কেন্দ্র করে ও করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানেই প্রতি ৫ লিটারে (বোতল) বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। আর লিটারে বেড়েছে ৩ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত। সরকারি বিপনন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে ৫ লিটার বোতলের সোয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৯০ থেকে ৫৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা।

জাতীয় পাতার আরো খবর