বাংলাদেশ আরএমজি খাতে বৈশ্বিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ পূরণে সক্ষম হবে : প্রধানমন্ত্রী
২৯এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, চলমান করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে বৈশ্বিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ পূরণ করতে সক্ষম হবে। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেন আজ অপরাহ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করলে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বাসসকে বলেন, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী বেলা ২টার দিকে টেলিফোন করে শেখ হাসিনার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি বলেন, প্রায় পনের মিনিটের আলাপে উভয় নেতা ব্যবসা-বাণিজ্য, বিশেষকরে তৈরি পোশাক খাত নিয়ে কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও আমরা আশা করি সুইডেনসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের তৈরি পোশাক সংক্রান্ত ক্রয়াদেশ পূরণ করতে সক্ষম হব। এ প্রসঙ্গে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, তাঁর দেশ তৈরি পোশাক সম্পর্কিত বাংলাদেশের কোন ক্রয়াদেশ বাতিল করবেনা। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানী অব্যাহত রাখবো। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের মালিকরা স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে তাদের কারখানা চালু করেছেন। প্রেস সচিব বলেন, দুই দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতিও উভয় নেতার আলোচনায় উঠে আসে। উভয় প্রধানমন্ত্রী করোনা মহামারী মোকাবেলায় দুই দেশের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার তাঁর আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এডিস মশা নিধনে ভবনে জমে থাকা পানি অপসারনের আহবান এলজিআরডি মন্ত্রীর
২৯এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এডিস মশা নিধনে ভবনের ভিতরে ও বাহিরে জমে থাকা পানি অপসারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বুধবার রাজধানীর কাওরান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ আহ্বান জানান। তাজুল ইসলাম বলেন, বাসা-বাড়ী ও সরকারী-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবন বা চত্বরে মশার বংশবিস্তারে সক্ষম পরিবেশ পরিলক্ষিত হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হবে। ১০ মে’র পর থেকে অভিযান শুরু হবে। তিনি বলেন, জমে থাকা পানিতে এডিস মশা সহজেই বংশবিস্তার করতে পারে। কাজেই বাসাবাড়ি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদ, বাথরুমের কমোডসহ নির্মানাধীন স্থাপনার বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকলে তা নিজ নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার করতে হবে। সরকারি ভবনসমূহে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কাজ করবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডিমন্ত্রী জানান, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নিকট মশা নিধনে এক বছরের ওষুধ মজুদ আছে। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক রোয়েনা আজিজ, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে মোদির ফোন
২৯এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রতিবেশী দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, বুধবার বিকালে শেখ হাসিনাকে ফোন করেন নরেন্দ্র মোদি। প্রেস সচিব জানান, ফোনে দুই নেতা করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। এর প্রভাব মোকাবিলায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে উভয়ে সম্মত হন। দুই নেতাই খাদ্য উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন বলে জানান প্রেস সচিব। এর আগে গত মার্চে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সার্কভুক্ত দেশগুলোকে এক হওয়ার প্রস্তাব দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার এই প্রস্তাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সার্কভুক্ত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা সমর্থন জানান।
দেশে নতুন করে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৬৪১
২৯এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও আট জন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ১৬৩ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬৪১ জন। ফলে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে সাত হাজার ১০৩ জনে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
কোয়ারেন্টিনে থাকা কনস্টেবল মারা গেলেন
২৯এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস রোগীর সংস্পর্শে এসে কোয়ারেন্টিনে থাকা ঢাকা মহানগর পুলিশে কর্মরত এক কনস্টেবল মারা গেছেন। এই কনস্টেবলের নাম মোহাম্মদ জসিম (৪০)। তিনি পুরান ঢাকার ওয়ারী থানার একটি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জসিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া আরটিভি অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই জসিম ফকিরাপুলের একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে অবস্থা গুরুতর হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ডিএমপির একটি সূত্র জানায়, এনিয়ে ঢাকায় কোয়ারেন্টিনে থাকা পুলিশের দুই সদস্যের মৃত্যু হলো। অপরদিকে পুলিশে দুই শতাধিক সদস্য কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের বাইরে আরও ৬৫২ জন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।
আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল
২৯এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এ দিনে স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকা। সব কিছু তছনছ করে মহা ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সেই সময় এতবড় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি উপকুলের মানুষ আর কখনো হয়নি। তাই আজও ২৯ এপ্রিল আসলে স্বজন হারা মানুষের কান্নায় ভারি হয় উপকূলের পরিবেশ। সেদিন জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়ে অকালে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মৃতি উপকূলবাসীকে এখনো তাড়ায়। বেদনা অশ্রু ভারাক্রান্ত হন তারা। ক্ষতিগ্রস্তদের মতে, সেদিন আবহাওয়া বিভাগ উপকূলীয় এলাকায় ৯নং সতর্ক সংকেত জারি করলেও অজ্ঞতার বশে লোকজন নিরাপদ স্থানে না যাওয়ায় মহা দুর্যোগের শিকার হন। রাত ১০টার পর ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতায় সাগরের পানি মুহূর্তেই লোকালয়ে ঢুকে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবলীলায় অনেক মা হারায় সন্তান, স্বামী হারায় স্ত্রী, ভাই হারায় বোনকে। অনেক পরিবার আছে যাদের গোটা পরিবারই পানির স্রোতে হারিয়ে গেছে। ২৯ এপ্রিলের সে ভয়াল স্মৃতি মনে করে এখনও কাঁদেন স্বজন হারানো উপকূলবাসী। প্রশাসনের হিসাব মতে, ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় ১৯ জেলার ১০২ থানা ও ৯টি পৌরসভায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন নিহত, ১২ হাজার ১২৫ জন নিখোঁজ, ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪ জন আহত হন। মাছ ধরার ট্রলার, নৌকা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ-পালা, চিংড়ি ঘের, স্কুল-মাদরাসা, পানের বরজ, লাখ লাখ গবাদি পশু, ব্রিজ কালভার্ট ভেঙ্গে গিয়ে ক্ষতি সাধিত হয় কয়েক হাজার কোটি টাকার। তাই ২৯ বছর পরও অতীতের স্মৃতি মুছতে পারেনি উপকূলবাসী। জানা গেছে, ১৫৬১ সালের জলোচ্ছ্বাসেও উপকূলের বিপুল মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ১৭৬২ সালে, ১৭৯৫ সালের ৩ জুন, ১৮৯৭ সালের ২৪ অক্টোবরে, ১৯০৫ সালের ২৯ এপ্রিলে, ১৯৬৩ সালের ২৭ মে, ১৯৭২ সালের অক্টোবরে, ১৯৯৭ সালের নভেম্বরে, ১৯৬৫ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে কুতুবদিয়া-দ্বীপসহ উপকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে কুতুবদিয়া খুদিয়ার টেক নামক একটি এলাকা পুরো বিলীন হয়ে গেছে। ১৯৯১ সালের এ দিনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর উপ-দ্বীপ ধলঘাটা-মাতারবাড়ি, পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়ন, কুতুবদিয়ার প্রায় পুরো উপজেলা এবং সদরের বৃহত্তর গোমাতলী এলাকায়। ওখানে অধিকাংশ বাড়ি থেকে পরিবারের ৫-৬ জন লোক মারা যান। অনেক যৌথ পরিবারে ৪০ জন মারা যায়। তাই এ দিনটিতে এখনও স্বজন হারানোর বেদনায় বিলাপ করেন অনেকে।
সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর খোকনের মৃত্যু
২৯এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দৈনিক সময়ের আলোর সিটি এডিটর ও চিফ রিপোর্টার হুমায়ুন কবীর খোকন আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৭। তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাজধানীর উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বিকেলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার বোন স্বপ্না সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ রাত ১০টায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাংগঠনিক সম্পাদক ও সময়ের আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হাবিবুর রহমান বলেন, হুমাযুন কবীর খোকনের করোনাভাইরাসের কিছু লক্ষণ ছিল। তবে করোনার টেস্ট এখনো করা হয়নি। হুমায়ুন কবীর খোকন সময়ের আলোতে যোগদানের আগে আমাদের সময়, মানবজমিনসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরে আদা, রসুন ও পেঁয়াজ নিলামে উঠছে
২৮এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম বন্দরে এক মাসেরও বেশি সময় যাবত পড়ে থাকা আদা, রসুন ও পেঁয়াজ ভর্তি ১২টি কন্টেইনার নিলামে উঠছে। নিয়মানুযায়ি আমদানির ৩০দিন পাড় হওয়ায় এ সব কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর সুত্র জানায়, বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে এসব কন্টেইনার বন্দর থেকে ছাড় না নিয়ে জমিয়ে রেখেছেন কয়েকজন আমদানিকারক। মূলত দুটি কারণে এসব কন্টেইনার বন্দর থেকে তারা ছাড় নিচ্ছেননা। একটি হচ্ছে দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকায় এসব কন্টেইনারে প্রচুর মাশুল এসেছে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অপেক্ষা করা। প্রাথমিকভাবে ১ কনটেইনার আদা, ২ কনটেইনার রসুন, ৯ কনটেইনার পেঁয়াজ নিলামে তুলতে চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্যের ২৫ থেকে ২৮ শতাংশই বাণিজ্যিক পণ্য (কমার্শিয়াল আইটেম)। এর মধ্যে আদা, পেঁয়াজ, রসুনের মতো ভোগ্যপণ্যের প্রায় পুরোটাই আসে কনটেইনারে করে। রোজার সময় যত কনটেইনার আসে তার ১০ শতাংশই হলো আদা, পেঁয়াজ, রসুন, খেজুর ও চিনির মতো ভোগ্যপণ্য । এসব কনটেইনারে গড়ে ২৫ টন পণ্য থাকে ।বাসস। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ওপরিকল্পনা) জাফর আলম মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, বাজারের ঘাটতি ও সরকারের রাজস্ব সুরক্ষায় আদা, রসুন, পেঁয়াজের মতো নিত্যপণ্যের কনটেইনার বারবার বলার পরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খালাসের উদ্যোগ নেয়া হয়নি । এরই পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত নিলামের পদক্ষেপ নিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে । তিনি বলেন, বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনার সংরক্ষণের স্থান বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে । পণ্য ভর্তি কনটেইনার দ্রুত ছাড় করা হলে যেমন নতুন পণ্য রাখার সুযোগ তৈরি হবে আবার নিলামযোগ্য কনটেইনার নিয়ম অনুযায়ী নিলামে তুললে বন্দর পরিচালন কার্যক্রমেও গতি আসবে । জাফর আলম আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ৩০ দিন বন্দরে পড়ে থাকার পর সব ধরনের কন্টেইনার ও পণ্য নিলামে তোলার কাজটি করে থাকে কাস্টমস। বন্দর থেকে আমরা তালিকা পেয়ে গেছি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে নিলামে তোলার কাজ শুরুকরব। এসব পণ্য বাজারে ছাড়লে রমজানের সময় বাজারে সরবরাহ সংকট কিছুটা হলেও কমবে বলে জানান তিনি। চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপ-কমিশনার (নিলাম) মো. ফরিদ আল মামুন বলেন, আদা, রসুন, পেঁয়াজের ১২টি কনটেইনার নিলামে তোলার জন্য বন্দরের পাঠানো আরএল (রিমুভ লেটার) আমরা পেয়েছি। এখন এসব পণ্যের ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে দ্রুত নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বাংলাদেশ একা রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব নিতে পারে না
২৮এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দফতরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমদ বঙ্গোপসাগরে ভাসমান প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য ঢাকাকে অনুরোধ করার প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. একে আবদুল মোমেন আশেপাশের দেশ এবং উন্নত দেশগুলোকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই দায়িত্ব নেয়ার জন্য ব্রিটিশ মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মোমেন ব্রিটিশ মন্ত্রীকে বলেন, সংখ্যার বিচারে হয়তো ৫০০ জন অনেক বেশি নয়, কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানবিক কারণে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তাছাড়া, তারাতো বাংলাদেশের সীমানার মধ্যেও নেই। এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ মন্ত্রী লর্ড আহমদ গতকাল মোমেনকে ফোন করেন এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে ৫০০ জন রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাগুলোকে এদেশে প্রবেশের জন্য অনুমতি দিতে ঢাকাকে অনুরোধ করেন।বাসস। বিবৃতিতে বলা হয়, মোমেন তাকে বলেন, নৌকাগুলো বাংলাদেশের উপকূলরেখায় অবস্থান করছে না এবং তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তারা কেন এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে বাদ দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য শুধু একা বাংলাদেশকেই বলছে। তিনি বলেছেন, পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশ এবং উন্নত দেশগুলোর উচিত বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেয়ার দায়িত্ব পালন করা। বিবৃতিতে বলা হয়, মোমেন পরামর্শ দিয়ে বলেন, গভীর সমুদ্রে আটকা পড়া রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করতে এবং তাদের আশ্রয় দিতে যুক্তরাজ্যও একটি রয়্যাল শিপ পাঠাতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশঙ্কা করেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে, কারণ, তাদের হত্যা ও জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষকে তাদের জন্মভূমি থেকে বহিষ্কার করার জন্য সামরিক ক্র্যাকডাউন এখনো চলছে। মোমেন আফসোস করে বলেন, তবুও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারে বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিষয়গুলোতে সোচ্চার নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মধ্যে অনেক বাংলাদেশী প্রবাসী কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছে এবং তিনি মানবিক কারণে তাদের প্রতি ব্রিটিশদের সহায়তা কামনা করেন। বিবৃতিতে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যসহ উন্নত বিশ্বের মানবিক কারণে তাদের (এমইতে অভিবাসী কর্মীদের) চাকরি ধরে রাখতে সোচ্চার হওয়া উচিত। এই বিশ্বব্যাপী সঙ্কট চলাকালীন আরএমজি খাতকে একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে যেনো ব্রিটিশ ক্রেতারা বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যগুলোর জন্য তাদের অর্ডার বাতিল করা থেকে বিরত থাকে, সেজন্য মোমেন যুক্তরাজ্যেকে সহযোগিতারও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি করোনভাইরাস মহামারী পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে তৈরি পোশাকের সরবরাহের ধারা ঘুরে দাঁড় করানোর জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনেরও আহ্বান জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রীকে জানান, ব্রিটিশ সরকারের মারাত্মক করোনভাইরাস মোকাবেলায় সহায়তা করার জন্য উপহার হিসাবে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাজ্যে মেডিকেল সামগ্রী প্রেরণ করবে। ব্রিটিশ মন্ত্রীর আহ্বানটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মালয়েশিয়ার বাধার কারণে সেদেশে প্রবেশে করার ব্যর্থ চেষ্টার পরে আনুমানিক ৫০০ রোহিঙ্গা মহিলা, পুরুষ ও শিশুসহ দু’টি নৌকা সমুদ্রের ওপর ভাসছে। ইউএনএইচসিআর সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক অধিকার দল এবং সহায়তা সংস্থা পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানিবিহীন কয়েক সপ্তাহ ধরে সমুদ্রে ভাসমান মানুষকে উদ্ধারে ঢাকাসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ভূমিকার বিষয়ে সমালোচনা করে। মোমেন এর আগে, একটি বিদেশী টিভি চ্যানেলকে বলেন, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, মালয়েশিয়া পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পরে প্রায় দুই মাস ধরে অচল হয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে বাংলাদেশ ৩৯৬ জনকে উদ্ধার করেছে। মোমেন বলেন কেন বাংলাদেশ প্রতিবারই দায়িত্ব নেবে? বাংলাদেশ এরই মধ্যে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জায়গা দিয়েছে। আমরা এখন আমাদের উদারতার সীমা ছাড়িয়ে গেছি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সরকারগুলোকে সমুদ্রের রোহিঙ্গাদের জন্য তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেছে, শরণার্থীদের প্রতি তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে কোভিড-১৯ মহামারী একটি অজুহাত। গ্লোবাল রাইট ওয়াচডগের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক বিরাজ পট্টনায়েক এক বিবৃতিতে বলেছেন, একা এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুধু বাংলাদেশকে দায়েত্ব দেয়া যাবে না। অন্যেরাও তাদের নিজেদের দায়বদ্ধতাগুলো বহাল রাখতে হলে এই বিষয়টি ত্যাগ করার কোনো অজুহাত চলতে পারে না। নিউইয়র্ক ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিও) আরও বলেছে, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডসহ সব দেশেরই দায়িত্ব রয়েছে। গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ক্র্যাকডাউন ও গণহত্যার পরে বাংলাদেশ প্রায় ১১ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে কক্সবাজার জেলায়।

জাতীয় পাতার আরো খবর