সোমবার, আগস্ট ২, ২০২১
গ্রেফতার সাংবাদিকদের মুক্তি দাবি সম্পাদক পরিষদের
০৮মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া সাংবাদিকদের সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার ও তাদের বিরুদ্ধে রুজু করা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। এক বিবৃতিতে পরিষদ সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে যখন-তখন ও নির্বিচারে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (ডিএসএ) প্রয়োগের নিন্দা ও অ্যাক্টটি বাতিলের দাবি জানায়। সম্পাদক পরিষদের পক্ষে সভাপতি মাহফুজ আনাম ও মহাসচিব নঈম নিজাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে সাংবাদিক, এক কার্টুনিস্ট ও একজন লেখকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের বেশ কয়েকজনকে ডিএসএয় গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের আগে অভিযোগের ভিত্তি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করা হচ্ছে না। ভাবমূর্তির ক্ষতি করা হয়েছে, গুজব ছড়ানো হচ্ছে, অথবা সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে এ ধরনের যুক্তি মনে হয় সাংবাদিককে কারাগারে রাখার জন্য যথেষ্ট। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডিএসএর অধীনে যেকোনো অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেফতার ঘটাচ্ছে। ফটো সাংবাদিক কাজলকে সম্প্রতি হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা হয়। সাম্প্রতিক মামলাগুলোর অধিকাংশেরই নেপথ্যে ছিল আইন প্রণেতাদের, জেলা প্রশাসনের এবং ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের নিছক সমালোচনা। বিবৃতিতে বলা হয়, আইন প্রণেতারা ঐতিহ্যগতভাবে সব সময় মুক্ত গণমাধ্যম ও মুক্তচিন্তার পক্ষে থাকেন। দুঃখের বিষয়, তাদেরই কয়েকজন এখন মিডিয়ার বিরুদ্ধে ডিএসএ-চালিত ক্রিয়াকলাপের অংশ। বিদ্যমান মানহানি আইনের স্থলে ডিএসএর অধীনে মামলা দায়েরকে প্রাধান্য দেওয়ার মধ্যে ন্যায়বিচার চাওয়ার চেয়ে সাংবাদিকদের ভয় প্রদর্শন ও হয়রানির ইচ্ছারই ইঙ্গিত দেয়। দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরা এবং প্রশাসনের ব্যর্থতা দেখিয়ে দেওয়াটা গণমাধ্যমের ঐতিহ্যগত কর্তব্য। মহামারি ও এর ভয়ংকর পরিণতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সরকার যখন হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে, তখন এই কর্তব্যটি অনেক বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সম্পাদক পরিষদ ডিএসএর সূচনাকাল থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে এই আশঙ্কায় যে আইনটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের কাজে ব্যবহৃত হবে। আমাদের আশঙ্কাটি এখন গণমাধ্যমের কাছে দুঃস্বপ্ন-বাস্তবতা। বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের নামে সাম্প্রতিক মামলা করা ও তাদের গ্রেফতারকে আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সুস্পষ্ট হুমকি মনে করি- বাংলানিউজ
কবিগুরুর ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী
০৮মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদ্ঘাটন-সূর্যের মতন। রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন। উদয়দিগন্তে ওই শুভ্র শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে-চির-নূতনেরে দিল ডাক পঁচিশে বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হে নূতন গানে চির নতুনের মধ্যে দিয়ে তার নিজের পৃথিবীকে আগমনের শুভক্ষণকে তুলে ধরেছিলেন। আজ সেই পঁচিশে বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯তম জয়ন্তী। বাঙলির মানসপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সদাই বিরাজমান। তিনি আমাদের অহংকার। বাঙালির জীবনের যত ভাবনা, বৈচিত্র্য আছে, তার পুরোটাই লেখনী, সুর আর কাব্যে তুলে ধরেছেন কবিগুরু। আজ কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতায় জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জম্মগ্রহণ করেন তিনি। সার্বজনীন এ কবি বাংলাভাষা সাহিত্যকে নিয়ে গেছেন বিশ্ব দরবারে। তাইতো নাগরিক মধ্যবিত্ত মননে আজও বাজে কবির অনিন্দ্যসুন্দর সব গান। আনন্দ, বেদনা, কিংবা বিরহ, ভালোবাসা প্রতিটি প্রকাশেই বাংলা ভাষাভাষির প্রাণের আশ্রয় রবীন্দ্রনাথ। নিজের সময়ে থেকেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধারণ করেছিলেন অনাগত কালকে। তাইতো সব সৃষ্টি কর্মই এখনো সমান আবেদন নিয়ে মুগ্ধ শ্রোতারা। মধ্যযুগীয় উপনিবেশিক সাহিত্যের বেড়াজাল থেকে বাংলা সাহিত্যকে আধুনিকতায় মুক্তি দিয়েছিলেন কবিগুরু। বাংলা সাহিত্যের অনন্যপ্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখনীতে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা সাহিত্যের সব কটি ধারা। কবিগুরুর হাতেই মূলত সার্থক বাংলা ছোটগল্পের সূত্রপাত। এরপর গান-কবিতায় তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মূলত সে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন বাংলা সাহিত্যকে। রবীন্দ্রনাথ বাংলার কবি, বাঙালির কবি। তবে তিনি নিজেকে বিশ্বচরাচরের অংশ হিসেবে বিশ্বাস করতেন। বাঙালির উদ্দেশে তিনি বলেছেন, তুমি নিছক বাঙ্গালী নও, তুমি বিশ্বচরাচরের অংশ। সকলের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রেমের মধ্যে বাঁচতে বলেছেন রবীন্দ্রনাথ। সঙ্গে যুক্ত করতে বলেছেন- প্রাণীজগৎ, নিসর্গ, প্রকৃতিকে । শুধু তাই নয়, শিল্পের জগত, কল্পনার জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের বিস্তার ঘটাতে বলেছেন । পাশাপাশি কাজ করেছেন কৃষক ও জনমানবের জন্যও। পিতা দেবেন্দ্রনাথ দেশ ভ্রমণের নেশায় বছরের অধিকাংশ সময় কলকাতার বাইরে অতিবাহিত করতেন। তাই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা কেটেছিল ভৃত্যদের অনুশাসনে। শৈশবে তিনি কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নরম্যাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমি ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ছেলেবেলায় জোড়াসাঁকোর বাড়িতে অথবা বোলপুর ও পানিহাটির বাগানবাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ৮ বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশে তিনি ইংল্যান্ড যান। সেখানে তিনি ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৭৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। প্রায় দেড় বছর ইংল্যান্ডে কাটিয়ে ১৮৮০ সালে কোনো ডিগ্রি না নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। ১৮৮৩ সালের ভবতারিণীর সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহিত জীবনে ভবতারিণীর নামকরণ হয়েছিল মৃণালিনী দেবী। এর মধ্যেই চলতে থাকে তার সাহিত্যচর্চা। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও উড়িষ্যার জমিদারি তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ সপরিবারে শিলাইদহ ছেড়ে চলে আসেন বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৌঁছে দিয়েছেন বিকাশের চূড়ান্ত সোপানে। বাংলা ভাষার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলী রচনা করে ১৯১৩ সালে পান সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। যার অর্থ দিয়ে তিনি এ দেশে শাহজাদপুরের দরিদ্র কৃষকদের ঋণ দেয়ার উদ্দেশে প্রতিষ্ঠা করেন কৃষি ব্যাংক। ওপার বাংলায় গড়ে তোলেন শান্তিনিকেতন। আবার রাজপথে নেমে এসেছেন। করেছেন বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে। পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ছুড়ে ফেলেন ব্রিটিশ সরকারের দেয়া- নাইটহুড, উপাধিও। এদিকে চলমান মহামারি করোনার কারণে জনসমাগম এড়াতে এবছর দিনটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই কবিগুরুকে স্মরণ করতে সরকারিভাবে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। আজ (৮ মে) সকাল ১০টায় বিটিভিতে এটি দেখানো হবে। এটির সহযোগিতায় আছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। ধারণকৃত বিশেষ অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ ছায়ানটেও। প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা জানান, সকাল সাড়ে নয়টায় একটি ভিডিও অনুষ্ঠান প্রচার করবে তারা। ওই মহামানব আসে শিরোনামের এ আয়োজনটি গ্রন্থনা করেছেন ছায়ানটের সভাপতি সনজীদা খাতুন। দেখানো হবে ছায়ানটের ওয়েবসাইটে।
মন্ত্রিসভা ডিজিটালি বিচারকার্য সম্পন্নে আইন অনুমোদন করেছে
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য জিজিটাল মিডিয়ার সাহায্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে মন্ত্রিসভা আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে বিশেষ ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। পরে বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে ব্রিফ করেন। এছাড়া মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) আইন, ২০২০ এর খসড়া এবং দি ইনকাম ট্যাক্স (এমেনমেন্ড) অর্ডন্যান্স, ২০২০ এর খসড়ারও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশটি কার্যকর হলে বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় আসামিকে জেলখানায় রেখে, আইনজীবীকে বাসায় রেখে ও সাক্ষীকে অন্য জায়গায় রেখে ভিডিও কনফারেন্সিং ও অন্যান্য ডিজিটাল পদ্ধতি প্রয়োগ করে বিচারকার্য করা সম্ভব হবে। এটাই হলো এই অধ্যাদেশের মূল বিষয়। তিনি আরো বলেন, এখন আইন মন্ত্রণালয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করবে। আর পার্লামেন্ট বসার প্রথম দিনই এটি সেখানে উপস্থাপিত হবে। এই আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে দীর্ঘ সময় ধরে আদালত বন্ধ থাকায় মামলা জট যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি বিচারপ্রার্থীগণ বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সে অবস্থা দূর করার লক্ষ্যে এবং বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য ভিডিও কসফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম করার জন্যই আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু সংসদ চলছে না, কাজেই এটিকে পাস করা যাবে না। তাই এটিকে অধ্যাদেশ আকারে চূড়ান্ত করা হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে জরিমানা ও সুদ দিতে হবে না। এমন বিধান রেখে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) আইন, ২০২০-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনের একটা বিধান আছে, প্রত্যেক মাসের রিটার্নটা পরের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হয়। কিন্তু এই কোভিড পরিস্থিতিতে অধিকাংশ জায়গায় ব্যবস্থা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত বন্ধ থাকার ফলে এটা সম্ভব হচ্ছেনা । তিনি বলেন, আইনের বিধান আছে যদি ১৫ তারিখের মধ্যে না হয় তাহলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও প্রতি একদিনের জন্য ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এটা যেহেতু কারও কোনো ফল্ট না একটা প্রাকৃতিক বিষয় এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি আইনগুলোতেও অ্যাক্টস অব গড নামে একটা প্রভিশন আছে তাই রাজস্ব বোর্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও প্রতি একদিনের জন্য ২ শতাংশ করে সুদ অব্যাহতি দিতে পারবে। খন্দকার আনোয়ার বলেন, বোর্ড জনস্বার্থে জরিমানা ও সুদ পরিশোধ ছাড়া দাখিলপত্র পেশের সময়সীমা বাড়াতে পারবে, যেটা সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে হবে। একইসঙ্গে দি ইনকাম ট্যাক্স (এমেনমেন্ড) অর্ডন্যান্স,২০২০ এর খসড়ার চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা, যেখানে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ তে একটি নতুন ধারা (১৮৪ জি) সংযুক্ত করে সময় গণনার বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে, বলেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন,করোনাভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ লকডাউনমুক্ত এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনসাধারণকেও সহযোগিতার তাগিদ দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। তিনি বলেন,পার্টিকুলারলি সরকার কিছু কিছু জায়গায় ওপেন করে দিয়েছে। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এজেন্সিকে খুব স্ট্রিক্ট-ভিউতে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি জনসাধরণকে কো-অপারেশন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ, এ জিনিসটা বুঝতে হবে যে, এটা একটা মহামারি এবং কমিউনিটি সাইটটাকে খুব গুরুত্ব দিতে হবে। সচিব আরো বলেন,সোশ্যাল ডিসটেন্সিং যেটা আছে বা সেলফ কোয়ারেন্টিন আছে, এগুলো যদি জনগণ যথাযথভাবে মেনে চলার চেষ্টা না করেন তাহলে করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখা দুষ্কর হবে।
চট্টগ্রামের হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় করোনা চিকিৎসা হবেঃ তথ্যমন্ত্রী
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামের হলিক্রিসেন্ট হাসপাতাল এর ২০টি আইসিইউ ইউনিট সরকারি ব্যবস্থাপনায় করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে। এছাড়া সে হাসপাতালের আরো ৬০টি বেড আইসোলেশন এর জন্য থাকবে। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। আগামী ১০মে থেকে সীমিত আকারে দোকানপাট সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মার্কেট চলাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য মার্কেট বা দোকানের সামনে করোনায় মৃত্যু বিষয়ক সচেতনতামূলক ব্যানার ঝুলানো, মাস্ক পরিধান, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার প্রভৃতি সুরক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে বজায় রাখতে হবে। মার্কেটের প্রবেশপথে বাধ্যতামূলকভাবে ডিজইনফেকশাস চেম্বার স্থাপন করতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা সকলে এ চেম্বার দিয়ে প্রবেশ করবে। উপযুক্ত পরিবার যেন ত্রাণ পায় এবং যারা ত্রাণ চাইতে পারেনা বা লাইনে দাঁড়াতে পারেনা তারাও যেন পায় তার জন্য উপজেলা পর্যায়ে অধিক সমন্বয় করা হবে। লকডাউন করা বাড়িতে পুলিশ নিয়োজিত করতে হয় বিধায় আইন-শৃংখলা রক্ষার কাজে পুলিশের সংকট দেখা দিচ্ছে। এজন্য লকডাউনকৃত বাড়িতে আনসার ও স্বেচ্চাসেবক নিয়োজিত করা যাবে । চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন আয়োজিত করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা, ত্রাণ কার্যক্রম, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আইন-শৃংখলা বিষয়ে করণীয় নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আয়োজিত ২য় সমন্বয় সভায় আজ এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা সমন্বয়ক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন সভায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। সভাশেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং এর শুরুতে মন্ত্রী করোনা চ্যালেঞ্জের মূখে দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে একজন সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং একজন করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণ করেছে। এছাড়া ৬৩ জনের বেশি সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। গণমাধ্যম লকডাউন করা যায়না উল্লেখ করে তিনি ব্যক্তিগত সুরক্ষা বজায় রেখে কাজ করার জন্য সাংবাদিকদের আহ্বান জানান। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেক দেশের তুলনায় এখনো অনেক ভাল। আবার ঢাকা অঞ্চলের তুলনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতি ভাল। তবে সংক্রমণ বাড়ছে। সংক্রমণ মোকাবেলায় সরকার বসে নেই। জনগণের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। । তিনি বলেন, দেশের এক তৃতীয়াংশের বেশি মানুষকে ত্রাণের আওতায় আনা হয়েছে। অনেক দেশ তা পারেনি। বিগত ২ মাস লকডাউন থাকলেও কেউ না খেয়ে মারা যায়নি। সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কারনে এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, বিত্তশালী, সমাজসেবক সবাই এগিয়ে এসেছে। এটা আমাদের সংস্কৃতি। মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে করোনা টেস্ট প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে সেটিও চালু হবে । তিনি বলেন, চট্টগ্রামে দৈনিক অন্তত ৫ শত টেস্ট করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রিপোর্ট প্রাপ্তিতে সময়ক্ষেপণ বিষয়ক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, টেস্ট রিপোর্ট প্রাপ্তিতে সময় কমিয়ে ৪ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ সময় তিনি পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল জমা দেওয়া ব্যক্তিকে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে থাকার আহ্বান জানান। ওয়াসিকা আয়শা খান এমপি, বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, বন্দর চেয়ারম্যান, ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, বিআইটিআইডি পরিচালক, সিভিল সার্জন, বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, চমেক পরিচালক, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ডিজিটাল আইনে মিনহাজ ও দিদারুল কারাগারে
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ডিজিটাল আইনে এবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমনকে (৫২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগ এনে বুধবার রাতে বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিএলআই সিকিউরিটিজের কর্নধার মিনহাজ মান্নান ডিএসই'র একজন পরিচালক। তিনি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির খালাত ভাই। মিনহাজের ভাই জুলহাজ মান্নানকে ২০১৬ সালে জঙ্গিরা হত্যা করেছিল। জুলহাজ মান্নান সমকামী অধিকার বিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এদিকে গ্রেপ্তার হত্তয়া রাষ্ট্রচিন্তা নামে সংগঠেনর সদস্য দিদারুল ভূঁইয়াকে রমনা থানায় সোপর্দ করেছে RAB। এর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে RAB পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। ওদিকে মিনহাজ মান্নান ইমন ও রাষ্ট্রচিন্তার ঢাকার সমন্বয়ক দিদারুল ভুইয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জু করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আর তাদের সাত দিনের রিমান্ড বিষয়ক শুনানি সাধারণ ছুটির পর পুর্ণাঙ্গ মামলার সিডিসহ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আদালত। এর আগে গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই থানার উপপরিদর্শক জামশেদুল ইসলাম। এইক সঙ্গে তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এছাড়া তাদের সাতদিনের রিমান্ড শুনানি সাধারণ ছুটির পর পুর্ণাঙ্গ মামলার সিডিসহ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান। এ বিষয়ে রমনা থানার ত্তসি মনিরুল ইসলাম জানান, ঢাকার বনানী থেকে মিনহাজকে গ্রেপ্তার করে RAB। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার রাতে এই মামলায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও ব্যবসায়ী মুশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামীদের মধ্যে জার্মানিতে থাকা ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, সুইডেনে থাকা সাংবাদিক তাসনিম খলিল ও সাংবাদিক শাহেদ আলমও রয়েছেন।মানবজমিন। এদিকে গ্রেপ্তার হত্তয়া রাষ্ট্রচিন্তা নামে সংগঠেনর সদস্য দিদারুল ভূঁইয়াকে রমনা থানায় সোপর্দ করেছে RAB। RAB ৩ এর সহকারী পুলিশ সুপার (অপস) আবু জাফর জানান, রমনা থানায় দায়ের করা একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের পর রমনা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
পাঁচ সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি দাবি আইএফজের
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মে মাসের প্রথম ৫ দিনে বহুল বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫ সাংবাদিককে। সংবাদ প্রকাশ ও ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার কারণে এসব সাংবাদিককে গ্রেপ্তারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে)। একই সঙ্গে তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তি ও তাদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বেলজিয়ামভিত্তিক আইএফজে এক বিবৃতিতে বলেছে, ফেসবুকের পোস্টে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য মুয়াজ্জম হোসেন রতন সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে নিজের বাসভবন থেকে ৫ই মে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন তালুকদারকে। তিনি হাওরাঞ্চলের কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও এসএটিভির জেলা প্রতিনিধি। ঢাকা ট্রিবিউনের মতে, মাহতাবউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলায় ফেসবুকের পোস্ট উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই পোস্টের মাধ্যমে এমপি রতনের মানহানি হয়েছে। সরকারি অর্থ আত্মসাতে জড়িত থাকার অভিযোগে এই এমপিকে এ বছর শুরুর দিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা মুক্ত সাংবাদিকতা দিবসে একটি পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলকে গ্রেপ্তারের কয়েকদিন পরেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে মাহতাব উদ্দিনকে।মানবজমিন। সংবাদ প্রকাশের কারণে ১লা মে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দৈনিক গ্রামীণ দর্পণের বার্তা সম্পাদক রমজান আলী প্রামাণিক, স্টাফ রিপোর্টার শান্তা বণিক এবং নরসিংদী প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক খন্দকার শাহিনকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি কখনো সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। এর ফলে দাবি করা হয়, তারা যে উদ্ধৃতি দিয়েছেন তা বানোয়াট। ঘোড়াশালে এক যুবককে পুলিশ পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ নিয়ে ওই রিপোর্ট করা হয়েছিল। আইএফজে আরো বলেছে, ২০১৮ সাল থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে কমপক্ষে ১০০০ মামলা করা হয়েছে। এর বেশির ভাগই ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে। তারা আরো বলেছে, ২০২০ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট সরকারকে এই আইনের কিছু বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে বলে। বিতর্কিত এই আইনটি কার্যকর হয় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে। বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) বলেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হামলার কড়া নিন্দা জানাই আমরা। সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই। ওদিকে আইএফজে বলেছে, গ্রেপ্তার করা ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় আইএফজে। এর মধ্য দিয়ে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে তারা। এ ছাড়া অনলাইন নিয়ন্ত্রণের যেকোনো প্রচেষ্টা, সাংবাদিকতাকে ক্রিমিনালাইজ করা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অবস্থান আইএফজের। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধনের আহ্বান জানায় এ সংগঠন।
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭০৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭০৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ৪২৫ জন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৬ হাজার ৩৮২টি। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় ৫ হাজার ৮৬৭টি। পরীক্ষা করা নমুনার মধ্যে ৭০৬ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, এ মুহূর্তে মৃত্যুর তথ্য দিতে পারছি না। প্রেস রিলিজে দিয়ে দেবো। তিনি আরো বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৩০ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট এক হাজার ৯১০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। প্রসঙ্গত, গত ৮ই মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। শুরুর দিকে রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও এখন সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। ভাইরাসটি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। চীনের পর ইরান, কোরিয়াসহ বেশকিছু দেশে সংক্রমণ ছড়ালেও সবচেয়ে বেশি করোনা আঘাত হানে ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের দেশগুলোতে। তবে এ মুহূর্তে তাণ্ডব চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ২৩৮ জন মানুষ। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ জন । অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ১৩ লাখ ৬ হাজার ৪৮৩ জন।
করোনা পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার আশঙ্কা ওবায়দুল কাদেরের
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্হিতি আগামীতে আরও কঠিন হবার আশঙ্কা রয়েছে এমন শঙ্কা প্রকাশ করে দলের সকল নেতাকর্মীদের মানসিক প্রস্তুতি রাখার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি আজ তাঁর সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে বলেন, আওয়ামী লীগ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণের পাশে আছে। এই দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও জনগণের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন যা দেশে বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। বর্তমানে করোনা আক্রান্ত ২১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৭তম। সামনে আরও কঠিন সময় আসছে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই চ্যালেঞ্জিং সময় অতিক্রম করতে হবে আমাদের সাহসিকতার সঙ্গে। তাই আমি আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের মানসিক প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানাচ্ছি এই দুর্যোগ মোকাবেলার। দলের সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যগণ আওয়ামী লীগের পক্ষে সারাদেশে ৯০ লাখ ২৫ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা এবং নগদ ৮ কোটি ৬২ লাখ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এসব কর্মসূচি তৃণমূল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানান। এছাড়া ২০০৮ সালের ৭ মে ততকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসা নিয়েও কথা বলেন কাদের। এর আগে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির ত্রাণ ও সমাজকল্যান উপকমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগনের মাঝে প্রতিনিধির মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী,উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ উপ কমিটির নেতারা।
একমাস পর তিন মন্ত্রী নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে পুরো দেশ যখন স্থবির। তখন দীর্ঘ একমাস পর অনুষ্ঠিত হলো মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠক। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে গণভবনে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে নিরাপত্তা বজায় রাখতে মাত্র তিনজন মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয় এই বৈঠক। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে বৈঠকে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম. মুস্তফা কামাল। এর আগে, করোনা মহামারীর পরিস্থিতিতে গেল ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল দেশের শীর্ষস্থানীয় এই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক। সামাজিক সংক্রমণ রোধে দেশে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত চলছে সাধারণ ছুটি। দেশে চলমান করোনা মহামারী পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি, এই বৈঠক থেকে সরকারের নেয়া সিদ্ধান্ত জানা যাবে দুপুর নাগাদ। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর