মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৯, ২০২১
করোনা আক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদের উপসচিব
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখায় দায়িত্বরত অবস্থায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগে যে কয়টি অধিশাখা মূল দায়িত্ব পালন করে থাকে, সমন্বয় অধিশাখা তার মধ্যে অন্যতম। এ কারণে দেশব্যাপী লকডাউন পরিস্থিতি চলাকালে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন ওয়াদুদ চৌধুরী। বাসা এবং অফিস দুই জায়গা থেকেই সক্রিয় ছিলেন তিনি। করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই ছুটিতে রয়েছেন আব্দুল ওয়াদুদ। ওয়াদুদ চৌধুরী আজ সোমবার সকালের কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনাভাইরাস পজেটিভ হলেও আমি আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আপাতত তেমন কোনো সমস্যা নেই। তিনি বলেন, আমার মতো আরো যাঁরা আক্রান্ত আছেন তাঁদের সবাই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন এই কামনা করি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। বিশেষ করে মাঠ প্রশাসনের যারা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তাঁদের জন্যও সবার কাছে দোয়া চান তিনি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বিভাগের একজন লিফটম্যানও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর নাম রেজাউল ইসলাম। রেজাউলের করোনা শনাক্ত হলেও তেমন কোনো লক্ষণ নেই। তিনিও ছুটিতে আছেন। জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যারা লকডাউন চলাকালে নিয়মিত অফিস করেছেন তাঁদের প্রায় সবাইরই করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লিখিত দুইজন শনাক্ত হয়েছেন।
আজ থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। করোনা মহামারির জন্য ২ মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আজ সোমবার সকাল থেকে দেশের ৪টি এয়ারলাইন্স কোম্পানি তাদের ফ্লাইট চালু করে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের চারটি এয়ারলাইন্স কোম্পানি দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে। যার গড় হিসাব করলে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতিদিন আগে ১৪০টির মতো ফ্লাইট চলাচল করতো। তবে গত ২০শে মার্চ তিন মাসের জন্য ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। তাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। মফিদুর রহমান জানান, আজ অভ্যন্তরীণ রুটে মোট ২৪টি ফ্লাইট ছিলো। যার মধ্যে ইউএসবাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, বাংলাদেশ বিমানের ৬টি ও নভোএয়ারের ৮টি। কিন্তু বাংলাদেশ বিমান যাত্রী না পাওয়ায় ইতিমধ্যে ৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এছাড়া হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রথম ফ্লাইট যায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ২৮ জন যাত্রী নিয়ে। ফ্লাইট চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ বিমানের ডিজিএম তাহেরা খন্দকার বলেন, আমাদের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুর রুটে অর্থাৎ ৩টি রুটে ৬টি ফ্লাইট ছিলো। কিন্তু যাত্রী না পাওয়ায় চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ ৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে সকালে সৈয়দপুর রুটে ফ্লাইট গিয়েছে, বিকেলের ফ্লাইটও যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব খোকনের বাবা আর নেই
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনের বাবা আনোয়ার হোসেন (৭৯) মারা গেছেন। সোমবার (১ জুন) গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তারাগঞ্জ গ্রামে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন আনোয়ার হোসেন। আশরাফুল আলম খোকনের বাবার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।
গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় (সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ) সচিব ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানকে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনিরুজ্জামান লিংকন জনস্বার্থে এ নোটিশটি পাঠিয়েছেন। নোটিশে বলা হয়েছে, করোনার কারণে মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অধিকাংশ মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আর সরকার সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে অসহায় এবং দুস্থ মানুষের করোনাকালীন বিপর্যয় রোধের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই লক্ষ্যে বিভিন্নভাবে খাদ্য সহায়তা এবং নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কর্মহীন এবং বেকার নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষ এবং অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জীবন ও জীবিকার বিষয়টি বিবেচনা করে এবং অর্থনীতিকে সচল রাখতে সরকার সীমিত পরিসরে সরকারি, বেসরকারি অফিস সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। অথচ সেই করোনা পরিস্থিতিতে এসে সরকারের জাতীয় সড়ক এবং মহাসড়ক বিভাগ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বাস-মিনিবাসের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। যা লোকজনকে আরও বেশি বিপর্যস্থ ও হতাশাগ্রস্থ করেছে। এতে আরও বলা হয়, যেহেতু বর্তমানে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম সর্বনিম্ন সেহেতু অতিরিক্ত ভাড়া না বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে থেকে কম মূল্যে তেল সংগ্রহ করে বিষয়টি সমন্বয় করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন স্থগিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রসঙ্গত,রোববার (৩১ মে) করোনাকালীন সময়ে গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করলেও তা কমিয়ে ৬০ শতাংশ করে মন্ত্রণালয়।
শুরু হয়েছে বাস চলাচল
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিলো গণপরিবহন। লকডাউন তুলে দেয়ায় আজ থেকে শুরু হয়েছে বাস চলাচল। ইতিমধ্যে সরকার ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। কিন্তু সরকার নির্ধারিত এ ভাড়াও মানছেন না কাউন্টারগুলো। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রংপুর থেকে ঢাকায় বাসভাড়া ৫০০ টাকা। করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকার নির্ধারিত অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করলে বর্মান ভাড়া দাঁড়ায় ৮০০ টাকায়। কিন্তু তারা এ নিয়মও মানছেন না। জনপ্রতি ভাড়া রাখছেন ১০০০ হাজার টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাউন্টার থেকে দেয়া টিকিটে ৯০০ টাকা লেখা থাকলেও আরো ১০০ টাকা অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে। জানতে চাইলে কাউন্টারগুলো থেকে বলা হয়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ১০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন তারা। এছাড়াও টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে জটলা পাকিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তবে নিয়ম অনুযায়ী একসিট পরপর যাত্রী নিচ্ছেন তারা।
চাল আত্মসাতের অভিযোগে আরো ২ জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত
৩১মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও চাল আত্মসাতের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম নেহার এবং শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার আরশীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দোহা (ড. রতন)-কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। রোববার (৩১ মে) স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হবার পর এ নিয়ে মোট ৭৪ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এদের মধ্যে ২৪ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ৪৫ জন ইউপি সদস্য, ১ জন জেলা পরিষদ সদস্য, ৩ জন পৌর কাউন্সিলর এবং ১ জন উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম নেহার এর বিরুদ্ধে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র-নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে বিশেষ ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে অনিয়ম করে নিজের পরিবারের স্বচ্ছল সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনসহ ১৬ ব্যক্তির নাম ওএমএসের ভোক্তা তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণ এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) অনুযায়ী তাকে স্বীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার আরশীনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দোহা (ড. রতন) মৎস্যজীবীদের ভিজিএফের ৩৫ বস্তা চাল আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন এবং শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন। কাজেই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাকে স্বীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার আরশীনগর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পূর্বে এ বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য মীর সালমান রহমান ডালিম এবং দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলাধীন ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মতিউর রহমান (মতি)-কে সাময়িকভাবে বরখাস্তকরণের প্রজ্ঞাপনও আজ রোববার জারি করা হয়েছে।
খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভাবে না বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
৩১মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভাবেনা, সেজন্যই তারা সবকিছু বন্ধ করে দেয়ার মতো কথা বলতে পারে। রোববার (৩১ মে) দুপুরে রাজধানীতে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে লকডাউন খোলার বিরুদ্ধে বিএনপির বক্তব্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিদিন নানা কথা বলছেন। বিএনপির বক্তব্যে মনে হয়, তাদের চিন্তাধারা একপেশে। দেশের কোটি কোটি খেটে খাওয়া মানুষের কথা তারা মোটেও চিন্তা করে না। প্রতিদিনের আয়ের ওপরই যে কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা চলে, তাদের মুখে আহার ওঠে, সেই কথাটা মোটেই তারা চিন্তা করে না। সেজন্যই তারা সবকিছু একেবারে বন্ধ করে দেয়ার মতো কথা বলতে পারে, কারফিউ দেয়ার কথাও মাঝেমধ্যে তারা বলে। আমাদের দেশ একটি খেটে খাওয়া মানুষের দেশ, এখানে কোটি কোটি মানুষ তাদের প্রতিদিনের উপার্জনের ওপর নির্ভর করে, তাদের কথা মাথায় রেখেই সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এগুচ্ছে,বলেন ড. হাছান। জীবনরক্ষার জন্য জীবিকাকেও রক্ষা করতে হয় এবং সরকারকে জীবন ও জীবিকা দুটিই রক্ষার জন্য কাজ করতে হয় উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সেকারণেই পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যে মৃত্যুহার ১৪ শতাংশের বেশি, সেখানে বেশ আগেই সমস্ত কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। বেলজিয়ামে মৃত্যুর হার ১৬ শতাংশের বেশি, সেখানে গত সপ্তাহে সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে। ইটালি, স্পেনে কি বিপর্যস্ত অবস্থা ছিল! সেখানেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানে বেশ কদিন আগে সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে। ভারতে দু সপ্তাহের বেশি সময় আগে ট্রেনসহ নানা গণপরিবহন চালু করা হয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। আর আমাদের দেশে সরকারের সঠিক পদক্ষেপের ফলে মৃত্যুর হার ১.৩৬ শতাংশ যা ভারত, পাকিস্তান ও ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে অনেক কম। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশেও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার জন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২৬ মার্চ থেকে ঘোষিত সাধারণ ছুটি আজকের পর আর প্রলম্বিত করেননি। কারণ আমাদের দেশ একটি খেটে খাওয়া মানুষের দেশ। এখানে মাসের পর মাস সবকিছু বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। যেখানে ইউরোপের উন্নত দেশগুলো পারেনি, সেখানে প্রতিদিন এখনও বহুমানুষের মৃত্যু হচ্ছে, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, তারপরও তারা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। একইসাথে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে ড. হাছান বলেন, তবে এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করা কিম্বা ছুটি প্রলম্বিত না করার মানে এই নয় যে, আমরা করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে যেভাবে চলতাম, সেভাবে চলবো। এখন অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে, সব ধরণের শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক মেলামেশা পরিহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমার সুরক্ষা আমার হাতে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র প্রয়োজনেই আমরা ঘর থেকে বের হবো ও কাজ করবো, অপ্রয়োজনীয় কোনো কিছু করবো না, তাহলেই আমরা আমাদেরকে সুরক্ষা দিতে পারবো।
করোনায় দেশে সর্বোচ্চ ৪০ জনের মৃত্যু
৩১মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও নতুন শনাক্তের রেকর্ড গড়েছে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ আরও ৪০ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৫০ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হিসেবে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৫৪৫ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪৭ হাজার ১৫৩। রোববার (২৯ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন পড়েন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। নতুন যুক্ত দুটিসহ মোট ৫২টি আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ২২৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো তিন লাখ আট হাজার ৯৩০টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরও দুই হাজার ৫৪৫ জনের দেহে। এটি এ যাবতকালের সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। ফলে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ হাজার ১৫৩ জন। ডা. নাসিমা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪০ জনের। এটি এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির রেকর্ড। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৫০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৪০৬ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল নয় হাজার ৭৮১ জনে। ডা. নাসিমা করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান বুলেটিনে। এদিকে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল পর্যন্ত বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনার শিকার এখন পর্যন্ত ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৩ জন মানুষ। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৪০ জন। নতুন করে প্রাণ গেছে ৪ হাজার ৮৪ জনের। এ নিয়ে করোনারাঘাতে পৃথিবী ছেড়েছেন বিশ্বের ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫০৬ জন মানুষ। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭৭ জন। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হন ৮ মার্চ এবং এ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ধাপে ধাপে খোলা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী
৩১মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছন, আত্মবিশ্বাস নিয়ে মহামারি করোনাভাইরাস দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ধাপে ধাপে খোলা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রোববার (৩১ মে) সকাল ১১টায় গণবভনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ফলের অনুলিপি তুলে দেয়া হয়। সেখানে ফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সকাল ১১ টায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষাবোর্ডের সার্ভার থেকে এসএমএসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফল জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। মোবাইলে ফল পেতে SSC লিখে একটি স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২০ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রি-রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। আর এতে খরচ হবে ২ টাকা ৫৫ পয়সা। ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রি-রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে ফলাফল পৌঁছে যাচ্ছে। এছাড়া নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে। ফল প্রকাশের দিন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস বন্ধ রাখতে বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। গত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হলেও এবার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে তা সম্ভব হয়নি। আর প্রতিবার ফলাফল নিয়ে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু এবার তা হয় নি।

জাতীয় পাতার আরো খবর