সোমবার, আগস্ট ২, ২০২১
বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে: রাষ্ট্রপতি
২০,মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের রফতানি পণ্যেও এসেছে বহুমাত্রিকতা। বিশ্ববাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে পণ্যের সঠিক পরিমাপ ও মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে বিএসটিআইসহ পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও ক্রমশ সম্পসারিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মান সংস্থাসমূহের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণে সকলে সচেষ্ট থাকবে-এ প্রত্যাশা করি। বৃহস্পতিবার (২০ মে) বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস ২০২১ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উদযাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। ওজন ও পরিমাপের সকল ক্ষেত্রে এর সঠিকতা নিশ্চিতকরণ ও পরিমাপ বিজ্ঞানের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এ দিবস উদযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, ১৮৭৫ সালের ২০ মে ফ্রান্সের প্যারিসে ১৭ জাতি কর্তৃক স্বাক্ষরিত পরিমাপ সম্পর্কিত মিটার কনভেনশন-কে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছর এদিনে বিশ্বব্যাপী মেট্রোলজি দিবস পালন করা হয়। ক্রমবিকাশমান সামাজিক চাহিদা পূরণে নিত্য নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং তার ব্যবহারের প্রতিটি পর্যায়ে সঠিক পরিমাপের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে রোগ-ব্যাধি নির্ণয়, অণুজীব সংক্রান্ত গবেষণাসহ চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যবহার হয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতি বলেন, এসব যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসার সামগ্রীর উৎপাদন ও ব্যবহারের প্রতিটি পর্যায়ে এর সর্বোত্তম মান ও সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ প্রেক্ষিতে এ বছর বিশ্ব মেট্রোলজি দিবসের প্রতিপাদ্য Measurement for Health অর্থাৎ সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিমাপ যথার্থ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
১০ কার্যদিবস চলতে পারে বাজেট অধিবেশন
২০,মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতির কারণে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে। আগামী ২ জুন এই অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সেটা ১০ কার্য দিবসের মতো চলতে পারে। এবারের অধিবেশনেও প্রতিদিন সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি সীমিত রাখা হবে। এর আগে প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে করোনা পরীক্ষা করানো হবে। পরীক্ষার পর কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে অংশ নিতে হবে। আগামী ২ জুন বিকেল ৫টায় একাদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশন জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হবে। পর দিন ৩ জুন আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ বাজেট উপস্থাপন করবেন। এর পর বাজেটের ওপর সংসদ সদস্যদের আলোচনা শুরু হবে। সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর নতুন অর্থবছর শুরুর আগে অর্থাৎ ৩০ জুনের মধ্যে তা পাসের বিধান রয়েছে। সেই অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে বাজেট পাসের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংসদের এ অধিবেশন সর্বোচ্চ ১০ কার্য দিবসের মধ্যে শেষ হবে। বাজেট উপস্থাপনের পর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর জাতীয় সংসদ সদস্যদের আলোচনা এই সময়ে মধ্যে শেষ করার জন্য সংক্ষিপ্ত করা হবে আলোচনার জন্য প্রত্যেক সদস্যের নির্ধারিত সময়। অধিবেশন শুরুর পর মাঝে মাঝে বিরতি দেওয়া হবে। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দুই তিন দিন চলার পর আবার চার পাঁচ দিন অধিবেশনে বিরতি দেওয়া হবে। এভাবে কয়েক দফায় বিরতি দিয়ে অধিবেশন চালানো হবে। সাধারণত বাজেট অধিবেশন শুরুর পর শুধু শুক্র ও শনিবার সপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতি দিনই টানা অধিবেশন চলতে থাকে। কোনো সময় দুই বেলা অধিবেশন চালানো হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরও বাজেট অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করা হয়। একই পরিস্থিতির কারণে এবারও অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে। এদিকে আগামী ২৯ মে থেকে সংসদ সদস্যদের কোভিড টেস্ট করা শুরু হবে। জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে পর্যায়ক্রমে এমপিদের কোভিড টেস্ট করা হবে। প্রতি দিনের জন্য তালিকা করে আগের দিন সংসদ সচিবালয় থেকে এমপিদের ফোন করে করোনা টেস্টের তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিদিন অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিও সীমিত করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী দূরত্ব বজায় রেখে যাতে অধিবেশন কক্ষে সদস্যদের আসনে বসা নিশ্চিত করা যায় সে জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতি দিন ৭০ থেকে ৮০ জন সংসদ সদস্য যাতে অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে পারেন সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগে থেকে তালিকা তৈরি করে সেই অনুযায়ী সংসদ সদস্যদেরকে জানিয়ে দেওয়া হবে। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর গত বাজেট অধিবেশনসহ অন্য অধিবেশনগুলোও এভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সংক্ষিপ্তভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুর ই আলম চৌধুরী লিটন বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজেট অধিবেশনটিও সংক্ষিপ্ত করা হবে। অধিবেশন ১০ থেকে ১২ কার্যদিবসের মতো চলতে পারে। সংসদ সদস্যরা করোনা টেস্ট করে নেগেটিভ হলে অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন। প্রতি দিন ৭০ থেকে ৮০ সংসদ সদস্য যাতে অধিবেশনে উপস্থিত থাকেন সে ব্যবস্থা করা হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন
১৯,মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কিম বু-কিয়ামকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল এক অভিনন্দন বার্তায় বলেন, তিনি আশাবাদী যে কিম তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে সফলভাবে তার দেশকে বৃহত্তর শান্তি ও সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবেন। শেখ হাসিনা কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং বহুমুখী সম্পর্কের গভীরতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরো জোরদার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি আমাদের বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার যে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে তাকে বৃহত্তর বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং কারিগরি সহযোগিতার জন্য দুই দেশের জনগণের স্বার্থে কাজে লাগানো যেতে পারে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অবকাঠামো এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে কোরিয়ার বিনিয়োগকে উত্সাহিত করেন। তিনি জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের সহযোগিতায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিষয়ে কোরিয়া সরকারের সঙ্গে তার সরকারের নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে দ্রুত, নিরাপদ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে এ অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্যই এটি জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঝুলে থাকা সমস্যাটি এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের কারণ হতে পারে। তিনি বিভিন্ন ফোরামে বিশেষ করে জাতিসংঘে কোরিয়ার অব্যাহত সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন। তিনি সুবিধাজনক সময়ে কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান।
রোজিনা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা সাংবাদিকদের
১৯,মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেফতারের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন সাংবাদিকরা। তারা হেনস্তাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করে রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিকরা। বুধবার (১৯ মে) সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নির্যাতন ও গ্রেফতারের ঘটনায় ডিআরইউর প্রতিবাদ সমাবেশে এসব দাবি জানান সাংবাদিকরা। প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, প্রশাসনের দুর্নীতির খবর প্রকাশ করে সাংবাদিকরা চক্ষুশূল হয়েছেন। ফলে রোজিনা ইসলামের ওপর হামলা। রোজিনার মামলা যদি প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত যাব আমরা। ডিআরইউ সভাপতি মোরসালিন নোমানি বলেন, রোজিনাকাণ্ডে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অরুচিকর বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা এই বক্তব্য প্রত্যাহার চাই। আমরা আরও দেখেছি- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি করেছে। এটা হাস্যকর। যারা রোজিনার ওপর হামলা করেছে তারাই আবার তদন্ত করবে, আমরা এটা মানি না। এই তদন্ত কমিটি আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের হত্যাচেষ্টায় তার পরিবার, তার কর্মস্থল না করলেও ডিআরইউ হত্যাচেষ্টা মামলা করবে। ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, আমরা পেশাদার সাংবাদিক। আমরা রাস্তায় আন্দোলন করতে চাই না। দ্রুত রোজিনা ইসলামের মুক্তি চাই।
সাংবাদিকদের ধৈর্য ধরতে বললেন ওবায়দুল কাদের
১৯,মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ইস্যুতে সাংবাদিক সমাজের প্রতি ধৈর্য ধারণ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৪ দশকে মানবতার আলোকবর্তিকা দেশরত্ন শেখ হাসিনা শীর্ষক আলোচনা সভা এবং ৪টি হাসপাতালে ৪টি হাই-ফ্লো নজেল ক্যানোলা ও ৪টি অটিস্টিক সংগঠনে শিক্ষা সহায়তা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ওবায়দুল কাদের ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। ওবায়দুল কাদের বলেন, যেহেতু মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি বিচারাধীন। তাই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ন্যায়বিচার পাবেন। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের প্রতি কোনো অবিচার হলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ঘটনার দিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কেউ বিষয়টি সাংবাদিকদের ব্রিফ করলে এমন ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি নাও হতে পারতো বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: হানিফ
১৯,মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকে রেখে হেনস্তা এবং মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি নিন্দা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে দেশ-জাতি উপকৃত হবে। মঙ্গলবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ফেসবুকে এক পোস্টে এ কথা লেখেন তিনি। পোস্টের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব আলম হানিফ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার নিন্দা জানান। মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি বিশেষের কারণে ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এটা কোনোভাবে কাম্য নয়। আমরা চাই প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় স্বচ্ছভাবে কাজ করুক, প্রধানমন্ত্রীর যে চিন্তা চেতনা দেশের জন্য যে পরিকল্পনা সেটা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাক। দেশ এগিয়ে যাক, সরকারের ইমেজ আরও উজ্জ্বল হোক। মাহবুব আলম হানিফ প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে সচিবালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে সেটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক,অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। এই ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ বলেন, সংবাদমাধ্যম হচ্ছে সমাজের দর্পণ। এর মাধ্যমেই জনগণ দেশের সঠিক তথ্য উপাত্ত খুঁজে পায়। এটাও সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। সরকার ও সংবাদমাধ্যম সুসম্পর্ক থাকাটায় বাঞ্ছনীয়। কিন্তু কখনো কখনো দেখা যায়, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কারণেই এই জায়গাতে ব্যাঘাত ঘটে। তাই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে দেশ-জাতি উপকৃত হবে। মাহবুব উল আলম হানিফ আরও বলেন,করোনাকালে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবিলা করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। উনি কখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না, তিনি শক্ত অবস্থানে আছেন। ইতিমধ্যে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত ৫/৭ বছরে ক্ষমতাসীন দলের অনেক সাংসদের বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রোজিনা ইসলামকে হেনস্থাকারীদের বিচার দাবি ৫৭ বিশিষ্ট নাগরিকের
১৯,মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও তাকে হেনস্থার নিন্দা জানিয়েছেন ৫৭ বিশিষ্ট নাগরিক। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ করেছি গত ১৭ই মে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনে সচিবালয়ে গেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা তাকে কয়েক ঘন্টা আটকে রেখে, শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করে পুলিশের কাছে সোপদর্ করে। পুলিশের কাছে আটক থাকা অবস্থাতেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রনালয়ের একজন কর্মকর্তা রোজিনার বিরুদ্ধে পেনাল কোড ও কুখ্যাত অফিসিয়াল সিক্রেটস এ্যাক্ট-এর কিছু নিবর্তনমূলক ধারায় মামলা দায়ের করে। মানুষের স্বাস্থ্যর অধিকার নিয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে যেয়ে রোজিনা জনগণের অর্থে পরিচালিত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের হাতে নিপীড়িত হয়ে জেলে অবস্থান করছে। এ অবস্থাকে আমরা দুঃসহ ও চরম অগ্রহণযোগ্য মনে করছি। বিবৃতিদাতারা হলেন, শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, রাশেদা কে. চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন খান, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মানবাধিকার কর্মী হামিদা হোসেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, নিজেরা করি-র সমন্বয়কারী খুশি কবীর, সুজনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিক, সারা হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, অধ্যাপক আলী রীয়াজ, অধ্যাপক স্বপন আদনান, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার, ড. আসিফ নজরুল, ড. তানজিম উদ্দিন খান, রোবায়েত ফেরদৌস, ড. সামিনা লুৎফা, ড. শাহনাজ হুদা, ড. সুমাইয়া খায়ের, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, মির্জা তাসলিমা সুলতানা, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, ড. নাসরিন খন্দকার ও সায়েমা খাতুন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম ও ড. সাদাফ নূর, গবেষক ড. নোভা আহমেদ ও রোজিনা বেগম, সাংবাদিক ড. সায়দিয়া গুলরুখ, সাধনার আর্টিস্টিক ডিরেক্টর লুবনা মরিয়ম, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথের ডা. নায়লা জেড খান, আইনজীবী তবারক হোসেইন, মানবাধিকার কর্মী শারমীন মুরশিদ, হানা শামস আহমেদ, সঞ্জীব দ্রং, পল্লব চাকমা, ড. ফষ্টিনা পেরেরা, অরূপ রাহী, বিনা ডি কস্টা, রেজাউর রহমান লেলিন, শিরিন প হক, নূর খান লিটন, রেহনুমা আহমেদ, সুব্রত চৌধুরী, এডভোকেট সালমা আলী, অধ্যাপিকা পারভীন হাসান, অধ্যাপিকা ফিরদৌস আজিম, অধ্যাপক আকমল হোসেন, কবির কিশোর ও ব্যারিষ্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। প্রথম আলোর সিনিয়র প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম একজন দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। তার প্রতিবেদন থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যঅধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন অফিসের দায়িত্বহীনতা, দূনীতি ও অনিয়ম সম্পর্কে আমরা জেনেছি, এজন্য তিনি সরকারি ও বেসরকারিভাবে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে তার বিভিন্ন প্রতিবেদন স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সংঘটিত উল্লেখিত ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এদেশের স্বাধীন সাংবাদিকতা, মানবাধিকার এবং নাগরিকের মানবিক মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার চর্চা করতে গিয়ে এবং বিভিন্ন দূর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করে রোজিনা ইসলাম যাদের রোষানলে পড়েছে, তারাই আজ রোজিনা ইসলাম তথা এদেশে সৎ সাংবাদিকতার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে তাকে এভাবে হেনস্তা করেছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা সাজিয়েছে। অতীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সীমাহীন দুর্নীতির সংবাদের আলোকে আমরা এও মনে করি যে সরকারী নথির প্রকাশ অনেক ক্ষেত্রে বরং জনস্বার্থের জন্য অনেক বেশী প্রয়োজনীয় এবং এর বিরুদ্ধে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোন আইন বা আইনী ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। বিশেষ করে মহামারীর প্রেক্ষাপটে এইসব তথ্য জানার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। ঔপনিবেশিক আইনের দোহাই দিয়ে, মনগড়া অভিযোগের ভিত্তিতে সে অধিকারে বাধা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। আমরা রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা , হয়রানি ও গ্রেপ্তার করার সকল ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার, তার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবী করছি। আমরা একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আটক থাকা অবস্থায় রোজিনার উপর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের শারীরিক নিপীড়নের যেসব খবর ও ছবি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তার ভিত্তিতে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সকল সরকারি কর্মকর্তার গ্রেপ্তার ও বিচার দাবা করছি। বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিক রোজিনাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকার সত্য প্রকাশের বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছে এবং নিপীড়নমূলক বার্তা দিচ্ছে তা এদেশের সংবিধান এবং স্বাধীনতার চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আমরা সরকারকে এদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা অবারিত রাখার ক্ষেত্রে তার সাংবিধানিক দায়দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস এ্যাক্ট ও ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টসহ স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাঁধা সৃষ্টি করে এমন সকল আইন ও বিধিবিধান বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি।
রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেফতারে জাতিসংঘের উদ্বেগ
১৯,মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টির দিকে তারা নজর রাখছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সংস্থার উদ্বেগ প্রকাশ করেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতারের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিককে গ্রেফতার করার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা নজর রাখছি। এটি স্পষ্টতই উদ্বেগজনক বিষয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। সাংবাদিকদের কোনোভাবেই হয়রানি বা শারীরিক নির্যাতন করা যাবে না। মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সেটা বাংলাদেশ কিংবা পৃথিবীর যে কোনো স্থানে হোক। করোনাকালে বিশ্বের সাংবাদিকরা যে ভূমিকা পালন করছেন, তা আমাদের পর্যবেক্ষণে আছে। তারা যেখানে, যেভাবে কাজ করুন না কেন, কোনো অবস্থাতেই বাধা দেওয়া যাবে না।
২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার নতুন এডিপি অনুমোদন
১৮,মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পরিবহন যোগাযোগ খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল (এনইসি) আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্ত করেছে। মঙ্গলবার এনইসি চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপির অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন। মন্ত্রীসভার সদস্যবৃন্দ, প্রতিমন্ত্রীগণ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ এনইসি সভাকক্ষ ও সচিবালয় থেকে বৈঠকে যোগদান করেন। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ভার্চ্যুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, মূল এডিপির বাইরে স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনসমূহের জন্য আরও ১১ হাজার ৪৬৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকার এডিপি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনসমূহের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ও মূল এডিপির বরাদ্দ মিলে আগামী অর্থবছরের এডিপির মোট আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। মূল এডিপির জন্য বরাদ্দ অর্থের মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা আসবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং বাকী ৮৮ লাখ ২৪ হাজার ২৩ কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে পাওয়া যাবে। এছাড়া, স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনসমূহের জন্য বরাদ্দকৃত ১১ হাজার ৪৬৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে পাওয়া যাবে ৬ হাজার ৭১৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে পাওয়া যাবে ৪ হাজার ৭৫১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছরের মূল এডিপিতে প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৪২৬টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ৩০৮ এবং কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের সংখ্যা ১১৮। পাশাপাশি, স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনসমূহের জন্য আরও ৮৯টি প্রকল্প রয়েছে। সবমিলিয়ে আগামী অর্থবছরের এডিপিতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫১৫। নতুন এডিপিতে ৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা পাওয়া যাবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বাকী ১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা আসবে বৈদেশিক উৎস থেকে। বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প রয়েছে ৫৯৬টি, বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির জন্য অন্তর্ভূক্ত প্রকল্প ১৪১, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রকল্প ৮৮টি এবং পরবর্তী অর্থবছরের মধ্যে শেষ করার জন্য নির্ধারিত প্রকল্প হচ্ছে ৩৫৬টি। মান্নান জানান, সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য গৃহীত যেসব প্রকল্পের কাজ করোনা অতিমারির কারণে শেষ করা সম্ভব হয়নি,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেসব প্রকল্প সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের জন্য গবেষণাখাত বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতের গবেষণায় আলাদা বরাদ্দের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শেখ হাসিনা আরও বলেন, একেবার প্রয়োজন ছাড়া কোন প্রকল্পে বিদেশী পরামর্শক নিয়োগের দরকার নেই। কেবলমাত্র সেসব উন্নয়ন প্রকল্পে তাদেরকে নিয়ে আসতে হবে যেখানে তাদের দরকার। পাশাপাশি, বিদেশী পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে যেন যথাযথ প্রক্রিয়া পরিপাালন করা হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কৃষি, প্রবাসী আয় ও গ্রামীণ শ্রমবাজারের কারণে করোনা অতিমারি স্বত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ভাল করছে। তিনি বলেন, এর বড় উদাহরণ হলো করোনাকালীন সময়ে আমাদের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ৯ শতাংশ বেড়েছে। এখন মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার। এতে বোঝা যায় আমাদের অর্থনীতির সহনশীলতার ক্ষমতা কেমন। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ ৩০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। এক প্রশ্নের উত্তরে সরকারের এই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বলেন, করোনার সময় বছরজুড়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের বেশ অগ্রগতি ছিল। মান্নান বলেন, করোনা অতিমারির শুরুর দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় ততটা ভাল অবস্থায় ছিল না। কিন্তু করোনা শুরুর ১ থেকে ২ মাসের মাথায় সেই অবস্থার পরিবর্তন হয় এবং ব্যবস্থাপনায় যথেষ্ট উন্নতি করে। তিনি দাবি করেন, বিশে^র অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার অনেক কম। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরের এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০টি খাত হচ্ছে; পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি ৪১ লাখ টাকা (২৭ দশমি ক ৩৫ শতাংশ)। দ্বিতীয় অবস্থানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪৫ হাজার ৮৬৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা (২০ দশমিক ৩৬ শতাংশ) এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে গৃহায়ণ ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে ২৩ হাজার ৭৪৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা (১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ)। অন্যান্য খাতের মধ্যে শিক্ষা খাতে ২৩ হাজার ১৭৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ১৭ হাজার ৩০৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১৪ হাজার ২৭৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ খাতে ৮ হাজার ৫২৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা, কৃষি খাতে ৭ হাজার ৬৬৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকাৎ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৪ হাজার ৬৩৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে ৩ হাজার ৫৮৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০ মন্ত্রণালয় হলো- স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৩ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৮ হাজার ৪১ কোটি, বিদ্যুৎ বিভাগে ২৫ হাজার ৩৪৮ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ২০ হাজার ৬৩৩ কোটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৩ হাজার ৫৫৮ কোটি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ১৩ হাজার কোটি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১১ হাজার ৯১৯ কোটি, সেতু বিভাগে ৯ হাজার ৮১২ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৮ হাজার ২২ কোটি এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৬ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে-রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প, চতুর্থ পিইডিপি কর্মসূচি, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু নির্মাণ, পদ্মা সেতু প্রকল্প, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ডিপিডিসির আওতায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন এবং ঢাকা বিমান বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প।

জাতীয় পাতার আরো খবর