সোমবার, আগস্ট ২, ২০২১
লঞ্চ চলাচলে অনুমতি চান মালিকরা
২২,মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ২৪শে মে থেকে সারাদেশে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলে অনুমতি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা। তারা বলেছেন, চলমান লকডাউনে দেশের কোথাও কোন স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। তবে লঞ্চ বন্ধ রাখা হয়েছে কেন। আমরা চাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চালাতে। আজ রাজধানীর সদরঘাটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বাদল। তিনি এ সময় শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বোনাস দেয়ার জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে গত ৫ মে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য-সচিব, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান বরাবর প্রণোদনার জন্য যে আবেদন করা হয়েছে তা অনতিবিলম্বে মালিকদের মাঝে বণ্টনের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া এনবিআরের ধারণ ক্ষমতার ওপর অগ্রিম প্রদত্ত ছয় মাসের ট্যাক্স আনুপাতিক হারে মওকুফ, বিআইডব্লিউটিএ-এর ছয় মাসের কারভেন্সি ও বার্লিং চার্জ মওকুফ, নৌ-পরিবহন অধিদফতরের ছয় মাসের সার্ভে ফি মওকুফ ও ব্যাংক লোনের ছয় মাসের সুদ মওকুফ করার দাবি জানান তিনি।
ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খসরুর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
২১,মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট জাহিদ হোসেন খসরুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোক বিবৃতিতে তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, এডভোকেট জাহিদ হোসেন খসরু বৃহষ্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহ রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী ও ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
বিক্ষোভ - মানববন্ধন অব্যাহত, রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবি
২১,মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তাকারীদের বিচার এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এসব কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, তিনি দেশের মানুষের কাছে স্বাস্থ্য খাতের লাগামহীন দুর্নীতির প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন। তাঁকে হেনস্তা করা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকে রাখা মানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা। অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান তাঁরা।
সাংবাদিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ: অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বাতিলের দাবি
২১,মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সাংবাদিকরা। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বাতিলসহ সাংবাদিকদের সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা। বক্তরা বলেন, অবিলম্বে রোজিনা ইসলামকে মুক্তি দিতে হবে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অফিসিয়াল সিক্রেট আইনের মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। রোজিনা ইসলামের ওপর যে অন্যায় হয়েছে, তা সংবাদ মাধ্যমের ওপর এক বর্বরোচিত হামলা। আজ সেই কারণে সমগ্র বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ ফুঁসে উঠেছে। সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে, রুমে আটকে রেখে স্তব্ধ করা যাবে না। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতীক। রোজিনা ইসলাম অপরাধ করেননি। তার বিরুদ্ধে আজকে বেআইনিভাবে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোজিনার বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে, তিনি তথ্য বা গোপন নথি চুরি করেছিলেন। কোন তথ্যের কথা বলা হচ্ছে? তিনি তো সেখানে টাকা-পয়সা চুরি করতে যাননি, সেখানে কম্পিউটার চুরি করতে যাননি। তাদের কথা যদি আমি মেনে নিই, তাহলে তিনি তথ্য চুরি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ওই তথ্য তো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়, সে তথ্য জনগণের। কর্মকর্তারা জনগণের যে তথ্য গোপন করে রেখেছিলেন সেটি নিয়ে জনগণকে উপহার দেয়ার জন্য রোজিনা গিয়েছিলেন। তাই তার বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অবাধ তথ্যের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি থাকতে পারে না। ঢাকা সংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, রোজিনা ইসলামের এই ঘটনায় অতিরিক্ত সচিব মূল অভিযুক্ত। তিনি নিজে রোজিনাকে হেনস্তা করেছেন, তার গায়ে আঘাত করেছেন। অতিরিক্ত সচিবের তদন্ত করার জন্য যুগ্মসচিব দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি একটি হাস্যকর ঘটনা। তিনি বলেন, সচিবালয়ের মতো একটি জায়গায় পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। রোজিনা ইসলামকে ছেড়ে দিলেও তিনি পালিয়ে যেতে পারতেন না। তাহলে একটি ঘরে কেন তাকে ৫/৬ ঘণ্টা আটকে রাখা হলো? সচিবালয়ে যে রিপোর্টাররা কাজ করেন তাদের একটি সংগঠন রয়েছে। তারা সচিবের সঙ্গে দেখা করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সম্ভব হয়নি। সচিব এমন কোনো লাট-বাহাদুর হননি। আপনাদের (সচিবালয়ের কর্মকর্তা) যখন যেটা লাগবে তখন সেই ফাইল, ফাইলের পাতা নিজে ছিঁড়ে দিয়ে দেন। এই ফাইলের পাতাগুলো আপনারা না দিলে কোত্থেকে আসে? এমনকি যেখানে আপনার স্বার্থ আছে সেই ফাইলের পাতা আপনি সাংবাদিকের বাসা পর্যন্ত দিয়ে আসেন। আপনারাই সর্বপ্রথম অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেন এবং এর জন্য দায়ী হবেন আপনারাই। আর আপনারা অনেক বড় ফাইলের কথা বলছেন। এপিএসের রুমে আপনারা সিক্রেট ফাইল রেখে ঘোরাফেরা করেন, আপনারা তো ওই পদের উপযুক্তই নন। আপনাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি। এই ঘটনার জন্য একটা নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। তদন্ত কমিটি করতে হবে নিরপেক্ষ, স্বাধীন, প্রশাসনের প্রভাবমুক্ত এবং সেখানে অবশ্যই সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, আমরা রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তি চাই, মামলা প্রত্যাহার চাই। হেনস্তাকারীদের শাস্তি এবং এই ঘটনা অনুসন্ধানের জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি চাই। যাতে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ থাকবে। মানববন্ধনে সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, রোজিনার প্রত্যেকটি কাজ সাংবাদিক হিসেবে মানুষের কল্যাণে ও দেশের কল্যাণে। ভালো সাংবাদিক শুধু বন্ধুবান্ধবই তৈরি করে না শুভাকাঙ্ক্ষীও তৈরি করে। ভালো সাংবাদিকের শত্রু তৈরি হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে রোজিনার সেই শত্রুও তৈরি হয়েছে। যারা মিলিয়ন মিলিয়ন টাকা ঘুষ খান, পাচার করেন সেই চক্র আজ রোজিনার বিরুদ্ধে। রোজিনাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে সারা দেশের সাংবাদিকরা বসে থাকবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি নিয়ে তিনি বলেন, তারা নিজেরা তদন্ত কমিটি করেছে। আমরা এই কমিটি মানি না, মানবো না। নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। যেখানে সাংবাদিকদের প্রতিনিধি থাকতে হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব কর্মকর্তা নিজেদের তথ্য নিজেরাই সংরক্ষণ করতে পারেননি, তাদের বিচার হওয়া উচিত। অন্যথায় সাংবাদিকরা ফুঁসে উঠলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে না। একজন সাংবাদিককে কেন ৬ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হলো? সে দিন যদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিতে রোজিনার অন্যায় হয়ে থাকে, তাহলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারতেন। সাংবাদিক নেতাদের ডাকতে পারতেন, প্রেস কাউন্সিলকে জানাতে পারতেন। একটা সুরাহা করতে পারতেন। তা না করে ৬ ঘণ্টা নির্যাতন করেছে তারা। আমরা এ সমাবেশ থেকে এর বিচারের দাবি জানাচ্ছি। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, ওমর ফারুক, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ। আগামীকাল শনিবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে জানিয়ে ৪ দফা দাবি জানায় সাংবাদিক নেতারা। এরমধ্যে রয়েছে- নিঃশর্তে রোজিনা ইসলামের মুক্তি; রোজিনাকে যারা হেনস্তা করেছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে; রোজিনার বিরুদ্ধে যে আইন প্রয়োগ করা হয়েছে সেটি যাতে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আর প্রয়োগ না হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে তার অঙ্গীকার করে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং সাংবাদিক সুরক্ষা আইন করতে হবে।
জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবে দুদক
২০,মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২০ মে) দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনার জহিরুল হক সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন। কাজী জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক কমিশনার বলেন, এখানে এতো বিঘা ও বিদেশে সম্পত্তি এটা বললে হবে না। জমি থাকলে কোন জায়গায়, টাকা কোন হিসাবে এ রকম সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আমরা খতিয়ে দেখবো। জহরিুল হক আরও বলেন, প্রত্যেক বিভাগে দুর্নীতি আছে, প্রত্যেক বিভাগে ভালো মানুষ আছে। স্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে সুনির্দিষ্ট হতে হবে, তথ্য ভিত্তিক হতে হবে। তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
সাংবাদিক রোজিনার বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হবে: তথ্যমন্ত্রী
২০,মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম যেন ন্যায়বিচার পায় সে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং এ বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হবে। তার জন্য যা করা সম্ভব, সবই করা হবে। বৃহস্পতিবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে মন্ত্রীর বাসভবনে এক মতবিনিময় সভায় সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম যাতে ন্যায়বিচার পান সেটি নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা চালানো হবে। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে, রোজিনা ইসলামেরও ভুল হতে পারে। বিষয়টি আবেগের সঙ্গে না দেখে বাস্তবতা প্রেক্ষিতে দেখতে হবে এবং কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। গত সোমবার দুপুরের পর পেশাগত দায়িত্ব পালনে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান রোজিনা ইসলাম। এ সময় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে রোজিনাকে শাহবাগ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে রাত ৯টার দিকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেন।
সাংবাদিক রোজিনার জামিন বিষয়ে আদেশ রোববার
২০,মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অনুমতি ছাড়া করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের সরকারি নথির ছবি তোলার অভিযোগে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের করা অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট মামলায় দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন শুনানির আদেশ রোববার (২৩ মে) ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ মে) বিকালে ঢাকার মহানগর হাকিম বাকী বিল্লার আদালত এ আদেশ দেন। এরআগে শুনানি শেষ হওয়ার পর জামিন শুনানির আদেশ পরে দেওয়া হবে বলে জানান আদালত। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে পরে বিচারক বলেন, নথিপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ে আদেশ দেওয়া হবে। শুনানিতে জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ বলেন, আসামির কাছ থেকে আলামত উদ্ধার করা হয়েছে, তাকে জামিন দেওয়া ঠিক হবে না। অন্যদিকে রোজিনার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি বলেন, এজাহারে সেরকম কোনো আলামতের বর্ণনা নেই। যে আলামতের কথা বলা হচ্ছে, তা পরে ম্যানিপুলেট করা। তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলের যে অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে এ মামলা করা হয়েছে, বাংলাদেশে তার ব্যবহার অত্যন্ত কম, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও এ আইন প্রয়োগের তেমন নজির নেই। ভারতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এ আইন ব্যবহার করতে দেখা গেছে। রোজিনার পক্ষে শুনানিতে আরও ছিলেন আইনজীবী আশফ উল আলম, প্রশান্ত কর্মকার ও আমিনুল গণি টিটো। ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ব্লাস্টের মশিউর রহমান এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মো. আবদুর রশীদও উপস্থিত ছিলেন। গত মঙ্গলবার (১৮ মে) দুপুরে অনুমতি ছাড়া করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের সরকারি নথির ছবি তোলার অভিযোগে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের রিমান্ড আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ জসিম এ নির্দেশ দেন। এর আগে রোজিনার বিরুদ্ধে করা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের করা অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট মামলা ডিবিতে স্থানান্তর করা হয় বলে জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক। বৃহস্পতিবার (২০ মে) সকালে তিনি বলেন, প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মামলার তদন্তের স্বার্থে যা যা করা দরকার, তার সবই করা হবে। তিনি বলেন, মামলা তদন্ত করতে কোনো জায়গা থেকে কোনো চাপ নেই। এদিকে গতকাল বুধবার (১৯ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করে বিভিন্ন সংগঠন। এ সময় সাংবাদিক নেতারা তার মুক্তি দাবি জানান। একই দাবিতে গোপালগঞ্জ, ঝিনাইদহ, ফেনী ও ময়মনসিংহসহ মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সংবাদমাধ্যম কর্মীরা।
রোজিনার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মুখোমুখি হতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
২০,মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা খুবই দুঃখজনক মন্তব্য করে এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফেস করতে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বৃহস্পতিবার (২০ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কিছু লুকানোর নেই। গুটি কয়েক লোকের আচরণের জন্য আমাদের এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফেস করতে হবে। ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কেয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার গণমাধ্যমবান্ধব সরকার। তবে রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অনভিপ্রেত। আমরা তার ন্যয়বিচার প্রত্যাশা করছি।
গুণীজনদের হাতে স্বাধীনতা পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
২০,মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবছর স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২১ পেয়েছেন ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান । বৃহস্পতিবার (২০ মে) গণভবনে এসব গুণীজনদের হাতে স্বাধীনতা পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যারা মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন তাদের স্বজনদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে প্রয়াত আহসানউল্লাহ মাস্টার, প্রয়াত আখতারুজ্জামান বাবু, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা একেএম বজলুর রহমান, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ, সাহিত্যে কবি মহাদেব সাহা, সংস্কৃতিতে চলচ্চিত্রকার-গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও নাট্যজন আতাউর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগী, সমাজসেবা বা জনসেবায় অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন এবছর স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন। এছাড়া গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে। ১৯৭৭ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর স্বাধীনতা পুরস্কার দেয় সরকার।

জাতীয় পাতার আরো খবর