বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১
৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগে বাধা কাটল
৩১,মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ৫৪ হাজার নিবন্ধনধারীকে নিয়োগ দিয়ে এনটিআরসিএর জারি করা তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত এবং নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া আদেশ (মোডিফাই করে) তুলে নিয়েছেন হাইকোর্ট। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক ১ থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের মধ্যে রিটকারী দেড় হাজার জনকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৪ সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগের সুপারিশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে ৫৪ হাজার নিবন্ধনধারীর নিয়োগের বিষয়ে বাধা কাটল। সোমবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে এনটিআরসিএ-র পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া ও ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন হানিফ। এর আগে গত ২৩ মে এনটিআরসিএ কর্তৃক এক থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিষয়ে আদেশের জন্য আজ ৩১ মে দিন ধার্য রেখেছিলেন হাইকোর্ট। ওইদিন পর্যন্ত ৫৪ হাজার নিবন্ধনধারীকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি স্থগিতাদেশের মেয়াদও বাড়ানো হয়। এর আগে গত ৬ মে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ১ থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের মধ্যে রিটকারীদের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭ দিনের মধ্যে নিয়োগের সুপারিশ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ৫৪ হাজার নিবন্ধনধারীকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন আদালত। গত ৭ মার্চ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ১ থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তখন ১৫ দিনের মধ্যে এনটিআরসিএ-র চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। একইসঙ্গে নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করতে বলেন আদালত। আদালতের এই আদেশ বাস্তবায়ন না করায় পুনরায় এনটিআরসিএ-র চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট।
দাম কমল এলপি গ্যাসের
৩১,মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য কমাল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সোমবার (৩১ মে) এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সমন্বয়কৃত নতুন দাম ঘোষণা করে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। এতে বেসরকারি খাতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজি মূসকসহ ৯০৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৮৪২ টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে কমেছে গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির নতুন দামও। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির আগের দাম ছিল ৪৪ টাকা ৭০ পয়সা। আর নতুন দাম প্রতি লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ টাকা ৭৪ পয়সা। যা ১ জুন থেকে কার্যকর হবে। তবে উৎপাদন পর্যায়ে ব্যয় পরিবর্তন না হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির এলপিজির দাম পরিবর্তন করা হয়নি। সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম আগের ৫৯১ টাকাই থাকছে বলে জানিয়েছেন বিইআরসির চেয়ারম্যান মো. আবদুল জলিল। তিনি বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ও ব্যাংকিং হারে পরিবর্তন বিবেচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। কেউ এর বেশি দামে বিক্রি করতে পারবে না। তবে চাইলে কেউ নির্ধারিত দামের কমে বিক্রি করতে পারবে। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করেছে বিইআরসি। গত চার মাস ধরে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম কমছে।
এবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন যারা
৩১,মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০২০-২১ অর্থবছরের শুদ্ধাচার পুরস্কার পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অধীন সংস্থার তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী। রবিবার (৩০ মে) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শুদ্ধাচার পুরস্কার বিতরণ করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। দফতর/সংস্থা প্রধানদের মধ্য থেকে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-১০ ভুক্ত ক্যাটাগরিতে প্রশাসন অনুবিভাগের উপসচিব আবু কায়সার খান এবং গ্রেড-১১ থেকে গ্রেড-২০ ক্যাটাগরিতে সিনিয়র সচিবের দফতরের অফিস সহায়ক সমীর কুমার দাস এবার শুদ্ধাচার পুরস্কার পেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ও সার্টিফিকেট তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ দেশকে আরও সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে জনপ্রশাসনে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশকে একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দিতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। দেশ আজ বিশ্বের বুকে এক সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই অর্জন ধরে রেখে দেশকে আরও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে হলে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার বিকল্প নেই। ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, দেশ ও জনগণকে যথাযথ সেবা প্রদান করতে হলে সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণকে দক্ষতার সঙ্গে সঠিক সময়ে সেবা প্রদানের জন্য নিজেদেরকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দফতর প্রধান এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আজ ও আগামীকাল অব্যাহত থাকতে পারে মৃদু তাপপ্রবাহ
৩০,মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের যে কয়টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রবিবার ও আগামীকাল সোমবার সারা দেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে এবং সপ্তাহের শেষে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমীবায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত এগিয়ে যেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে পূর্বাভাসে। জেলাগুলো হলো- রাঙামাটি, ফেনী, চাঁদপুর, নোয়াখালী, রংপুর, খুলনা ও যশোর জেলা এবং সিলেট বিভাগ। শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাঙামাটিতে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ২২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, এবং সিলেট অঞ্চল সমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
বিশ্ব দরবারে শান্তি ও সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ: রাষ্ট্রপতি
২৯,মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে শান্তি ও সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণে অন্যতম শীর্ষ দেশ বাংলাদেশ। পেশাদারিত্বের পাশাপাশি অর্পিত দায়িত্বের প্রতি একনিষ্ঠতা, শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও মানবিক আচরণ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের এই সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্বপালনের মাধ্যমে আমাদের শান্তিরক্ষী সদস্যরা আগামী দিনগুলোতেও বিশ্ব শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ প্রতিষ্ঠার ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে- এ প্রত্যাশা করি। আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২১ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে শনিবার (২৯ মে) রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২১ পালনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এ উপলক্ষে আমি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সকল শান্তিরক্ষীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বিশ্ব শান্তিরক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মোৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষী সদস্যদের আমি পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। তিনি বলেন, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুসৃত এ আদর্শ অনুসরণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে শান্তি ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা সর্বোচ্চ পেশাদারি মনোভাব, আনুগত্য ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। তাদের অনন্য অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে এবং আমাদের শান্তিরক্ষীরা শান্তিরক্ষা মিশনে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। আমি আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস- ২০২১ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস, মর্যাদার শিখরে বাংলাদেশ
২৯,মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ ২৯ মে। আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। এবারে দিবসটির মূল প্রতিপদ্য হলো- স্থায়ী শান্তির পথ :শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য তারুণ্যের শক্তি ব্যবহার।' দিবসটি এলেই বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অহংকারের দৃশ্যপট সামনে আসে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। বর্তমানে বিশ্বের আটটি মিশনে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর ছয় হাজার ৭৪২ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ বাংলাদেশ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদানকে এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া বাণী দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসা শুনে গর্বে বুকটা ভরে গেছে: প্রধানমন্ত্রী
২৯,মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্বরত শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্বপালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আপনারা বিশ্বে বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্নত রাখবেন। পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা, আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। যখন যে সরঞ্জাম লাগবে, ব্যবস্থা করে দেব। শনিবার (২৯ মে) ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২১ উদযাপন অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সারাবিশ্বে কোভিড-১৯ ভীষণভাবে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। এ সময় ধৈর্য্য ও ধীরস্থিরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,আমাদের যারা শান্তিরক্ষায় যাচ্ছে, তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করছি। সব ধরেনের সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করছি। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য যা যা প্রয়োজন সঙ্গে সঙ্গ তাই দেয়ার ব্যবস্থা করছি। সফরে বিশ্বের যখন যেখানে গেছি, সেখানে সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা আমাদের শান্তিরক্ষীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। গর্বে আমার বুকটা ভরে গেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। এটা গর্বের বিষয়, আপনারা বিশ্বশান্তি রক্ষায় কাজ করছেন। যেখানেই যাচ্ছেন, বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন। পরকে আপন করে নেয়ার মতো কাজটি করছেন। জানি আপনাদের কষ্ট হয়, বৈরী পরিবেশে দায়িত্ব পালন করছেন। এটা একটা চ্যালেঞ্জও। সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ-জটিল জায়গায় আমাদের শান্তিরক্ষীরা সফলভাবে কাজ করছে। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের নিয়ে আমি গর্ববোধ করি। শান্তিরক্ষী বাহিনী কর্মরত নারীদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী পাইলটদের নিয়ে খুব গর্ববোধ করি। এখন সব জায়গায় মেয়েদের একটা ভালো সুযোগে আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের অর্থনীতির উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, বর্তমান ও ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য শিক্ষা-দীক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান তৈরি করাই আমাদের কাজ। আমরা সেটা করছি। অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, পররাষ্ট্র সচিব, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ বিভিন্ন বাহিনী প্রধান ও বিভিন্ন দেশে কর্মরত শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের বাংলাদেশ কো-অর্ডিনেটরও বক্তব্য রাখেন।
৮ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পেলেন- দ্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল
২৮,মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মোৎসর্গকারী বাংলাদেশের আটজন শান্তিরক্ষীসহ বিশ্বের ৪৪টি দেশের ১২৯ জন শান্তিরক্ষীকে সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য দ্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থার সদরদপ্তরে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই মেডেল দেওয়া হয়। শুক্রবার (২৮ মে) জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এ তথ্য জানায়। ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশসহ ৪৪টি দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিদের হাতে নিজ নিজ দেশের মেডেল তুলে দেন। এই পদক বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার মহৎ উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত জীবনের শক্তি, বিশুদ্ধতা ও নশ্বরতাকেই বারবার স্মরণ করছে। বাংলাদেশের আটজন শান্তিরক্ষী পদক পেয়েছেন, যা একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ। কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মোৎসর্গকারী বাংলাদেশের ৮ শান্তিরক্ষী হলেন- মালিতে নিয়োজিত মিনুস্মা মিশনের ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল মো. হালিম, কঙ্গোতে নিয়োজিত মনুস্কো মিশনের ওয়ারেন্ট অফিসার মো. সাইফুল ইমাম ভূইয়া, সার্জেন্ট মো. জিয়াউর রহমান, সার্জেন্ট এমডি মোবারক হোসেন ও ল্যান্স করপোরাল মো. সাইফুল ইসলাম, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে নিয়োজিত মিনুস্কা মিশনের ল্যান্স করপোরাল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সার্জেন্ট মো. ইব্রাহীম এবং দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত আনমিস্ মিশনের ওয়াসারম্যান নুরুল আমিন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই মেডেল গ্রহণ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। ভার্চ্যুয়াল এই অনুষ্ঠানটিতে আরও অংশ নেন মিশনের ডিফেন্স অ্যাডভাইজর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ছাদেকুজ্জামান। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এসব মেডেল কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেবে। পদক প্রদান অনুষ্ঠান উপলক্ষে দেওয়া এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, আমি জাতিসংঘের পতাকাতলে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবনদানকারী নীল হেলমেটের সব সাহসী পুরুষ ও নারীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি এবং তাদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার পবিত্র দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ তার অনেক বীর সেনানীকে হারিয়েছে। কিন্তু এই ত্যাগ জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনের কোনো আহ্বানে সাড়া দিতে কখনই আমাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি বরং, শান্তির লক্ষ্যে নিজেদের উৎসর্গ করার দৃঢ় সংকল্পকে আরও জোরদার করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, বুভুক্ষা ও দূর্দশা মুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করে শান্তির অনুসন্ধান করলেই কেবল কর্তব্যরত অবস্থায় জীবনদানকারী এই শান্তিরক্ষীদের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করা হবে। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য স্থায়ী শান্তির পথে: শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য যুব-শক্তিকে বৃদ্ধি করা। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে মহাসচির গুতেরেসে বিগত সাত দশকব্যাপী জাতিসংঘের পতাকাতলে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবনদানকারী সামরিক ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীদের বিদেহী আত্মার স্মরণে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উত্তর লনে অবস্থিত শান্তিরক্ষী মেমোরিয়াল সাইট-এ পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বর্তমানে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশ। জাতিসংঘের ৯টি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের প্রায় ৭ হাজার শান্তিরক্ষী কর্মরত। এ পর্যন্ত শান্তিরক্ষা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় বাংলাদেশের ১৫৯ জন শান্তিরক্ষী মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রতিবছরই যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা দিবস উদযাপন করা হয়। কোভিড-১৯ অতিমারিজনিত কারণে এবারের অনুষ্ঠানটি ভার্চ্যুয়ালভাবে আয়োজন করা হয়েছে।
জয়নুলের শিল্পকর্ম আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা যোগাবে: রাষ্ট্রপতি
২৮,মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্পকর্ম আগামী প্রজন্মকে সৃজনশীল কাজে নিরন্তর অনুপ্রেরণা যোগাবে। আজ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বরেণ্য চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামবাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য, সাধারণ মানুষের সহজ-সরল জীবনযাত্রা, মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও সংগ্রামই ছিল তার চিত্রকর্মের মূল উপজীব্য। ১৯৩৮ সালে সর্বভারতীয় চিত্রকলা প্রদর্শনীতে তার অঙ্কিত জলরঙের ছবির জন্য তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। জয়নুলের কর্মে প্রতিভাত হয়েছে সমসাময়িক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নর-নারীর শ্রম ও সংগ্রাম এবং সেই সাথে তাদের ক্ষমতার বহিঃপ্র্রকাশ। রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি ইউরোপীয় স্টাইলে চিত্রাঙ্কনের ওপর লেখাপড়া করলেও প্রাচ্য বা পাশ্চাত্যের অঙ্কনধারা তাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। অতিমাত্রায় রীতি নির্ভনতার পরিবর্তে তিনি বাস্তবতার প্রতি আকৃষ্ট হন। এ বরেণ্য শিল্পীর কল্পনার রেখা ও তুলিতে ভাস্বর হয়ে উঠেছে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের রেখাচিত্র, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নবান্ন, ১৯৭০ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে লাখো উপকূলবাসীর মৃত্যুতে মনপুরার মতো হৃদয়স্পর্শী চিত্র। শিল্পীর কালজয়ী শিল্পকর্ম দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও বিপুল প্রশংসা ও স্বীকৃতি লাভ করেছে। অসাধারণ শিল্প-মানসিকতা ও কল্পনাশক্তির জন্য তিনি শিল্পাচার্য উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুলের উদ্যোগে ১৯৪৮ সালে ঢাকা আর্ট কলেজ (বর্তমানে চারুকলা ইনস্টিটিউট) প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং শিল্পাচার্য জয়নুলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭৫ সালে সোনারগাঁয়ে লোকশিল্প জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা গ্যালারি। বিশ্বখ্যাত এ বরেণ্য শিল্পী ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, শিল্পাঙ্গনে তার অনবদ্য অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি বরেণ্য এ শিল্পীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর