সোমবার, আগস্ট ২, ২০২১
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সেনাবাহিনীর ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পেইন
০৫জুলাই,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সেনাবাহিনী প্রধান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এর দিক নির্দেশনায় এরিয়া সদর দপ্তর সাভার এবং ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ৩ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির তত্ত্বাবধানে ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের আবুল বাশার কৃষি কলেজ প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৩ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ আহমেদ চিশতী, পিএসসি, জি এবং ১১ ফিল্ড এ্যাম্বুলেন্স এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফখরুল আলম, বিএসপি, এমপিএইচ। এ আয়োজনের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্তৃক স্থানীয় প্রায় ১৮০ জন গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা (নাড়ীর গতি, রক্তচাপ, ওজন, ফিটাল মুভমেন্ট, অক্সিজেন সম্পৃক্ততা) এবং ল্যাব পরীক্ষা (রক্তের গ্রুপ, কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট, কোভিড-১৯ আরটি-পিসিআর পরীক্ষা, সুগার পরীক্ষা এবং ইউরিন পরীক্ষা) সহ তাদের প্রয়োজনীয় সহায়ক ও উপহার সামগ্রীর বক্স (ম্যাক্সি, হরলিক্স এবং স্যানিটারি প্যাড) বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। বর্তমানে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের চলমান পরিস্থিতিতে অসহায়, দুঃস্থ এবং নিম্ন আয়ের মানুষদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের এই মানবিক কার্যক্রম সর্ব স্তরের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। উল্লেখ্য, এরিয়া সদর দপ্তর সাভার এবং ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গত ১৩ জুন মানিকগঞ্জ, ১৬ জুন নরসিংদী, ১৮ জুন গাজীপুর এবং ২২ জুন শরীয়তপুরে একই কর্মসূচীর মাধ্যমে যথাক্রমে ৯০ জন, ৮৪ জন, ৫৭ জন ও ২২০ জন গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় Operation Covid Shield এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশন অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গত ২৪ মার্চ হতে নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছে। সেনাসদস্যরা দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ৮টি পূর্ণাঙ্গ জেলা (নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারিপুর, মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর) ও ঢাকা জেলার ৫টি উপজেলা (সাভার, ধামরাই, কেরাণীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহার) এ নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি অসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ জনগণের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, মাস্ক বিতরণসহ বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করে আসছে। এ সকল আয়োজনের মাধ্যমে- সম্প্রীতির বাজার, সম্প্রীতির ইফতার এবং ঈদ বাজার অন্যতম।
তদবিরে পুলিশে বদলি নয়: আইজিপি
০৪জুলাই,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ পুলিশে বদলির জন্য তদবির কালচারকে চিরতরে বিদায় করতে চান বাহিনীর মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, পুলিশ অফিসার এবং বাহিনীর জন্য বাস্তবসম্মত বদলি ও পদায়ন নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে তদবির কালচার বিদায় করা হবে। আজ শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আয়োজিত বিশেষ অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইজিপি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডিএমপির সব থানার ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার কথা বিবেচনা করে অধিকাংশ পুলিশ অফিসার এবং সদস্য ঢাকার বাইরে যেতে চান না উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ইতোমধ্যে গতানুগতিক ধারা পাল্টে পুলিশ বাহিনীতে বদলিতে নতুনত্ব আনা হয়েছে। এ সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন আইজিপি। এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে পুলিশের চাকরিকে আকর্ষণীয় করতে বিভাগীয় শহরগুলোতে পুলিশ সদস্যদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বেনজীর আহমেদ বলেন, করোনাভাইরাসের এ সময়ে গত তিন মাসে পুলিশ বদলে গেছে। পুলিশ জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। করোনায় পুলিশ জনগণের পাশে গিয়ে যেভাবে সেবা দিয়েছে, এর বেশিরভাগই পুলিশের কাজ ছিল না, এজন্য পুলিশকে বলাও হয়নি, নির্দেশও দেয়া হয়নি। কিন্তু পুলিশ এ কাজটি করেছে একান্তই নিজের দায়িত্ববোধ থেকে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পুলিশ এতো সম্মান, এতো মর্যাদা আর কখনো পায়নি, গত তিন মাসে তা পেয়েছে। এখন জনগণ পুলিশের পক্ষে কথা বলছে, পুলিশের জন্য লিখছে, যারা কথায় কথায় পুলিশের সমালোচনা করতেন, তারাও আজ পুলিশের পক্ষে হৃদয় উজাড় করে বলছেন, পুলিশকে সমর্থন করেছেন। যে সম্মান-মর্যাদা আমরা গত তিন মাসে পেয়েছি তা টাকা দিয়ে কেনা যায় না, মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে মানুষের সাথে থাকতে হয়, তাদের কাছে যেতে হয়, মানুষকে ভালোবাসতে হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে পুলিশপ্রধান বলেন, জনগণের পুলিশ হতে হলে এ বাহিনীকে সব ধরনের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। পুলিশে কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই নেই। মাদকের সাথে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পর্ক থাকবে না। পুলিশকে হতে হবে মাদকমুক্ত। পুলিশের নিষ্ঠুরতা বন্ধ করে আইনি সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। পুলিশকে যেতে হবে জনগণের দোরগোড়ায়। পুলিশ অফিসার এবং ফোর্সেরও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ চিকিৎসায় গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে মাত্র দুই সপ্তাহে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল থেকে ৫০০ শয্যার কোভিড হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য মাত্র ১২ দিনে পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকায় একটি হাসপাতাল ভাড়া করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় হাসপাতাল আধুনিকায়ন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ সদস্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য আবাসন ব্যবস্থা এবং ডিউটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা কমেছে এবং মৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে। আইজিপি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব। আসুন, আমরা পরিবর্তিত হই, দেশকে পরিবর্তন করি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আইজিপি বক্তব্যের শুরুতে করোনায় দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ৪৬ পুলিশ সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনাও জানান। আইজিপি এসব পরিবারের অংশ হিসেবে সুখে-দুঃখে তাদের সাথে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কমিটি
০৪জুলাই,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডেল্টা গভর্নেন্স কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই কাউন্সিলের চেয়ারপারসন। পরিকল্পনামন্ত্রীকে কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডেল্টা প্ল্যান গভর্নেন্স কাউন্সিলের সদস্য রয়েছেন কৃষিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কাউন্সিলর কার্যপরিধি হিসেবে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে নীতি নির্ধারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কৌশলগত পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদান, বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান হালনাগাদকরণ দিক-নির্দেশনা প্রদান, বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ এর বিনিয়োগে পরিকল্পনা প্রণয়নে নীতি নির্ধারণ ও নির্দেশনা প্রদান এবং ডেল্টা ফান্ড গঠন ও ব্যবহারে দিক-নির্দেশনা প্রদান। এ কাউন্সিল বছরে ন্যূনতম একটি সভা করবে। প্রয়োজনে এ কাউন্সিল নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত (কো-অপট) করতে পারবে। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ এ কাউন্সিলকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। জানা গেছে, বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আলোচিত বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। ডেল্টা প্ল্যান নামে পরিচিত শত বছরের এ মহাপরিকল্পনার অধীনে আপাতত ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ৮০টি প্রকল্প নেবে সরকার।
রাজধানীতে ৮ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকারের জরিমানা
০৪জুলাই,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীতে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিমূলক অভিযানে ৮ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (০৪ জুলাই) দিনব্যাপী এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারওরান বাজার, শান্তিনগর, রামপুরা বাজার, মালিবাগ বাজার ও খিলগাঁও বাজারে তদারকি করা হয়। তদারকিকালে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, অধিকমূল্যে পণ্য বিক্রয়, নকল স্যানিটাইজার বিক্রিসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে ৮টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার জন্য মাইকিং করে সচেতন করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় এসব অভিযানে নেতৃত্ব দেন প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মাসুম আরেফিন, বিকাশ চন্দ্র দাস ও সহকারী পরিচালক মাগফুর রহমান। এ প্রসঙ্গে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বাবলু কুমার সাহা ব্যবসায়ীদের পণ্যের ক্যাশ মেমো সংরক্ষণ করতে, পণ্যের মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে এবং নকল ও ভেজাল স্যানিটাইজার পণ্য বিক্রয় থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানান।
ঈদের আগে বেতন-ভাতা পরিশোধের আহ্বান কাদেরের
০৪জুলাই,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প ও অন্যান্য শিল্প সমূহে ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে মালিকরা বরাবরের মতো এবারও সহমর্মিতার নজির স্থাপন করবেন বলে বিশ্বাস করি। বুধবার (৪ জুলাই) সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাস ভবন থেকে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে তৈরি পোশাক শিল্প ও অন্যান্য শিল্প সমূহে ঈদের আগে পর্যায়ক্রমে ছুটি দিতে বিজেএমইএ এবং বিকেএমইএ'র প্রতি আহ্বান জানান তিনি৷ ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদুল আজহার তিনদিন আগে থেকে সড়ক মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক,কাভার্ডভ্যান বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি৷ তবে কৃষি, শিল্প ও রপ্তানিমুখী পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ত্রাণ, জ্বালানি, ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল পণ্যসহ জরুরি সার্ভিস এর আওতামুক্ত থাকবে। ঈদের আগে পরে ৮ দিন সড়ক-মহাসড়ক সংলগ্ন সিএনজি স্টেশনগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। সড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পশুর হাটের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গাইডলাইন তৈরি করতে হবে৷ সড়ক-মহাসড়কের উপরে কিংবা আশপাশে পশুর হাট বসানো যাবে না৷ প্রয়োজনে এ বছর কম সংখ্যক হাট বসানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে অনলাইনে পশু বেচা-কেনার বিষয়টিও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি কোরবানির ঈদ কেন্দ্রিক অর্থনীতির সাথে অনেক মানুষের জীবন ও জীবিকা সংযুক্ত। পশুপালন, অ্যানিম্যাল ফার্মিং,পশুর চামড়া রপ্তানিসহ ঈদ-অর্থনীতি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জীবনের পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শেখ হাসিনা সরকারের যে অবস্থান তা এগিয়ে নিতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও আহ্বান জানাচ্ছি। ভাড়াটিয়াদের সাথে বাড়িওয়ালাদের অমানবিক আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের মালপত্র ফেলে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংকটে অনেকের আয় কমেছে, হারিয়েছে চাকরি, আবার কেউ কেউ পরিবার নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছেন, এমন পরিস্থিতিতে একে অপরের প্রতি সমব্যথী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণখাতের অধিকাংশ ঋনগ্রহীতা প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী। করোনার আকস্মিক অভিঘাত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় ও জীবনযাপনে ফেলেছে নেতিবাচক প্রভাব ৷ অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে চলছে, অন্য দিকে ঋণ গ্রহীতাদের অনেকে ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের ওপর কিস্তি শোধের বাড়তি চাপ—জীবনযুদ্ধ থেকে তাদের ছিটকে দিতে পারে, ভেঙে দিতে পারে মনোবল। এদের প্রতি সমব্যথী হতে হবে।
মিশর থেকে ফিরলেন ৪১ বাংলাদেশি
৪জুলাই,শনিবার, নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে করোনায় দীর্ঘদিন মিশরে আটকে পড়া ৪১ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় ফ্লাইটটি যাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মিশরে বিভিন্ন কাজে গিয়ে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে আটকা পড়েন এসব বাংলাদেশি। সরকার তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করে। জানা গেছে, কোভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে অাসায় এসব নাগরিককে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পাটকল আধুনিকায়ন করতেই বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকারের
০৩,জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিজেএমসির পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একে আরও সক্ষম করে গড়ে তুলতে উৎপাদন বন্ধ করে শ্রমিকদের এককালীন পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে শ্রমিকদের প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার পাওনা পরিশোধ করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সকালে গণভবনে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো নিয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জানা গেছে, বর্তমানে দেশে যে পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হয়, তার শতকরা ৯৫ শতাংশই বেসরকারি পাটকলে উৎপাদিত হয়। সরকারি খাতটি অত্যন্ত স্কুইজড (সংকুচিত) হয়ে গেছে। যা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছিল না। তাই সরকারি খাতের পাটকলগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে শ্রমিকদের সমুদয় পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলোকে আবার প্রতিযোগিতায় কীভাবে আনা যায় এবং কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, সে বিবেচনায় এখন পাটকলগুলো বন্ধ করার ঘোষণা করা হয়েছে। এসব পাটকল বন্ধ থাকলে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়, চালু থাকলে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ক্ষতি হয়। কাজেই এসব পাটকলের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ভাইদের জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তার জন্য সরকার তাদের ২০১৫ সালের জাতীয় মজুরি কাঠামো অনুযায়ী সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনাও দিয়েছেন, যে পাটকলগুলো বন্ধ আছে, সেগুলো কীভাবে চালু করা যায় এবং সেগুলো যাতে বর্তমান এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। এ সংক্রান্ত একটি কর্মপন্থা প্রস্তুত করে অতি দ্রুত তার কাছে নিয়ে আসার জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো গত ৪৮ বছরের মধ্যে শুধু চার বছর লাভের মুখ দেখেছে এবং ৪৪ বছর ধরে অব্যাহতভাবে মোট ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। লোকসান হলে কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য সরকারের অর্থের ওপর নির্ভর করতে হত বলে প্রতি মাসেই শ্রমিক-কর্মচারীদের এ সংক্রান্ত সমস্যা চলছিল। পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের লক্ষ্যে আগামী তিনদিনের মধ্যে তাদের তালিকা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৫ সালের সর্বশেষ মজুরি কাঠামো অনুযায়ী পাটকলগুলোর ২৫ হাজার শ্রমিককে তাদের অবসরকালীন সুবিধাসহ পাওনা পরিশোধ বাবদ সরকারের ৫০০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। পাটখাতের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নজর রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর দর্শন হচ্ছে পাটকল শ্রমিকদের বাঁচানো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ইতোপূর্বে পাটের জন্মরহস্য উন্মোচনের জন্য গবেষণা খাতে অর্থায়ন করেছিলেন এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহারের ওপর বিশেষ নজর দেন। প্রধানমন্ত্রী বন্ধের সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব শ্রমিক অনধিক দুই লাখ টাকা প্রাপ্য, তাদের পুরো টাকা এককালীন নগদ পরিশোধ করা হবে। এছাড়া দুই লাখ টাকার বেশি পাওনাদার শ্রমিকরা গড়ে ১৩ দশমিক ৮৬ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫৪ লাখ টাকা পাবেন। পাওনা টাকার মধ্যে ৫০ শতাংশ এককালীন নগদ এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনমাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আকারে পরিশোধ করা হবে। ১১ শতাংশ সুদে প্রত্যেক শ্রমিক প্রতি তিন মাসে সর্বনিম্ন ১৯ হাজার ৩২০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৪ হাজার ৫২০ টাকা পর্যন্ত পাবেন। এছাড়া অনেক আগে অবসরে যাওয়া ৮ হাজার ৯৫৬ জন পাটকল শ্রমিকের অবসর ভাতা পরিশোধ করতে ওসরকারের ১০২০ কোটি টাকা খরচ হবে। পাটকল শ্রমিকদের পাওনা টাকা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে এবং কোন পাটকল অথবা অন্য কোন মধ্যস্বত্বভোগী এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকবে না। অবসরভোগীদের টাকা আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্টে চলে যাবে। এখানে কাউকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে না এবং পরবর্তীতে এ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের ফলে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের স্বার্থ বাঁচানোর জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর