সোমবার, আগস্ট ২, ২০২১
শনিবার জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী
০৪,জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শনিবার বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ২০২১-এর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে সোনালু, জাম, আমড়া ও ডুমুর গাছের চারটি চারা রোপণের মাধ্যমে এই অভিযানের উদ্বোধন করা হবে। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এবং সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুজিববর্ষে অঙ্গীকার করি, সোনার বাংলা সবুজ করি প্রতিপাদ্যে এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২১ উদযাপন করা হবে। এ স্লোগান বাংলাদেশকে সবুজে শ্যামলে ভরিয়ে দিতে সর্বস্তরের জনসাধারণকে উজ্জীবিত করবে। অপরদিকে, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির ঘোষণা অনুযায়ী- প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, হোক সবার অঙ্গীকার প্রতিপাদ্যে এবং প্রকৃতি সংরক্ষণ করি, প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করি স্লোগানে বিশ্বপ্যাপী দিবসটি উদযাপন হচ্ছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে উপলক্ষ করে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্ম প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার দীপংকর বর জানান, জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদফতর ও বন অধিদফতরের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারের পাশাপাশি মোবাইলফোনে পরিবেশ বিষয়ক বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান, স্থাপনা ও সড়কে ব্যানার, ফেস্টুন স্থাপন করে পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে মানুষকে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
জাতীয় চা দিবস আজ
০৪,জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় চা দিবস উদযাপন করা হচ্ছে আজ (৪ জুন)। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় চা বোর্ডের উদ্যোগে দিবসটি উদযাপনে আয়োজন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত বুধবার বাংলাদেশ চা বোর্ড আয়োজিত এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এবারের চা দিবসের প্রতিপাদ্য, মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, চা শিল্পের প্রসার। ১৯৫৭ সালের ৪ জুন প্রথম বাঙালি হিসেবে তৎকালীন চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। চা বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালে এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে চা শিল্পে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছর ৪ জুন চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও চা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া চা উৎপাদনকারী অঞ্চল চট্টগ্রাম, সিলেট ও পঞ্চগড়ে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, সুদীর্ঘ ১৮০ বছর ধরে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে চা শিল্প গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। দেশের সাধারণ মানুষের সামাজিকতা, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে চা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান। তিনি ৪ জুন ১৯৫৭ থেকে ২৩ অক্টোবর ১৯৫৮ পর্যন্ত চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চা শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত চা শিল্পের পুনর্বাসনে অসামান্য অবদান রাখেন তিনি। এর প্রেক্ষিতে ৪ জুন জাতীয় চা দিবস পালনের উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক গৃহীত নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে দেশে চায়ের উৎপাদন গত ১০ বছরে প্রায় ৬০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে বাংলাদেশে সর্বাধিক ৯৬ দশমিক ০৭ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়। চা রফতানির পুরাতন ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে সরকার এর উৎপাদনের পাশাপাশি বিপণনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে। ফলে, ২০২০ সালে ১৯টি দেশে চা রফতানি করে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হয়েছে। আমরা চা আইন ২০১৬ প্রণয়ন করেছি।
জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ৭.২ শতাংশ নির্ধারণ
০৩,জুন,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত অর্থ বছরে সরকার বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ দশমিক ২ শতাংশ ধরেছিল। কিন্তু করোনার হানায় সে লক্ষ্যে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। ফলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেটে লক্ষ্য মাত্রায় রাশ টেনেছেন। এবার তিনি জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন ৭ দশমিক ২ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য উত্থাপিত ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার এই বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সেখানে তিনি এবারের জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও উৎকর্ষ সাধন এবং প্রাজ্ঞ রাজস্ব নীতি ও সহায়ক মুদ্রা নীতি অনুসরণের মাধ্যমে সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত এক দশকে বাংলাদেশের উচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন কোভিড মহামারীর প্রভাবে সাময়িক বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হলেও করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে তা হ্রাস পেয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যা ছিল এশিয়ার মধ্যে সবার উপরে। তিনি বলেন, মহামারীর প্রভাব দীর্ঘতর হওয়া, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ এবং পুনরায় লকডাউন ঘোষণার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শ্লথ অবস্থা বিরাজমান। রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে আসেনি। তার মতে, প্রবাসী আয়ে গতিশীলতা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নকে হিসাবে ধরে বিদায়ী অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমলেও ৬ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সংসদে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন
০৩,জুন,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। জীবন ও জীবিকার প্রাধান্য, আগামীর বাংলাদেশ শীর্ষক প্রস্তাবিত বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বেলা ৩টার দিকে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতার মাধ্যমে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ শুরু করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার এটি তৃতীয় বাজেট। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রীদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, তথ্যমন্ত্রী ড হাছান মাহমুদ প্রমুখ। এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ জুন) দুপুরে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এতে অংশ নেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। প্রতিবছর বাজেট ঘোষণার দিন মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক বসে, সেখানে বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়। ২ জুন বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশন বসে। অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে আজ নতুন অর্থবছরের (২০২১-২০২২) প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
৮৮ ডলার থেকে মাথাপিছু আয় ২২২৭ ডলার
০৩,জুন,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার প্রভাবে বেশিরভাগ দেশে প্রবৃদ্ধি অর্জন কমলেও ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সবার চেয়ে ওপরে লাল-সবুজের পতাকা। শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে তিন শতাংশে দাঁড়ালেও সেক্ষেত্রে উল্টো দাপট দেখিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির প্রভাবে বেড়েছে মাথাপিছু আয়ও। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৮৮ ইউএস ডলার, তখন বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ছিল ৬৭৬ টাকা। এখন মাথাপিছু আয় বেড়েছে কয়েকগুণ। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই দ্রুত সমৃদ্ধি অর্জন করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। উল্লেখ্য, ২০২০-২১ অর্থবছরে মাথাপিছু আয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমানে ভারতের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ১৯১ ডলার। আর পাকিস্তানকে অনেক আগেই আমরা পেছনে ফেলে এসেছি। দেশটির মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৫৪৩ টাকা। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে দেশে বার্ষিক মাথাপিছু আয় ছিল ৬৭৬ টাকা। সে হিসেবে একজনের দৈনিক আয় ছিল ১ টাকা ৮৫ পয়সা। সেখান থেকে ক্রমাগতভাবে বেড়ে বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১ লাখ ৯১ হাজার ৫২২ টাকা। দৈনিক হিসেবে প্রতিজন বর্তমানে ৫২৫ টাকা আয় করেন, যা আগের মাথাপিছু আয়ের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি মধ্য আয়ের উন্নয়নশীল এবং স্থিতিশীল অর্থনীতি। এ অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে মধ্যম হারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির জন্য আমদানি নির্ভরতা, বৈদেশিক সাহায্যের ওপর ক্রমহ্রাসমান নির্ভরতা এবং কৃষি খাতের সংকোচনের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প ও সেবা খাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুততার সাথে সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বৃহত্তম শিল্পের মধ্যে অন্যতম। ১৯৮০ সালের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এসময় পাট রপ্তানি করে দেশটি অধিকাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে তৈরি পোশাক শিল্প। এই শিল্প দেশীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের এই শিল্পকে বর্তমানে উন্নত বিশ্বসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো অনুকরণ করছে। স্বাধীনতার পরে যেসব শিল্প আমাদের অর্থনীতিকে মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম তৈরি পোশাক শিল্প। বিশ্বের বুকে নিজেদের কঠোর শ্রম ও উৎপাদন দক্ষতা দেখাতে পারার প্রমাণ মিলে এ শিল্পের মাধ্যমে। বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২-৭৩ থেকে ১৯৭৯-৮০ পর্যন্ত গড়ে ২১ দশমিক ০৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। ১৯৮০-৮১ থেকে ১৯৮৯-৯০ পর্যন্ত গড়ে ১১.২০ % , ১৯৯০-৯১ থেকে ১৯৯৯-২০০০ পর্যন্ত গড়ে ৭.২২ % , ২০০০-০১ থেকে ২০০৯-১০ পর্যন্ত গড়ে ৯.৯৬ % এবং ২০১০-১১ থেকে ২০১৮-১৯ পর্যন্ত গড়ে ১২,৩৩ % হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। অর্থনীতিতে বাংলাদেশ বর্তমানে ৪৩তম দেশ এবং দ্রুত বর্ধনশীল দেশসমূহের মধ্যে পঞ্চম। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭২- ৭৩ অর্থবছরে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল ৮৮ মার্কিন ডলার যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২২৭ ডলার। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনীতির তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, জিডিপির প্রবৃদ্ধি সর্বদাই ছিল ধনাত্মক। বিশ্ব অর্থনীতির সাথে পাল্লা দিয়ে সমানভাবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। ক্রমবর্ধমান দেশজ উৎপাদন আর মাথাপিছু আয় তারই ইঙ্গিত বহন করে। সূত্র: বাংলা নিউজ
দেশে ভ্যাকসিন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী
০২,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিদেশ থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের পাশাপাশি দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে বিভিন্ন দেশ ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে বলেও তিনি জানান। বুধবার (২ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের মনিরা সুলতানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তর পর্বে টেবিলে উত্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার করোনা মহামারি থেকে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি দরিদ্র মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতা প্রদানসহ জীবিকা ও অর্থনীতি বাঁচাতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনসহ করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের জন্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, যথাসময়ে টেস্টিং কিট আমদানি এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ল্যাব স্থাপনসহ করোনা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করায় করোনা বিস্তার রোধে দক্ষিণ এশিয়াসহ অনেক উন্নত দেশের চেয়ে বাংলাদেশ সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। তিনি বলেন, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে বিশ্বের যেসব দেশ টিকা প্রদান কার্যক্রম সর্বপ্রথম শুরু করতে সক্ষম হয়, বাংলাদেশ তার অন্যতম। যথাসময়ে করোনাভাইরাসের টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। টিকা সংগ্রহে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো হচ্ছে- ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে সংগৃহীত এবং ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে প্রাপ্তসহ মোট এক কোটি ২ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দিয়ে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত ১৮ মে ২০২১ পর্যন্ত দেশের চল্লিশোর্ধ্ব ও সম্মুখ সারির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে ৯৬ লাখ ৪১ হাজার ৩১২ ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভাক্স ফ্যাসিলিটি থেকে ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য ভ্যাকসিন সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য কোভাক্স ফ্যাসিলিটি বরাবর পত্র প্রেরণ করেছে।
৪ জুন থেকে চলবে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট
০২,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী ৪ জুন শুক্রবার থেকে আবারও আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চালুর অনুমতি দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তবে এক্ষেত্রে ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়া, আর্জেন্টিনাসহ ১১টি দেশে থেকে শুধু বাংলাদেশি যাত্রীরা দেশে ফিরতে পারবে। বেবিচকের সদস্য গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী এম জিয়াউল কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ঢাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৮০ জন যাত্রী নিয়ে ন্যারো বডি ও ওয়াইড বডির এয়ারক্রাফটগুলো ছেড়ে যেতে পারবে। তবে বি৭৪৭ ও বি৭৭৭ সর্বোচ্চ ৩৫০ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। দেশে আসা ফ্লাইটগুলোর ক্ষেত্রে যাত্রী সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ১৮০ জন। প্রতিটি ফ্লাইটে ইকোনমি ক্লাসে দুইটি এবং বিজনেস ক্লাসে একটি করে আসন ফাঁকা রাখতে হবে। কোনো যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তাৎক্ষণিক সেই আসনগুলোতে স্থানান্তর করতে হবে। নির্দেশনায় বলা হয়, ভারত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, আর্জেন্টিনা, বাহারাইনসহ ১১টি থেকে বাংলাদেশি ছাড়া কেউ দেশে আসতে পারবেন না এবং কোনো বাংলাদেশিও এসব দেশে ভ্রমণ করতে যেতে পারবেনা। যারা কেবল ১৫ দিন আগে ওই দেশগুলোতে গিয়েছেন তারাই ফ্লাইটে ফিরতে পারবেন। দেশে এসে যাত্রীদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এর বাইরে কুয়েত ওমানসহ আটটি দেশের নাম উল্লেখ করা হয় যেখান থেকে যে কোন দেশের নাগরিক দেশে আসতে এবং যেতে পারবেন। শুধু কুয়েত ও থেকে ওমান থেকে আসা যাত্রীদের তিনদিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। আর বাকি ছয়টি দেশের যাত্রীদের জন্য ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক।
বঙ্গবন্ধুর চার খুনির মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
০২,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার খুনির মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বুধবার (০২ জুন) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, চার খুনির মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এখন গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। বাতিল হচ্ছে যাদের খেতাব, ক্যাপ্টেন নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম খেতাব পাওয়া), মেজর শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম খেতাব পাওয়া), রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক খেতাব পাওয়া) ও মোসলেহ উদ্দিন খান (বীর প্রতীক খেতাব পাওয়া)। জানা গেছে, সর্বোচ্চ আদালত ওই খুনিদের ফাঁসির আদেশ দিলেও মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ও গেজেটে তাঁদের নাম থাকার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কিছুদিন আগেই এই চার খুনির খেতাব বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় মনে করে, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় বঙ্গবন্ধুর এই চার খুনির নাম থাকা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।
হতাশায় রোহিঙ্গারা ভাসানচর থেকে পালিয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
০২,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পালিয়ে আসার চার বছরেও দেশে ফিরতে না পেরে হতাশায় রোহিঙ্গারা ভাসানচর থেকে পালিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বুধবার (২ জুন) ইউএনএইচসিআরের দুই সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিরা যাওয়ার পরে রোহিঙ্গারা হতাশায় পালিয়েছিল। কী করবে বেচারা বাচ্চা-কাচ্চা আছে, পড়ালেখা নেই। তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। বুধবার সকাল ১১টার দিকে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনার ফর প্রটেকশন গিলিয়ান ট্রিগস ও অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনার ফর অপারেশনস রাউফ মাজুও, জাতিসংঘের বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। জাতিসংঘের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই-কমিশনার ফর প্রটেকশন গিলিয়ান ট্রিগস ও অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই-কমিশনার ফর অপারেশনস রাউফ মাজুও বলেন, বাংলাদেশসহ সবজায়গা শরণার্থীদের পাশে থাকবে ইউএনএইচসিআর। অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে রোহিঙ্গাদের পাশে। করোনা থেকে রক্ষায় রোহিঙ্গাদের জন্য খুব ভালো কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বসবাসের জায়গা কক্সবাজারের চেয়ে ভালো। এখানে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করা হবে। রোহিঙ্গাদের সহায়তায়, পুর্নবাসনে ভাসানচরে যুক্ত হবে জাতিসংঘ। এসময় তারা ভাসানচরে অর্থায়ন ও জাতিসংঘের কার্যক্রম শুরু করাসহ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর