মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৯, ২০২১
ঢাকায় জিসিএ এর আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
০৮সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন-এর চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের ৮ম মহাসচিব বান কি মুন এবং নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সাথে ঢাকায় জিসিএ এর নতুন আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করেছেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এ কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর,আগারগাঁও, ঢাকায় অবস্থিত আঞ্চলিক কার্যালয়টি জলবায়ু পরিবর্তন জনিত জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় কার্যকর অভিযোজন সমস্যা সমাধানে দক্ষিণ এশিয়ার সরকার, সিটি মেয়র, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং সুশীল সমাজের সাথে কাজ করবে। গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০১৯ অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের জন্য বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ঝুঁকিপুর্ণ। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম ও ভালনারেবল গ্রুপ অব টুয়েন্টি (ভি২০) ফিনান্স মিনিস্টার্স এর সভাপতি বাংলাদেশ এবং বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা তৈরি করেছে। জিসিএ বাংলাদেশ অফিস মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় অভিযোজনের ক্ষেত্রসমূহ শক্তিশালীকরণ এবং সমগ্র অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিসমূহ দূর করতে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম জোরদারকরণে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের সভাপতিত্বকালীন সময়ে এটি জলবায়ু ভিত্তিক দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা সিভিএফ এবং ভি২০ এর সচিবালয় হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া এটি ডেল্টা জোটের সচিবালয় হিসেবেও কাজ করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ অফিস সুনীল অর্থনীতি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকীর প্রতি উৎসর্গীকৃত এ ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর প্রথম সারির একটি দেশ বাংলাদেশ। তিনি আরো বলেন যে শিশু, নারী, বয়স্ক মানুষ এবং বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ঝুঁকির বিষয়টি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। তিনি এই হুমকি মোকাবেলা এবং ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে এ বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ নির্ধারিত অবদান(এনডিসি) সম্পন্ন করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন-এর চেয়ারম্যান এবং জাতিসংঘের ৮ম মহাসচিব বান কি মুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে একটি জনগোষ্ঠি কতটা উদ্ভাবনী হতে পারে বাংলাদেশ তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। জিসিএ বাংলাদেশের মাধ্যমে তাঁদের মূল্যবান শিক্ষা গ্রহণ করে বাকি বিশ্ব নতুন জলবায়ু বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে। নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তে বলেন, আমাদের দেশগুলো জলবায়ু অভিযোজনের গুরুত্ব সম্পর্কে খুব সচেতন। পাশাপাশি আমাদের কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাসে বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনের উপযুক্ত ক্ষেত্র। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হতে এখন অভিযোজন কার্যক্রমে বিনিয়োগ করতে হবে। এর জন্য টাকা খরচের দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা স্বল্পমেয়াদী খরচের চেয়ে অনেক বেশি কল্যাণকর হবে। গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট্রিক ভার্কুইজেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জলবায়ু সহিষ্ণুতা জোরদারকরণে অনেক উদ্ভাবনী সমাধান রয়েছে। এই অঞ্চলের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলার জন্য তাদের যথাযথ প্রস্তুতি নেয়া জরুরি প্রয়োজন। সমাধান হিসেবে জিসিএ এর ভূমিকার মাধ্যমে জিসিএ বাংলাদেশ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশে সবচেয়ে কার্যকর অভিযোজন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য মন্ত্রীরাও এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়; ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী লিনোপ টেন্ডি দরজি; মালদ্বীপের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হোসেন রশীদ হাসান, নেপালের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শক্তি বাহাদুর বাসনেট, পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহকারী মালিক আমিন আসলাম খান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং জিসিএ বোর্ডের সদস্য একে আব্দুল মোমেন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন ও বক্তব্য রাখেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আঞ্চলিক গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন বাংলাদেশ (জিসিএ বাংলাদেশ) এর ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি প্রেস কনফারেন্স এর আয়োজন করে। প্রেস কনফারেন্স এ পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এমপি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন-এর চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের ৮ম মহাসচিব বান কি মুন এসময় বক্তব্য রাখেন। প্রেস কনফারেন্স এর পর প্রথম বার্ষিক জিসিএ সাউথ এশিয়া পার্টনারশিপ ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। এটি আঞ্চলিক অভিযোজন অগ্রাধিকারের বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান স্টেকহোল্ডার এবং নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনার সুযোগ প্রদান করে, যার মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নেতা এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি সংগ্রহ করা যাতে জানা যায় যে জিসিএ বাংলাদেশ কিভাবে তাদের সর্বোত্তম সমর্থন করতে পারে তার পন্থা উদ্ভাবন করা। জিসিএ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় জিসিএ এবং তার সহযোগীদের দ্বারা চিহ্নিত জলবায়ু অভিযোজনের অগ্রাধিকা্র এর ওপর গুরুত্বারোপ করবে। এটি স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন কার্যক্রম, শহুরে প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার জন্য পানি, অধিকতর স্থিতিশীল অবকাঠামো, জলবায়ু অর্থায়ন, যুব নেতৃত্ব এবং জ্ঞান এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রকৃতির ব্যবহার নিশ্চিত করার উপায় বের করে তার বাস্তবায়নের পথে প্রয়োজনীয় সম্পদ বিনিয়োগ করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সারা বিশ্বের তরুণদের শিক্ষার সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে তাদের ভূমিকাকে অভিযোজন এজেন্ডায় যুক্ত, ক্ষমতায়ন এবং সম্প্রসারণের জন্য বৈশ্বিক প্রধান প্লাটফর্ম জিসিএ'র ইয়ুথ অ্যাডাপ্টেশন নেটওয়ার্ক নিয়ে আলোচনার জন্য ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের এম্বাসেডর সায়মা ওয়াজেদ হোসেনও ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে আজ থেকে জিসিএ'র দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয়, ঢাকা কাজ শুরু করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমদ শামীম আল রাজীকে অফিসের রুটিন দায়িত্ব পালনের জন্য আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার বিষয়ে কাজ করতে প্রাথমিকভাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। চীনের বেইজিং-এ আরেকটি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। এটি এশিয়ার দ্বিতীয় আঞ্চলিক কার্যালয়।
সরকার পরিবর্তন চাইলে বিএনপিকে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষার আহ্বান
০৮সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকার পরিবর্তন চাইলে বিএনপিকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের কোনো পরিস্থিতি দেশে বিরাজমান নেই বলও মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর থেকে ঢাকা এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন বাস Rapid ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ কথা বলেন সেতুমন্ত্রী। ওবায়দুল কাদের সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ পর্যালোচনা সভায় যুক্ত হন। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন হয় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের কোনো পরিস্থিতি দেশে বিরাজমান নেই। বিএনপি যদি চোরাগলি দিয়ে ক্ষমতার স্বর্ণদুয়ারে পৌঁছবেন বলে ভাবে তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছে। গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ না থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালিত না হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এবিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানাচ্ছি। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধির প্রতি কঠোর হওয়ারও আহ্বান জানান। ওবায়দুল কাদের দেশব্যাপী শর্ত লঙ্ঘনসহ সড়কে শৃঙ্খলা বিধানে বিআরটিএ এবং জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশ দেন। এসময় ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
সশস্ত্র বাহিনীতে উপযুক্ত কর্মকর্তা যেন পদোন্নতি পান : প্রধানমন্ত্রী
০৮সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যেসব অফিসার সামরিক জীবনে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানে সফল হয়েছেন পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাদেরই বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ, ২০২০-এর প্রথম পর্বের বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে এ আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর অফিসারদের পদোন্নতির জন্য আধুনিক পদ্ধতি অর্থাৎ ট্রেস ট্যাবুলেটেড রেকর্ড অ্যান্ড কম্পারেটিভ ইভ্যালুয়েশনের মাধ্যমে তুলনামূলক মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেন আপনারা। আমি চাই এর পাশাপাশি আপনারা এমন অফিসারদের বিবেচনায় আনেন, যিনি খাতাকলমে বেশি নম্বর না পেলেও ফিল্ডে ভালো কাজ করতে পারেন, কমান্ড করতে পারেন বা তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো ক্ষমতা রাখেন। যেসব অফিসার সামরিক জীবনে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানে সফল হয়েছেন পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই বিবেচনা করবেন। আর যেকোনো কর্মকর্তাকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অবশ্যই তার পেশাগত মান, যোগ্যতা ও দক্ষতা বিবেচনা অগ্রাধিকার দেবেন। শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু সশস্ত্র বাহিনী একটা সুশৃঙ্খল বাহিনী, এ সুশৃঙ্খল বাহিনীতে যারা পদোন্নতি পাবেন তারা সব সময় একটা শৃঙ্খলা রক্ষা করে চলতে পারবেন। কারণ শৃঙ্খলাটা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। কাজেই শৃঙ্খলা সম্পর্কে যারা যথেষ্ট সচেতন তারা যেমন ঊর্ধ্বতনদের প্রতি অনুগত থাকবেন, তেমনি অধস্তনদের ব্যাপারেও দায়িত্ববান হবেন। সেই ধরনের অফিসার আপনারা নিয়ে আসবেন যারা সৎ, বিশ্বস্ত ও অনুগত। কারণ সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য না থাকলে কেউ ভালো নেতৃত্ব দিতে পারে না, ভালো দক্ষতার পরিচয় দিতে পারে না। কাজেই সেটা অত্যন্ত জরুরি। সেদিকে আপনারা বিশেষ দৃষ্টি দেবেন। সরকারপ্রধান বলেন, আপনারা বোর্ডে বসে উপযুক্তদের নিয়ে আসবেন, যাতে আগামী দিনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আরো সুদক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়। আমরা যেন সব সময় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গর্ববোধ করতে পারি। উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদে আপনারা সব জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা একত্রিত হয়েছেন। আপনাদের প্রজ্ঞা, বিচার-বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর আমার যথেষ্ট আস্থা আছে। আমি শুধু এটুকু অনুরোধ করব যে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে উপযুক্ত কর্মকর্তারা যেন প্রমোশনটা পায়। আপনারা ন্যায়নীতির ভিত্তিতে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে এ প্রমোশন দেবেন, যাতে সবার ভেতরে একটা আস্থা আসে। আমি জানি, অনেকেই উপযুক্ত থাকেন, তাই সবাইকে দেয়া যায় না। কারণ পদটা সীমিত। তার পরও আপনারা অবশ্যই দেখবেন, যারা সত্যিকার উপযুক্ত তারা যেন প্রমোশন পায়। সব দিকে নজর রেখে সশস্ত্র বাহিনীকে ঢেলে সাজানো হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছি, যাতে সব ধরনের ট্রেনিংটা সবাই পায়। আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন একটা সশস্ত্র বাহিনী আমরা গড়ে তুলতে চাই। আর সেটাই আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা এ দেশটাকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা আমাদের নীতিমালাও নিয়েছি। তিনি বলেন, এ দেশ স্বাধীন করেছি লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে। শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দিতে পারি না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাসী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে যারা বিশ্বাসী, যারা বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বাসী নিশ্চয়ই তাদের আদর্শ নিয়েই চলতে হবে। দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাসী হবে, তারাই যেন দায়িত্ব পায়। যাতে তারা সঠিক পথে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। সেনা সদর দপ্তর থেকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী সদর দপ্তর থেকে নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল ও বিমান বাহিনী সদর দপ্তর থেকে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন এ সময়।
তিতাসের চার কর্মকর্তাসহ ৮ জন সাময়িক বরখাস্ত
০৭সেপ্টেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জের মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪ কর্মকর্তাসহ ৮ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মো. আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা কবলিত ওই মসজিদটি ফতুল্লা আঞ্চলিক অফিসের অধীনে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন, ব্যবস্থাপক প্রকৌ. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রাব্বী, সহকারী প্রকৌশলী এস.এম. হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী প্রকৌ. মানিক মিয়া, সিনিয়র সুপারভাইজার মোঃ মনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী মো. আইউব আলী, সাহায্যকারী মো. হানিফ মিয়া এবং প্র.কর্মী মো. ইসমাইল প্রধান। উল্লেখ, গত শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লার বায়তুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা। এতে ২৭ জন নিহত হয়। অভিযোগ উঠেছে তিতাস গ্যাসের পাইপের লিকেজ থেকে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে। গ্যাস পাইপের লিকেজের বিষয়ে তিতাসকে অবহিত করলেও তারা ঘুষ দাবি করেন। সেই ঘুষ না দেয়ায় লাইনটি মেরামত করা হয়নি বলে মসজিদ কমিটি অভিযোগ করেছে।
ট্রাভেল এজেন্সির শাখা খোলা যাবে, সংসদে বিল
০৭সেপ্টেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর মালিকানা হস্তান্তর এবং দেশ-বিদেশে শাখা খোলার সুযোগ তৈরি করতে বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে উঠেছে। আজ সোমবার ২০১৩ সালের এ সংক্রান্ত আইন সংশোধনের জন্য বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল-২০২০ সংসদে তোলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। পরে বিলটি এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বলেন, বিদ্যমান আইনটি বেশ শক্ত। ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর টিকিট দুর্নীতিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির খবর আমরা জানি। এখন কেন বিলটি নরম করা হলো? তবে ফখরুল ইমামের প্রস্তাবটি সংসদে নাকচ হয়ে যায়। আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে পাস হলে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশে-বিদেশে শাখা অফিস খুলতে পারবে। বর্তমানে কোন অপরাধের জন্য ট্রাভেল এজেন্সিকে জরিমানার সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষ তাদের নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করে। আইনটি সংশোধন হলে জরিমানার সুযোগ পাওয়া যাবে। ট্রাভেল এজেন্সিগুলো যৌক্তিক কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন করতে না পারলে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে জরিমানা দিয়ে আবেদন করতে পারবে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন না করলে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যেতো। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে ছয় মাস জেল, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। এ সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য হবে।বিলে বলা হয়েছে অনুমোদন ছাড়া কোন ট্রাভেল এজেন্সি ঠিকানা পাল্টাতে পারবে না। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, আইনটি অনুমোদত হলে নবায়ন আবেদন দাখিলে বিলম্বের ও অপরাধের জন্য লাইসেন্স বাতিলের পরিবর্তে বিধি দ্বারা নির্ধারিত জরিমানা আদায়পূর্বক সনদ নবায়ন এবং নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে মালিকানা হস্তান্তর দেশে বা বিদেশে শাখা অফিস খোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে ট্রাভেল এজেন্সি হতে কাঙ্খিত সেবা প্রাপ্তি সহজ হবে। অধিকন্তু সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।- বণিক বার্তা
পুলিশ বাহিনী সুনাম ক্ষুণ্ন করবে না: তদন্ত কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান
০৭সেপ্টেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুলিশ বাহিনী সুনাম ক্ষুণ্ন করবে না বলে মন্তব্য করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী আইন-শৃঙ্খলার জন্য যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে। এই (সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার) ঘটনাটি কোনোভাবেই পুলিশ বাহিনী ভূমিকাকে ম্লান বা ক্ষুণ্ণ করবে না। তদন্ত কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, আমরা দেখেছি পুলিশ বাহিনী পরিশ্রম করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছে, এটির উদ্দেশ্য কি ও কারণ কি এবং এ ধরনের ঘটনার প্রতিকারের ব্যাপারে কি ধরনের সুপারিশ করা যায়। সে বিষয়ে আমরা চার জন বিশ্লেষণ করেছি। প্রতিবেদনে আমরা হত্যার উৎস, কারণ, করণীয় সম্পর্কে মতামত জানিয়েছি। এ কাজ পুলিশ বাহিনীর সুনামকে ক্ষুণ্ন করবে না। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান এসব কথা বলেন। তদন্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটির চার জনের প্রায় এক মাস সময় লেগেছে ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করতে। অবশেষে সোমবার আমরা প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেছি। প্রথমে আমাদের সাত কর্মদিবস দেওয়া হয়েছিল। সেই আদেশটি আমরা দুই তারিখে পাই। তিন তারিখ আমরা নমিনেশন দিই। চার তারিখ কক্সবাজারে গিয়ে প্রথম সভা করে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছি। আমি প্রতিবেদনে সংযুক্তি দিয়েছি গতমাসের তিন তারিখ থেকে সোমবার পর্যন্ত আমরা কি কি কাজ করেছি, তার বিস্তারিত দিয়েছি। তদন্ত কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান আরও বলেন, আমরা কর্মপরিকল্পনায় নির্ধারণ করেছি কারা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের তালিকা তৈরি করেছি। ওই তালিকায় প্রায় ৬৮ জন রয়েছেন তাদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি, তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছি। এছাড়া ঘটনাস্থলে রাতে ডেমো করে বোঝার চেষ্টা করেছি। মেজর সিনহা যে পাহাড়ে গিয়েছিলেন। সেই পাহাড়ে গিয়েছি সেখানকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। সেসব বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে উৎস, কারণ এবং সুপারিশ প্রণয়ন করেছি।
সরকারের পদক্ষেপে করোনা পরবর্তীতে পুজিবাজার ঊর্ধ্বমূখী: অর্থমন্ত্রী
০৬সেপ্টেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে করোনা পরবর্তীতে পুঁজিবাজার খোলার পর বাজারে শেয়ার মূল্যের ঊর্ধ্বমূখি প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আজ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। মন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারে সিকিউরিটিজের মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধি হওয়া সারা বিশ্বাস্যাপী একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে বিশ্বব্যাপি কভিড-১৯ মহামারীর প্রেক্ষাপটে সারা বিশ্বে পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক দর পতনের প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের লেনদেনও এর ব্যতিক্রম নয়। ওই সময়কালে পুঁজিবাজারের লেনদেনও সাময়িকভাবে বন্ধ ছিলো। করোনা পরবর্তীতে পুঁজিবাজার খোলার পর থেকে সরকারের নেয়া কিছু পদক্ষেপের ফলে বাজারে বর্তমান শেয়ার মূল্যের ঊর্ধ্বমুখি প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ সময় মন্ত্রী পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা তথা উন্নয়নের স্বার্থে এবং অস্বাভাবিক দরপতন রোধে সম্প্রতি নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। সংসেদে দেয়া মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- শেয়ারের ফ্লোর প্রাইজ সম্পর্কিত নির্দেশনা জারি, পুঁজিবাজার উন্নয়নে গত জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক, শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত নীতিমালা জারি, পুজিবাজারে বিনিয়োগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন, পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ ইত্যাদি। বগুড়া-৫ আসনের হাবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে আমদানি পর্যায়ে ১৬ হাজার ১টি শুল্ক মামলার বিপরীতে অনাদায়ী রাজস্বের পরিমাণ সাত হাজার ৫৮৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা। বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত সাত হাজার ৫৫৫ দশমিক ৭৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তার প্রদানে ভারত ও বাংলাদেশ ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২০ সালে ৩০ জুন পর্যন্ত ৯০৪ দশমিক ৭৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ ছাড় হয়েছে। তবে এই অর্থনৈতিক গতি মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারের মেয়াদেই গতি লাভ করেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে তিনটি এলওসি চুক্তির আওতায় সাত দশমিক ৫৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ সকল ঋণের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। যা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যক্তিখাতের দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে। জামালপুর-৫ আসনের মোজাফ্ফর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রী জানান, আমদানি-রফতানিতে অবমূল্যায়ন ও অতিমূল্যায়নের মাধ্যমে মুদ্রাপাচারের কথা আমরা পত্রপত্রিকায় প্রায়ই দেখতাম। এ সংক্রান্ত অভিযোগ আজকাল আর শুনি না। তবে, সুনির্দিষ্ট মানিলন্ডরিংয়ের অভিযোগ পাওয়ার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিয়মিতভাবে তা খতিয়ে দেখছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
গ্যাস লাইনের উপর মসজিদ নির্মাণের অনুমতি ছিল কিনা তদন্ত করা হচ্ছে
০৬সেপ্টেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্যাস লাইনের উপর মসজিদ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও অন্য সব বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণের যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতোমধ্যে সেখানে বিস্ফোরক তদন্ত দল গেছে, তদন্ত হচ্ছে। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে তার তদন্ত হবে। মৃতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মসজিদটি না কি গ্যাসের লাইনের উপরে নির্মাণ করা হয়েছে। সাধারণত গ্যাস লাইনের উপরে কোনো স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয় না। গ্যাস লাইনের উপর মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। সামর্থবানরা অনেক সময় মসজিদে এসি দান করে থাকেন। ওই এসির ক্যাপাসিটি ছিলো কিনা তা দেখা হবে। এছাড়া মসজিদ নির্মাণে ভালোভাবে নকশা করা হয়েছিল কিনা প্রত্যেক বিষয় খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে অনুকূল পরিবেশের অপেক্ষা: কাদের
০৬সেপ্টেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর সেখানে সংক্রমণের হার বাড়ার অভিজ্ঞতায় সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে অনুকূল পরিবেশের জন্য অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। আমেরিকারও বেশ কয়েকটি রাজ্যে খুলে দিয়েছে। এতে সেখানে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অভিজ্ঞতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বিষয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আমাদের শিক্ষামন্ত্রী। গতকাল জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত বঙ্গবন্ধু: বাঙালির চেতনার বাতিঘর শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা সভায় যুক্ত হন। সেতুমন্ত্রী বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি অনুকূলে হলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের নাগরিক, ভবিষ্যতের নেতা; তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কিছুদিন ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি। অনেক দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে উল্লেখ করে জনগণকে আরো বেশি সতর্কভাবে চলতে এবং সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। বঙ্গবন্ধুকে যারা মুছে ফেলতে চেয়েছে তারাই ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যকাণ্ডের খুনিরা ছাড় পাবে না। পালিয়ে থাকা খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তত্পরতা জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণকাজে নিজেকে প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, আবেগহীন রোবট নয়, চাই সমাজঘনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক নিউ জেনারেশন। আমরা পরীক্ষার্থী নয়, শিক্ষার্থী চাই। আমরা জীবিকা না জীবনের জন্য শিক্ষা চাই। এ বাস্তবতা শিক্ষার্থীদের উপলব্ধি করতে হবে। প্রতি শিক্ষাবর্ষে কতজন মানবিক মানুষ আমরা পাচ্ছি শিক্ষা ব্যবস্থার এ ব্যপারে আমাদের নজর দেয়া দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি থাকবে সেটা স্বাভাবিক, কিন্তু ছাত্র রাজনীতি আর শিক্ষক রাজনীতির আকার-প্রকার আর ধরনে ভিন্নতা রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিভেদের দেয়াল চাই না। বিভেদের রাজনীতি আমাদের পিছিয়ে দেবে। সম্প্রীতি এগিয়ে নেবে অর্জনের সোনালি দিগন্তে। শেখ হাসিনার সরকার অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর