সরকারি মদদেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা: প্রধানমন্ত্রী
২১আগস্ট,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক জিয়া এবং তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার সরাসরি জড়িত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের মদদ না থাকলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটানো সম্ভব হতো না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা জানান তিনি। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতা এসে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ঘটায়। এর সঙ্গে তার ছেলে তারেক রহমান যে জড়িত সেটাও যারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তাদেরই কথায় বেরিয়ে এসেছে তারা কোথায় মিটিং করেছে, কীভাবে এই ষড়যন্ত্র করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, এই সন্ত্রাসীদের এক জায়গায় করা, তাদের ট্রেনিং দেওয়া, তাদের আনা, পরবর্তীতে তাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। তাদের মনে হয়েছিল আমি মারা গেছি। যখন শুনেছে আমি মারা যাইনি তখন তাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। ওই হামলাকারীরা তারা যাতে নির্বিঘ্নে ওই এলাকা ত্যাগ করতে পারে সেই সুযোগটা সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছিল। কাজেই সরকারের মদত না থাকলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এভাবে হতে পারে না। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি সরকার যদি এর সঙ্গে জড়িত নাই থাকবে তাহলে তারা আলামতগুলো কেন নষ্ট করবে? ওই গ্রেনেড হামলার পরেই সিটি করপোরেশনে তখন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা তার লোকজন নিয়ে এসে পুরো এলাকা ধুয়ে ফেলে। আর যে গ্রেনেডটা ওখানে পাওয়া গিয়েছিল একটা রমনা ভবনের কোণায়, আরেকটা ওই স্পটেই ছিল বিস্ফোরিত হয়নি। আরেকটা বিস্ফোরিত হয়েছে আমি যখন ওখান থেকে চলে আসি গাড়ি নিয়ে ঠিক তার পরেই। সেই গ্রেনেডটা একজন সেনা অফিসার এটিকে আলামত হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন বলে খালেদা জিয়া তাকে চাকরিচ্যুত করেছিল। কোন আলামতই তারা রাখতে চায়নি। তারপর আপনারা জানেন একটা নাটক সৃষ্টি করে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে খালেদা জিয়া জড়িত মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, একেকটা ঘটনা ঘটবার আগে খালেদা জিয়া যে বক্তৃতাগুলো দিয়েছে- যখন কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল তার আগে বলেছিল যে, আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পূর্বে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল যে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, বিরোধী দলীয় নেতাও কোন দিন হতে পারবে না। এই ভবিষ্যৎ বাণী খালেদা জিয়া কীভাবে দিয়েছিল? কারণ তাদের চক্রান্তই ছিল যে, আমাকে তারা হত্যা করে ফেলবে তাহলে তো আমি কিছুই হতে পারব না। এটাই তাদের চক্রান্ত ছিল। প্রতিটি ঘটনার আগে তার বক্তৃতা যদি আপনারা অনুসরণ করেন এই কথাগুলোই বলেছে। ২১ আগস্টের ঘটনা নিয়ে সংসদে তৎকালীন বিরোধী দলকে কোন কথা বলতে দেওয়া হয়নি জানিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক সংসদ সদস্যই এই গ্রেনেড হামলায় আহত। আমরা যখন এটার ওপর আলোচনা করতে চাইলাম। একটা রেজ্যুলেশন নিতে চাইলাম অপজিশন থেকে। খালেদা জিয়া কিন্তু সেটা হতে দেয়নি। আলোচনা করতে দেয়নি। শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এ রকম একটা ঘটনা ঘটে গেছে, আমি বিরোধী দলের নেতা। আমার ওপর এই রকম গ্রেনেড হামলা। বিরোধী দলে- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মতো একটি দল, যে দল স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। সেই দলের সভায় এই রকম গ্রেনেড হামলা। আর পার্লামেন্টে যিনি সংসদ নেতা, বলে দিল ওনাকে আবার কে মারবে? তখন তো বলতে হয় আপনিই তো মারবেন। চেষ্টা করেছেন, ব্যর্থ হয়েছেন সেই জন্য আর পারছেন না। এই রকম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে আমাদের কোন কথা বলতে দেয়নি এই হামলা সর্ম্পকে। আমাদের কাউকে মাইক দেয়নি। আলোচনা করতে দেয়নি। এতে কী প্রমাণ হয় তারা যদি সরাসরি জড়িত না থাকত তাহলে কি তারা এতভাবে বাধা দিত। গ্রেনেড হামলায় আহতদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যখনই গ্রেনেড হামলাটা হলো। সাধারণত একটা সভ্য দেশ হলে কী করতো সাথে সাথে পুলিশসহ অন্যান্য সবাই ছুটে আসতো আহতদের সাহায্য করতে, উদ্ধার করতে, চিকিৎসা করতে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, সেখানে কোনো রোগী ঢুকতে পারবে না, যেতে পারবে না, চিকিৎসা নিতে পারবে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজে বিএনপির কোন ডাক্তার সেখানে উপস্থিত নেই। যাদের ডিউটি ছিল তারাও নেই। কারণ, রোগীদের চিকিৎসা করবে না। আমাদের যারা ডাক্তার তারা সেখানে ছুটে গিয়েছিল তারা সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা শহরে কত হাসপাতাল, কত ক্লিনিক আছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর বোধ হয় আমরা জানতে পারি। সমগ্র ঢাকা শহরে নেতা-কর্মীরা যে যেখানে পেরেছে তাকে সেখানে নিয়ে গেছে। আহতদের সাহায্য করতে আসা নেতাকর্মীদের তা করতে দেওয়া হয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দূরে ছিল তারা যখন ছুটে আসে পুলিশ তাদের টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে, লাঠিপেটা করে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। গ্রেনেড হামলার ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, এই ধরনের গ্রেনেড হামলা বোধ হয় পৃথিবীতে আর কখনও কোথাও ঘটেনি। সাধারণত রণক্ষেত্রে, যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটে। কিন্তু আমাদের সেই Railly তে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু সেইদিন আইভী রহমানসহ আমাদের ২২ জন নেতাকর্মী শাহাদাৎবরণ করেছেন। সেই সাথে অনেক নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন, অনেকে আহতে হয়ে পরে মারা গেছেন। মানুষের জন্য কিছু করার জন্যই আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, সারা দেশকে তারা একটা সন্ত্রাসের রাজত্ব করেছিল। আমি জানি না আল্লাহ কেন বাঁচিয়ে রেখেছেন। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যাতে কিছু করতে পারি সেই জন্যই হয়তো বাঁচিয়ে রেখেছেন। নইলে এ রকম অবস্থা থেকে বেঁচে আসা এটা অত্যন্ত কষ্টকর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগে বহুবার বিভিন্ন হামলার স্বীকার হয়েছি। কিন্তু একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ভয়াবহ হামলা হতে বেঁচে যাওয়া নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিছু কাজ রেখে দিয়েছেন, সেটা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত হয়তো কাজ করে যেতে পারব। আল্লাহ সেই সুযোগ দেবেন। দেশটাকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আওয়ামী লীগ নেতারা ২১ আগস্টের নিহতের স্মরণে অস্থায়ী সৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।- বাংলা নিউজ
সিনহার মৃত্যু: আরো ৭ দিন সময় পেলো তদন্ত কমিটি
২০আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটিকে আরো সাত দিন সময় দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে তদন্ত কমিটির মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি সময় বাড়ানোর জন্য আবেদনের প্রেক্ষিতে আরও সাত কর্মদিবস বাড়ানো হয়েছে, যা শেষ হবে ৩১শে অগাস্ট। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করা গঠিত এই কমিটির সদস্যরা হলেন- কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলি, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) একজন প্রতিনিধি এবং সেনাবাহিনীর রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির একজন প্রতিনিধি। পুনর্গঠিত এই তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও ১০শে অগাস্ট তদন্ত কমিটি সময় বাড়ানোর আবেদন করে। তখন ২৩শে অগাস্ট পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল কমিটির। কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার কারণ ও উৎস অনুসন্ধান করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত দিতে বলা হয়েছে। গত ৩১শে জুলাই কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা। তল্লাশি চৌকিতে থামালে সিনহা গুলি করতে উদ্যত হলে পাল্টা গুলি চালানো হয় বলে পুলিশ দাবি করলেও তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর গত ১ অগাস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরদিন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।।
গৃহিণী হয়েও প্রদীপের স্ত্রী এত টাকার মালিক কীভাবে?
১৯,আগস্ট,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমারের স্ত্রী চুমকির নামে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার অবৈধ সম্পদ ও অস্থাবর পাওয়া গেছে। যে আয়ের বৈধ কোনো উৎস দেখাতে পারেননি চুমকি। এমনকি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, চুমকি একজন গৃহিণী হয়েও কীভাবে এত টাকার মালিক হয়েছেন। এই সম্পদের হিসাব দেখাতে পারেননি প্রদীপ কুমার ও তার স্ত্রী। তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুদক। একইসঙ্গে প্রদীপ দম্পত্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করতেও আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন। দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, প্রদীপের স্ত্রী চুমকির নামে চট্টগ্রামের কোতোয়ালিতে জমিসহ ছয়তলা বিলাসবহুল বাড়ি। এ বিষয়ে চুমকি দুদককে বলেছেন, ২০১৩ সালে বাড়িটি তার বাবা তাকে দান করেছেন। কিন্তু চুমকির অন্যান্য ভাই ও বোনদের তার বাবা কোনো সম্পত্তি দান করেননি। শুধু তাই নয়, ২০০৬ সালে শ্বশুরের নামে কেনেন বাড়ির জমি। এরপর ৬ তলা বহুতল ভবন গড়ে তোলেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে বাড়িটি প্রদীপ অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে বাড়িটি নি: ও জমি ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া চুমকি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মাছের ব্যবসা করে আয় দেখিয়েছেন দেড় কোটি টাকা। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে যার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। আয়কর নথিতে কমিশন ব্যবসা থেকে আয় দেখিয়েছেন চুমকি। যেখানে ব্যবসার মূলধন হিসেবে দেখিয়েছেন ১১ লাখ ২২ হাজার টাকা আর আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে কমিশন ব্যবসার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া চুমকি কমিশন ব্যবসার লাইসেন্স, সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে ব্যবসা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের তথ্য কিছুই দুদকে দেখাতে পারেনি। ফলে প্রদীপ কুমার দাশ অবৈধ সম্পত্তি স্ত্রীর নামে গড়লেও দুদকের কাছে বৈধ কোনো উৎস দেখাতে পারেননি। যে কারণে প্রদীপ দম্পতির বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়। এখন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন পেলেই হবে প্রদীপ দম্পত্তির বিরুদ্ধে মামলা। দুদকের অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, চুমকির নামে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ১৮ হাজার ৮৬৯ টাকার সম্পদের প্রমাণ রয়েছে দুদকের কাছে। এর মধ্যে খরচ দেখিয়েছেন ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আর আয় দেখিয়েছেন ৪৯ লাখ ১৩ হাজার ২৩৪ টাকা। ফলে চুমকি দুদকের কাছে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার কোনো বৈধ খাত দেখাতে পারেনি। অপরদিকে ভারতের আগারতলা, গৌহাটি ও বারাসাতে প্রদীপের বাড়ি থাকার কথা বলা হলেও প্রাথমিকভাবে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে মামলার পরে প্রদীপ দম্পতির বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে আরো অনেক সম্পদ থাকলে সেগুলো বেরিয়ে আসতে পারে বলে দুদক কর্মকর্তারা মনে করছেন। মেজর সিনহা হত্যার পর বেরিয়ে আসতে থাকে টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের অপকর্মের কথা। একের পর এক জট খুলতে থাকে অপরাধের। মাদক সংশ্লিষ্টতাসহ বন্দুকযুদ্ধে বিভিন্ন কারণে সাধারণ মানুষকে হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসতে থাকে। একই সাথে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের কথাও বেরিয়ে আসে।
জনগণের দিকে তাকিয়ে ফি কমানো হলো
১৯,আগস্ট,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরীক্ষা করাতে ফি ধরার কারণে টেস্ট কমে গিয়েছিল। তবে এখন ফি কমানোর পর টেস্টের সংখ্যা বাড়বে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, জনগণের দিকে তাকিয়ে ফি কমানো হলো। বুধবার ( ১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে করোনার নমুনা পরীক্ষার ফি কমানো বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ফিয়ের কারণে অনেক দরিদ্র মানুষ পরীক্ষা করতে কিছুটা আগ্রহ হারিয়েছেন। এ বিষয়ে পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাও করেছি। তার একটা নির্দেশনা নিয়েছি। আমাদের প্রস্তাবনায় তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, হাসপাতালে গিয়ে ২০০ টাকা যে ফি নেওয়া হতো সেটা কমিয়ে ১০০ টাকা করার জন্য। আর বাড়িতে পরীক্ষা করাতে হলে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নেওয়া হবে। জনগণের দিকে তাকিয়ে ফিয়ের নতুন হার বলবত করা হলো। আমরা আশা করি, ফি কমিয়ে দেওয়ায় টেস্টের সংখ্যা বাড়বে। তিনি বলেন, আমাদের সবসময় ইচ্ছা, টেস্ট করা হোক এবং সংক্রমিত ব্যক্তি চিহ্নিত হোক, তাদের সেবার আওতায় আনা হোক। কিন্তু টেস্টের সংখ্যা সেভাবে বাড়ে নাই। আমাদের এখন যথেষ্ট ল্যাব রয়েছে, কিটসের কোনও অভাব নাই। আশা করি, এই পরিবর্তনের ফলে আগামীতে টেস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। কবে নাগাদ এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে, পত্রিকাতেও দিয়ে দেবো। সার্কুলার হতে যতটুকু সময় লাগে। তবে শিগগিরই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুন ফি নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) টেস্ট বিনামূল্যে হওয়ার ফলে অধিকাংশ মানুষ উপসর্গ ছাড়াই পরীক্ষা করার সুযোগ গ্রহণ করছে। এমন পরিস্থিতিতে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় টেস্ট পরিহার করার লক্ষ্যে ফি নির্ধারণ করে সরকার। সরকারি হাসপাতালে বা বুথে নমুনা পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা এবং বাড়িতে ডেকে নমুনা পরীক্ষা করা হলে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয় তখন। ফি দিয়ে করোনার পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তের পর থেকেই নমুনা পরীক্ষা কমে যেতে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শ্রিংলার সাক্ষাৎ
১৯,আগস্ট,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আকস্মিক ঢাকা সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে তাদের এই সাক্ষাৎ হয়। পরে রাতে কয়েকজন সাংবাদিককে বৈঠকে আলোচনার বিভিন্ন দিক জানান ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দিল্লির বিশেষ বার্তা নিয়ে এসেছেন বিদেশ সচিব শ্রিংলা। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রয়েছে বিশেষ ও নিবিড় সম্পর্ক। এ কারণে মহামারীর মধ্যে আন-অফিসিয়াল ধরনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন বিদেশ সচিব। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চলে ওই বৈঠক। করোনাভাইরাস মহামারী পরবর্তী সময়ে দুই দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান রীভা গাঙ্গুলি দাশ। শ্রিংলার আগমনকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধুবাদ জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন হাই কমিশনার। দুই দিনের আকস্মিক সফরে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা পৌঁছান ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শ্রিংলা। জানুয়ারিতে এই পদে আসার পর এটি তার দ্বিতীয় বাংলাদেশ সফর। এর আগে কয়েক বছর ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করে গেছেন শ্রিংলা। বুধবার দুপুরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। সূত্র : বিডিনিউজ
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা
১৯,আগস্ট,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের একটি আদালতে ধর্ম অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিচারক আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে (সিএমএম আদালত-২) মামলাটি দায়ের করেন বিপ্লব পার্থ নামের এক সাংবাদিক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী নিজেই। সাংবাদিক বিপ্লব পার্থ বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সম্প্রতি এক সমাবেশে সনাতন ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ ও হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক রামকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি রামায়ণ ও মহাভারত নিয়ে কটূক্তি করেছেন। এসব ধর্মগ্রন্থ নাকি মিথ্যাচার ও প্ররোচনায় ভরপুর? যা দেশের কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে আঘাত দিয়েছে।’ তিনি আরও জানান, আদালত বিকেলে এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।
দুদকে তৃতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে সাহেদের
১৯,আগস্ট,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অর্থ আত্মসাতের মামলায় দুদক কার্যালয়ে তৃতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের৷ বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টার পর পর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয়ে দুদক উপপরিচালক শাহজাহান মিরাজের নেতৃত্বে একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। দুদকে সাহেদের সাতদিনের রিমান্ড শুরু হয় সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টায়। ওই দিন কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সাহেদকে সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে এনে প্রথম দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়৷ এর পর মঙ্গলবার (১৮ আটগস্ট) দ্বিতীয় দিনের রিমান্ডে তাকে দুদক কার্যালয়ে আনার পথে বুকে ব্যথা বোধ করলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে৷ সুস্থ অনুভব করার পরে বিকেলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) গুলশান করপোরেট শাখার দুই কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের মামলায় সাহেদকে এ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷
শোষণ ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে: স্পিকার
১৮,আগস্ট,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর দর্শন ধারণ করে শোষণ ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে গতকাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্পিকার এ কথা বলেন। শোক দিবস উপলক্ষে এ আয়োজনের জন্য তিনি অনুষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন বলেই এ জাতির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। আত্মপ্রত্যয় ও আত্মশক্তিতে বলীয়ান এ মহান নেতা অন্যায়ের কাছে কখনই মাথা নত করেননি। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা। যিনি সারা জীবন নির্লোভ ও নির্মোহ থেকে বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। ৭১-এর ২৫ মার্চের কালরাতেও অদম্য সাহসিকতার সঙ্গে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। পদ-পদবির লোভ না করে বৃহত্তর লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি এগিয়ে গেছেন। স্পিকার বলেন, সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়াই ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একমাত্র লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের জীবনধারণ উপযোগী শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ছিল তার লক্ষ্য। এ দর্শন ও আদর্শ ধারণ করে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। এজন্য সবাইকে এ কাজে সহযোগিতা করতে হবে। সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খানের সভাপতিত্বে এবং সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখার পরিচালক উপসচিব মো. তারিক মাহমুদ ও উপপরিচালক সামিয়া রুবাইয়াত হোসেইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিম ও হুইপ আতিউর রহমান আতিক বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপসচিব এসএম মঞ্জুর ও উপসচিব একেএমজি কিবরিয়া মজুমদার কবিতা আবৃত্তি এবং সিনিয়র কমিটি অফিসার ফারহানা বেগম বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল মুনিম, সহকারী সচিব আসিফ হাসান, কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আতর আলী ও আবুল খায়ের উজ্জ্বল বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।- বণিক বার্তা
দেশে আরো ৩৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত শনাক্ত ২৫৯৫
১৭আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে মোট তিন হাজার ৬৯৪ জন প্রাণ হারালেন। একই সময়ে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন আরো দুই হাজার ৫৯৫ জন। এ নিয়ে দেশে শনাক্তকৃত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো দুই লাখ ৭৯ হাজার ১৪৪ জন। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের ৮৭টি আরটি-পিসিআর ল্যাবের তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৫২৩টি। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৯টি। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও এক হাজার ৬৪১ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ জনে। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। তবে শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৩২ শতাংশ। গেল ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৭ জনের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। এ পর্যন্ত মৃত তিন হাজার ৬৯৪ জনের মধ্যে দুই হাজার ৯১৮ জন পুরুষ যা শতাংশের হিসাবে ৭৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং নারী মারা গেছেন ৭৭৬ জন, যা শতাংশের হিসাবে ২১ দশমিক ০১ শতাংশ। করোনায় গেল ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের বয়স বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মৃতদের মধ্যে ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের আটজন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী আটজন, ষাটোর্ধ্ব বয়সী রয়েছেন ১৮ জন। বিভাগ ভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মৃতদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ২০ জন, খুলনার ছয়জন, চট্টগ্রামের চারজন, রাজশাহী এবং রংপুরে তিনজন করে এবং বরিশাল বিভাগের একজন রয়েছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। সেদিন তিনজন আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। ওই মাসের ১৮ তারিখে কভিড-১৯-এ প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয়। এরপর প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হতে চললেও সংক্রমণ ও মৃত্যু এখনো সেভাবে কমছে না।

জাতীয় পাতার আরো খবর