বুধবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২১
আলীগ ছাড়া আর কেউই সমুদ্রসীমার অধিকার আদায়ে উদ্যোগ নেয়নি: প্রধানমন্ত্রী
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউই সমুদ্রসীমার অধিকার আদায়ে উদ্যোগ নেয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় ভবিষ্যতে অন্য দেশের জন্যও বাংলাদেশ জাহাজ তৈরি করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নৌবাহিনীর ৩টি যুদ্ধজাহাজ ও ২টি জরিপ জাহাজের কমিশনিং অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারও সাথে শত্রুতা নয়; তবে আক্রান্ত হলে তা মোকাবেলা করার সার্মথ্য অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ। বিশাল সমুদ্রসীমা রক্ষার লক্ষ্যেই আধুনিক নৌবাহিনী গড়ে তোলা হচ্ছে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময়, শীতকালে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে সর্তক থাকতে দেশবাসীর প্রতি আবারও আহ্বান শেখ হাসিনা।
অবাঞ্ছিত সেনাসদস্যরা বানোয়াট গল্প বলছেন: আইএসপিআর
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবাঞ্ছিত ঘোষিত কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বিদেশ থেকে বানোয়াট ও মনগড়া গল্প বলার মাধ্যমে দেশ ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বুধবার (০৪ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর এ কথা জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কয়েকজন অবাঞ্ছিত ঘোষিত (PNG) অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বিদেশ থেকে বিভিন্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্য সম্বলিত গল্প এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া মান্যবর ব্যক্তিদের কথোপকথন সংগ্রহ করে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তা কাট-পেস্ট ও এডিট করে তাদের উদ্দেশ্য মাফিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপস্থাপনের মাধ্যমে সেনাসদস্য ও দেশের সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়ে ক্রমাগত দেশ এবং সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। তাদের এহেন কর্মকাণ্ড তাদেরকে PNG করাটা যে যথার্থ ছিল, তাই প্রমাণ করে। তাদের এ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ঘৃণ্য অপকর্মে প্রতিটি সেনাসদস্য অত্যন্ত মর্মাহত। কাল্পনিক, বাস্তবতা ও নৈতিকতা বিবর্জিত এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত এসব গল্প বা বক্তব্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা এবং দেশের জনগণ বিশ্বাস করে না বরং ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন চাকরি করার পর অবসর নেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অবসর জীবনে যদি কোনো প্রাক্তন সেনাসদস্য শৃঙ্খলা বিবর্জিত জীবনযাপন করেন, যা সামরিক ও বেসামরিক পরিমণ্ডলে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে, তখন তাকে সংশোধনের জন্য দেশের সব সেনানিবাসে অবাঞ্ছিত বা Persona Non Grata (PNG) ঘোষণা করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত ও পেশাদার বাহিনী এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সৃষ্ট, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ৪৯ বছরের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ এ সেনাবাহিনী বর্তমানে পেশাগতভাবে দক্ষ ও পরিপক্ক, যা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। দেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিজের জীবনকে হাসিমুখে উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাসদস্যরা উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশে এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গেই কাজ করে যাচ্ছে। দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা ও তার উন্নত প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধ গভীরভাবে ধারণ করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশমাতৃকার সেবায় সর্বদা নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে। দেশে বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভূয়সী প্রশংসা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে অত্যন্ত সুসংহত করে চলেছে। চলমান করোনা মহামারিকে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করার পর, তাঁর নির্দেশে সেনাবাহিনী করোনাযুদ্ধে জনগণের পাশে থেকে অভূতপূর্ব সেবা দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীর ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে সেনাবাহিনী।
সৌদি ও দুবাই থেকে কেনা হচ্ছে ১৩ লাখ ক্রুড অয়েল
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০২১ সালে প্রক্রিয়াকরণের জন্য ১৩ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করবে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। এর মধ্যে আবুধাবি থেকে ছয় লাখ ও সৌদি আরব থেকে সাত লাখ টন। আমদানিতে ব্যয় হবে ৫ হাজার ২০৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এছাড়া ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টন সার আমদানি করবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ-সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব ছাড়াও আটটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০তম এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রয় প্রস্তাবে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৬৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ৪ হাজার ১৯৮ টাকা। মোট অর্থায়নে জিওবি হতে ব্যয় হবে ২২৪ কোটি ২৭ লাখ ৮৫ হাজার ১২ টাকা এবং ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন ও দেশীয় ব্যাংক হতে ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৪৪০ কোটি ৪০ লাখ ১৯ হাজার ১৮৬ টাকা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ? মোস্তফা কামাল ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব ছিল। তবে সেটি অধিক যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কাফকো হতে সপ্তম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ৬৩ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬২ টাকায় ক্রয়। কাতার হতে চতুর্থ লটে ২৫ হাজার টন (১০%+) ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ৫৮ কোটি ৮৮ লাখ ৯ হাজার ৬৮৭ টাকায় ক্রয়। এছাড়া কাতার হতে পঞ্চম লটে ২৫ হাজার টন (১০%+) বাল্ক প্রিল্ড (অপশনাল) ইউরিয়া সার ৫৬ কোটি ৫৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৩৭ টাকায় ক্রয়। সৌদি আরব হতে চতুর্থ লটে ২৫ হাজার টন (১০%+) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ৫৬ কোটি ৪৯ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় ক্রয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন বিআরটিএর আওতায় পাঁচ বছর মেয়াদে ঢাকা মেট্রো-১ অফিসে ১২ লেনবিশিষ্ট ভিআইসি (ভেহিকল ইন্সপেকশন সেন্টার) স্থাপনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, হার্ডওয়্যার ইত্যাদি সরবরাহ, স্থাপন, পরিচালনা, মেইনটেন্যান্স ও মেয়াদ শেষে হস্তান্তরের লক্ষ্যে সার্ভিস প্রোভাইডারকে ১০৫ কোটি ২২ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৬ টাকায় নিয়োগের অনুমোদনও দেয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য নয়টি আবাসিক টাওয়ার ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সিলেট জেলা পুলিশ লাইনস এলাকায় একটি আবাসিক ভবন নির্মাণকাজ সম্পাদনে ৫৫ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭০ টাকায় নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য ঢাকা গুলশান এলাকায় দুটি বেজমেন্টসহ ১৪তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের পূর্তকাজ সম্পাদনে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ২৪ হাজার ৮০৬ টাকায় অনুমোদন দেয়া হয়। সূত্র: বনিক বার্তা
Rab এর গোয়েন্দা শাখার প্রধান হলেন লে. কর্নেল খায়রুল
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: Rab এর ইন্টেলিজেন্স (গোয়েন্দা) উইংয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। বুধবার (৪ নভেম্বর) তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার-বিন-কাশেমের স্থলাভিষিক্ত হলেন খায়রুল ইসলাম। Rab সদরদফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ও সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মিরপুর ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের একজন গ্র্যাজুয়েট। গোয়েন্দা সংস্থায় তার কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি সুদানে জাতিসংঘ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রেষণে Rab এ যোগদান করেন এবং একই বছরের ১৪ নভেম্বর Rab-12 এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে Rab-12 জঙ্গি, মাদক, সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, অবৈধ অস্ত্রধারীসহ বিভিন্ন অপরাধী দমনে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছে। এছাড়াও সমাজের নানামুখী অপরাধ দমন সংক্রান্ত অভিযানে মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ভোগান্তিমুক্ত বিচার পাওয়া মানুষের অধিকার: প্রধানমন্ত্রী
০৪নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুততম সময়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অল্প সময়ে, অল্প খরচে ভোগান্তিমুক্ত বিচার প্রাপ্তি মানুষের অধিকার। বুধবার (০৪ নভেম্বর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে নবনির্মিত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, ঢাকা-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অনুরোধ জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জুন ২০২০ পর্য্ন্ত দেশে বিভিন্ন আদালতে ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯০৮টি মামলা বিচারাধীন আছে। এসব মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুততম সময়ে রায় দেওয়ার উপায় বের করার জন্য আমি সব বিচারক ও আইনজীবীদের অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, এত মামলা যেন এভাবে জমে না থাকে। কিভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করা যায় সে ব্যাপারে একটু আন্তরিক হবেন এবং ব্যবস্থা নেবেন। এর জন্য যদি কোনো রকম সহযোগিতা প্রয়োজন হয় সেটা আমরা সরকারের পক্ষ থেকে করবো। এতগুলো মামলা এভাবে পড়ে থাকুক সেটা আমরা চাই না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুব অল্প সময়ে, অল্প খরচে ভোগান্তিমুক্ত বিচার প্রাপ্তিটা মানুষের অধিকার। যদি দ্রুত সময়ে, অল্প খরচে বিচারকাজ শেষ করতে পারেন তাহলে বিচার বিভাগের ওপরই মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়বে। যদিও আমাদের আস্থা-বিশ্বাস আছে, তারপরও আমি বলবো এ বিষয়ে সবাইকে একটু বিশেষ নজর দিতে। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার সব সময় প্রস্তুত মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ন্যায় বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে- আমরা যেহেতু আইন সভার সদস্য, সেখানে আইন প্রণয়ন বা আইন সংস্কার বা যেখানে যা করা দরকার সেগুলো সব আমরা করতে প্রস্তুত। সরকার হিসেবে আমাদের যা দায়িত্ব সে দায়িত্বও আমরা সব সময় পালন করতে প্রস্তুত। যেন বাংলাদেশের মানুষ ন্যায় বিচার পায়, দেশের মানুষ ভালো থাকে, স্বস্তিতে থাকে, শান্তিতে থাকে, নিরাপদে থাকে, উন্নত জীবন পায়। এসময় আদালতের রায় বাংলায় লেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে ট্রান্সলেটর নিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে মামলার রায়গুলো ইংরেজিতে দেওয়া হয়। অনেকে রায়টা বুঝতে না পারায় আইনজীবীরা যেভাবে বোঝান সেভাবে তাদের বুঝতে বা জানতে হয়। রায় যদি কেউ বাংলায় লিখতে না পারেন, ইংরেজিতে লেখেন কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সেই রায়টা বাংলায় ট্রান্সলেশন করে যেন প্রচার হয় সে ব্যবস্থাটা করে দিতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজিতে লিখতে লিখতে অনেকে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন তাই বাংলাতেই রায় লিখতে হবে, এ ধরনের চাপ প্রয়োগ ঠিক নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমি বলবো এগুলো ট্রান্সলেট করা এমন কোনো কঠিন কাজ নয়, অনেক প্রফেশনাল ট্রান্সলেটরও থাকেন। তাদেরও আপনারা প্রশিক্ষণ দিয়ে নিতে পারেন। তিনি বলেন, ট্রান্সলেটরদের কাজই হবে যেটাই লেখা হোক সব ট্রান্সলেশন করবে এবং সেটাই প্রচার হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষ জানতে পারবে ফলে বিচারের ফলে কি রায়টা হলো সেটা নিজে দেখে বুঝতে পারবে, জানতে পারবে। প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীকে অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কিছু ব্যবস্থা নেন কারণ এটা জুডিসিয়াল ব্যাপার এর অনেক কথা, অনেক শব্দ, অনেক টার্মস যেগুলি আমাদের সাধারণ ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় না সেগুলোর অনুবাদ যদি সহজভাবে করা যায়। এ ব্যাপারে যদি কোনো ফান্ড লাগে সেটারও ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু আমি চাই এটা যেন হয়। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য সমতার ভিত্তিতে সুবিচার নিশ্চিত করা এবং বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাইতে না পারার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান এবং সকলেই আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। আবার ১৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবে। কিন্তু আমি এবং আমার বোন (শেখ রেহানা) জাতির পিতা হত্যার বিচার চাইতে পারিনি। ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জিয়াউর রহমান সে বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমে এদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠা করা হয় বিচারহীনতার সংস্কৃতি। আমরা এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছি। বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও এজলাস সংকট নিরসনের পাশাপাশি মামলা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে অধঃস্তন আদালতে ১১২৬ জন বিচারক নিয়োগ, দরিদ্র-অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সরকারিভাবে আইনি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের ৬৪টি জেলা সদরে এবং সুপ্রীম কোর্টে লিগ্যাল এইড অফিস স্থাপন, বিচারকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেল বাস্তবায়ন, বিচারকদের বেতন-ভাতাদি বৃদ্ধির পাশাপাশি জুডিসিয়াল ভাতাও প্রদান, ৪২টি জেলায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জন্য ৮-১০ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ, সন্ত্রাসবিরোধী মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ৭টি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন, ৭টি বিভাগীয় শহরে সাইবার ট্রাইবুন্যাল স্থাপন, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০১৮ সালে ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের পর ২০২০ সালে আরও ৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২০ প্রণয়ন এবং মাদক সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ প্রণয়ন, ৭টি মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনসহ সুশাসন নিশ্চিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০৯ থেকে জুলাই ২০২০ পর্যন্ত জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মাধ্যমে সর্বমোট ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩০ জনকে বিনামূল্যে আইনি সেবা দেওয়া হয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক।
রোহিঙ্গাদের জন্য ৩ লাখ মার্কিন ডলার দেবে দক্ষিণ কোরিয়া
০৪নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-কিউন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ লাখ ৬০ হাজার মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ডব্লিউএফপি বাংলাদেশকে ৩ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার ( ৪ নভেম্বর) ডব্লিউএফপি ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ৩৪টি ক্যাম্পের প্রতিটিতেই শতভাগ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ডব্লিউএফপি থেকে সহায়তা দেওয়া হয়, যারা তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এর পাশাপাশি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ও ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ডব্লিউএফপি থেকে পুষ্টি সহায়তা, ইঞ্জিনিয়ারিং সহায়তা, স্কুল ফিডিং সহায়তা ও আত্ম-নির্ভরশীলতা বা জীবিকা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রিচার্ড রেগান বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, যারা পুরোপুরিভাবে বাহ্যিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাদেরকে সহায়তা করতে আমাদের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দাতাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ২০১৮ সালে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডব্লিউএফপিকে দেওয়া ৫ লাখ মার্কিন ডলার অনুদানের পর নতুন করে আবারও এই অনুদান দেওয়া হলো। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-কিউন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায়, বিশেষতঃ ডব্লিউএফপির মাধ্যমে কোরিয়া সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছে। তিনি আরও বলেন, কোরিয়া সরকার আশা করে, এই অনুদানের ফলে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি তাদেরকে আশ্রয়দানকারী বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও উপকৃত হবে। ২০১৩ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস-বিষয়ক কর্মসূচিতে বাংলাদেশে ডব্লিউএফপিকে সহায়তা দিয়ে আসছে। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কইকা) মাধ্যমে কোরিয়ার বহুবার্ষিক সহায়তায় ডব্লিউএফপি ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জে গ্রামাঞ্চলের জনগোষ্ঠী, যাদের জীবন ও জীবিকা চরম দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদেরকে সহায়তা দিয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে, বাংলাদেশে ডব্লিউএফপিকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৬ লাখ মার্কিন ডলারের অনুদান, যা দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলায় একটি চার বছর মেয়াদী দুর্যোগ সহনশীলতা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর এই প্রকল্পটির মাধ্যমে এই বছরে হওয়া স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় ঝুঁকির সম্মুখীন পরিবারগুলো অত্যন্ত কার্যকরভাবে উপকৃত হচ্ছে।
মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে শিগগিরই পদক্ষেপ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
০৪নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণ ঠেকাতে দ্রুতই পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ইউরোপের অনেক দেশেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। অনেক দেশ এরই মধ্যে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার লকডাউন ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশেও আগামী শীতের সময় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করার মতো সক্ষমতা স্বাস্থ্য খাতের রয়েছে। গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় করণীয় সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষ যদি সচেতন না হয়, স্বাস্থ্যবিধি না মানে, তাহলে আগামীতে আবারো ভয়ের কারণ হতে পারে। কাজেই দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে হলে এ মুহূর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। বিশেষত সবার মাস্ক পরা এ সময়ে অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা পর্যন্ত সবার মুখে মাস্ক পরাটা বাধ্যতামূলক করতে শিগগিরই পদক্ষেপ নেয়া হবে। সভায় অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, করোনা প্রতিরোধে জাতীয় পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ্, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রমুখ।
আলীগের শিকড় আরও বেশি শক্ত-পোক্ত হবে: শেখ হাসিনা
০৩নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্ত চলতেই থাকবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সরানোর জন্য যত বেশি নাড়াচাড়া করবে আওয়ামী লীগের শিকড় তত বেশি মাটিতে শক্ত ও পোক্ত হবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির শীর্ষ নেতারা গণভবনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, যে যেভাবে বলতে চেষ্টা করুক না, ক্ষমতায় জনগণের ভোট, জনগণের সমর্থন নিয়েই আমরা এসেছি। আমাদের সরানোর জন্য যত বেশি নাড়াচাড়া করবে আওয়ামী লীগের শিকড় তত বেশি মাটিতে শক্ত ও পোক্ত হবে। এটা হলো বাস্তব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন আমরা ২০০৮ এর পর থেকে সরকারে এসেছি অনেকভাবে চেষ্টা করা হয়েছে, ক্ষমতা উৎখাত করা নানাভাবে- বিডিয়ারের ঘটনা ঘটানো হলো, হেফাজতের ঘটনা ঘটানো, নানা ধরনের ঘটনা, বহু রকমের কারসাজি ঘটানোর চেষ্টা, কিন্তু জনসমর্থন না থাকলে- ষড়যন্ত্র করে খুন করে ফেলা যায়, হত্যা করে ফেলা যায়। কিন্তু জনসমর্থন না থাকলে ক্ষমতায় গিয়ে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না, মানুষের কল্যাণও করতে পারে না, এ হচ্ছে বাস্তবতা। আওয়ামী লীগ টিকে আছে শুধু জনগণের জন্য কাজ করার মধ্য দিয়ে। কারও দয়া ভিক্ষে করে না, কারও করুণা ভিক্ষে করে না। জাতির পিতা, জাতীয় চার নেতাসহ বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এত হত্যাকাণ্ড চালিয়েও যে সংগঠনটা তৃণমূলে যার শিকড় একেবারে গ্রথিত সেই সংগঠনের ক্ষতি তারা করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ টিকে আছে কারণ এর তৃণমূলের নেতা-কর্মী, অর্থাৎ এর শিকড়ের শক্তি অনেক বেশি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শুধু এ দিবসটা পালন নয়, সেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এ কথা মনে রাখতে হবে, যে সমস্ত সন্ত্রাসী চক্র, খুনি চক্র, আমাদের স্বাধীনতাবিরোধী চক্র তারা কিন্তু বসে নেই। তাদের চক্রান্ত চলতেই থাকবে, যত ভাল কাজই আমরা করি না কেন তাদের মুখ থেকে ভাল কথা বের হয় না। কারণ তারা তো বাংলাদেশের মানুষের কথা ভাবে না। ১৫ আগস্টের ঘটনা বা ৩ নভেম্বরের ঘটনার পরে তারা এ দেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতাকে তারা ভোগ করবে সেটা তারা পারেনি জনগণের কারণে। এখানেই তাদের ক্ষোভ। তাদের কাছে ক্ষমতা ছিল ভোগের বস্তু। ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা ও ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে চক্রান্তকারীরা স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্টের ঘটনা শুধু একটা পরিবারকে হত্যা না- একটা আদর্শকে হত্যা, একটা দেশকে হত্যা, দেশকে ধ্বংস, সেটা আরও প্রমাণ হলো ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডে। আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কাছে ক্ষমতা হচ্ছে জনগণের সেবা করা, আর জনগণের সেবাটাই আমরা করে যাচ্ছি। সেবা করে যাচ্ছি বলেই যেখানে ১৫ আগস্ট ভেবেছিল আর কোনোদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে না, তারপর আমরা চার চার জনগণের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় এসেছি। এটাই বাস্তবতা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটার পর একটা নির্বাচনে ভোটে জয়ী হয়ে আমরা সরকার গঠন করি। কারণ হচ্ছে আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। আমরা জনগণের জন্য কাজ করি বলেই জনগণ আমাদের সমর্থন করেছে। যারা নির্বাচনে জনগণের কাছে যেতেই পারে না, জনগণের কাছে ভোট চাইতে পারে না, যাদের সংগঠনই তৃণমূল থেকে গড়ে উঠেনি, মানুষ তাদের পাশে দাঁড়াবে কেন? আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা অনেকে চক্ষুশূল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন একেকজন একেক জায়গা থেকে নানা বচন দিচ্ছে, নানা কথা বলছে, তারা প্রশ্ন করছে, অনেকে নানা ধরনের প্রশ্ন করে, আবার কারও কারও কথা বাংলাদেশ কী একদলেই চলে যাচ্ছে। সত্যিকারের জনগণের দল- হ্যাঁ আমাদের কিছু বাম দল আছে যারা সাধারণ মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করে, কমিউনিস্ট পার্টি আছে সাধারণ মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ, যে আওয়ামী লীগ তৃণমূল থেকে গড়ে উঠেছে মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তিনি বলেন, যে আওয়ামী লীগের নেতাদের একের পর এক হত্যা করা হয়েছে, জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়েছে, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, সেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের ওপর বার বার আঘাত এসেছে- ২১ আগস্ট থেকে শুরু করে, সেই ৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি, বিভিন্ন সময় বার বার আঘাত এসেছে। এত হত্যাকাণ্ড চালিয়েও, যে সংগঠনটা তৃণমূলে যার শিকড় একেবারে গ্রথিত সেই সংগঠনের ক্ষতি তারা করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ টিকে আছে কারণ এর তৃণমূলের নেতা-কর্মী, অর্থাৎ এর শিকড়ের শক্তি অনেক বেশি। আর সেটা যদি কারো চক্ষুশূল হয় বা মনো ব্যথার কারণ হয় সেখানে আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা জনগণের সমর্থনটা পাই কেন? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণের স্বার্থে কাজ করে, জনগণের কল্যাণে কাজ করে, জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করে, আর জনগণ সেটা খুব ভালভাবে উপলব্ধি করে, আর এর শুভ ফলটা জনগণই পায়। আওয়ামী লীগ এলিট শ্রেণি নয়, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকারের কার্যক্রমে একটা গ্রুপ বা এলিট শ্রেণি সুবিধা পায় না, বরং সুবিধাটা একেবারে গ্রাম পর্যায়ের ঘরের দৌরগোড়ায় পৌঁছে যায়। সেই কারণে তারা আমাদের সমর্থন দেয়, আমরা তাদের সমর্থন পাই। জিয়া-খালেদা-এরশাদ আমলের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য দেশের দুর্নীতির বীজ বপন করেছিল। একটা এলিট শ্রেণি তৈরি করেছিল। জিয়াউর রহমান নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল। মাদক-সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, মাদক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি, কাজ করে যাবো। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বরসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে শহীদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
কারিগরির শিক্ষকদের নিয়ে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এর কমিটি গঠন
০৩নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মো. সুমন হায়দারকে সভাপতি এবং সৈয়দ ওমর ফারুককে সাধারণ সম্পাদক করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-এর ২৯ সদস্যবিশিষ্ট কারিগরি শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা অধিদফতরের অধীন সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কর্মরত শিক্ষকদের নিয়ে এই কমিটি গঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান শাহীন আগামী দুই বছরের জন্য এই কমিটি অনুমোদন করেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কমিটি অনুমোদনের সময় প্রেসিডিয়াম সদস্য জোবায়দা হক অজন্তা, সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন মৃদুল, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক মনির, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলজার হোসেন, প্রচার সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম নিয়োগী পন্নী উপস্থিত ছিলেন। কমিটিতে মো. আজিজুর রহমান, জাহিদ রানা, অরণ্য রায়কে সহ-সভাপতি। মো. আমিনুল হককে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, মো. মেহেদী হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক, মো. ইমন আলীকে তথ্য ও প্রচার সম্পাদক, রওশন শাদ ফেরদৌসীকে সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক, তানজিনা তাবাসসুম তন্বীকে তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণা সম্পাদক, মো. আহাদ আলীকে অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, মোহাম্মদ হায়দার আলী চৌধুরীকে আইন বিষয়ক সম্পাদক, মোহাম্মদ হামিদুর হককে ছাত্র-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক (ঢাকা ও ময়মনসিংহ), মো. আমিনুল ইসলামকে সহ ছাত্র-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক (ঢাকা ও ময়মনসিংহ), মো. আল আমিন হোসাইনকে ছাত্র-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক (রাজশাহী ও রংপুর), এম. এ. মলিকে সহ ছাত্র-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক (রাজশাহী ও রংপুর), সৌমিত্র দাসকে ছাত্র-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক (চট্টগ্রাম ও সিলেট), কাজী সারোয়ারকে সহ ছাত্র-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক (চট্টগ্রাম ও সিলেট), মো. হানিফ শিকদারকে ছাত্র-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক (খুলনা ও বরিশাল), মাজেদা খাতুনকে সহ ছাত্র-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক (খুলনা ও বরিশাল), মো. মাহমুদ হাসানকে ধর্ম বিষয়ক সস্পাদক, মো. তৌহিদুর রহমান ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, ফাতেমা খাতুনকে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা বিষয়ক সম্পাদক, মেহের নিগার সুলতানাকে মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. আব্দুল গফুর, বিভা নিকেতি নীর, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. সানিয়াত বুরহানকে সম্মানিত সদস্য করা হয়েছে। সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কর্মরত শিক্ষকসহ সেখানে অধ্যয়নরত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শিক্ষার্থীর মাঝে দেশের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সঠিক ইতিহাস প্রচার এবং সরকারের গৃহীত নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে এই কমিটি কাজ করবে বলে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর