সিনহা হত্যা মামলায় কক্সবাজারের এসপিকে আসামি করার আবেদন
১০সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকে আসামি হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করতে আদালতে আবেদন করেছেন মামলার বাদী সিনহা বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারকি আদালত (সদর-৪) তামান্না ফারাহর আদালতে এ আবেদনটি দায়ের করা হয়। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করলেও এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ দেননি। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা জানিয়েছেন, যেকোনো সময় এই আদেশ হতে পারে। মূলত সিনহা হত্যার আগে ও পরে পুলিশ সুপারের সাথে আসামিদের যোগাযোগ ছিল। আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করছেন তিনি। তাই বাদী মনে করছেন পুলিশ সুপারকে এ মামলায় আসামি করা জরুরি। মামলার বাদী সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস একই কথা জানিয়ে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এরপর ৫ আগস্ট এ ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতে মামলা করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। মামলাটি Rab কে তদন্তভার দেয়া হয়। ৬ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন পুলিশের ৭ সদস্য। গত এক মাসে Rab এপিবিএনর ৩ সদস্য, পুলিশের মামলার ৩ সাক্ষীকে আটক করে মোট ১৩ জনকে নানা মেয়াদে রিমান্ডে নিয়েছে। ১২ জন আসামি এ পর্যন্ত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
দগ্ধদের দেখে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডা. লেলিন
১০সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নিতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদশর্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডা. জুলফিকার লেলিন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালে এসে রোগীদের অবস্থা দেখেন এবং তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে রোগীদের অবস্থা জানার চেষ্টা করেন তিনি। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্যই এ বার্ন ইনস্টিটিউটি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মসজিদে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তাতে দগ্ধদের অধিকাংশ ৯০ শতাংশ পোড়া ছিলেন। তাদের চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন সব সাপোর্টই, এ হাসপাতালের রয়েছে। প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী তাদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। ওষুধ থেকে শুরু করে সবকিছুই সরকারি ভাবে ব্যবস্থা করে দেওয়ার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। আমি আজ এখানে চিকিৎসায় ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কোনো ঘাটতি রয়েছে কিনা, এটি দেখার জন্য এসেছি। তবে এমন কোনো ঘাটতি দেখতে পাইনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসকরা সবকিছুরই ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, তবে রোগীর স্বজনদের আবেগের জায়গায় হয়তো কিছুটা সমস্যা রয়েছে যে, তারা রোগীদের দেখতে পারছেন না, আইসিইউর ভেতরে ঢুকতে পারছেন না। ইনফেকশনের ভয়ে রোগীদের কাছে বারবার স্বজনদের যেতে না দেওয়ায় বিভিন্ন অভিযোগ থাকতে পারে। তবে দিনে দু-একবার যাওয়ার সুযোগ দেন চিকিৎসকরা। এখানে কোনো চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। এখান থেকে রোগীকে বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করবে, এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। বরং বাইরে থেকে রোগী এখানে আসবে। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সব তথ্য নিচ্ছেন। আরও যা যা প্রয়োজন সে বিষয়ে ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। এদিকে ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ আজ সকাল সাড়ে ৯টায় আবদুস সাত্তার নামে একজন মারা গেছেন। ইতোমধ্যে একজন বাড়ি ফিরেছেন। হাসপাতালে এখন সাতজন ভর্তি রয়েছেন। আইসিইউতে সবার চিকিৎসা চলছে। তাদের কেউ শঙ্কামুক্ত না। রাষ্ট্রের নির্দেশে তাদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
মসজিদে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের ৫ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ
০৯সেপ্টেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আপাতত সাতদিনের মধ্যে পাঁচ লাখ করে টাকা দেওয়ার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ৩৭টি পরিবারের কাছে এ টাকা বিতরণ করবেন। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক। রুলে দগ্ধ ও নিহতদের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, নারায়ণগঞ্জের মেয়র, তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রাজউক, ডিপিডিসি, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও এসপি, মসজিদ কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত সোমবার রিট আবেদনটি দায়ের করেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার। মঙ্গলবার এ রিটের ওপর শুনানি শেষে বুধবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়। আবেদনে দগ্ধ ও নিহতদের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আবেদনে ওই ঘটনায় কার কী দায়, কার অবহেলা বা কার ভুল তা নিরুপণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিট আবেদনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, নারায়ণগঞ্জের মেয়র, তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও এসপিসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হন ৩৭ জন মুসল্লি। দগ্ধদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। দগ্ধ ৩৭ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর ১২ শতাংশ দগ্ধ মামুন নামে এক রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন আটজনের মধ্যে বেশ কয়েকজন সুস্থ হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে, এটি শুভ সংবাদ: কাদের
০৯সেপ্টেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে, এটি রাজনীতির জন্য একটি শুভ সংবাদ। বিএনপির এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। সংসদীয় রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। বুধবার তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিকে নেতিবাচক রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।নির্বাচনী রাজনীতিতে বিএনপি’র এ অংশগ্রহণ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ভার্চুয়াল সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সেতু সচিব বেলায়েত হোসেন, প্রকল্প পরিচালক হারুন অর রশিদ, সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ফেরদৌস প্রমুখ।
সকালে ঘুম থেকে উঠে আগে জায়নামাজ খুঁজি: প্রধানমন্ত্রী
০৯সেপ্টেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সকালে ঘুম থেকে উঠে আগে জায়নামাজ খোঁজেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। ফখরুল ইমাম নিজে ঘুম থেকে উঠে মোবাইল খোঁজেন, তার স্ত্রী ঘরদোর পরিষ্কার করতে ঝাঁড়ু খোঁজেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ঘুম থেকে উঠে কী খোঁজেন তা জানতে চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকালে উঠে আমি জায়নামাজ খুঁজি। সকালে উঠে আগে নামাজ পড়ি। নামাজ শেষে কোরআন তেলাওয়াত করি। তারপর এক কাপ চা নিজে বানাই। সকালের চা-টা আমি নিজে বানিয়ে খাই। চা বানাই, কফি বানাই; যা বানাই নিজে বানিয়ে খাই। ছোট বোন বাসায় থাকলে দুজনের যে আগে ওঠে সে বানায়। মেয়ে পুতুল আছে। সেও আগে উঠলে সে বানায়। আমরা নিজেরা করে খাই। তিনি বলেন, তার আগে বিছানা থেকে ওঠার আগে নিজের বিছানাটা নিজে গুছিয়ে রাখি। এরপর বই-টই যা পড়ার পরি। আর ইদানিং করোনাভাইরাসের পরে সকালে একটু হাঁটতে বের হই। তবে আরেকটা কাজ করি এখন। সেটা বললে কী হবে... (হেসে ফেলেন)। গণভবনে একটি লেক রয়েছে। হাঁটার পরে লেকের পারে যখন বসি, তখন ছিপ নিয়ে বসি। মাছ ধরি। পিতা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে সামাজিক ও পারিবারিক শিক্ষা পেয়েছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা কলেন, আব্বার নির্দেশ ছিল একজন রিকশাওয়ালাকে আপনি বলে সম্বোধন করতে হবে। ড্রাইভারকে ড্রাইভার সাহেব বলতে হবে। কাজের যারা লোকজন তাদের কখনো ‘চাকর-বাকর’ বলা যাবে না। হুকুম দেয়া যাবে না। তাদের কাছে কিছু চাইতে হলে সম্মান করে ভদ্রভাবে চাইতে হবে। যে কারণে আমি প্রধানমন্ত্রী হতে পারি, যতদূর পারি নিজে করে খাই। তিনি বলেন, কিন্তু এখনো আমার বাড়িতে কাজের মেয়ে যারা আছে কারো কাছে যদি এক গ্লাস পানিও কখনো চাইতে হয় তাদের জিজ্ঞাসা করি আমাদের একটু এটা দিতে পারবে? এই শিক্ষাটা আমরা নিয়ে আসছি। এই শিক্ষা বাবা আমাদের দিয়ে গেছেন। এখনো মেনে চলি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ গরীব দেখতে বা ভালো পোষাক না পরলে অবহেলা করতে হবে আমাদের কাছে কী সেটা নয়। আমরা সবাইকে সমান সমাদর করি। বরং যাদের কিছু নেই তাদের দিকে একটু বেশি নজর দেই।
রোহিঙ্গাদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ ছিল, আইসিসিতে বললেন মিয়ানমার সৈনিক
০৮সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময়ে সৈনিকদের প্রতি নির্দেশ ছিল, যাকে দেখবে তাকে গুলি করবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেওয়ার সময় মিয়ানমারের দুজন সৈনিক একথা বলে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফরটিফাই রাইটস মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়া দুই সৈনিক হলো মিও উইন তুন (৩৩) এবং জ নায়েং তুন (৩০)। আদালতে তারা ২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময়ে নারী, শিশুসহ নিরীহ মানুষদের হত্যা, গণকবরে মাটি চাপা দেওয়া, ধর্ষণসহ অন্যান্য অপরাধের কথা স্বীকার করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই স্বীকারোক্তির ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুই সৈনিক কোর্টের কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে ভবিষ্যতে মামলায় কাজ করবে। আইসিসির বিভিন্ন ধরনের সাক্ষী সুরক্ষার (উইটনেস প্রটেকশন) নিয়ম আছে এবং তার অধীনে এ ধরনের সাক্ষীদের সব ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়। ওই সৈনিকরা ১৯ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে যারা সরাসরি এ ধরনের নৃশংসতা করেছে। এছাড়া ছয় জন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এসবের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। উল্লেখ্য, আইসিসিতে রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ক অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুধুমাত্র এই দুজন কমপক্ষে ১৮০ জন রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। মিও উইন তুন স্বীকারোক্তিতে বলেন, কর্নেল থান থাকি রোহিঙ্গাদের সমূলে হত্যার নির্দেশ দেন। এরপর সৈনিকরা মুসলিমদের কপালে গুলি করে এবং লাথি মেরে কবরে ফেলে দেয়। বুথিডং অঞ্চলে কয়েকটি গ্রাম ধ্বংস করা, ৩০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকা, এছাড়া আরও ৬০ থেকে ৭০ জন রোহিঙ্গা হত্যার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার বিষয়েও মিও স্বীকারোক্তি দেয়। জ নায়েং তুন বলেন, মংদু টাউনশিপে ২০টি গ্রাম ধ্বংস এবং অন্তত ৮০ জনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এছাড়া, সার্জেন্ট পায়ে ফোয়ে অং এবং কিয়েত ইয়ু পিন তিন জন রোহিঙ্গা নারীকে ধর্ষণ করেছে, যার সাক্ষী আমি।- দেশ বিদেশ
লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণা
০৮সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র নিয়ে ফরম পূরণ করলেই ১৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি। রাজধানীতে এমন লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রটি যুবক বেকার ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরির কথা বলে ফাঁদে ফেলে নানা কৌশলে। এরপর টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। শিক্ষিত বেকাররা নিজ জেলায় ব্যর্থ হয়ে চাকরির সন্ধানে ভিড় জমায় রাজধানীতে। এ সুযোগে এক শ্রেণির প্রতারক চাকরির নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসে আছে। এই ফাঁদে পড়ে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। এতে অনেকে চাকরি পাওয়ার আশায় উপরি দিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তার পাশে, দেয়ালে, বাসে লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞপ্তির পোস্টার সেঁটে অথবা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতারকচক্র আকৃষ্ট করছে বেকার তরুণ-তরুণীদের। প্রতারকচক্রের প্রধান টার্গেট বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরির কথা বলে তাদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এরপর নানা কৌশলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক, বীমা, এমএলএম কোম্পানি, বিপণন কোম্পানি, মার্কেটিং কোম্পানির নামে বেশি প্রতারণা করা হচ্ছে। অনুসন্ধান জানা যায়, প্রথমে একটি অফিস ভাড়া নিয়ে অভ্যর্থনা কক্ষে একজন ভূয়া লোক বসানো হয়। এরপর অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদে লোকবল নিয়োগ দেয়। চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে কথিত জোনাল ম্যানেজার টাকা সংগ্রহ করে। জোনাল ম্যানেজার ওই টাকা এজিএমের মাধ্যমে জিএমের কাছে পৌঁছায়। পরে এজিএম ও জিএমের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। এরপর চাকরি প্রত্যাশীকে ডিস্ট্রিবিউটর বা মার্কেটিং অফিসারের অধীনে ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠায় প্রতারক চক্র। আর ভূয়া প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে চাকরি প্রত্যাশীকে এক মাসের প্রশিক্ষণ দেয়ার নাম করে আটকে রাখা হয়। যখন চাকরি প্রত্যাশী বুঝতে পারে তারা প্রতারিত হয়েছে; তখন প্রতারক চক্রের কাছে দেয়া টাকাগুলো ফেরতের দাবি জানায়। চাকরি প্রত্যাশীর এমন দাবিতে প্রতারক চক্র নানা ধরনের হুমকি দিয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য চাপ দিতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখলে এরই এক পর্যায়ে অফিস গুটিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের খপ্পরে পড়ে গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল বেকার যুবকরা হারাচ্ছে অর্থ ও সময়। প্রতারিত হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে বেকারত্বে ধুঁকতে থাকা মানুষগুলো। সবচেয়ে বেশি প্রতারণা করা হচ্ছে সিকিউরিটি গার্ড ও গার্মেন্টে চাকরি দেয়ার নামে। গত ৬ মাসে এ ধরনের অর্ধশত প্রতারককে আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো প্রতারণায় নেমে পড়ে। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া কিছু প্রতারকে জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়েছে প্রতারণার নানা কৌশলের কথা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম,পত্রিকা ও লিফলেটের মাধ্যমে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ২ জুলাই রাজধানীর দনিয়া এলাকা থেকে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে Rab। ২২ জুন রাজধানীর মহাখালীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে প্রতারক চক্রের ২০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া গত ২২ জানুয়ারি প্রতারক চক্রের ৩০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন Rab। ডিএমপির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এসি) (মিডিয়া) মফিজুর রহমান পলাশ বলেন, একটু সচেতন থাকলে এসব প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব প্রতিরোধে সব সময়ই তৎপর। তবে এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি কেউ এরকম প্রতারকের সন্ধান পেলে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
ঢাকায় জিসিএ এর আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
০৮সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন-এর চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের ৮ম মহাসচিব বান কি মুন এবং নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সাথে ঢাকায় জিসিএ এর নতুন আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করেছেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এ কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর,আগারগাঁও, ঢাকায় অবস্থিত আঞ্চলিক কার্যালয়টি জলবায়ু পরিবর্তন জনিত জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় কার্যকর অভিযোজন সমস্যা সমাধানে দক্ষিণ এশিয়ার সরকার, সিটি মেয়র, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং সুশীল সমাজের সাথে কাজ করবে। গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০১৯ অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের জন্য বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ঝুঁকিপুর্ণ। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম ও ভালনারেবল গ্রুপ অব টুয়েন্টি (ভি২০) ফিনান্স মিনিস্টার্স এর সভাপতি বাংলাদেশ এবং বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা তৈরি করেছে। জিসিএ বাংলাদেশ অফিস মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় অভিযোজনের ক্ষেত্রসমূহ শক্তিশালীকরণ এবং সমগ্র অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিসমূহ দূর করতে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম জোরদারকরণে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের সভাপতিত্বকালীন সময়ে এটি জলবায়ু ভিত্তিক দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা সিভিএফ এবং ভি২০ এর সচিবালয় হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া এটি ডেল্টা জোটের সচিবালয় হিসেবেও কাজ করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ অফিস সুনীল অর্থনীতি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকীর প্রতি উৎসর্গীকৃত এ ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর প্রথম সারির একটি দেশ বাংলাদেশ। তিনি আরো বলেন যে শিশু, নারী, বয়স্ক মানুষ এবং বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ঝুঁকির বিষয়টি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। তিনি এই হুমকি মোকাবেলা এবং ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে এ বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ নির্ধারিত অবদান(এনডিসি) সম্পন্ন করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন-এর চেয়ারম্যান এবং জাতিসংঘের ৮ম মহাসচিব বান কি মুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে একটি জনগোষ্ঠি কতটা উদ্ভাবনী হতে পারে বাংলাদেশ তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। জিসিএ বাংলাদেশের মাধ্যমে তাঁদের মূল্যবান শিক্ষা গ্রহণ করে বাকি বিশ্ব নতুন জলবায়ু বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে। নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তে বলেন, আমাদের দেশগুলো জলবায়ু অভিযোজনের গুরুত্ব সম্পর্কে খুব সচেতন। পাশাপাশি আমাদের কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাসে বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনের উপযুক্ত ক্ষেত্র। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হতে এখন অভিযোজন কার্যক্রমে বিনিয়োগ করতে হবে। এর জন্য টাকা খরচের দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা স্বল্পমেয়াদী খরচের চেয়ে অনেক বেশি কল্যাণকর হবে। গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট্রিক ভার্কুইজেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জলবায়ু সহিষ্ণুতা জোরদারকরণে অনেক উদ্ভাবনী সমাধান রয়েছে। এই অঞ্চলের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলার জন্য তাদের যথাযথ প্রস্তুতি নেয়া জরুরি প্রয়োজন। সমাধান হিসেবে জিসিএ এর ভূমিকার মাধ্যমে জিসিএ বাংলাদেশ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশে সবচেয়ে কার্যকর অভিযোজন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য মন্ত্রীরাও এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়; ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী লিনোপ টেন্ডি দরজি; মালদ্বীপের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হোসেন রশীদ হাসান, নেপালের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শক্তি বাহাদুর বাসনেট, পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহকারী মালিক আমিন আসলাম খান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং জিসিএ বোর্ডের সদস্য একে আব্দুল মোমেন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন ও বক্তব্য রাখেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আঞ্চলিক গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন বাংলাদেশ (জিসিএ বাংলাদেশ) এর ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি প্রেস কনফারেন্স এর আয়োজন করে। প্রেস কনফারেন্স এ পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এমপি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন-এর চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের ৮ম মহাসচিব বান কি মুন এসময় বক্তব্য রাখেন। প্রেস কনফারেন্স এর পর প্রথম বার্ষিক জিসিএ সাউথ এশিয়া পার্টনারশিপ ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। এটি আঞ্চলিক অভিযোজন অগ্রাধিকারের বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান স্টেকহোল্ডার এবং নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনার সুযোগ প্রদান করে, যার মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নেতা এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি সংগ্রহ করা যাতে জানা যায় যে জিসিএ বাংলাদেশ কিভাবে তাদের সর্বোত্তম সমর্থন করতে পারে তার পন্থা উদ্ভাবন করা। জিসিএ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় জিসিএ এবং তার সহযোগীদের দ্বারা চিহ্নিত জলবায়ু অভিযোজনের অগ্রাধিকা্র এর ওপর গুরুত্বারোপ করবে। এটি স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন কার্যক্রম, শহুরে প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার জন্য পানি, অধিকতর স্থিতিশীল অবকাঠামো, জলবায়ু অর্থায়ন, যুব নেতৃত্ব এবং জ্ঞান এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রকৃতির ব্যবহার নিশ্চিত করার উপায় বের করে তার বাস্তবায়নের পথে প্রয়োজনীয় সম্পদ বিনিয়োগ করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সারা বিশ্বের তরুণদের শিক্ষার সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে তাদের ভূমিকাকে অভিযোজন এজেন্ডায় যুক্ত, ক্ষমতায়ন এবং সম্প্রসারণের জন্য বৈশ্বিক প্রধান প্লাটফর্ম জিসিএ'র ইয়ুথ অ্যাডাপ্টেশন নেটওয়ার্ক নিয়ে আলোচনার জন্য ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের এম্বাসেডর সায়মা ওয়াজেদ হোসেনও ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে আজ থেকে জিসিএ'র দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয়, ঢাকা কাজ শুরু করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমদ শামীম আল রাজীকে অফিসের রুটিন দায়িত্ব পালনের জন্য আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার বিষয়ে কাজ করতে প্রাথমিকভাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। চীনের বেইজিং-এ আরেকটি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। এটি এশিয়ার দ্বিতীয় আঞ্চলিক কার্যালয়।
সরকার পরিবর্তন চাইলে বিএনপিকে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষার আহ্বান
০৮সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকার পরিবর্তন চাইলে বিএনপিকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের কোনো পরিস্থিতি দেশে বিরাজমান নেই বলও মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর থেকে ঢাকা এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন বাস Rapid ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ কথা বলেন সেতুমন্ত্রী। ওবায়দুল কাদের সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ পর্যালোচনা সভায় যুক্ত হন। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন হয় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের কোনো পরিস্থিতি দেশে বিরাজমান নেই। বিএনপি যদি চোরাগলি দিয়ে ক্ষমতার স্বর্ণদুয়ারে পৌঁছবেন বলে ভাবে তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছে। গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ না থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালিত না হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এবিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানাচ্ছি। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধির প্রতি কঠোর হওয়ারও আহ্বান জানান। ওবায়দুল কাদের দেশব্যাপী শর্ত লঙ্ঘনসহ সড়কে শৃঙ্খলা বিধানে বিআরটিএ এবং জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশ দেন। এসময় ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

জাতীয় পাতার আরো খবর