মঙ্গলবার, আগস্ট ৩, ২০২১
পদ্মাসেতুর কাজে অগ্রগতি ৮১ শতাংশেরও বেশি
১১সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পদ্মাসেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮১ শতাংশেরও বেশি এবং মূল সেতুর প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পদ্মাসেতু প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের নিজের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সভায় যুক্ত হন। পদ্মাসেতুর মোট ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ৩১টি এ পর্যন্ত বসানো হয়েছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দৃশ্যমান হয়েছে চার হাজার ৬৫০ মিটার। ৪২টি পিয়ারের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং নদী শাসনের কাজ প্রায় ৮৪ ভাগ শেষ হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সড়ক ও টোল প্লাজার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা থেকে মাওয়া এবং পাচ্চর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত দেশের প্রথম দৃষ্টিনন্দন এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করবেন। এসময় ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত ছিলেন সেতু সচিব মো. বেলায়েত হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম এবং নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন আইনের সংশোধন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। এ বিষয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, সরকারের কোনো বক্তব্য থাকলে সরকারও নির্বাচন কমিশনকে জানাবে। সুষ্ঠু, অবাধ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে ভবিষ্যতেও সংবিধান অনুযায়ী সরকার সহযোগিতা করবে। এটা সরকারের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশন গঠন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করেন। এরমধ্যে বিএনপির প্রতিনিধিও ছিলেন। কাদের বলেন, এখন নির্বাচন কমিশনে বিএনপি সমর্থিত প্রতিনিধি আছেন। বিএনপির আমলে কমিশন গঠনে কখনও আওয়ামী লীগের নাম নেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন গঠন কিংবা বাতিলের এখতিয়ার সরকারের নয়, সময় হলেই রাষ্ট্রপতি যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে বলে আরও বেশি ভোটে জয়ী হতো। আর পরাজিত হলে বলে কারচুপি করে হারিয়ে দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এক হাজার করে টাকা দেবে সরকার
১০সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শিক্ষার্থীদের কাপড়-চোপড়, টিফিন বক্স ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এক হাজার করে টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এ কথা জানান। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে সকলের জীবনে স্থবির হয়ে পড়েছে। এজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি শিক্ষার্থীদের আমরা এক হাজার করে টাকা দেবো যাতে করে তারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারে। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো মানুষ যেন কষ্টে না থাকে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রেখেই আমরা এই ব্যবস্থাটা নিয়েছি। অর্থনীতির চাকাটা যাতে গতিশীল থাকে আর সাধারণ মানুষ যেন কষ্ট না পায় তার জন্য এই ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছি। কারণ দেশের মানুষের জন্যই আমাদের এই রাজনীতি। তিনি বলেন, আমরা সাধ্যমত মানুষের পাশে আছি। মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল তখন করোনাভাইরাস মোকাবিলা, ত্রাণ বিতরণসহ অন্যান্য কাজে যে সকল মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা ছিল তারা কাজ করেছে। আমাদের কিছুদিন থমকে যেতে হয়েছিল। সবকিছু প্রায় বন্ধ অবস্থায় ছিল। সব কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যেও সরকার কিন্তু বসে থাকেনি। যার কারণে আমরা রিজার্ভ ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পেরেছি। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস এর কারণে আমাদের বিদেশ যাওয়া নেই, বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি নেই। এসব কারণে আমাদের বেশ সাশ্রয় হয়েছে। সেটা আমরা মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে পারছি। মাথাপিছু আয় দুই হাজার ৬৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাঝখানে কিছুদিন রপ্তানি একটু থমকে গেলেও আমাদের আমদানি-রপ্তানি এখন বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে গার্মেন্টসগুলো যা চেয়েছে আমরা সেইভাবে দিয়েছি। এদিকে করোনার ভ্যাকসিন প্রাপ্তির জন্য সব দেশের সঙ্গেই চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন প্রাপ্তির জন্য সবদেশের সাথেই চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। অর্থও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যে দেশ আগে ভ্যাকসিন বাজারে নিয়ে আসবে সেটিই সংগ্রহ করা হবে।
নতুন ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী মুক্তিযোদ্ধা সন্তান স্কলারশিপ দরখাস্ত আহ্বান
১০সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০২০-২০২১ অর্থবছরে 'নতুন ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী মুক্তিযোদ্ধা সন্তান স্কলারশিপ স্কিম' এর আওতায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান অথবা নাতি-নাতনিদের বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে দরখাস্ত আহ্বান করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। আবেদন ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ হতে ১৫ অক্টোবর ২০২০ পর্যন্ত নেয়া হবে। এ স্কলারশিপ স্কিমের আওতায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ১০০০ জন এবং স্নাতক পর্যায়ে ১০০০ জন করে মোট ২০০০ ছাত্র-ছাত্রীকে (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা নাতি-নাতনি) বৃত্তি প্রদান করা হবে। স্নাতক পর্যায়ে এককালীন পঞ্চাশ হাজার এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এককালীন বিশ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হবে। বিস্তারিত তথ্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (www.molwa.gov.bd ) পাওয়া যাবে।
সিনহা হত্যা মামলায় কক্সবাজারের এসপিকে আসামি করার আবেদন
১০সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকে আসামি হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করতে আদালতে আবেদন করেছেন মামলার বাদী সিনহা বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারকি আদালত (সদর-৪) তামান্না ফারাহর আদালতে এ আবেদনটি দায়ের করা হয়। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করলেও এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ দেননি। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা জানিয়েছেন, যেকোনো সময় এই আদেশ হতে পারে। মূলত সিনহা হত্যার আগে ও পরে পুলিশ সুপারের সাথে আসামিদের যোগাযোগ ছিল। আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করছেন তিনি। তাই বাদী মনে করছেন পুলিশ সুপারকে এ মামলায় আসামি করা জরুরি। মামলার বাদী সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস একই কথা জানিয়ে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এরপর ৫ আগস্ট এ ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতে মামলা করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। মামলাটি Rab কে তদন্তভার দেয়া হয়। ৬ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন পুলিশের ৭ সদস্য। গত এক মাসে Rab এপিবিএনর ৩ সদস্য, পুলিশের মামলার ৩ সাক্ষীকে আটক করে মোট ১৩ জনকে নানা মেয়াদে রিমান্ডে নিয়েছে। ১২ জন আসামি এ পর্যন্ত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
দগ্ধদের দেখে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডা. লেলিন
১০সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নিতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদশর্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডা. জুলফিকার লেলিন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালে এসে রোগীদের অবস্থা দেখেন এবং তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে রোগীদের অবস্থা জানার চেষ্টা করেন তিনি। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্যই এ বার্ন ইনস্টিটিউটি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মসজিদে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তাতে দগ্ধদের অধিকাংশ ৯০ শতাংশ পোড়া ছিলেন। তাদের চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন সব সাপোর্টই, এ হাসপাতালের রয়েছে। প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী তাদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। ওষুধ থেকে শুরু করে সবকিছুই সরকারি ভাবে ব্যবস্থা করে দেওয়ার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। আমি আজ এখানে চিকিৎসায় ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কোনো ঘাটতি রয়েছে কিনা, এটি দেখার জন্য এসেছি। তবে এমন কোনো ঘাটতি দেখতে পাইনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসকরা সবকিছুরই ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, তবে রোগীর স্বজনদের আবেগের জায়গায় হয়তো কিছুটা সমস্যা রয়েছে যে, তারা রোগীদের দেখতে পারছেন না, আইসিইউর ভেতরে ঢুকতে পারছেন না। ইনফেকশনের ভয়ে রোগীদের কাছে বারবার স্বজনদের যেতে না দেওয়ায় বিভিন্ন অভিযোগ থাকতে পারে। তবে দিনে দু-একবার যাওয়ার সুযোগ দেন চিকিৎসকরা। এখানে কোনো চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। এখান থেকে রোগীকে বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করবে, এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। বরং বাইরে থেকে রোগী এখানে আসবে। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সব তথ্য নিচ্ছেন। আরও যা যা প্রয়োজন সে বিষয়ে ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। এদিকে ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ আজ সকাল সাড়ে ৯টায় আবদুস সাত্তার নামে একজন মারা গেছেন। ইতোমধ্যে একজন বাড়ি ফিরেছেন। হাসপাতালে এখন সাতজন ভর্তি রয়েছেন। আইসিইউতে সবার চিকিৎসা চলছে। তাদের কেউ শঙ্কামুক্ত না। রাষ্ট্রের নির্দেশে তাদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
মসজিদে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের ৫ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ
০৯সেপ্টেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আপাতত সাতদিনের মধ্যে পাঁচ লাখ করে টাকা দেওয়ার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ৩৭টি পরিবারের কাছে এ টাকা বিতরণ করবেন। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক। রুলে দগ্ধ ও নিহতদের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, নারায়ণগঞ্জের মেয়র, তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রাজউক, ডিপিডিসি, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও এসপি, মসজিদ কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত সোমবার রিট আবেদনটি দায়ের করেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার। মঙ্গলবার এ রিটের ওপর শুনানি শেষে বুধবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়। আবেদনে দগ্ধ ও নিহতদের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আবেদনে ওই ঘটনায় কার কী দায়, কার অবহেলা বা কার ভুল তা নিরুপণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিট আবেদনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, নারায়ণগঞ্জের মেয়র, তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও এসপিসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হন ৩৭ জন মুসল্লি। দগ্ধদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। দগ্ধ ৩৭ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর ১২ শতাংশ দগ্ধ মামুন নামে এক রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন আটজনের মধ্যে বেশ কয়েকজন সুস্থ হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে, এটি শুভ সংবাদ: কাদের
০৯সেপ্টেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে, এটি রাজনীতির জন্য একটি শুভ সংবাদ। বিএনপির এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। সংসদীয় রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। বুধবার তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিকে নেতিবাচক রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।নির্বাচনী রাজনীতিতে বিএনপি’র এ অংশগ্রহণ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ভার্চুয়াল সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সেতু সচিব বেলায়েত হোসেন, প্রকল্প পরিচালক হারুন অর রশিদ, সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ফেরদৌস প্রমুখ।
সকালে ঘুম থেকে উঠে আগে জায়নামাজ খুঁজি: প্রধানমন্ত্রী
০৯সেপ্টেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সকালে ঘুম থেকে উঠে আগে জায়নামাজ খোঁজেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। ফখরুল ইমাম নিজে ঘুম থেকে উঠে মোবাইল খোঁজেন, তার স্ত্রী ঘরদোর পরিষ্কার করতে ঝাঁড়ু খোঁজেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ঘুম থেকে উঠে কী খোঁজেন তা জানতে চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকালে উঠে আমি জায়নামাজ খুঁজি। সকালে উঠে আগে নামাজ পড়ি। নামাজ শেষে কোরআন তেলাওয়াত করি। তারপর এক কাপ চা নিজে বানাই। সকালের চা-টা আমি নিজে বানিয়ে খাই। চা বানাই, কফি বানাই; যা বানাই নিজে বানিয়ে খাই। ছোট বোন বাসায় থাকলে দুজনের যে আগে ওঠে সে বানায়। মেয়ে পুতুল আছে। সেও আগে উঠলে সে বানায়। আমরা নিজেরা করে খাই। তিনি বলেন, তার আগে বিছানা থেকে ওঠার আগে নিজের বিছানাটা নিজে গুছিয়ে রাখি। এরপর বই-টই যা পড়ার পরি। আর ইদানিং করোনাভাইরাসের পরে সকালে একটু হাঁটতে বের হই। তবে আরেকটা কাজ করি এখন। সেটা বললে কী হবে... (হেসে ফেলেন)। গণভবনে একটি লেক রয়েছে। হাঁটার পরে লেকের পারে যখন বসি, তখন ছিপ নিয়ে বসি। মাছ ধরি। পিতা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে সামাজিক ও পারিবারিক শিক্ষা পেয়েছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা কলেন, আব্বার নির্দেশ ছিল একজন রিকশাওয়ালাকে আপনি বলে সম্বোধন করতে হবে। ড্রাইভারকে ড্রাইভার সাহেব বলতে হবে। কাজের যারা লোকজন তাদের কখনো ‘চাকর-বাকর’ বলা যাবে না। হুকুম দেয়া যাবে না। তাদের কাছে কিছু চাইতে হলে সম্মান করে ভদ্রভাবে চাইতে হবে। যে কারণে আমি প্রধানমন্ত্রী হতে পারি, যতদূর পারি নিজে করে খাই। তিনি বলেন, কিন্তু এখনো আমার বাড়িতে কাজের মেয়ে যারা আছে কারো কাছে যদি এক গ্লাস পানিও কখনো চাইতে হয় তাদের জিজ্ঞাসা করি আমাদের একটু এটা দিতে পারবে? এই শিক্ষাটা আমরা নিয়ে আসছি। এই শিক্ষা বাবা আমাদের দিয়ে গেছেন। এখনো মেনে চলি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ গরীব দেখতে বা ভালো পোষাক না পরলে অবহেলা করতে হবে আমাদের কাছে কী সেটা নয়। আমরা সবাইকে সমান সমাদর করি। বরং যাদের কিছু নেই তাদের দিকে একটু বেশি নজর দেই।
রোহিঙ্গাদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ ছিল, আইসিসিতে বললেন মিয়ানমার সৈনিক
০৮সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময়ে সৈনিকদের প্রতি নির্দেশ ছিল, যাকে দেখবে তাকে গুলি করবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেওয়ার সময় মিয়ানমারের দুজন সৈনিক একথা বলে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফরটিফাই রাইটস মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়া দুই সৈনিক হলো মিও উইন তুন (৩৩) এবং জ নায়েং তুন (৩০)। আদালতে তারা ২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময়ে নারী, শিশুসহ নিরীহ মানুষদের হত্যা, গণকবরে মাটি চাপা দেওয়া, ধর্ষণসহ অন্যান্য অপরাধের কথা স্বীকার করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই স্বীকারোক্তির ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুই সৈনিক কোর্টের কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে ভবিষ্যতে মামলায় কাজ করবে। আইসিসির বিভিন্ন ধরনের সাক্ষী সুরক্ষার (উইটনেস প্রটেকশন) নিয়ম আছে এবং তার অধীনে এ ধরনের সাক্ষীদের সব ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়। ওই সৈনিকরা ১৯ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে যারা সরাসরি এ ধরনের নৃশংসতা করেছে। এছাড়া ছয় জন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এসবের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। উল্লেখ্য, আইসিসিতে রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ক অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুধুমাত্র এই দুজন কমপক্ষে ১৮০ জন রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। মিও উইন তুন স্বীকারোক্তিতে বলেন, কর্নেল থান থাকি রোহিঙ্গাদের সমূলে হত্যার নির্দেশ দেন। এরপর সৈনিকরা মুসলিমদের কপালে গুলি করে এবং লাথি মেরে কবরে ফেলে দেয়। বুথিডং অঞ্চলে কয়েকটি গ্রাম ধ্বংস করা, ৩০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকা, এছাড়া আরও ৬০ থেকে ৭০ জন রোহিঙ্গা হত্যার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার বিষয়েও মিও স্বীকারোক্তি দেয়। জ নায়েং তুন বলেন, মংদু টাউনশিপে ২০টি গ্রাম ধ্বংস এবং অন্তত ৮০ জনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এছাড়া, সার্জেন্ট পায়ে ফোয়ে অং এবং কিয়েত ইয়ু পিন তিন জন রোহিঙ্গা নারীকে ধর্ষণ করেছে, যার সাক্ষী আমি।- দেশ বিদেশ

জাতীয় পাতার আরো খবর