বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৮, ২০২১
বিশ্ব নদী দিবস আজ
২৬সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : নদী রক্ষায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব নদী দিবস। দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে নদী রক্ষায় সচেতন করা। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য- মানুষের জন্য নদী। নদী রক্ষার তৎপরতা গোটা পৃথিবী জুড়েই দেখা যায়। তবে আমাদের দেশে নদী ও মানুষের জীবন অবিচ্ছেদ্য হওয়ায় নদী নিয়ে পরিবেশবাদীসহ সাধারণ মানুষের উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়। নদী সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার পালন করা হয় বিশ্ব নদী দিবস। বাংলাদেশের নদী রক্ষায় কাজ করা ৭০টির বেশি সংগঠন, উদ্যোগ ও আন্দোলনের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্ব নদী দিবস উদযাপন পরিষদ গতকাল (শনিবার) অনলাইন মার্চ ফর রিভারস কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এস এম আলী কবীর। পরিষদের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নির্বাহী সহ-সভাপতি ডা. মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে দিবসের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন পরিষদের সদস্য সচিব ও রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। ১৯৮০ সাল থেকে বিশ্ব নদী দিবস হিসেবে পালন করতে শুরু করে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। যার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল বিসি রিভারস ডে পালন দিয়ে। ১৯৮০ সালে কানাডার খ্যাতনামা নদীবিষয়ক আইনজীবী মার্ক অ্যাঞ্জেলো দিনটি নদী দিবস হিসেবে পালনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিসি রিভারস ডে পালনের সাফল্যের হাত ধরেই তা আন্তর্জাতিক রূপ পায়। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ নদী রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরি করতে জীবনের জন্য জল দশক ঘোষণা করে। সে সময়ই জাতিসংঘ দিবসটি অনুসমর্থন করে। এরপর থেকেই জাতিসংঘের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা দিবসটি পালন করছে, যা দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। নিউজ একাত্তর/বিল্পব
প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বই- শেখ হাসিনা : বিমুগ্ধ বিস্ময়
২৫সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের নতুন বই- শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে বইটি তুলে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে বইটি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ওয়াজেদ জয়। ড. মোমেন সম্পাদিত এ গ্রন্থে রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার গুণী ও বিদগ্ধজনের ৭৫টি লেখা স্থান পেয়েছে। এতে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও বহুমাতৃক নেতৃত্বের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। চন্দ্রাবতী একাডেমি প্রকাশিত এ বইয়ে প্রধানমন্ত্রী এক উজ্জ্বল, ত্যাগী, দূরদর্শী ও সৃষ্টিশীল নেতৃত্বের প্রতিভূ হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন। ড. মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে ছয় বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। পেশাগত প্রয়োজনে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন এবং বিচিত্র মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এই বইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাদামাটা জীবনের একটা তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছেন । এ গ্রন্থ সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবন ও উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি দেশবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। শেখ হাসিনা কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। লক্ষ্য অর্জনে কখনও পিছপা হননি তিনি। তাঁর অক্লান্ত প্রয়াসে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এ দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আজ বিশ্ববাসীর কাছে এক বিস্ময়। ড. মোমেন বলেন, ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা এক সাথে উদযাপন করছি। একই বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন। তিনটি বিষয়ই বাঙালি ও বাংলাদেশের জন্য গৌরব আর অহংকারের। ড. মোমেন পেশাগত জীবনে দীর্ঘদিন অধ্যাপনায় নিযুক্ত ছিলেন। পেশাগত ব্যস্ততার মাঝে সময় পেলেই তিনি বই পড়েন ও লেখালেখি করেন। তাঁর গ্রন্থিত ও সম্পাদিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে জাতির উদ্দেশে ভাষণ: শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ- একুশ শতকের পররাষ্ট্রনীতি: উন্নয়ন ও নেতৃত্ব, বাংলাদেশ: রোড টু ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, বাংলাদেশ মার্চিং ফরোয়ার্ড, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ, বাংলাদেশ: উন্নয়ন ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সমগ্র ১৯৫৫-১৯৭৫, বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা: বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনা ও কূটনীতি, টেকসই উন্নয়নের পথে অভিযাত্রা: বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা, সাউথ সাউথ কো-অপারেশন: ফাইন্যান্সিং এসডিজি, বাংলাদেশ কান্ট্রি অব এমপাওয়ারিং পিপল, বাংলাদেশ: ফোরটি ইয়ারস ইন দ্যা ইউএন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা গবেষণাগ্রন্থে তাঁর প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা আড়াইশরও বেশি। নিউজ একাত্তর/ভুঁইয়া
নারী সহিংসতা ও বাল্যবিয়ের মতো উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে উত্তরণ ঘটাতে হবে: স্পিকার
২৫সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে নারীশিক্ষাকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বাস্তবায়নাধীন এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় গঠিত বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ পার্লামেন্টারিয়ান্স অন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএপিপিডি)-এর বাল্যবিয়ে ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ শীর্ষক পরামর্শ কর্মশালায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে স্পিকার এ কথা বলেন। স্পিকার বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে তথা বিএপিপিডির সব কর্মকাণ্ড তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণে সবার সম্মিলিত প্রয়াস জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ যথাযথ বাস্তবায়ন সম্পর্কে এরূপ কর্মশালা আয়োজন থেকে ধারণা পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি। সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁকে- এসডিজি প্রগেস অ্যাওয়ার্ড-এ ভূষিত করা হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের জনবান্ধব ধারণাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ব্যক্তিগত চিন্তার ফসল। কারণ, তিনি গ্রামে, চরে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষকে সেবা দেওয়ার বিষয়টি সর্বদা প্রাধান্য দেন। স্পিকার বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে ১২ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক কাজ করছে, সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৩২ রকমের ওষুধ সেখানে বিনামূল্যে বিতরণের ব্যবস্থা রয়েছে। মা ও শিশুসেবা, পরিবার পরিকল্পনাসেবা, শিশুটিকা প্রদান কার্যক্রম কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো দিয়ে যাচ্ছে। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, কোভিডকালীন সমগ্র বিশ্বে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী সহিংসতা, বাল্যবিয়ের মতো উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে উত্তরণ ঘটাতে হবে। কন্যা সন্তানদের অস্বচ্ছল পিতা-মাতাদের আস্থাহীনতার কারণে করোনাকালীন সময়ে বাল্যবিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কন্যা সন্তান তাদের জন্য বোঝা নয়। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি অভিভাবকদের এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষিতে কন্যা সন্তানদের এগিয়ে নিতে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম সকলের প্রচেষ্টায় সচেতনতা তৈরি করতে হবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং বাল্যবিবাহ ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক বেগম মেহের আফরোজের সভাপতিত্বে এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কে. এম. আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, আরমা দত্ত, শিউলি আজাদ, শবনম জাহান ও ফখরুল ইমাম। প্রকল্প পরিচালক যুগ্ম সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ কর্মশালায় সূচনা বক্তব্য দেন। নিউজ একাত্তর/ভুঁইয়া
এক আয়োজনে বঙ্গবন্ধু-মহাত্মা গান্ধীর জীবন
২৫সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহাত্মা গান্ধী দুই বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও ভারতের জাতির পিতা। স্বাধীন ভূখণ্ডের স্বপ্ন দেখা দুই মহামানবের জন্মক্ষণের পার্থক্য প্রায় অর্ধশতাব্দির। চমৎকার এ ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী। যেখানে এক ফ্রেমে তুলে ধরা হয়েছে দুই মহামানবের সংগ্রামী জীবনকর্ম। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশতজন্মবর্ষ উপলক্ষে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে এ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১৭ দিনের এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী প্রমুখ। প্রদর্শনালয়ের প্রবেশ মুখেই দুই মহামানবের আলোকচিত্র। যার ওপরে লেখা জয় বাংলা ও অহিংসা। বঙ্গবন্ধু ও বাপুর এ দুই শব্দদ্বয়ে মন্ত্রিত হয় দুই দেশের স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীটি ২২টি তথ্যদেয়াল এবং শতাধিক ডিজিটাল মুহূর্তের সমন্বয়ে তৈরি। প্রদর্শনী শুরু হয় পরিচিতি প্রাচীর দিয়ে। যেখানে যা প্রদর্শনীর বিষয়বস্তুকে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রশংসাপত্রের মাধ্যমে বিশ্বের চোখে মহান দুই নেতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। পরবর্তী দুইটি দেয়াল দুই নেতার জীবনের একটি বিস্তৃত পটভূমি প্রদর্শন করে। ১৯৪৭ সালের আগস্টে দুই নেতার সাক্ষাতের দিনটির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত- মিটিং ওয়ালে প্রদর্শিত ছবিটি সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র ছবি যেখানে বঙ্গবন্ধু এবং বাপু উভয়ই এক ফ্রেমে রয়েছেন। একটি হলোগ্রাফিক টাইম মেশিনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক ছবিগুলোকে একটি সময়রেখার সঙ্গে সাজানো হয়েছে। এর ফলে দর্শনার্থীরা সময় এবং জীবনকাল সম্পর্কে বুঝতে পারেন। পরবর্তী অংশটি তাদের তারুণ্যের ঘটনাগুলো বর্ণনা করে যে সময়ে তাদের নৈতিক চরিত্র গঠন হয়েছিল। পরবর্তী দেয়ালটি তাদের জীবনের তিনটি বিখ্যাত আন্দোলনকে প্রদর্শন করেছে। একটি হলো লবণ সত্যাগ্রহ, যেটিকে টাইম ম্যাগাজিন আধুনিক ইতিহাসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে বিবেচনা করে। অন্যটি ৭ মার্চের ভাষণ, যেটি ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্যের একটি তালিকা। মানুষের দুর্দশা, যন্ত্রণা এবং অবিচারের দৃশ্য জালিয়ানওয়ালাবাগ এবং বাংলাদেশের ২৫ মার্চের গণহত্যা সুড়ঙ্গের মধ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য ১৯৭১ সালের প্রাচীরে সেই বছরের ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে সাজানো হয়েছে। শক্তি ব্যবহারের ন্যায্যতা এবং মুক্তিবাহিনী কর্তৃক প্রাপ্ত সাহায্য মানবতার নৈতিকভিত্তির দুইটি শেষ প্রান্ত। ব্যস্তবতার ত্রিভুজটি দুর্দশা এবং যন্ত্রণা থেকে চোখকে অতি প্রয়োজনীয় স্বস্তি দিতে, যেখানে ৩৬০ ডিগ্রি অবস্থানগুলোর মাধ্যমে অনুভব করা যায়। একটি রোবোটিক স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। সঙ্গে দুই নেতার প্রিয় সঙ্গীতও রাখা হয়েছে। বাপুর স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধী, যাকে বা বলে অভিহিত করা হয় তাকে এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনেসাকে উৎসর্গ করেও নির্মিত হয়েছে একটি দেয়াল। এ দুই নারী তাদের সঙ্গীদের পাশে দাঁড়িয়ে সব সময়ই উৎসাহ জুগিয়েছেন। দুই মহান নেতা তাদের দেশ ও জনগণের জন্য যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা পরবর্তী অংশে প্রদর্শিত হয়েছে। প্রদর্শনীটির শেষ অংশে চলমান মহামারি বিষয়ে একটি সামাজিক বার্তা দেওয়া হয়। দর্শনার্থীদের একটি ইন্টারেক্টিভ দেয়ালে তারা যে তথ্য শিখেছে তা সংযুক্ত করার সুযোগ ছিল। প্রদর্শনীর বিদায়ী অংশে দর্শনার্থী দুই নেতার সঙ্গে একটি ছবি ভুলতে পারেন এবং একটি ভিডিও প্রশংসাপত্র রেখে যেতে পারছেন। বিরাদ ইয়াগনিকের পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। নিউজ একাত্তর/ভুঁইয়া
শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব
২৪সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বৃহস্পতিবার বিকেলে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল) নিউ ইয়র্কে লটে নিউ ইয়র্ক প্যালেসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় তিনি এই প্রশংসা করেন। জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীকে আরও বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলোকে গুরুত্ব দেয়। জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মতো বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো জাতিসংঘেরও অগ্রাধিকার। শেখ হাসিনা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের উচ্চপদে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আরও বেশি সদস্য নিযুক্ত করতে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক কার্যক্রমের ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, গুতেরেস এই আহ্বানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন এবং তিনি এটিকে ন্যায্য মনে করেন। জাতিসংঘ মহাসচিব এই ব্যাপারে বাংলাদেশের সুনাম অর্জনের কথা এবং শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের সাফল্যের গল্প রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। একটি গতিশীল অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশকে জাতিসংঘ রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদরদপ্তরে নেদারল্যান্ডের রাণী ম্যাক্সিমা, ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান ফুক এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মাদ সহিলের সঙ্গেও বৈঠক করেন। নেদারল্যান্ডের রাণী ম্যাক্সিমার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে তার সরকার ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা চালু করার চিন্তা-ভাবনা করছে। এ সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা উপস্থিত ছিলেন। নিউজ একাত্তর/বিল্পব
জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইন সাংবাদিকতা
২৪সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতা জনপ্রিয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকার রাশিয়ান হাউসের পরিচালক ম্যাক্সিম দোব্রোখোতভ। তিনি বলেন, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে জাতীয় গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখন আর বাংলাদেশের মানুষকে তথ্যের জন্য একটি পুরো দিন অপেক্ষা করতে হয় না। যখন ঘটনা ঘটে, তখনই তা অনলাইন সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারে। অনলাইন সাংবাদিকতা তাই খুবই জনপ্রিয় এবং বেশ কিছু গণমাধ্যম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় রাশিয়ান হাউস। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাশিয়ান হাউসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ম্যাক্সিম দোব্রোখোতভ। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সুদৃঢ় সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে সে সময় তিনি বলেন, ঢাকার রাশিয়ান হাউস বাংলাদেশে দক্ষ নাগরিক তৈরিতে রাশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারি বৃত্তি কর্মসূচির প্রার্থী নির্বাচনসহ শিক্ষামূলক কার্যক্রম নিয়ে কাজ করছে। ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে রাশিয়ান সরকার ৬৫টি বৃত্তি বরাদ্দ করেছে। আগামীতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ সময় তিনি চলতি বছর রাশিয়ান হাউসের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে রাশিয়ার গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা অনুষদের পিএইচডি ছাত্র বারেক কায়সার তার লেখা- রাশিয়ায় বঙ্গবন্ধু শীর্ষক বইটি ম্যাক্সিম দোব্রোখোতভের হাতে তুলে দেন। এ সময় রাশিয়ান হাউসের সাংস্কৃতিক বিভাগের অনুষ্ঠান প্রধান প্রশান্ত কুমার বর্মন, শিক্ষা বিভাগের প্রধান সৈয়দ বজলুল হাসান রাজীবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।নিউজ একাত্তর/বিল্পব
চার-পাঁচ দিনের মধ্যে কোটির বেশি মানুষ টিকা পাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
২৩সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সারা দেশে কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হবে। পাশাপাশি চালু রাখা হবে চলমান টিকা কর্মসূচিও, এমনটি জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মুজিববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের উদ্যোগে বিশেষ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বড় পরিসরে টিকা দেয়ার প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। কয়েক দিনের মধ্যে আমরা ১ কোটির অধিক মানুষকে টিকা দেব। এ ছাড়া চলমান টিকাদান কর্মসূচিও অব্যহত থাকবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ফাইজারের ৬০ লাখ টিকা পাবার পাশাপাশি নতুন করে আরও ৭১ লাখ টিকা পাব। গত রাতে সিনোফার্মের আরও ৫০ লাখ টিকা এসেছে, আরও আসবে। ফলে আবারও ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কোটি টিকা দেয়া হবে। বিমানবন্দরে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে করোনার নমুনা পরীক্ষায় পিসিআর ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান জাহিদ মালেক। জায়গা সংকটের কারণে ল্যাব তৈরিতে দেরি হয়েছে। গত পরশু দিন আমরা জায়গা ঠিক করে এসেছি বলে জানান তিনি। আগামী ২ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই পিসিআর পরীক্ষার কাজ শুরু হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় পুষ্টি পরিষদের মহাপরিচালক ডা. মো. খলিলুর রহমান।স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজসহ আরও অনেকে। নিউজ একাত্তর/বিল্পব
রোহিঙ্গা নিপীড়ন, বিচার চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
২৩সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : রোহিঙ্গা নিপীড়নকারীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা তৈরির জন্য তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নিপীড়নের জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের দায়মুক্তি দেওয়া উচিত নয়। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সময় বিকেলে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক (রোহিঙ্গা) সঙ্কট: স্থায়ী সমাধান জরুরি শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নিপীড়নের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ আইসিজেতে চলমান আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং মানবাধিকার কাউন্সিলের তৈরি অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়াগুলোকেও সমর্থন করা উচিত। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে অবশ্যই এখনই কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এর সমাধানে পাঁচটি প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, আমাদের সর্বাধিক অগ্রাধিকার টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা এবং অবশ্যই সে লক্ষ্যে আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা বিনিয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যদিও মিয়ানমারে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবুও এ সঙ্কট সমাধানে আমাদের চেষ্টা অব্যহত রাখা উচিত। তৃতীয়ত, এ ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বাস করি আসিয়ানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। আমরা আসিয়ানের বিশেষ দূত নিয়োগকে স্বাগত জানাই এবং আশাকরি মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিজ দেশে টেকসই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে এ সঙ্কট সমাধানের বিষয়টি আসিয়ানের এজেন্ডায় বেশি গুরুত্ব পাবে। সহযোগী সদস্য হিসেবে আসিয়ানের উচিত মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা। যাতে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত হয়। চতুর্থত, আমাদের মনে রাখতে হবে মানবিক সহায়তা অপরিহার্য, কিন্তু কোনোভাবেই স্থায়ী সমাধান নয়। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে জাতিসংঘ এবং অংশীদারদের অবশ্যই বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ এবং প্রকল্প নিতে হবে। এখন পর্যন্ত আমরা এরকম কোনো অগ্রগতি দেখিনি। পঞ্চমত, মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা তৈরির জন্য তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নিপীড়নের জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের দায়মুক্তি দেওয়া উচিত নয়। জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ আইসিজেতে চলমান আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং মানবাধিকার কাউন্সিলের তৈরি অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়াগুলোকেও সমর্থন করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মানবিক সঙ্কট সমাধান করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। কারণ এর প্রভাব রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরেও পড়ছে। ভয়াবহ এ সঙ্কটের সমাধান বিলম্বিত হলে আমাদের সবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। প্রত্যাবর্তনের অগ্রগতির অভাবে ক্রমবর্ধমান হতাশার কারণে অনেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তারা উগ্রবাদী মতাদর্শীদের সহজ শিকার। এটি পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে তুলতে পারে। এর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সবার সাথে কাজ করে যাবে। রোহিঙ্গা নাগরিকদের দুর্দশা লাঘবের আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা- পুনরুদ্ধারের আশা; টেকসই পুনর্গঠনের আশা এই থিম নিয়ে ৭৬তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। আমার প্রতিনিধি দলও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আশা নিয়ে অধিবেশনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের দুর্দশা লাঘবের আশা। এতদিনেও রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান না হওয়ায় শেখ হাসিনা বলেন, গত চার বছর ধরে আমরা খুবই আশাবাদী ছিলাম মিয়ানমারের এসব বাস্তুচ্যুত মানুষ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাবে। তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য আমরা বৈশ্বিক সমাবেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। এখনও সঙ্কট সমাধানের আশা রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাই হোক আমাদের আহ্বান উপেক্ষিত হয়েছে এবং আমাদের আশা অপূর্ণ রয়ে যায়। আমরা এখন সংকটের পঞ্চম বছরে। তবুও আমরা এখনও এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের আশা ধরে রেখেছি। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামনে দুটি পথ ছিল- হয় তাদেরকে জীবন বাঁচানো অথবা সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া এবং তাদের জাতিগত নির্মূলের মুখে ঢেলে দেওয়া। আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাড়া দিয়ে তাদের জীবন বাঁচানোর পথটি বেছে নেই। নিউজ একাত্তর/বিল্পব
মানুষের কল্যাণে সকল প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
২২সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, দেশের মানুষের কল্যানে কোনো প্রকল্পে উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়ন না পেলেও সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তা বাস্তবায়ন করবে। তিনি আজ রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্যা পুওরেস্ট (আইএসপিপি) যত্ন প্রকল্পের গুড প্র্যাকটিসেস এন্ড লেসন লার্নড শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের জন্য যা মঙ্গলকর এবং লাভজনক এমন প্রকল্পে যদি বিদেশি কোনো সংস্থা অর্থায়ন না করে তাহলে আমরা কি সেই প্রকল্প নিবো না ? অবশ্যই নিতে হবে এবং সরকার তা নিচ্ছে, কারণ সেই সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। তিনি বলেন, দেশ ও মানুষের উন্নয়নে অনেক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ সকল প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। শুধু প্রকল্প নিয়ে নিলেই হবে না, এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রকল্প নেওয়া হয় আবার শেষও হয়। কিন্তু প্রকল্প থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং প্রকল্পের গুড প্রাক্টিসগুলো পরবর্তীতে কাজে লাগাতে হবে। মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষই সম্পদ। প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের সেই সুপ্ত প্রতিভাকে কাজে লাগাতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি উক্তি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ পেয়ে বলেছিলেন, দেশে কিছু থাক আর না থাক আমার মাটি ও মানুষ আছে। সেই মাটি ও মানুষকে সম্পদে রূপান্তরিত করে দেশ গড়ার কাজ শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। যত প্রকল্পকে একটি ব্যতিক্রম প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং তার শিশু যারা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তাদের স্বাস্থ্য সেবায় সরাসরি অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। এই প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও যত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক দীপক চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার ড্যানডেন চেন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী। স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত প্রকল্পটি রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের সাতটি জেলার ৪৩ টি উপজেলায় ৪৪৪ টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্প এলাকার অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অন্তঃসত্ত্বা কালীন সময়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সভা, শূন্য থেকে সাত মাস বয়সের শিশুদের ওজন ও উচ্চতার পরিমাপ এবং শিশুদের দৈহিক বিকাশ ও বৃদ্ধির জন্য অর্থ সহায়তা পেয়ে থাকেন। নিউজ একাত্তর/বিল্পব

জাতীয় পাতার আরো খবর