বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১
টিকা ছাড়া বের হলে শাস্তি, এমন সিদ্ধান্ত হয়নি: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
০৪আগষ্ট ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : টিকা না নিয়ে ১৮ বছরের বেশি বয়স্ক কেউ রাস্তায় বের হলে শাস্তি পেতে হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বুধবার (০৪ আগস্ট) সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় টিকা ছাড়া বের হলে শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, করোনার টিকা না নিয়ে বাইরে ঘোরাফেরা করলে আগামী ১১ আগস্ট থেকে শাস্তির আওতায় আনা হবে ১৮ বছরের বেশি বয়স্কদের। রাস্তাঘাটে, গাড়ি-ঘোড়ায়, ট্রেনে হোক, কেউ আইন না মানলে সরকার হয়তো অধ্যাদেশ জারি করে শাস্তি দিতে পারে। তবে মঙ্গলবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এরকম কোনো কিছু বলা হয়নি। এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গতকাল যে বৈঠক হয়েছে মূলত অনলাইনে হয়েছে, বেশিরভাগই অনলাইনে সভায় যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। আমি অনলাইনে যুক্ত ছিলাম। সেখানে আসলে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ১৮ বছরের বেশি বয়স্ক কেউ (টিকা না নিয়ে) বের হলেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। তিনি বলেন, বরং মাস্ক পরার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সাথে স্বাস্থ্যবিধি যাতে সবাই মানে, সেটির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মাস্ক না পরলে যাতে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেওয়া যায় সেজন্য পুলিশ যাতে জরিমানা করতে পারে, আইনের মধ্যে থেকে কীভাবে সেটা করা যায়, সে বিষয়ে সবাই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। নিউজ একাত্তর / ভুঁইয়া
আইটি পণ্য সরবরাহ বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখার নির্দেশ
০৪আগষ্ট ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে জরুরি সেবা খাতের আওতায় আনা হয়েছে জানিয়ে চলমান বিধিনিষেধে কম্পিউটার হার্ডওয়্যারসহ আইটি পণ্য সরবরাহে বাধা না দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের সমস্যা হলে তা সল্যুশনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করা ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র যাচাই করে চলাচলের অনুমতি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। বুধবার (৪ জুলাই) ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। মন্ত্রী বলেন, এ সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয়েছিল। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির দাবির প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু কখনো কখনো এটি মানা হচ্ছিল না। ৩ আগস্ট সংশ্লিষ্টদের কাছে আবার চিঠি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে জরুরি সেবা খাতের আওতায় এনে বিধিনিষেধ চলাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে কম্পিউটার হার্ডওয়্যারসহ আইটি পণ্য সরবরাহ এবং সল্যুশনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এদিকে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইসরাত জাহান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিটি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, দেশের সব জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কোভিড-১৯ এর সংক্রমণরোধে চলমান বিধিনিষেধে যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, খাদ্য, শিক্ষা, গণমাধ্যমসহ এসব খাতকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখছে। কিন্তু বিধিনিষেধের কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এসব কার্যক্রম সচল রাখতে তথ্যপ্রযুক্তির সব সেবা অনলাইনে দেয়ার ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এসব সেবা কার্যক্রম সক্রিয় রাখার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে জরুরিসেবা হিসেবে বিবেচনা করে হার্ডওয়্যারসহ আইটি পণ্য সরবরাহকারী এবং সল্যুশন দেয়া প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জনবলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। চিঠিতে আরও বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সার্ভিসগুলো চালু রাখতে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার পণ্য সরবরাহ এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি সেবা প্রদানকারী হিসেবে বিবেচনা করা হোক। সেই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত জনবলের চলাচলের অনুমতি প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। নিউজ একাত্তর / ভুঁইয়া
ফাঁদে ফেলে বিয়ে, সম্পদ হাতিয়ে স্বামী বদলাতেন মডেল মৌ
০৪আগষ্ট ২০২১, অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা , নিউজ একাত্তর : Rab এর হাতে গ্রেপ্তার কথিত মডেল মরিয়ম আক্তার মৌ একে একে ১১টি বিয়ে করেছেন বলে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। আর সেই স্বামীদের কাছ থেকে হাতিয়েছেন অঢেল সম্পদ। মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পর মডেল মৌয়ের সঙ্গে ভিআইপিদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে অঢেল সম্পদের উৎস খুঁজে দেখছেন তারা। এরইমধ্যে তার বাসার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মৌ ১১টি বিয়ে করেছেন। তার সর্বশেষ স্বামী একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। ধনাঢ্যদের ফাঁদে ফেলে তিনি বিয়ে করতেন। বিপুল পরিমাণ সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার পর আরেকজনের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতেন। গত রোববার রাতে আরেক মডেল পিয়াসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার করা হয় মৌকে। দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও মোহাম্মদপুরে পাঁচতলা আলিশান বাড়ি রয়েছে তার। নেক্সাস, পাজেরো ও টয়োটা ব্র্যান্ডের তিনটি দামি গাড়িও আছে তার। মৌ মডেলিং পেশার আড়ালে ব্ল্যাকমেইলিং করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। মাদক ও অনৈতিক ব্যবসায় তার সংশ্লিষ্টতার কিছু প্রমাণ ইতোমধ্যে গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। মৌয়ের নিয়ন্ত্রণে অর্ধশত সুন্দরী তরুণী রয়েছে। তাদের দিয়েই ধনী ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে ভিডিও ধারণ করতেন। টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। এভাবে অনেকের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানায় গোয়েন্দা পুলিশ। এদিকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার মডেল পিয়াসা ও মৌয়ের সঙ্গে ভিআইপিদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ দুই মডেলকে ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়টিও তদন্ত করছেন তারা। বিশ্লেষণ করা হচ্ছে পিয়াসা ও মৌয়ের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত। বারিধারার ৯ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর বাড়ি। ৫ম তলার অভিজাত ভবনটির ২য় তলার ফ্ল্যাটের ভাড়া প্রতি মাসে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এম আর গ্রুপের পরিচালক পরিচয়ে ২ বছরের চুক্তিতে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন মডেল ফারিহা মাহবুব পিয়াসা। অগ্রিম পরিশোধ করেছিলেন আরও কয়েক লাখ টাকা। রোববার (১ আগস্ট) রাতে ফ্ল্যাটটিতে অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ ইয়াবা, বিদেশি মদ, সিসা তৈরির কাঁচামাল জব্দ করে। পার্টির নামে উচ্চবিত্ত শ্রেণীর ব্যক্তিদের বাসায় ডেকে এনে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় ছিল পিয়াসার কাজ। ঢাকা মহানগর (উত্তর) গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এদেরকে কারা এ পেশায় এনেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ গাড়ি ব্যবহার করছে, ৫ হাজার স্কয়ার ফিটের বাসায় একা থাকছে। সেখানে মদের বার, সিসার বার তৈরি করছে। তাদের আয়ের উৎসটা কোথায়? তা আমরা খতিয়ে দেখছি। ইতোমধ্যে পিয়াসার ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর অনেক ভুক্তভোগীই পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। নিউজ একাত্তর / ভুঁইয়া
কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ
০৩ আগষ্ট ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা, নিউজ একাত্তর : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে চলমান কোভিড মহামারি পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক ব্যাপক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের সর্বোত্তম সক্ষমতা অনুযায়ী সহযোগিতা করতে হবে। আর এই সহযোগিতার মাধ্যমেই আমরা এই দুর্ভোগ লাঘব করতে পারব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা পদ্মায় সিঙ্গাপুর রেডক্রস সোসাইটি থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া ৫০টি ১০এল অক্সিজেন কন্সেন্ট্রেটর ও ১.৫ মিলিয়ন সার্জিক্যাল মাস্ক গ্রহণকালে এ কথা বলেন। ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড মোকাবেলার ক্ষেত্রে জীবন ও জীবিকার মধ্যে যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখার ব্যাপারে খুবই সতর্ক। তাই, বাংলাদেশের কোভিড মোকাবেলা পদক্ষেপ অন্যান্য দেশের চেয়ে অধিক সফল। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আরো কিছু স্বাস্থ্য-সেবামূলক ব্যবস্থা আহরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে কোভিড পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই মুহূর্তে দেশে অক্সিজেন কন্সেন্ট্রেটর্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি এই চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদানের জন্য সিঙ্গাপুর সরকার ও সিঙ্গাপুর রেডক্রস সোসাইটিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন, আজকের এই ঘটনা বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার চলমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসান চরে স্থানান্তর করার পর প্রথম দেশ হিসেবে সেখানে সিঙ্গাপুরের ত্রাণ পাঠানোর কথা উল্লেখ করে মোমেন বলেন, উভয় দেশ বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে বিভিন্ন ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান গ্রহন করে। সিঙ্গাপুর বাংলাদেশে এফডিআইর শীর্ষ পাঁচটি উৎসের অন্যতম উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনীতি ও শিল্প অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিদ্যমান রয়েছে। ড. মোমেন আরো বলেন, আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে, আগামী দিনগুলোতে আমাদের নেতৃত্ব, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ ও কমিউনিটি নেতারা নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, যা আমাদের দুই দেশের জনগণের স্বার্থে অবদান রাখবে এবং আমাদেরকে আরো ঘনিষ্ঠ করবে। নিউজ একাত্তর / ভুঁইয়া
বিধিনিষেধ ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার
০৩ আগষ্ট ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা, নিউজ একাত্তর : করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় ভার্চুয়ালি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা যুক্ত ছিলেন। মোজাম্মেল হক বলেন, চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ ব্যাপকভিত্তিক টিকা দান কার্যক্রম পরিচালনার পর ১১ অগাস্ট থেকে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস খুলবে। সীমিত পরিসরে রোটেশন করে যানবাহন চলবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ১০ তারিখ পর্যন্ত বিধিনিষেধের সময়ের মতো চলবে, ১১ তারিখ থেকে খুলবে অফিস। তিনি বলেন, আগামী ১ সপ্তাহে ১ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনেটেড করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওয়ার্ড-ইউনিয়নে ৫ থেকে ৭টি কেন্দ্র করে ১ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। মানুষকে ভ্যাকসিন নিতে দৌড়াতে হবে না, আমাদের লোকজনই তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। টিকা না নিয়ে কেউ কাজে যোগ দিতে পারবেন না জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী বলেন, কাজে যোগদিতে হলে অবশ্যই ভ্যাকসিন নিতে হবে। ১৪ হাজার কেন্দ্রে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। আইন না করলেও অধ্যাদেশ জারি করে হলেও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। ১১ আগস্টের পর ভ্যাকসিন ছাড়া কেউ মুভমেন্ট করলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, লঞ্চ, স্টিমার আছে, রেল আছে, সেগুলোও চলবে। সব যে পরিমাণে অতীতে চলছিল, সে পরিমাণ না চলে সীমিত আকারে চলবে। কর্তৃপক্ষ সেগুলো নির্ধারণ করে জনগণকে অবহিত করবে। যেমন রেল হয়তো ১০টা চলতো, এখন ৫টা চলবে। কোন কোন সময়ে কোনটা ছাড়বে এবং কীভাবে যাবে, এগুলো স্ব স্ব মন্ত্রণালয় ও ডিপার্টমেন্ট জনগণকে অবহিত করবে, যাতেকরে কোনো গ্যাপ না থাকে। সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সাত দিনের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে টিকা দেওয়ার কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি। এই সাত দিনে প্রায় এক কোটি টিকা আমরা দেবো, এটাই আমাদের উদ্দেশ্য। টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামের যারা বয়স্ক তাদের অগ্রাধিকার দেবো। কারণ তাদের মৃত্যু ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ যারা তারাই বেশি মারা যাচ্ছেন, সেই কারণে টিকা আমরা গ্রামে নিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন করতে চাইলে পুলিশকেও ক্ষমতা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যাতে করে কিছু জরিমানা করতে পারে। এ বিষয়ে অধ্যাদেশ লাগবে, আমরা হয়তো সেদিকেই যাব। নিউজ একাত্তর / ভুঁইয়া
দোকানপাট খুলছে ১১ আগস্ট
০৩ আগষ্ট ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা, নিউজ একাত্তর : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ভ্যাকসিন দেয়ার শর্ত সাপেক্ষে ১১ আগস্ট থেকে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (০৩ আগস্ট) করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে বেলা সোয়া ১১টায় মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে সভাটি শুরু হয়। সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ভার্চুয়ালি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, আগামী ১ সপ্তাহে ১ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনেটেড করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওয়ার্ড-ইউনিয়নে ৫ থেকে ৭টা কেন্দ্র করে ১ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। মানুষকে ভ্যাকসিন নিতে দৌড়াতে হবে না, আমাদের লোকজনই তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। ১৪ হাজার কেন্দ্রে একযোগে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। সেখানে আমরা বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেবো, কারণ বৃদ্ধ লোকদের মৃতুঝুঁকি বেশি বলে মনে হয়েছে। একইসঙ্গে শ্রমিক, বাসের হেলপারসহ সবাইকে ভ্যাকসিন নিতে আহ্বান জানাচ্ছি। ভ্যাকসিন ছাড়া কেউ কর্মস্থলে আসতে পারবেন না। ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট থাকতে হবে। ভ্যাকসিন দিলেই ওয়েবসাইটে জলে যাবে। সেগুলো চেক করা হবে। ভ্যাকসিন দেয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইটে দিয়ে দেবো। ভ্যাকসিন নিয়েছে কিনা যাচাই করতে পারব। ৭, ৮, ৯ তারিখ সুযোগ রাখলাম। যাতে তারা ভ্যাকসিন নিয়ে ব্যবসা কেন্দ্র খুলতে পারে। সময় বাড়াচ্ছি তা, ১০ তারিখ পর্যন্ত সুযোগ দিচ্ছি। ১১ তারিখ থেকে যাতে খুলতে পারে সেই সুযোগ রেখেছি। গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ দেয় সরকার। সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ৫ আগস্ট রাত ১২টায় শেষ হবে। বিধিনিষেধে সব ধরনের গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ আছে। খাদ্যপণ্য উৎপাদন-প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া পরিবহন-সংরক্ষণ ও ওষুধ খাত ছাড়া বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিল্প-কারখানা। তবে ১ আগস্ট থেকে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলছে। বন্ধ রয়েছে দোকান ও শপিংমলও। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষের বাইরে বের হওয়াও নিষেধ। কিন্তু এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি। বরং দিনকে দিন অবনতি হচ্ছে পরিস্থিতির। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ সোমবারের হিসাব অনুযায়ী একদিনে ২৪৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৮৯ জন। এরমধ্যে বিধিনিষেধ আরও ১০ দিন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। নিউজ একাত্তর / ভুঁইয়া
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি ও বস্তিবাসীদের মাঝে ফ্লাট হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী
০৩ আগষ্ট ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা, নিউজ একাত্তর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঢাকায় নির্মিত ফ্ল্যাট এবং বস্তিবাসীদের জন্য মিরপুরে নির্মিত স্বল্প ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট উদ্বোধন ও হস্তান্তর করেছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আজিমপুর সরকারি কলোনি, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশন, মালিবাগ এবং মতিঝিলে ২ হাজার ৪৭৪টি ফ্ল্যাট সংবলিত ৫টি আবাসন প্রকল্প এবং বস্তিবাসীদের জন্য মিরপুরে নির্মিত ৩০০টি ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট উদ্বোধন ও হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া, অনুষ্ঠানে মাদারীপুরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্মিত সমন্বিত অফিস ভবন ও উদ্বোধন করেন তিনি। সরকার প্রধান আজ সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত মূল আনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় মুজিববর্ষে দেশের সকল গৃহহীনকে অন্তত একটি ঘর প্রদানে তাঁর অঙ্গীকার পুণর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলাদেশ, যে দেশের প্রত্যেকটি মানুষ সুন্দর ও উন্নত জীবন পাবেন। কিন্তু, আমি জানি জাতির পিতা বেঁচে থাকলে দেশ স্বাধীন হওয়ার ১০ বছরের মধ্যেই দেশের মানুষ উন্নত জীবন পেত। প্রত্যেকটি গ্রাম এবং ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত উন্নত হতো। সে কাজটাই আমরা এখন করে যাচ্ছি, যোগ করেন তিনি। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কয়েকজন বস্তিবাসীর মাঝে ফ্লাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার স্বাগত ভাষণ দেন। অনুষ্ঠানে প্রকল্পগুলোর ওপর ভিডিও চিত্র ও পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা শহরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আবাসন ব্যবস্থা মাত্র ৮ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। যে কারণে ঢাকার আজিমপুর, মতিঝিল, মিরপুর, মালিবাগ এলাকায় ৩২টি ভবনে ২ হাজার ৪৭৪ টি ফ্ল্যাট নতুনভাবে সরকারি আবাসনে যোগ হলো। ফলে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আবাসন ব্যবস্থা ২৪ শতাংশে উন্নীত হল। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য আজিমপুর সরকারি কলোনিতে রয়েছে ১৭টি ২০তলা ভবনে ১ হাজার ২৯২টি ফ্ল্যাট, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে ২৮৮টি ফ্ল্যাট, মালিবাগে চারটি ২০তলা ভবনে ৪৫৬টি ফ্ল্যাট এবং মতিঝিলে পাঁচটি ২০তলা ভবনে ৩৮০টি ফ্ল্যাট। প্রতিটি ১ হাজার বর্গফুটের ফ্লাটে এবং ভবন এলাকায় মুক্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিতকরণে ভেন্টিলেটরসহ ক্রস ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাথরুম ও টয়লেট আলাদা নির্মাণ করে সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ অগ্নি দুর্ঘটনাকালে প্রতিটি ফ্ল্যাটের বারান্দায় গ্রিলে জরুরি নির্গমণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রায় ৭০ ভাগ উন্মুক্ত স্থান সম্বলিত সরকারি এ হাউজিং প্রকল্পগুলোতে খেলার মাঠ, সবুজায়ন, ওয়াটার বডি বা পুকুর, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) এর সংস্থান রাখা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানী হিসেবে সোলার প্যানেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক ফিটিংস যন্ত্রপাতি লাগানো হয়েছে। প্রকল্পগুলো পরিবেশে বান্ধব এবং সবুজ প্রকল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে। এছাড়া, উদ্বোধনের তালিকায় ছিল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আটতলার দুটি আবাসিক ভবন। এগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরে বস্তিবাসীদের জন্য ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবনে ৫৩৩টি আধুনিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। আজ যার ৩০০টি ফ্লাট হস্তান্তর করা হল। বস্তির ঝুপড়ি ঘরের সমান বা তার চেয়েও কম ভাড়ায় এসব আধুনিক ফ্ল্যাটে থাকতে পারবেন বস্তিবাসী। এজন্য, প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। সে অনুযায়ী, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে মিরপুর ১১ নং সেকশনের বাউনিয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় ছয় বিঘা জমির ওপর বস্তিবাসীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ১৪ তলা বিশিষ্ট ৩টি ভবনে ভাড়াভিত্তিক ৩০০টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে অন্য ২টি ভবনে আরও ২৩৩টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিটি ভবনে রয়েছে কমিউনিটি হল, দুটি লিফট ও প্রশস্ত সিঁড়ি, অগ্নিনির্বাপণ ও সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা, ৪০ কেভিএ জেনারেটর ও ২৫০ কেভিএ সাব-স্টেশন, প্রসস্ত ওয়াকওয়ে ও সৌন্দর্যবর্ধনের লাইটিংসহ আধুনিক সুবিধা। প্রতিটি ৬২০ থেকে ৭১৯ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটে রয়েছে দুটি করে বেডরুম, একটি বারান্দা, একটি ড্রয়িং রুম, বেসিন, রান্নাঘর ও দুটি বাথরুম। ফ্ল্যাটের দুই পাশে ফাঁকা জায়গা। ফ্ল্যাটগুলো টাইলস করা। প্রতিটি ভবনের নীচতলা বরাদ্দপ্রাপ্তদের সাধারণ ব্যবহারের জন্য উম্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ প্রকল্পে সবুজায়ন ও ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য ভবনের সামনে ফাঁকা জায়গা রাখা হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বস্তিবাসীরা যুক্তিসংগত ভাড়ায় একটি আধুনিক ফ্ল্যাটে বসবাসের সুযোগ পাবে এবং এতে স্থানীয় পরিবেশসহ তাদের জীবনমানের উন্নতি ঘটবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন। এসব ফ্লাটে মাসিক, সাপ্তাহিক এমনকি দৈনিক স্বল্প ভাড়ায় বাসিন্দারা থাকার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে ক্রমহ্রাসমান কৃষি জমির কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীই বহুতলবিশিষ্ট সমন্বিত সরকারি অফিস ভবন নির্মাণের ধারনা দেন। যাতে জেলা শহরগুলোতে একই ছাদের নীচে দ্রুততম সময়ে সরকারি সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। সে অনুযায়ী মাদারীপুরে আজকে উদ্বোধন হওয়া একটি ১০ তলা ভবন ছাড়াও গণপূর্ত অধিদপ্তর গোপালগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলায় এরূপ সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্প শুরু হওয়ার পর হতে ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত (মুজিববর্ষের গৃহসহ) ৪ লাখ ৪২ হাজার ৬০৮টি ভূমিহীন-গৃহহীন-ছিন্নমূল-অসহায় পরিবারকে গৃহ প্রদান করা হয়েছে। আর ৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ পরিবারকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে। নিউজ একাত্তর / ভুঁইয়া
মডেল পিয়াসা ও মৌ ৩ দিনের রিমান্ডে
২আগস্ট ২০২১, অনলাইন ডেস্ক, নিউজ একাত্তর : রাজধানীর বারিধারা থেকে বিতর্কিত মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা এবং মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মরিয়ম আক্তার মৌয়ের (মৌ আক্তার) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের দুজনকেই ৩ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ আগস্ট) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে পিয়াসা ও মৌকে হাজির করে পুলিশ। মোহাম্মদপুর থানায় মাদক আইনে করা মামলায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আশেক ইমাম তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে আজ সোমবার (২ আগস্ট) দুপুরে গুলশান থানায় (মামলা নং-৩) পিয়াসার বিরুদ্ধে ও মোহাম্মদপুর থানায় (মামলা নং ১৪) মৌয়ের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, আমরা পিয়াসা ও মৌয়ের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল করার অনেকগুলো অভিযোগ তদন্ত করছিলাম। সেই তদন্তের অংশ হিসেবে পিয়াসা ও মৌয়ের বাসায় অভিযান চালানো হয়। তাদের বাসা থেকে বিদেশি মদ ও ইয়াবা পাওয়া গেছে। তাদের ব্ল্যাকমেইলিং করার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, রোববার রাতে প্রথমে বারিধারার পিয়াসার বাসায় অভিযান চালানো হয়। তার বাসা থেকে মাদকদ্রব্যসহ পিয়াসাকে আটকের পর অভিযান চালানো হয় মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসায়। সেখান থেকে অন্তত ১ ডজন বিদেশি মদ, ৫ প্যাকেট ইয়াবাসহ মৌকে আটক করা হয়। নিউজ একাত্তর / ভুঁইয়া
বিধিনিষেধ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা মঙ্গলবার
২আগস্ট ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা, নিউজ একাত্তর : বিধিনিষেধের (লকডাউন) বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা বসছে মঙ্গলবার (৩ আগস্ট)। সভায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। চলমান ১৪ দিনের বিধিনিষেধ আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাতে শেষ হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, সংক্রমণের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিধিনিষেধ বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে সরকারের। তবে অর্থনীতি ও জীবিকার বিষয়টি মাথায় রেখে কিছু বিষয়ে শিথিলতা আসতে পারে। বিধিনিষেধ বাড়লে তা কতদিন হবে, কোন কোন ক্ষেত্রে শিথিলতা আসবে- সভায়ই সবকিছু চূড়ান্ত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর বিধিনিষেধের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলেও জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে এই সভা হবে। সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব/সচিব ছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা যুক্ত থাকবেন বলে জানা গেছে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যাওয়ায় গত কয়েক মাস ধরে বিধিনিষেধ আরোপ করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সরকার। মাঝে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে আট দিনের জন্য শিথিল করা হয়েছিল বিধিনিষেধ। এরপর আবার গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে সরকার। বিধিনিষেধে সব ধরনের গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ আছে। খাদ্যপণ্য উৎপাদন-প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া পরিবহন-সংরক্ষণ ও ওষুধ খাত ছাড়া বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিল্প-কারখানা। তবে গত ১ আগস্ট থেকে রফতানিমুখী শিল্পকারখানা খুলে দেয়া হলেও বন্ধ রয়েছে দোকান ও শপিংমল। এদিকে, বিধিনিষেধ জারির পরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি। প্রতিদিনই দু-শতাধিক মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন, আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন ১০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে বিধিনিষেধ আরও ১০ দিন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অপরদিকে গণপরিবহন চালু এবং দোকান-শপিংমল, হোটেল-রেস্তোরাঁ খুলে দেয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে। নিউজ একাত্তর / ভুঁইয়া

জাতীয় পাতার আরো খবর