রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি শুরু আজ

১০ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাখাইনে মুসলিম রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আজ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) শুনানি শুরু হচ্ছে। আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার করা মামলাটির শুনানি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায়। প্রথমদিনের শুনানি চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। তিনদিনের শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। মিয়ানমার সরকারের পক্ষে সাফাই দিতে ইতোমধ্যেই নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে পৌঁছেছেন দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি। তিনি মিয়ানমারের পক্ষে সব প্রশ্নের জবাব দেবেন। দ্য হেগের পিস প্যালেসে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে ১৬ সদস্যের বিচারিক প্যানেল রয়েছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে গত ১১ নভেম্বর দেশটির বিরুদ্ধে ওআইসির পক্ষে মামলাটি করে গাম্বিয়া। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগে ৪৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনও জমা দেয় আফ্রিকান দেশটি। উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে গাম্বিয়া। এদিকে শুনানি শুরুর একদিন আগে বিশ্বজুড়ে বয়কট মিয়ানমার প্রচারণা শুরু করেছে রোহিঙ্গা-সমর্থিত মানবাধিকার সংগঠনগুলো। সোমবার এক বিবৃতিতে দ্য ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন জানায়, মিয়ানমার বয়কটের ডাক দিয়েছে ১০ দেশের ৩০টি মানবাধিকার সংগঠন। অন্যদিকে মানবতার স্বার্থে গাম্বিয়াকে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে নেদারল্যান্ডস ও কানাডা। সহযোগিতা করবে বাংলাদেশও। এ লক্ষ্যে সোমবার দ্য হেগের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধি দলটি গাম্বিয়াকে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করবে। এই দলে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের তিনজন প্রতিনিধিও রয়েছেন। ...

এবারের মিস ইউনির্ভাস দক্ষিণ আফ্রিকার জোজিবিনি তুনজি

০৯ডিসেম্বর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দক্ষিণ আফ্রিকার জোজিবিনি তুনজি ২০১৯ সালের মিস ইউনিভার্স নির্বাচিত হয়েছেন। গত আসরের বিজয়ী ফিলিপাইনের ক্যাটরিওনা গ্রে তাকে মুকুট পরিয়ে দেন। এছাড়া রানার্স আপ হয়েছেন পুয়ের্তো রিকোর ম্যাডিসন অ্যান্ডারসন। মেক্সিকান সুন্দরী সোফিয়া আরাগন হন তৃতীয়। ৯০টি দেশের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়াতে অনুষ্ঠিত এ বছরের আসর অনুষ্ঠিত হয়। মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক সুন্দরী প্রতিযোগীতার এ আসরে এবার অভিষেক হয় বাংলাদেশের। নানা ধাপ পেরিয়ে জমজমাট এ আসরের সেমিফাইনালে উঠে আসেন ২০ জন। শীর্ষ ২০-এ স্থান করে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতিযোগী শিরিন আক্তার শিলা। এর পর সেখান থেকে বেছে নেয়া হয় শীর্ষ ১০ প্রতিযোগীকে। চূড়ান্ত পর্বে সবাইকে পেছনে ফেলে বিজয়ীর মুকুট মাথায় তোলেন আফ্রিকান সুন্দরী জোজিবিনি তুনজি।...

দিল্লিতে কারখানায় আগুনে নিহত ৩৫, আরও হতাহতের শঙ্কা

০৮ডিসেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে রানি ঝাঁসি রোডের একটি কারখানায় ভয়াবহ আগুনে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আহতদের মধ্যে আরও মৃত্যু বাড়তে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। প্রায় ৫০ জনকে উদ্ধার করেছেন দমকল বাহিনীর কর্মীরা। খবর আনন্দবাজারর। রোববার ভোরে বহুতল ওই কারখানাটিতে আগুন লাগে। কারখানার ভিতরে অনেকে ছিলেন। ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পেয়ে পুলিশ ও দমকলে খবর পাঠান স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীই উদ্ধারের কাজও শুরু করেন। দমকলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোর ৫.২২ মিনিটে স্থানীয়দের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দমকলের অন্তত ১৫টি ইঞ্জিন। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কারখানার ভিতরে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় অনেককে উদ্ধার করে এলএনজেপি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও চলছে উদ্ধার কাজ। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের উপ-প্রধান কর্মকর্তা সুনীল চৌধুরী বলেন, ৬০০ বর্গফুট এলাকার ওই ভবনটিতে আগুন লাগে। ভিতরে খুব অন্ধকার ছিল। ভিতরে স্কুল ব্যাগ ও অন্যান্য দাহ্য বস্তু মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ...

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার নৌ-ঘাঁটিতে হামলাকারী সৌদি নাগরিক

০৭ডিসেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার পেন্সাকোলা নৌ-ঘাঁটিতে হামলাকারী সৌদি বিমান বাহিনীর একজন জুনিয়র কর্মকর্তা বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার ওই সৌদি নাগরিকের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত ও ৮ জন আহত হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন হামলাকারীও। এদিকে নৌ-ঘাঁটিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যান্য দিনের মতোই শুক্রবার সকালেও দৈনন্দিন কার্যক্রম শুরু হয় ফ্লোরিডার পেন্সাকোলা নৌ-ঘাঁটিতে। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ করেই ঘাঁটির প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত একটি শ্রেণিকক্ষে শুরু হয় এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া। ঘটনার পরপরই নৌ-সেনারা হামলাকারীকে প্রতিহত করার কাজ শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় পুলিশের বিশেষ বাহিনী। যৌথ অভিযানে নিহত হন হামলাকারী। নেভাল ঘাঁটির ক্যাপ্টেন টিমোথি কিনসেলা বলেন, একটি ফোন কলে জানতে পারি, আমাদের একটি ভবনে কেউ গুলি চালাচ্ছে। এরপরই ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানোর পাশাপাশি, আমাদের সেনারা হামলাকারীকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। পরে কর্তৃপক্ষ জানায় হামলাকারীর নাম সৈয়দ আল শামরানি। সৌদি বিমান বাহিনীর এ সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট প্রশিক্ষণ নিতে ওই ঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন। এদিকে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, নৌ-ঘাঁটিতে হামলার পরই সৌদি বাদশাহ সালমান আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বন্দুকধারীকে বর্বর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। কী কারণে হামলাকারী এ বর্বরতা চালিয়েছে তা এখোনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত শেষেই সব পরিষ্কার হবে। এর আগে গত বুধবার হাওয়াইয়ের একটি ঘাঁটিতে এক সেনা গুলি চালিয়ে তার দুই সহকর্মীকে হত্যা করেন। পরে নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেন ওই সেনা। ...

নীতি নৈতিকতা সম্পন্ন নয় এমন কাজই দুর্নীতি: বিভাগীয় কমিশনার

০৯ডিসেম্বর,সোমবার,স্টাফ রির্পোটার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান বলেছেন, নীতি নৈতিকতাসম্পন্ন নয় এমন কাজই দুর্নীতি। কাজে ফাঁকি দেওয়া, কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত না হওয়াও দুর্নীতি। দুর্নীতি একটি রোগ। এ রোগবালাই থেকে দেশকে রক্ষা করতে ও দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিভাগীয় কমিশনার আজ নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে শিক্ষার্থী সততা সংঘের সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ প্রতিপাদ্যে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান। এর আগে সকালে পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় দিনের কার্যক্রম। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার। মানববন্ধনে চট্টগ্রাম বিভাগের সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ অংশ নেন। আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো.মাহমুদ হাসান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. আবুল ফজল, অতিরিক্ত কমিশনার মোসা. আমেনা বেগম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন, পুলিশ সুপার নুরে আলম মীনা, চট্টগ্রাম মহানগর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী প্রমুখ। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শুধু সরকার নয় আমরা যে যেখানে আছি এই ব্যাধির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। এর সাথে জনগণের মাঝে সচেতনতা তৈরি করাও জরুরি। ২০০৩ সালে সারা বিশ্বকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষনা করে। পরে ২০০৭ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন শুরু করে। বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে সরকারিভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।...

ফেসবুকের মাধ্যমে হারানো মেয়ের খোঁজ পেলেন মা

১০ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেসবুকের কল্যাণে হারানো মেয়ে আরিশাকে খুঁজে পেলেন মা হাসিনা বেগম। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার সীতাকুণ্ডের সলিমপুর এলাকায়। মা হাসিনা আক্তার ঘর থেকে বের হয়ে রেললাইনের পাশে একটি ক্ষেতে ছাগল নিয়ে যান। সঙ্গে যায় মেয়ে আরিশাও। মা মেয়েকে বসিয়ে ঘরে যান। ফিরে এসে দেখেন মেয়ে নেই। মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন দিকে খুঁজতে থাকেন মেয়েকে। কোনও জায়গায় খুঁজে না পেয়ে মা ও পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি করতে থাকেন। তখন তারা পাশে ফৌজদার পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন। পুলিশও শিশু আরিশাকে খুঁজতে থাকেন। বেলা তখন তিনটা। পাশের বাড়ির এক লোক এসে শিশু আরিশার মাকে বলেন আরিশার ছবি ফেইসবুকে দেখা গেছে। তখন তারা দ্রুত ফেসবুকে ছবি পোস্টকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ছবি পোস্টকারী জুয়েল বলেন, রেল লাইনের পাশে একটি মেয়েকে বসে কাঁদতে দেখে তিনি মেয়েটির কাছে যান। তখন সঙ্গে সঙ্গে তিনি মেয়েটির একটি ছবি ফেইসবুকে পোস্ট দেন। পোস্ট দেওয়ার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর এক লোক আমার সঙ্গে ফেইসবুকে যোগাযোগ করেন। পরে স্থানীয় মেম্বার ও ফৌজদার হাট পুলিশের উপস্থিতে শিশু আরিশাকে তার মায়ের কাছে তুলে দেওয়া হয়। শিশু আরিশার মা হাসিনা বেগম বলেন, যখন আরিশাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন আমার কাছে মনে হয়েছিল আরিশাকে কেউ না কেউ তুলে নিয়ে গেছে। মেয়েকে পেয়ে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া জুয়েলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ...

রংপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ২ সন্তানকে গলা কেটে হত্যা

০৮ডিসেম্বর,রবিবার,রংপুর প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: রংপুরে ২ সন্তানসহ অন্তঃসত্ত্বা নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৮ ডিসেম্বর) রংপুর জেলার বোতলা বাজার এলাকায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সূত্রে জানা যায়, তিন বছরের ছেলে ও এক বছরের মেয়েসহ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আব্দুর রাজ্জাক নামে ওই ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পারিবারিক কলহের জেরে এটা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া পুলিশের ধারণা আব্দুর রাজ্জাক মাদকাসক্ত। তাকে আটক করে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।...

বারান্দায় মা, ঘরে ভগ্নিপতি, পুকুরে ভাইয়ের লাশ

০৭ডিসেম্বর,শনিবার,আজাদ,বরিশাল,নিউজ একাত্তর ডট কম: বরিশালের বানারীপাড়ায় কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের বাড়ি থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ঘরের বারান্দায় তার মা, অন্য ঘরে ভগ্নিপতি এবং পুকুরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার খালাতো ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রাম থেকে নিহতদের লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের বৃদ্ধ মা মারিয়াম বেগম (৭০), ভগ্নিপতি মো. সফিকুল আলম (৭৫) ও খালাতো ভাই মো. ইউসুফ (১৮)। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল জানান, কুয়েতের একটি মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুর রবের বৃদ্ধ মা মরিয়মসহ ওই তিনজন রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা প্রবাসীর একতলা বাড়িতে ঢুকে তাদের হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায়। পরে ঘরের বেলকনি থেকে আব্দুর রবের বৃদ্ধ মায়ের মরদেহ এবং একটি কক্ষ থেকে তার ভগ্নিপতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া রবের খালাতো ভাইয়ের মরদেহ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বাড়ির পিছনের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওসি বলেন, ওই বাড়ির সব ঘরের দরজা জানালা বন্ধ ছিল, শুধু ছাদের দরজা খোলা পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তারা ছাদ দিয়ে পালিয়ে গেছেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন,কোনো লাশের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। এটা কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাতে ওই বাড়িতে সাতজন ছিলেন জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, মরিয়মের সঙ্গে তার কলেজ পড়ুয়া এক নাতনি ঘুমিয়েছিলেন। রাতে তার ঘুম ভাঙলে দাদিকে পাশে না দেখে খুঁজতে গিয়ে অন্য ঘরের বারান্দায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরিবারের সদস্যরা অন্য ঘরে সফিকুলের লাশ পান। এ ছাড়া বাড়ির পাশের পুকুরে পানির মধ্যে ইউসুফের লাশ পাওয়া যায়। জমিজমার বিরোধ বা পারিবারিক কোনো বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর কীভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তা বোঝা যাবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।...

সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে

২৮নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও উৎপাদকরা বলছেন, এর পেছনে তাদের কোনো হাত নেই। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনও বলছে, এই সময়ে কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়াবে না। কিন্তু খুচরা বাজারে তেলের দাম ঠিকই বেড়ে গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের অজুহাত, আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট বাড়ায় তেলের দাম বাড়ছে। যদিও এখনকার বুকিং করা তেল বাজারে আসবে কয়েক মাস পর। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে বিক্রি হতো ৭৮-৮০ টাকায়। আর পামওয়েলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়েনি। কোম্পানিভেদে প্রতি লিটার সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা দরে। জানতে চাইলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের তেল বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণেই এই দাম বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর বৃহৎ পাইকারি বাজার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তি। বুকিং রেট (এলসি মূল্য) বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মণ সয়াবিনে ২০০ টাকা এবং পাম ওয়েলে ৩৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণ বলছে, এক মাসের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। যেখানে পামওয়েলের দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পামওয়েলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এর প্রভাব দেশি বাজারেও পড়েছে। তবে এ বিষয়টি স্বীকার করছে না ট্যারিফ কমিশন। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে পামওয়েলের দাম বেড়েছে। জানা যায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন ৬৭১-৬৮০ ডলার এবং পামওয়েল ৬৩১-৬৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। দুটি কোম্পানি বোতলজাত তেলের দাম বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবনা দিয়েছিল ট্যারিফ কমিশনের কাছে। তবে ট্যারিফ কমিশন তাদের আবেদনটি বাতিল করে দিয়ে বলেছে, দাম বৃদ্ধি করতে হলে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্মিলিতভাবে আবেদন করতে হবে। তখন যাচাই-বাছাই শেষ করে তবেই দাম বৃদ্ধির অনুমতি দেয়া হবে। গতকাল বুধবার ট্যারিফ কমিশনে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী, পরিশোধনকারী শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে শীর্ষস্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েল, এস আলমসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উপস্থিত ছিলো। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. নূর-উর-রহমান বলেন, উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা তেলের দাম বাড়াবে না বলে আমাদের জানিয়েছে। তাই আপাতত তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। খোলা সয়াবিনের দাম বৃদ্ধিতে কোম্পানিগুলোর কোনো ভূমিকা রয়েছে কিনা- জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বিশ^জিত সাহা বলেন, বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি, আগের দামেই আমরা বিক্রি করছি। তবে খোলা তেলের বাজার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। ...

দেশে যানজটের কারণে রপ্তানি মূল্য বাড়ছে: বিশ্বব্যাংক

১৪ নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সড়কে যানজটের কারণে পণ্য রপ্তানির মূল্য বাড়ছে। এজন্য রপ্তানি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় মসৃণ পরিবহন অবকাঠামো তৈরিতে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বললেন বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি মার্সি টেম্বন। আজ বুধবার বিশ্ব ব্যাংকের মুভিং ফরওয়ার্ড: কানেক্টিভিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস টু সাসটেইন বাংলাদেশ জ সাকসেস শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, যানজটমুক্ত সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি সাশ্রয়ী যোগাযোগ মাধ্যম রেল ও জলপথের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে রপ্তানি সক্ষমতাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো উচিত। অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন বিশ্ব ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ম্যাটিয়াস হেরেরা ড্যাপে, প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান। মার্সি টেম্বন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এই প্রতিযোগিতায় যে দেশ যত বেশি কম দামে পণ্য দিতে পারছে, সে দেশ রপ্তানি বাজারে ততই এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে পণ্য পরিবহণে লজিস্টিক সহায়তা বাড়িয়ে বিশেষ করে যানজট কমানোর মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ ব্যয় কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। টেম্বন বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগী দেশগুলো রপ্তানি পণ্য পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন করে এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো মসৃণ সংযোগ অবকাঠামোতে তৈরিতে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ খাতের যানজট রপ্তানি পণ্য গন্তব্যে পৌঁছানোর খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের প্রায় ৭ শতাংশ পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। বর্তমান অবস্থায়ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০ শতাংশ রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ আছে। এছাড়াও বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমদানিকারকরা কম দামে পণ্য চায়। যে দেশ কম দামে পণ্য দিতে পারে তারা সেই দেশ থেকেই পণ্য কেনে। রপ্তানি বাড়িয়ে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, কম খরচের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো।...

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল চলতি মাসেই

০২ডিসেম্বর,সোমবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেছেন, এর মাধ্যমে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। সারাদেশে শূন্য আসনের ভিত্তিতেই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকে এসব শিক্ষকরা পাঠদান শুরু করবে। সচিব বলেন, নিয়োগ কার্যক্রম শেষে নতুন করে সারাদেশে প্রাক প্রাথমিক পর্যায়ে ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। এ প্রস্তাব সচিব কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে প্রজ্ঞাপন জারি করে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান তিনি। ...

৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

২৭নভেম্বর,বুধবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ৪১তম বিসিএসের জন্য ৫ ডিসেম্বর থেকে আবেদন করা যাবে। বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিসিএসে ২ হাজার ১৬৬ জনকে নেওয়া হবে। প্রার্থীর বয়স ১ নভেম্বর থেকে গণনা করা হবে। প্রার্থীকে অনলাইনে আবেদন জানুয়ারির ৪ তারিখের মধ্যে করতে বলা হয়েছে। এবার সবচেয়ে বেশি নেওয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এই ক্যাডারে ৯০৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে বিসিএস শিক্ষায় ৮৯২ জন প্রভাষক, কারিগরি শিক্ষা বিভাগে ১০ জন প্রভাষক নেওয়া হবে। শিক্ষার পর বেশি নিয়োগ হবে প্রশাসন ক্যাডারে। প্রশাসনে ৩২৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। পুলিশে ১০০ জন, বিসিএস স্বাস্থ্যতে সহকারী সার্জন পদে ১১০ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৩০ জনকে নেওয়া হবে। পররাষ্ট্রে ২৫ জন, আনসারে ২৩ জন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহা হিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) ২৫ জন, সহকারী কর কমিশনার (কর) ৬০ জন, সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) ২৩ জন ও সহকারী নিবন্ধক ৮ জন নেওয়া হবে। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ১২ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৪ জন, সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট ১ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০ জন, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ৩ জন নেওয়া হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা পদে ২২ জন, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) পদে ১১ জন, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক পদে ৫ জন, সহকারী বেতার প্রকৌশলী পদে ৯ জন, স্থানীয় সরকার বিভাগে বিসিএস জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে সহকারী প্রকৌশলী পদে ৩৬ জন, সহকারী বন সংরক্ষক পদে ২০ জন। সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল পদে ২ জন, বিসিএস মৎস্যে ১৫ জন, পশুসম্পদে ৭৬ জন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৩ জন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ৬ জন, বিসিএস বাণিজ্যে সহকারী নিয়ন্ত্রক ৪ জন। পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ৪ জন, বিসিএস খাদ্যে সহকারী খাদ্যনিয়ন্ত্রক ৬ জন ও সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী ২ জন, বিসিএস গণপূর্তে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ৩৬ জন ও সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) ১৫ জনসহ মোট ২ হাজার ১৩৫ জন কর্মকর্তাকে এই বিসিএসে নিয়োগ করা হবে। ...

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এবার ক্রিকেটে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়

০৯ডিসেম্বর,সোমবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এসএ গেমসে ক্রিকেটের ইভেন্টের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সোমবার নেপালের কির্তিপুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২২ রান করে শ্রীলঙ্কা। জবাব দিতে নেমে ১২ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। এদিন, হারলেও ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালোই করেছিল লঙ্কানরা। উদ্বোধনী জুটিতেই তারা তুলে ফেলে ২৮ বলে ৩৬ রান। পঞ্চম ওভারে সুমন খানের বলে ওপেনার নিশান মধুশাঙ্কা ফার্নান্দো ১৬ রানে আউট হয়ে যান আফিফ হোসেন ধ্রুবর হাতে ক্যাচ দিয়ে। পাথুম নিসাঙ্কা আউট হন ২৪ বলে ২২ রান করে। সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান শাম্মু আসান। ১২ রান আসে অধিনায়ক চারিথ আসালঙ্কার ব্যাট থেকে। বাংলাদেশের হয়ে ৪ ওভারে ২০ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। তানভির ইসলাম নেন ২ উইকেট। আর ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন পেসার সুমন খান। জবাব দিতে নেমে সাইফ হাসানের সঙ্গে ৪৭ বলে ৪৪ রান উদ্বোধনী জুটি গড়েন সৌম্য সরকার। ২৮ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২৭ রান করে সৌম্য হন মেন্ডিসের শিকার। এরপর রানআউটের কবলে পড়েন ঝড়ো ব্যাটিং করতে থাকা সাইফ হাসান। ৩০ বলে ৩ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ৩৩ রান করেন ডানহাতি এই ওপেনার। ঝড় তুলতে চেয়েছিলেন ইয়াসির শাহও। দলের রান একশ পার হবার পর ১৬ বলে ১টি করে চার ছক্কায় ১৯ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। কিন্তু অধিনায়কের মতোই খেলেছেন শান্ত। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে একেবারে জয়ের বন্দর পর্যন্ত নিয়ে গেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ২৮ বলে ২ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আফিফ হোসেন সঙ্গে ছিলেন ৫ রানে। ...

চুম্বন নিয়ে মুখ খুললেন শ্বেতা

০৯ডিসেম্বর,সোমবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হিন্দি টেলিভিশনের দর্শক তাকে চেনে প্রেরণা হিসাবেই। তিনি শ্বেতা তিওয়ারি। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে শ্বেতা অভিনীত ওয়েব সিরিজ হাম তুম অ্যান্ড দেম-এর ট্রেলার। যেখানে বোল্ড অবতারে ধরা পড়েছেন অভিনেত্রী। ট্রেলারে একটি দৃশ্যে সহ অভিনেতা অক্ষয় ওবেরয়কে চুম্বন করতে দেখা গেছে শ্বেতাকে। এধরনের বোল্ড দৃশ্যে শ্বেতা প্রথমবার অভিনয় করছেন। তবে মা-কে এমন চরিত্রে অভিনয় করতে দেখে কী বলছেন শ্বেতার বছর ১৯ এর মেয়ে পলক? সম্প্রতি পিঙ্ক ভিলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সেকথাই খোলসা করেছেন শ্বেতা। তার কথায়, আমি ভীষণই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। যখন প্রমোটা দেখলাম নির্মাতাদের কিছুটা আতঙ্কিত হয়েই জিজ্ঞাসা করেছিলাম এটা কী! আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না, এটা আমার মা, পরিবার ও বন্ধরা কীভাবে নেবে? প্রথমে আমি ট্রেলারটা আমার মেয়ে পলককে পাঠাই এবং প্রশ্ন করি, কোনও দ্বিধা না রেখে এনিয়ে তুমি তোমার মতামত জানাতে পারো। ও আমায় লেখে, মা দারুণ, খুব ভালো। তখনই আমি আবারও ওয়েব সিরিজের নির্মাতাদের ডেকে আবারও জানাই, আমি দুঃখিত যে এই দৃশ্যটার জন্য আমি ওদের সঙ্গে এত ঝগড়া করেছি। পুরো বিষয়টা একতাও জানতে পারে আর সেকারণেই বোধহয় ও এটা নিয়ে মন্তব্য করেছিল।-বিনোদন২৪ ...

বিয়ের পর নাম পরিবর্তন মিথিলার!

০৭ডিসেম্বর,শনিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়েছে শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর)। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- মিথিলার মা, বাবা ও তাদের ঘনিষ্ঠরা। ছিল মিথিলার মেয়ে। সৃজিতের মা ও বোনও উপস্থিত ছিলেন। শোবিজের কয়েকজনও ছিলেন। মিথিলা-সৃজিতের বিয়ে নিয়ে দুই বাংলার মানুষের কৌতূহল রয়েছে। বিয়ের পর পরই নাম পরিবর্তন করলেন মিথিলা। নিজের ইন্সটাগ্রামে বিয়ের ছবি পোস্ট করে মি. অ্যান্ড মিসেস. রশিদ মুখার্জি লিখে এভাবেই নিজেই নতুন পরিচয় জানিয়েছেন। মিথিলাকে এখন মিসেস মুখার্জি বলেই ডাকতে হবে। বছর খানেক আগে গায়ক অর্ণবের একটি মিউজিক ভিডিও উপলক্ষে মিথিলার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল সৃজিতের। অল্পদিনের মধ্যেই তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে উঠেছিল। তাদের মধ্যেকার বন্ধুত্ব যে বেশ গভীর সে কথা তারা স্বীকারও করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট একসঙ্গে থাকার শপথ নিয়ে সংসার জীবনে পা রাখেন তাহসান-মিথিলা। টানা ১১ বছর সংসার করেছেন তারা। অবশেষে তাদের বিচ্ছেদ হয় ২০১৭ সালের ২০ জুলাই। তাদের দাম্পত্য জীবনে একমাত্র কন্যা সন্তান আইরা তাহরিম খান। ...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

মানবাধিকার হলো ভয় ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি

১০ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মানবাধিকার হচ্ছে একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। আর এই অধিকার কেউ কাউকে দেয় না। মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্র এই অধিকার। একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার জন্য এই অধিকার দরকার। সর্বপরি মানবাধিকার হলো সব ধরনের ভয় ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি। যা কিছু একজন মানুষের মর্যদাকে রক্ষা করে,সুরক্ষিত করে মর্যদাকে নানাভাবে বিকশিত হতে সাহায্য করে সেটিই হচ্ছে মানবাধিকার। তাই এইখানে একজন মানুষের সাথে আচরণ কি রকম হবে,তার জীবনের প্রতি কোন প্রকার হুমকি আছে কিনা,তার শিক্ষার সুযোগ ও চিন্তার স্বাধীনতা থাকবে কিনা,মানুষ হিসেবে অন্যের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার,মর্যদা পাওয়ার অধিকার রাখে কিনা এই সব কিছু মিলেই মানবাধিকারের ধারণা। মানবাধিকার সার্বজনীন। পৃথিবীর সব মানুষ তিনি যে দেশেরই হোক না কেন,গ্রামে বা শহরে যেখানেই বাস করুক,যে ধর্মেরই হোক সবার অধিকার সমান। একইভাবে সব মানুষ,নারী,পুরুষ,শিশু যাই হোক না কেন,যে ভাষাতেই কথা বলুক না কেন সবারই হবে সমান অধিকার। মানবাধিকারের একটি অন্যতম নীতি হচ্ছে মানুষের জন্মগত অধিকার গুলো কেউ কখনো কারো কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারে না। এমনকি কোন মানুষ নিজেও কখনো তার মানবাধিকার ত্যাগ করতে পারে না। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার রয়েছে। যেমনঃ বাকস্বাধীনতার অধিকার,নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার,জীবনধারণের অধিকার,সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিবার পরিচালনার অধিকার, রাষ্ট্রে শান্তিতে বসবাস করার অধিকার,চুরি-ডকাতি ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচার অধিকার,জুলুম-অত্যাচার ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার অধিকার,মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা থেকে বাঁচার অধিকার,নিজের জমি-জমা,গাছ-পালা ও বাগান-বাড়ি সন্ত্রাসীদের লুট-পাট থেকে রক্ষার অধিকার,অন্যায়ভাবে কারো হামলা থেকে বাঁচার অধিকার,স্বাধীনভাবে চাকরি-বাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্য করার অধিকার,সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার পরিবেশ পাওয়ার অধিকার,দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার,দেশ,জাতি,সমাজ ও রাষ্ট্রকে কল্যাণরুপে গড়ে তোলার অধিকার,মানব সেবার অধিকার,পেট্রোল বোমার আঘাত থেকে বেঁচে থাকার অধিকার,জনসভা ও সভা-সমাবেশ করার অধিকার,গণতান্ত্রিক অধিকার সহ জননিরাপত্তার অধিকারও মানুষের মৌলিক মানবাধিকার। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার রয়েছে। মোট কথা- মানুষের মৌলিক জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল নিয়ামকের ওপর যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে মানবাধিকার। মানবাধিকার কথাটি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের নিকট অতি সুপরিচিত ও তাৎপর্যপূর্ন একটি শব্দ,মানবাধিকার শব্দের ইংরেজী প্রতি শব্দ হচ্ছে ঐঁসধহ জরমযঃং। বাংলা ভাষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের সমন্বয়ে মানবাধিকার শব্দটি গঠিত হয়েছে। একটি শব্দ- মানব অপরটি অধিকার। প্রথমটির অর্থ হচ্ছে মানুষ আর দ্বিতীয়টির অর্থ হচ্ছে যারা মানুষ তাদের অধিকার। অর্থ্যাৎ মানবাধিকার কথাটির পরিপূর্ণ অর্থ দাড়ায় মানুষের অধিকার। মৌলিক চাহিদা পূরণসহ নিরাপত্তামূলক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা বিধান করা সরকার ও মানবাধিকার সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাই শুধু অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষা ও চিকিৎসা নয় বরং এগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য সকল অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। নির্যাতিত নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। গোটা পৃথিবীর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ও রক্ষায় তিনি সংগ্রাম করেছেন। আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্যাতিত নিপিড়ীত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষনা করেছেন। তিনি বলেছেন; কি কারনে তোমরা সেসব নারী,পুরুষ ও শিশুদের খাতিরে আল্লাহর অনুসৃত পথে সংগ্রাম করছো না? অথচ যারা নির্যাতিত নিপিড়ীত ও দুর্বল হবার কারণে আমার নিকট ফরিয়াদ করছে। এবং বলছে; হে আল্লাহ! তুমি আমাদের এ জালিমদের অত্যাচার থেকে বের করে নাও। অথবা তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোন দরদী-বন্ধু ও সাহায্যকারী পাঠিয়ে দাও,(সূরা নিসা-৭৫)। আমাদের দেশে অতীত নেতৃত্ব দানে যারা স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন, তারাও আমরণ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলন। শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী,বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশের পবিত্র সংবিধানে ও গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা সন্নিবেশিত রয়েছে। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে। মানবসত্তার মর্যদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে। এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগনের কার্যকর অংশগ্রহন নিশ্চিত হইবে। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)। ...

১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে ১৬ টাকায় মোবাইল ফোন

০১ডিসেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাত্র ১৬ টাকায় ফিচার ফোন কেনার সুযোগ দিচ্ছে ই-কমার্স ভিত্তিক মার্কেটপ্লেস ইভ্যালি। ইভ্যালির স্মার্টফোন ভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ দিয়ে অর্ডার করলেই প্রথম তিন হাজার গ্রাহক পাবেন ১৬ টাকায় ফিচার ফোন কেনার এই সুযোগ। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস এবং ইভ্যালির প্রথম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় এই অফারের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অফারের ঘোষণা দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী শনিবার (৭ ডিসেম্বর) গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এই অফার। সফলভাবে অর্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রথম তিন হাজার গ্রাহককে ১৬ টাকার বিনিময়ে দেয়া হবে ওয়ালটন অলভিও এমএম২১ মডেলের মোবাইল সেট। এ অফারে মোবাইল কিনতে হলে পুরনো বা নতুন গ্রাহক হওয়ার কোনোদিকের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নতুন বা পুরনো উভয় ধরনের তিন হাজার গ্রাহকই পাবেন এই সুযোগ। তবে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ একটি (মোবাইল) কিনতে পারবেন মাত্র ১৬ টাকার বিনিময়ে। এ ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল নিউজ একাত্তরকে বলেন, প্রথম বর্ষ পূর্তি উদযাপন এবং দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণের মাহেন্দ্রক্ষণ আগামী ১৬ ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির ইতিহাসের জন্যও এ দিনটি বেশ গুরত্বপূর্ণ। মূলত এসব বিষয়কে সামনে রেখেই গ্রাহকদের জন্য আমাদের এই অফার। তিনি বলেন, অফার শুরুর আগেই এবারও গ্রাহকদের পক্ষ থেকে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। প্রথমে আমাদের পরিকল্পনা ছিল দুই হাজার গ্রাহককে এই অফারের আওতায় মোবাইল ফোন দেয়া হবে। কিন্তু ঘোষণা শুরুর মুহূর্ত থেকেই গ্রাহকেরা যে সাড়া দিয়ে আসছেন এবং প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তাতে আমরা সদস্য সংখ্যা বাডিয়ে তিন হাজারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেই। ...

ওবায়দুল কাদেরকে চ্যালেঞ্জ দিলেন মির্জা ফখরুল

০৯ডিসেম্বর,সোমবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারা যদি এতই জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হয়ে থাকে তা হলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেখুক। সেখানেই প্রমাণ হয়ে যাবে কারা জনপ্রিয় আর কাদের জনমত নেই। আজ সোমবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংসদের (জাসাস) পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। মির্জা ফখরুল বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছেন-বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যর্থ হয়ে এখন বিদেশিদের কাছে নালিশ করছে। তাদের এগুলো পুরোনো কথা। এসব কথার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। এগুলো বলা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। এসব চটকদার কথা মিডিয়াতে না বললে তারা টিকে থাকবে কী করে? বিএনপির এই নেতা বলেন, তাদের জনগণের কাছে কোনো জায়গা নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের কোনো ভিত্তি নেই। তারা জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছে। মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্নীতি, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস, আর জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছে সরকার। জনপ্রিয়তা যাচাই করতে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনেরও দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব। ...

খালেদা জিয়াকে বেঁচে থাকার সুযোগ দিন

০৭ডিসেম্বর,শনিবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জামিন না দিলে এদেশের মানুষের কাছে আওয়ামী লীগ ক্ষমার অযোগ্য হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির যৌথসভা শেষে এমন মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। খালেদা জিয়াকে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) যে জঘন্য একটি নাটক করছে এই নাটক বাদ দিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ও পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তার জীবন রক্ষা করার জন্য দয়া করে তাকে জামিনে মুক্ত করুন। তাকে বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসার সুযোগ করে দিন। অন্যথায় এদেশের মানুষ কোনদিনই আপনাদের ক্ষমা করবে না। তখন আপনারাই ক্ষমার অযোগ্য হবেন। তিনি বলেন, ‘আজকে দেশে আইনের শাসন নেই। একটু দেওয়ালের লিখনগুলো পড়ুন, একটু মানুষের চোখের দিকে তাকান। প্রতিটি মানুষের এখন একটাই কনসার্ন বেগম জিয়াকে কেন ছাড়া হচ্ছে না।- আলোকিত বাংলাদেশ ...

স্বামীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ ঈমানদার স্ত্রী

৩০অক্টোবর,বুধবার,মো:ইরফান চৌধুরী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: যে কারণে স্বামীর জন্য ঈমানদার স্ত্রী শ্রেষ্ঠ সম্পদ: হাদিসে সে বিষয়গুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন। তিনি পুরুষের জন্য চারটি বিষয়কে শুভলক্ষণ বলেছেন। আর তা হলো- নেককার নারী, প্রশস্ত ঘর, সৎ প্রতিবেশী এবং সহজ প্রকৃতির আনুগত্যশীল-পোষ্য বাহন। পক্ষান্তরে চারটি জিনিসকে কুলক্ষণা বলেছেন। তার মধ্যে একটি হলো বদকার নারী। (হাকেম, সহিহ আল জামে) অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন ঈমানদার স্ত্রীকে তার স্বামীর জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিসটি তুলে ধরা হলো- হজরত ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,যখন এ আয়াত নাজিল হলো- আর যারা সোনা-রূপা সঞ্চয় করে (আয়াতের শেষ পর্যন্ত); তখন আমরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলাম। তখন তাঁর এক সাহাবি বললেন, এটাতো (আয়াত) সোনা-রূপা সর্ম্পকে নাজিল হলো। আমরা যদি জানতে পারতাম কোন সম্পদ উত্তম, তবে তা সঞ্চয় করতাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের কারো শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো- আল্লাহর জিকিরকারী রসনা (জিহ্বা); কৃতজ্ঞ অন্তর; এবং ঈমানদার স্ত্রী, যে তার ঈমানের (দ্বীনের) ব্যাপারে তাকে (স্বামীকে) সহযোগিতা করে। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত) হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ মাজাহেরে হক এ হাদিসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছেন। এ হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদার স্ত্রীর ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন। একজন ঈমানদার স্ত্রী তার স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদও বটে। দ্বীনের ব্যাপারে স্বামীকে সহযোগিতার মর্মার্থ হলো- ঈমানদার স্ত্রী ধর্মীয় কার্যক্রম ও দ্বীনি দায়িত্বসমূহ পালনের ক্ষেত্রে তার স্বামীকে সহযোগিতা করবে। যেমন- নামাজের সময় হলে তার স্বামীকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে; রমজান মাসের রোজা রাখার ব্যাপারে স্বামীকে সহযোগিতা করবে। অনুরূপভাবে একজন ঈমানদার স্ত্রী তার স্বামীকে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, পরিবারের আনুসাঙ্গিক কাজকর্মসহ অন্যান্য সব ইবাদত-বন্দেগিতেও স্বামীকে বুদ্ধি পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে যথাসাধ্য সহযোগিতা করবে। ঈমানদার স্ত্রী বাড়িতে এমন পরিবেশ এবং আবহ সৃষ্টি করবে, যাতে স্বামী সারাক্ষণ পূণ্যকর্মে লিপ্ত থাকেন। অপকর্ম, অবৈধ উপার্জন এবং হারাম পেশা থেকে বিরত থাকেন। এমনকি স্বামী যদি কোনো মন্দ কাজে লিপ্ত হন তবে ঈমানদার স্ত্রী তাকে সেই মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনবে। অবাধ্য স্বামীকে মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনতে তার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদার নেক্কার স্ত্রীকে স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহ সব নারীকে দ্বীনদার ও ঈমানদার হিসেবে কবুল করুন। পৃথিবীর সব মুমিন নারীকে নেককার সন্তান, নেককার স্ত্রী ও নেককার মা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। ...

মিষ্টি খেয়েও নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ বাসা বাধে। তাই সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অনেকে মনে করেন ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খেতে পারবেন না। আপনি জানেন কি? নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খেতে পারবেন। আসুন জেনে নিই যেসব নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খেতে পারবেন? ১. ডায়াবেটিস রোগীদের সব থেকে বড় শত্রু হলো দুধ। মিষ্টি তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় দুধের। তাই দুধ ছাড়া যদি অন্য কিছু দিয়ে মিষ্টি তৈরি করা যায়, তবে তা ডায়েটের প্রথম ধাপেই আমরা ব্লাড সুগার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। ২: দুধ ছাড়াও আরও অনেক উপাদান আছে, যা দিয়ে বাড়িতে বসে মিষ্টি বানানো যায়। দুধের বিকল্প হিসাবে আপনি বেছে নিতে পারেন, প্রাকৃতিক মধু, নারিকেলের মাখন, গুড়, নারিকেলের চিনি প্রভৃতি। ৩. দুধের বিকল্প হিসাবে মিষ্টি তৈরিতে অ্যালমণ্ড, সয়াদুধ বা নারিকেলের দুধ অথবা বাদাম দুধও ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ৪. এসব খাওয়ার আগে আপনাকে সুগারের লেভেল চেক করে নিতে হবে। কারণ না হলে আপনি বুঝতে পারবেন না যে খাবারগুলো আপনি রোজ গ্রহণ করছেন, সেগুলো আপনার শরীরের ব্লাড সুগারে কতটা প্রভাব ফেলছে। এ নিয়মগুলো মেনে চললে উৎসবের দিনে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে হয়ে উঠুন আরও চনমনে প্রাণবন্ত।...

দেশের বিস্ময় বালিকা নানজীবার গল্প

সাক্ষাৎকার ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নানজীবা খান। তার বয়স কিন্তু এখনও পেরোয়নি ১৮র কোঠা। আর এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী টিনএজার এরই মধ্যে জন্ম দিয়ে চলেছেন এক একটি বিশ্বয়। ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক, নির্মাতা, উপস্থাপিকা, টিভি টক শো'র অতিথি, লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর এবং বিতার্কিক হিসেবে স্বাক্ষর রেখে চলেছেন নিজের প্রতিভার। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুল-এ ট্রেইনি পাইলট হিসেবে চলছে তার অধ্যয়ন। এছাড়া তিনি কাজ করছেন শিশু সাংবাদিক হিসেবে, কাজ করছেন বিটিভির নিয়মিত উপস্থাপক হিসেবে, ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পেয়েছেন ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। আর সম্প্রতি ইউনিসেফের অধীনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এসেছেন দেশের বাইরেও। এই নিয়ে ১১টি দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে তার ঝুলিতে। লেখক হিসেবে এবারের বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার গবেষণামূলক গ্রন্থ- অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়। প্রথম সংস্করণের সব বই বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। বইটির প্রচ্ছদও করেছেন নানজীবা নিজে। তথ্যসমৃদ্ধ বইটি ইতোমধ্যে পাঠক সমাদৃত হয়েছে। প্রশ্ন আসে কিভাবে শুরু এই নানজীবার পথচলা? উত্তরে জানা যায়, নানজীবার শুরুটা হয়েছিল পাঁচ বছর বয়সে রঙ তুলি দিয়ে। মায়ের হাত ধরে গিয়েছিল কিশলয় কচিকাঁচার মেলায় ছবি আঁকা ও আবৃত্তি শিখতে। ২০০৭ সালে জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতা জয়নুল কামরুল ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন পেন্টিং কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ এবং পুরস্কার অর্জন করেন। জীবনের প্রথম অর্জনই ছিল আন্তর্জাতিক। সেই থেকে পথ চলা শুরু। ছবি আঁকার জন্য বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার তার ঝুলিতে জমা হয়। ছবি আঁকার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতেও প্রশিক্ষণ নেন। বিভিন্ন দিবসগুলোর সকাল থেকে সন্ধ্যা কাটতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করার মাধ্যমে। ২য় শ্রেণীতে পড়াকালীন বিটিভির- কাগজ কেটে ছবি আঁকি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় তার পথ চলা শুরু। বর্তমানে বিটিভিতে- আমরা রঙ্গিন প্রজাপতি, আমাদের কথা, আনন্দ ভুবন, ও শুভ সকাল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। ১৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র- কেয়ারলেস পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র সাদা কালোর জন্য ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। আর এটি তৈরি করতে যা টাকা খরচ হয়েছে তার সবই ছিল তার টিফিনের জমানো টাকা। তারপর- গ্রো আপ, দ্য আনস্টিচ পেইন সহ আরও কিছু প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেন নানজীবা। ৮ম শ্রেণীতে পড়াকালীন শুরু হয় শিশু সাংবাদিক হিসেবে তার পথচলা। জীবনের ১ম সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী,সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, মেয়র সাঈদ খোকনসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট মানুষ যেমন- সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সেলিনা হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন, হাবিবুল বাশার, আবেদা সুলতানা, সাদেকা হালিম, নিশাত মজুমদার, ফরিদুর রেজা সাগর, জুয়েল আইচ, মীর আহসান, Rabর প্রধান বেনজির আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস। বিদেশও উজ্জ্বল সাংবাদিক নানজীবা। ওয়ার্ল্ড ডিবেট সোসাইটির পরিচালক অ্যালফ্রেড স্পাইডার ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও হয়েছে তার। একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যামব্রিয়ান ডিবেটিং সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। স্কুল ও কলেজ জীবনে বিতার্কিক হিসেবে অর্জন করেছেন বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। পেয়েছেন উপস্থিত ইংরেজি বক্তৃতায় বিএনসিসি ও ভারত্বেশ্বরী হোমসের প্রথম পুরস্কার। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াকালীন- বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর থেকে ৩ ধাপে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার পরে সারা দেশের হাজার হাজার ক্যাডেটদের মধ্য থেকে বিএনসিসি-র সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল সফর ভারতে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাৎ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ হয়। রাশিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, কাজাকিস্তান, কিরগিজস্তান, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপসহ মোট ১১ টি দেশের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাইফেলে ফায়ারিং, অ্যাসোল্ট কোর্স, বেয়নোট ফাইটিং ও সশস্ত্র সালাম। শতগুণে গুণান্বিত নানজীবার বিনয়ের এক চরম উদাহরণ। সর্বশেষ তাই সময় নিউজকে তিনি বলেন, কাজ শেখার চেষ্টা করছি। আমি কখনই শুধু দেশ নিয়ে ভাবি না। আমার লক্ষ্য সবসময় আন্তর্জাতিক। আমি চাই মানুষ নানজীবাকে দিয়ে গোটা বাংলাদেশ চিনুক। সেই সাথে আকাশে ওড়ার স্বপ্নও পূরণ করতে চাই। আর আমার সব কাজের প্রেরণা আমার ছোট ভাই ও আমার মা। আমি সকলের ভালোবাসা চায়। ...

শোকাবহ আগস্ট,শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগের মাসব্যাপি কর্মসূচি

০১আগস্ট,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:শোকাবহ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী, আওয়ামী লীগের সেই সময়ের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন। সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। প্রতিবারের মত এবারও ১৫ই আগস্টকে সামনে রেখে আগস্টের প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর মাসব্যাপি কর্মসূচি। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও এ মাসে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শোকের মাসের প্রথম দিন মধ্য রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথম প্রহরে আলোর মিছিলের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ জানান, মিছিলটি ধানমন্ডি ৩২নং সড়ক ধরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে যাত্রা করবে। আজ সকালে কৃষকলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ মাসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের জন্মদিন পালন, ১৭ই আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা এবং ২১শে আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা দিবস স্মরণ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালন। শোকাবহ আগষ্টে অনলাইন নিউজ পোর্টাল www.newsekattor.com ও সংবাদের কাগজ পত্রিকার পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা ।...

মানবাধিকার হলো ভয় ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি

১০ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মানবাধিকার হচ্ছে একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। আর এই অধিকার কেউ কাউকে দেয় না। মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্র এই অধিকার। একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার জন্য এই অধিকার দরকার। সর্বপরি মানবাধিকার হলো সব ধরনের ভয় ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি। যা কিছু একজন মানুষের মর্যদাকে রক্ষা করে,সুরক্ষিত করে মর্যদাকে নানাভাবে বিকশিত হতে সাহায্য করে সেটিই হচ্ছে মানবাধিকার। তাই এইখানে একজন মানুষের সাথে আচরণ কি রকম হবে,তার জীবনের প্রতি কোন প্রকার হুমকি আছে কিনা,তার শিক্ষার সুযোগ ও চিন্তার স্বাধীনতা থাকবে কিনা,মানুষ হিসেবে অন্যের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার,মর্যদা পাওয়ার অধিকার রাখে কিনা এই সব কিছু মিলেই মানবাধিকারের ধারণা। মানবাধিকার সার্বজনীন। পৃথিবীর সব মানুষ তিনি যে দেশেরই হোক না কেন,গ্রামে বা শহরে যেখানেই বাস করুক,যে ধর্মেরই হোক সবার অধিকার সমান। একইভাবে সব মানুষ,নারী,পুরুষ,শিশু যাই হোক না কেন,যে ভাষাতেই কথা বলুক না কেন সবারই হবে সমান অধিকার। মানবাধিকারের একটি অন্যতম নীতি হচ্ছে মানুষের জন্মগত অধিকার গুলো কেউ কখনো কারো কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারে না। এমনকি কোন মানুষ নিজেও কখনো তার মানবাধিকার ত্যাগ করতে পারে না। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার রয়েছে। যেমনঃ বাকস্বাধীনতার অধিকার,নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার,জীবনধারণের অধিকার,সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিবার পরিচালনার অধিকার, রাষ্ট্রে শান্তিতে বসবাস করার অধিকার,চুরি-ডকাতি ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচার অধিকার,জুলুম-অত্যাচার ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার অধিকার,মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা থেকে বাঁচার অধিকার,নিজের জমি-জমা,গাছ-পালা ও বাগান-বাড়ি সন্ত্রাসীদের লুট-পাট থেকে রক্ষার অধিকার,অন্যায়ভাবে কারো হামলা থেকে বাঁচার অধিকার,স্বাধীনভাবে চাকরি-বাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্য করার অধিকার,সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার পরিবেশ পাওয়ার অধিকার,দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার,দেশ,জাতি,সমাজ ও রাষ্ট্রকে কল্যাণরুপে গড়ে তোলার অধিকার,মানব সেবার অধিকার,পেট্রোল বোমার আঘাত থেকে বেঁচে থাকার অধিকার,জনসভা ও সভা-সমাবেশ করার অধিকার,গণতান্ত্রিক অধিকার সহ জননিরাপত্তার অধিকারও মানুষের মৌলিক মানবাধিকার। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার রয়েছে। মোট কথা- মানুষের মৌলিক জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল নিয়ামকের ওপর যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে মানবাধিকার। মানবাধিকার কথাটি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের নিকট অতি সুপরিচিত ও তাৎপর্যপূর্ন একটি শব্দ,মানবাধিকার শব্দের ইংরেজী প্রতি শব্দ হচ্ছে ঐঁসধহ জরমযঃং। বাংলা ভাষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের সমন্বয়ে মানবাধিকার শব্দটি গঠিত হয়েছে। একটি শব্দ- মানব অপরটি অধিকার। প্রথমটির অর্থ হচ্ছে মানুষ আর দ্বিতীয়টির অর্থ হচ্ছে যারা মানুষ তাদের অধিকার। অর্থ্যাৎ মানবাধিকার কথাটির পরিপূর্ণ অর্থ দাড়ায় মানুষের অধিকার। মৌলিক চাহিদা পূরণসহ নিরাপত্তামূলক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা বিধান করা সরকার ও মানবাধিকার সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাই শুধু অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষা ও চিকিৎসা নয় বরং এগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য সকল অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। নির্যাতিত নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। গোটা পৃথিবীর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ও রক্ষায় তিনি সংগ্রাম করেছেন। আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্যাতিত নিপিড়ীত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষনা করেছেন। তিনি বলেছেন; কি কারনে তোমরা সেসব নারী,পুরুষ ও শিশুদের খাতিরে আল্লাহর অনুসৃত পথে সংগ্রাম করছো না? অথচ যারা নির্যাতিত নিপিড়ীত ও দুর্বল হবার কারণে আমার নিকট ফরিয়াদ করছে। এবং বলছে; হে আল্লাহ! তুমি আমাদের এ জালিমদের অত্যাচার থেকে বের করে নাও। অথবা তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোন দরদী-বন্ধু ও সাহায্যকারী পাঠিয়ে দাও,(সূরা নিসা-৭৫)। আমাদের দেশে অতীত নেতৃত্ব দানে যারা স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন, তারাও আমরণ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলন। শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী,বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশের পবিত্র সংবিধানে ও গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা সন্নিবেশিত রয়েছে। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে। মানবসত্তার মর্যদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে। এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগনের কার্যকর অংশগ্রহন নিশ্চিত হইবে। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)।


দেশের বিস্ময় বালিকা নানজীবার গল্প

সাক্ষাৎকার ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নানজীবা খান। তার বয়স কিন্তু এখনও পেরোয়নি ১৮র কোঠা। আর এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী টিনএজার এরই মধ্যে জন্ম দিয়ে চলেছেন এক একটি বিশ্বয়। ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক, নির্মাতা, উপস্থাপিকা, টিভি টক শো'র অতিথি, লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর এবং বিতার্কিক হিসেবে স্বাক্ষর রেখে চলেছেন নিজের প্রতিভার। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুল-এ ট্রেইনি পাইলট হিসেবে চলছে তার অধ্যয়ন। এছাড়া তিনি কাজ করছেন শিশু সাংবাদিক হিসেবে, কাজ করছেন বিটিভির নিয়মিত উপস্থাপক হিসেবে, ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পেয়েছেন ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। আর সম্প্রতি ইউনিসেফের অধীনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এসেছেন দেশের বাইরেও। এই নিয়ে ১১টি দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে তার ঝুলিতে। লেখক হিসেবে এবারের বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার গবেষণামূলক গ্রন্থ- অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়। প্রথম সংস্করণের সব বই বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। বইটির প্রচ্ছদও করেছেন নানজীবা নিজে। তথ্যসমৃদ্ধ বইটি ইতোমধ্যে পাঠক সমাদৃত হয়েছে। প্রশ্ন আসে কিভাবে শুরু এই নানজীবার পথচলা? উত্তরে জানা যায়, নানজীবার শুরুটা হয়েছিল পাঁচ বছর বয়সে রঙ তুলি দিয়ে। মায়ের হাত ধরে গিয়েছিল কিশলয় কচিকাঁচার মেলায় ছবি আঁকা ও আবৃত্তি শিখতে। ২০০৭ সালে জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতা জয়নুল কামরুল ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন পেন্টিং কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ এবং পুরস্কার অর্জন করেন। জীবনের প্রথম অর্জনই ছিল আন্তর্জাতিক। সেই থেকে পথ চলা শুরু। ছবি আঁকার জন্য বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার তার ঝুলিতে জমা হয়। ছবি আঁকার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতেও প্রশিক্ষণ নেন। বিভিন্ন দিবসগুলোর সকাল থেকে সন্ধ্যা কাটতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করার মাধ্যমে। ২য় শ্রেণীতে পড়াকালীন বিটিভির- কাগজ কেটে ছবি আঁকি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় তার পথ চলা শুরু। বর্তমানে বিটিভিতে- আমরা রঙ্গিন প্রজাপতি, আমাদের কথা, আনন্দ ভুবন, ও শুভ সকাল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। ১৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র- কেয়ারলেস পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র সাদা কালোর জন্য ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। আর এটি তৈরি করতে যা টাকা খরচ হয়েছে তার সবই ছিল তার টিফিনের জমানো টাকা। তারপর- গ্রো আপ, দ্য আনস্টিচ পেইন সহ আরও কিছু প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেন নানজীবা। ৮ম শ্রেণীতে পড়াকালীন শুরু হয় শিশু সাংবাদিক হিসেবে তার পথচলা। জীবনের ১ম সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী,সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, মেয়র সাঈদ খোকনসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট মানুষ যেমন- সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সেলিনা হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন, হাবিবুল বাশার, আবেদা সুলতানা, সাদেকা হালিম, নিশাত মজুমদার, ফরিদুর রেজা সাগর, জুয়েল আইচ, মীর আহসান, Rabর প্রধান বেনজির আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস। বিদেশও উজ্জ্বল সাংবাদিক নানজীবা। ওয়ার্ল্ড ডিবেট সোসাইটির পরিচালক অ্যালফ্রেড স্পাইডার ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও হয়েছে তার। একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যামব্রিয়ান ডিবেটিং সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। স্কুল ও কলেজ জীবনে বিতার্কিক হিসেবে অর্জন করেছেন বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। পেয়েছেন উপস্থিত ইংরেজি বক্তৃতায় বিএনসিসি ও ভারত্বেশ্বরী হোমসের প্রথম পুরস্কার। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াকালীন- বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর থেকে ৩ ধাপে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার পরে সারা দেশের হাজার হাজার ক্যাডেটদের মধ্য থেকে বিএনসিসি-র সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল সফর ভারতে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাৎ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ হয়। রাশিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, কাজাকিস্তান, কিরগিজস্তান, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপসহ মোট ১১ টি দেশের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাইফেলে ফায়ারিং, অ্যাসোল্ট কোর্স, বেয়নোট ফাইটিং ও সশস্ত্র সালাম। শতগুণে গুণান্বিত নানজীবার বিনয়ের এক চরম উদাহরণ। সর্বশেষ তাই সময় নিউজকে তিনি বলেন, কাজ শেখার চেষ্টা করছি। আমি কখনই শুধু দেশ নিয়ে ভাবি না। আমার লক্ষ্য সবসময় আন্তর্জাতিক। আমি চাই মানুষ নানজীবাকে দিয়ে গোটা বাংলাদেশ চিনুক। সেই সাথে আকাশে ওড়ার স্বপ্নও পূরণ করতে চাই। আর আমার সব কাজের প্রেরণা আমার ছোট ভাই ও আমার মা। আমি সকলের ভালোবাসা চায়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাংবাদিকদের অবদান চিরস্মরণীয়

০৭ডিসেম্বর,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: বহু মুক্তিযুদ্ধ পৃথিবীর বুকে ঘটে গেছে। পরাধীনতা থেকে মুক্তিই যার প্রধান শর্ত। যুদ্ধগুলো ছিল মূলত সবল জাতির বিরুদ্ধে দূর্বল জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে বাঙালী জাতির স্বাধীনতার লড়াই- ই ছিল মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘদিনের শোষণ আর বঞ্চনার ফলশ্রুতি ছিল এই মুক্তিযুদ্ধ। সেদিন বাংলাদেশ বলে পৃথিবীর মানচিত্রে কোনো দেশ ছিল না। আজকের বাংলাদেশ সেদিন পূর্ব পাকিস্তান। ১৯৪৭ এর ১৪ই আগষ্ট ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে দুটো স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পৃথিবীর বুকে জন্ম নিল ভারতবর্ষ ও পাকিস্তান নাম নিয়ে । পশ্চিম বাংলা রয়ে গেল ভারতবর্ষে আর পূর্ব বাংলা হলো পশ্চিম পাকিস্তানের একটি প্রদেশ , নাম হলো পূর্ব পাকিস্তান।১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজদের অধীনতা থেকে মুক্ত হবার পর সেদিন বাঙালী জীবনে নতুন ভোর আর নতুন বাচার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু তা হলো না ১৯৪৭ থেকে আবার শুরু হলো নতুন সংগ্রাম। আবার জন্ম নিল বাংলা মায়ের বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী সন্তান।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন বুঝতে পেরেছিল, তাদের পরাজয় অনিবার্য তখনই পরিকল্পিতভাবে তারা জাতিকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। নবগঠিত এই দেশটি যাতে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে দুর্বল থাকে, কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, সেজন্য তারা জাতির সূর্য-সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নিধন করার এক কুৎসিত এবং লোমহর্ষক পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পনার মূল সহযোগী ছিল আল-বদর বাহিনী। এরাই ১১ ডিসেম্বর থেকে ব্যাপকভাবে বুদ্ধিজীবী নিধন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের দেশীয় দোসরদের সঙ্গে নিয়ে দেশের বরেণ্য সকল শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের চোখ বেঁধে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তুলে আনে এবং পৈশাচিক নির্যাতনের পর হত্যা করে। পরিকল্পিত এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞটিই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বুদ্ধিজীবী হত্যাকা- নামে পরিচিত। উইকিপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, মুক্তিযুদ্ধের সময় সারা দেশে ১ হাজার ১শ ১১ জন বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছিল। এর ভেতর ১৩ জন ছিলেন সাংবাদিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে যুদ্ধপূর্ব পাকিস্তান শাসনামলে দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদ, পূর্বদেশ, জনপদ, অবজারভার বাঙালির চেতনাকে যেভাবে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনকে উদ্বুদ্ধ ও ঐকমত্য তৈরিতে ভূমিকা পালন করেছিল তা ইতিহাস হয়ে আছে। পরম শ্রদ্ধেয় তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর আহমেদ চৌধুরী, আহমেদুল কবির, আব্দুস সালাম, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, এম. আর আক্তার মুকুল, রণেশ দাশগুপ্ত, কামাল লোহানী, সন্তোষ গুপ্তসহ নির্ভীক সাংবাদিকদের ভূমিকা আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে আজো মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। জীবন দিতে হয়েছে বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে। একদল সাহসী সাংবাদিক ও সাহিত্যিক দেশের ভেতরে-বাইরে, অবরুদ্ধ রণাঙ্গনে বসে, পালিয়ে, গোপনে, প্রকাশ্যে বের করেন একাধিক সংবাদপত্র। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে পাকিস্তান বাহিনীর মর্টারের গোলায় তিনটি দৈনিক পত্রিকার প্রেস ও অফিস ধ্বংস হয়ে যায়। এগুলো হলো দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদ ও দ্য পিপল। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বিকেল ৪ টার দিকে ইত্তেফাক অফিসে দুটি ট্যাঙ্ক থেকে গোলা ছুড়ে সেই অফিসটি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। ৩১ মার্চ খুব সকালে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বংশালে অবস্থিত তৎকালীন দৈনিক সংবাদ অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাতে শহীদ হন ওই পত্রিকার এক সময়কার সহকারি সম্পাদক সাংবাদিক এ কে এম শহীদুল্লা। যিনি শহীদ সাবের নামে পরিচিত। তিনি সংবাদ অফিসেই রাত কাটাতেন। অগ্নিদগ্ধ হয়ে তিনি মারা যান। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন দৈনিক পূর্বদেশ ও জয়বাংলা পত্রিকার সাংবাদিক আবুল মনজুর, চট্টগ্রামের মাসিক বান্ধবী পত্রিকার সাংবাদিক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কথিকা পাঠিকা বেগম মুশতারী শফি, দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকার সাংবাদিক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কথক আবু তোয়াব খান, দৈনিক অবজারভার পত্রিকার সাংবাদিক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের চরমপত্র পাঠক এম.আর. আখতার মুকুল, সাংবাদিক ওয়াহিদুল হক, দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সাংবাদিক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কথক মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ, দৈনিক পূর্বদেশ ও জয়বাংলা পত্রিকার সাংবাদিক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কথক রণজিত পাল চৌধুরী, দি পিপলের সাংবাদিক আবিদুর রহমান, দৈনিক ইত্তেফাক ও জয়বাংলা পত্রিকার মোহাম্মদুল্লাহ চৌধুরী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইংরেজি বিভাগের সংগঠক আলমগীর কবির, খুলনার সাংবাদিক ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা আলী তারেক, সাংবাদিক রণেশ দাশ গুপ্ত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সাংবাদিক মুছা সাদেক, দৈনিক সংবাদ পত্রিকার আবুল হাসনাত, দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার মহাদেব সাহা, দৈসিক অবজারভার ও জয়বাংলা পত্রিকার এ.বি.এম.মুসা, সাপ্তাহিক হলিডের সাদেক খান, বাংলার বাণীর শফিকুল আজিজ মুকুল ও আমির হোসেন, দৈনিক আজাদ ও জয়বাংলা পত্রিকার আমিনুল হক বাদশা, দৈনিক অবজারভার পত্রিকার মৃণাল কুমার রায় ও জালাল উদ্দিন, দৈনিক বার্তা পত্রিকার আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী, দৈনিক আজাদী পত্রিকার সাধন কুমার ধর, দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকা এবং জয়বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল গাফফার চৌধুরী, দৈনিক অবজারভার পত্রিকার ফয়েজ আহমেদ, দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার কামাল লোহানী, দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সন্তোষ গুপ্ত, দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার আল মাহমুদ, দি পিপল এর নির্মলেন্দু গুণসহ আরও অনেকে। এসব সাংবাদিকদের প্রায় সবাই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সাথে কোন না কোন ভাবে যুক্ত ছিলেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বিশ্বব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে সমর্থন আদায়ে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে সংবাদসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করে। আর এই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এক ঝাঁক নির্ভিক সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিল্পীসহ বহু বুদ্ধিজীবী। এ প্রসঙ্গে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জনপ্রিয় রম্যকথিকা বিষয়ক অনুষ্ঠান চরমপত্র এর কথক ও লেখক সাংবাদিক এম আর আক্তার মুকুল, সংবাদভিত্তিক কথিকা বিশ্ব জনমতের কথক সাংবাদিক সাদেকীন, রম্যকথিকা পিন্ডির প্রলাপ অনুষ্ঠানের কথক আবু তোয়াব খান এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। ফয়েজ আহমদ, মোহাম্মদ উল্লাহ চৌধুরী, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, কামাল লোহানী প্রমুখ সাংবাদিকরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কামাল লোহানী ছিলেন সংবাদ বিভাগের প্রধান। মুক্তিযুদ্ধকালীন কতজন সাংবাদিক শহীদ হয়েছিলেন তার সঠিক তথ্য না পাওয়া গেলেও উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন, সিরাজুদ্দীন হোসেন, কার্যনিবাহী সম্পাদক দৈনিক ইত্তেফাক (নিহত ১০ ডিসেম্বর), শহীদুল্লাহ কায়সার, সহ- সম্পাদক দৈনিক সংবাদ (নিহত ১৪ ডিসেম্বর), শহীদ সাবের, সহকারী সম্পাদক দৈনিক সংবাদ (নিহত ৩১মার্চ), নিজাম উদ্দিন আহমেদ, জেনারেল ম্যানেজার পি.পি.আই সংবাদদাতা, বিবিসি, (নিহত ১২ ডিসেম্বর), আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র সম্পাদক দৈনিক পূর্বদেশ, (নিহত ১১ ডিসেম্বর), চিশতি হেলালুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা দৈনিক আজাদ (নিহত ২৫ মার্চ), সৈয়দ নাজমুল হক, চিফ রিপোর্টার পি.পি.আই সংবাদদাতা, সি.বি.এস (নিহত ১১ ডিসেম্বর), খন্দকার আবু তালেব, সহ-সম্পাদক দৈনিক পয়গাম (নিহত ২৯ মার্চ), শেখ হাবিবুর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব (নিহত ১০ এপ্রিল), আবুল বাশার চৌধুরী, সাংবাদিক দৈনিক মর্নিং নিউজ (নিহত অক্টোবর), আবু সাঈদ, আঞ্চলিক প্রধান দৈনিক আজাদ-রাজশাহী, (নিহত ২৮ জুন), শেখ আব্দুল মান্নান (লাডু) সাংবাদিক দৈনিক অবজারভার, মোহাম্মদ আখতার, কর্মাধ্যক্ষ সাপ্তাহিক লালনা (নিহত ১৪ ডিসেম্বর), সেলিনা আক্তার পারভীন, সম্পাদিকা শিলালিপি (নিহত ১৪ ডিসেম্বর)। যুদ্ধের নয় মাসে অবরুদ্ধ বাংলাদেশ থেকে ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে বেশ কিছু পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মে মাসে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রচারের আগে এই পত্রিকাগুলোই ছিল যুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্যপ্রাপ্তির প্রধান উৎস। যুদ্ধের শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে ৩০ মার্চ উত্তর জনপদের এক মুক্তাঞ্চল নওগাঁ মহকুমা শহর থেকে নিয়মিতভাবে- দৈনিক জয় বাংলা পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র এই দৈনিকটি প্রকাশিত হয়। ১৪ এপ্রিল নওগাঁ শহরে হানাদার বাহিনী ঢুকে পড়ে। সম্পাদক এদিন ভারত চলে যান। পঞ্চাশের দশকের শেষ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল মাসিক-চিত্রাঙ্গদা। সিলেটের লেখক-সাংবাদিকদের পরিশ্রমের ফসল হিসেবে প্রতি সোমবার প্রকাশিত সাপ্তাহিক-জন্মভূমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জন্মভূমিতে প্রধানত প্রকাশ পেতো মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে প্রতিবেদন, আলোচনা, ব্যাঙ্গ চিত্র, ছবি প্রভৃতি। সাপ্তাহিক- বাংলার বাণী বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করে। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে স্বভাবতই- বাংলার বাণীর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে এই পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক শেখ ফজলুল হক মণি মুজিবনগর থেকে বাংলার বাণী প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। ৭ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও থেকে প্রকাশিত হয় আরও একটি দৈনিক পত্রিকা- দৈনিক বাংলাদেশ। সম্পাদক ছিলেন গাজী মাজহারুল হুদা। মাত্র ছয়টি সংখ্যা প্রকাশের পর এটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে মুক্তাঞ্চল তেতুলিয়া থেকে পত্রিকাটির আর চারটি সংখ্যা (১৮-৩০ জুন) প্রকাশিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপক প্রচার ও বাংলাদেশ সরকারের মুখপত্র হিসেবে ১১ই মে ১৯৭১,জয় বাংলা পত্রিকা আত্মপ্রকাশ করে। সাপ্তাহিক জয়বাংলা ছিল মুজিবনগর সরকারের নিয়মিত রাজনৈতিক মুখপত্র। সম্পাদক ছিলেন মুজিবনগর সরকারের তথ্য দফতরের জনাব আব্দুল মান্নান। আব্দুল গাফফার চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত এই পত্রিকা দেশে-বিদেশে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়। মুক্তিযুদ্বের সময় চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গণ ছিল মুক্তিফৌজের সাপ্তাহিক মুখপত্র। সম্পাদক রণদূত। রণদূত সম্পাদকের ছদ্মনাম। ১১ জুলাই থেকে টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিফৌজের বেসামরিক দপ্তর থেকে প্রকাশিত। ১৩ জুন থেকে প্রকাশিত হয় স্বাধীন বাংলার সাপ্তাহিক মুখপত্র বঙ্গবাণী। সম্পাদক কে এম হোসেন। ফিরোজ প্রিন্টিং প্রেস নওগাঁ থেকে মুদ্রিত এবং এম এ জলিল কর্তৃক প্রকাশিত হয়। ১৯৭১ সালের জুন মাসে ঢাকার রমনা থেকে সাপ্তাহিক বাংলাদেশ একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ২২ জুন থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত পত্রিকাটির ১০টি সংখ্যা পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত হয় সংবাদ নিবন্ধ সাপ্তাহিক বাংলার মুখ। সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান আশরাফী। রঞ্জিত প্রকাশনীর পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক পলাশ আর্ট প্রেস, মুজিবনগর, বাংলাদেশ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। স্বাধীন বাংলার সাপ্তাহিক মুখপত্র ছিল স্বাধীন বাংলা। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা মিসেস জাহানারা কামরুজ্জামান। সম্পাদক এসএমএ আল মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত এবং বলাকা প্রেস, জামানগঞ্জ, রাজশাহী, বাংলাদেশ থেকে এমএ মজিদ কর্তৃক মুদ্রিত। ১৯৭১ সালের ১৬ জুন তারিখে প্রকাশিত হয় জাতীয়তাবাদী সাপ্তাহিক মুখপত্র স্বদেশ। জুলাই মাসে পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে সরকার কবীর খানের সম্পাদনায়, কেজি মোস্তফার সার্বিক তত্ত্বাবধানে মুক্তি বাহিনীর সাপ্তাহিক মুখপত্র- সোনার বাংলা প্রকাশিত হয়। গেরিলা যুদ্ধের কলাকৌশলের খবর সংবলিত পত্রিকা- সাপ্তাহিক বিপ্লবী বাংলাদেশ প্রকাশিত হয় বরিশাল থেকে। রংপুরের রৌমারী মুক্তাঞ্চল থেকে আগস্ট মাসে সাইক্লোস্টাইলে প্রকাশিত হয় স্বাধীন বাংলার মুক্ত অঞ্চলের সাপ্তাহিক মুখপত্র সাপ্তাহিত অগ্রদূত। সম্পাদক আজিজুল হক। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মাসিক সাহিত্যপত্র- মুক্তি শত্রু পরিবেষ্টিত বাংলাদেশ থেকে সাইক্লোস্টাইলে প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন শরাফউদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সাপ্তাহিক মুখপত্র ছিল নতুন বাংলা। বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ) কর্তৃক বাংলাদেশ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। এই পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধের খবরসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের ইস্যুকে তুলে ধরার লক্ষ্যে বিভিন্ন নিবন্ধ ছাপা হতো। ২০ সেপ্টেম্বর করিমগঞ্জ থেকে প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে সিলেট জেলার নির্ভীক স্বাধীন মুখপত্র সাপ্তাহিক মুক্ত বাংলা। ১৯৭১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মুজিব নগর ও সিলেট থেকে একযোগে প্রকাশিত হতে থাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর সাপ্তাহিক বাংলা। সেপ্টেম্বর মাসে মুজিবনগর থেকে মোহাম্মদ জিন্নাত আলীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়,মুক্তিযোদ্ধা ও সংগ্রামী জনতার মুখপত্র- সাপ্তাহিক দাবানল। সেপ্টেম্বরের শেষার্ধে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক প্রতিনিধি। মওলানা ভাসানীর অনুসারী আব্দুর রহমান সিদ্দিকীর সম্পাদনায় ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত হয়,বাংলাদেশের মুখপত্র। মুক্ত বাংলা নামের একটি পত্রিকা বাংলাদেশের কোনো এক স্থান থেকে প্রকাশিত এক পাতার ক্ষুদে পত্রিকা। মুক্তিফৌজের সাপ্তাহিক মুখপত্র হিসেকে জাগ্রত বাংলা প্রকাশিত হত। ময়মনসিংহ জেলা ও উত্তর ঢাকার বেসামরিক দপ্তর আসাদনগর (ডাকাতিয়া) থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত। রংপুর থেকে- রণাঙ্গন নামে আরও একটি পত্রিকা প্রকাশিত হতো। সাপ্তাহিক বাংলাদেশ নামে একটি পত্রিকা তড়িৎ সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হতো। কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের পাক্ষিক মুখপত্র হিসেবে স্বাধীন বাংলা প্রকাশিত হতো। বাংলাদেশের জনযুদ্ধের মুখপত্র- হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৭ অক্টোবর ফেরদৌস আহমদ কোরেশীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় দেশবাংলা। নভেম্বর মাসে সিলেট অঞ্চল থেকে তুষার কান্তি করের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়- সংগ্রামী বাংলার কণ্ঠস্বর,সাপ্তাহিক দুর্জয় বাংলা। খোন্দকার শামসুল আলম দুদুর সম্পাদনায় সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের সংগ্রামী জনতার সাপ্তাহিক মুখপত্র- সাপ্তাহিক স্বাধীন বাংলা পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এছাড়া নোয়াখালী থেকে সাপ্তাহিক আমার দেশ, তেঁতুলিয়া থেকে সাপ্তাহিক সংগ্রামী বাংলা, ঢাকা থেকে সাপ্তাহিক অভিযান, লন্ডন থেকে বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিক্রমা, বাংলাদেশ নিউজ লেটার, পাক্ষিক বাংলাদেশ টুডে, ও সাপ্তাহিক জনমত, অ্যামেরিকা থেকে বাংলাদেশ পত্র, শিখা, স্ফুলিঙ্গ, বাংলাদেশ নিউজ লেটার, বাংলাদেশ ওয়েস্ট কাস্ট নিউজ বুলেটিন প্রকাশিত হতো। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাংলাদেশ মিশন বহির্বিশ্ব প্রচার দফতর কর্তৃক মুজিবনগর বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয় ইংরেজি পত্রিকা সাপ্তাহিক বাংলাদেশ। পত্রিকাটি ১৯৭১ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হতো। ১৯৭১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত হয়,বাংলাদেশের সংগ্রামী জনগণের মুখপত্র- ইংরেজি পাক্ষিক দি ন্যাশন। মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক উত্তাল পদ্মা। এসএম ইকবাল, মিন্টু বসু, হেলাল উদ্দিনের সম্পাদনায় অনিয়মিত অর্ধ-সাপ্তাহিক বাংলাদেশে ১৭ এপ্রিল বরিশাল থেকে প্রকাশিত হয়। ভারতের গৌহাটি থেকে প্রকাশিত হয় মুক্তি। দি পিপল নামের একটি ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশিত হয় আবিদুর রহমান এর সম্পাদনায়। স্বাধীন বাংলা-সোনার দেশ নামের একটি পত্রিকা প্রকাশিত হতো রাজশাহী থেকে। এসব পত্রিকা ছাড়াও আরো অনেক পত্র-পত্রিকা মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রকাশিত হয়েছে। এসব পত্র-পত্রিকার উদ্দেশ্য একটাই ছিল,বাংলাদেশকে পরাধীনতা মুক্ত করা। এসব পত্র-পত্রিকায় যেসব সাংবাদিকরা কাজ করেছেন তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ মাতৃকার মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ের খবর সংগ্রহ করতে চলে গেছেন যুদ্ধ ক্ষেত্রে। সংগ্রহ করেছেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পৈশাচিকতার ছবিও। তারপর সেগুলো পত্রিকায় প্রকাশ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সৃষ্টি করতেন জনমত। গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেইসব সাংবাদিকদের যারা বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। লেখকঃ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক,কলামিষ্ট ,সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান,দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশ ।

আজকের মোট পাঠক

32595

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত