বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০
প্রকাশ : 2020-04-27

গণমাধ্যমকর্মীরা এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় চলে গেছে

২৭এপ্রিল,সোমবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,নিউজ একাত্তর ডট কম:তথ্য দিয়ে দেশবাসীকে চলমান ঘটনার আপডেট জানাচ্ছেন সাংবাদিকরা। প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্তব্যরত সাংবাদিকরা দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে নিজেরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে নিয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীরা করোনাভাইরাসের থাবায় পড়ছেন। ইতোমধ্যেই কয়েকজন গণমাধ্যামকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের কেউ হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং কেউ কোয়ারান্টিনে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সাংবাদিক ও কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৬ জন গণমাধ্যমকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মী ছাড়াও গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন।প্রথম আলোর একজন সিনিয়র সাংবাদিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বেসরকারি ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের একজন ক্যামেরাপার্সন, যমুনা টিভির একজন সংবাদকর্মী, দীপ্ত টিভির চার সংবাদকর্মী, এটিএন নিউজের একজন সংবাদকর্মী, যমুনা টিভির নরসিংদী প্রতিনিধি, একাত্তর টিভির গাজীপুর প্রতিনিধি, বাংলাদেশের খবরের একজন সংবাদকর্মী, দৈনিক সংগ্রামের এক সংবাদকর্মী, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা পত্রিকার সম্পাদক, রেডিও টুডের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, ভোরের কাগজের বামনা উপজেলা (বরগুনা) প্রতিনিধি এবং আরটিভি অনলাইনের একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া মাছরাঙা টিভির সাধারণ সেকশনের একজন কর্মকর্তা, চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের একজন কর্মী এবং বাংলাভিশনের একজন গাড়িচালক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বিবেচনায় শুরু থেকে সঠিক গাইডলাইন ও প্রস্তুতির অভাবে আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনো কোনো গাইডলাইন প্রণয়ন করা না হলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। এদিকে ঝুঁকি বিবেচনায় গণমাধ্যমকর্মীরা সরকারের কাছে প্রণোদনার আবেদন জানিয়েছেন।গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, সংবাদ সংগ্রহের কাজে বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়। মনের ভেতরে আতঙ্ক কাজ করে। এ কারণে আক্রান্ত হব ধরে নিয়েই কাজ করে যেতে হচ্ছে। করোনাভাইরাস ইস্যু গণমাধ্যমের জন্য নতুন ইস্যু।সাধারণত যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যে ধরনের প্রস্তুতি দেখা যায় শুরুর দিকে দেখা গেছে আমাদের মিডিয়াগুলো ওই ধরনের প্রস্তুতির দিকে যাচ্ছে। গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে যে সার্বিক ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার তা নেওয়া হয়নি। এর ফলে ১৬ জন সাংবাদিক ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন। সাংবাদিকদের সমস্যা একজন ডাক্তারের থেকে ভিন্ন। একজন ডাক্তার যখন কোনো রোগীকে সেবা দিতে যান তখন তিনি জানেন, রোগীর কাছে যাচ্ছেন। কিন্তু সাংবাদিক যখন সংবাদ সংগ্রহ করতে যান তখন তিনি জানেন না, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি কিংবা রোগী আছে কিনা। গণমাধ্যমকর্মীরা এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় চলে গেছে। ইতোমধ্যে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে, আগামী দিনগুলোতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট হবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর