প্রকাশ : 2020-04-04

নগরীতে হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত ও বাজার মনিটরিং এ ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

0৪এপ্রিল,শনিবার,কমল চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ, বাজার মনিটরিং ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী যৌথ ভাবে মাঠে নেমেছে। সরকারি র্নিদেশনা অমান্য করে রাস্তায় অহেতুক ঘুরাঘুরি ও সামাজিক দুরত্ব বজায় না রাখার বিরুদ্ধে একটু কঠোর হয়েছে আইনশূঙ্খলা বাহিনী। এর প্রেক্ষিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়। আজ শনিবার ৪ এপ্রিল সকাল ৯ঃ০০ ঘটিকা থেকে দুপুর ৩ টা পযর্ন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে চারজন র্নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে। নগরীর পাহাড়তলী, চকবাজার, বায়েজিদ ও কতোয়ালী থানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী অভিযানকালে নগরীর অক্সিজেন মোড়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গণপরিবহনে যাত্রী বহন করার বিষয়ে চালকদের সতর্ক করা হয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাহাড়তলী থানাধীন আম বাগান ও বায়েজিদ থানাধীন আপন নগর এলাকায় তিনটি সেলুন খোলা রাখায় ৯০০(নয়শত টাকা) জরিমানা করা হয়। বায়েজিদ থানাধীন মোহাম্মদপুর বাজার ও আপন নগর এলাকায় তিনটি লন্ড্রি দোকান সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খোলা রাখায় ১৫০০ (এক হাজার পাঁচশত টাকা) জরিমানা করা হয়। বায়েজিদ থানাধীন আপন নগর ও শেরশাহ কলোনী বাজারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনে তিনটি টেইলারের দোকান খোলা রাখায় ১৫oo(এক হাজার পাঁচশত টাকা) জরিমানা করা হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় বায়েজীদ থানাধীন শেরশাহ কলোনী বাজারে খাজা হোটেলসহ দুইটি হোটেলকে ১৫০০(এক হাজার পাঁচশত টাকা) জরিমানা করা হয়। এছাড়া জিইসি মোড়ে মোটরবাইকে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোট তিনজনকে নয়শত টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বায়েজিদ বাজার, মোহাম্মদপুর বাজার, শেরশাহ কলোনী বাজার, অক্সিজেন কাঁচা বাজার, পাহাড়তলী বাজার পরিদর্শন ও মাইকিং এর মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে এলাকাবাসীকে সচেতন করা হয়। টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়ের সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারেও বিক্রেতাদের পরামর্শ প্রদান করা হয়। পাহাড়তলী, আকবরশাহ এবং হালিশহর থানাধীন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ম্যাজিস্ট্রেট মুশফিকীন নুর । এ সময়ে পাহাড়তলী এলাকার হাট বাজার পরিদর্শন করা হয় এবং জনসমাগম পরিলক্ষিত হয়। অপ্রয়োজনে জনগণকে বাজারে ভীড় করা থেকে বিরত থাকা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে কেনাকাটা করার অনুরোধ করা হয়। জরুরী সেবার আওতাবহির্ভূত বেশ কিছু দোকান খোলা অবস্থায় পাওয়া গেলে তা তাতক্ষণিক ভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময়ে আকবরশাহ এলাকায় একটি সেলুনের দোকানে খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়,নির্দেশনা অমান্য করে দোকানের কার্যক্রম পরিচালনারে কারনে তাকে ৫শত টাকা জরিমানা করা হয় এবং মৌখিক ভাবে সর্তক করা হয়। এছাড়াও হালিশহর এলাকায় বাজার সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে জনগন কে এক সাথে বসে চা পানরত অবস্থায় পাওয়া গেলে দোকান মালিক কে ৩শত টাকা জরিমানা করা সহ উপস্থিত ক্রেতাগনের নিকট হতে মুচলেকা নেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণের সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারেও স্বেছাসেবীদের পরামর্শ প্রদান করা হয়।পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহায়তা প্রদান করে। নগরীর ডবলমুরিং, পতেঙা, বন্দর থানার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে নগরীর অলিতে গলিতে কড়া টহল জোড়দার করা হয়। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং করা হয়। এছাড়াও মানুষ যাতে অপ্রয়োজনে বাইরে না আসে সে বিষয়ে সচেতন করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে মানুষ আগের তুলনায় সচেতন বলে মনে হয়। এর মধ্যে দুইটি মোটর সাইকেলে অপ্রয়োজনে তিন জন করে ঘুড়াঘুড়ি করায় জরিমানা করা হয়েছে। খুলশী, চান্দগাও, পাচলাইশ, ও বাকলিয়া এলাকায় মোবাইল কোর্ট ও বাজার মোনিটরিং পরিচালনা করেন ম্যাজিস্ট্রেট সুজন চন্দ্র রায়। এ সময় খুলশী ও চান্দগাও থানার সামনে উপস্থিত ত্রান সাহায্য প্রার্থী দের মোটিভেট করে সরিয়ে দেওয়া হয়। জিইসি ও দাম্পাড়া এলাকায় ৩টি দোকানকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ও ৫ টি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর